11/06/2026
“বীর চট্টলায় স্বাগতম, জুলাইয়ের ইমাম — নাহিদ ইসলাম।”
অনেকদিন ধরেই একটি প্রচারণা চালানো হচ্ছিল যে এনসিপি নাকি শুধুই একটি নির্দিষ্ট ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক বলয়ের প্রতিনিধি, কিংবা জামায়াতের ছায়া সংগঠন। কিন্তু বাস্তবতা ধীরে ধীরে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।
বিশেষ করে জামেয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসায় উপস্থিতির মাধ্যমে এনসিপি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে — তারা কেবল একটি গোষ্ঠীর রাজনীতি করতে চায় না; বরং বাংলাদেশপন্থী সকল শক্তিকে তারা ওউন করে। সে সুন্নি হোক, কওমি হোক, সাধারণ শিক্ষার্থী হোক কিংবা ভিন্ন মতাদর্শের মানুষ — জাতীয় স্বার্থে সবাইকে নিয়ে এগোনোর ইঙ্গিতই এখানে স্পষ্ট হয়েছে।
এটাই এনসিপির একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান, যা হয়তো অনেকে আগে বুঝতে পারেনি। কিন্তু জামেয়ায় যাওয়ার এই পদক্ষেপ অনেক ভুল ধারণা ভাঙার সুযোগ তৈরি করেছে। রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয় তখনই, যখন একটি দল সমাজের সব শ্রেণি ও ধারার মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। এনসিপি সেই বাস্তবতাকেই সামনে আনার চেষ্টা করছে।
তবে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আবেগ অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশেষ করে জামেয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসার মতো ঐতিহাসিক ও প্রভাবশালী স্থানে যেকোনো পদক্ষেপ খুব হিসাব করে নিতে হয়। সামান্য ভুল বা অসাবধানতাকেও বিভিন্ন পক্ষ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে পারে। অনেক সংগঠনই সুযোগের অপেক্ষায় থাকে— কোনো বক্তব্য, আচরণ বা ইঙ্গিতকে কেন্দ্র করে ট্রল, সমালোচনা কিংবা অপপ্রচার চালানোর জন্য। তাই এখানে প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে দায়িত্বশীল, পরিমিত ও সম্মানজনক।
রাজনীতিতে শুধুই আবেগ নয়, প্রজ্ঞাও প্রয়োজন। মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুভূতির জায়গাকে সম্মান করে এগোতে পারলে এনসিপি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে।
আবারও স্বাগতম,
“জুলাইয়ের ইমাম” — নাহিদ ইসলাম।
বীর চট্টলার মাটিতে আপনার পদচারণা হোক ঐক্য, সচেতনতা ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির বার্তাবাহক।