12/10/2025
মোহনবাগানের ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ড জয়ের গল্প যেন রুপকথা
💐💐💐💐💐💐💐💐💐💐💐💐💐💐💐
সব খেলার সেরা বাঙালির খেলা ফুটবল
১৯১১-র ২৯ জুলাই , ইস্ট ইয়র্কশায়ারকে হারিয়ে মোহনবাগান ভারতীয় ফুটবলে নতুন অধ্যায় লিখেছিল ৷ মোহনবাগানের ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ড জয়ের গল্প যেন রুপকথা ৷ আজও গায়ে কাঁটা দেয় প্রতিটি ভারতবাসীর ৷এই আবেগ শুধু বাগান সমর্থকদেরই নয়৷দেশের ছেলেরা সেদিন বুট পরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে খালি পায়েই ময়দানে নেমেছিল ৷জিতেই মাঠ ছেড়েছিল তারা৷দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এই ম্যাচের কথাও লেখা থাকবে সোনার অক্ষরে ৷
২৯ শে জুলাই ১৯১১ , একটি ফুটবল ম্যাচ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম , দুই মিলেমিশে একাকার। আজ থেকে ঠিক ১০৬ বছর আগে ১৯১১ সালের ২৯ জুলাই ব্রিটিশ দল ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে ২-১ গোলে পরাজিত করে প্রথম দেশীয় ক্লাব হিসাবে আইএফএ শিল্ড জিতেছিল মোহন বাগান।
দর্শকপূর্ণ মাঠে সেদিন গোরা বনাম দেশীয়দের লড়াইয়ে প্রথমে জ্যাকসনের গোলে এগিয়ে যায় গোরারাই। সেই গোল শোধ করে দেন মোহন বাগান অধিনায়ক শিবদাস ভাদুরি। পরে জয়সূচক গোলটি করে ইতিহাস রচনা করেন অভিলাষ ঘোষ।
সেদিনের খেলাটা শুধুমাত্র একটা খেলা হিসাবে নয়, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম হিসাবে দেখেছিলেন এদেশের মানুষ। যে কারনে মোহন বাগানকে সমর্থন করতে সুদূর পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ববঙ্গ থেকেও লোকেরা ছুটে এসেছিলেন। মোহন বাগানের জয়ের পর মুসলিম মহল্লা বিজয়োল্লাসে মেতে উঠেছিল। উৎসবে সামিল হয়েছিলেন অবাঙালীরাও।
এরপর মোহন বাগান, ইস্টবেঙ্গল, মোহামেডান ও অন্যান্য দেশীয় ক্লাবগুলি বহু ব্রিটিশ দলকে হারিয়েছে, অনেক ট্রফি জিতেছে, কিন্তু সেদিনের জয়টা অমর হয়ে থাকবে।
মোহনবাগানের সেই এগারোতে ছিলেন : হীরালাল মুখার্জী (কিপার), ভুতি সুকুল (রাইট ব্যাক), সুধীর কুমার চ্যাটার্জী (লেফট ব্যাক), মনমোহন মুখার্জী (রাইট হাফ), রাজেন্দ্রনাথ সেন গুপ্ত (সেন্টার হাফ), নীলমাধব ভট্টাচার্য্য (লেফট হাফ), জ্যোতিন্দ্রনাথ রায় (কানু) (রাইট আউট), শ্রীশচন্দ সরকার (হাবুল) (রাইট ইন), অভিলাষ ঘোষ (সেন্টার ফরোয়ার্ড), বিজয়দাস ভাদুড়ি (লেফট আউট), শিবদাস ভাদুড়ি (লেফ্ট ইন)।
তৎকালীন সিঙ্গাপুর ফ্রি প্রেস লিখেছিলো ” ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে এরকম ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি , আই এফ এ শিল্ডের ফাইনাল দেখতে আজ বিকেলে মাঠে অভূতপূর্ব দর্শক সমাগম হয়েছিলো , ধারনা করা হচ্ছে দর্শকের সংখ্যা ছিলো লক্ষাধিক , উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক সেদিন খেলার কিছুই দেখতে পায়নি , খেলাটির বিষয়ে তাঁদের কেবল কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছিলো , খেলার ফলাফল উড়ন্ত ঘুড়ির মাধ্যমে তাঁদের জানানো হয়ে ছিলো l প্রথম দিকে ইস্টইয়র্ক -ই জিতছিল , রাজেন সেনগুপ্ত প্রতিপক্ষের জ্যাকসনকে বাধা দেওয়ায় প্রতিপক্ষ ফ্রি -কিক পায় , মোহনবাগান গোলরক্ষক হীরালাল মুখার্জি সতীর্থ খেলোয়াড়দের প্রত্যেককেই দূরে সরে যেতে বললেন , সকলেই সরে গেলেন , কিন্তু একমাত্র ভূতি সুকুল দাঁড়িয়ে ছিলেন এই আশায় যে , শটটি তিনি হয়তো আটকে দিতে পারবেন , জ্যাকসনের ফ্রি -কিক সুকুলের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে বলটি গোলে ঢুকে যায় , ব্রিটিশ সমর্থকরা আনন্দ -উল্লাসে ফেটে পড়েন —- দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান “”খেললো একেবারে দৈত্যের মতো “ ”, ইস্ট ইয়র্কের রক্ষন ভাগ একা কানু রায়ের আক্রমনকেই প্রতিহত করতে পারছিলো না , কানু রায় ও হাবুল সরকারের মধ্যে দারুন বোঝাবুঝি ছিলো , তাতে বিপক্ষের রক্ষন পজুর্দস্ত হয়ে পড়েছিলো , খেলা শেষ হবার দশ মিনিট আগে শিবদাস আচমকা ডান দিকে ছুঁটে গিয়ে লেফট ব্যাককে ডজ করে দুর্দান্ত একটা শট নিলেন , ইস্টইয়র্কের গোলকিপার ক্রেসি সম্পূর্ণ পরাস্ত হলেন (১-১ ) ” ”এই সাফল্যে বাঙ্গালী সমর্থকরা এমনই চিত্কার করেছিলেন তাঁদের গলা ভেঙ্গে গিয়েছিল “”– খেলা শেষ হবার মাত্র দু মিনিট আগে , শিবদাস একটি চমতকার পাস দিলেন অভিলাষ ঘোষকে , অভিলাষ দু -জন ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষক কে কাটিয়ে এগিয়ে গেলেন এবং হাঁটতে -হাঁটতে গোলে বল ঠেলে দিলেন (২-১) , রয়টার সেই সময় রিপোর্ট করেছিলো –“”যখন জানা গেলে যে , ইস্টইয়র্কশায়ার পরাজিত হয়েছে , তখনকার অবস্থা ছিল একেবারে বর্ণনাতীত , বাঙ্গালীরা উল্লাসে নিজেদের জামা ছিঁড়ে ফেলে পতাকার মতো শূন্যে নাড়ছিলেন l
তখন গোটা কলকাতা জুড়ে আতশবাজী ফুটছে। এটি শুধু ভারতীয়ই নয়, কোনো ইউরোপীয় দলকে হারিয়ে কোনো এশিয়ান দলের প্রথম কোনো ফুটবল টুর্নামেন্ট জয়। ম্যাচ শেষে ফিটনে চড়ে গোটা কলকাতা ঘুরলেন ওরা এগারোজন। ছেলেরা পারলে ঘোড়া হটিয়ে নিজেরা গাড়ি টানে। টিপু সুলতান মসজিদের সামনে মোড় ঘুরতেই মিছিলে সামিল মোহামেডান স্পোর্টিংয়ের ভক্তরা। এই জয় যে পরাধীনতার বিরুদ্ধে গোটা বাঙালীর জয়। পরদিন ‘দ্য মুসলমান’ পত্রিকা লিখলো-"The members of the Moslem Sporting Club were almost mad rolling on the ground on the victory of their Hindu brethren."
এই বিজয়ের খবর যে শুধু ভারতই জানলো তা নয়। খবর ছাপা হলো ইংল্যান্ডের পত্রপত্রিকায়ও। বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের পাঠানো ক্যাবলগ্রামে লেখা হলো : “ For the first time in the history of Indian football, an Indian team, the Mohun Bagan consisting purely of Bengalis, has won the Indian Football Association Shield crack teams of English Regiments.”
“ At the final today there was a scene of extraordinary enthusiasm and it is estimated that 80,000 Bengalees were gathered on the Calcutta maidan. The vast majority saw nothing of the game….They were informed of its progress by flying kites.” “ When it was known that the East Yorkshire Regiment had been beaten the scene beggared description. The Bengalis tearing off their shirts and waving them.” বুঝতেই পারছেন লর্ডসে ইংরেজদের ভব্যতায় আঘাত দিয়ে জামা খুলে পতাকা বানানো বাঙালী সৌরভই প্রথম নন। এ দৃশ্য তারা আগেও দেখেছে কলকাতায় । ৪ আগস্ট ম্যানচেস্টার গার্ডিয়ান লিখলো : “ A team of Bengalees won the Football Association Shield in India after defeating the crack teams of three British Regiments amidst the applause of 80,000 of their countrymen. There is no reason of course of being surprised. Victory of Association Football goes to the side with the greatest physical fitness, the quickest eye, and the keenest wit.”
একমাত্র চৌরঙ্গীর সাহেব পাড়া বাদে সে রাতে ঘুমোয়নি কলকাতা । ট্রফি বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে ফোর্ট উইলিয়ামের ওপর উড়তে থাকা ইউনিয়ন জ্যাকের দিকে আঙুল তুললেন একজন। বললেন- ওটা নামবে কবে? কে একজন উত্তর দিলো- মোহন বাগান আবার যেদিন আইএফএ শিল্ড জিতবে । ১৯৪৭ সালে তাদের দ্বিতীয় শিরোপাটি জিতেছিলো মোহন বাগান ।
ফাইনালের দুই টাকার টিকিট কালোবাজারে ১৫ টাকায় বিক্রি হয়, মাঠে এক খিলি পান বিক্রি হয় এক আনায় । খেলা বিকেল পাঁচটায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর দুইটার মধ্যে মাঠ প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মাঠের দুই ধারে খেলা দেখার জন্য আট আনা থেকে দুই টাকা পর্যন্ত ভাড়ায় বাক্স, টুল, টেবিল, পাটাতন এমনকি ইটও পাওয়া যায় । খেলায় দর্শকসংখ্যা ছিল আশি হাজার থেকে এক লাখ । রয়টার্সের সংবাদ অনুযায়ী, ভিড়ের কারণে বেশির ভাগ দর্শকই খেলা দেখতে পারেনি । গাছের ওপর থেকে দর্শক আর স্বেচ্ছাসেবকেরা খেলার ফলাফল প্রচার করতে থাকে । দ্য এম্পায়ার পত্রিকা মাঠে একটি অস্থায়ী টেলিফোন এক্সচেঞ্জ বসিয়ে টেলিফোনের মাধ্যমে খেলার ফলাফল সারা কলকাতায় জানাতে থাকে ।
১৯০৯ সালে কলকাতায় প্রকাশিত হয়েছিল এক মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। যার নাম ছিল মানসী। এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সাহিত্যিক যতীন্দ্রমোহন বাগচী। এই সাহিত্য পত্রিকায় ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয় মোহনবাগানের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে প্রথম ও একমাত্র কবিতা । যা পরবর্তীকালে গান হিসেবেও জনপ্রিয় হয়। তেমন কোনও তথ্যসূত্র না থাকলেও, এই গানের প্রথম কয়েক লাইন ইতিহাস ঘাঁটলে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়। কবির নাম করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়।
কলকাতার সাহিত্য পত্রিকাগুলোর মধ্যে মানসী ছিল প্রথম সারির মাসিক পত্রিকা । এখানে নিয়মিত লিখতেন ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জ্যোতিরেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়রাও । ইতিহাসের পাতা থেকে তুলে ধরা হল মোহনবাগান নিয়ে লেখা প্রথম কবিতার সেই লাইনগুলো।
জেগেছে আজ দেশের ছেলে পথে লোকের ভিড়,
অন্তঃপুরে ফুটল হাসি বঙ্গরূপসীর।
গোল দিয়েছে গোরার গোলে বাঙালির আজ জিত,
আকাশ ছেয়ে উঠছে উধাও উন্মাদনার গীত।
আজকের এই বিজয়বাণী ভুলবে নাকো দেশ,
সাবাশ সাবাশ মোহনবাগান! খেলেছ ভাই বেশ !
মোহনবাগান যখন ঐতিহাসিক আই এফ এ শিল্ড জেতে, রবীন্দ্রনাথ তখন খ্যাতির মধ্যগগনে। তার দু’বছর পরে অর্থাৎ ১৯১৩ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে রবীন্দ্রনাথের কোনও লেখায় এই শিল্ড জয়ের উল্লেখ নেই । কিন্তু মোহনবাগানের প্রভাব থেকে কবিও মুক্ত ছিলেন না । রবীন্দ্রনাথের আরেকটি রচনা ‘সে।’ এই বইটিতে তিনি নানা মজার ঘটনা লিখেছিলেন, নাতনি পুপেকে খুশি করার জন্য। এই বইতে দু’বার মোহনবাগানের সন্ধান পাওয়া যায়। রবীন্দ্রনাথ একবার লিখছেন, স্মৃতিরত্নমশায় মোহনবাগানের গোলকিপারি করেছেন। আরেকবার লিখেছেন, মোহনবাগানের খেলা দেখতে গিয়ে সাড়ে তিন আনা পয়সা পকেটমারি হয়ে গেছিল । এছাড়াও রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত ‘শেষের কবিতা’র একদম শুরুতে, যেখানে স্টাইল এবং ফ্যাশনের তুলনা করা হচ্ছে, সেখানে মোহনবাগানের উল্লেখ পাওয়া যায় । রবীন্দ্রনাথ কিন্তু মোহনবাগানের অনেক খবরাখবর রাখতেন। ১৭ এপ্রিল ২০১৬ সংবাদ প্রতিদিনে কাশীনাথ ভট্টাচার্য এমনই এক তথ্য দিয়েছেন। শান্তিনিকেতনে কবির সঙ্গে দেখা হয়েছিল গোষ্ঠ পালের। গোষ্ঠ পালের সুগঠিত শরীর দেখে তিনি বলেছিলেন, “বুঝতে পারছি কেন চীনের প্রাচীর বলা হয় ।”
মোহনবাগান জন্মলগ্ন থেকেই জাতীয়তাবাদী ক্লাব । দেশাত্মবোধ ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। কারণ ক্লাবের প্রতিষ্ঠা হয় ১৫ অগাষ্ট, ১৮৮৯ । ঘটনাচক্রে এই ঘটনার ৫৮ বছর পরে দেশ স্বাধীন হয় একই দিনে । উত্তর কলকাতার তিন অভিজাত পরিবার এই ক্লাবের প্রতিষ্ঠা করে ফড়িয়াপুকুরের মোহনবাগান ভিলায় । যা ছিল মিত্র পরিবারের কিরটী মিত্রের বাড়ি । ক্লাবের প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন বসু পরিবারের নামী আইনজীবী ভূপেন্দ্রনাথ বসু ।
ব্রিটিশ সাহেবরা পরাধীন ভারতবর্ষে ফুটবল এনেছে একটা চিহ্নিত সময়ে । সাহেবদের আনা সেই খেলা দেখে, শিখে মাঠে ইংরেজদের পরাজিত করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসকে মজবুত করেছেন বাঙালি মোহনবাগানের খেলোয়াড়রা । পরাধীন ভারতে মানুষের মধ্যে এই উপলব্ধির জন্ম হয়েছে- ফুটবল মাঠে, যখন ইংরেজদের হারানো সম্ভব হয়েছে। তাহলে স্বাধীনতার সংগ্রামেও ঐক্যবদ্ধভাবে লড়লে তাদের পরাজিত করা অবশ্যই সম্ভব হবে! ফুটবলে গোরাদের বুটের বিরুদ্ধে বাঙালিরা খালি পায়ে খেলে (স্কটিশ কলেজের ছাত্র সুধীর চ্যাটার্জি একমাত্র খেলোয়াড় যিনি বুট পরে খেলেছিলেন মোহনবাগান দলে) এমন একটা সময় ফুটবল মাঠে বিজয় নিশ্চিত করেছিলেন যখন ভারতবর্ষ জুড়ে স্বাধীনতার আন্দোলন ক্রমেই বেগবান হয়ে উঠছে । ইংরেজদের বিরুদ্ধে বাঙালি দলের বিজয় শুধু ফুটবলের ক্ষেত্রে স্মরণীয় নয়- জাতীয়তাবোধ অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে এক বিরাট পদক্ষেপ। এই বিজয়ের পর স্থানীয়রা মাঠের ফুটবলকে সব সময় ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে মনে করেছেন । রাজনীতিবিদরা স্বাধীনতার মন্ত্রে মানুষকে অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু উজ্জীবিত করতে পারেননি- তারচেয়ে বেশি পেরেছে ফুটবল মাঠে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সাফল্য অর্জন করে যুগে যুগে ।