21/12/2025
আবেগের জবাব আগুন দিয়ে হয় না, দ্বীনের বিজয় হিকমাহ দিয়ে হয়।ইসলাম বিদ্বেষী মিডিয়ার বিরুদ্ধে আমাদের ক্ষোভ থাকাটা ঈমানের অংশ।। কিন্তু সেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে আমরা যা করছি, তা কি আদৌ ইসলাম সম্মত?
ইসলামি শরীয়াহর মূল উদ্দেশ্য বা ‘মাকাসিদ আশ-শরীয়াহ’র অন্যতম দুটি স্তম্ভ হলো, হিফজুন নাফস (জীবনের নিরাপত্তা) এবং হিফজুল মাল (সম্পদের নিরাপত্তা)।
কোনো পত্রিকা বা মিডিয়া হাউজে আগুন দেওয়া, ভাঙচুর করা সরাসরি ‘হিফজুল মাল’ এর লঙ্ঘন। আর এসব করতে গিয়ে যদি কোনো মানুষের ক্ষতি হয়, তবে তা ‘হিফজুন নাফস’ এর লঙ্ঘন। যা ইসলামের দৃষ্টিতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, আমাদের এই উগ্র আচরণগুলো ইসলামের শত্রুদের হাতেই নতুন অস্ত্র তুলে দিচ্ছে। তারা যা চাচ্ছে, আমরা আবেগের বশবর্তী হয়ে সেটাই করে দিচ্ছি। তারা আমাদের ‘উগ্র’ প্রমাণ করতে চায়, আর আমরা আগুন জ্বালিয়ে তাদের সেই প্রপাগান্ডাকেই সত্য প্রমাণ করছি।
কলমের জবাব কলম দিয়ে হোক, যুক্তির জবাব যুক্তি দিয়ে। নিজের ঘর পুড়িয়ে অন্যের বিচার করাটা বীরত্ব নয়, বোকামি।
আসুন, আবেগী না হয়ে কৌশলী হই। ইসলামকে ভালোবাসি, কিন্তু ইসলামের ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকি।
17/12/2025
বাচ্চারা কি আসলেই কথা শোনে না? নাকি আমরাই বোঝাতে ভুল করি?
ধরুন, আমরা বাচ্চাকে এক নিশ্বাসে বললাম "যাও, জুতোটা পরো, স্কুল ব্যাগটা নাও, তারপর পানির বোতল ভরে গেটে চলে এসো।" কিছুক্ষণ পর দেখা গেল, সে হয়তো শুধু জুতোটা পরে বসে আছে।
স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মনে হয়, বাচ্চাটা খুব অবাধ্য কিংবা অমনোযোগী। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। শিশুদের মনে রাখার ক্ষমতা বা 'ওয়ার্কিং মেমোরি' আমাদের মতো এত শার্প নয়। যখনই তাদের একসাথে অনেকগুলো কাজের কথা বলা হয়, তাদের ছোট্ট মস্তিষ্ক সেটা প্রসেস করতে পারে না। শেষের কথাগুলো তারা ভুলে যায়।
ইসলামের একটি মূলনীতি হলো, আল্লাহ কারো সাধ্যের বাইরে তার ওপর বোঝা চাপান না। শিশুদের ক্ষেত্রেও এই নীতিটি খুব জরুরি।
তাই আমাদের চিন্তা করা উচিৎ যে, বাচ্চাদের 'অবাধ্য' বলার আগে হয়তো আমাদের বলার ধরনটা বদলানো দরকার। একবারে সব না বলে, একটা একটা করে কাজের কথা বললে হয়তো দেখা যাবে, তাদের নিজেদের কাজগুলো সঠিকভাবে করতে পারছে!
আসলে প্যারেন্টিং মানে শুধু শাসন নয়, বাচ্চাদের ছোট্ট সীমাবদ্ধতাগুলো বোঝাটাও অনেক বড় দায়িত্ব।
—
Muhammad Nur E Alom
Student of Islamic Studies and Psychology
11/12/2025
একটু আগে সাইকোলজির ‘মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি’ বা Humanistic Perspective নিয়ে পড়ছিলাম। পড়তে গিয়ে হঠাৎ আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের কথা খুব মনে পড়ল।
সাইকোলজিতে আগে ধারণা ছিল, মানুষ হয়তো তার অবচেতন মন অথবা পরিবেশের দাস। কিন্তু মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি বা ‘Third Force’ এসে বলল—না, আমরা কেউ রোবট নই। মানুষের নিজস্ব ‘Free Will’ বা স্বাধীন ইচ্ছা আছে।
এই মতবাদের মূল কথা হলো ‘Self-actualization’ বা নিজের সর্বোচ্চ সম্ভাবনায় পৌঁছানো। সোজা কথায়, নিজের সেরা ভার্সনটা খুঁজে বের করা।
আমার মনে হয়, আমাদের দেশের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী যে পড়াশোনায় মন বসাতে পারে না, তার বড় কারণ এই জায়গাটাই। একজন মানুষ যতক্ষণ না তার ‘Self-actualization’ বা জীবনের আসল লক্ষ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাচ্ছে, ততক্ষণ সে যা-ই করুক—হোক সেটা পড়াশোনা, নতুন কোনো স্কিল শেখা কিংবা কোনো কাজ—কোনোটাতেই সে গভীর মনোযোগ দিতে পারবে না।
কাউকে জোর করে টেবিলে বসানো যায়, কিন্তু তার ভেতর থেকে আগ্রহ তৈরি করা যায় না। যখন কেউ বুঝতে পারবে যে, এই পড়ালেখা বা কাজটাই তাকে তার স্বপ্নের সেরা অবস্থানে নিয়ে যাবে, তখন তাকে আর কেউ জোর করতে হবে না। সে নিজের ইচ্ছাতেই নিজের সেরাটা দিয়ে কাজ করবে।
তাই শুধু জিপিএ বা ক্যারিয়ারের ইঁদুর দৌড় নয়, বরং নিজের ভেতরের ‘আমি’ কী হতে চায়—সেই উত্তরটা খোঁজা আগে জরুরি। একবার সেটা পরিষ্কার হলে, মনোযোগ এমনিতেই চলে আসবে, ইনশাআল্লাহ।
Muhammad Nur E Alom
Student of Islamic Studies and Psychology
Send a message to learn more
08/12/2025
কাজ শিখলে কাজের অভাব হয় না! 💼
আলহামদুলিল্লাহ! একটু আগেই Upwork-এ একজন ক্লায়েন্টের একটি ক্রিটিক্যাল Web Analytics প্রবলেম সলভ করে প্রজেক্ট ডেলিভারি দিলাম।
অনেকেই প্রশ্ন করেন— "ভাই, কাজ শিখব নাকি কাজ খুঁজব?" আমার উত্তর হলো— "আগে কাজ শিখুন, কাজ আপনাকে খুঁজবে।"
সেক্টর যাই হোক না কেন—ফ্রিল্যান্সিং, কৃষি, টেকনিক্যাল বা অন্য কিছু; আপনি যদি ধৈর্য ধরে নিজেকে দক্ষ (Skilled) হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন, তবে মহান আল্লাহ অবশ্যই আপনার উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। ইনশাআল্লাহ!
আমরা আপনাদের সুবিধার্থে ১২+ ভিন্ন ভিন্ন কাজের সেক্টরের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ তৈরি করেছি। আপনার আগ্রহের সেক্টরটি বেছে নিন এবং আজ থেকেই নিজেকে গড়ার কাজ শুরু করুন।