16/06/2026
মরক্কোর সাথে ১-১ ড্র করার পর ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের সমীকরণ এখন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। যদি সেলেসাওরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পেরে টেবিলের দ্বিতীয় দল হিসেবে পরের রাউন্ডে যায়, তবে রাউন্ড অব 32-এ ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা বা ইংল্যান্ডের মতো কোনো বিশ্বজয়ী প্রতিপক্ষের সামনে পড়ার শতভাগ সম্ভাবনা আছে। নকআউটের শুরুতেই এই বিপদ এড়াতে এবং কোয়ার্টার বা সেমিফাইনালের পথ সহজ করতে হাইতি ম্যাচে স্রেফ ১-০ বা ২-০ গোলের চিরাচরিত জয় দিয়ে কোনো লাভ হবে না। কার্লো আনচেলত্তির দলকে শুরু থেকেই অল-আউট অ্যাটাকিং ফুটবল খেলে গোলের বন্যা বইয়ে দিতে হবে, যেন গোল ডিফারেন্সে মরক্কোকে অনায়াসে পেছনে ফেলে গ্রুপ Champion হয়ে মাঠ ছাড়া যায়।
হাইতির বিপক্ষে গোল ডিফারেন্স বাড়ানোর মিশন মাথায় রেখে বিকল্পসহ ১১ জন প্লেয়ারের সংক্ষিপ্ত ট্যাকটিক্যাল রোল নিচে দেওয়া হলো:
১. অ্যালিসন বেকার (গোলকিপার)
হাইতিকে চেপে ধরে বড় ব্যবধানে জেতার লক্ষ্যে অ্যালিসন অনেক ওপরে উঠে এসে ‘সুইপার কিপার’ হিসেবে খেলবে। ওর কাজ হবে বল পাওয়া মাত্রই দ্রুত লং-রিলিজ বা থ্রো-ইংয়ের মাধ্যমে সরাসরি উইঙে ভিনিসিয়ুস বা রায়ানের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে কাউন্টার অ্যাটাকের গতি ডাবল করা।
২. ইবানেজ (রাইট-ব্যাক)
হাই-স্কোরিং ম্যাচের জন্য ইবানেজ ডানপ্রান্তে মূলত রক্ষণাত্মক কাভার দেবে, যাতে বাকিরা ওপরে উঠে অল-আউট অ্যাটাক করতে পারে। ও মূলত থ্রি-ম্যান ব্যাকলাইন ধরে রাখবে এবং হাইতির যেকোনো আকস্মিক কাউন্টার অ্যাটাক শুরুতেই নস্যাৎ করে দেবে।
৩. মার্কিনহোস (সেন্টার-ব্যাক)
মার্কিনহোস ডিফেন্স লাইনকে প্রায় মাঝমাঠের কাছাকাছি তুলে নিয়ে আসবে , যাতে হাইতি নিজেদের হাফেই অবরুদ্ধ হয়ে থাকে। ব্যাকলাইন থেকে ও দ্রুত গ্রাউন্ড পাসের মাধ্যমে ব্রুনোদের অনবরত বল সাপ্লাই দিয়ে আক্রমণের রিদম সচল রাখবে।
৪. গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস (সেন্টার-ব্যাক)
হাইতির রক্ষণভাগ যখন বক্সের ভেতর বাস পার্ক করবে, তখন গ্যাব্রিয়েল হবে ব্রাজিলের ডেডলি এরিয়াল উইপেন। ওর মূল রোল হবে প্রতিটি কর্নার ও সেট-পিসে হাইতির বক্সে গিয়ে নিজের হাইটকে কাজে লাগিয়ে হেডের মাধ্যমে দলের গোলের সংখ্যা বাড়ানো।
৫. ডগলাস সান্তোস (লেফট-ব্যাক)
জিডি বাড়ানোর এই মিশনে ডগলাস খেলবে অল-আউট অ্যাটাকারের মতো। ও ম্যাচ জুড়ে বাম উইং ধরে অনবরত ওভারল্যাপ করবে এবং বক্সে ক্রসের পর ক্রস আর নিখুঁত কাট-ব্যাক সাপ্লাই দিয়ে হাইতির ডিফেন্সকে তছনছ করে দেবে।
৬. ক্যাসেমিরো (ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার)
সবাই আক্রমণে মেতে থাকায় ক্যাসেমিরো একাই মাঝমাঠের সেন্ট্রাল জোন প্রটেক্ট করবে। হাইতি বল ক্লিয়ার করলেই ক্যাসেমিরো তা মাঝপথেই কেড়ে নিয়ে সেকেন্ড-বল উইন করবে এবং রি-সাইকেল করে আবার ব্রাজিলকে আক্রমণের সুযোগ করে দেবে।
৭. ব্রুনো গিমারায়েস (সেন্টার মিডফিল্ডার)
বিশাল ব্যবধানে জেতার মূল চাবিকাঠি থাকবে ব্রুনোর ক্রিয়েটিভিটির ওপর। ও এই ম্যাচে প্রপার ‘অ্যাডভান্সড প্লে-মেকার’ হিসেবে হাইতির জমাট রক্ষণ ভাঙতে অনবরত ডিফেন্স-চেরা থ্রু-বল দেবে এবং সুযোগ পেলেই বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার বুলেট শটে গোল করবে।
৮. ড্যানিলো সান্তোস (সেন্টার মিডফিল্ডার)
ড্যানিলোর একমাত্র রোল হবে ‘কাউন্টার-প্রেসিং’। হাইতির খেলোয়াড়রা বল পাওয়া মাত্রই ও পাগলা কুত্তার মতো তাড়া করে ওদের হাফেই বল কেড়ে নেবে, যাতে আক্রমণের জোয়ার এক মুহূর্তের জন্যও থমকে না যায় এবং হাইতি ডিফেন্স গোছানোর সময়টুকুও না পায়।
৯. রায়ান (রাইট উইঙ্গার)
ডান উইঙে তরতাজা রক্ত হিসেবে রায়ানের রোল হবে হাইতির ডিফেন্সকে ওর গতি আর ড্রিবলিং দিয়ে সারপ্রাইজ করা। বাঁ-পায়ের খেলোয়াড় হওয়ায় ও ডান দিক থেকে অনবরত ভেতরে Cut-in করে ঢুকে জোরালো শট নেবে এবং গোল ডিফারেন্স বাড়াতে নিজে গোল করার পাশাপাশি বক্সে ডেডলি ক্রস দেবে।
১০. স্ট্রাইকার অপশন কুনহা অথবা এনড্রিক
ম্যাথিউস কুনহা (ডিপ-লাইং ফরোয়ার্ড)
কুনহা খেললে ও স্রেফ বক্সে দাঁড়িয়ে না থেকে কিছুটা নিচে নেমে বল রিসিভ করবে এবং হাইতির সেন্টার-ব্যাকদের পজিশন থেকে টেনে বাইরে বের করে আনবে। কুনহা যখন ডিফেন্স লাইন ভাঙবে, সেই ফাঁকা স্পেসে ভিনিসিয়ুস আর রায়ান কোনাকুনি বক্সে ঢুকে গোল করার সুযোগ পাবে। ও মূলত স্পেস ক্রিয়েটর হিসেবে খেলবে।
এনড্রিক (এডভান্সড ফরোয়ার্ড)
এনড্রিক খেললে ওর রোল হবে একদম হাইতির ডিফেন্ডারদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অফসাইড লাইনে ওত পেতে থাকা। ও নিচে নামবে না, বরং বক্সের ভেতর ওর এক্সপ্লোসিভ পাওয়ার আর ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং কাজে লাগিয়ে ব্রুনোর থ্রু-বল বা ভিনি-রায়ানের ক্রসগুলোকে ওয়ান-টাচ ফিনিশে সরাসরি জালে জড়াবে। ওর একমাত্র লক্ষ্য থাকবে স্রেফ গোল সংখ্যা বাড়ানো।
১১. ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (লেফট উইঙ্গার)
দলের মেইন ডেসট্রয়ার হিসেবে ভিনির ওপর দায়িত্ব থাকবে হাইতির রক্ষণভাগকে স্রেফ ধ্বংস করে দেওয়া। ও নিজের বিধ্বংসী গতিতে বাম প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে নিজে হ্যাটট্রিক করার লক্ষ্য নিয়ে খেলবে এবং অ্যাসিস্টের বন্যা বইয়ে দিয়ে ব্রাজিলের বিশাল জয় নিশ্চিত করবে।
মরক্কোর সাথে ১-১ ড্র করার পর ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের সমীকরণ এখন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। যদি সেলেসাওরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পেরে টেবিলের দ্বিতীয় দল হিসেবে পরের রাউন্ডে যায়, তবে রাউন্ড অব 32-এ ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা বা ইংল্যান্ডের মতো কোনো বিশ্বজয়ী প্রতিপক্ষের সামনে পড়ার শতভাগ সম্ভাবনা আছে। নকআউটের শুরুতেই এই বিপদ এড়াতে এবং কোয়ার্টার বা সেমিফাইনালের পথ সহজ করতে হাইতি ম্যাচে স্রেফ ১-০ বা ২-০ গোলের চিরাচরিত জয় দিয়ে কোনো লাভ হবে না। কার্লো আনচেলত্তির দলকে শুরু থেকেই অল-আউট অ্যাটাকিং ফুটবল খেলে গোলের বন্যা বইয়ে দিতে হবে, যেন গোল ডিফারেন্সে মরক্কোকে অনায়াসে পেছনে ফেলে গ্রুপ Champion হয়ে মাঠ ছাড়া যায়।
25/03/2026