13/06/2026
What a stat!
বিশ্বকাপের ইতিহাসে বেস্ট ইন্ডিভিজুয়াল ক্যাম্পেইনের কথা বললে সবার আগে ১৯৮৬ ম্যারডোনার নাম আসে। এই তালিকায় রবার্তো বাজ্জিও থাকতেন ৯৪ এর ফাইনালে জিতলে। কিং পেলের ১৯৭০ ক্যাম্পেইনে ১২ গোল কন্ট্রিবিউশন থাকলেও ওটা ব্রাজিলের ইতিহাসের সেরা টিম হওয়ায় পেলের ক্যাম্পেইন হাইলাইট হয়না ঠিকঠাক।
তবে, আরেকজন আছেন , যার ওয়ার্ল্ড কাপ ক্যাম্পেইন কোনদিক দিয়েই ম্যারডোনার ক্যাম্পেইনের চেয়ে কম সিগনিফিক্যান্ট না - ১৯৬২ গারিঞ্চা।
গারিঞ্চাকে ব্রাজিলে ডাকতো "A Alegria do povo" বলে, ইংলিশে "Realm's delight"
অভূত রকমের সারল্য ছিলো এই ব্যক্তির। ১৯৫৮ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে ছিলেন। ব্রাজিল ফাইনালে জেতার পর গারিঞ্চা তার ব্রাজিলিয়ান টিমমেটদের সেলিব্রেট করতে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন কারণ তিনি জানতেনই না যে ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতে গিয়েছে।
একজনকে ডেকে জিজ্ঞেস করে বসলো," কি হয়েছে?সবাই কিসের জন্য এরকম উদযাপন? "
তার সেই টিমমেট উত্তর দিলো,"তুমি আসলেই জানোনা?আমরা বিশ্বকাপ জিতে গিয়েছি,তাই এই উদযাপন!"
গারিঞ্চা আসলেই জানতনা যে সে বিশ্বকাপ জিতে গিয়েছে কারণ তখনকার ব্রাজিলিয়ান ঘরোয়া লিগের টাইটেল ডিসাইড হতো ৩ টা ফাইনাল ম্যাচের পর এবং গারিঞ্চা ভেবে নিয়েছিল যে বিশ্বকাপের ফরম্যাটও একই!
গারিঞ্চা নিয়ে আরো গল্প প্রচলিত আছে। গারিঞ্চা জানতেন না যে ফুটবল খেলে কি পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা যায়। নিজের ব্যাংক ব্যালেন্সের হিসেব নাকি রাখতেন না কিছু। টাকার জন্য তিনি কোনোদিন খেলেননি, খেলেছেন ফুটবলকে ভালোবাসতেন দেখে। সাধারণ মানুষদের একজন মনে করতেন নিজেকে, খেটে খাওয়া মানুষের কর্মব্যস্ত জীবনে আনন্দের খোরাক দিতে চাইতেন ফুটবল দিয়ে।
বন্ধুপ্রতিম ছিলেন খুব। খুব ফেমাস হয়ে যাওয়ার পরেও ম্যাচের পর প্রায়শই বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতেন লোকাল পাবে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে পারবেন না দেখে নাকি ইউরোপের বেশ কিছু ক্লাবের অফারও নির্দ্বিধায় প্রত্যাখ্যান করেছেন।
গারিঞ্চা ছিলেন ফুটবলের শিল্পী। সমসাময়িক পেলে যখন গোল দিয়ে সান্তোসের মাঠ মাতাচ্ছেন, গারিঞ্চা তখন গোল দেওয়া নিয়ে মাথাই ঘামাতেন না। পায়ে বল রেখে ডিফেন্ডার , এমনকি গোলকিপারকে নাচানোই ছিলো গারিঞ্চার শখ।
গারিঞ্চার সাথে স্পেক্টেটররা কানেক্ট করতে পারতো। স্টেডিয়ামে "OLE OLE" চ্যান্ট উঠতো গারিঞ্চার পায়ে বল গেলেই।
বিনাতর্কে ফুটবল ইতিহাসের সেরা ড্রিবলার গারিঞ্চা, পেলের পর ব্রাজিলের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়ও বটে, নামের পাশে দুইটা বিশ্বকাপ আছে তার।
পেলের চেয়ে কিছু কম করে যাননি ব্রাজিলের ফুটবলের জন্য কিন্তু তার নামটা কখনো উচ্চারিত হয়নি সমস্বরে।
১৯৬২ বিশ্বকাপে পেলে খেলতে পেরেছিল মাত্র দুই ম্যাচ। ব্রাজিলের কিং পেলে ইঞ্জুর্ড হয়ে সাইডলাইনে যাওয়ার পর এই গারিঞ্চাই ব্রাজিলকে বিশ্বকাপে ক্যারি করে নিয়ে গিয়েছে ফাইনাল পর্যন্ত, জিতিয়েছেও।
নিজের জীবনে কখনো ফুটবলের জটিল দিকগুলো নিয়ে ভাবেননি গারিঞ্চা , তাই হয়তো ফুটবলকে সত্যিকার অর্থে উপভোগ করতে পেরেছিলেন। ব্রাজিলের হয়ে পঞ্চাশবার মাঠে নেমে হেরেছেন একবার। যেই ম্যাচে হেরেছিলেন, ঐ ম্যাচের পর আর কোনোদিন ব্রাজিলের জার্সি গায়ে তোলেননি স্বেচ্ছায়।
ব্রাজিলের অলিগলি গারিঞ্চাকে ভোলেনি। মানুষের হৃদয়ে পেলের পাশেই থাকবেন চিরকাল। ১৯৮৩ সালে লিভার সিরোসিসে মৃত্যু হয় গারিঞ্চার। তাঁর কফিনকে ম্যারাকানা থেকে পাউ গ্রান্দেতে নিয়ে যাওয়ার পথে কয়েক লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিল ব্রাজিলের ইতিহাসের সবচেয়ে এন্টার্টেইনিং ফুটবলারকে বিদায় দিতে।
তাঁর এপিটাফে লিখে দেওয়া হয়েছিল, " Here rests in peace the one who was the Joy of the People – Mané Garrincha.
ব্রাজিলের অলিতে গলিতে , দেয়ালে দেয়ালে আজও লেখা পাওয়া যায়, "Obrigado, Garrincha, por você ter vivido" অর্থাৎ " পৃথিবীতে আসার জন্য ধন্যবাদ , গারিঞ্চা"
আগামীকাল ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ। না আছে পেলে, না আছে গারিঞ্চা। গারিঞ্চা পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন ৪৩ বছর আগেই, পেলে ৪ বছর আগে। ব্রাজিলের ফুটবলে এই দুজনের শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হওয়ার না।
Author - Muhammed Hasibul Islam Jihad