01/09/2026
দীর্ঘ ০৩ মাস বন্ধ থাকার পর আজ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে আবারও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। সুন্দরবন ভ্রমণে পর্যটকদের মানতে হবে কিছু নির্দেশনা এবং ভ্রমণের সময় যাতায়াত, নৌযান, খরচ, অনুমতি ও বন বিভাগের নিয়মকানুন।।
একটি সঠিক পরিকল্পনা ভ্রমণকে করে তুলতে পারে আনন্দদায়ক। তাই যারা সুন্দরবন ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন তাদের জন্য ১০-টি জরুরি পরামর্শ।
১. খুলনা, বাগেরহাটের মোংলা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে সুন্দরবন ভ্রমণ করা যায়। তবে লঞ্চ বা জাহাজে যেতে হলে খুলনা ও মোংলা থেকে যেতে হবে।।
২. সুন্দরবনের সব এলাকায় ইচ্ছেমতো প্রবেশের অনুমতি নেই। বন বিভাগের অনুমতি বা বৈধ পাস নিয়ে নির্ধারিত পথ ও পর্যটন স্পটে যেতে হয়। কিছু এলাকায় প্রবেশের জন্য আবার বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়।
৩. পর্যটকদের সুন্দরবন ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য বাগেরহাটের মোংলা, খুলনার চালনা ও সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ এলাকায় অনেক ট্রলার রয়েছে। এক দিনের সফরের জন্য মোংলা থেকে পশুর নদ হয়ে করমজল ও হাড়বাড়িয়া, খুলনা থেকে রূপসা-শিবসা নদী হয়ে কালাবাগী ও শেখেরটেক ও সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ থেকে কলাকাছিয়া ও দোবেকীতে ট্রলার নিয়ে যাওয়া যায়।
৪. ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে গেলে সাধারণত সব ধরনের ফি প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে এক দিনের জন্য নিজ উদ্যোগে গেলে প্রতিটি জায়গার জন্য প্রবেশ ফি আলাদাভাবে দিতে হয়।
৫. মোংলা থেকে খুব সকালে রওনা দিলে করমজল ও হাড়বাড়িয়া দুটি জায়গাই এক দিনে ঘুরে দেখা যায়। মোংলা ফেরিঘাট থেকে সারা দিনের জন্য নৌযান ভাড়া করা যায়। শুধু করমজল ঘুরতে ভাড়া লাগে এক-দুই হাজার টাকা। করমজল ও হাড়বাড়িয়া দুটিতেই যেতে ভাড়া লাগে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। দুপুরের খাবার সঙ্গে করে নেওয়া ভালো।
৬. খুলনার দাকোপ উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন কৈলাসগঞ্জ ও বাণীশান্তা ইউনিয়নে বেশ কিছু ইকোকটেজ গড়ে উঠেছে। অনেক পর্যটক এখন সেখান থেকে সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। সরাসরি মোংলা থেকে বা খুলনা থেকে মোংলা হয়ে কিংবা খুলনা থেকে চালনা হয়ে এসব কটেজ যাওয়া যায়।
৭. বর্তমানে খুলনা থেকে সুন্দরবনে ভ্রমণকারীদের জন্য প্রায় ৬৫-টি জলযান রয়েছে। একেকটি জলযানে ছয় থেকে ৭৫ জন পর্যন্ত ভ্রমণ করা যায়।।
৮. সাধারণত ট্যুর হয় ০৩ দিন, ০২ রাতের। কোনো ট্রাভেল কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করলে আগে থেকেই ৫০-৭০ শতাংশ অগ্রিম দিতে হয়। উৎসব বা দীর্ঘ ছুটির সময় বুকিং বেশি থাকে। তাই কয়েক মাস আগে থেকেই বুকিং দেওয়া ভালো।
৯. খরচের দিক থেকে নন-এসি জলযানে জনপ্রতি আট থেকে ১২ হাজার টাকা এবং এসি জলযানে জনপ্রতি ১৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লাগে। এই খরচের মধ্যে অনুমতি ফি, থাকার ব্যবস্থা, গাইড, সকাল, দুপুর ও রাতের খাবার ও দুটি স্ন্যাকস অন্তর্ভুক্ত থাকে। অর্থাৎ জলযানে ওঠা থেকে সুন্দরবন ঘুরে ফিরে এসে নামা পর্যন্ত পুরো খরচই এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে।
১০. সুন্দরবনে ড্রোন ওড়ানো ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বনে প্রবেশ নিষিদ্ধ। পরিবেশের ক্ষতি হয়, এমন কোনো সামগ্রী বা কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে ওয়ানটাইম প্লাস্টিকের গ্লাস, প্লেটসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সামগ্রী নিয়ে বনে না যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বন বিভাগ। বনের পশুপাখিরা বিরক্ত হয়, এমন কোনো কাজ করা যাবে না।
ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন বিশ্বের সর্ব-বৃহৎ সৌন্দর্যের প্রতীক ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন থেকে। সুন্দরবন ট্যুরের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. করমজল,
২. হারবাড়িয়া,
৩. জামতলা সী-বিচ,
৪. কটকা সী-বিচ,
৫. আন্দারমানিক,
৬.টাইগার পয়েন্ট,
৭. ডিমের চর,
৮. পক্ষীর চর,
৯. কচিখালি অফিস পাড়া,
১০. দুবলার চর,
১১. হিরণ পয়েন্ট
ভ্রমণ খরচ হবে জনপতি নন-এসি কেবিন ৮,০০০-১২,০০০ টাকা পর্যন্ত আর এসি-কেবিন জনপতি ১৪,০০০-২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত। ভ্রমণের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন কোন ট্যুর এজেন্ট কোম্পানির সাথে অথবা সরাসরি শীপ কোম্পানীর সাথে।।
সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য ০৩-দিনের প্যাকেজ অফার থাকে আপনাকে ০৩-দিনের ছুটি নিয়ে যেতে হবে। ভ্রমণের জন্য কিছু শীপের নাম এবং প্যাকেজ মূল্য নিচে দেয়া হলো, পছন্দ অনুযায়ী বেচে নিতে পারবেন।
1. The Crown -18000 Tk
2. The Wave - 18000 Tk
3. Sun Way -18000 Tk
4. Sun Way-2 -18000 Tk
5. Sea Pearl-2 - 20000 Tk
6. Banosampan - 12000 Tk
7. The River Cruise - 18000 Tk
8. MV Aral Sea - 20000 Tk
9. Sea Pearl-3 -12000 Tk
10. Sea Pearl-4 - 17000 Tk
11. Adhiba khan - 7000- 8000 Tk
12. Hazi Shariat Ullah -7000- 8000 Tk
13. Bilash Vromon - 7000- 8000Tk
14. Aronno Bilash - 7000-12000Tk
15. Abosar -7000- 12000 Tk
16. ML Utshab - 14000 Tk
17. Kotka Express -8000 Tk
18. MV The Rainbow -8500 Tk
19. MV Sun Shin -18000 Tk
20. MV Silver Cruise 15000 Tk
21. MV Sea Bird -9000 Tk
22. ML Suboti 11000 Tk
ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে খুলনা ও মোংলায় যাওয়া যায়। খুলনাগামী নন-এসি বাসের ভাড়া ৭০০-৮০০ টাকা। এসি বাসের ভাড়া ৮৫০ থেকে ১৫০০ টাকা। ঢাকা থেকে খুলনায় যাওয়ার বেশ কয়েকটি ট্রেনও রয়েছে।।।
ধন্যবাদান্তে Sayeed The Traveler