12/06/2026
পেলের বদলি হয়ে নেমে যে ফুটবলার শেষ করে দিয়েছিলেন এক স্বর্ণালী প্রজন্মের বিশ্বকাপ স্বপ্ন
ছবিতে যাকে দেখতে পাচ্ছেন, তিনি আমারিলদো।
প্রথম দেখায় তাকে ব্রাজিলের ইতিহাসের একজন সাধারণ ফুটবলার মনে হতে পারে। সেটাই স্বাভাবিক। কারণ পেলে, গারিঞ্চা, দিদি কিংবা ভাভাদের মতো কিংবদন্তিদের পাশে দাঁড়ালে অনেক বড় খেলোয়াড়ও ইতিহাসের আড়ালে হারিয়ে যান।
কিন্তু ফুটবল ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এই আড়ালে থাকা মানুষটিই হয়ে উঠেছিলেন মূল চরিত্র।
একটি ম্যাচে তার করা মাত্র দুই গোল শুধু ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হাত থেকে রক্ষা করেনি, বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরেন্স পুস্কাস, আলফ্রেডো দি স্টেফানো এবং পাকো গেন্তোর মতো কিংবদন্তিদের শেষ বিশ্বকাপ অধ্যায়েরও প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
ঘটনাটি ১৯৬২ বিশ্বকাপের।
তখন ইউরোপীয় ফুটবলে স্পেনের উত্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। দলে ছিলেন হাঙ্গেরির কিংবদন্তি ফেরেন্স পুস্কাস, আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া আলফ্রেডো দি স্টেফানো এবং স্পেনের মহান উইঙ্গার পাকো গেন্তো। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ব্রাজিলের পাশাপাশি স্পেনকেও শিরোপার অন্যতম দাবিদার ধরা হচ্ছিল।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই ফুটবল পরাশক্তি। ব্রাজিলের জন্য ড্র যথেষ্ট হলেও স্পেনের জন্য জয় ছিল বাধ্যতামূলক।
তবে ম্যাচের আগেই বড় ধাক্কা খায় ব্রাজিল। ইনজুরিতে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যান পেলে। তার পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পান আমারিলদো।
সুযোগ পাওয়ার পর তিনি বলেছিলেন,
“পেলের জায়গা নেওয়ার মতো সাহস আমার আছে।”
বক্তব্যটি শুনে অনেকেই তাকে অহংকারী কিংবা বাস্তবতাবিবর্জিত বলে সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু ৯০ মিনিট পর সেই সমালোচকরাই তার প্রশংসায় মুখর হন।
ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে অ্যাডেলার্দোর গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। পুরো ম্যাচজুড়েই তাদের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। ব্রাজিলের মিডফিল্ড চাপে ছিল, দিদিও নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারছিলেন না।
কিন্তু সময় যত গড়ায়, ততই ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন দিদি। তার নেতৃত্বেই ধীরে ধীরে ছন্দ ফিরে পায় ব্রাজিল।
৭২তম মিনিটে মারিও জাগালোর ক্রস থেকে গোল করে সমতা ফেরান আমারিলদো।
এরপর আসে সেই মুহূর্ত, যা বদলে দেয় পুরো ইতিহাস।
৮৬তম মিনিটে গারিঞ্চার নিখুঁত ক্রস থেকে আবারও জালে বল জড়ান আমারিলদো। মুহূর্তেই ১-০ পিছিয়ে থাকা ব্রাজিল ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের নাটকীয় জয়।
পরবর্তীতে অনেক বিশ্লেষক এই ম্যাচকেই ব্রাজিলের ১৯৬২ বিশ্বকাপ জয়ের পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর সেই ম্যাচের নায়ক ছিলেন আমারিলদো।
দুই গোলের অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য তাকে দেওয়া হয়েছিল “The Possessed One” উপাধি।
অন্যদিকে স্পেনের জন্য এই পরাজয় ছিল এক যুগের সমাপ্তির সূচনা।
আলফ্রেডো দি স্টেফানো ইনজুরির কারণে পুরো বিশ্বকাপেই মাঠে নামতে পারেননি। স্পেনের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যায় তার বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নও। ফেরেন্স পুস্কাসও এরপর আর খুব বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি। পাকো গেন্তোকেও ধীরে ধীরে জাতীয় দলের পরিকল্পনার বাইরে সরিয়ে দেওয়া হয়।
তাই বলা যায়, আমারিলদোর সেই জোড়া গোল শুধু একটি ম্যাচের ফল বদলায়নি। সেটি ছিল এক স্বর্ণালী স্প্যানিশ প্রজন্মের আন্তর্জাতিক যাত্রার শেষ অধ্যায়ের প্রতীক।
ফুটবল ইতিহাসে তাই আমারিলদো শুধু পেলের বদলি নন। তিনি সেই মানুষ, যিনি এক বিশ্বকাপ সন্ধ্যায় ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিলেন।
11/06/2026
বিশ্বকাপ আসে, বিশ্বকাপ যায়। গোল হয়, উল্লাস হয়, নতুন নায়ক জন্ম নেয়। কিন্তু কিছু মুহূর্ত সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে স্মৃতির পাতায় চিরস্থায়ী হয়ে থাকে।
এখনো কানে বাজে কিংবদন্তি ধারাভাষ্যকার পিটার ড্রুরির সেই আবেগময় কণ্ঠ—
"Goal Bafana Bafana! Goal for South Africa! Goal for all Africa! Jabula! Rejoice!"
আর চোখের সামনে ভেসে ওঠে সিফিওয়ে শাবালালার সেই দুর্দান্ত গোলের পর দক্ষিণ আফ্রিকা দলের আইকনিক নৃত্য।
সময়টা ১৬ বছর আগের ঠিক এই দিন। তখন ঘরে ঘরে স্মার্টফোন ছিল না, অনেক বাড়িতে টেলিভিশনও ছিল না। পেপসি কিনে বোতলের গায়ে মেসি, কাকা, রোনালদো কিংবা ড্রগবার ছবি সংগ্রহ করতাম। শাকিরার Waka Waka যেন প্রতিটি রাস্তা, দোকান আর মানুষের মুখে মুখে ঘুরে বেড়াত।
বিশ্বকাপের সূচি পত্রিকা থেকে কেটে যত্ন করে রেখে দিতাম। দর্জির দোকান থেকে ২০-৩০ টাকায় এক হাত পতাকা বানিয়ে বাড়ির ছাদে টাঙাতাম। বাজারে, চায়ের দোকানে কিংবা মোড়ের ছোট্ট দোকানে একটি টিভির সামনে অর্ধশত মানুষ জড়ো হয়ে একসঙ্গে বিশ্বকাপ দেখতাম।
সেই প্রথম ম্যাচ। দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম মেক্সিকো। শাবালালার গোল। ড্রুরির আবেগমাখা কণ্ঠ। আর পুরো আফ্রিকার আনন্দে ভেসে যাওয়ার এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।
আজ আবার বিশ্বকাপের নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। নতুন প্রজন্ম নতুন স্মৃতি তৈরি করবে, নতুন নায়কের জন্ম হবে। কিন্তু ২০১০ সালের সেই বিকেল, সেই গোল, সেই সেলিব্রেশন আর সেই অনুভূতি—ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।
কারণ কিছু দিন ইতিহাস হয় না, হয়ে যায় অনুভূতি। আর সেই দিনগুলোর একটি ছিল ১১ জুন, ২০১০।
03/06/2026
ওলেগ সালেনকো: ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য গোল্ডেন বুট বিজয়ী!
ফুটবলে এমন কিছু গল্প আছে, যেগুলো শুনলে মনে হয় যেন কোনো সিনেমার স্ক্রিপ্ট। ওলেগ সালেনকোর গল্প ঠিক তেমনই। এমন এক ফুটবলার, যার পুরো আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে সংজ্ঞায়িত করেছে মাত্র একটি বিশ্বকাপ, আর সেই বিশ্বকাপেরও মাত্র একটি ম্যাচ!
১৯৯৪ বিশ্বকাপে রাশিয়ার যাত্রা শুরু হয়েছিল হতাশাজনকভাবে। প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে ২-০ গোলে হার, এরপর সুইডেনের কাছে ৩-১ ব্যবধানে পরাজয়। দুই ম্যাচ শেষে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। সুইডেনের বিপক্ষে রাশিয়ার একমাত্র গোলটি করেছিলেন ওলেগ সালেনকো, কিন্তু তখনও কেউ জানত না যে কয়েকদিন পর তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন।
গ্রুপের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিল ক্যামেরুন। রাশিয়ার আর হারানোর কিছু ছিল না। কিন্তু সেদিন যা ঘটেছিল, তা আজও বিশ্বকাপের ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। সালেনকো একাই করেন ৫টি গোল! রাশিয়া জিতে ৬-১ ব্যবধানে, আর বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড নিজের নামে লিখে নেন। অবাক করার বিষয় হলো, ৩০ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই রেকর্ড এখনো কেউ ভাঙতে পারেনি।
সুইডেনের বিপক্ষে করা গোলটি মিলিয়ে টুর্নামেন্টে তার মোট গোল দাঁড়ায় ৬টি। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। বিশ্বকাপ শেষে দেখা গেল, আর কোনো খেলোয়াড় তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। বুলগেরিয়ার হ্রিস্টো স্টোইচকভও ৬ গোল করেছিলেন, ফলে দুজন যৌথভাবে গোল্ডেন বুট জেতেন। অথচ রাশিয়া তখন অনেক আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে!
বিশ্বকাপের ইতিহাসে অসংখ্য গোল্ডেন বুট বিজয়ী এসেছে, কিন্তু সালেনকো আজও একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি গ্রুপ স্টেজ থেকে বিদায় নিয়েও গোল্ডেন বুট জিতেছেন। এর আগে এমন হয়নি, এরপরও আর কখনো হয়নি। ফুটবলের সবচেয়ে অদ্ভুত এবং বিরল অর্জনগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
তবে সবচেয়ে অবিশ্বাস্য তথ্যটা এখনো বাকি।
রাশিয়ার হয়ে ওলেগ সালেনকো খেলেছিলেন মাত্র ৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আর পুরো আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি গোল করেছিলেন মোট ৬টি। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, সেই ৬ গোলের সবকটিই এসেছিল ১৯৯৪ বিশ্বকাপে! অর্থাৎ জাতীয় দলের জার্সিতে তার করা প্রতিটি গোলই বিশ্বকাপের মঞ্চে। এরপর তিনি আর কখনো আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোল করতে পারেননি।
আরও মজার ব্যাপার হলো, সালেনকো শুধু সিনিয়র বিশ্বকাপেই নয়, যুব বিশ্বকাপেও গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। আজও তিনি একমাত্র ফুটবলার, যিনি ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং সিনিয়র বিশ্বকাপ—দুই আসরেই সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন।
অনেক কিংবদন্তি খেলোয়াড় পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে বিশ্বকাপে এমন একটি মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করেন, যা তাদের অমর করে রাখবে। কেউ পান, কেউ পান না। কিন্তু সালেনকো ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি হয়তো পেলে, মারাদোনা, রোনালদো বা ক্লোজের মতো কিংবদন্তি নন। বড় কোনো ক্লাবে বছরের পর বছর আধিপত্যও দেখাননি। তবুও বিশ্বকাপের ইতিহাসে তার নাম এমন এক জায়গায় লেখা আছে, যেখানে পৌঁছাতে পারেননি অনেক মহান ফুটবলারও।
ওলেগ সালেনকোর গল্পটা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ফুটবল সবসময় যুক্তির খেলা নয়। কখনো কখনো একজন সাধারণ খেলোয়াড়, একটি বিশেষ দিন, আর ৯০ মিনিটের জাদুই ইতিহাস বদলে দিতে পারে। আর সেই কারণেই ফুটবল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর খেলা। ❤️⚽
16/05/2026
গত মে মাসে মার্ক গুইহি অধিনায়ক হিসেবে ক্রিস্টাল প্যালেসকে নেতৃত্ব দিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে FA Cup ফাইনালে শিরোপা জিতেছিলেন।
কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি ছিলেন FA Cup ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের অংশ। কারণ, ক্রিস্টাল প্যালেস তখন নন-লিগ দল ম্যাকলসফিল্ড টাউনের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছিল।
এরপর একই মাসে তিনি প্যালেস ছেড়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন। আর এখন, আবারও একটি বড় ফাইনালের প্রস্তুতি নিচ্ছেন — যেখানে শনিবার তাদের প্রতিপক্ষ চেলসি।
ফুটবলে কয়েক মাসেই কত কিছু বদলে যেতে পারে, মার্ক গুইহির গল্প তারই উদাহরণ।
16/05/2026
ফ্রান্স ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে — আর যাদের নাম বাদ পড়েছে (এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, র্যান্ডাল কোলো মুয়ানি, ফারল্যান্ড মেন্দি প্রমুখ), তা দেখলেই বোঝা যায় তারা এবার কতটা সিরিয়াস। কোনো ঝুঁকি নয়, শুধুই সেরা ফর্মে থাকা খেলোয়াড়দের নিয়েই তারা মাঠে নামতে চায় — এই মানসিকতাই তাদেরকে সবসময় শীর্ষ প্রতিযোগিতায় রাখে।
ফ্রান্সের শক্তির মূল রহস্য শুধু তারকা খেলোয়াড় নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ধারাবাহিক বিনিয়োগ এবং শক্তিশালী ফুটবল সিস্টেম। ডায়াসপোরা নীতি, জাতীয় একাডেমি INF Clairefontaine এবং আধুনিক ইউরোপিয়ান কোচিং ও ট্রেনিং কাঠামো তাদের সাফল্যের বড় ভিত্তি। Clairefontaine-এর মতো একাডেমি থেকেই উঠে এসেছেন কিলিয়ান এমবাপে, থিয়েরি অঁরি, ব্লেইজ মাতুইদিদের মতো তারকারা। বংশগত বৈচিত্র্য, টেকনিক্যাল ট্রেনিং ও সুশৃঙ্খল উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সমন্বয়েই আজকের শক্তিশালী ফ্রান্স দল তৈরি হয়েছে।
ফলাফলও চোখে পড়ার মতো — বিশ্বকাপ জয় ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালে, আর ২০০৬ ও ২০২২ সালে রানার-আপ। অর্থাৎ, পরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি নীতির ফল একদিন না একদিন আসেই।
মরক্কোও সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ উদাহরণ তৈরি করেছে। অল্প সময়ে সঠিক ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট, উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী ফুটবল কাঠামো গড়ে তুলে তারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বাংলাদেশও চাইলে ধীরে ধীরে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। দরকার ভালো একাডেমি, যোগ্য কোচ, আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং প্রয়োজনে ডায়াসপোরা-ভিত্তিক খেলোয়াড় উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তি। আমাদের শেখার বিষয় একটাই — পরিকল্পিত বিনিয়োগ এবং ধৈর্য থাকলে ফল অবশ্যই আসে।
আপনার মতে, বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নতির জন্য প্রথমে কোন তিনটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করা উচিত? মন্তব্য করুন।
14/05/2026
১৩ মে ২০২৬-এ ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ প্রেস কনফারেন্সে যখন উঠলেন, স্পেনের সব সাংবাদিক বিরাট প্রত্যাশায় বসে ছিলেন যে তিনি আসতেই পদত্যাগের ঘোষণা করবেন। কিন্তু তিনি লম্বা প্রলাপ না কেটেই বললেন, "আমি দুঃখিত আপনাদের হতাশ করার জন্য, কিন্তু আমি পদত্যাগ করছি না।" সেটা শুনে আমি একটু রোমাঞ্চিত হলাম কারণ বলছি শুনেন। তখন আমার মনে হয়েছিল সেই ২০১৩ সালে কথা যখন তিনি এই একই কথা বলেছিলেন, আর তার পর যা যা ঘটেছিল সেটা মনে করে।
২০১৩-এ ও তখন মোউরিনহোর সময় ছিল, ড্রেসিংরুমে ঝগড়া-দোলাচল, সেই একই ট্রফিহীন সিজন, বিশৃঙ্খল সময়ে সবাই ভাবছিলেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ চলে যাবেন। তখনও তিনি বলেছিলেন তিনি যাচ্ছেন না। আর তারপর কি হলো? রিয়াল মাদ্রিদ পরের পাঁচ বছরে চারবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতল—২০১৪, ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০১৮। সবকিছুর শুরু হয়েছিল ঠিক সেই একই কথাই বলার মুহূর্ত থেকে, একই ভবনে, প্রায় একই সাংবাদিকদের সামনে।
সব মাদ্রিদ প্রেমীদের উদ্দেশ্যে আমার একটা কথা—যখন ক্লাব কষ্টে থাকে, ঠিক তখনই একটা ভালো অধ্যায়ের বীজ জন্মায়। ২০০৯ আমাদের জন্য ব্যথাদায়ক ছিল, ২০১৩ ছিল কষ্টকর, তবু তার পরে আমরা চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছি। রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবরা তাদের রাজত্ব কেবল ভালো সময়েই গড়ে তোলে না; তারা খারাপ সময় থেকে শিক্ষা নিয়ে শক্ত হয়ে ওঠে। ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ এখানে রয়েছেন, মোউরিনহো ফিরছেন, রিবিল্ডিং ইতিমধ্যেই শুরু। ইতিহাস আমাদের শেখিয়েছে—রিয়াল মাদ্রিদের উজ্জ্বলতম সিজনগুলো সাধারণত অন্ধকার সিজনের পরই আসে।
সোজাসাপ্টা বলুন আপনারাও কি মনে করেন এটি রিয়াল মাদ্রিদের আরেকটি মহত্তর কমব্যাকের গল্প শুরু?
03/05/2026
জিনেদিন জিদান: 🗣️
"রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি বুঝতে পারলাম, ১০ নম্বর জার্সিটা কীভাবে শুধু একটা সাধারণ শার্টে পরিণত হয়েছে। অথচ এটা পরা উচিত এমন একজন বিশেষ খেলোয়াড়ের, যে হবে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক, সবার অনুপ্রেরণা যাকে দেখে সবাই হতে চায়।
আমি ড্রেসিং রুমে খেলোয়াড়দের সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলাম তাদের মতে কে এই জার্সি পরার যোগ্য। এমন কেউ, যে মাঠে প্রায় কখনো ভুল করে না, কঠিন ম্যাচে যার দিকে সবাই তাকায়,
যার কাছে বল দিতে সবাই চায়।
কথা শেষ করতেই দেখলাম সবার চোখ লুকা মদ্রিচের দিকে।"
05/02/2026
কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে এবং মিশেল প্লাতিনি। ৮০-এর দশকের ইন্টার বনাম জুভেন্টাস: এক ফ্রেমে ফুটবলের দুই কিংবদন্তি! 🇩🇪🇫🇷