22/08/2026
ঠুনকো বিষয়ে যখন কেউ লিওনেল মেসিকে ট্র ল করে, তখন আমরা ইব্রাহিমোভিচের কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে সুইস কিংবদন্তির মন্তব্য।
অদ্ভুত একটা ব্যাপার দেখুন, লোকটার বাবা মা রা গেল সপ্তাহ দুয়েকও হলো না। পঞ্চম দিনে তিনি ইন্টার মায়ামির হয়ে লিগস কাপে খেলতে নেমে পড়েন। এরপর ন্যাশভিলের বিপক্ষে এমএলসএসে।
একটা ঘোর আর অশান্ত মন নিয়েই তিনি খেলেছেন। এরপর গত পরশু ফিলাডেলফির হয়ে খেললেন। আর এই ম্যাচে ছোট খাট একটা ঘটনা ঘটে। ফিলাডেলফিয়ার বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মিডফিল্ডার কাভান সুলিভানের সঙ্গে চোখ রাঙারাঙি হয়। তখন আমাদের অনেককেই ফেসবুকে লিখতে দেখলাম— ‘বাংলাদেশি ব্লা ড’ কাভানকে দিচ্ছিলেন বাহবা।
অথচ দেখুন, কাভানের মাত্রই ক্যারিয়ার শুরু। মেসির ক্যারিয়ার (প্রায় ২২ বছর) সমান বয়সও (১৬ বছর) তার হয়নি। এখনই উদীয়মান একটা ফুটবলারকে আমরা উস্কে দিচ্ছি।
আপনি কি মনে করেন, কাভান এসব দেখেননি? সোশ্যাল মিডিয়াতে তার বাংলাদেশি ফ্রেন্ড আছে, আছে আত্মীয়-স্বজন। যদিও কাভান শেষ পর্যন্ত মেসির সঙ্গে কোলাকুলির একটি স্টোরি শেয়ার করে বিষয়টার কবর দিয়েছেন।
তিনি শিষ্ঠাচারের পরিচয় দিয়েছেন, ‘বাংলাদেশি ব্লা ড’ এর অর্থ যে ভদ্রতা, সেটির পরিচয় দিয়েছেন। কারো ফাঁদে পা না দিয়ে বরং নম্রতা পর্দার সামনে এনেছেন।
এখন আসি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের প্রসঙ্গে। আচ্ছা বলেন তো, এই লোকটার চেয়ে বড় মেসি ভক্ত পৃথিবীতে দ্বিতীয় কেউ আছে?
যে কথা অন্যরা বলার সাহস রখে না, অনায়াস সে কথাগুলোই বলে যান ইব্রা। ফুটবল মাঠ কিংবা বাইর, সবসময়ই স্ট্রেট ফরোয়ার্ড এই বান্দা।
মেসিকে নিয়ে অনেক কথা হয়, বিশ্বকাপের পরেও হয়েছে, এখনও হয়, যেদিন বুট জোড়া উঠিয়ে রাখতেন তিনি, সেদিনও হবে। ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার, সর্বোচ্চ রেটিং এবং ড্রিবলিং করেছেন আর্জেন্টাইন ক্যাপ্টেন। ওয়ার্ল্ডকাপের অলটাইম স্কোরার, সর্বোচ্চ ম্যাচ উইনার এবং সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা একজন মানুষকে সুযোগ পেলেই শূ’ল্যে চড়ায় নি ন্দু ক রা। আর এ নিয়ে ভার্টিক্যাল পাসে প্রতিপক্ষের কোনঠাসা করে দিয়েছেন ইব্রা।
সম্প্রতি ইব্রা বলেছেন, ‘লোকেরা আমাকে জিজ্ঞেস করতেই থাকে, এই বিশ্বকাপে মেসি হঠাৎ করে কেন আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠল। আমি বলি, ব্যাপারটা সহজ। সে বিশ্বকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে সে কে।"
তিনি বলেন, ‘তারা আশা করেছিল ৩৯ বছর বয়সী একজন মানুষ এখানে একটি বিদায়ী সফরে আসবে। কিন্তু তার বদলে সে গোল করে, সুযোগ তৈরি করে, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে এবং ফুটবলকে অনায়াস করে তুলে হাজির হলো। প্রতিটি পারফরম্যান্স বিতর্ককে আরও দূরে ঠেলে দিয়েছে, কারণ সত্যকে উপেক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।’
ইব্রা আরও বলেন, ‘যে মুহূর্তে মানুষ, এমনকি কিছু রোনালদো ভক্তও স্বীকার করতে শুরু করল যে মেসিই সর্বশ্রেষ্ঠ, তখনই আ ত ঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। হঠাৎ করে, যে পাতাগুলো ফুটবল নিয়ে কখনও মাথা ঘামায়নি, তারাও 'কা র চু পি' হওয়া টুর্নামেন্ট নিয়ে কথা বলতে শুরু করল। কৌশল নিয়ে নয়, পারফরম্যান্স নিয়ে নয়, ফুটবল নিয়েও নয়। শুধু অ প প্র চা র। যখন আপনি মাঠে শ্রেষ্ঠত্বকে থামাতে পারেন না, তখন আপনি তাকে মাঠের বাইরে কবর দেওয়ার চেষ্টা করেন।’
সত্যিকারঅর্থে মেসির একমাত্র অ প রা ধ অতিরিক্ত ভালো খেলা। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের ল জ্জি ত করছেন, যা তার সমমনাদের সহ্য হচ্ছে না।
নি ন্দু ক রা এখন ফুটবল উদযাপন করার পরিবর্তে মেসিকে হেয় করার অজুহাত খুঁজছে। তার এক্রোবেটিক গোল, কিংবা ভুবনজয়ী কোনো পাসের চেয়ে ভুল ধরাতেই ব্যস্ত। পান থেকে চুন খসলেই তার বিরুদ্ধে বিষেদাগারে নামছে। হয়তো এটা চলবো, যেদিন তিনি ফুটবলটা ছেড়ে দেবেন, সেদিনও। কারণ এরাই তার বাবার মৃ ত্যু নিয়েও ট্র ল করেছেন।
আরিফুর রহমান
সাংবাদিক (টি-স্পোর্টস)