Raaftaar Sports - রাফতার স্পোর্টস

Raaftaar Sports - রাফতার স্পোর্টস Sports... Bloody Hell.

ইংল্যান্ডের আন্ডাররেটেড একজন অলরাউন্ডারপরিসংখ্যান সবসময় একজন ক্রিকেটারের পুরো চিত্র তুলে ধরে না। অনেক সময় সংখ্যার আড়ালে ...
03/10/2026

ইংল্যান্ডের আন্ডাররেটেড একজন অলরাউন্ডার

পরিসংখ্যান সবসময় একজন ক্রিকেটারের পুরো চিত্র তুলে ধরে না। অনেক সময় সংখ্যার আড়ালে থেকে যায় একজন ক্রিকেটারের আসল গল্প। পল কলিংউডের ক্যারিয়ার তারই দারুণ উদাহরণ।

টি-টোয়েন্টিতে কলিংউডের স্ট্রাইক রেট ১২৭। সংখ্যাটা খুব একটা চোখে পড়ার মতো নয়। কিন্তু একটু গভীরে গেলে ছবিটা বদলে যায়। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার তিনটি ফিফটির দুটিই এসেছে ১৯২ স্ট্রাইক রেটে। অন্যটিতে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৫৫। অর্থাৎ প্রয়োজনের সময়ে দ্রুত রান তোলার সামর্থ্য তার ছিল যথেষ্ট।

টেস্ট ক্রিকেটে আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কলিংউডকে দেখা গেছে। তিনি ছিলেন লম্বা ইনিংস খেলার বিশেষজ্ঞ। টেস্টে করেছেন ১০টি শতক। এর মধ্যে চারটি ছিল ২০৬, ১৮৬, ১৬১ ও ১৪৫ রানের ইনিংস। শুধু শতক নয়, বড় ইনিংসকে আরও বড় করার মানসিকতাও ছিল তার ব্যাটিংয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

স্বভাবের দিক থেকে কলিংউড ছিলেন সহজ-সরল ও স্বতঃস্ফূর্ত। কিন্তু ক্রিকেটের মাঠে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল পরিশ্রম আর নির্ভরযোগ্যতা। ২০০১ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেকের পর প্রায় নয় বছর ধরে তিনি এমন এক পেশাদারিত্ব দেখিয়েছেন, যা তাকে দলে অপরিহার্য করে তুলেছিল।

তখন ইংল্যান্ড দলে তার চেয়ে প্রতিভাবান অনেক ক্রিকেটার ছিলেন। কিন্তু একের পর এক প্রতিযোগীর ভিড় পেরিয়ে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন কলিংউড। কারণ তিনি শুধু ব্যাটার ছিলেন না। দলের প্রয়োজনে বল হাতে দায়িত্ব নিতে পারতেন, আবার ফিল্ডিংয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্যও ছিল।

তার ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্যারিয়ারও ছিল অসাধারণ দীর্ঘ। ডারহামের পেশাদার ক্রিকেটের ২৬ বছরের মধ্যে ২৩ বছরই তিনি এই দলের হয়ে খেলেছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০৪ ম্যাচে তার রান ১৬,৮৪৪, সঙ্গে ১৬৪ উইকেট। সংখ্যাগুলোই বলে দেয়, তিনি কতটা ধারাবাহিকভাবে দলের জন্য অবদান রেখেছেন।

ব্যাট হাতে কলিংউডের ধরন ছিল কিছুটা আলাদা। ক্রিজে খুব একটা নড়াচড়া করতেন না। বল সোজা ব্যাটে খেলতে পছন্দ করতেন। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী শট খেলার বৈচিত্র্যও ছিল তার। বাইরে থেকে তার ব্যাটিংকে যতটা সাদামাটা মনে হতো, বাস্তবে তার হাতে ছিল বেশ ভালো শটের সম্ভার।

বল হাতে তার ধরন ছিল আরও সাধারণ। গতি বা ভয়ংকর বৈচিত্র্যের চেয়ে নির্ভর করতেন সঠিক জায়গায় বল রাখা ও পরিস্থিতির সুবিধা নেওয়ার ওপর। কিন্তু উপযুক্ত পরিবেশ পেলে সেই সাধারণ বোলিংই হয়ে উঠতে পারত ম্যাচ জেতানো অস্ত্র। ২০০১-০২ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে সুইং বোলিং করে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স দিয়েছিলেন তিনি।

আর ফিল্ডিং?

এখানেই কলিংউড ছিলেন বিশ্বমানের। কভার ও ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে তার ফিল্ডিং ছিল অসাধারণ। কঠিন ক্যাচ, দ্রুত মুভমেন্ট কিংবা অবিশ্বাস্য থ্রো, যেকোনো মুহূর্তে তার কাছ থেকে বিশেষ কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা থাকত।

তবে কলিংউডের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো ছিল তার দৃঢ়তা।

২০০০-০১ সালের শীত। তখন বুঝতে পারছিলেন, নিজের ক্যারিয়ার যেন একটা জায়গায় আটকে আছে। তাই অস্ট্রেলিয়ায় চলে গেলেন গ্রেড ক্রিকেট খেলতে। উদ্দেশ্য ছিল নিজেকে আরও ভালোভাবে তৈরি করা, নিজের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা।

সেই সিদ্ধান্তই হয়তো তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাঁক।

এরপর তিনি শুধু ইংল্যান্ড দলে জায়গা করে নেননি, হয়ে উঠেছিলেন দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার। আর তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় আসে অধিনায়ক হিসেবে।

২০১০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইংল্যান্ড প্রথমবারের মতো কোনো বৈশ্বিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতে। অধিনায়ক কলিংউডের হাতেই ওঠে সেই ট্রফি। ইংল্যান্ডের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট জেতার কৃতিত্বও তখন তার নামের পাশে যোগ হয়।

পল কলিংউড হয়তো এমন একজন ক্রিকেটার নন, যার নাম শুনলেই প্রথমে বিশাল পরিসংখ্যান মনে পড়ে। কিন্তু ক্রিকেটার হিসেবে তার মূল্য শুধু রান বা উইকেট দিয়ে মাপা কঠিন।

ব্যাট হাতে বড় ইনিংস, বল হাতে প্রয়োজনের সময় অবদান, ফিল্ডিংয়ে বিশ্বমানের দক্ষতা আর নিজের জায়গা ধরে রাখার অসাধারণ মানসিকতা, সব মিলিয়েই পল কলিংউড।

পরিসংখ্যান তার ক্যারিয়ারের একটা অংশ বলে। পুরো গল্পটা বলে তার বহুমুখী অবদান।

অস্ট্রেলিয়ার লাল বলের স্পেশালিস্ট সাইমন ক্যাটিচওয়ানডে ক্রিকেটে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি সাইমন ক্যাটিচ। কিন্তু লাল বল...
03/10/2026

অস্ট্রেলিয়ার লাল বলের স্পেশালিস্ট সাইমন ক্যাটিচ

ওয়ানডে ক্রিকেটে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি সাইমন ক্যাটিচ। কিন্তু লাল বলের ক্রিকেটে নিজের জন্য বেশ শক্ত একটা জায়গা তৈরি করেছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। বিশেষ করে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পর্বে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের ওপরের সারির অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

ক্যাটিচের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দেখার মতো ব্যাপার ছিল দেশের মাটি কিংবা দেশের বাইরে, দুই জায়গাতেই প্রায় সমান কার্যকর থাকা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তার ব্যাটিং গড় ছিল প্রায় ৪৪, আর দেশের বাইরে ৪৫। অর্থাৎ পরিবেশ কিংবা কন্ডিশন বদলালেও তার ব্যাটে খুব একটা পার্থক্য দেখা যেত না। বরং দেশের বাইরেই শতকের সংখ্যা ছিল বেশি।

তবে ক্যাটিচের এই জায়গায় পৌঁছানোর গল্পটা সহজ ছিল না। ২০০১ সালে টেস্ট অভিষেকের পর ক্যারিয়ারের প্রথম পর্বে তিনি ছিলেন অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ ও নিজের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করা এক ক্রিকেটার। ২০০৫ সালের অ্যাশেজে জায়গা পেলেও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়েন ২০০৭ সালে। তখন নিজেও স্বীকার করেছিলেন, তিনি ভালো খেলছিলেন না এবং বাদ পড়াটা প্রাপ্য ছিল।

সেখান থেকেই শুরু তার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।

২০০৭-০৮ মৌসুমে নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে পিউরা কাপে ১৫০৬ রান করে আবারও জাতীয় দলে ফেরেন ক্যাটিচ। এরপর যেন বদলে গেলেন পুরোপুরি। ১৬ টেস্টের মধ্যে ছয়টি শতক করে দ্রুতই অস্ট্রেলিয়া দলের নিয়মিত সদস্য হয়ে ওঠেন।

ব্যাটিংয়েও তার ছিল নিজস্ব ধরন। স্টাম্পের ওপর দিয়ে শরীর এগিয়ে এনে ব্যাট করা, বল ছেড়ে দেওয়া, শরীরের কাছ দিয়ে বলকে কাজে লাগানো, প্রয়োজনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্রিজে পড়ে থাকা। আবার পরিস্থিতি দাবি করলে কাভারের ওপর দিয়ে দারুণ ড্রাইভ, পয়েন্টের পেছনে কাট কিংবা শক্ত পুলও খেলতে পারতেন।

ক্যাটিচের ব্যাটিংয়ের সৌন্দর্য ছিল তার কার্যকারিতায়। খুব একটা প্রচলিত বা দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং স্টাইল নয়, কিন্তু পরিস্থিতি বুঝে নিজের খেলা বদলে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তার। আর সেই কারণেই ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পর্বে সাইমন ক্যাটিচ হয়ে উঠেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের এমন এক ব্যাটার, যাকে দলে না রাখার কথা ভাবাই কঠিন ছিল।

লিটন দাসকে নিয়ে কড়া কথা বলা দরকার- স্পেশালি ওয়ানডেতে সামনে ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ইতোমধ্যে দলের তালিকা তারিখ পেয়ে গেছেন তাই এট...
02/10/2026

লিটন দাসকে নিয়ে কড়া কথা বলা দরকার- স্পেশালি ওয়ানডেতে

সামনে ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ইতোমধ্যে দলের তালিকা তারিখ পেয়ে গেছেন তাই এটা একটা ক্ষুব্ধ সমর্থকের ডায়েরি বলতে পারেন। এমন প্রতিভা ও সহজাত ব্যাটিং টেকনিক নিয়ে এমন হেয়ালিপনা আমার মনে হয় আধুনিক ক্রিকেট খুব কমই দেখেছে।

সাথে আছে একের পর এক অজুহাত। লিটনের কথা মনে পড়লেই আমার মাথায় কয়েকটা শব্দ ঘোরে- ২৫ গড় কি খারাপ নাকি ভাই।

লিটন দাস, ২৫ গড় অবশ্যই খারাপ। যেই লোক ৬০ বলে বিশ্বকাপের মঞ্চে ৯০+ করতে পারে তার জন্য এটা জঘন্য। যেই লোক ২৭ বলে ৬৩ মারতে পারে তার জন্য এই গড় শোচনীয়!

১০৩ ম্যাচ খেলে ১৬টি ডাক মেরেছেন লিটন দাস। ১৪টা ৫০, ১৬টা ডাক!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিফটির চেয়ে ডাক বেশি এমন ব্যাটার আসলে কয়জন আছে? সাথে দৃষ্টিকটু ৩০ গড়, দেখলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যাবে এমন।

জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তান না থাকলে লিটন দাসের ওয়ানডে পরিসংখ্যান থাকতো কোনও দেশের লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করা বোলারের মতো।

৫টা সেঞ্চুরির ৪টাই এদের বিপক্ষে- ওয়ানডেতে।

তাহলে কি বড় দলের বিপক্ষে লিটন দাস ব্যাট করতে পারেন না, না সেটা তিনি পারেন, করে দেখিয়েছেনও!

এইখানেই আমার প্রশ্ন! কেন এত্ত অধারাবাহিক! ১০০ ম্যাচ খেলার পরেও এভারেজ ৩০ এ পড়ে আছে!

লিটন দাসের সাথে কাদের তুলনা করা যায়? গিল? প্রশ্নই আসে না, কুশাল মেন্ডীস? কুশালের ওয়ানডে গড় ৩৬।
গুরবাজ? গুরবাজের ৯টা সেঞ্চুরি, গড় ৩৭।

পাথুম নিসাঙ্কার গড় ৪০!

আমি খুবই গড়পড়তা ব্যাটারদের নাম নিলাম, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে গেলামই না।

এবার লিটন দাস ইউ নিড টু ডু বেটার - ৪০ গড় এখন গড়েরও গড়। মাঝারি, গড়পড়তা ভালো। ৯০ স্ট্রাইক রেট এখন বেয়ার মিনিমাম। সেখানে আপনার গড় জেমি ওভারটোনের দিকে আগাচ্ছে, ওনার গড় ২৫, ইংল্যান্ডের ফাস্ট বোলার।

২৫ গড় ভালো না, মাথায় রাখেন।

স্টাইলিশ ব্যাটার! অধিনায়ক! ধারাভাষ্যকার!মাইক আথারটনের কোন পরিচয়টা আগে আসবে?নব্বইয়ের দশকে ইংলিশ ক্রিকেটের মুখ ছিলেন মাইক ...
02/10/2026

স্টাইলিশ ব্যাটার! অধিনায়ক! ধারাভাষ্যকার!

মাইক আথারটনের কোন পরিচয়টা আগে আসবে?

নব্বইয়ের দশকে ইংলিশ ক্রিকেটের মুখ ছিলেন মাইক আথারটন। মাথা স্থির, চোখে সতর্ক দৃষ্টি, বাঁ কনুই উঁচু, নিখুঁত ফুটওয়ার্ক। তাঁর ব্যাটিংয়ে চাকচিক্য কম, কিন্তু ছিল অসীম ধৈর্য, দৃঢ়তা আর প্রতিরোধের ক্ষমতা।

আথারটন ছিলেন বিনোদন দেওয়ার জন্য খেলতে আসা ব্যাটার নন, তিনি ছিলেন একজন কারিগর। বল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেখে খেলতেন, নরম হাতে প্রতিপক্ষের বোলিং শুষে নিতেন। পয়েন্ট দিয়ে তাঁর ব্যাকফুট বা ফ্রন্টফুটের স্ট্রোকে ছিল দারুণ সৌন্দর্য। কিন্তু তাঁর ব্যাটিংয়ের আসল সৌন্দর্য ছিল লড়াইয়ে।

আর সেই লড়াইয়ের সময়টা মোটেও সহজ ছিল না। তাঁর প্রজন্মে বিশ্ব ক্রিকেটে ছিলেন ওয়াকার ইউনিস, ওয়াসিম আকরাম, অ্যালান ডোনাল্ড, শন পোলক, গ্লেন ম্যাকগ্রা, শেন ওয়ার্নদের মতো বোলার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁর লড়াই তাই হয়ে উঠেছিল আলাদা এক অধ্যায়।

১৯৯৫-৯৬ সালে জোহানেসবার্গে অ্যালান ডোনাল্ডের আগুনঝরা বোলিংয়ের বিপক্ষে তাঁর অপরাজিত ১৮৫ রান আজও কিংবদন্তি। তিন সপ্তাহ ধরে চলেছে বলে মনে হওয়া সেই ইনিংস ছিল ধৈর্য, শারীরিক শক্তি আর মানসিক দৃঢ়তার অসাধারণ উদাহরণ। সেই ইনিংসই তাঁকে এনে দিয়েছিল ইংল্যান্ডের মানুষের গভীর শ্রদ্ধা।

তবে আথারটনের সবচেয়ে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন গ্লেন ম্যাকগ্রা। অস্ট্রেলিয়ান পেসারটি তাঁর ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা বুঝে নিখুঁত লেংথে বল করতেন। বারবার আথারটনকে পেছনে ঠেলে দিয়ে তাঁর প্রতিরোধ ভাঙার চেষ্টা করতেন। কিন্তু আথারটন নিজের খেলা বদলাননি। কারণ তাঁর কাছে নিজের ব্যাটিংয়ের ওপর বিশ্বাস এবং দলের প্রতি দায়িত্ব ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

অধিনায়ক হিসেবেও তাঁর সময়টা সহজ ছিল না। ৫৪ টেস্টে ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন দেশটির সর্বোচ্চ টেস্ট অধিনায়কত্বের রেকর্ডধারী। কিন্তু তাঁর নেতৃত্বের সময় ইংল্যান্ড ছিল কঠিন এক পর্যায়ে। তিনি চেষ্টা করেছেন, লড়াই করেছেন, কঠিন সত্য বলেছেন, কিন্তু দলের ভাগ্য পুরোপুরি বদলাতে পারেননি।

টেস্টে ১১৫ ম্যাচে ৭,৭২৮ রান, ১৬টি শতক। গড় ৩৭.৬৯। সংখ্যাগুলো হয়তো তাঁর ব্যাটিংয়ের পুরো গল্প বলে না। কারণ আথারটনের ইনিংসগুলো খুব কমই সহজে এসেছে। প্রতিটি রান যেন আদায় করে নিতে হয়েছে।

মেরুদণ্ডের প্রদাহজনিত সমস্যার জন্য নিয়মিত ওষুধ খেয়েও প্রায় এক দশক ক্রিকেট খেলেছেন তিনি। প্রতিকূলতা তাঁকে ভাঙেনি, বরং অনেক সময় আরও দৃঢ় করেছে।

শেষ পর্যন্ত আথারটনকে মনে রাখা হবে তাঁর লড়াইয়ের জন্য। অ্যালান ডোনাল্ড কিংবা গ্লেন ম্যাকগ্রার মতো বোলাররা তাঁর উইকেট চেয়েছেন কারণ তাঁরা জানতেন, আথারটনের উইকেট সহজে পাওয়া যায় না।

তিনি হয়তো ইংল্যান্ডকে তার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে পারেননি। কিন্তু ইংল্যান্ডের হয়ে লড়াই করার ক্ষেত্রে কখনো পিছিয়ে যাননি।

আর সেই কারণেই মাইক আথারটন শুধু একজন ব্যাটার বা অধিনায়ক নন, ইংলিশ ক্রিকেটের এক বিশেষ সময়ের প্রতীক।

চোটের কারণে বোলার থেকে ব্যাটার হইয়েই লিজেন্ডারি হয়েছিলেন এই কিউই!ইনজুরির কারণে যে বোলার থেকে ব্যাটার হয়েছিলেন, শেষ পর্যন...
02/10/2026

চোটের কারণে বোলার থেকে ব্যাটার হইয়েই লিজেন্ডারি হয়েছিলেন এই কিউই!

ইনজুরির কারণে যে বোলার থেকে ব্যাটার হয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই ব্যাটার হিসেবেই হয়ে উঠেছিলেন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডার।

স্কট স্টাইরিসের ক্রিকেটের শুরুটা ছিল বোলার হিসেবে। মূলত সিম বোলিং করতেন। কিন্তু হাঁটুর চোট তার ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারের গতিপথটাই বদলে দেয়। বোলিংয়ে শরীরের ওপর চাপ কমাতে তাকে ব্যাটিংয়ে আরও বেশি মনোযোগ দিতে হয়। ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে তার ভূমিকা। যে ক্রিকেটার একসময় ছিলেন ব্যাট করতে পারা একজন বোলার, তিনিই পরে হয়ে ওঠেন প্রয়োজনে বল করতে পারা একজন ব্যাটার।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসার আগেই অবশ্য ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিলেন স্টাইরিস। প্রায় ১০ বছর ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার পর ২০০২ সালে পান টেস্ট দলে ডাক। করাচিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের আগের দিন তাকে টেস্ট ক্যাপও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বোমা বিস্ফোরণের কারণে ম্যাচটি বাতিল হয়ে যায়। ফলে অপেক্ষাটা আরও দীর্ঘ হয়।

অবশেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক। আর সেই অভিষেকেই সেঞ্চুরি ও ফিফটি করে বুঝিয়ে দেন, কেন তাকে এতদিন ধরে দলে রাখার কথা ভাবা হয়েছিল। একই সফরে ওয়ানডেতেও বল হাতে দুর্দান্ত এক কীর্তি গড়েন। ত্রিনিদাদে মাত্র ২৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েন।

তবে সময়ের সঙ্গে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে ওঠে ব্যাটিং। নিউজিল্যান্ডের হয়ে মাঝের সারিতে ব্যাট করে গুরুত্বপূর্ণ রান করার পাশাপাশি প্রয়োজনে কয়েক ওভার বোলিং করতে পারতেন। শরীরের ওপর চাপ কমানোর জন্য অফস্পিনকেও বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

২০০৭ বিশ্বকাপ ছিল স্টাইরিসের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায়। বিশ্বকাপে ৮৩ গড়ে ৪৯৯ রান করেছিলেন তিনি। শুধু রানসংখ্যা নয়, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার ব্যাটিং নিউজিল্যান্ডকে একাধিক ম্যাচে এগিয়ে দিয়েছিল। তার আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্রাইস্টচার্চে ৩২২ রানের তাড়া করতে নেমে করেছিলেন দুর্দান্ত ১০১ রান। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও ধারাবাহিকভাবে অবদান রাখেন।

২০০৮ সালে দীর্ঘ ক্যারিয়ার ধরে রাখার জন্য টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্টাইরিস। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আরও কয়েক বছর খেলে ২০১১ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে দলের অংশ ছিলেন।

স্কট স্টাইরিসের গল্পটা তাই শুধু একজন অলরাউন্ডারের গল্প নয়। এটা এমন একজন ক্রিকেটারের গল্প, যার ক্যারিয়ার বদলে দিয়েছিল একটি ইনজুরি। কিন্তু সেই পরিবর্তনকে সীমাবদ্ধতা হিসেবে না দেখে তিনি নিজের খেলাটাকেই বদলে ফেলেছিলেন। বোলার থেকে হয়ে উঠেছিলেন ব্যাটার, আর সেই ব্যাটিং দিয়েই জায়গা করে নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের স্মরণীয় চরিত্রদের তালিকায়।

বাশার ভাই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডে দারুণ ব্যাটার ছিলেন! এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত ধারনা! হাবিবুল বাশার মানেই একসময় ছিলেন ...
02/10/2026

বাশার ভাই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডে দারুণ ব্যাটার ছিলেন!

এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত ধারনা! হাবিবুল বাশার মানেই একসময় ছিলেন আস্থার প্রতীক! এটা এখনকার প্রেক্ষাপটে বুঝালে হবে না।

এজন্য আমার আসলে আরেকজনকে টেনে আনতে হবে, নাম তার লিটন দাস। লিটন আমার ফেভারিট ব্যাটারদের একজন, সেই দায় ও দায়িত্ব নিয়েই বলছি, বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ডে লিটন যেমন খেলছেন সেটাকে ওকে বললেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এই যুগে সেটাকে ওকে বলার সুযোগ নেই।

তবে এখানে উল্লেখযোগ্য শব্দগুচ্ছ হলো বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ডে - এইখানেই হাবিবুল বাশারের কথা আমার প্রায়ই মাথায় আসে। তিনি এমন এক সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ছিলেন যখন বাংলাদেশ টানা চার বছরে এক ম্যাচ জিতেনি।

ওয়ানডেতে কিছু মোমেন্ট ক্রিয়েট করা ছিল, টেস্টে তো একেবারেই যা তা অবস্থা।

১০ই নভেম্বর বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম টেস্ট ম্যাচেই হাবিবুল বাশার ৭১ রান তোলেন।

এই ৫০ দিয়ে শুরু, পরে তার নাম হয়েছিল মিস্টার ফিফটি।

বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ডে যথার্থই! ৯৯ ইনিংসে ২৪টা ৫০ এসেছিল তার ব্যাটে, সাদা পোশাকে।

বিশেষ করে দেশের বাইরে হাবিবুল বাশার ছিলেন দুর্দান্ত। ক্যারিয়ারের ৩টা টেস্ট সেঞ্চুরির ২টাই দেশের বাইরে।

এর মধ্যে স্মরণীয় থাকবে ২০০৩ সালের পাকিস্তান সফর- সেই সিরিজে ৬৩ গড়ে, ৬ ইনিংসে ৩৭৯ রান তুলেছিলেন হাবিবুল বাশার - বিশেষ করে যেই সিরিজে ইনজামাম, ইউসুফ, ইউনুস, হাফিজ, সালমান বাটেরা ছিলেন সেই সিরিজের সর্বোচ্চ রানের মালিক ছিলেন আমাদের হাবিবুল বাশার।

ওয়ানডে ক্রিকেটে হাবিবুল বাশার ততটা উজ্জ্বল ছিলেন না, তবে রান করতেন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই ১৯৯৭ সালে ৮৫ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন বাশার, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নাইরোবিতে।

কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফিফটি, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কিম্বার্লিতে ফিফটি- ২০০৬ সালে ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে তুলেছিলেন ৫২, ৭০, ৩৩!

আরেকটা মজার রেকর্ড আছে হাবিবুল বাশারের- ওয়ানডে ক্রিকেটে সেঞ্চুরি ছাড়া সর্বোচ্চ রানের তালিকায় আছেন তিনি, বাংলাদেশের হয়ে সেঞ্চুরি ছাড়াই ২১৭৪ রান তুলেছিলেন ওয়ানডে ক্রিকেটে।

ওয়ানডেতে তার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল ডাক- ১৮টি ডাক ১০৫ ইনিংসে, এইটা না থাকলে ব্যাটার হিসেবে তার গড় অনেক ভালো থাকতো বর্তমানের ২১ এর চেয়ে!

আমার মতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আক্ষেপের নামআফতাব আহমেদকে প্রথম বড় করে নজরে আসে ২০০২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। দক্ষিণ আ...
02/10/2026

আমার মতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আক্ষেপের নাম

আফতাব আহমেদকে প্রথম বড় করে নজরে আসে ২০০২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। সেই ইনিংসই তাঁকে বাংলাদেশের নির্বাচকদের নজরে এনে দেয়। পরের বছরই মাত্র ১৮ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দলে জায়গা পান আফতাব। অথচ তার আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স মোটেও আশাব্যঞ্জক ছিল না।

তাই তাঁর দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে তখন দেশের ক্রিকেট মহলে প্রশ্ন ছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের একটা অংশ তাঁকে মনে করত ওয়ানডের ব্যাটসম্যান, যিনি বল পেলেই সেটিকে মাঠের বাইরে পাঠাতে চান। সত্যিই আফতাবের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি যেমন ছিল তাঁর আগ্রাসন, তেমনি সেটিই অনেক সময় হয়ে উঠেছিল তাঁর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। অসাধারণ কিছু করার সম্ভাবনা দেখিয়েও অতি দ্রুত শট খেলতে গিয়ে অনেক ইনিংস শেষ করে ফেলতেন।

তবু একটা ব্যাপার তখন থেকেই পরিষ্কার ছিল, ছেলেটার মধ্যে অন্যরকম কিছু আছে।

২০০৫ সালে ইংল্যান্ড সফরের দলে জায়গা পাওয়া ছিল সেই প্রতিভার ওপর নির্বাচকদের আস্থারই প্রমাণ। আর চেস্টার-লি-স্ট্রিটে সেই আস্থার জবাবও দিয়েছিলেন আফতাব। বাংলাদেশের বিপদের সময়ে ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে করেছিলেন অপরাজিত ৮২ রান। পুরো টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল সেটি।

তবে আফতাবের গল্প শুধু টেস্ট ব্যাটিংয়ের নয়।

কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সেই ঐতিহাসিক ওয়ানডে জয়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে জয় নিশ্চিত করার দায়িত্বটা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন আফতাব। জেসন গিলেস্পির বলে পরপর চার ও ছক্কা মেরে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছিলেন অবিশ্বাস্য এক জয়। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে যে ম্যাচটি আজও আলাদা করে মনে রাখা হয়, আফতাব সেখানে ছিলেন অন্যতম নায়ক।

শুধু ব্যাট নয়, বল হাতেও তাঁর সামর্থ্য ছিল। ২০০৪ সালের নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৩১ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। একজন মিডিয়াম পেসারের জন্য সেটি ছিল অসাধারণ পারফরম্যান্স।

২০০৫ সালের জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে অপরাজিত ৮১ রান করে বাংলাদেশকে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জেতাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আফতাব।

কিন্তু এরপর থেকেই যেন তাঁর ক্যারিয়ারে একটা অদ্ভুত ছন্দ তৈরি হলো। প্রতিভার ঝলক দেখা গেল, বড় ইনিংসের আভাসও মিলল, কিন্তু ধারাবাহিকতা এল না।

রিভারসাইডে সেই ৮২ রানের পর টেস্টে আর ৩০ পেরোতে পারেননি। ওয়ানডেতে কেনিয়ার বিপক্ষে ২০০৬ সালের শুরুতে দুটি ফিফটি করেছিলেন, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো করতে পারেননি।

জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া সফরেও আফতাবের ব্যাটে দেখা গেছে সেই পুরোনো আফতাবকে। আক্রমণাত্মক, নির্ভীক, কোনো কিছু না ভেবে বোলারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া একজন ব্যাটসম্যান। কিন্তু একই সঙ্গে বারবার দেখা গেছে, যখন মনে হয়েছে আরও বড় কিছু করার সুযোগ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই নিজের উইকেটটি দিয়ে এসেছেন।

২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর জিম্বাবুয়ে ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১১ ইনিংসে পাঁচটি ফিফটি করেছিলেন আফতাব। কিন্তু সেই বহু প্রতীক্ষিত সেঞ্চুরিটি আর আসেনি। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯২ রান করে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলেছিলেন। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র আট রান দূরে থেমে যেতে হয়েছিল তাঁকে।

এরপরই আসে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মোড়।

বাংলাদেশের আরও কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে আফতাব যোগ দেন বিদ্রোহী ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগে। এর ফলে তাঁকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তখন তাঁর ক্যারিয়ার কার্যত থেমে যায়।

তবে গল্পটা সেখানেই শেষ হয়নি।

মাত্র এক মৌসুম আইসিএলে খেলার পর সেটি ছেড়ে দেন আফতাব। আবারও নিজেকে বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য উন্মুক্ত করেন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজে ডাক পান জাতীয় দলে।

কিন্তু আফতাব আহমেদের ক্যারিয়ার নিয়ে আক্ষেপটা এখানেই।

তিনি ছিলেন এমন একজন ক্রিকেটার, যাঁর ব্যাটিং দেখলে মনে হতো, আজ কিছু একটা ঘটতে চলেছে। কখনো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে চার-ছক্কা, কখনো ইংল্যান্ডের মাটিতে অপরাজিত ৮২, কখনো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট।

সমস্যা ছিল, সেই ‘কিছু একটা’ খুব কম সময়ই পুরো গল্প হয়ে উঠেছে।

আফতাবের ব্যাটে প্রতিভার অভাব ছিল না। সাহসেরও অভাব ছিল না। অভাব ছিল হয়তো সেই প্রতিভাকে দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ন্ত্রণ করে কাজে লাগানোর সুযোগ ও ধারাবাহিকতার।

আর তাই বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেক বড় প্রতিভার গল্প বলতে গেলে আফতাব আহমেদের নামটা বারবার ফিরে আসে।

একজন ক্রিকেটার, যিনি আরও অনেক কিছু হতে পারতেন।

আর সেই ‘হতে পারতেন’ শব্দ দুটিই হয়তো তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ।

ড্যারেন লেম্যান: অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিভার ভিড়ে নিজের জায়গা করে নেওয়া এক প্রতিভাঅস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে ছিল...
02/10/2026

ড্যারেন লেম্যান: অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিভার ভিড়ে নিজের জায়গা করে নেওয়া এক প্রতিভা

অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে ছিলেন নিয়মিত রান করা ব্যাটসম্যান। কিন্তু ১৯৯০-এর দশক ও ২০০০-এর শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়ার দলে একের পর এক প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান থাকায় ড্যারেন লেম্যানের টেস্ট ক্যারিয়ার আরও দীর্ঘ হতে পারত। শক্তপোক্ত গড়নের বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ছিলেন দুর্দান্ত স্ট্রোকমেকার। তাঁর ব্যাটিংয়ে আক্রমণাত্মক মানসিকতার সঙ্গে মিশে থাকত দারুণ সূক্ষ্মতা ও দক্ষতা।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে রাজ্য ক্রিকেটে অভিষেক হয় লেম্যানের। টেস্ট অভিষেকের আগে তাঁর প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ও রান ছিল অন্য যেকোনো অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারের চেয়ে বেশি। পরে অবশ্য এই রেকর্ড ভেঙে দেন মাইকেল হাসি। ১৯৯৮ সালে বেঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে লেম্যানের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়।

শুরুতে টেস্ট দলে নিজের জায়গা ধরে রাখতে তাঁকে বেশ লড়াই করতে হয়েছিল। তবে বয়স তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ৩৩ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়া দলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। নিজের দশম টেস্টে পোর্ট অব স্পেনে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন। এরপর পরের ১২ মাসে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করেন দুটি করে সেঞ্চুরি।

২০০৪ সালে রিকি পন্টিং আঙুলের চোটে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ থেকে ছিটকে গেলে লেম্যানকে অস্থায়ী সহ-অধিনায়ক করা হয়। কিন্তু বেঙ্গালুরুতে অভিষেক টেস্টেই অসাধারণ সেঞ্চুরি করা মাইকেল ক্লার্কের জন্য নিজের জায়গা ছেড়ে দিতে প্রস্তুত ছিলেন লেম্যান। পরে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে তৃতীয় টেস্টের পরই সিরিজ থেকে ছিটকে যান। ঘরের মাঠের মৌসুমে ফিরলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যর্থতার পর অস্ট্রেলিয়া দলে তাঁর ফেরার দরজা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

তবে ওয়ানডেতে লেম্যান অনেক বেশি নিয়মিত সুযোগ পেয়েছেন। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জয়সূচক রানটি এসেছিল তাঁর ব্যাট থেকেই। চার বছর পর শিরোপা ধরে রাখার অভিযানেও তিনি ছিলেন অস্ট্রেলিয়া দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। অবশ্য বর্ণবাদী মন্তব্যের কারণে পাওয়া নিষেধাজ্ঞার জন্য ২০০৩ বিশ্বকাপে তাঁর অংশগ্রহণ কিছুটা দেরিতে শুরু হয়।

ঘরোয়া ক্রিকেটেও লেম্যান ছিলেন অসাধারণ সফল। ১৯৯০-৯১ ও ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে শেফিল্ড শিল্ডজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০১ সালে ইয়র্কশায়ারের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপজয়ী দলেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ার শেষ করেন শেফিল্ড শিল্ড ও পুরা কাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে। তাঁর মোট রান ছিল ১৩ হাজার ৬৩৫, ব্যাটিং গড় ৫৪.৯৭।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিংয়ে প্রবেশ করেন লেম্যান। আইপিএলে ডেকান চার্জার্সের দায়িত্ব নিয়ে ২০০৯ সালে দলটিকে শিরোপা জেতান। এরপর ২০১১ সালের শুরুতে কুইন্সল্যান্ডের কোচ হন। তাঁর সরল ও সরাসরি কাজের ধরন খুব দ্রুতই খেলোয়াড়দের আস্থা অর্জন করে। তাঁর অধীনে কুইন্সল্যান্ড ২০১১-১২ মৌসুমে শেফিল্ড শিল্ড এবং ২০১২-১৩ মৌসুমে রায়বি কাপ জেতে।

কোচ হিসেবে সাফল্য এবং খেলোয়াড়দের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা তাঁকে আরও বড় দায়িত্বের জন্য শক্ত প্রার্থী করে তোলে। ২০১৩ অ্যাশেজ শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া মিকি আর্থারকে সরিয়ে লেম্যানকে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়। এভাবেই দীর্ঘদিনের সফল ব্যাটসম্যান ড্যারেন লেম্যান অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু করেন।

৪০০ এর গল্প ও একটা প্রেডিকশনওয়ানডে ক্রিকেটে আজকের তারিখ ১লা অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৩৩ বার ৪০০ রান স্পর্শ করেছে দলগুলো! সর্ব...
01/10/2026

৪০০ এর গল্প ও একটা প্রেডিকশন

ওয়ানডে ক্রিকেটে আজকের তারিখ ১লা অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৩৩ বার ৪০০ রান স্পর্শ করেছে দলগুলো!

সর্বোচ্চ রানের প্রথম ৩টাই ইংল্যান্ডের- আবার শেষটা মানে রাউন্ড ফিগার ৪০০-ও ইংল্যান্ডেরই!

ইংল্যান্ড ৭ বার ৪০০ স্পর্শ করেছে- আমার মনে হয় এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে ইংল্যান্ডের ২০১৫ বিশ্বকাপের পরের রিভ্যাম্প- হেইলস রয় জুটি, মিডল অর্ডারে সিক্স মেশিন ইয়ন মর্গান, সাম্প্রতিক হ্যারি ব্রুক ও বিগ হিটিং লোয়ার মিডল অর্ডার।

তবে ইংল্যান্ডের চেয়ে বেশিবার ৪০০ স্পর্শ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ৮ বার।

আফ্রিকা দিয়েই আসলে শুরু, সেই জোহানেসবার্গের ২০০৬ সালের ম্যাচ যেটাকে এখনও ওয়ানডে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বক্স অফিস হিট মনে করা হয়, প্রথম চারশো স্পর্শ করলো অস্ট্রেলিয়া এরপর সেটাকে ঐ ম্যাচেই চেইজ করলো দক্ষিণ আফ্রিকা।

গল্প এখানেই শেষ না, সবচেয়ে বেশিবার ওয়ানডে ক্রিকেটে চারশো বা তার বেশি রান করেছে আসলে ভারত- ৯ বার।

তো মোটামোটি চারশো যারা করেন নিয়মিত তাদের স্ট্রংজোন স্বাভাবিভাবেই টপ অর্ডার- এরা সবাই ৪০ প্লাস এভারেজ ও ১০০ প্লাস স্ট্রাইক রেটের ব্যাটার ক্যারি করে।

ডি কক, মিলার, মারক্রাম, ক্লাসেন! গিল, রোহিত, কোহলি! সল্ট, বাটলার, লিভিংস্টোন!

প্রেডিকশন হচ্ছে এটা আসছে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বিশ্বকাপে কোনও একটা দল ৫০০ রান স্পর্শ করবে!

এখন সর্বোচ্চ স্কোর কতো? ৪৯৮! কার্টেসি ইংল্যান্ড!

৫০০০+ রান তাও আবার ৪৩ গড়ে, তাও এই ব্যাটারের সেঞ্চুরি নাই এই অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান মিস বাহ উল হকের!  তিনি পৃথিবীর একমাত্র...
01/10/2026

৫০০০+ রান তাও আবার ৪৩ গড়ে, তাও এই ব্যাটারের সেঞ্চুরি নাই

এই অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান মিস বাহ উল হকের! তিনি পৃথিবীর একমাত্র ওয়ানডে ব্যাটার যার নামের পাশে ৫০০০ রান আছে কিন্তু শতক নাই।

এর মাঝে ৪২ বার ৫০ পার করেছেন মিসবাহ- ২ বার ৯০ পার করেছেন!

মজার ব্যাপার হইলো মিসবাহ কিন্তু নার্ভাস নাইন্টিজেরও শিকার না, কারণ তার দুইটা ৯০+ দুইটাই অপরাজিত- ৯৩* ও ৯৬*

মিসবাহ ২০০২ সালে ক্যারিয়ার শুরু করলেও, একটা বড় সময় ধরে তিনি ইউনুস, ইউসুফ, ইনজামাম, শোয়েব মালিকের মিডল অর্ডারের ছায়ায় ছিলেন!
ঘরোয়া ক্রিকেটে রানভরা একটি মৌসুম, এরপর ইংল্যান্ডে ক্লাব ক্রিকেটে খেলা এবং ইনজামাম উল হকের ওয়ানডে থেকে অবসর নেওয়ার পর অবশেষে ২০০৭ সালের জুলাইয়ে মিসবাহ উল হককে কেন্দ্রীয় চুক্তির প্রস্তাব দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

এক মাস পরই দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে মোহাম্মদ ইউসুফকে পেছনে ফেলে মিসবাহর জায়গা পাওয়া ছিল বেশ চমকপ্রদ। সেই টুর্নামেন্টেই তিনি প্রায় পাকিস্তানকে শিরোপা জিতিয়েই ফেলেছিলেন। তার খেলা স্কুপ থেকেই শিরোপা হারায় পাকিস্তান, আবার পাকিস্তানকে ভারতের বিপক্ষে পুরো সময় চেইজে রাখেনও মিসবাহ।

সাদা বলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেটিই সম্ভবত ছিল তাঁর সেরা সময়। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে চারটি অর্ধশতকও তাঁর সেই সাফল্যের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায়।
২০০৭-০৮ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেও তাঁর দুর্দান্ত ফর্ম অব্যাহত ছিল। সেখানে তিনি করেন ৮২ রান এবং দুটি বড় শতক। প্রতিটি ইনিংসেই তিনি ক্রিজে ছিলেন ৪০০ মিনিটেরও বেশি সময়।
২০১১ সালে এসে মিসবাহ নিজেকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে প্রতিষ্ঠিত করেন। শুধু উচ্চমানের ব্যাটার হিসেবেই নয়, একজন অসাধারণ নেতা হিসেবেও নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেন। তাঁর নেতৃত্বেই ২০১২ সালের শুরুতে পাকিস্তান টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম বড় সাফল্য পায়। তৎকালীন এক নম্বর দল ইংল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে তারা।
মিসবাহর নেতৃত্বে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাকিস্তান হয়ে ওঠে ভয়ংকর এক দল। ২০১০-এর দশকের বেশিরভাগ সময় নিজেদের ঘরের মাঠের ম্যাচগুলো সেখানেই খেলেছে পাকিস্তান। সেই সময়ে তারা মোট নয়টি টেস্ট সিরিজে জয় অথবা ড্রয়ের মাধ্যমে অপরাজিত থাকে। এর মধ্যে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং ২০১৫-১৬ মৌসুমে আবারও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ।
২০১৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজের শেষ টেস্ট সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই ৯৯ রান করে আউট হয়েছিলেন মিসবাহ। এরপর শেষ টেস্টে, রোজোতে, যেন রূপকথার মতোই বিদায় নেন তিনি। কঠিন এক ম্যাচে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়ে সিরিজ জিতে নেয় ২-১ ব্যবধানে।

নিয়মিত ৫০+ স্কোর করলেও তাকে দলে ডাকা হতো খুবই কম, তবে ২০১০ সালে পাকিস্তানের ক্রিকেটে ফিক্সিং কেলেঙ্কারির ছোপ থেকে মিসবাহ কিছুটা দূরে নিয়ে আসেন!

আমার ধারণা পাকিস্তান ক্রিকেটের সবচেয়ে ডিসেন্ট মানুষদের একজন এই মিসবাহ!

Address

362, West Sheorapara
Dhaka
1216

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Raaftaar Sports - রাফতার স্পোর্টস posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Raaftaar Sports - রাফতার স্পোর্টস:

Shortcuts

Share

Category