17/10/2026
🇧🇩⚽ একজন রেফারির গল্প: তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামান — স্বপ্নের শুরু থেকে বিদায়ের অধ্যায় 🏆
বাংলাদেশের ফুটবল রেফারিংয়ের ইতিহাসে তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামান একটি পরিচিত ও সম্মানিত নাম। পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে তিনি পৌঁছেছিলেন আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে।
আশির দশকে সাতক্ষীরায় বেড়ে ওঠা কিশোর তৈয়েব হাসানের স্বপ্ন ছিল ফুটবল খেলা। কিন্তু মাঠে খেলার সুযোগ সব সময় না পাওয়ায় তিনি আশপাশের ছেলেদের ফুটবল ম্যাচে রেফারিং শুরু করেন। তখন হয়তো কল্পনাও করেননি, একদিন এই রেফারিংই তাঁকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে নিয়ে যাবে।
১৯৮৩–৮৪ সালের দিকে স্থানীয় ফুটবল কর্মকর্তারা তাঁর রেফারিংয়ের প্রতি আগ্রহ লক্ষ করেন। অভিজ্ঞ রেফারি সিরাজ খানের কাছ থেকে খেলার আইনকানুন শিখতে থাকেন। মাত্র ১৪–১৫ বছর বয়সে সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। এরপর ১৯৮৯ সালে খুলনায় রেফারিং কোর্সে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
পরবর্তীতে ঘরোয়া ফুটবলে নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে ১৯৯৯ সালে FIFA রেফারি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব পালন করে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন আসে ২০১৩ সালে, যখন নেপালের কাঠমান্ডুতে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যকার SAFF Championship ফাইনাল পরিচালনা করেন। এই অর্জন বাংলাদেশের ফুটবল রেফারিংয়ের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায়।
২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক রেফারিং থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ২০১৬ সালে ঘরোয়া রেফারিং থেকেও অবসর নেন। তবে মাঠের দায়িত্ব থেকে বিদায় নিলেও ফুটবলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা থেমে থাকেনি। রেফারিদের উন্নয়ন ও ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠেন।
২০১৭ সালে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (AFC) থেকে বিশেষ সম্মাননা অর্জন করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন।
মানবিক কাজেও তিনি নিজের পরিচয় তুলে ধরেছেন। ২০২০ সালে করোনাকালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ২০১৩ সালের SAFF Championship ফাইনালে পরা নিজের জার্সিটি নিলামে তোলেন। জার্সিটি ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তাঁর এই উদ্যোগ মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
একসময় ফুটবল খেলার সুযোগ না পাওয়া সেই কিশোর নিজের জন্য তৈরি করেছিলেন এক ভিন্ন পথ। সেই পথ তাঁকে দিয়েছে আন্তর্জাতিক পরিচিতি, ইতিহাস গড়ার সুযোগ এবং দেশের ফুটবল অঙ্গনে সম্মান।
তাঁর জীবন আমাদের শেখায়—স্বপ্ন পূরণ করতে শুধু সুযোগের অপেক্ষা করলেই হয় না; প্রয়োজন পরিশ্রম, ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও নিজের প্রতি বিশ্বাস।
মাঠে তাঁর বাঁশির শব্দ থেমে গেছে, কিন্তু বাংলাদেশের ফুটবল রেফারিংয়ে তাঁর অবদান ও পথচলার গল্প নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। ❤️⚽🇧🇩
🇧🇩 শ্রদ্ধা ও সম্মান বাংলাদেশের সাবেক FIFA রেফারি তৈয়েব হাসান সামসুজ্জামানের প্রতি। 🏆