🔴🔴 এই শিক্ষার্থীর বক্তব্য বিষয়ে আপনার মূল্যবান মতামত জানান!
Hobeki?
ক্লান্ত সুবোধ, শান্তির খোঁজে আজও ছুটে বেড়ায়...
22/09/2024
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কিয়ৎকাল পর জানিলাম, সহপাঠী বনি ইয়ামিন ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্য।
মনের ভিতর দুর্ভাবনা জাগিল। বনি ইয়ামিন সদালাপী, না চাহিতেই আসিয়া নোটপত্র ধরাইয়া দেয়, বিপদে আপদে লোমশ বুক পাতিয়া ঝাঁপাইয়া পড়ে, জ্যেষ্ঠ খালু দুর্ঘটনায় আহত হইয়া হাসপাতালে যাইবার পর বনি ইয়ামিন ও তাহার কতিপয় ঈষৎ শ্মশ্রুমণ্ডিত বন্ধু আসিয়া রক্তদানের ভার স্কন্ধে লইয়াছিল। তাহার সহিত কোথাও গমন করিলে রিকশা অথবা সিএনজি ভাড়া সে প্রদান করে, খাইতে বসিলে বিল চুকাইতে সে অস্থির হইয়া পড়ে।
অথচ নিন্দুকেরা বলে ইসলামী ছাত্র শিবির ইসলামী ছাত্র সংঘের উত্তরসূরী। তাহারা ঊনিশশো একাত্তর সালে বাংলায় আল-বদর বাহিনী গঠন করিয়া হত্যা লুণ্ঠন ধর্ষণ অগ্নিসংযোগ সকলই করিয়াছিল।
বনি ইয়ামিনকে এ প্রশ্ন একদিন ঠুকিয়া বসিলাম। বলিলাম, এত যে আমাকে জুম্মার নামাজ পড়িতে আহ্বান কর, রমজানের মিলাদে ইফতার ভোজন করিতে ডাক, আল্লামা মওদুদীর পুস্তকাদি পড়িতে চাপাচাপি কর, শিবির কি আল-বদরের সন্তান নহে?
বনি ইয়ামিন আপত্তি জানাইয়া কহিল, শিবির আল-বদরের বৈধ অবৈধ কোন প্রকারের সন্তান নহে। শিবির শিবিরই। যেমন নারিকেলকে ডাবের সন্তান বলা অনুচিত।
আমি আমতা আমতা করিতেছিলাম, বনি ইয়ামিন কহিল, ইসলামী ছাত্র সংঘের বড়জোর ১% লোক আল-বদরে গিয়াছিল। বাকি ৯৯% মুক্তিযুদ্ধ করিয়াছিল। শিবির ইসলামী ছাত্র সংঘের সেই অবশিষ্ট ৯৯% এর সন্তান।
যুক্তিটি আমার মনে ধরিল। বনি ইয়ামিনকে নিঃসংকোচে বন্ধু ডাকিয়া পেলব বুকে টানিয়া লইলাম।
দিন যায়। মাস যায়। বছর যায়।
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা আমায় নিন্দামন্দ করে। বলে, ইনজিনিয়ারিং পড়িতে গিয়া এ কী দশা করিলি। তোর স্বীয় ইনজিনখানিতে সমস্যা দেখা দিয়াছে। উপরন্তু চলাফিরা করিতেছিস একটি শিবিরের সঙ্গে।
আমি বনি ইয়ামিনের সঙ্গে ওঠবোস করিয়া অনেক যুক্তি শিখিয়াছি। বলিলাম, দেখ, গোটা বাংলাদেশেই জামাত শিবির আছে। আমার বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বাহিরে নয়। বাংলাদেশে যদি ১% লোক জামাত শিবির হয়, আমার বিশ্ববিদ্যালয়েও ১% জামাত শিবির থাকা পরিসংখ্যানগতভাবে সঠিক।
বন্ধুগণ পরিসংখ্যানে পরিপক্ক নহে বলিয়া চুপ মারিয়া গেল।
আরও দিন যায়। মাস যায়।
এক ইঁচড়ে পাকা বন্ধু ইত্যবসরে কয়েক পাতা পরিসংখ্যান অধ্যয়ন করিয়া একদিন চায়ের আড্ডায় আসিয়া ফট করিয়া বলিয়া বসিল, বাছিয়া বাছিয়া ঐ ১% জামাত শিবিরের সদস্যের সঙ্গেই তোমার দোস্তি হইল কীরূপে?
আমি বনি ইয়ামিনের সঙ্গে ওঠবোস করিয়া ইতিমধ্যে আরো কিছু যুক্তি শিখিয়াছি। কহিলাম, দেখ বন্ধু, আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে জামাত শিবির সমর্থক অনেকে আছে বটে, কিন্তু তাহাদের সঙ্গে আমি কদাপি মিলামিশা করি না। তাহাদের মাত্র ১% এর সঙ্গেই আমার খাতির।
পরিসংখ্যানগর্বী বন্ধুটি থম মারিয়া চায়ের কাপে চুমুক মারিতে লাগিল।
আরও দিন যায়। মাস যায়।
একদিন বনি ইয়ামিন কহিল, আরে ইয়ার, আমাকে একটি কাজে সহায়তা কর। কিছু ভারি জিনিস বহন করিতে হইবে। আমি মটর সাইকেল চালনা করিব, তুমি জিনিসগুলি ভালমত যুত করিয়া পাকড়াইয়া ধরিয়া বসিয়া থাকিবে কেবল। কী, পারিবে না?
বনি ইয়ামিন আমাকে লেখাপড়ায় সহায়তা করে, কিছু ভাল টিউশনি সন্ধান করিয়া দিয়াছে, আমার জ্যেষ্ঠ খালুর শরীরে তাহার ও তাহার ঈষৎ শ্মশ্রুমণ্ডিত বন্ধুদিগের রক্ত বহমান, না করিতে বাধিল। বলিলাম, চল ইয়ার।
বনি ইয়ামিন তাহার মটর সাইকেলের পিছনে বসাইয়া লইয়া গেল জিগাতলার একটি ঘুপচি বাড়িতে। তাহার মতই স্বাস্থ্যবান সুদর্শন এক যুবক আসিয়া খবরের কাগজে বাঁধাই করা একটি বাণ্ডিল আমার হাতে তুলিয়া দিয়া সুমধুর হাস্যে কহিল, আসসালামু আলাইকুম ভাই।
আমি আরবী ভাষায় সহীহ মুসলিম তরিকায় বোলচাল শিখিয়া গিয়াছি, কহিলাম ওয়া ইয়াকুম। জাযাকাল্লাহু খাইরান।
যুবক হাস্যমুখে জবাবে কহিল, দুগদুগ আনতি উখতি।
বনি ইয়ামিন তাহার সহিত নিম্নস্বরে কিছু বাক্যালাপ সারিয়া আসিয়া পুনরায় মটর সাইকেল চাপিয়া আবুল মকসুদ হলে ফিরিয়া আসিল। সে আবুল মকসুদ হলের আবাসিক ছাত্র।
দোতলায় তাহার প্রান্তবর্তী ঘরে সেই বাণ্ডিলটি খাটের নিচে রাখিতে গিয়া তাহা বম্বাই চলচ্চিত্রের নায়িকার বসনের ন্যায় আলগা হইয়া পড়িল। আর অবগুণ্ঠিত চাপাতি ও রডগুলি বাহির হইয়া পড়িল।
আমি ভীত হইয়া বলিলাম, ইয়ার বনি ইয়ামিন, এইসব কী হইতেছে? চাপাতি রড লইয়া তুমি কী করিবে?
বনি ইয়ামিন আমাকে আলিঙ্গন করিয়া কহিল, ভীত হইও না বন্ধুবর। সামনে কুরবানি, মাংস কাটাকাটি করিব।
আমি কহিলাম, কুরবানি তুমি গাইবান্ধায় উদযাপন না করিয়া হলের কক্ষে চাপাতি আনিতেছ কেন?
বনি ইয়ামিন কহিল, গাইবান্ধায় এলাকার ভাইয়েরা আরও অনেক মালপত্র লইয়া যাইবে। তাহার ১% আমি নিজের কাছে আনিয়া রাখিয়াছি। সব ভার অন্যের উপর চাপাইলে চলিবে না, নিজেকেও কিছু বহন করিতে হইবে।
সপ্তাহ দুইয়েক পর একদিন সন্ধ্যায় বনি ইয়ামিন ক্যাম্পাসে আসিয়া আমাকে কহিল, ইয়ার, সমস্যা হইয়া গিয়াছে। পল্টনে মারপিট লাগিয়াছে। পুলিশ আমার সন্ধান করিতেছে। কিছু দিন তোমার বাসায় অবস্থান করিতে চাই।
বনি ইয়ামিন আমার বন্ধু, লেখাপড়া-টিউশনি-জ্যেষ্ঠ খালুর দিক দিয়া হিসাব করিলে নিকটাত্মীয়ের ন্যায়, তাহাকে লইয়া চলিলাম বাড়িতে।
আমার মাতা বনি ইয়ামিনকে দেখিয়া অস্বস্তিভরে আমাকে ফিসফিস করিয়া কহিলেন, এ কেন আমাদের বাসায় থাকিতে চায়?
আমি জ্যেষ্ঠ খালুর হিমগ্লবিনের কথা স্মরণ করাইয়া দিয়া গম্ভীরচিত্তে কহিলাম, মা, আমার সব বন্ধুরা তো রাত্রিকালে আমার ঘরে থাকিতে চাহে না। মাত্র ১% থাকিতে বাঞ্ছা করিলে তুমি ফিরাইয়া দিবে? তাছাড়া জ্যেষ্ঠ খালুর শরীরে বনি ইয়ামিন ও তাহার ঈষৎ শ্মশ্রুমণ্ডিত বন্ধুদিগের রক্ত বহিতেছে, অন্তত ১% তো হইবেই। আর সে তো সারা বছর থাকিবে না। তিন সাড়ে তিন দিন কাটাইয়া চলিয়া যাইবে যেদিকে দুই চক্ষু যায়। বছরের মাত্র ১% সময় সে বন্ধুর বাড়িতে থাকিলে কী এমন ক্ষতি? আর সারা বাড়িময় তো সে বাস করিবে না। বড়জোর বারো চোদ্দ বর্গফুট জায়গা লইয়া চুপচাপ শুইয়া থাকিবে। গোটা বাড়ির মাত্র ১% স্থান তাহাকে ছাড়িয়া দিলে অনিষ্ট কোথায়?
আমার লেকচাড় শ্রবণ করিয়া আমার জননী ক্ষান্ত হইলেন। রাতে মুরগি রান্না করিলেন বনি ইয়ামিনের জন্য।
বনি ইয়ামিন গভীর রাত্রিতে মোবাইল ফোনে নিম্নস্বরে গুজগুজ করিয়া আমার বিছানায় আমার সঙ্গে শুইয়া ঘুমাইয়া পড়িল।
বিপত্তি বাঁধিল দ্বিতীয় রাত্রিতে। সারা দিনে এক হাজার চার শত চল্লিশ মিনিট। তাহার ৯৯% নির্বিবাদে কাটিয়া যাইতেছিল, মিনিট পনেরর জন্য একটা সমস্যা দেখা দিল।
বনি ইয়ামিন আমায় বহুবার বলিয়াছে, জিহাদে নামিলে মাঝেমধ্যে নফস জাগ্রত হয়। নামাজকালাম পড়িয়া তাহা নিবৃত্ত করা দস্তুর, কিন্তু নামাজকালামে কাজ না দিলে যাহা করিলে কাজ দেয় তাহা করিয়া ফেলাই গুরুজনের হিতোপদেশে আছে।
আমি তাই বাধা না দিয়া উপভোগের চেষ্টা করিতেছিলাম। কিন্তু বনি ইয়ামিনের নফস অপেক্ষাকৃত শোরগোলপ্রবণ বলিয়া আমার পরিবারের গুরুজনেরা জাগিয়া উঠিয়া দরজায় করাঘাত করিতে লাগিলেন।
আর যেখানে ব্যাঘ্র লইয়া ভীতি, সেইখানেই ঘনায় সন্ধ্যারাতি। ছিটকিনিটি সেদিন আর উত্তমরূপে আবিষ্ট করা হয় নাই। তাই তাহাদের উপর্যুপরি করাঘাতে দরজা খুলিয়া গেল। বাতি জ্বলিয়া উঠিল।
পিতা ও মাতা আঁতকাইয়া উঠিলেন। আমি থতমত খাইয়া পড়িয়া রহিলাম। বনি ইয়ামিন হাঁপাইতে হাঁপাইতে কহিল, আসসালামু আলাইকুম।
পিতা গর্জন করিতে লাগিলেন। মাতা ক্রন্দন করিতে লাগিলেন। ছোট ভাই বোন আসিয়া বেআদবের ন্যায় হাহা হিহি করিতে লাগিল।
পিতা চিৎকার করিয়া কহিলেন, এই ছেলের লিঙ্গ তোমার পায়ুপথে কেন?
আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া কহিলাম, আব্বা, পায়ুপথকে এত গুরুত্ব দেওয়ার কী আছে? সমগ্র শরীর বিবেচনায় নিলে পায়ুপথের তাৎপর্য কতটুকু? আয়তন বিচারে সে সমগ্র শরীরের আর কতটুকু? বড়জোর ১%?
মুখফোড় এর ব্লগ
19/09/2024
আহারে জীবন। আহা জীবন।
কে।পাগল? তোফাজ্জল নাকি তোমরা?
সুবোধ...তোর রক্ষা নেই।
যে ইতিহাস আমাদের কখনোই জানতে দেয়া হয় নি 👇
২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলাঃ ২০০৪ সালের ২১শে অগাস্ট ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সমাবেশ চলার সময় গ্রেনেড হামলা হয়। সেই হামলায় শেখ হাসিনা এবং শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও ২৪ জন নিহত হয়েছিলেন, আহত হয়েছিলেন চারশোর বেশি নেতা-কর্মী। ১০ই অক্টোবর ২০১৮ এই মামলার রায়ে লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদাণ করা হয়।
রমনা বটমূলে বোমা হামলাঃ ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে বোমা হামলা হয়। ওই ঘটনায় ১০ জন নিহত ও কয়েকজন আহত হন। বোমা হামলার ঘটনায় হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজি-বি) অন্যতম শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জঙ্গিকে আসামি করে রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করে পুলিশ।
খাম্বা কান্ডঃ বিএনপি আমল জুড়েই বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল দেশ। শুধু বিদ্যুৎ সেক্টর থেকেই তারেক বিশ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছিল। বিদ্যুতের নতুন সঞ্চালন লাইন স্থাপনের ইস্যু বানিয়ে, শুধুমাত্র বিদ্যুতের খাম্বা পুঁতে এই টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল দুর্নীতির বরপুত্র তারেক রহমান। এই দুর্নীতির পরিপ্রেক্ষিতে তারেককে ‘খাম্বা তারেক’ হিসেবে ব্যঙ্গ করে থাকেন অনেকে।
কানসাট কান্ডঃ ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষের দিকে বিদ্যুৎ না পেয়ে কানসাট এলাকার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। ২০০৬ সালের ৪ জানুয়ারি বিদ্যুতের দাবীতে বিক্ষোভের জন্য হাজার হাজার কৃষক-জনতা জমায়েত হয় কানসাটে। পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির কর্মসূচি ছিল বিক্ষোভ মিছিল করে ঘেরাও করা হবে কানসাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। আর এ কর্মসূচিকে ঘিরে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস চত্বরে মোতায়েন করা হয় শত শত পুলিশ ও বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদস্য। বিক্ষুব্ধ কৃষকদের মিছিল সমিতির দিকে এলে সংঘর্ষ বাধে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের। একপর্যায়ে পুলিশ বৃষ্টির মতো গুলি করে বিক্ষোভকারীদের। পাঁচ মাসব্যাপী পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান ১৭ জন। আহত হন অন্তত ৬০০ মানুষ।
অপারেশন ক্লিনহার্টঃ বিএনপি শাসনামলে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে 'অপারেশন ক্লিনহার্ট' শুরু হয় ২০০৩ সালের অক্টোবর মাসে। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা হয় বহু বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের। গলা টিপে ধরা হয় বিরোধী মতাদর্শের সাংবাদিক, সমাজকর্মী থেকে সকল স্তরের পেশাজীবিদের।
র্যাব ও ক্রসফায়ার নাটকঃ মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকারের’ তথ্য অনুযায়ী, র্যাবের উত্থান থেকে বিএনপির ক্ষমতার মেয়াদ ২০০৬ সালে শেষ হওয়া পর্যন্ত র্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে ৩৮০জন নিহত হয়েছে। সন্ত্রাস দমনের পাশাপাশি এই অভিযান বিরোধী দল দমনেও সমান ভূমিকা রাখে। ‘ক্রসফায়ার’ ছাড়াও বিএনপির তোষণে হঠাত দানব হয়ে ওঠা র্যাবের বিরুদ্ধে ঘুষ, চাঁদা নেয়া, ডাকাতি কিংবা জমি দখল করার মতো নানা অভিযোগও রয়েছে।
সিরিজ বোমা হামলাঃ ২০০৫ সালের আগেও জঙ্গিরা দেশে নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে তাদের উপস্থিতি জানান দেয় কিন্তু সেসব হালকাভাবে নেয় বিএনপি সরকার। ১৭ই অগাস্ট যখন ৬৩ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ হলো, তখন জঙ্গিরা ছিল খুবই সুসংগঠিত। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬৩টি জেলায় হামলা করার মতো তাদের সাংগঠনিক কাঠামো, সক্ষমতা, গোপনীয়তা রক্ষায় তৎকালীন সরকার এর ভূমিকা বা নিষ্ক্রিয়তা ছিলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
বাংলা ভাই স্ক্যান্ডালঃ সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই ছিলো একটি উগ্রপন্থী সংগঠনের নেতা, এবং বোমা হামলা, হত্যা সহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত। ৬ মার্চ ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে পুলিশ ও র্যাব এর সম্মিলিত অভিযানে তিনি গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে বোমা হামলার অপরাধে তাকে তার সহযোগীদের সহ মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। বিএনপি সরকারের সময় সংসদে যখন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলা হয়েছিল, তখন বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া, বিএনপি সরকারের মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী বলেছিলেন, ‘বাংলা ভাই’ বলে কিছু নাই, এটা মিডিয়ার সৃষ্টি।
নাইকো দুর্নীতি মামলাঃ কানাডার কোম্পানী নাইকোকে অনৈতিকভাবে সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে বিপুল অংকের টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন তারেক। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে ‘তুলে দেওয়ার’ অভিযোগে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিলো। রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করে দুদক।
জজ মিয়া নাটকঃ ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্যে তার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়। তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় প্রথম থেকেই। প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় শৈবাল সাহা পার্থ নামের এক তরুণকে। কদিন পর মগবাজার এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের নেতা মোখলেছুর রহমানকে। তাঁদের ফাঁসাতে না পেরে পরের বছর ২০০৫ সালের ৯ জুন নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে ধরে আনা হয় জজ মিয়া নামের এক যুবককে। ১৭ দিন রিমান্ডে রেখে, ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে একটি সাজানো জবানবন্দি আদায় করে সিআইডি। ২০০৫ সালের ২৬ জুন আদালতে দেওয়া ওই কথিত স্বীকারোক্তিতে জজ মিয়া বলেছিলেন, তিনি আগে কখনো গ্রেনেড দেখেননি; গ্রেনেড ও বোমার মধ্যে পার্থক্য তিনি জানেন না। পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে বড় ভাইদের নির্দেশে তিনি অন্যদের সঙ্গে গ্রেনেড হামলায় অংশ নেন। ওই বড় ভাইয়েরা হচ্ছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন, জয়, মোল্লা মাসুদ, মুকুল প্রমুখ। এই জবানবন্দির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ২৯ জুন প্রথম আলোয় দুটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। একটির শিরোনাম ছিল ‘এই গল্পের গাঁথুনি দুর্বল/ স্বীকারোক্তিতে সাত অসংগতি’। অপরটির শিরোনাম ‘সেই জজ মিয়া তারকা সন্ত্রাসী’।
১০ ট্রাক অস্ত্র মামলাঃ ২০০৪ সালের ১লা এপ্রিল তারিখে মধ্যরাতে চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা বা সিইউএফএল জেটিঘাটে খালাসের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিপুল পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্র আটক করে যা পরিবহনের জন্য ১০টি ট্রাক প্রয়োজন হয়েছিল। এই অস্ত্রশস্ত্রের চোরাচালান জাহাজের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর দিয়ে এনে কর্ণফুলী নদীতে আনা হয়েছিল। সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ ও সরকারী গোয়েন্দাগণ এই চোরাচালানের বিষয়ে অবহিত বা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। ২০০৫ সালের ৬ জুলাই এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। ২০১৪ সালের ১৪ ফ্রেব্রুয়ারী তারিখে আদালত এ মামলার রায় প্রকাশ করে। আদালত সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদান করে।
আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যাকান্ডঃ ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ ও জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি পদে আসীন থাকাকালীন সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নিহত হয়েছিলেন আহসানউল্লাহ মাস্টার।
দুর্নীতিতে টানা ৫ বার চ্যাম্পিয়নঃ টিআই’র প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল টানা পাঁচ বছর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল । এর মধ্যে ২০০১ সাল ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বছর। অপর দিকে ২০০২ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ছিল বিএনপির শাষণামল। ২০০৬ সাল থেকে এই সূচক বাড়তে শুরু করে। বার্লিনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) বিশ্বজুড়ে দুর্নীতির ধারণা সূচক বা সিপিআই-২০১৫ (করাপশন পারসেপশনস ইনডেক্স) প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বসুন্ধরা গ্রূপের প্রোকৌশলী সাব্বির হত্যাঃ তারেকের পরোক্ষ মদদে ২০০৬ সালের ৪ জুলাই বসুন্ধরা গ্রুপের প্রকৌশলী সাব্বির খুন করা হয়। পরবর্তীতে সাব্বির হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামীদের বাঁচাতে এবং এই হত্যা মামলা ধামাচাপা দিতে ২১ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছিলো তারেক ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাবর।
হাওয়া ভবনঃ ২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রের এমন কোন খাত ছিল না যেখানে তারেক রহমান হস্তক্ষেপ করেননি। হাওয়া ভবন কেন্দ্রিক ছায়া সরকার ছিল রাষ্ট্রের পাওয়ার হাউস আর এখান থেকে সবকিছুর বিকিকিনি চলেছে টাকার হিসাবে। স্ত্রী, কন্যা, শাশুড়ি এবং বন্ধুদের নামে সম্পদের পাহাড় গড়ার পর অবৈধ উপায়ে অর্জিত হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের তথ্য আড়াল করে শুরু হয় অর্থপাচার ও বিদেশে সম্পদ ক্রয়ের পালা।
সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারঃ জিয়া পরিবার অর্থ পাচার ও পাচারকৃত অর্থ বিনিয়োগের জন্য সিঙ্গাপুরে দুটি কনসোর্টিয়াম গঠন করেছিল। একটি থাইল্যান্ড কেন্দ্রিক তারেক রহমানের মালিকানাধীন কনসোর্টিয়াম যার অন্যতম সদস্য ছিল থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা। এ পরিবারের অপর কনসোর্টিয়ামের নাম তঅঝত (জাফিয়া, আরাফাত, শর্মিলা, জাহিয়ার নামানুসারে) কনসোর্টিয়াম। আরাফাত রহমান কোকোর মালিকানাধীন এ কনসোর্টিয়াম ২৪টি কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল, যার একটি দাউদ ইব্রাহিমের ডি কোম্পানি। যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং পর্যবেক্ষক সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে মার্কিন প্রশাসন। এফবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে যে, তারেক ও মামুন তাদের সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংক এ্যাকাউন্টে নির্মাণ কন্সট্রাকশন লিমিটেডের পরিচালক এবং চীনের হারবিন ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশনের এ দেশীয় এজেন্ট খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে সাড়ে ৭ লাখ মার্কিন ডলার ঘুষ নিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের মাধ্যমে তারেক রহমানের ১২ কোটি টাকা দেশে ফেরত আনা সক্ষম হয়েছিল। সিঙ্গাপুরের সিটিএনএ ব্যাংকে পাচারকৃত ২১ কোটি টাকার মধ্যে ৮ কোটি টাকা দেশে ফেরত আনা হয়। একইভাবে লন্ডনের ব্যাংকে প্রায় ছয় কোটি টাকা জব্দ করা হয়েছে। ২০০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতা হারানোর পর জানা যায় বেলজিয়ামে তারেকের সম্পত্তির পরিমাণ ৭৫০ মিলিয়ন ডলার, মালয়েশিয়ায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার এবং দুবাইতে রয়েছে কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বাড়ি (বাড়ির ঠিকানা : স্প্রিং ১৪, ভিলা : ১২, এমিরেটস হিলস, দুবাই)। সৌদি আরবে মার্কেটসহ অন্যান্য সম্পত্তির কিছু বিবরণ পাওয়া যায় প্যারাডাইস পেপারসে। প্যারাডাইস পেপারের সূত্রে জানা যায়, তারেক জিয়া ২০০৪ এবং ২০০৫ সালে কেইম্যান আইসল্যান্ড এবং বারমুডায় ২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেন। প্যারাডাইস পেপার কেলেঙ্কারিতে তারেক রহমান ছাড়াও তার স্ত্রী জোবায়দা রহমান, বেগম জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, তার স্ত্রী এবং বেগম জিয়ার প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানের নাম উঠে এসেছে।
কৃষক আন্দোলন হত্যাকান্ডঃ ১৯৯৫ সালের মে মাসে সার, জ্বালানি তেল, কীটনাশক এবং কৃষি পণ্যের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলনরত কৃষকদের উপর গুলি চালায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আজ্ঞাবহ পুলিশ বাহিনী। সারের জন্য আন্দোলনে সে বছর এক মাসে সারাদেশে প্রাণ হারায় ১২ জন।
12/09/2024
02/09/2024
🟥আমিতো ভেবেছিলাম এয়ারপোর্টে বুঝি দুই একটা বুথ খুলে নোকিয়া মোবাইল ফোন রেখে দেয়া হয়েছে প্রবাসীদের ফ্রি টেলিফোন দেয়ার জন্য। এ তো দেখি বিশাল আয়োজন।🟥
এইসব এসএস স্টিলের বুথ বসিয়ে এইরকম ফোন সেটাপ করা ২০ দিনেই হয়ে গেল! এইসব ফোন কি বসুন্ধরা সিটিতেই পাওয়া যায়? দেখলে তো মনে হয় আমদানি করা- যাতে মিনিমাম দুই তিন মাস সময় লাগার কথা!
ড. মুহাম্মদ ইউনুস তো রীতিমতো যাদু দেখাচ্ছেন! 🥳
31/08/2024
পৃথিবীতে অনেক খারাপ মানুষ আছে কিন্তু খারাপ বাবা একটাও নেই! 🤣
বিস্তারিত প্রথম কমেন্টে! 👇
31/08/2024
সম্প্রতি ভ্যানে নিথর দেহের স্তূপের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ে নিহত কয়েকজন ব্যক্তির। যাদের নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তবে ভিডিওটি ভাইরাল হবার পর ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। পরে ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার জানায়, ভ্যানে নিথর দেহের স্তূপের ঘটনাটি আশুলিয়া থানা সংলগ্ন এলাকার। শুক্রবার (৩০ আগস্ট) রাতে প্রতিষ্ঠানটি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ভ্যানে কয়েকটি মরদেহ স্তূপ করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আরেকটি মরদেহ ভ্যানে তুলে দিচ্ছে পুলিশ। পরে একটি পোস্টার দিয়ে মরদেহগুলো ঢেকে ফেলা হয়। এ সময় আরও কয়েকজন পুলিশকে আশপাশে হাঁটাহাঁটি করতেও দেখা যায়।
রিউমর স্ক্যানার জানায়, নিথর দেহের স্তূপের বহুল আলোচিত ভিডিওটি আশুলিয়া থানা সংলগ্ন এলাকার ঘটনা। ৫ আগস্ট বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। এছাড়া ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকেন এমন দুইজন দাবি করেন, ভিডিওর দেয়ালে যার পোস্টার দেখা যায় তিনি আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী আবুল হোসেন ভূঁইয়া। জানা গেছে, দেয়ালের এই পোস্টার এখন আর নেই। ৫ অগাস্টের পরপরই সব দেয়ালে নতুন রং করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোটাপ্রথা সংস্কারের দাবিতে গত জুলাই থেকে আন্দোলন করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় গত ১৫ জুলাই রাজধানী ঢাকাসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালায় ছাত্রলীগ। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমাতে গুলি চালায় পুলিশ।
পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা কর্মসূচি ঘিরে গত ৪ আগস্ট ঢাকাসহ সারাদেশে সরকার সমর্থিত নেতাকর্মী ও পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েক শতাধিক নিহতের খবর পাওয়া যায়। এ অবস্থায় গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগ করে ভারত চলে যান। এর পর আওয়ামী লীগ এবং দলটির বিভিন্ন সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও দেশত্যাগে উঠেপড়ে লাগেন।
পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি বাড়ায়। কোনো ধরনের অপরাধী যেন দেশ থেকে পালাতে না পারে সেজন্য কঠোর হয়। এমনকি দেশের বিভিন্ন জায়গায় হত্যা, নির্যাতন, অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় মামলা হতে থাকে। সেসব মামলায় আওয়ামী লীগ এবং দলটির সহযোগী অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মী, প্রশাসনসহ অনেককে আসামি করা হয়েছে। এমনকি ইতোমধ্যে কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী-এমপি গ্রেপ্তারও হয়েছেন সেসব মামলায়।
30/08/2024
অভিন্ন নদীতে ভারত কি যা ইচ্ছা করতে পারে?
কয়েক দিন ধরে দেশের পূর্ব পাহাড়ি অঞ্চলে সব কটি জেলাতেই বন্যা দেখা দিয়েছে। ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও পার্বত্য জেলাগুলোর অবস্থা ভয়াবহ। প্রচুর বৃষ্টির কারণে এ বন্যা। এ বন্যায় অধিকতর ক্ষতির দায় ভারত এড়াতে পারে না। গোমতী ও মুহুরী—দুটি নদীতে ড্যাম ও ব্যারাজ আছে। একে তো ভয়াবহ বৃষ্টি, তার ওপর অকস্মাৎ পানি ছেড়ে দেওয়ায় তা বাংলাদেশের জন্য প্রবল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানি ছেড়ে দেওয়ার আগে বাংলাদেশকে জানানো হয়নি।
ভারত অবশ্য এটা জানানোর প্রয়োজন মনে করে না। অভিন্ন নদীতে উজানের দেশ কোনো অবকাঠামো করলে ভাটির দেশের সঙ্গে আলোচনা করতে হয়। সেই অবকাঠামোর কারণে ভাটির দেশের ক্ষতি হলে সেই ক্ষতিপূরণও দিতে হয়। ভারত সরকার এর কোনোটিই করেনি। ভারত উজানের দেশ বলে যা ইচ্ছা করতে পারে না—জাতিসংঘের এটাই আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহ কনভেনশন। তা ছাড়া প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে এই আচরণ শিষ্টাচারবহির্ভূত।
বাংলাদেশ-ভারত আন্তসীমান্ত বা অভিন্ন নদীগুলো নিয়ে আলোচনা হয় না বললেই চলে। নদীর প্রশ্নে নতজানু বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি। কূটনৈতিক তৎপরতা নেই। বাংলাদেশকে ভারত যখন যা বোঝাতে চেয়েছে, আগের সব সরকার সেটাই মেনে নিয়ে আসছে।
ভারতের বাংলাদেশবিরোধী পানিনীতির বিরুদ্ধে একটি কথাও সরকারের কাউকে কখনো বলতে শুনিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টাকে বলতে শুনেছি। তবে আরও সুনির্দিষ্ট হওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ-ভারত আন্তসীমান্ত নদীর সংখ্যা কত, বাংলাদেশের কোনো দপ্তর জানে না। দেশজুড়ে সবাই জানেন ৫৪টি। এই ৫৪টি স্বীকৃত। স্বীকৃতি না পাওয়া নদীর সংখ্যা দুই শতাধিক হবে। আমার লেখা নদী সুরক্ষায় দায়িত্বশীলতা শীর্ষক বইয়ে তালিকার বাইরে থাকা ৬৯টি নদীর নাম উল্লেখ করেছি। ভারতের সঙ্গে আন্তসীমান্ত নদীগুলো নিয়ে আলোচনা করতে হলে প্রথমে আমাদের আন্তসীমান্ত নদীর সংখ্যা সম্পর্কে জানতে হবে।
উজানের দেশ হিসেবে ভারত নদীর প্রশ্নে যতগুলো কাজ করেছে, তার একটিও প্রমাণ করে না যে ভারত বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র। ক্ষেত্রবিশেষে বহুবার মনে হয়েছে, ভারত বাংলাদেশের সর্বনাশ চায়।
২০২১ সালের অক্টোবর মাসের একটি কথা উল্লেখ করতে চাই। বাংলাদেশ অংশে তখন বৃষ্টি ছিল না। এক রাতে পশ্চিমবঙ্গের গজলডোবায় তিস্তা ব্যারাজের সব কটি জলকপাট খুলে দেয় ভারত। এতে অসময়ে বাংলাদেশ অংশে অবর্ণনীয় ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতির জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ জানানো হয়নি। উজানে বৃষ্টি হলে সেই পানি ভাটিতে আসবে, এটা স্বাভাবিক হলেও যে পদ্ধতিতে পানি ছেড়ে দেওয়া হয়, এটি মানবিক নয়।
বাংলাদেশে তিস্তা সেচ প্রকল্প আছে নীলফামারীর ডালিয়ায়। ১ লাখ ১১ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হলেও ৯০ হাজার হেক্টর জমির চেয়ে বেশি চাষ করা সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালে ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছিল।
২০১৪ সালের আগে প্রতিবছর যে পানি আসত, সেই পানির কিছুটা তিস্তা নদীর প্রবাহ ঠিক রেখে বাকি পানিতে চাষাবাদ করা হতো। ২০১৪ সালে ভারত একতরফাভাবে সব পানি প্রত্যাহার করে। সে বছর সেচ প্রকল্পের আওতাভুক্ত কৃষকেরা যে আহাজারি করেছিলেন, সেই আহাজারি ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছায়নি; দিল্লি পর্যন্ত তো বহু দূরের কথা। ভারত ২০১৪ সালের পর থেকে প্রায় প্রতিবছরই শতভাগ পানি প্রত্যাহারের চেষ্টা করে যাচ্ছে।
উজানে ভারতে যে নদীগুলোয় বাঁধ দিয়ে পানি ধরে রাখা হয়, ভাটিতে এ নদীগুলোয় দুই রকম ক্ষতি হয়। অতিবৃষ্টি দেখা দিলেই তারা হঠাৎ সব গেট খুলে দেয়। এতে পানির প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, গাছ, পুকুর, নদীর ক্ষতি তীব্র হয়। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি না থাকলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যায়। তখন নদীর দুই তীরের মাটির উপরি অংশের গঠন স্বাভাবিক থাকে না। বর্ষায় যখন প্রবল বেগে পানি চলে আসে, তখন স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে ভাঙন অনেক বেশি হয়।
উজানের দেশ হিসেবে ভারত নদীর প্রশ্নে যতগুলো কাজ করেছে, তার একটিও প্রমাণ করে না যে ভারত বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র। ক্ষেত্রবিশেষে বহুবার মনে হয়েছে, ভারত বাংলাদেশের সর্বনাশ চায়।
তিস্তা নদীর পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার ছিল টেস্ট কেস। একটি নদীর পানি সবটুকু প্রত্যাহার করলে বাংলাদেশের কী প্রতিক্রিয়া হয়, সেটাই ভারত দেখতে চেয়েছিল। ভারতের এই কাজে বিগত সরকারের পক্ষে প্রতিবাদ জানানো হয়নি। ফলে তারা এখন প্রত্যাহার করার কাজ করছে ধরলার পানি। ধরলার পানি নিয়ে যাবে তিস্তায়। ধরলা থেকে তিস্তায় পানি যেতে মধ্যবর্তী যে কটি নদী আছে, সেগুলোর পানিও প্রত্যাহার করবে ভারত।
আইনগতভাবে প্রতিকার চাওয়ার জন্য যে কাজ বাংলাদেশের করা প্রয়োজন, সেটি এখনো করেনি। ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক একটি পানিপ্রবাহ কনভেনশন হয়। এ কনভেনশনে বলা হয়, ৩৫টি দেশ অনুসমর্থন করলে কনভেনশনটি কার্যকর হবে।
৩৪তম দেশ অনুসমর্থন করার পর দীর্ঘদিন কনভেনশনটি ঝুলে ছিল। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এই কনভেনশন বাংলাদেশের জন্য। কারণ, উজানের পানির ওপর এ দেশের ভবিষ্যৎ। তারপরও বাংলাদেশ আজ পর্যন্ত অনুসমর্থন করেনি। ২০১৪ সালে ৩৫তম দেশ হিসেবে ভিয়েতনাম অনুসমর্থন করার পর এটি কার্যকর হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক যে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে এতে অংশ নিতে পারেনি। অনুসমর্থন করে জাতিসংঘে এই কনভেনশনের আলোকে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ আছে।
দেশে একেকবার একেক নদীর জন্য একেক রকম ক্ষতি হতেই থাকবে আর বাংলাদেশ চেয়ে চেয়ে দেখবে, এমনটা হওয়া উচিত নয়। সে জন্য অভিন্ন দুই শ নদীর প্রতিটি ধরে অববাহিকা ও অধিকারভিত্তিক দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থাপনা জরুরি। ভারত সম্মত না হলে আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহ কনভেনশন অনুযায়ী জাতিসংঘে প্রতিকার চাইতে হবে।
লেখা: তুহিন ওয়াদুদ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং নদী রক্ষাবিষয়ক সংগঠন রিভারাইন পিপলের পরিচালক
Click here to claim your Sponsored Listing.