05/02/2026
ফাঁকিবাজ দৌড়বিদদের কম কষ্টে আলট্রা রানে সফল হওয়ার চিকন বুদ্ধি! 🙂
🔴নূরুল হুদা🔴
————
এই টাইটেলটা দেওয়ার কারণ একটাই—সবার মনোযোগ আকর্ষণ করা।
আমার লেখাটা আসলে আমি যেভাবে চিন্তা করে আলট্রা শুরু করি এবং কীভাবে একটা ভালো টাইমিং নিয়ে শেষ করার চেষ্টা করি, সেটারই বর্ণনা। এটা আপনাকে ফলো করতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। দেশে অনেক বড় মানের ট্রেইনার আছেন, তাদের ছোঁবটে ট্রেনিং করলে আরও দারুণ ফলাফল আসতে পারে।
এই লেখাটি শুধুমাত্র আমার মতো “ফাঁকিবাজদের” জন্য—যারা সহজে আলট্রা শেষ করতে চায়।
এবার আসি মূল লেখায়। আমি এই সিস্টেমের নাম দিয়েছি “সিন্দুক থিউরি”, বিষয়টা মনে রাখার সুবিধার জন্য। লেখাটি মোট ৮টি ছোট টপিকের উপর ভিত্তি করে লেখা।
কিছু টপিক বাদ যাচ্ছে, লেখা বড় হয়ে যাবে বলে। ইনশাআল্লাহ, সেগুলো নিয়ে পরে কখনো লিখবো।
⸻
👉 ১/ কয়েক কিলোমিটার বা কিছু পথ বেশি ধরে হিসেব শুরু করাঃ-
প্রথমে আমরা যখন প্ল্যান করি, তখন সাধারণত প্ল্যানের সঙ্গে কয়েক কিলোমিটার বেশি ধরে হিসেব করলে DNF হওয়া এড়ানো যায় এবং ভালো টাইমিংও আসে—যদি রানিং প্ল্যান ঠিক থাকে।
প্রথম টপিকটাই কি একটু উল্টোপাল্টা মনে হচ্ছে? উল্টোপাল্টা মনে হলেও এটাই করা উচিত।
কারণ মানুষের পা সব সময় সোজা চলে না—এদিক-সেদিক যেতেই হয়। এছাড়া হাইড্রেশন, আলট্রা রানে ওয়াশরুম যাওয়া-আসা সহ আরও কিছু কারণে পথ বেড়ে যায়।
অতি সম্প্রতি দেশে অনুষ্ঠিত একটি আলট্রা রানে অনেকের DNF হওয়ার কারণ ছিল ঠিক এই বিষয়টি। তারা কাটায়-কাটায় দূরত্ব হিসেব করে নেমেছিল। ইভেন্টের ডিসটেন্স আর ঘড়ির ডিসটেন্স না মেলার কারণে অনেকের ঘড়িতে দূরত্ব কাভার হলেও টাইমিং চিপে কম দেখিয়েছে। ফলাফল—DNF।
তাই আমরা যদি শুরুতেই একটু বেশি পথ ধরে হিসেব করি, তাহলে বিপদমুক্তভাবে রান শেষ করা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।
ধরুন, ৫০ কিলোমিটার ইভেন্টে আমরা হিসেব করবো ৫২ কিলোমিটার ধরে।
৫০ কিলোমিটারের কাট-অফ টাইম ৯ ঘণ্টা বা ৫৪০ মিনিট হলে—
৫৪০ ÷ ৫২ = ১০.৩৮ মিনিট, অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটার ১০ মিনিট ২৩ সেকেন্ড বরাদ্দ।
⸻
👉 ২/ সঞ্চয় বা সিন্দুক থিউরিঃ-
আমরা ইতিমধ্যেই প্রতি কিলোমিটারের বরাদ্দ টাইম হিসেব করে নিয়েছি—১০ মিনিট ২৩ সেকেন্ড।
এখন প্রথম ২০–২২ কিলোমিটারের মধ্যে চেষ্টা করবো প্রায় ১ ঘণ্টা টাইম সেভ করার। যদি এটা করা যায়, তাহলে পরের পথটা মানসিকভাবে অনেক সহজ হয়ে যায় এবং কনফিডেন্স বাড়ে।
৫০ কিলোমিটারে ৯ ঘণ্টা বরাদ্দ থাকলে, ২৫ কিলোমিটারের জন্য ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
যদি প্রথম ২৫ কিলোমিটার ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে শেষ করা যায়, তাহলে বাকি ২৫ কিলোমিটার অনেক সহজ হয়ে যায়।
কারণ প্রথম অর্ধেকে ১ ঘণ্টা সেভ হয়েছে।
মানে—পরের ২৫ কিলোমিটার বরাদ্দ করা ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে শেষ করলেও আপনি ১ ঘণ্টা আগে ফিনিশ লাইনে পৌঁছাবেন।
এখন দ্বিতীয় ২৫ কিলোমিটারে প্রতি কিলোমিটারের বরাদ্দ থাকবে সেই ১০ মিনিট ২৩ সেকেন্ড। এখানে চেষ্টা থাকবে—কোনো কিলোমিটারেই এর বেশি সময় না নেওয়া।
প্রথম ২৫ কিলোমিটারে যে ১ ঘণ্টা বাঁচানো হলো, সেটাকে ফিক্সড ডিপোজিটের মতো সিন্দুকে তুলে রাখুন।
২৬–২৭–২৮ কিলোমিটার থেকে প্রতিটা কিলোমিটারেই কয়েক সেকেন্ড করে সিন্দুকে জমা করতে থাকুন।
সব কিলোমিটারে জমা করা সম্ভব নাও হতে পারে। তখন কী করবেন?
ধরুন, ২৬ নম্বর কিলোমিটারে স্ট্রেচিং ও হাইড্রেশন মিলিয়ে ১৩ মিনিট লেগে গেছে—বরাদ্দের চেয়ে ৩ মিনিট বেশি।
তখন ২৬–৩০ কিলোমিটারের মোট বরাদ্দ টাইম (৫ × ১০:২৩ ≈ ৫২ মিনিট) ধরে হিসেব করবেন। এখান থেকে ১–২ মিনিট সেভ করার প্ল্যান করবেন এবং সেগুলো আগের মতোই সিন্দুকে জমা করবেন।
⸻
👉 ৩/ ভালো টাইমিং কিভাবে হবেঃ-
ভালো টাইমিংয়ে আলট্রা শেষ করার জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো হাঁটার গতি বাড়ানো।
আলট্রা রানে শেষের দিকে দৌড়ানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে—বিশেষ করে আমাদের মতো শৌখিন রানারদের জন্য হাঁটা বাধ্যতামূলক।
হাঁটার গতি বাড়াতে হলে সাধনা দরকার। আমি মাঝে মাঝেই ১ মিনিটে কত স্টেপ ফেলতে পারি তা গুনে হাঁটি। কয়েকদিন প্র্যাকটিস করলেই হাঁটার গতি অনেক বেড়ে যায়।
ফলাফল—প্রতি কিলোমিটার ৯ মিনিট বা তার কাছাকাছি গতিতে ধারাবাহিকভাবে হাঁটা সম্ভব হয়।
⸻
👉 ৪/ মুভিং টাইম বাড়ানো, রেস্ট কমানোঃ-
যত বেশি মুভিং টাইম বাড়ানো যাবে, সফলতার সম্ভাবনা তত বাড়বে।
মুভিং টাইম বাড়ানোর একমাত্র উপায়—রেস্টিং টাইম কমানো।
পুরো রেসজুড়ে এই বিষয়টায় খেয়াল রাখতে হবে।
⸻
👉 ৫/ রাস্তার এপাশ-ওপাশ কম করাঃ-
অনেক দৌড়বিদ অজান্তেই রাস্তার এপাশ-ওপাশ করে অতিরিক্ত দূরত্ব যোগ করে ফেলে।
সোজা রাস্তার ক্ষেত্রে এক পাশ ধরে টানা দৌড়ানো উচিত।
আর বৃত্তাকার ট্র্যাক হলে—ভেতরের দিক ধরে দৌড়াতে হবে।
যেমন হাতিরঝিল স্টেডিয়াম রানের মত ট্রাকে ভিতরের দিক ধরে দৌড়ানো—হাতিরঝিলে ঝিলের পানির যত কাছে থাকবেন, পথ তত কম হবে।
⸻
👉 ৬/ দৌড়ে টাইম বাঁচাই, হেঁটে নষ্ট করিঃ-
অনেকে দৌড়ে খুব দ্রুত যায়, কিন্তু হাঁটার সময় টাইম নষ্ট করে ফেলে।
উদাহরণ:
৬ মিনিটে ১ কিলোমিটার দৌড়ালেন, পরের কিলোমিটার ১৪ মিনিটে হাঁটলেন—এভারেজ ১০।
কিন্তু ৭ মিনিটে দৌড়ে, ৯ মিনিটে হাঁটলে এভারেজ আরও ভালো হয়।
তাই দৌড়ে টাইম সেভ করে হাঁটার সময় নষ্ট করা যাবে না।
প্রতিটি কিলোমিটারে বরাদ্দ টাইমের বেশি খরচ না করাই মূল কথা।
⸻
👉 ৭/ বন্ধুর পদচিহ্ন এড়িয়ে চলাঃ-
আলট্রা দৌড়ে সবচেয়ে বড় ভুল হলো অন্যকে ফলো করা বা আগে থেকেই পার্টনার সেট করে নেওয়া।
প্রতিটি মানুষের হার্টরেট, পেস ও সহনশীলতা আলাদা।
স্পিড রানারকে ফলো করলে নিজের কমফোর্ট জোন নষ্ট হয়।
আবার দুর্বল পার্টনার হতাশা ছড়ায়।
তাই আগে থেকে পার্টনার ঠিক না করে, দৌড়ের মাঝে যে আপনার পেসে আছে—তাকেই সাময়িক সঙ্গী বানান। এতে সফলতার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।
⸻
👉 ৮/ নিউট্রিশনঃ-
গাড়ি চলার জন্য যেমন তেল দরকার, শরীর চলার জন্য তেমনি হাইড্রেশন দরকার।
হাইড্রেশন নিতে হবে দুর্বল হওয়ার আগেই।
দুর্বল হয়ে গেলে হাইড্রেশন নিলে এনার্জি ফিরতে সময় লাগে।
মাসেল ক্র্যাম্প এড়াতে হাইড্রেশনের সঙ্গে থাকা সব ধরনের খাবার টাচ করা জরুরি।
অনেক আলট্রা রানার (আমি নিজেও) দৌড়ের মাঝে ফল খাওয়ার পাশাপাশি চকলেট খাই। কারণ—
চকলেটের চিনি দ্রুত রক্তে মিশে যায় এবং তাড়াতাড়ি শক্তি দেয়।
ফলে থাকা ফাইবার ফ্রুকটোজকে রক্তে মিশতে সময় নেয়।
তাই দৌড়ের মাঝে হাইড্রেশন ও নিউট্রিশনের দিকে নজর রাখলে কয়েক সেকেন্ডের বিনিময়ে কয়েক মিনিট এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
⸻
সবশেষে, এত বড় লেখার জন্য দুঃখিত। এখানে যা লিখেছি, সবই আমার নিজের আলট্রা দৌড়ের অভিজ্ঞতা ও চিন্তার ফসল। অনেক কিছু ছোট করতে হয়েছে লেখা বড় হয়ে যাওয়ার ভয়ে।
অনেকের সঙ্গে এই প্ল্যান মিলবে না সেটাই স্বাভাবিক—অনেকের প্ল্যান হয়তো আরও ভালো।
আশা করবো, আপনারাও আপনাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন—তাতে আমি সহ অনেকেই উপকৃত হবো।
28/12/2025
ডাবল ইয়েলো কার্ডে খচিত আমার ১২৭ কিলোমিটার স্টেডিয়াম দৌড়ের গল্প—এক গর্বের অর্জন!
প্রথমেই ইয়েলো কার্ডের বিষয়টা পরিষ্কার করি। স্টেডিয়ামের ট্রাকে দৌড়ানোর সময় যদি কোনো অ্যাথলেট দু’বার অবৈধভাবে ট্র্যাকের বাইরে বের হন অথবা ভুল করে অন্য লেনে চলে যান, তাহলে সতর্কতামূলক ইয়েলো কার্ড দেখানো হয়। মোট দুইটি ইয়েলো কার্ডের পর, তৃতীয় ভুলে রেড কার্ড দেখিয়ে অ্যাথলেটকে রান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এবার আসি আমার গল্পে—যেখানে আছে আবেগ, কঠোর পরিশ্রম, মানসিক চাপ, আর হার না মানা এক ফিনিশারের নেশায় ডুবে থাকা সংগ্রাম।
আমার কোচ নাদির ভাই শুরুতেই বলেছিলেন, “১৪০ কিলোমিটার টার্গেট নিয়ে দৌড় শুরু করো, কারণ শর্ত ১২০ কিলোমিটার—আর তুমি অন্তত ২০ কিলোমিটার বেশি করার লক্ষ্য রাখবে।”
এই টার্গেট মাথায় নিয়েই প্রস্তুতি শুরু করি। তবে শুরু করাটাও সহজ ছিল না। মাসের বেশি সময় ধরে মানসিক চাপ ও টেনশন কাজ করছিল—বিশেষ করে বহু মানুষের অগাধ বিশ্বাস, আমি ২৪ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ সফলভাবে শেষ করব—এই প্রত্যাশা যেন চাপটাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
শুক্রবার সকাল ৬টায় রান শুরু হলো।
শর্ত অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় মিনিমাম ১২০ কিলোমিটার, আর স্ট্রং ফিনিশার হতে ১২৫+ কিলোমিটার পূর্ণ করতে হবে।
আমি কৌশল করে প্রথম ৬ ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার এবং ১২ ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার—এই দুই ক্যাটাগরির টার্গেট ধরেই পরিকল্পনা সাজাই।
আলহামদুলিল্লাহ, প্রথম ৬ ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার এবং ১২ ঘণ্টা শেষে ৭৮–৭৯ কিলোমিটার পূর্ণ করি। এতে আত্মবিশ্বাস কয়েকগুণ বেড়ে গেল—কারণ বাকি ১২ ঘণ্টায় আর মাত্র ৪২ কিলোমিটার করলেই আমি মিনিমাম টার্গেটে পৌঁছে যাচ্ছি!
ঠিক তখনই ঘটল অপ্রত্যাশিত এক ঘটনা—
একজন ভলান্টিয়ার লিডার দূর থেকে দৌড়ে এসে বললেন, “ভাই, আপনি সর্বোচ্চ সতর্কতায় আছেন। আর একটি ভুল হলে রেড কার্ড, এবং আপনাকে রেস থেকে তুলে নেওয়া হবে!”
শুনে আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম!
আমি তখনই প্রথম জানলাম, আমার ইতোমধ্যে দুইটি ইয়েলো কার্ড দেখানো হয়ে গেছে!
যদি প্রথম কার্ডের সময় জানতাম, তাহলে এখনো একটি সুযোগ বাকি থাকত—কিন্তু সেটা না জানায় আমি পুরোপুরি অপ্রস্তুত!
মাথার ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ল!
কারণ সামনে তখনো আরও ১২ ঘণ্টা, পুরো এক রাত বাকি—যেখানে ঘুম, ক্লান্তি বা তন্দ্রার কারণে লেনে সামান্য ভুল করলেই DQ!
আর এতদিনের প্রস্তুতি এক মুহূর্তে শেষ!
কারণ খুঁজতে গিয়ে বুঝতে পারলাম—
🔸 একবার নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম, কিন্তু রেস্ট টাইম রিপোর্ট করিনি, ট্রাকের সাথেই নামাজ পড়ছিলাম।
🔸 সন্ধ্যার দিকে গ্যালারিতে আমার ছোট ছেলে বাবু আমাকে ডাকছিল—আমি কয়েক সেকেন্ডের জন্য ট্র্যাক থেকে বের হয়ে ওর সাথে হাই–হ্যালো করেছি, কিন্তু সেটাও রেস্ট হিসেবে রিপোর্ট করা হয়নি।
হয়তো এগুলোই কারণ—আমি আবেগে ভুল করেছি, নিয়ম ভাঙতে চাইনি, কিন্তু রিপোর্ট করা উচিত ছিল।
যেমন ফুটবলে গোল উদযাপনের সময় অনেক খেলোয়াড় জেনেও জার্সি খুলে ইয়েলো কার্ড খায়—আমিও হয়তো সেই আবেগের ফাঁদেই পড়েছিলাম।
পরে একজন আয়োজক ভাইকে বললাম, “আমি জানি কোস্টাল আলট্রা টিম স্বচ্ছতার বিষয়ে আপসহীন। আমি শুধু ইয়েলো কার্ডের কারণ জানতে চাই—যাতে বাকি সময় ২০০% সাবধান হয়ে ট্র্যাকে থাকতে পারি।”
কিছুক্ষণ পর রেস ডিরেক্টর নিজে আমার সাথে কথা বললেন।
তিনি অত্যন্ত নম্রভাবে বললেন, “ভাই, যা হয়েছে হয়ে গেছে—আপনি তো এখনো রেসে আছেন। বাকি সময় সাবধানে থাকলেই হবে।”
আমি সম্মানের সাথে উত্তর দিলাম, “ভাই, কারণ না জানলে সাবধান হব কীভাবে? এখন তো গ্যালারির দিকে ঘাড় ঘুরিয়েও তাকাতে ভয় লাগে!”
তিনি মমতার সুরে বললেন, “ইনশাআল্লাহ, সমস্যা হবে না। আপনি পারবেন!”
তার কথায় কিছুটা সাহস পেলাম, চাপ কমলেও ভয় পুরোপুরি গেল না—তবু সিদ্ধান্ত নিলাম, টিকে থাকাই এখন আমার একমাত্র যুদ্ধ!
রাত ২টার পর, হাতে তখনো ৪ ঘণ্টা বাকি—
১২০ কিলোমিটার পূর্ণ করেও স্বস্তি পাইনি, কারণ এক ভুলেই তখনো DQ-এর ঝুঁকি!
তাই ১৪০ কিলোমিটারের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে ট্র্যাকে টিকে থাকতে ধীরে হাঁটা (walk) শুরু করলাম।
শেষ পর্যন্ত—
🎯 ১২৭ কিলোমিটার সম্পন্ন করে, স্ট্রং ফিনিশারের সম্মাননা নিয়েই ২৪ ঘণ্টার এই কঠিন চ্যালেঞ্জ সফলভাবে শেষ করলাম।
আর অর্জনের তৃপ্তি নিয়ে বাড়ি ফিরলাম—আলহামদুলিল্লাহ।
অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, “আরও ৩–৪ ঘণ্টা হাতে থাকার পরেও ১৪০ কিমি কেন হলো না?”
আমার উত্তর সহজ—আমার কাছে দূরত্বের চেয়েও বড় ছিল রেসে টিকে থাকা, DQ এড়িয়ে সম্মান নিয়ে ফেরা, আর নিজের আল্ট্রা যাত্রার গল্পটা সফল ফিনিশের কালি দিয়ে লেখা।
আমি সেটাই করেছি—দূরত্ব কমিয়েছি, কিন্তু পরাজিত হইনি।
আবারও বলি—
এটি শুধু ১২৭ কিলোমিটারের দৌড় নয়, এটি ছিল ২৪ ঘণ্টার মানসিক সহনশীলতার ম্যারাথন!
আলহামদুলিল্লাহ, আল্ট্রা অর্ডিল সফল। ডাবল ইয়েলো কার্ড—আজ আমার দৌড়ের মেডেলের চেয়েও বেশি স্মরণীয় এক অধ্যায়!
“রেস শেষে আরেকবার রেস ডিরেক্টর ভাইকে বলেছিলাম, ইয়েলো কার্ডের সঠিক কারণটা জানা হলো না।
তিনি মমতার হাসি নিয়ে বললেন, “আপনি সফলভাবে রেস শেষ করেছেন—এখন কারণটা না জানলেও চলবে”
✍️ Nurul Huda
Ultra Runner
27/09/2025
আমি ও আমার দৌড় সম্পর্কে আর্টিকেল। ধন্যবাদ সুন্দর করে লেখা টি প্রকাশ করার জন্য।
23/06/2025
🎽 আমার ম্যারাথন জার্নি ও পেসার জীবনের গল্প 🏃♂️
“Horse Race, Golf, Marathon” – এই তিনটির মধ্যে আমি বেছে নিয়েছিলাম ম্যারাথন, আমার ফিটনেস ও জীবনের অংশ হিসেবে।
গত কাল আমার পেসিং নিয়ে একটা পোষ্ট করেছিলাম অনেকেই পড়েছেন দেখে আজকে আমার রানিং ও দৌড়ের প্রতি ভালবাসার গল্পটা লিখে শেষ করতে চাচ্ছি। সময়টা ২০১৫ সালের শেষের দিকে আমি তখন ফ্রিল্যান্সিং করি। আমাদের কাজটা ছিলো কানাডিয়ান একটা স্পোর্টস সাইটের নানান স্পোর্টস গিয়ার বিশ্বব্যাপি মার্কেটিং করা। এছারা ইন্টারন্যাশনাল বুক, মুভি, সহ বেশ কিছু প্রডাক্টের প্রোমোশন করা। স্পোর্টস নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তখন আমাদের দেশে কিছুটা অপরিচিত খেলা তবে বিশ্ব ব্যাপি খুবই জনপ্রিয় এগুলোর সাথে পরিচয় হয়। যার মধ্যে আমার নজর কাড়ে ঘোড়ার দৌড়, গল্ফ, ম্যারাথন, ফিগার স্কেটিং ও UFC খেলার। দেখতাম এই খেলাগুলো শুরু হলে মানুষ প্রচুর ভিউ করে। আমরা তখন আমাদের স্পোর্টস গিয়ার, বই, ইন্টারন্যাশনাল অনেক সপের ডিসকাউন্ড গিফট কার্ড, সেলের অফার দিতাম ভিজিটরদের। আস্তে আস্তে মনে হতে থাকে এই খেলা এত মানুষ দেখার জন্য পাগল। অথচ আমরা এগুলোর সম্পর্কে ধারনাও রাখি না। তখন মাথার মধ্যে আসে এর মধ্যে কোন খেলায় নিজেকে যুক্ত করা যায় কিনা। একবার এমন হলো জানুয়ারী মাসের শুরুর দিকে নতুন বছরে অনুষ্ঠিত হওয়া জাপানে চলা একটা ম্যারাথন ইভেন্টে আমি আমাদের ফ্রিল্যান্সিং টিম সহ প্রায় পাঁচ হাজার ডলারের কমিশন পেয়ে যাই। এটা শুধু সেল কমিশন ছিলো। তখনকার ডলার রেটে বাংলাদেশী টাকায় ৪ লক্ষ টাকার মত। ভাবলাম এত মানুষ দেখে এই খেলা। খেলাটা সম্পর্কে জানতে হবে। যদিও একই সময় গল্ফ, ও ঘোড়ার দৌড় সম্পর্কে জানতে থাকি। ঘোড়ার দৌড় সম্পর্কে জানতে গিয়ে দেখি এক একটা ঘোড়ার দাম কোটি টাকার উপরে। আমার কোন ঘোড়া নাই😀!! এছারা এই খেলা বাংলাদেশে তেমন জনপ্রিয় না। এর পরে গল্ফ ও দেখলাম বহু খরচ “বড় লোকের” খেলা বলা হয়। তখন বাংলাদেশের সিদ্দিকুর রহমান ভাই খুব ভাল গল্ফ খেলতেন। কিন্তু দৌড়ে তেমন কিছু দরকার পরে না রাস্তায় নামলেই দৌড়ানো যায়। তবে খেলাটা তখনো বাংলাদেশে পরিচিত ছিলো না তেমন। অথবা ইভেন্ট হলেও আমি জানতাম না। আমি দেশে ইভেন্ট সম্পর্কে জানতে পারি একটা ব্যাংক একবার দৌড়ের আয়োজন করে ২০১৮ বা ২০১৯ সালে তখন ইভেন্টিতে রেজিস্ট্রেশন করতে না পারলেও ইভেন্টটি দেখে ভাল লাগে। পরবর্তিতে ইভেন্টে অংশগ্রহন করতে চাইলেও করতে পারি নি। কারন রেজিস্ট্রেশন প্রোসেস সম্পর্কে অজানা। এমন করে বেশ কিছু দিন কেটে যায় একা একা হাতিরঝিলে দৌড়াই নিজের মত। বেশ কিছু মাস পরে করোনা বিশ্ব ব্যাপি ছড়িয়ে পরে বাংলাদেশেও চলে আসে। তখন দৌড় বন্ধ হয়ে যায় লক ডাউনের কারনে। তবে নিজের যেহেতু মালিকানাধীন একটা জীম ছিলো জীমে ব্যায়াম চলতে থাকে। একবার আমার পরিচিত একজন একটা ইভেন্টে দৌড় দেয়। তার কাছ থেকে খবর পাই ইভেন্টি পরের বছর আবার হবে। সে শুধু এটা সম্পর্কেই জানে অন্য ইভেন্ট হয় কিনা তার ধারনা নাই। ওই দিন ভাবলাম যেহেতু ইভেন্টে অনেক লোক দৌড়ায় কোন না কোন ফেসবুক পেইজ গ্রুপ তো পাবো যেখানে আরো ইভেন্টের খবর পাওয়া যাবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার নাম দিয়ে ম্যারাথন, রান এই টাইপের নাম দিয়ে সার্চ করে পেইজ খুঁজতে থাকি ও বেশ কিছু পেইজে তখন যুক্ত হই। এর পরে আর ইভেন্ট মিস হতো না কোন না কোন ভাবে ওই ইভেন্টের পেইজে সহ সব চলে আসতো। তখন থেকে ইভেন্টে রান করা শুরু করি। এর পরে গত কয়েক বছরে বেশ বহু ইভেন্ট সফল ভাবে ফিনিস করতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ। রান করতে করতে একটা সময় ভাবলাম আমরা দৌড়বিদরা সব থেকে বেশি ইউজ করি পা। আর এই পা যদি করো দুর্ঘটনা বা কোন কিছুতে হারিয়ে ফেলি তাহলে সে দৌড়াতে পারবে না। তখন মনটা তার খুবই খারাপ থাকবে দৌড়াতে না পারার কারনে, কি করা যায়। এমন ভাবতে ভাবতে ২০২৩ সালে ভাবলাম যদি আমার পাশাপাশি কিছু দৌড়বিদকে দৌড়ে যুক্ত করতে পারি সেটা দারুন কাজ হবে। আমি যদি কখনো দৌড়াতে না পারলেও তাদের দৌড় দেখে আমি অন্ততো আনন্দিত হবো। তাদের পায়ে দৌড়াব আমি। সেই হিসেবে একটা কমোনিটি তৈরি করা হয়। প্রথম প্রথম আমার জীম মেম্বারদের নিয়ে দৌড়াতাম। এক সময় কমোনিটি জীম মেম্বার থেকে প্রসারিত হয়ে সকলে যুক্ত হতে থাকে। এভাবেই চলছে গত কয়েক বছর আমার দৌড় ময় জীবন।পেসার হিসেবে যুক্ত হই যেভাবে!একবার এক অর্গানাইজার কোন না কোন ভাবে জানতে পারে আমাদের টিম থেকে আমরা একসাথে দৌড়াই। তখন তিনি তার ইভেন্টে একজন পেসার চেয়ে বসেন। আমি তখন তার কাছ থেকে ১-২ দিন সময় নেই কাকে দেয়া যায় ভাবার জন্য ও ওই ইভেন্টে যারা রেজিস্ট্রেশন করেছে তাদের মধ্য থেকে পরামর্শ নিতে থাকি কে হবে। সবারি একই কথা তারা নতুন নিতে পারবেনা। আমি যেহেতু টিম লিডার আমাকেই নিতে হবে। আর একটি সমস্যা ছিলো অর্গানাইজার বলে দিয়েছিলো আমাদের পেসার ৭.৫ কিমি ক্যাটাগরির। টিমের লোক অন্য ক্যাটাগরিতে রেজিস্ট্রেশন করেছে। ৭.৫ কিমি এ কেউ নাই। তখন এক প্রকার বাধ্য হয়েই আমার ওই ইভেন্টাতে পেসার থাকতে হয়। এর পর থেকে ক্যামনে ক্যামনে যেন ইভেন্টের পেসিং এ যুক্ত হয়ে গেলাম। পেসার হওয়ার কারনে আমি আমার দৌড়ের আগের গতি ও ধারাবাহিকতা পাচ্ছি না। কারন আমার গতির থেকে পেসিং গতি বহু কম নিতে হবে। না হলে সবার সাথে গল্প আড্ডা দেয়া যাবে না। তাইতো নিজের টাইমিং থেকে স্লো টাইমিং নিয়ে পেসিং করতেছি। আসলে আমি যত পেসিং করেছি প্রতিটাই অর্গানাইজার থেকে অফার এসেছে বলে। এখন নিজে যতটুকু পারি পেসিং করি নিজের ক্ষুদ্র নলেজ শেয়ার করে সবার সাথে দৌড়াই। যদিও আজ থেকে ৬-৭ দিন পুর্বে আমার লং ডিসটেন্স রানের কোচ সমতুল্য পরামর্শক মেহেদী হাসান নয়ন ভাই আমার নিজের ট্রেনিং এ ফোকাস রাখতে বলেছেন এগুলো থেকে ট্রেনিং বেশি জরুরী বলে। তার পরেও কোন অর্গানাইজার চাইলে প্রথমে অন্য একজনকে যুক্ত করার কথা বলি। তার পরেও সে আমাকেই দরকার বললে অনেক ক্ষেত্রে না করতে পারি না তার ভালবাসার কারনে। তাই পেসিং করি।
“আর একটা খুশির খবর বলি আমি চাকরি জীবনে ও ব্যাক্তিগত ফ্রিল্যান্সি কাজে ২০১৫ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত শুধু মাত্র “ম্যারাথন দৌড়ে” কানাডিয়ান একটা কোম্পানির প্রোডাক্টের মার্কেটিং করে কম বেশি ৩৫-৪০ হাজার ডলারের মত দেশের অর্থনীতিতে রেমিটেন্স হিসেবে যুক্ত করতে পেরেছিলাম” যেটা আমার দৌড়ের অনুপ্রেরণা হিসেবে ছিলো।
26/04/2025
আমার সকল অর্জনের থেকে আজকে আমার ছেলের ২০০ মিটার দৌড়ের অর্জন আমাকে বেশি আনন্দিত করেছে।
14/04/2025
Guardian Life Hossainpur Half Marathon 2025 সফল ভাবে সম্পন্ন করলাম আলহামদুলিল্লাহ্। ধন্যবাদ Nazrul Islam ভাই এত সুন্দর আয়োজনের জন্য। বিশেষ ধন্যবাদ
Khairul Islam ভাই
Md. Kamrul Hasan Sohel স্যার
Amanul Haque Aman স্যারকে।