22/01/2022
ব্রাজিলিয়ান দলের দুই পাশের দুই সান্তোস(ডিজালমা-নিল্টন) তখন বেশ জনপ্রিয়। ডিফেন্ডারদের জনপ্রিয়তা বিশেষ করে ফুলব্যাকদের পরিচিতি পেতে হলে তখনকার সময়ে বেশ কাঠখড় পোহাতে হতো।কিন্তু এই দুইজন আর হেলেনিও হেরেরার আবিষ্কার ফাচেত্তির বদলতে ৬০ এর দশকে ফুটবলে এই পজিশনটাও বেশ সুনাম কুড়াতে লাগল।তখনকার সময়ে নিজেদের কারুকার্য প্রদর্শনের সবচেয়ে ভাল সুযোগটা আসত বিশ্বকাপের মঞ্চে।১৯৬৬ এর ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে তাই স্পেন ভেবেছিল তারাও তাদের শৌর্যবীর্য প্রদর্শন করবে।আর তা হবে শুরুর লাইনে বলা ফুলব্যাকদের দিয়ে।কিন্তু স্পেনের সেই বুদ্ধিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দিয়েছিল ইংল্যান্ড। আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে তাদের কোচ অ্যাল্ফ র্যামজি।তাঁর ট্যাক্টিসটা ছিল ববি চার্লটনকে কেন্দ্র করে একেবারে মাঝমাঠ দিয়ে আক্রমণে যাওয়া।স্পেনের দুই ফুলব্যাক বসে ছিলেন মাঠে বলতে গেলে।"উইংলসে উলভস" নামটাও এসে গেল যার কারণে।
অ্যাল্ফ র্যামজি ছিল খুবই দুর্দান্ত একজন ট্যাক্টিশিয়ান।উনার কোচিং এর আরেকটা ভাল দিক ছিল ম্যান ম্যানেজমেন্ট কোয়ালিটি। ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলের অনেকেই র্যামজিকে দ্বিতীয় বাবা হিশেবে মানত।অযথাই ট্যাকেল করতেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার নবি স্টাইলস।যেকোন মূহুর্তে বিপদ ঘটাতে পারে এমন ট্যাকেল।সেইজন্যেই স্টাইলসকে দলে যায় না স্বয়ং ইংলিশ এফএ।কিন্তু র্যামজির এক বাক্য স্টাইলস থাকবে নাইলে আমিও থাকব না।র্যামজির গোয়ার্তমির কাছে হারল মানতে হল এফ.একে।র্যামজিই যে ঠিক সেটি প্রমাণ করে দিলেন স্টাইলস।সেমিফাইনালে পর্তুগালের ইউসেবিওকে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন স্টাইলস আর তাতেই ইংল্যান্ডের জয়।দলের তারকা স্টাইকার জিমি গ্রিভস ইঞ্জুরিতে পড়লেন, বিশ্বকাপও শেষ।অনেকেই আপত্তি সত্ত্বেও জিওফ হার্স্টকেই দলে রাখলেন র্যামজি।হার্স্টও প্রতিদান দিলেন গোলের পর গোল করে।ইংল্যান্ডের ঘরেও আসল বিশ্বকাপ।
র্যামজির ম্যান ম্যানেজমেন্ট কিংবা প্লেয়ারদের সাথে সম্পর্কই ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে দিল সেবার।প্লেয়ার হিশেবে ক্যারিয়ার বেশি বড়ো ছিল না তার।কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ইপ্সউইচের হয়ে।প্রথম সিজনেই তৃতীয় কিংবা চতুর্থ করেছিল দলকে।১/২ সিজন পরেই লিগ শিরোপা। মাস্টারমাইন্ড র্যামজির শুরু।জাতীয় দলের ডাক অবহেলা করা কঠিন কাজ। র্যামজিও চলে আসলেন।বাকীটা তো বললামই।যেটা পারেনি কাপেলোর মতোন উস্তাদও।
আজ র্যামজির জন্মদিন।এতটুকুই লিখতে পারলাম যদিও লেখা যাবে অনেক পৃষ্ঠাই।
02/05/2021
“ম্যাইটার বল” ঘাসের উপরে এক অ্যাঙ্গেলে রাখা আছে।বলটি ফুটবলারদের মাঝে ‘ঘূর্ণিত-মন্তক’ ঘটাতে বেশ সেয়ান।এক-দুই কদম পেছালেন।পায়ের মোজাজোড়া অন্য ফুটবলারদের তুলনায় কিঞ্চিৎ নিচে পড়া।কিন্ত তিনি রুই কস্তা নকলনবিশ নন।কোমরে হাত,চোখের খরশান দৃষ্টি একবার মাইটার বলের দিকে তো আরেকবার গোলপোস্টের দিকে।গ্রহনক্ষেত্রের কোন নির্দিষ্ট আবক্র পথে বলটিকে পাঠাবেন নিজের ভাবিবোধকে কাজে লাগিয়ে তাই যেন স্থির করে নিলেন।ক্যামেরাটা তার দিকে তাক করে আছে,অধিনায়কের আর্মব্যান্ড তার হাতকে যেন পরম আলিঙ্গনে ধরে রেখেছে ।গোলপোস্টের সামনে অতন্দ্র প্রহরীর মতো অপেক্ষারত আছেন গোলরক্ষক।রেফারি ফু দিলেন বাঁশিতে,এগিয়ে এসে বলটিকে পাঠালেন আগেই ভেবে রাখা ঠিকানার উদ্দ্যেশে,জালের শীর্ষ কোণে এবং ডেভিড বেকহাম ইংল্যান্ডকে নিয়ে গেলেন ২০০২ বিশ্বকাপের মূল পর্বে।
ফুটবলীয় দৃষ্টিকোন থেকে বেকহাম একজন আন্ডাররেটেড খেলোয়াড়,তথাপি দলের চরম মুহুর্তে তার ভূমিকা অপরিসীম।এই ব্যাপারটিকে কখনোই অতিরঞ্জন মনে হবে না।৯৪/৯৫ সিজনে যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে লোনে তাকে প্রেস্টনে পাঠানো হলো নিজের ফুটবলীয় দক্ষতা সম্পর্কে খানেকটা হলেও হতাশ হয়েছিলেন,কিন্ত হার না মানা প্রত্যয় তাকে দিয়েছিল অনুপ্রেরণা।যার ফলাফল প্রেস্টনের হয়ে অভিষেকেই গোল,তাও আবার সরাসরি কর্ণার থেকে,যা ফুটবলে কদাচিৎ দেখা যায়।প্রেস্টনের হয়ে খেলেছেন মাত্র পাঁচ ম্যাচ,গোল করেছেন দুটি।একটির কথা মাত্রই বললাম,অন্যটি বেকহামের নিজের প্রিয় ছিল।অনুমান করাই যাচ্ছে কোন ধরনের গোল সেটি।হ্যাঁ,ফ্রি কিকেই আসে প্রেস্টনের হয়ে দ্বিতীয় গোল।এই অল্পকিছু ম্যাচেই নিজের জাত চেনালেন।স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনও যা বোঝার বুঝে গেলেন,নিয়ে আসলেন ওল্ড ট্রাফোর্ডে।প্রাণান্তকর ডান-পা আর উইঙ্গার হিসেবে সুনাম পেতে শুরু করলেন।আর ফ্রি-কিক ছিল বেকহামের হলমার্ক,রেসলার হলে এটাই হত তার সিগনেচার মু্ভ,ইম্প্যাক্ট থাকতো স্টিভ অস্টিনের স্টানার বা ব্রাদার্স অফ ড্রেসট্রাকশনের আন্ডারটেকার ও কেইনের চোকস্ল্যামের মতোন।
আগের মৌসুমে শিরোপা সংখ্যা শূন্য হওয়ায় কোচ ফার্গুসনের উপরে মিডিয়া এবং সমর্থকদের একটা বাড়তি চাপ ছিল স্টার প্লেয়ার কেনার জন্যে।কিন্ত কোচ ভরসা রাখলেন তরুনদের উপর।ভরসা রাখলেন “ফার্গুসনস ফ্লেজলিঙ্গস”দের উপর;নিকি বাট,রায়ান গিগস,পল স্কোলস,নিভিল(ফিলিপ,গ্যারি)ভ্রাতৃদ্বয় এবং ডেভিড বেকহাম।ওই মৌসুমে প্রিমিয়ার লীগ ও এফ.এ কাপ জয়ে ভূমিকা রাখলেন বেকহাম।
১৯৯৬/৯৭ মৌসুমের প্রথম ম্যাচে ইউনাইটেডের প্রতিপক্ষ উইম্বলডন।আশানুরূপ ইউনাইটেড ২-০ গোলে এগিয়ে।১০ নাম্বার জার্সি পরিহিত খোশপোশাকি হরিদ্বর্ণ চুলের অধিকারী বেকহাম বল পেলেন মাঝমাঠে নিজের অর্ধে।এমন এক সিদ্ধান্ত নিলেন যা নিজের ক্যারিয়ারকে একদম পরিবর্তন করে দিল।একদম অধীত ঔদাসিন্যে অ্যাডিডাস প্রেডাটর বুট দিয়ে বলে লাথি মারলেন।দুর্ভাগা উইম্বলডনের গোলি নীল সালিভান বেকহামের সাথে নেমে পড়লেন এক টেলেকেনিটিক যুদ্ধে। দুইজনেই চাচ্ছেন বল যাতে নিজেদের মান্য করে।৬০ গজ দূর থেকে বেকহামের পায়ের জাদুতে বল ন্যানোসেকেন্ডের মধ্যে জালে জড়াতে লাগলো।নীল সালিভানের ছিল না কিছুই করার।'অ্যান্ড উইথ দ্যাট আ স্টার ওয়াজ বোর্ন'।
বেকহাম ট্রেনিং এ আসতো সবার আগে আর যেত সবার পরে।নিজের ছাত্র সম্পর্কে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন বলেন বেকহাম যখন প্রথমে ক্লাবে আসে সে ক্লাবের সাথে সকাল-বিকাল অনুশীলন করার পরে সন্ধ্যায় স্কুলছাত্রদের সাথে আবার নেমে পড়তো মাঠে,জোর করে মাঠ থেকে তাকে তুলে নিতে হতো।অন্যদের জন্যে ডেভিড ছিল এক উদাহরণসরুপ।বেকহাম আর ফার্গুসনের সম্পর্ক ছিল পিতা-পুত্রের মতন।বেকহামের বিপদে সবার আগে আসতেন ফার্গুসন,বেকহামও যেকোন দরকারে ছুটে যেতেন তার কাছে।
১৯৯৮ সাল বেকহামের জন্যে মোটেই সুখকর ছিল না।ফ্রান্স বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বাদ পড়ার জন্যে দ্বায়ী করা হয় তাকে।নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার স্বীকার বেকহাম যেন ক্লাবেও হারিয়ে ফেলেছেন ছন্দ।কারণ ততদিনে ফুটবলের বাইরেও তার অস্তিত্ব মিলতে শুরু করেছে অন্য এক রঁজক জীবনের।নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন আসল ৯০ দশকের স্টাইল আইকন হিসেবে।কেন হবে না! “দিয়ামান্তে কানের দুল,বুটকাট জিন্স এবং টিম্বারল্যান্ড বুটস ইন টোও” অন্য কাকে এমন মানাতো?তারকাখ্যাতির শীর্ষচূড়ায় নিজের অবস্থান যখন ধার্য ঠিক তখনই ‘প্রেস অ্যান্ড পাবলিকের’ সমালোচনার তীব্র ধারালো তীর ছোড়া শুরু হলো।কিন্ত ডেভিড বেকহাম তাদের পাত্তা দিলেন না বিন্দুমাত্র।পুরা সিজন জুড়েই ইউনাইটেড শেষের দিকে যেভাবেই হোক জয় ছিনিয়ে আনতেন,যা তাদের শুরুর দিকের বাজে খেলার দ্বায়মুক্তি।স্পার্সের বিরুদ্ধে সিজনের শেষ ম্যাচে বেকহামের দল ০-১ এ পিছিয়ে।টিপিক্যাল বেকহামীয় গোল মানে বক্সের বাইরের থেকে গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরালেন।শেষপর্যন্ত ২-১ ম্যাচ এবং পরবর্তীতে লীগও জিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।লীগ জয়ের পরে এবার আসলো স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের প্রথম চ্যাম্পিয়নস লীগ জয়।বায়ার্ন মিউনিখের সাথে ফাইনালে সবাই জানে যে নায়ক ছিল টেডি শেরিঙ্গহাম এবং বর্তমানে ক্লাবের কোচ ওলে গানার সলসায়ার।এই ম্যাচে অসম্ভব প্রেশারের মধ্যেও বেকহাম খেলেছিল অনন্যসাধারণ ফুটবল।নিষেধাজ্ঞার জন্যে খেলতে পারেননি মিডফিল্ড ডুয়ো রয় কিন ও পল স্কোলস;এই দুজনের অভাব পূরণ করা অসম্ভব কিন্ত বেকহাম নিজের সাধ্যের বাইরে গিয়ে করেছেন অনন্যসাধন।সেরা পারফর্ম্যান্স হিসেবে ফুটবল ইতিহাসে সবসময় উপেক্ষিত হয়েছে বেকহামের এই খেলা।ফাইনালের দুটো গোলই এসেছে তার কর্ণার থেকে।১৯৯৯ সালই বেকহামের জীবনের সেরা হয়ে থাকবে।ট্রেবল জিতেছেন।রিভালদোর কাছে হেরে দ্বিতীয় হয়েছেন ইউরোপ ও ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কারে।এই বছরেই বিয়ে করেছিলেন পপস্টার ভিক্টোরিয়াকে।
এক্সক্লুসিভ ম্যাগাজিন ডিল,অত্যাধিক পার্টি এবং ছেলে ব্রুকলিনের বাবা হঠাৎ করেই বেকহামের পরিচয় হয়ে উঠেছে এই ব্যাপারগুলো।ফুটবলার বেকহামকে ভুলে বসেছেন অনেকেই।লিজেন্ডারি ফুটবলার জর্জ বেস্ট বলতেন যে বেকহামে বা-পায়ে খেলতে পারে না,হেড দিতে পারে না,ট্যাকেলও করতে পারে না,অনেক গোলও করে না;এসব বাদ দিতে সে ঠিকই আছে।এভাবেই মানুষ মনে রাখে বেকহামকে।মন্দের ভালো ফুটবলার তবে খুবই ভালো ব্যবসায়ী।কিন্ত বেকহাম যা করতে পারতেন অন্য সবার পক্ষে সেটা পারতপক্ষে অসম্ভব।প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ভিন্ন চার দেশের ফুটবল লীগ জিতেছেন।চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসতেন।
তো আচ্ছা বলুন কে এগিয়ে আসতো যখন ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপে যাওয়ার জন্যে প্রয়োজন ছিল একটি মিরাকেলের।ওই সময়ে বেকহাম ছাড়া অন্য কেউ যদি এমন মিরাকেল ঘটাতে পারতো বলে আপনার মনে হয় তাইলে আপনি নিতান্তই মিথ্যা বলছেন।ইংলিশদের ভালোবাসায় সিক্ত হতে লাগলেন,সমর্থকরাও সাগ্রহে মেনে নিলেন তাদের অধিনায়ককে।একেক সপ্তাহে একেক চুলের ঢঙ!,পপস্টার
বউ!,বিভিন্ন ধরনের পোশাক!,হলিউড!! এগুলা কোনো ব্যাপারই না,কারণ আমরা ডেভিড বেকহামের কথা বলছি।
শুভ জন্মদিন
12/03/2021
এই বিশ্বের সম্রাট হওয়া মোটেই সহজ নয়,
বন্দনা আর নিন্দাবাদ দুটোই মাখতে হয়–
আগুন তাদের কঠোর করে ,
রোষের রঙিন ফুলকি ঝরে
কিরীটখানি ম্লান করে দ্যায় বার্ধক্যের ক্ষয়।
ইটালিয়ান প্রেসের লজ্জা লাগা দরকার ! ছি ছি ! একটা লোক যে কিনা আজ সতেরো বছর ধরে ফুটবল দুনিয়ার অর্ধেক সাম্রাজ্যের প্রশ্নাতীত শাসক, তাঁকে ওরা বলছে ভীতু! ওয়ালে গিয়ে দাঁড়িয়ে তিনি নাকি ভয় পান? হৃৎপিণ্ডের মারাত্মক সমস্যায় যে ছেলেটার ফুটবল খেলা ছেড়ে দেওয়ার কথা, সে আজ প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের সবচেয়ে বেশি গোলের স্কোরার। আর তিনিই নাকি সামান্য একটা উড়ন্ত বলে ভয় পান?
তিনি নাকি জুভেন্তাস ক্লাবে ফ্লপ ! আচ্ছা ! চৌত্রিশ বছরের কোনও লোক যখন নতুন ক্লাবে আসেন তখন তাঁর থেকে ঠিক কি এক্সপেক্ট করে জুভেন্তাস তা আমি জানিনা। বরং রেকর্ডের খাতা ঘেঁটে যা পাচ্ছি তাই বলে দিই।
লোকটা গত সিজনে ৩৭টা গোল দিয়েছিল সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে। যেটা এই ক্লাবের ইতিহাসে কেউ কোনোদিন করেননি। প্রাইম বাজ্জিও, পিওলি, ডেভিড ট্রেজেগেট, ওমার সিভোরির মত ফরোয়ার্ডরা পারেননি, পারেননি দেল পিয়েরো, জিদান বা প্লাতিনির মত স্কোরিং প্লে-মেকাররাও।
রোনাল্ডো গত সিজনে করেছেন (জয়েন্ট)রেকর্ড ৩১টা লিগ গোল। শেষবার জুভেন্তাসের সাদাকালো জামা পড়ে কেউ এক সিরি আ সিজনে একত্রিশটা গোল দিয়েছিলেন ১৯৩৩-৩৪ মরশুমে, মানে যে বছর হিটলার নিজেকে জার্মানির ফ্যুরার ঘোষণা করেছিলেন, সেই বছরে শুরু হওয়া সিজনে।
এক সিজনে পরপর একটানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে(১১টা) অন্তত একটা করে গোল করার সিরি আ রেকর্ডের অধিকারী তিনি। পাশাপাশি পরপর একটানা সবচেয়ে বেশি অ্যাওয়ে ম্যাচে(৯টা) গোল করার নজিরও ওনারই করায়ত্ত।
তিনি মিস্টার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। পাঁচবার জিতেছেন এই ট্রফি। আর সেভিয়া বা টটেনহ্যামের মত ক্লাব এই প্রতিযোগিতায় গোল দিয়েছে তাঁর একার ট্যালির থেকে ঢের কম। তাঁর এখনকার ক্লাবের হয়ে ইউসিএলে ২৩টা ম্যাচে দিয়েছেন চোদ্দোটা গোল।
এই সিজনেও লিগের টপ স্কোরার তিনিই। লুকাকুর অসাধারণ ফর্ম নিয়ে মানুষ মাতামাতি করছে অথচ এই একই মরশুমে তাঁর থেকে নয় বছরের বড়ো রোনাল্ডোর থেকে তিন ম্যাচ বেশি খেলে তিনি করেছেন আঠারোটি গোল। রোনাল্ডো বাইশটি ম্যাচে কুড়িটি। কোপা ইতালিয়াতেও তিনি তিনটে ম্যাচে করেছেন দুটো গোল। সুপারকোপাতে একটি ম্যাচে একটি। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ছটি ম্যাচ খেলে করেছেন চারটি গোল।
অর্থাৎ শুধু এই সিজনে ক্রিশ্চিয়ানো বত্রিশটি ম্যাচে করেছেন সাতাশটা গোল ! অবিশ্বাস্য রেকর্ড। তবু নাকি ফ্লপ ! হুঁহ!
আড়াইখানা সিজনে ইতিমধ্যেই তিনি জুভেন্তাসের হয়ে ১২১টি ম্যাচে দিয়েছেন ৯২টি গোল! আর বাড়িয়েছেন বাইশটি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ ১২১টি ম্যাচে ১১৪টি ডাইরেক্ট গোল কন্ট্রিবিউশন । সেটাও চৌত্রিশ থেকে ছত্রিশ বছর বয়সে।
রবার্তো বজ্জিও, নিজের পিক বছরগুলো, মানে চব্বিশ থেকে আঠাশ কাটিয়েছিলেন এই ক্লাবেই। রোনাল্ডোর চাইতে আশিটা ম্যাচ বেশি খেলে ওনার গোল কন্ট্রিবিউশন ১৩০টি। যেটা টপকে যেতে সাড়ে ছত্রিশের রোনাল্ডোর হিসেব মত আর কুড়িটা ম্যাচও লাগবে বলে মনে হয়না।
আর যদি বলা হয় বাণিজ্যিক ভাবে তাঁর বিশাল চুক্তির জন্যে জুভেন্তাসের অসুবিধে হচ্ছে, তাহলে বুঝবো সেটা দায়সারা একটা অজুহাত ছাড়া কিচ্ছু না। ক্লাবের অত্যন্ত অসফল মিস-ম্যানেজমেন্ট নিজেদের দোষ ঢাকতে বলির পাঁঠা বানাচ্ছেন ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফুটবলারকে। কারণ তিনি একাই ক্লাবের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়িয়েছেন অনেকগুনে। জার্সি বিক্রি থেকে গ্লোবাল ভিউয়ার্শিপ সবই লাফে লাফে বেড়েছে তাঁর আগমনে।
একটা মোটামুটি মানের স্কোয়াডের দায়িত্বে একজন নভিস কোচকে বসিয়ে দিয়ে লিগে তৃতীয় থেকে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে ইউসিএল থেকে বিদায় নিলে, দোষটা কীকরে একা ছত্রিশের ক্রিশ্চিয়ানোর ঘাড়ে ফেলা যায়? এই সিজনে তাঁর ২৭টা গোল সরিয়ে নিলে জুভেন্তাস কোথায় পড়ে থাকতো কল্পনা করা যায়?
ইতালিয়ান মিডিয়া তাদের দেশের মহানায়ক সদৃশ তারকা, এবং ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিয়েটিভ রেজিস্টা, আন্দ্রে পির্লোর নিষ্প্রভ ম্যানেজারশিপকে সমালোচনা করার ব্যাপারে অত্যন্ত গড়িমসি ভাব দেখাচ্ছে।
ক্লাবের কর্তারাও অ্যালেগ্রি আর সারির মত অভিজ্ঞ এবং চিন্তাশীল কোচদের অধৈর্য্য হয়ে অহেতুক ছেঁটে ফেলেছে বড্ড নির্দয় ভাবে।
এখন তাদের ক্লাবের সর্বকালের সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর মধ্যে অন্যতমকে হুট করে সরাতে না পেরে ব্লেম গেম চালু করেছে। আর অন্যরা যে বয়সে স্টুডিওতে বসে বাকিদের খেলার কাটাছেঁড়া করেন, সেই বয়সে ম্যাচ প্রতি প্রায় একখানা করে গোল দিয়ে রোনাল্ডোকে হতে হচ্ছে যত দোষের ভাগী।
এবার আসি দ্বিতীয় রাজার কথায়। ট্রাঞ্জিশানের মধ্যে দিয়ে যাওয়া একটা বার্সেলোনা দলের নেতা তিনি লিওনেল মেসি। লিগ আর ইউসিএল মিলিয়ে তিরিশটি ম্যাচে তাঁর দেওয়া গোলের সংখ্যা ২৪টি। আর লিগে তাঁর অ্যাসিস্ট ছয়টি। একগুচ্ছ অ্যাসিস্ট আর একখানা গোল তিনি করেছেন কোপাতেও।
বিশেষত ২০২১ সালে তাঁর পারফরমেন্স অসাধারণ বললেও কম বলা হয়। গতবছর যথেষ্ট অফ যাবার পর, এবছর অনেকটাই শক্তিশালী দেখাচ্ছে তাঁর প্রদর্শন।
আগেরদিন পিএসজির বিরুদ্ধে প্রচুর সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। ভালো ফিনিশারের অভাবে ভুগেছে বার্সেলোনা। একটা অপ্রতিরোধ্য ওয়ান্ডার গোল করেছেন বহুদূর থেকে বাঁক খাইয়ে। ওদিকে চাপের মুখে মিস করেছেন একটি পেনাল্টিও।
প্রতিবারের মত তাই এবারও বার্সেলোনা নক আউটে একপেশে ভাবে ছিটকে যাবার পরে জবাবদিহি করার দায় সেই একমাত্র মেসিরই। আবারও ট্রোল আর মীমের পসরা বসেছে বাৎসরিক পরম্পরা মেনেই।
মেসির বয়স তেত্রিশ। একার কাঁধে একটা মধ্যমেধার দলকে টেনে নিয়ে যেতে যেতেই তিরিশ পঁয়ত্রিশ গজ বাইরে থেকে তিনি গোল করছেন। এই তেত্রিশ বছর বয়সেই কোনও এক সিআর সেভেন তাঁর তৎকালীন দলের হয়ে একটানা তৃতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতবার পথে দিয়েছিলেন তাঁর নিজের কেরিয়ারের অন্যতম দর্শনীয় বাইসাইকেল কিকে অভাবনীয় অ্যাথলেটিক গোল। সারা পৃথিবী মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে থেমে দাঁড়িয়েছিলো।
দুই জিনিয়াসেরই সূর্য অস্তপ্রায় । কাঁধ জোড়া হাঁপিয়ে গেছে প্রত্যাশার চাপ সয়ে সয়ে।
এরপরও যেদিন সবকিছু নিয়মমাফিক যাবেনা, সেদিন দুয়ো শুনতে শুনতে মুখ ঢেকে চলে যেতে হবে চেঞ্জিং রুমে।
মনে মনে নিতে হবে বয়সকে হারিয়ে শরীরকে সতেজ করে মনের ধার বাড়ানোর নিরন্তর একক প্রস্তুতি?
ফুটবল ইতিহাসের দুজন সবচেয়ে সফল ফুটবলার হয়েও আবার মাঠে নেমে নতুন করে প্রমাণ করতে হবে, যে চরমতম শিখরে দাঁড়ানোর অধিকারটা আজও তাঁদেরই?
প্রতিভার তেজ আর প্রতিভার অভিশাপ , দুটোই যাঁদের কাছে সমান সত্য, সেই লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, জানেন স্বর্গ আর পাতালের মধ্যেই সীমিত তাঁদের চলাচল, পার্থিব ক্ষুদ্রতা নিয়ে পৃথিবীর স্টেশনে থামেনা তাঁদের এরোপ্লেন।
© অপলক ভট্টাচার্য
26/01/2021
যদি আপনার কাছে থাকে ফেরারী আর আমার কাছে একটা নরমাল গাড়ি আপনাকে আমি যদি গাড়ির রেসে হারাতে চাই তাইলে আমার হয়তো আপনার গাড়ির চাকা খুলে দিতে হবে অথবা আপনার গাড়ির ট্যাংকে চিনি ঢেলে দিতে হবে।এছাড়া আপনাকে হারানোর বিকল্প কোনো অপশন আমার কাছে নেই।
উপরের এইকথাগুলো আর কারো নয়, ফুটবল বিশ্বের সেরা ট্যাক্টিশিয়ান জোসে মরিনহোর।প্রতিপক্ষের স্বহজাত খেলা ভেস্তে দেয়া ছিল যার মূল লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্যে পুরোপুরি সফল এই পর্তুগীজ।ক্লাব ফুটবলে পাওয়া যায় সব ট্রফির স্বাদই পেয়েছেন স্পেশাল ওয়ান।এত শিরোপা পাবার পরেও কিন্তু নিজের ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য বলেছেন ২০১৭-২০১৮ মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে নিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে দ্বিতীয় হওয়াকে।
১৯৯৬ সালে তখনকার বার্সেলোনার ইংলিশ কোচ ববি রবসনের অনুবাদক হিসেবে ৩৩ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত পর্তুগীজকে নিয়োগ দেয়া হয়।কিন্ত সে পর্তুগীজ শুধু যে স্পেনিশ ভাষাই জানতেন তা নয়।ফুটবল নিয়েও ছিল তার অগাধ জ্ঞান আর আগ্রহ। কোচ ববি রবসনের সাথে সুযোগ পেলেই ফুটবল নিয়ে কথা শুরু করে দিতেন।কোচ যখন প্লেয়ারদের ট্যাক্টিক্স নিয়ে কথা বলতেন, ওই পর্তুগীজ তার অনুবাদ করতেন প্লেয়ারদের।শুধু তাই নয় এই অনুবাদের মধ্যে নিজের ফুটবল নিয়ে ভাবনা বা প্রতিপক্ষকে নিয়েও অনেক কিছু বলতেন মরিনহো।বার্সা সমর্থকদের কাছে শুধু অনুবাদক হিসেবে পরিচিত থাকলেও বার্সার কোচ আর প্লেয়াররা ঠিকই জানত তখনকার বার্সালোনা দলে মরিনহোর কতটা গুরুত্ব ছিল।তখনকার বার্সা অধিনায়ক ছিল বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা কোচ পেপ গার্দিওলা।গার্দিওলার বেশ ভালো বন্ধু ছিল মরিনহো।মরিনহোর ফুটবল জ্ঞান মুগ্ধ করেছিল পেপকে।বার্সাকে কিছু ফ্রেন্ডলি ম্যাচে কোচিংও করিয়েছেন স্পেশাল ওয়ান।তার মানে মরিনহোর কোচিং ক্যারিয়ার শুরু হয় বার্সাকে দিয়েই।২০০০ সালে অনেকটা নীরবেই কাতালান শহর থেকে চলে যান নিজ দেশে।কোচিং করানো শুরু করলেন পোর্তোকে।২০০৪ সালে পোর্তো যখন চ্যাম্পিয়নস লীগ শিরোপা ঘরে তোলে তখন বার্সেলোনা ক্লাবে, শহরে সবাই দেখলো তাদের পরিচিত এক মুখকে,যে কিনা নিজের কথাই স্বগৌরবে বলে যাচ্ছেন যা মোটেও বার্সাসুলভ নয়।বার্সার "মোর দ্যান আ ক্লাব" তত্ত্বে বিশ্বাসী না তাদেরই সাবেক এক অতিপরিচিত মুখ।রবসনের অধীনে থাকাকালীন বার্সাকে এত ভালো করে চিনেছিলেন যে ২০০৫ সালে যখন চেলসির হয়ে নুক্যাম্পে চ্যাম্পিয়নস লীগ ম্যাচ খেলতে গিয়েছিলেন মরিনহো ম্যাচের আগের দিনই বলে দিয়েছিল কেমন হবে বার্সার ট্যাক্টিক্স আর টিম লাইনআপ।এরপর থেকে মরিনহোর সাথে বার্সালোনার সম্পর্ক আর কখনোই ভালো হলো নাহ।পরের বছর আবার যখন চেলসি বার্সালোনায় গেলো বার্সা ফ্যানদের ব্যাপক রোষানলের মুখে পড়লেন মরিনহো।"অনুবাদক, অনুবাদক" বলে চেচামেচি করে সমর্থকরা বারবার তাকে তার অতীতের কথা মনে করিয়ে দিল।কিন্ত তাতে মরিনহোর কিছু আসে যায় নাহ।
খুব কম মানুষই জানত যে ফ্র্যাংক রাইকার্ডের চলে যাবার পরে মরিনহোকে বার্সার কোচ হবার জন্যে বার্সার দুই কর্মকর্তা দেখা করেছিল মরিনহোর সাথে।মরিনহোও হয়তো শেষ পর্যন্ত রাজী হতেন বার্সাকে কোচিং করানোর জন্যে।কিন্ত শেষমেশ বার্সা বোর্ড এর সিদ্ধান্ত ছিল যে পেপ গার্দিওলা জোসে মরিনহোর থেকে ভালো অপশন।আবার যখন মরিনহো নুক্যাম্পে যান ইন্টারের হয়ে তখন হয়তো টিম ইন্টারের জয় থেকে ব্যক্তি মরিনহোর জয় বড় ছিল।পরবর্তীতে রিয়ালের কোচ হয়ে আবার সেই বার্সার বিপক্ষেই থেকে গেলেন স্পেশাল ওয়ান।
স্পেশাল ওয়ান যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ হলেন সেটা স্বয়ং অনেক ইউনাইটেড সমর্থকরাও বিশ্বাস করতে পারেননি।স্যার এলেক্স ফার্গুসন চলে যাবার পরে নাজেহাল ইউনাইটেড এর হাল ধরার উপযুক্ত আর কেউ ছিল বলে অন্তত আমার মনে নাহ।শেষ পর্যন্ত বেশিদিন ওল্ড ট্রাফোর্ডে থাকা হয়নি মরিনহোর।এই থাকা না থাকায় কে বেশি হেরেছে সেটা বলা মুশকিল।২০২০ সালে এসে যা মনে হচ্ছে তাতে লসটা রেড ডেভিলসদেরই বেশি।
আজ মরিনহোর ৫৮তম জন্মদিন।
শুভ জন্মদিন স্পেশাল ওয়ান
09/01/2021
এফ এ কাপের রসরসিকতাঃ
১.১৯৬১ সালের এফ এ কাপে ম্যানচেস্টার সিটি লুটন এফসির সাথে ৬-২ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় মাঠে পানি জমে যাওয়ার জন্যে রেফারি ম্যাচ বাতিল করে দেয়,ম্যাচের তখনো ২০ মিনিট বাকী ছিলো।এই ৬ গোলের ৬টিই করেছিলেন ডেনিস ল।ম্যাচ বাতিল,ল এর রেকর্ডও বাতিল।মজার ব্যাপার হলো পুনরায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটি সিটি হেরে যায় ১-৩ গোলে।
২.১৯৫৬ থেকে ১৯৫৮ টানা তিন সিজন এফ এ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে কার্ডিফ সিটির প্রতিপক্ষ ছিলো লিডস ইউনাইটেড,কার্ডিফ ওই তিনম্যাচই জিতে ২-১ গোলে।
৩.১৯২২ সালের এফ এ কাপের বাছাইপর্বের ম্যাচে সেইন্ট আলবান্স এর বিলি মিন্টার ডালউইচ হ্যামলেটের বিরুদ্ধে একাই ৭ গোল করেন।তবে দুঃখের বিষয় হলো তার দল হেরে বসে ৭-৮ গোলে।বেচারা বোধহয় ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলারই হবেন যিনি ৭ গোল করেও ম্যাচ হেরেছিলেন।
৪.১৯৪৬ সালের এফ এ কাপ ফাইনাল চলছে।হঠাৎ করেই ফেটে গেলো ম্যাচবল।এই ম্যাচ শুরুর আগেই রেডিওতে ধারাভাষ্যকাররা বল ফেটে যাওয়া নিয়ে আলোচলা করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে ফাটার সম্ভাবনা দশ লক্ষে এক।এর একবছর পরে একই ঘটনা ঘটেছিলো মানে আবারও ফেটে যায় বল।বল ফাটা ছাড়া এই দুই ম্যাচের মধ্যে আরেকটি মিল হলো দুইম্যাচেই এক দল ছিলো চার্লটন অ্যাথলেটিক।
৫.১৮৮৮ সময়কার প্রেস্টন নর্থএন্ড ক্লাবকে হারানো ছিলো একেবারে অসম্ভবের কাছাকাছি।ক্লাবটিও তাদের এমন ডমিনিয়ারিং সময় উপভোগ করছিলো।এমনকি ওই সিজনের এফ এ কাপের ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ছিলো ওয়েস্টব্রম।ফাইনাল শুরু হবার আগে প্রেস্টন ক্লাব কর্তৃপক্ষ আয়োজকদের অনুরোধ করলো ট্রফি নিয়ে আগেই ছবি তুলতে কারণ ম্যাচের পরে তাদের জার্সি একেবারেই নোংরা হয়ে যায়।কিন্তু অন্তত পরিতাপের বিষয় তারা ম্যাচটি হেরে যায় ওয়েস্টব্রমের কাছে।
বোনাসঃ৫০ বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ ব্রাজিল ওই বিশ্বকাপের ফাইনালে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে জিতায় হটফেভারিট ছিলো।ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম তো আরো একধাপ এগিয়ে ছিলো।পরেরদিনের পত্র-পত্রিকায় ব্রাজিলকে জয়ী ঘোষণা করে সংবাদও করেছিলো।ভাগ্যের নির্মম পরিহাস উরুগুয়ের কাছে ম্যাচ হেরে যায় ব্রাজিল।
31/12/2020
ব্রিটিশ রাজতন্ত্র থেকে শুরু করে ইউনাইটেড ন্যাশন কিংবা নাসা থেকে কীরব ব্যালে নশ্বর বিশ্ব দেখেছে অনেক নামীদামী প্রতিষ্ঠান এবং এদের সুখ-দুঃখ। যথেষ্ট পরিমানে পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট থাকা সত্ত্বেও সাফল্য পেতে গিয়ে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে এদের অনেক প্রতিষ্ঠানই।
"টেকসই সাফল্য" এই বুলিটি শুনতে অদ্ভুত লাগে।কেমন জানি কে.ওয়াই স্টীল মিলের মুরগী মার্কা ঢেউটিনের কথা মনে হয়। পর্তুগিজরা যেমন ব্রিটিশদের ইংরাজ বলতো আর তাদের ভাষাকে ইংরাজি আমিও ঔ ইংরাজি শব্দ সাসটেইন্ড সাকসেসই বলবো,বলি তো আর না,লিখবো।এই "সাসটেইন্ড সাকসেস" বলাতে আমার সবার আগে মনে পড়লো স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের কথা,তিনি আর সাসটেইন্ড সাকসেস একইসূত্রে গাঁথা।
২১ বছর বয়সে টাইগার উডস গলফে প্রথম মেজর কোনো শিরোপা জিতেছিলো।জিতে সেই বিজয়মালা গলায় রেখে নেমে পড়েছিলো তার অনুগ্র সুইংকে আরেকটু প্রাণ দিতে,শক্তপোক্ত করতে।সেই একুশেই ওয়ার্ল্ডক্লাস উডস বুঝতে পেরেছিলো গলফবিশ্বে রাজত্ব ধরে রাখতে হলে সাফল্য পাচ্ছি এই ভেবে বসে থাকা যাবে না,আসল কাজ করার সময়টাই তখন।
অ্যালেক্স ফার্গুসন ফুটবল বিশ্বের গুরুদের সাম্রাজ্যে নিজের শুরুটা করেন স্বদেশি ক্লাব এবারডিনের হয়ে।আর নিজের জাতটা চেনান এবারডিনের ২৫ বছরের শিরোপা ক্ষরা কাটিয়ে ১৯৮৩ সালে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে ইউরোপিয়ান কাপ উইনার্স কাপ জিতে।১৯৮৬ সালটা ফুটবলে বিশেষভাবে পরিচিত এই নভেম্বরে আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়া ডিয়েগো ম্যারাডোনার জন্যে,একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন।আর এই ১৯৮৬ সালেই স্কটিশ অ্যালেক্স ফার্গুসন দায়িত্ব নেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের।ফার্গি আসার চার বছর হয়ে গেলো এখন পর্যন্ত কোনো শিরোপা ফেলো না ইউনাইটেড।সমর্থকরা তো বটেই অনেক ক্লাব হোমড়াচোমরারাও রাস্তাঘাটে ফার্গুসনের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে লাগলেন।দ্রুত সাফল্যকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ফার্গি যেখানে ব্যস্ত ভবিষ্যৎ নিয়ে,লংটার্ম ফাউন্ডেশনাল ট্রান্সফর্মেশন নিয়ে,হাই ইম্প্যাক্ট মেথড নিয়ে সেখানে ঔ হোমড়াচোমরাদের কাছে এগুলা যেন সিলেটিদের মতে "এন্ড্যা পাড়ে না মুরগী করকরানিত ঠাট"। আরে সিলেটিরাই তো লন্ডনি,তাদের কথায়-চিন্তা-ভাবনায় তো মিল থাকবেই।ফুটবল টিম নয়,সাফল্যের জন্যে দরকার ফুটবল ক্লাব।এই দুইয়ের পার্থক্য বুঝতে হবে।ফার্গি ইউনাইটেডকে টিম নয় ক্লাব বানাতেই এসেছিলেন,বানিয়েই গেছেন।
নাম্বারতত্ত্ব ভালোবাসি কিন্তু নাম্বার কিংবা সংখ্যা নয়।স্ট্যাটস আমাকে বিরক্ত করে।তাই কয়টা শিরোপা তিনি জিতেছেন এগুলার কাছে আমি যাবো না।আহমেদ আসিফ ফেরদৌস ভাই বলেন একটা সময় আমরা সবাই ফুটবল ফিলোসোফার হয়ে যাই,উপভোগ করা শিখি।আর অ্যালেক্স ফার্গুসন এর সিম্পল ফিলোসোফি ছিলো কোনো ফুটবলারই ক্লাব থেকে বড়ো নয়।কোনো স্টার প্লেয়ারের জন্যে ছাড় চলবে না ওল্ড ট্রাফোর্ডে।ওল্ড ট্রাফোর্ডে স্টার বানানো হয়, প্রয়োজনে চলে যেতে দেয়া হবে কিন্তু ক্লাব থেকে বড়ো হওয়া চলবে না।যেখানে ব্যক্তিসত্তাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ যেখানে সাময়িক সাফল্যের মর্যাদা বেশি সেখানে ফার্গুসন ঔ ইংরাজি বুলি সাসটেইন্ড সাকসেসের পিছে সময় দিয়েছেন। তিন-চারটি দল তিনি তিন-চারটি সময়ে তৈরি করেছিলেন যা অন্য কোনো কোচ পারেনি,পারবেন বলেও মনে হয় না।বিলি শেঙ্কলির পরে বব পেইসলি অ্যানফিল্ডে যদি না থাকতো তখনকার লিভারপুল পেতো না এত সাফল্য।
"I am such a bloody talented guy.I might go into painting or something like that"
ফুটবল থেকে বিদায় নিলে কী করবেন সেই প্রশ্নের উত্তরে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন।এই ব্লাডি ট্যালেন্টেড মানুষের আজকে জন্মদিন।বেশ কয়েকবার ভেবেছিলাম লিখবো না,তাও নিজেকে দূরে রাখতে পারলাম না।কারণ না লিখে আফসোস করে কী লাভ আফটার অল আই অ্যাম আ ব্লাডি ট্যালেন্টেড ফুটবল রাইটার।
28/12/2020
27 years ago today on 28th December 1993 the divine ponytail, then of Juventus, wins the ballon d'or with Dennis Bergkamp of Inter and Eric Cantona of Manchester United finishing 2nd and 3rd respectively. Baggio was the first Italian to win the prestige trophy since Paolo Rossi in 1982
28/12/2020
পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা
ইউসেবিওর ক্লাব বেনফিকা
ছবি ১৯৬০ সাল
24/12/2020
সুপারক্লাসিকো মানে আর্জেন্টাইন দুই ক্লাব বোকা-রিভারের লড়াইকে কেন্দ্র করে একবার বোকা সমর্থিত বন্ধু রিভার প্লেট সমর্থক বন্ধুর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলো।একই শহরের দুই ক্লাবের মধ্যে খেলা নিয়ে আছে এমন অহরহ কাহিনি।পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা শেষ হয়ে যাবে কিন্তু ফুটবল ফোকলোরে স্থান করে নেয়া এসব গল্পো শেষ হবে না।এরিক ক্ল্যাপটনের লায়লার ইন্ট্রোর বা লিনার্ড-স্কিনার্ডের ফ্রিবার্ডের আউট্রোর অথবা মার্ক নফলারের সুলতান্স অফ সুইং এর গিটার সোলোর মতোন এসব কাহিনি চিরযৌবনা।শুনেই যাবেন,কখনো বিরক্ত হবেননা।
এল ক্লাসিকো,নর্থ-ওয়েস্ট ডার্বি,ডার্বি ডেলা ম্যাদোনিয়া মানে ইউরোপিয়ান ফুটবলের একই শহরের ক্লাবগুলোর ম্যাচ যেন একেকটা মহারণ।মিলানের রুই কস্তার কাঁধে ইন্টারের মাতেরাজ্জির হাত রেখে দাঁড়িয়ে থাকার সেই ছবি যেন সবার চোখে ভাসে।এক সময় আমাদের দেশেও ডার্বি ম্যাচ আরো নির্দিষ্ট করে বললে ঢাকার দুই ক্লাব আবাহনী-মোহামেডানের ম্যাচ দিতো ঘুম হারাম করা উত্তেজনা।মিছিল-মিটিং,সভা-সমাবেশ,ব্যানার-স্লোগান-ফেস্টুনে ভরে যেতো পুরো ঢাকা।বর্তমানে সেই ঐতিহ্যবাহী ম্যাচ ভুগছে দুরন্ত ক্যান্সারে,অস্তিত্বের খোঁজে।৮০-৯০ কিংবা আর্লি ২০০০ পর্যন্ত কিন্তু উত্তাপ ছড়িয়েছিলো ঢাকা ডার্বি।ইতালির মানুষদের সম্পর্কে শুনেছি পকেটে শখানেক টাকা থাকলে খাবার খরচটা কোনোমতে মিটিয়ে নিতে পারলেই ছুটে যেতেন ফুটবল স্টেডিয়ামে।রাতটা কোথাও রয়েসয়ে পার করে দেয়া যাবে।
আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ চলছে।থ্রো পেলো আবাহনী,লাইন্সম্যানের পতাকানুযায়ী।রেফারি ভুলবশত হাত দিয়ে উল্টো দিকে মানে মোহামেডানের থ্রো এর নির্দেশ দিলেন।আবুলের থ্রোতে মোহামেডানের দ্রুত অ্যাটাক এবং গোল মোহামেডানের।সোস্যাল মিডিয়া-ইন্টারনেটের যুগ হোলে ঠিকই এর নাম হয়ে যেতো “থ্রো টেকেন কুইকলি”।শুরু হয়ে গেলো তুমুল হট্টগোল।রেফারি তার ভুল শুধরানোর আগেই মাঠে শুরু হয়ে দৌড়াদৌড়ি-হাতাহাতি-মারামারি,ফলাফল খেলা পন্ড।১৯৮৭ সালের লিগ ফাইনালে আবাহনী-মোহামেডান এক অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিলো। ৯০ মিনিট 0-0 থাকায় দুই ক্লাবই মেনে নিলেন যৌথ চ্যাম্পিয়ন হতে।দুই দলের দর্শকদের খুশি করতেই যেন এই সিদ্ধান্ত।
প্লেয়ার সালাউদ্দিন থেকে কোচ সালাউদ্দিন আসলেন আবাহনীতে।তখন নিজেদের ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন মামুন জোয়ার্দার আর গোলাম গাউস।সাথে তিন টেক্কা মুন্না-রুমি-আসলামও আছেন দলে।মোহামেডানের বিরুদ্ধে ম্যাচে কোচ সালাউদ্দিন সবাইকে অবাক করে দিয়ে শুরুর একাদশে রাখলেন গাউসকে,মামুন হলেন বেঞ্চেড।মামুন-গাউস ছিলেন দারুণ দুই প্লেয়ার।গতির পাশাপাশি ছিলো দুর্দান্ত ড্রিবলিং।গাউসের আরেকটি গুন ছিলো।কাদাময় মাঠেও তার খেলা সকলের নজরে আসতো।আবাহনী সেই ম্যাচটি জিতে ৩-০ কিংবা ৩-১ এ।ম্যাচ শেষে কোচ সালাউদ্দিনের সরল স্বীকারোক্তি “আমি চেয়েছিলাম গাউস আগে মোহামেডানের ডিফেন্সকে কিছুটা দুর্বল করুক তারপর মামুন ফিনিশিং করুক পরে নেমে”।আর তাই হয়েছিলো।
টোটাল ফুটবল বললেই মনে পড়ে ইয়োহান ক্রুইফের কথা,রাইনাস মিশেলের কথা।কিন্তু কতজন বলে ইয়োহান নেসকেন্সের নাম?৮৬ এর মেক্সিকো বিশ্বকাপ মানেই ডিয়েগো ম্যারাডোনা,ক্ষেত্রবিশেষে বুরাচাগা বা ভালদানোর নামও আসে কিন্তু সার্জিও বাতিস্তার কথা একেবারেই আসে না।কারণ এনারা পর্দার আড়ালেই থাকতে চান,ভালোবাসেন ওই রুপটাকেই।আবাহনীতেও আছেন এমন একজন যিনি সবসময়ই ছিলেন লোকচোক্ষুর আড়ালে।প্লেয়ার হিশেবে এমনকি কোচ হিশেবেও।তিনি হলেন অমলেশ সেন।আবাহনীই তার ঘরবাড়ী,আবাহনী তার সব।খেলোয়াড় হিশেবে দলের ডিফেন্স আগলে রাখতেন সবসময়।১৯৭৫ থেকে বুটজোড়া তুলে রাখার আগপর্যন্ত দলের রক্ষনের রক্ষক ছিলেন ঠান্ডা মাথার এই প্লেয়ার।মূলত ১৯৭৫ সাল থেকেই আবাহনীর নামডাক শুরু।বলে রাখি ১৯৭৩ সালে কিন্তু অপরাজিত লিগ চ্যাম্পিয়ন হয় আবাহনী।তিন টেক্কা মনি-মানিক-মুক্তা মানে মুন্না-রুমি-আসলামদের নিয়ে লিখা শুরু করলে আজকে শেষ করা যাবে না।এই ত্রয়ীর গল্পো তুলে রাখলাম।ভবিষ্যতে লিখবো।তবে একজনের কথা না বলে যাবো না।তিনি আবাহনীর প্রেমলাল।শ্রীলঙ্কান এই ফুটবলারের উইং দিয়ে ড্রিবল করে উপরে যাওয়া হয়তোবা গারিঞ্চার মতোনই ছিলো।দুই উইঙ্গার চুন্নু-গফফর জুটিও আছে।যাদের গতি তখনকার দিনে প্রতিপক্ষ দলের জন্যে ছিলো সুনামির মতোন।উড়িয়ে দিতেন জাল।এই দুজন নিজেদের নিজস্ব জায়গা হঠাৎ করেই পরিবর্তন করতেন।খেই হারিয়ে ফেলতো বিপক্ষ দলের ডিফেন্ডাররা।খুবই সুন্দর আকর্ষনীয় ছিলো সেই দৃশ্য।
মোহামেডানের কায়সার হামিদ,বাদল রায়,বাঙলার ম্যারাডোনা সাব্বিরদের খেলার গল্প শুনে বড়ো হয়েছি,যতই শুনেছি ততই আফসোস বেড়েছে।আক্ষেপ রয়ে গেছে চোখে দেখতে না পারার।আর ইরানী নালজেগার তো ছিলেনি।যাকে ঢাকার মাঠের সেরা বিদেশী ফুটবলারই বলা হয়।
৮৬ এর লিগ চলছে।ড্র করলেই শিরোপা আবাহনীর।এমন ম্যাচে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত মোহামেডানের কাছে হার তাদের। ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতে শিরোপা নিজেদের ঘরে তুলে নেয় সাদাকালো জার্সির দলটি।নব্বই মিনিটে গোল করে আকাশি-হলুদ জার্সির দল থেকে জয় কেড়ে নেয় মোহামেডান।১-২ মিনিট বাকী থাকতে আবাহনী গেলো অলআউট অ্যাটাকে যেখানে পাস পাস খেললেই ম্যাচ শেষ,ড্র মানেই তাদের শিরোপা জয়,কিন্তু যেকোনো মূল্যেই হোক হারাতে হবে মোহামেডানকে।কারণ প্রাইড ম্যাটার্স।চিরপ্রতিদ্বন্দীদের ছেড়ে কথা বলা যাবে না।মোহামেডান এমন ক্লাব ছিলো যেটি কয়েক যুগের ভক্তদের মন জয় করেছিলো তাদের চমৎকার খেলা দিয়ে।হাজারিবাগের ক্লাবটির জন্ম নবাবদের হাত ধরে।মুসলিম স্পোর্টস ক্লাব নামে যুবকদের জন্যে বানানো প্রতিষ্ঠানটিই পরবর্তীতে কলকাতা মোহামেডানের আদলে মোহামেডান নাম ধারন করে।৪০ এর দশকে মোহাম্মদ শাহজাহানের মোহামেডান রাজত্ব করেছে তখনকার ফুটবল।মোহামেডানের প্রথম নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলো ওয়ান্ডার্স ক্লাব আর স্বাধীনতার পরে আসে আবাহনী।ক্রিকেটের প্রথমদিককার তারকা শান্ত ফুটবল খেলেছিলেন মোহামেডানের হয়ে। ৯০ এর দিকে এক ম্যাচে আবাহনীর কাছে হারার পরে রাত নয়টা পর্যন্ত ড্রেসিংরুমে আটকে ছিলেন তারা।কারণ আবাহনীর কাছে হার মানতে নারাজ ভক্তরা।
আজকে ফেডারেশন কাপে দেখা হবে এই দুই দলের।১২৯তম ঢাকা ডার্বির প্রথমটি হয়েছিলো ১৯৭৩ সালে।৪৭ বছরে পড়া এই দ্বৈরথ হারিয়েছে আগের সব জৌলুস-প্রদীপ্তি-প্রণয়।প্রথম ডার্বি ম্যাচের মতোন শেষ ম্যাচেও জয়ের মুখ দেখেছে আবাহনী।২-০ তে জিতেছিলো ১৯৭৩ এর ম্যাচ আর শেষ জয়টি এসেছে ৪-০ ব্যবধানে এইবছরের মার্চে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উপর লিখিত বিখ্যাত উপন্যাস হচ্ছে “ক্যাচ ২২”।ওই উপন্যাসের চরিত্র ইউসারিয়ান বলেছিলো
“Just because you are paranoid doesn’t mean they aren’t after you”.
ঢাকা ডার্বির আগের উত্তেজনা নাও থাকতে পারে তারমানে এই না যে ঢাকা ডার্বি হারিয়ে যাবে,যেতে দিতে হবে।
21/12/2020
২৮ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে গতকাল দ্বিতীয় বারের মতোন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে ৬ গোল খেলো মার্সেলো বিয়েলসার দল।বিয়েলসার নিউওয়েলস বয়েসকে কোপা লিবার্তোদোরেসের গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টাইন ক্লাব স্যান লরেঞ্জো ৬ গোল দিয়েছিলো। ০-৬ গোলে হারা ওই ম্যাচের পরে ঘটেছিলো মজার এক ঘটনা।এর আগে বলে রাখি বড়ো ব্যবধানে হারলেও সেবারের টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছিলো নিউওয়েলস।ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সাও পাওলোর কাছে ০-১ হেরে রানার্স আপ হয় দলটি।ঘরোয়া লিগ শিরোপা অবশ্য ঠিকই জিতেছিলো তারা।
ফিরে আসি মূল ঘটনায়।
ফুটবলে বহুল জনপ্রিয় একট শব্দ হচ্ছে আল্ট্রা।সাধারণ সমর্থকদের থেকে উগ্রপন্থী সমর্থকদের আল্ট্রা নামে ডাকা হয়।এদের মানে এই আল্ট্রা গোষ্ঠীর অস্তিত্ব পাওয়া যায় ফুটবল বিশ্বের সর্বত্র। প্রথম কবে এদের আত্মপ্রকাশ পেয়েছিলো তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে বেশ। অনেকের মতে ১৯৩৯ সাল থেকেই ব্রাজিলে ছিলো এরা।প্রথমে অন্যসব সামাজিক সংঘের মতোন প্রতিষ্ঠিত হলেও আস্তে আস্তে এরা উৎপীড়ন-আক্রমন-হিংস্রতার পথ বেছে নেয়। ১৯৫১ সালে আর্জেন্টিনায় যার সূত্রপাত।যদিও অনেকেই বলেছেন ১৯৭০ সাল থেকেই ইতালিতে আল্ট্রাদের আসল রূপ প্রকাশ পেয়েছিলো।
এই আল্ট্রাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় এবং যুগপৎভাবে বেশ ভয়ংকর হছে তার্কিশ ক্লাব গ্যলাতেসেরাইয়ের আলট্রাস্লান,রেডস্টার বেলগ্রেডের দিলিজ(সাহসী),বিয়েলসার দেশ আর্জেন্টিনার ক্লাব রিভার প্লেটের লস বোরাচোস দেল তাবলন(ড্রাংকস অব লেদারবোর্ড),পুসকাসের দেশের ক্লাব ফেরেঙভারোসের গ্রিন মনস্টার এবং স্কটিস ক্লাব সেল্টিকের গ্রিন ব্রিগেড অন্যতম।মূল ঘটনায় এখনো আসা হলো না।নাহ,এবার এসেই পড়ি।
আর্জেন্টিনার আলট্রাদের একসাথে বারা ব্রাভা নামে ডাকা হয়।এরাই বাকীসব ক্লাবের আল্ট্রাদের নিয়ন্ত্রন করে। ১৯৯২ সালে স্যান লরেঞ্জোর কাছে ৬ গোল খাবার পরে নিউওয়েলস কোচ মার্সেলো বিয়েলসার বাড়িতে যায় কিছু ক্লাব সমর্থক।আরো নির্দিষ্ট করে বারা ব্রাভা।গিয়ে বিয়েলসার কাছে আজকের হারার কারন জানতে চাইলেন।বেশ কয়েকবার তাদেরকে চলে যেতে বললেও তারা যেতে অনিচ্ছুক।একপ্রকার বাধ্য হয়েই মেজাজ হারিয়ে বিয়েলসা দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন।হাতে একটা আস্ত গ্রেনেড নিয়ে।এবার ওই বারা ব্রাভার দলটি এদিক সেদিক দৌড়াতে থাকলেন।গ্রেনেড হাতে বেশ কিছুদূর তাদের পিছু পিছুও গিয়েছিলো বিয়েলসা।সেইদিনের পর থেকেই মার্সেলো বিয়েলসার নামের আগে "এল লোকো" মানে পাগল শব্দটি জুড়ে গেলো।
05/12/2020
যারা নিয়মিত টিভি সিরিজ দেখেন তাদের কাছে পরিচালক নোয়া হাওলি খুবই পরিচিত একটা নাম।তার বিখ্যাত শো “ফারগো” আমার ভীষণ পছন্দের।এই সিরিজটির চতুর্থ সিজন শেষ হলো কয়েকদিন আগে।এই সিজনের একটা চরিত্রের নাম হলো ডক্টর সিনেটর।“আপনি কি ডক্টর না কি সিনেটর না কি দুটোই”? এমন প্রশ্নের জবাবে মুখে রাজ্যের হাসি নিয়ে তার উত্তর আমার নামই ডক্টর সিনেটর,আমার মায়ের আইডিয়া ছিলো এমন নাম রাখার।
এই নামটি শোনার বা এই এপিসোডটি দেখার পরপরই আমার মাথায় এসেছিলো ডক্টর সক্রেটিসের নাম।গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের নামানুসারেই তার নাম রাখা হয়েছিলো সক্রেটিস।আর হ্যাঁ তিনি একজন ডক্টর ছিলেন।সাও পাওলোর মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় হয়েছিলেন প্রথম,বাকী তিন শহরের তিন ভার্সিটিতে পরীক্ষায়ও যার স্থান ছিল প্রথমদিকে।আমি একেবারে নিশ্চিত করে বলতে পারি এই ডক্টর সক্রেটিস দার্শনিক হিশেবেও কম যান না।তার আসল পরিচয়টা এখনো দেয়া হলো না।বেশ কিছুদিন ধরেই দেখতে পাচ্ছি কারো সম্পর্কে লিখতে গেলে ইন্ট্রো দেয়ার সময় এদিকে-সেদিকে হারিয়ে যাই।এখন এর জন্যে কি আমি দ্বায়ী নাকি লিখার সময় যার কথা ভাবি নাকি যাকে নিয়ে লিখি ঔ ব্যক্তি!নাহ হয়তো আমরা তিনজনই দ্বায়ী।
১৯৮২ এর বিশ্বকাপ চলছে।ব্রাজিলের ম্যাচ সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে।পুরা বিশ্বের অপেক্ষা কেমন করবে সক্রেটিস-জিকোর মাঝমাঠ জুটি।এদিকে বিশ্বকাপ শুরুর আগে স্পেনে এক সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক সক্রেটিসকে প্রশ্ন করেছিলেন আপনাদের দলের স্টাইল কী যেখানে আমরা আগে পেয়েছিলাম ডাচদের টোটাল ফুটবল,পেলের জিঙ্গা।সক্রেটিসের উত্তর “organized chaos”.
দেখতে দেখতে ব্রাজিল-সোভিয়েত ম্যাচের ৭৫ মিনিটের খেলা শেষ।স্কোরলাইন ০-১,সোভিয়েত এগিয়ে।ব্রাজিল দলের আক্রমণ আর লেনিনের দলের রক্ষণ।এভাবেই চলছিলো ম্যাচ।সোভিয়েত গোলপোস্টের ৪০ গজ দূরে সক্রেটিস বল পেলেন।দুজন প্লেয়ারকে কাটিয়ে নিলেন দূরপাল্লার এক শট।গোলবারের বাম-উপরিভাগ দিয়ে বল জালে।একটু পরে এডারের আরেক গোলে ম্যাচ জিতে ব্রাজিল।ম্যাচশেষে নিজের গোল সম্পর্কে জিগ্যেস করলে সক্রেটিসের উত্তর ০-১ থেকে ১-১ করলাম ব্যাপারটা আসলে তা না।এই গোলটি অর্গাজমের সমান,একেবারে এন্ডলেস অর্গাজম।