17/07/2026
ইংল্যান্ডের হারটা শুধু আর্জেন্টিনার ভালো খেলার কারণে হয়নি। বড় কারণ ছিল নিজেদের ভুল ট্যাকটিক্স।
গোল করার পর থেকেই ইংল্যান্ড লো ব্লকে নেমে শুধু ১-০ লিড রক্ষা করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আপনি ফুটবলে ৭০-৮০ মিনিট শুধু ডিফেন্ড করে ম্যাচ জেতাবেন এইটা খুব কঠিন। ইউরোপের টিমগুলো এই ধরনের খেলা খুব কমই খেলে।
যখন আপনি পুরো দল নিয়ে নিজের বক্সের সামনে নেমে যান, তখন প্রতিপক্ষকে বলের নিয়ন্ত্রণ, জায়গা এবং আক্রমণের পর আক্রমণ করার সুযোগ করে দেন। একবার, দুবার, তিনবার শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনো ভুল হবেই।
ইংল্যান্ডের উচিত ছিল লিড নেওয়ার পরও মাঝমাঠে প্রেস করা, বল ধরে রাখা এবং কাউন্টার আক্রমণের হুমকি বজায় রাখা। এতে আর্জেন্টিনাও এতটা নির্ভার হয়ে সামনে উঠে আসতে পারত না।
ফুটবলে শুধু ডিফেন্ড করে ম্যাচ জেতা খুব কঠিন। টমাস টুখেলের ভাল করেই জানার কথা কখন প্রেস করতে হয়, কখন বলের দখল রাখতে হয়, আর কখন ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। এরপরও ইংল্যান্ড ঠিক উল্টোটা করেছে। তারা নিজেরাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রতিপক্ষকে দিয়ে দিয়েছে। ফলাফল, এক গোলের লিড ধরে রাখতে পারেনি।
ম্যাচ শেষে অনেক বিশ্লেষকও ঠিক এই বিষয়টিই তুলে ধরেছেন।
🎙️মাইকেল ওয়েন বলেছেন, গোলের পর ইংল্যান্ড "অপেশাদার টিমের" মতো খেলেছে। তার মতে, সাহসী ফুটবল হলো প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা, নিজের বক্সের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নয়।
🎙️The Guardian-এর বিশ্লেষণ আরও ভয়াবহ। গোলের পর দীর্ঘ সময় ইংল্যান্ডের বলের দখল নেমে যায় মাত্র ১২ শতাংশে। ১৯ মিনিটে তারা মাত্র ৪টি সফল পাস দিতে পেরেছিল। অর্থাৎ তারা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেনি, শুধু বল ক্লিয়ার করেছে।
🎙️Coaches' Voice-ও একই কথা বলেছে। ইংল্যান্ড যত নিচে নেমেছে, আর্জেন্টিনা তত বেশি জায়গা পেয়েছে। মিডফিল্ড পুরোপুরি আর্জেন্টিনার দখলে চলে যায় এবং একের পর এক আক্রমণ গড়ে ওঠে।
আমার মতে, ইংল্যান্ড ম্যাচটা আর্জেন্টিনার কাছে যতটা হারেনি, তার চেয়ে বেশি হেরেছে নিজেদের ভুল ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্তের কারণে।