মার্জিনে মর্জি

মার্জিনে মর্জি

Share

প্রথার ধার ধারি না। শুধু মর্জি হলেই লিখি।

Photos from মার্জিনে মর্জি's post 23/09/2024

ডিফেন্ডারটির নাম ছিল রোনালদো রদ্রিগেজ দে জেসাস। রোনালদো নামেই জানত সবাই। কিন্তু দলে আরও এক রোনালদো যোগ হওয়ায় তাঁকে হতে হলো রোনালদাও (বড় রোনালদো)। পরে নামটি স্থায়ী হয়ে গেলেও তখন কিছুদিনের জন্য রোনালদোয় ফিরতে অবশ্য বেশিদিন লাগল না। ১৯৯৬ অলিম্পিকে সে ফিরে গেল রোনালদোয়, আর রোনালদো হয়ে গেল রোনালদিনিও। জার্সি নম্বর ১৮।

তারপর একদিন রোনালদিনিও রোনালদোয় ফেরত গেল। জার্সি নম্বর অর্ধেক হলো। আর পৃথিবীতেও নেমে এল অদ্ভুত এক সময়। এক মাটিতে একই কাজে দেদার নাম-যশ আর পয়সাপাতি কামাচ্ছিলেন তিন রকম রোনালদো! ছোটটির ক্রিস্টিয়ানো নামের পরের অংশটুকু বাবা সাধ করে জুড়েছেন রোনাল্ড রিগ্যান থেকে। এক নামে বাবার দুইরকম সাধই পূরণ করেছেন ক্রিস্টিয়ানো।

মেজটি অর্থাৎ রোনালদিনিওর নাম ছিল রোনালদো দে আসিস মোরেইরা। বাপে ছিল জাহাজ ভাঙার শ্রমিক। কী সাধ করে রোনালদো রেখেছিলেন জানি না। কিংবা এমনও হতে পারে, একটা নাম রাখতে হবে তাই কিছু একটা রাখলেই হয়। ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে এইরুপ উদাসীনতা আছে। পরে অবশ্য মেজটা তো ‘ছোট’ হয়েই খ্যাতি পেল, রোনালদিনিও (ছোট রোনালদো)।

বড়টা মানে এখন যেটার পেট আগে যায়, তাঁর বাবার সঙ্গে মায়ের পরিচয় এক টেলিফোন কোম্পানিতে। দুজনেই সেখানে কাজ করতেন। সম্পর্ক বদলে যাওয়ার পর এক সময় তাঁদের পেশাও বদলাল। বাবা রাস্তার দোকানি, মা আইসক্রীম বিক্রেতা। বেন্তো রিবেইরোর নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার হলেও বাবার মদপানে আসক্তি ছিল। ১৯৭৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরে তাঁর বাবার কথাটা পরে এসেছে। প্রসববেদনায় কাতর মাকে ভোক্সওয়াগন বিটলে করে ইতাগুয়াইয়ের হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন রোনালদো ভ্যালেন্তে নামের এক চিকিৎসক। কোথাও কোথাও এমনও পাওয়া যায়, চিকিৎসার খরচও তিনি নেননি। কৃতজ্ঞতা কিংবা যাই হোক, বাবা সেই চিকিৎসকের নামে ছেলের নাম রেখেছিলেন রোনালদো।

কিন্তু একটা ঝামেলা হয়ে গিয়েছিল। ছেলের জন্মনিবন্ধনে দেরি করে ফেলেছিলেন বাবা। ডেডলাইন পেরিয়ে গিয়েছিল। জরিমানা দিতে হতো। বাবা বুদ্ধি আঁটলেন। জরিমানা এড়াতে জন্মের চারদিন পরের দিন তারিখ দিয়ে জন্ম নিবন্ধন করানো হলো রোনালদোর। ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৬। অফিশিয়াল নিবন্ধন নম্বর ৭,৭৩০। বলা হয়, এই নিবন্ধনের পর থেকে নম্বরটি স্থানীয় লটারি জিতেছে বেশ কবার। ধর্মবিশ্বাস কিংবা কুসংস্কার থেকেই কেউ কেউ সেইন্ট ভাবেন। রোনালদো নিজেও কখনো আগে বাঁ পা ফেলে মাঠে ঢোকেনি।

বাবাকে সে বেশিদিন পায়নি। বয়স বারো কি তেরোতে পরিবার ভেঙেছে। সম্ভবত আসক্তিই ছিল মূল কারণ। মা সন্তানদের নিয়ে আলাদা হয়ে যান। বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা খারাপ না হলেও কখনো রোমাঞ্চকর বলার মতো ছিল না। নীরব নিস্তরঙ্গ বহতা নদীর মতো। বাবাকে কি সে কখনো ভালোবেসেছে? বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার পর বাড়ি কিনে দিয়েছে। অলিম্পিকে ১৮ নম্বর জার্সি পরলেও ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর টুইট করেছে, ‘আজ আমার জন্মদিন।’ এইরুপ স্টেপ ওভার আর কজন পারে!

জনশ্রুতি আছে, স্টেপ ওভারের জনক আর্জেন্টিনার পেদ্রো কালোমিনো। বোকার প্রথম কিংবদন্তি। বাবা-মা কে সে জানত না। আসল নাম ছিল পেদ্রো ব্লিউ ফোর্নল। কালোমিনো দম্পত্তি পেলে-পুষে বড় করেছিলেন বলে সেও কালোমিনো হয়ে যায়। প্রকৃতি যেহেতু ভারসাম্য মেনে চলে, এ ছাড়া তাঁর কী-ই-বা করার ছিল!

স্টেপ ওভার ঠিক তাঁর উল্টোটা। ঠিকঠাক মতো করতে পারলে সামনের ডিফেন্ডার ভারসাম্য হারাবে, আপনি হয়ে উঠবেন তাঁর ভাগ্য-নিয়ন্তা, মানে ‘প্রকৃতি’! সিড লো শুনলে বলবে, ‘এভরি অ্যাটাক হ্যাড (হ্যাজ) টেন সেকেন্ডস ডেডলাইন।’

Photos from মার্জিনে মর্জি's post 10/02/2024

জীবন তাঁকে ‘চাকর’ বানালেও দাবার বোর্ডে ছিলেন সুলতান!
************************************************************

দৃশ্য ১

অস্ট্রিয়ান ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার অব চেজ টুর্নামেন্ট। অস্ট্রীয় আন্তর্জাতিক মাস্টার হ্যান্স কেমোখ তো রেগে কাঁই। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছেন, প্রতিপক্ষকে হার স্বীকার করতে তিনবার সেধেওছেন। কিন্তু কী আশ্চর্য! জবাবে শুধু হাসছেন প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়। এমন হলে কার মেজাজ ঠিক থাকে? কেমোখও ধৈর্য হারালেন। কিছুটা চিৎকারসুলভ কণ্ঠেই পাশে একজনকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার চ্যাম্পিয়ন কোন ভাষা জানে?’

কেমোখ যাঁকে প্রশ্নটি করেছিলেন, তিনি ব্রিটিশ দাবা চ্যাম্পিয়ন উইলিয়াম উইন্টার (১৮৯৭-১৯৫৫)। উইন্টারকে আরেকটু ভালোভাবে চেনাতে অন্য একটি পরিচয়ও দেওয়া যায়। তিনি বিখ্যাত ‘পিটার প্যান’ বইয়ের লেখক জে এম ব্যারির ভাগনে। যাহোক, উইন্টার সম্ভবত কেমোখের ধৈর্য হারানো উপভোগ করছিলেন। ছোট করে জবাবটা দিলেন, ‘দাবার ভাষা।’

কয়েক চাল পরই ড্র মেনে নিতে হয় কেমোখকে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘ডন’–এর প্রতিবেদনে ঘটনাটা প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৫ সালের ৮ আগস্ট। কেমোখের সেই প্রতিপক্ষের নাম জেনে নিন পরের দৃশ্যে।

দৃশ্য ২

রবেন ফাইন (১৯১৪-১৯৯৩) যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ডমাস্টার। ১৯৫০ সালে ফিদে এই খেতাব চালুর পর প্রথমবারেই অর্জন করেছিলেন। দাবা ও মনোবিদ্যা নিয়ে বেশ কিছু বইও লিখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক। দাবা খেলা নিয়ে একটি ঘটনা তিনি উল্লেখ করেছেন নিজের বইয়ে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন তার বইয়ের সেই ঘটনা উল্লেখ করেছিল ২০১৫ সালের ৮ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে। ঘটনাটা জেনে নেওয়া যাক—

‘মহারাজার (মালিক উমর হায়াত খান) ঘরে ঢোকার পর তিনি অভ্যর্থনা জানিয়ে বললেন, “আপনারা খুব ভাগ্যবান যে আমার দেখা পেয়েছেন। এই সময়ে আমি সাধারণত গ্রেহাউন্ডদের (শিকারি কুকুর) সঙ্গে কাটাতে পছন্দ করি।” এরপর তিনি নিজের জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি পুস্তিকা ধরিয়ে দেন আমাদের হাতে। আমরাও ততক্ষণে বুঝে ফেলেছি, জন্মসূত্রে মহারাজা হওয়াটাই তাঁর বলার মতো একমাত্র পরিচয়। এরপর আমরা মির সুলতান খানকে দেখি, মহারাজা যার সঙ্গে দাসের মতো ব্যবহার করছিলেন। পরিস্থিতিটা আমাদের জন্য বিব্রতকর। কারণ, দাবার এক গ্র্যান্ডমাস্টার আমাদের সামনে বেয়ারা হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আসলে তাঁর (সুলতান) নিমন্ত্রণেই আমরা মহারাজার বাড়িতে গিয়েছিলাম।’

দৃশ্য ৩

২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪। ইসলামাবাদ। বিশ্ব দাবা সংস্থার (ফিদে) সভাপতি আরকাদে দভরকোভিচ মরণোত্তর গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাব তুলে দেন পাকিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারুল হক কাকারের হাতে। না, খেতাবটা কাকারের নয়, সেটি মির সুলতান খানের। ফিদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘পাঞ্জাবের দাবাড়ু এবং পাকিস্তানের নাগরিক। তাঁর সময়ে তাঁকে এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী দাবাড়ু বিবেচনা করা হতো। পাঁচ বছরেরও কম সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি তিনবার ব্রিটিশ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন। দাবার তত্ত্বজ্ঞান এবং এই খেলার বইপত্র প্রায় না পড়েই বিশ্বের সেরা কয়েকজন খেলোয়াড়কে হারিয়েছিলেন মির সুলতান খান। তিনি পাকিস্তানের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার।’

সুলতান ১৯৬৬ সালে মারা যান। ৫৮ বছর পর তাঁকে মরণোত্তর গ্র্যান্ডমাস্টারের খেতাব দিল ফিদে। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানও পেয়ে গেল তাদের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার। সেটি অবশ্য ভৌগোলিক কারণে। সুলতান যখন দাবার ৬৪ ঘরে সালতানাত কায়েম করেছিলেন, সমগ্র উপমহাদেশ তখন ব্রিটিশ শাসনের অধীন। সেই সালতানাতেরই শাহেনশাহ হিসেবে সুলতান কখনো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে না পারা ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বকালের অন্যতম সেরা হিসেবে স্বীকৃত পোলিশ কিংবদন্তি আকিবা রুবিনস্টেইনকে হারিয়েছিলেন। সেই রুবিনস্টেইন গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাব পেয়ে যান জীবদ্দশাতেই—১৯৫০ সালে, ফিদে যে বছর থেকে এ খেতাব চালু করেছিল সেবারই। কিন্তু সুলতানকে অপেক্ষা করতে হয়েছে মৃত্যুর পরও। পূর্ণেন্দু পত্রীর কবিতার লাইনের মতো, ‘প্রতীক্ষাতে প্রতীক্ষাতে/ সূর্য ডোবে রক্তপাতে।’

সুলতান যদি হন দাবার ‘সূর্য’, তাহলে ৫৮ বছরের প্রতীক্ষায় বুকের ভেতর রক্তপাত না হওয়াই তো অস্বাভাবিক। তবে সুলতান যে খেতাবটা পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, সে কথাও জোর দিয়ে বলা যায় না। সে সময় অনেক বাঙালির মতোই ইউরোপে কনকনে ঠান্ডা আবহাওয়া তাঁর সহ্য হয়নি। মোহাম্মদ সেলিমকে নিশ্চয়ই মনে আছে? সেই যে কলকাতার মেটিয়াবুরুজ থেকে উঠে আসা খালি পায়ের ফুটবলার, উপমহাদেশের প্রথম ফুটবলার হিসেবে যিনি খেলেছিলেন ইউরোপীয় ক্লাবে (সেল্টিক)—স্কটল্যান্ডের আবহাওয়া সহ্য না হওয়ায় এবং দেশের টানে সেলিমও ফিরে এসেছিলেন। সুলতানও তা–ই। ইংল্যান্ড থেকে ফিরে যেন ‘মুক্তি পেয়েছিলেন’।

কিন্তু সুলতানের এই গল্প মুক্তির নয়। এ গল্প আসলে ছাইভস্ম থেকে ফিনিক্স পাখির মতো উড়ে আবারও লোকচক্ষুর অন্তরালে মিলিয়ে যাওয়ার!
*****************************

২০২০ সালের ১৭ মে ‘ডন’–এ সুলতানকে নিয়ে একটি লেখা প্রকাশ হয়েছিল—‘চেস: র‌্যাথ অব সুলতান’। লিখেছিলেন সুলতানেরই বড় ছেলে পাকিস্তান পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত আইজি আতহার সুলতান ও নাতনি আতিয়াব সুলতান। আতিয়াব কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট করে পাকিস্তান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে কর্মরত। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, সুলতানের জন্ম ১৯০৩ সালে। যদিও নিউইয়র্ক টাইমস অন্য সূত্র মারফত গত বছর ২৭ মে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তাঁর জন্মসালটা ১৯০৫-ও হতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, সুলতানের জন্ম বর্তমান পাকিস্তানের পাঞ্জাবে সারাগোদা বিভাগের খুশাব শহরের মিঠা তিওয়ানা অঞ্চলে। তাঁর পূর্বপুরুষেরা পীর ও জমিদারদের মুসলিম আওয়ান গোত্রের (যাঁরা বিশ্বাস করে তাঁরা আরব বংশোদ্ভূত)। বাবা মিয়া নিজাম দিনের কাছে দাবার চাল শিখেছিলেন সুলতান। কৈশোরেই বোঝা গিয়েছিল তাঁর প্রতিভা। প্রায় প্রতিদিনই সারাগোদা শহরে যেতেন জমিদার ও দাবাপ্রেমীদের সঙ্গে খেলার জন্য। তাঁর বয়স যখন ২১ বছর, পাঞ্জাবে তাঁর চেয়ে ভালো দাবাড়ু আর কেউ ছিলেন না।

আতহার সুলতান ও আতিয়াব সুলতানের যৌথ সে কলামেই উঠে এসেছে সুলতানের এসব গল্প। সুলতান দ্রুতই নজরে পড়েন সারাগোদার পাশের অঞ্চল কালরার জমিদার ও মেজর জেনারেল স্যার উমর হায়াত খান তিওয়ানার। এই স্যার উমর তিওয়ানাই রবেন ফাইনের সেই মহারাজা। ব্রিটিশ আনুগত্য মেনে গোটা পাঞ্জাবের অন্যতম বড় ও প্রভাবশালী জমিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলেন তিনি। শিল্প ও খেলাধুলার পৃষ্ঠপোষক হতে উন্মুখ উমর হায়াত সুলতানকে দেখে যেন হাতে চাঁদ পেলেন! আতহার সুলতান ও আতিয়াব সুলতানের লেখা সেই কলামের ভাষায়, ‘সুলতানকে তিনি (উমর হায়াত) একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন: বৃত্তি ও থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিনিময়ে সুলতান তাঁকে তাঁর জমিরদারিতে একটি দাবার দল গঠন করে দেবেন।’ এখানে এসে একটু খটকা লাগে। রবেন ফাইনের দাবি অনুযায়ী সুলতান স্যার উমর হায়াতের চাকর ছিলেন। সত্যিটা কী, সেটি জানার সুযোগ আর নেই হয়তো। তবে এটুকু বোঝা যায়, সুলতানের আন্তর্জাতিক দাবা ক্যারিয়ার সম্পূর্ণভাবে উমর হায়াতের দয়াদাক্ষিণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

উমর হায়াতের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে সুলতান কালরায় চলে যান। ১৯২৮ সালে অল ইন্ডিয়া চেস চ্যাম্পিয়নশিপ জেতেন। ৯ গেমে মাত্র আধা পয়েন্ট খুইয়ে চ্যাম্পিয়ন! পরের বছর বসন্তে সুলতানকে নিয়ে ইংল্যান্ড যাত্রা করেন উমর হায়াত এবং সেখানে কুলীন ইমপেরিয়াল চেস ক্লাবের সদস্য হন সুলতান। সে সময় দাবা খুব ব্যয়বহুল এবং অভিজাতদের খেলা ছিল। দাবা ক্লাবের সদস্য হতে এবং টুর্নামেন্টে অংশ নিতে ফি দিতে হতো প্রচুর। ১৯২৯ সালে ব্রিটিশ চ্যাম্পিয়নশিপে সুলতানের অংশ নেওয়ার টাকাটা কে দিয়েছিলেন, সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। তবে প্রতিযোগিতায় কেমন খেলেছিলেন, সেটি জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস তাদের ‘ওভারলুকড’ সিরিজ প্রতিবেদনে। যে কীর্তিমানদের মৃত্যুতে সময়মতো শ্রদ্ধা জানাতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি, তাঁদের জন্য দেরিতে হলেও সিরিজটি চালু করা হয়েছিল এবং সেখানে সুলতানের প্রথম ব্রিটিশ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা নিয়ে বলা হয়েছে, ‘জুলাই ১৯২৯। চ্যাথাম হাউস স্কুলে উপস্থিত ১২ দাবাড়ু। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন মাস্টার দাবাড়ুও ছিলেন...কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হলেন এমন একজন, যাকে অন্যরা সেভাবে চিনতেন না। হুমকি বলেও মনে করেননি। আর সে সময় ইউরোপ ছিল দাবা–বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু। চ্যাম্পিয়ন হওয়া সেই খেলোয়াড় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রত্ন ভারতের মির সুলতান খান।’

ইউরোপ ও উপমহাদেশের দাবা খেলার নিয়মে তখন পার্থক্য ছিল। ভারতীয় নিয়মে প্রথম চালে বড়ে দুই ঘর এগোতে পারবে না। ক্যাসলিংয়ের নিয়মও আলাদা ছিল। আর রাজা অন্তত একটি চালে মন্ত্রীর মতো এগোতে পারবে। উমর হায়াতের সঙ্গে ইউরোপে যাওয়ার আগপর্যন্ত সুলতান সেখানকার দাবা খেলার নিয়ম সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। বাবার কাছে শেখা ভারতীয় খেলার ধরনই ছিল তাঁর পুঁজি। অর্থাৎ ইউরোপীয়দের মুখোমুখি হওয়ার আগে সুলতানকে তাঁদের নিয়মের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়েছিল। ব্যাপারটা কত কঠিন ছিল, তা আন্দাজ করে নেওয়া যায়। এর সঙ্গে যোগ করুন, দাবা নিয়ে সুলতানের পুঁথিগত বিদ্যায় অজ্ঞতা। খেলা কীভাবে শুরু করতে হবে, সেসব তত্ত্বজ্ঞান সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানতেন না, যেটায় দক্ষ ছিলেন তাঁর ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বীরা। কিন্তু প্রতিভা ঠিকরে বের হওয়ার সুযোগ পেলে তা কি কখনো চাপা থাকে? থাকে না। সুলতান অর্ধেকের বেশিসংখ্যক ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। হেরেছিলেন মাত্র এক ম্যাচ!

সুলতান ব্রিটিশ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন আরও দুবার (১৯৩২ ও ১৯৩৩)। সে সময় পৃথিবীতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি বিচারে ব্রিটিশ চ্যাম্পিয়নশিপের মর্যাদা বৈশ্বিক চ্যাম্পিয়নশিপের মতো ছিল বলে দাবি করেছেন আতহার সুলতান ও আতিয়াব সুলতান। প্রথমবার এই চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে বাঘা বাঘা দাবাড়ুর নজরে পড়ে গিয়েছিলেন সুলতান। পরের চার বছরের একটু বেশি সময় ইউরোপে তোলপাড় চলেছে তাঁকে নিয়ে দাবার বোর্ডে। ৬৪ ঘরের সেই বোর্ডের সামনে সুলতান ভীষণ সাদাসিধে ছিলেন। ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত ডেভিড হুপার ও কেনেথ হুইল্ডের লেখা ‘দ্য অক্সফোর্ড কম্পানিয়ন টু চেস’ বইয়ে সুলতানের ভাবনার কথা উল্লেখ আছে। সুলতান মনে করতেন, ‘যে খেলোয়াড়ের মনোযোগ যত গভীর হবে, সে-ই জিতবে।’ কতটা সাদাসিধে চিন্তা, ভাবা যায়!

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রথমবার ব্রিটিশ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে ১৯৩০ সালের মে মাসে সুলতান অল্প কিছুদিনের জন্য জন্মভূমিতে ফিরে এসেছিলেন। ইউরোপে ফেরার পর দাবার বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলার প্রস্তাব পেতে থাকেন। ১৯৩০ সালের জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের স্কারবরোয় টুর্নামেন্টে চতুর্থ হন, সেখানে ইউরোপের তৎকালীন শীর্ষ পাঁচ দাবাড়ুও ছিলেন। এরপর হামবুর্গে তৃতীয় দাবা অলিম্পিয়াডে ইংল্যান্ড তাঁকে নিজেদের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে খেলায়। ৪ হার ও ৪ ড্রয়ের বিপরীতে ৯ জয় পেয়েছিলেন সুলতান। হামবুর্গের পর বেলজিয়ামের লিয়েজে ইনভাইটেশন টুর্নামেন্টে বিশ্বখ্যাত দাবাড়ু সাভিয়েল্লি টারটাকোয়ারের পর দ্বিতীয় হন। কয়েক মাস সেই টারটাকোয়ারকেই হারিয়ে দেন ১২ ম্যাচের গেমে। তবে সুলতানের ক্যারিয়ারে মাহেন্দ্রক্ষণটা ধরা দিয়েছে ১৯৩০ সালের শেষ থেকে ১৯৩১ সালের শুরুর দিকে হাস্টিংসে আয়োজিত একটি এলিট টুর্নামেন্টে। দাবার দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ম্যাক্স ইউয়ি ও হোসে রাউল কাপাব্লাঙ্কার পর তৃতীয় হয়েছিলেন সুলতান। কাপাব্লাঙ্কা দাবার সর্বকালীন সেরাদের একজন। সেই টুর্নামেন্টে কাপাব্লাঙ্কাকে হারিয়ে সুলতান দাবা–বিশ্বকে যতটা নাড়া দিয়েছিলেন, তার চেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছিল সম্ভবত সে ম্যাচে তাঁর খেলা স্টাইল। বলা হয়, কাপাব্লাঙ্কাকে বুঝতে না দিয়ে ধীরে ধীরে তাঁকে ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলেছিলেন! সুলতানের সেই খেলার স্টাইল দাবার খেলার ধরনেও এখন অন্যতম রেফারেন্স পয়েন্ট।

১৯৩১ সালে প্রাগে আয়োজিত চেস অলিম্পিয়াডেও ইংল্যান্ডের নেতৃত্ব দিয়ে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছিলেন সুলতান। ৮ জয়, ৭ ড্র ও ২ হার। হেরেছিলেন সে সময় বিশ্বের সেরা ১০ দাবাড়ুদের ২ জন—সলোমন ফ্লোর ও আকিবা রুবেনস্টেইন। ড্র করেছিলেন তৎকালীন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আলেক্সান্দার আলেখিনের সঙ্গে। ১৯৩২ সালে খেলেছেন কেমব্রিজ প্রিমিয়ার লিগেও। সেখানে ইংল্যান্ডের সেরা সব দাবাড়ুকে তিনি হারিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ছিলেন কোনেল হিউ ও’ডনেল আলেক্সান্দার—আইরিশ ক্রিপ্টোলজিস্ট, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যিনি জার্মান এনিগমা মেশিনের গোপন বার্তা উদ্ধার করতে অ্যালান টার্নিংয়ের সঙ্গে কাজ করেছেন। ১৯৩৩ ছিল সুলতানের দাবার বোর্ডে শেষ প্রতিযোগিতামূলক বছর। সেবারও ইংল্যান্ডের শীর্ষ খেলোয়াড় হিসেবে দাবা অলিম্পিয়াডে অংশ নেন, জেতেন ব্রিটিশ চ্যাম্পিয়নশিপ।

সে বছর ডিসেম্বরে ইংল্যান্ডে রাউন্ডটেবিল কনফারেন্স শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে উমর হায়াতের ইংল্যান্ড সফরও শেষ হয়। সুলতানকেও ইউরোপ ছেড়ে দেশে ফিরতে হয় উমর হায়াতের সঙ্গে। এরপর আর কখনোই তিনি ইউরোপে যেতে পারেননি, মুখোমুখি হতে পারেননি বিশ্বসেরা সব দাবাড়ুর। সুলতানের কিন্তু তাতে মনে কোনো কষ্ট ছিল না। ইংল্যান্ড ছাড়তে পেরে তিনি খুশিই হয়েছিলেন। সেখানে ঠান্ডা ও বৃষ্টিবাদল আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেননি। ম্যালেরিয়াও হয়েছিল। উমর হায়াতের বাসায় কাজ করা গুলাম ফাতিমা এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন সত্তর দশকে ব্রিটিশ টেলিভিশনে প্রচারিত এক তথ্যচিত্রে, যা ২০১৪ সালে ইউটিউবেও প্রকাশিত হয়। এই তথ্যচিত্রের বরাত দিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমসও।

গুলাম ফাতিমাও কিন্তু দাবাড়ু। তথ্যচিত্রে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাঁর কাছে দাবা খেলা শিখতে চেয়েছিলেন এবং ১৯৩৩ সালে ফাতিমা ব্রিটিশ উইমেন্স চেস চ্যাম্পিয়নশিপ জেতেন। ডেভিড হুপার ও কেনেথ হুইল্ডের বইয়ে ফাতিমা বলেছেন, ইংল্যান্ড ছেড়ে সুলতানের মনে হয়েছিল, তিনি জেলখানা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

দেশে ফেরার পর ১৯৩৫ সালে একবারই প্রতিযোগিতামূলক দাবায় অংশ নিয়েছিলেন সুলতান। ভি কে খাদিলকারের বিপক্ষে সেই মুখোমুখিতে ৯ জয় ও ১ ড্রয়ে তখনো বোঝা গিয়েছিল, সুলতানের অন্তত উপমহাদেশে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। এরপর সুলতান আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক দাবায় অংশ নেননি।

ব্রিটিশ টেলিভিশনে প্রচারিত সেই তথ্যচিত্রে সুলতানের ছেলে আতহার সুলতান একটি ঘটনা জানিয়েছেন। আতহার তাঁর বাবার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তিনি কেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ খেতাবের জন্য লড়াই করেননি? সুলতান বলেছিলেন, সে সময় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ খেতাবের জন্য লড়াইয়ে অংশ নিতে অন্তত ২০০০ পাউন্ড ফি দিতে হতো (২০২৩ সালের হিসাবে ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার), যেটা জোগাড় করা তাঁর পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। সেই তথ্যচিত্রে ঐতিহাসিক রিচার্ড এলস সুলতানকে নিয়ে বলেছেন সবচেয়ে নির্মম সত্য কথাটি, ‘সুলতানের পরিস্থিতিটাই ছিল অস্বাভাবিক। তাঁর একজন সাহায্যকারী ছিলেন। তিনি তাঁর খরচ নির্বাহ করতেন, বিভিন্ন টুর্নামেন্টে পাঠাতেন। এটা যেন শাঁখের করাত। কারণ, একজন ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর তাঁর দাবা ক্যারিয়ারটা নির্ভর করেছে। স্যার উমর হায়াত খান চাইলে তিনি দাবাড়ু, নইলে না। এ জন্যই তিনি ইউরোপে আর খেলতে পারেননি।’

ব্রিটিশ গ্র্যান্ডমাস্টার ও গণিতবিদ জোনাথন মেস্টেল সুলতানের ভেতরকার ব্যক্তিকে খোঁজার চেষ্টা করেছেন। সেই তথ্যচিত্রে বলেছেন, ‘ভেবে অবাক হই, সুলতানের প্রাত্যহিক জীবন ছিল কাউকে সেবা করার। দাবার প্রতি আকর্ষণটা সে বাড়তে দেয়নি। শুধু দাবা খেলার সময়ই তাকে কেউ কোনো কাজ করার নির্দেশ দেয়নি। শুধু দাবার বোর্ডেই সে নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগ পেয়েছে।’

সেটাও খুব অল্প সময়ের জন্য।

ইউরোপ থেকে ফেরার পর নিজ বাসভূমে চাষবাসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন সুলতান। তাঁর ছেলে ও নাতিপুতিরাও দাবা খেলেন। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট থেকে বিরত থাকেন। আতহার সুলতান জানিয়েছেন, তাঁর বাবা তাঁদের বলে গিয়েছেন, ‘নিজের জীবনকে এর (দাবা) চেয়ে ভালো কোনো কিছুতে কাজে লাগাতে।’

সুলতান যখন দাবা খেলেছেন, তখন কোনো অফিশিয়াল র‌্যাঙ্কিং ছিল না। তবে দাবার বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট চেস মেট্রিকস, যারা গত ২০০ বছরের দাবাড়ুদের র‌্যাঙ্কিং নির্ধারণ করেছে, সে অনুযায়ী নিজের দাবা ক্যারিয়ারের শেষ দুই বছরে সুলতান বিশ্বের সেরা ষষ্ঠ অথবা সপ্তম খেলোয়াড় ছিলেন। আর একটি কথা না জানালেই নয়। ওই যে ইউরোপীয়দের মতো খেলা কীভাবে শুরু করতে হবে, সুলতান তা সেভাবে না জানলেও রুবিনস্টেইনের মতে, তিনি ‘মাঝে এবং শেষের খেলার মাস্টার।’ তবে সুলতান তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে সেরা স্বীকৃতিটা পেয়েছেন সম্ভবত কাপাব্লাঙ্কার কাছ থেকে। দাবায় সর্বকালের সেরা সহজাত প্রতিভাদের একজন হিসেবে স্বীকৃত কাপাব্লাঙ্কা নিজের এক লেখায় সুলতানকে একটি শব্দে বেঁধেছিলেন—

‘জিনিয়াস!’

(বিঃদ্রঃ লেখাটি প্রথম আলো অনলাইনে অন্য শিরোনামে প্রকাশিত। লিংক:https://www.prothomalo.com/sports/other-sports/smvnl1tw50)

07/07/2023

Down the wicket with full blood swing.

Caribbean pull ( yeah front leg up and keeping the stance for some seconds).

Caribbean square cut ( front leg up like Gordon Greenidge)

Cover drive presenting full face of bat. Elbow directing the way of ball.

Back foot cover drive with completing the swing of bat on shoulder.

Sometimes with front leg up like a vorotnattom dancers stance.
Blackfoot square cut with front leg up but presenting the face of bat to cover—That’s a decoy for fielders.

Front foot glance to square leg with majestic swing of the bat.

Front foot nudge to square leg with meeting the ball on sweet spot and again front leg up to gain time, close to body for playing late using the pace.

Inside out on extra cover, at the last moment slicing the bat to keep balance and way of the ball to right channel.

Inside out on the middle channel to long off and cover ( with or against the spin).

Inside out on cover presenting full face of the bat, head down when meeting the ball, completing it with high head like a king.

Hard slice like a swing of the sword in air.

front foot and back foot dead defence.

On the rise meeting the ball it’s below to send it as much far to air ( circle) with back foot up but balance is unbelievable.

Straight drive with full face, sometimes little push to on the rise and it becomes more beautiful like a knock on the door of the ball—good buy with grace and love.

Tape tennis shot to mid wicket with unbelievable power ( rarely done it) to treat the good length.

Late cut of cut late?

Nudge.

Wristy on drive from outside off stump half volley ( rare because I suspect always committed to his favourite place—cover— on sub conscious mind).

Ground flick with completing the shot like sword of tipu sultan…
…and all other rash shots lately his career you could name to prove me wrong that I am overhyping.

Actually I don’t care.

Only one thing I learned in life and that is watching someone’s batting with passion. Not everyone, you know which class I mean.
Sometimes it was rash, sometimes nothing, but every single time you came on crease I expected something. You made me feel like it from 2007 Port of Spain. Yeah, that down the wicket wild swing to mid wicket on 2nd floor of the gallery paying little respect to your elder stateman.

Dear tamim iqbal khan, I am getting old and old men should not wipe their eyes for their youth. I dead tried on shadow or crease to bat like you, but the flamboyance, authority and majestic king like swing you produced, nobody could earn it by practice unless you born with it.

A gully cricketer like me is nothing for this country. But a batsman like you to us has the god like stature. Why?

Still we couldn’t produce better than you, that’s why.

Thank you.

( no, you don’t have to comfort me😁. You earned my rainy season which is very tough for any player and it’s not negotiable.)

20/11/2022

(বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর দিনে উপমহাদেশ থেকে ইউরোপের ক্লাবে ডাক পাওয়া প্রথম ফুটবলারকেও স্মরণ করা যায়।)

আহ, সেলিম! হায়, সেলিম!
**************************

ইংরেজ সৈন্যদের কাছে ফুটবলে হাতেখড়ি নগেন্দ্র প্রসাদ সর্বাধিকারির।

১৮৭৭ সালে তার কাছ থেকে হেয়ার স্কুলের বাঙালি ছাত্ররা; বয়েজ ক্লাব। ভারতে প্রোথিত হলো ফুটবলের শিকড়। ষোলো বছর পর এলফিনস্টোন জ্যাকসনদের হাত ধরে আলোর মুখ দেখল ভারতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ)। ওই বছরই মাঠে গড়ায় আইএফএ শিল্ড। শুরু থেকে টানা ১৮ বছর আইএফএ শিল্ড শাসন করল ব্রিটিশরা। উনিশতম মৌসুমে এসে উনত্রিশে জুলাই পাল্টে গেল ছক। প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসেবে মোহনবাগান আইএফএ শিল্ড চ্যাম্পিয়ন !

ফাইনালে ইস্ট ইয়র্কাশায়ার রেজিমেন্টকে ২-১ গোলে হারায় শিবদাস ভাদুড়ীর দল। তাও খালি পায়ে খেলে! তখনকার বাঙালির কাছে সেই জয় পলাশীতে হারের প্রতিশোধ! রাজনীতির ময়দানে কংগ্রেস আর স্বদেশী আন্দোলনকারীরা তখন পর্যন্ত যা করে উঠতে পারেনি, খেলার মাঠে ব্রিটিশদের হারিয়ে সেটাই করে দেখিয়েছিল মোহনবাগান।

ফলস্বরূপ, উপমহাদেশে স্থায়ী ভিত পেয়ে যায় ফুটবল। এ জয় নিয়ে লেখা হয়েছে অসংখ্য গান, গল্প, কবিতা এমনকি উপন্যাস। স্বাধীনতাবোধ জাগরণের সেই সময়টা ছিল ফুটবলেরও প্রেমে পড়ার। মোহাম্মদ আবদুল সেলিম সেই ঘোর লাগা সময়ে পরেরটা বেছে নিয়েছিলেন।

মোহনবাগানের সেই জয়ে পরাধীন ভারতীয়দের মনে এ ধারণা গেঁথে যায়, খেলার মাঠে যেহেতু হারানো গেছে, রাজনীতির মাঠে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়লে স্বাধীনতাও ছিনিয়ে আনা সম্ভব। ফ্যান্টাসির অঙ্কুরোদ্গম ঘটতে চলা কোনো চঞ্চলমতি মনে রাজনীতির এসব মার-প্যাঁচ ঢোকার কথা নয়।

কলকাতার মেটিয়াবুরুজে একটা সাধারণ নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম সেলিমের। মোহনবাগানের সেই ঐতিহাসিক জয়ের উত্সবস্রোত ভীষণভাবে দাগ কেটেছিল সাত বছর বয়সী সেলিমের মনে। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা চুলোয় ওঠে। শুরু হয় অহর্নিশ ফুটবলচর্চা। সহজাত প্রতিভা থাকায়, অল্প দিনেই কথা বলতে শুরু করে তার জাদুকরি দুটি পা!

কলকাতার ঘরোয়া ফুটবলে তখন তিনটি স্তম্ভ— মোহনবাগান, মোহামেডান স্পোর্টিং ও ইস্টবেঙ্গল। এ তিন ক্লাবের সমর্থকরা ছিলেন ভীষণ সাম্প্রদায়িক প্রকৃতির। সামাজিক শ্রেণী ও ধর্মে বিভাজিত ছিল ক্লাবের সমর্থন।

‘ভদ্দরলোক’খ্যাত সমাজের উচ্চ শ্রেণীর হিন্দুরা সমর্থন করতেন মোহনবাগান। মোহামেডান আদর্শগতভাবে ধর্মনিরপেক্ষ থাকলেও মুসলিম সমর্থক সিংহভাগ। পূর্ববঙ্গের (এখন বাংলাদেশ) প্রতিনিধিত্ব করত ইস্টবেঙ্গল। এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠা সেলিমের প্রথম ক্লাব বৌবাজারের চিত্তরঞ্জন।

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ‘বি’ দলে খেলেছিলেন ১৯২৬ ও ১৯২৭ পর্যন্ত। সেখানেই একদিন হঠাত্ সেলিমকে আবিষ্কার করেন পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতিমান ক্রীড়া সংগঠক পঙ্কজ গুপ্ত। হকির জাদুকর ধ্যাঁন সিংকে ‘চাঁদ’ তকমাটা তারই দেয়া। ধ্যাঁনচাঁদের প্রথম কোচও পঙ্কজ গুপ্ত। শিষ্যকে নিয়ে একবার বলছিলেন, সে একদিন চাঁদের মতো রোশনাই ছড়াবে। বাকিটুকু ইতিহাস।

পাকা জহুরী পঙ্কজ গুপ্তের রত্ন চিনতে এবারো ভুল হলো না। সেলিমকে তিনি তুলে আনেন স্পোর্টিং ইউনিয়নে। ১৯৩১ সাল পর্যন্ত এ ক্লাবে খেলার পর বছরখানেক ইস্টবেঙ্গলে ছিলেন সেলিম। এর পর যোগ দেন কলকাতার খ্যাতিমান ক্রীড়াব্যক্তিত্ব ছোনে মজুমদারের আরিয়ান ক্লাবে। যাযাবরের মতো ঠিকানা পাল্টানোর এ সময় গড়ে ওঠে তার ফুটবল ‘বেসিকস’। এসব ক্লাবের কাছ থেকেই পেয়েছিলেন ইউরোপীয়দের হারানোর মানসিক তাগিদ।

১৯৩৪ সালে প্রথম বড় ক্লাবের মুখ দেখেন সেলিম। যোগ দেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে। ১৮৮৭ সালের জুবিলী ক্লাব, যা পরবর্তীতে ক্রিসেন্ট ক্লাব ও হামিদিয়া ক্লাব থেকে ১৮৯১ সালে তৃতীয় ও শেষ দফায় নাম পাল্টে আজ পর্যন্ত মোহামেডান। ১৮৯৮ সালে কলকাতা ফুটবল লিগ চালু হলেও ১৯৩৩-৩৪ মৌসুমের আগ পর্যন্ত আসরটিতে খেলার সুযোগ পায়নি মোহামেডান।

কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্যি, অভিষেক মৌসুমেই কলকাতা লিগকে প্রথম ‘নেটিভ চ্যাম্পিয়ন’-এর মুখ দেখায় ‘ব্লাক প্যান্থার’রা। তখনকার মোহামেডান ছিল আক্ষরিক অর্থেই ‘কসমোপলিটন’। মাসুম, মহিউদ্দিন ও রহমত ছিলেন বেঙ্গালুরুর। জুম্মা খান এসেছিলেন পশ্চিম সীমান্ত থেকে। ‘দ্য ইনভিন্সিবলস’খ্যাত সেই দলটার বাকিরাও এসেছিলেন ভারতের নানা প্রান্ত থেকে। কাকতালীয় ব্যাপার, কলকাতা লিগে অভিষেক মৌসুমেই মোহামেডানের শিরোপা জয় ছিল, ক্লাবটিতে সেলিমেরও অভিষেক মৌসুম !

এর পর আর সেলিমকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

বোরিয়া মজুমদার ও কৌশিক গাঙ্গুলী কর্তৃক যৌথভাবে রচিত গ্রন্থ ‘A social history of Indian football : striving to score-এ মোহামেডানে সেলিমের স্বর্ণযুগ প্রসঙ্গে বলা হয়,

‘সেলিমকে নিয়ে ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবার কলকাতা লিগ জয় করে মোহামেডান। এ জয় অচিরেই পরিণত হয় অভ্যাসে। আক্রমণভাগের পুরোধা হয়ে সেলিম মোহামেডানকে পরের চার বছরও শিরোপা জেতান। অসাধারণ এ প্রতিভা তার নিখুঁত বল নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবলিং, পাস ও লব দিয়ে হাজারো ভক্তের হূদয় কেড়ে নেন। তিনি জানতেন কতটা উঁচুতে পাস দিতে হবে। তার পাসিং দেখতেই আসত মোহামেডান সমর্থকরা।’

১৯৩৬ সালে টানা তৃতীয় দফা কলকাতা লিগ জয়ের পর ছুটিতে ছিলেন মোহামেডান খেলোয়াড়রা। আইএফএ শিল্ডের জন্য শরীর চাঙ্গা করতেই এ অবকাশযাপন। কিন্তু সেটা আর অবকাশ থাকেনি। এ সময় প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে ভারতে পা রাখে চাইনিজ অলিম্পিক দল। প্রথম দুটি ম্যাচ ছিল সর্বভারতীয় একাদশের বিপক্ষে, পরেরটি সিভিল ও মিলিটারির সমন্বয়ে গঠিত একাদশ। তিনটি ম্যাচেই ডাক পান সেলিম। এর মধ্যে প্রথম ম্যাচটা ছিল ভারতের মাটিতে আইএফএ আয়োজিত প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ।

প্রথম ম্যাচে সর্বভারতীয় একাদশ হারলেও আলাদা করে নজর কেড়েছিলেন রাইটব্যাক সেলিম। চাইনিজ অলিম্পিক দলের অফিশিয়াল ডা. চি চাও ইয়ং সফর শেষে বিবৃতিতে বলেছিলেন,

‘এটা দুর্ভাগ্য যে তারা জিততে পারেনি। সেলিম-রহিম এবং ভট্টাচার্য, আব্বাস আলাদা মাপের খেলোয়াড় (প্রথম ম্যাচে)। গোটা সফরে তারাই সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে আমাদের।’

সেদিন সেলিমের খেলায় ডা. চি চাও ইয়ংয়ের মতো মুগ্ধ হয়েছিলেন আরো একজন।

ব্রিটেনের একটি শিপইয়ার্ডে স্টোরকিপারের কাজ করতেন সেলিমের কাজিন হাশিম। ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। প্রথম প্রদর্শনী ম্যাচে ভাইয়ের খেলা দেখে হাশিম তাজ্জব বনে যান। ‘সেলিম ইউরোপে খেলতে সক্ষম’— ভাবনাটা পেয়ে বসে হাশিমকে। ভাইকে অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে শেষ পর্যন্ত রাজিও করান তিনি। আর তাই দ্বিতীয় প্রদর্শনী ম্যাচের কয়েক দিন আগে সেলিম হঠাত্ করেই লাপাত্তা!

আইএফএ খুজেছে, পুলিশ খুজেছে, প্রদর্শনী ম্যাচে সেলিমকে অংশ নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞাপনও ছাপা হয় সংবাদপত্রে ; কিন্তু সবই পণ্ডশ্রম। সেলিম তত দিনে ভারতের মাটি ছেড়েছেন! হাশিমের হাত ধরে কায়রো হয়ে সেলিম তখন লন্ডনগামী জাহাজের যাত্রী।

৪৩ বছর পর সেলিমের নিখোঁজ হওয়ার আসল রহস্য জনসম্মুখে উদ্ঘাটন করে বাংলা সাময়িকী ‘খেলার আসর’। ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত তাদের একটি সংখ্যায় লেখা হয়, ‘সেলিম হঠাত্ করেই নিখোঁজ! আসলে সে তখন কায়রোতে তার ভাই হাশিমের সঙ্গে ইংল্যান্ডগামী জাহাজে চেপেছে। চীনাদের বিপক্ষে সেলিমের খেলা দেখে হাশিম তাকে ইউরোপের নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করতে প্রলুব্ধ করে। হাশিমের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, ইউরোপ মাত করে দেবে সেলিম।’

ভাইকে ইংল্যান্ডে ধাতস্থ করতে কিছুদিন লন্ডনে ছিলেন হাশিম। সেখান থেকে তাদের পরবর্তী গন্তব্য গ্লাসগো হয়ে সেল্টিক পার্ক। সেল্টিক ফুটবল ক্লাবের ঘরের মাঠ। এখানে সবকিছুই সেলিমের অচেনা। চমকে যাওয়াটা তাই প্রত্যাশিতই ছিল। ভাষাগত, পরিবেশগত ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য তো ছিলই, সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় সেল্টিকে সবাই পেশাদার বুটপরিহিত খেলোয়াড়! কিন্তু এতটা পথ এসে ব্যর্থ মনোরথে বাড়ি ফিরতে চাননি দুই ভাই। সেল্টিক পার্কে দাঁড়িয়ে ভাইকে হাশিম শুধু একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন- পারবি তো? ঘাড় কাত করে সম্মতি দেয় সেলিম।

সেল্টিকের ম্যানেজার তখন উইলি ম্যালে। হাশিম তাকে খুঁজে বের করেন। স্কটিশ লিগ চ্যাম্পিয়নশিপে ক্লাবটি সে সময়েই ১৭ বারের চ্যাম্পিয়ন। এমন একটি ক্লাবের ম্যানেজারকে হাশিম যা বলেছিলেন, সেটা আজো শুনলে হাসবেন যে কেউ, ‘ভারত থেকে জাহাজে করে অসাধারণ এক ফুটবলার এসেছে। দয়া করে একবার তার ট্রায়াল নিয়ে দেখবেন? কিন্তু সমস্যা একটাই— সেলিম খালি পায়ের ফুটবলার।’

খালি পায়ে ফুটবল খেলার সঙ্গে তখনো ইউরোপের পরিচয় ঘটেনি। হাশিমের কথা শুনে উইলি ম্যালে তাই খুব একচোট হেসে নেন। এর পর বিনা বাক্য ব্যয়ে উল্টো দিকে ঘুরে হাঁটা শুরু করেন। কিন্তু হাশিম নাছোড় বান্দা। শিকারকে সে টোপ গেলাবেই। শেষ পর্যন্ত হাশিমের জিদের কাছে হার মানলেন ম্যালে, কিন্তু একটা শর্তে— তিনজন রেজিস্টার্ড কোচ ও এক হাজার ক্লাব সদস্যের সামনে ট্রায়াল দিতে হবে সেলিমকে। সেল্টিক হেড কোচের এ শর্ত পত্রপাঠ মেনে নেয় দুই ভাই।

ট্রায়ালের দিন ক্লাব সদস্যদের আনাগোনায় গমগম সেল্টিক পার্ক। ভীষণ নার্ভাস হয়ে পড়েন সেলিম। অগত্যা কোচেরা তাকে মাঠের এক কোনায় নিয়ে যান, যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ট্রায়াল দিতে পারেন তিনি। কিছুক্ষণ পরই হীরের দ্যুতি! সেলিমের স্কিলে মুগ্ধ তিন কোচ। কিন্তু সেলিম সন্তুষ্ট ছিলেন না।

হাশিমকে ডেকে পাঠান সেলিম। ভাইকে তিনি বলেন, প্রথাবদ্ধ অনুশীলনের বাইরে তার নিজের আবিষ্কৃত তিনটি ‘স্কিল’ কোচদের দেখাতে চান। যে কথা, সেই কাজ এবং সেই তিন স্কিলের মারে বিস্ময়ে চোয়াল ঝুলে পড়ে তিন কোচের। বুট নয়, সামান্য অ্যাংকলেটে মোড়ানো একজোড়া উপমহাদেশীয় পা থেকে অমন বিধ্বংসী কিছু দেখা, স্কটিশ কোচদের কল্পনার বাইরে ছিল! পরের সপ্তাহে হ্যামিল্টন একসিওসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ ছিল সেল্টিকের। সেলিমকে সেল্টিকের মূল দলে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেন তিন কোচ।

জোড়া গোল করেছিলেন সেলিম। এর মধ্যে একটি পেনাল্টি থেকে, গণমাধ্যমের চোখে সেটা ছিল ‘আনস্টপেবল’। ম্যাচটা ৫-১ গোলে জেতে সেল্টিক। কিন্তু গোল নয়, মাঝমাঠে সেলিমের খেলায় মন্ত্রমুগ্ধ হয় সেল্টিক সমর্থকরা। জন্মগতভাবেই তার ‘টো’ ছিল বেশ চওড়া। এ কারণে বল রিসিভে পারফেকশন ছিল ভীষণ সহজাত। পাসিংয়েও ভীষণ দূরদর্শী। ক্রসগুলো ছিল কলার মতোই বাঁকানো কিন্তু নিখুঁত, যেন তিনি আগেই জানতেন সতীর্থের সামনে কোথায় ফেলতে হবে বল!

২৮ আগস্ট, ১৯৩৬। সেল্টিকের হয়ে এদিন আরো একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেন সেলিম। প্রতিপক্ষ দল ছিল গ্যালস্টোন। শুধু সেলিমের খেলা দেখতে এদিন সেল্টিক পার্কে ভিড় জমায় প্রায় সাত হাজার সমর্থক। ভারতীয় ফুটবলার দেখার রোমাঞ্চ পেতে চেয়েছিলেন তারা। সমর্থকদের এ রোমাঞ্চ অচিরেই পরিণত হয় আনন্দে। মাঝমাঠে আবার ঐন্দ্রজালিক খেলা উপহার দেন সেলিম। তার জন্য এ ম্যাচের গেটমানি থেকে ১০০ পাউন্ড বেশি আয় করে সেল্টিক।

গালস্টোনের বিপক্ষে ম্যাচে সেলিমের পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে সেল্টিক কিংবদন্তি অ্যালেক্স বেনেট তার ম্যাচ রিপোর্টে লিখেছিলেন, ‘খেলা তখনো বেশি দূর গড়ায়নি। কিন্তু দর্শকরা এরই মধ্যে সেলিমের প্রেমে মশগুল। ট্যাকলিংয়ে তেমন একটা আগ্রহ নেই তার। কিন্তু কি পাসিং! যেখানে ইচ্ছা ঠিক সেখানেই নিখুঁত মাপে বলের জোগান এসেছে তার পা থেকে। তার ক্রসিং সম্পর্কে শুধু এতটুকুই বলা যায়— দুর্দান্ত !’

স্কটিশ গণমাধ্যমও লুফে নেয় সেলিমকে। ২৯ আগস্ট তাকে নিয়ে বিশাল প্রতিবেদন ছাপায় স্কটিশ ডেইলি এক্সপ্রেস। শিরোনাম দেয়া হয়— ‘ইন্ডিয়ান জাগলার; নিউ স্টাইল’। প্রতিবেদনে লেখা হয়—

‘গত রাতে পার্কহেডের দর্শকদের সম্মোহিত করে রেখেছিলেন সেলিম। তার দুই পায়ে যেন বজ্রের দ্যুতি ! পায়ে পায়ে বল খেলিয়ে গালস্টোনের এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে সেলিমের দেয়া ফ্লিক দারুণ পজিশনে পেয়ে যান এক স্ট্রাইকার। তাকে শুধু বলটাকে জালে পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতা সারতে হয়। সেলিমকে পেনাল্টি নিতে বলা হয়েছিল। সে রাজি হয়নি। পেনাল্টি নিতেই তার যত লজ্জা! হাশিমের চোখে তার ভাই অসাধারণ, গত রাতে দর্শকদের রায়ও ঠিক তাই।’

সেল্টিক সমর্থকদের এমন নৈবেদ্যকে খুব বেশি দিন প্রশ্রয় দেননি সেলিম। প্রশ্রয় দেননি জার্মানির একটি ক্লাবকেও। সেল্টিকে থাকতে জার্মানির একটি ক্লাব তাকে ডেকেছিল। সেলিমকে পেশাদার চুক্তির বন্ধনে বাঁধতে চেয়েছিল ক্লাবটি। কিন্তু জন্মভূমি তাকে টেনেছে চুম্বকের মতো। সেই মোহামেডান! সেই চিরায়ত বাংলার মুখ! দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন সেলিম। ২১ সেপ্টেম্বর সেল্টিকের সভাপতি থেকে দারোয়ান— সবার সঙ্গে করমর্দন করে কায়রোগামী জাহাজে ওঠেন সেলিম।

আহা! সেলিম তখন যদি বুঝতে পারতেন, বাঙালির চিরাচরিত আবেগের বশবর্তী হয়ে ভারতীয় ফুটবল ইতিহাসের কোন অধরা সুযোগকে তিনি হেলায় নস্ট করছেন! ‘হোমসিকনেস’ আর প্রাণের ক্লাব মোহামেডানকে ক্যালকাটা লিগ জেতানোর খিদে তাকে ইউরোপে খেলার মহিমা টের পেতে দেয়নি। হায়! কোথায় ক্যালকাটা লিগ আর কোথায় স্কটিশ লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ!

২০০২ সালে ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাত্কারে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন সেলিমের ছেলে রশিদ। তার বাবার সম্মানে সেল্টিক একটি চ্যারিটি ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল। এ ম্যাচ থেকে প্রাপ্ত মোট অর্থের পাঁচ শতাংশ সেলিমের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন সেল্টিক কর্তারা। সিদ্ধান্তটিকে সেলিমের গত কয়েক মাসের পারফরম্যান্সের পারিশ্রমিক হিসেবেও দেখেছে তারা। সেল্টিকের এ প্রস্তাবে সেলিম রাজি হন।

কিন্তু সে সময় সেল্টিকের গেটমানি থেকে প্রাপ্ত অর্থের পাঁচ শতাংশ ভারতীয় মুদ্রায় কেমন হতে পারে, এ সম্পর্কে সেলিমের কোনো ধারণাই ছিল না। সেই প্রীতি ম্যাচের বিশেষ অতিথি ছিল গ্লাসগোর এতিম শিশুরা। রশিদ জানান, তার বাবা মাঠেই ওয়াদা করেছিলেন প্রাপ্ত অর্থ এতিম শিশুদের তহবিলে দান করবেন। ম্যাচ শেষে সেল্টিক তার হাতে ১ হাজার ৮০০ পাউন্ড নগদ অর্থ তুলে দেয়। সেলিম এ বিশাল অঙ্কের অর্থ দেখে চমকে গেলেও কথার বরখেলাপ করেননি। গোটা অর্থই তিনি দান করেন এতিম শিশুদের তহবিলে। সেলিমের এ মহানুভবতা ভীষণভাবে দাগ কেটেছিল ব্রিটিশদের মনে।

ভারতে ফিরে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত মোহামেডানকে টানা দুই মৌসুম ক্যালকাটা লিগ জেতান তিনি। অ্যাংকলেট তুলে রাখার বেশ কয়েক বছর পর বার্ধক্যজনিত কারণে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন সেলিম। এ সময় বাবার চিকিত্সার্থে সেল্টিকের কাছে অর্থ সাহায্য চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন রশিদ। তার ভাষায়, ‘টাকা চাওয়ার কোনো ইচ্ছেই আমার ছিল না। মোহাম্মদ আব্দুল সেলিমের স্মৃতি সেল্টিকের হূদয়ে তখনো সজীব ছিল কিনা, শুধু এটুকুই জানতে চেয়েছি। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, চিঠি পাঠানোর কয়েক দিন পরই আমি একটি ফিরতি খাম হাতে পাই। এটা ছিল সেল্টিকের পাঠানো চিঠি, যার সঙ্গে ১০০ পাউন্ড মূল্যের একটি ব্যাংক ড্রাফটও ছিল। আমি আজ পর্যন্ত তা ভাঙাইনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সংরক্ষণ করব।’

১৯৮০ সালে ৭৬ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া কাটান সেলিম। কলকাতার তত্কালীন শীর্ষ দৈনিক অমৃতবাজারে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছিল এভাবে—

‘তিরিশের দশকে টানা পাঁচবার কলকাতা লিগ জেতা মোহামেডানের কিংবদন্তি সেই দলের সদস্য মোহাম্মদ সেলিম কলকাতায় বুধবার সকালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। রাইট উইংয়ে খেলা এ ফুটবলার অনেক ক্লাবের সঙ্গেই সংযুুক্ত ছিলেন এবং অবসরের পর খুদেদের কোচিং দিতেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে যান।’

সেলিম ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ইউরোপে খেলা প্রথম ফুটবলার! কোন ভারতীয়কে খেলানো ইউরোপের প্রথম ক্লাবও সেল্টিক! জীবদ্দশায় কখনো স্বীকৃতির পিছু ছোটেননি সেলিম। কিন্তু মৃত্যুর পর তাকে প্রাপ্য স্বীকৃতিটুকু দেয়া হয়নি!

এত বড় সত্যটা সবার চোখের সামনেই গোপন করে যায় কলকাতার শীর্ষ দৈনিক। এজন্য তত্কালীন হিন্দু-মুসলিম বৈষম্যকে দুষে থাকেন অনেকেই। কিন্তু সে কথার সত্যতা যাচাইয়ের সময় পেরিয়ে গেছে বহু আগেই। অনেক পরে এসে প্রাপ্য সম্মানটুকু পেয়েছিলেন সেলিম। সেটাও কেবলই ইতিহাসের পাতায়। কলকাতায় একজন গোস্ট পালের মূর্তি আছে ঠিকই, কিন্তু সামান্য এপিটাফ ছাড়া মহানগরের আর কোথাও সেলিম নেই! যদি একান্তই তার খোঁজ নিতে ইচ্ছে হয়, সঙ্গে রাখতে পারেন তিরিশের দশকে সেলিমকে নিয়ে এক সেল্টিক ভক্তের লেখা ‘ইন্ডিয়ান জাগলার’ শিরোনামে কবিতার এ কয়েকটি লাইন—

‘‘ Players from all nations

Have represented Celtic on the pitch,

Where their culture is glorified

In wearing a Celtic strip,

And a man from India,

Where traditions are steep,

Stepped onto Parkhead’s hallowed turf

Wearing only bandages on his feet.

Mohammed Salim, to Calcutta,

He was born,

At a time when Nationalist,

Fought the British Crown,

Independence was the cry

Against ‘The Colonial Rule’,

Where matters could have been settled

With a game of football.’’

(২০১৭, ১৬ এপ্রিল সামহোয়ারইন ব্লগে প্রথম প্রকাশিত)

ছবি: ইন্টারনেট।

ক্যাপশন: সেলিম খালি পায়ে ফুটবল খেলতেন। তাঁর পায়ে ব্যান্ডেজ (অ্যাংকলেট) বেঁধে দিচ্ছেন সেল্টিকের ‘নেপোলিয়ন’ খ্যাত ট্রেনার জিমি ম্যাকমেনেমি। ১৯৩৬ সাল।

Want your business to be the top-listed Gym/sports Facility in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Dhaka