Saiful Lanju

Website Contact the business

Saiful Lanju Saiful Lanju is a Corporate Growth Trainer, Leadership & Life Coach, Business Consultant, Pearson certified career counsellor, Author.

I am Saiful Islam Lanju working for inspiring people for potential developments, Bangladeshi young entrepreneur and motivated to earth community of global village from the early years I started to speaking for potential development of human brain and mind and how to use their brain more and more by practicing, training their brain in a monk method how to become successful, become healthier happier and new version of himself by practicing monk method. I also work as a career consultant, conducting training & motivating seminar and self development leadership, entrepreneurship training for home and abroad. I also authoring books for life coach.

সাফল্য কোনো একদিনের অর্জন নয়, এটি প্রতিদিনের ছোট ছোট প্রচেষ্টার ফল। জীবনে সফল হতে হলে শুধু ভালো চিন্তা করলেই হবে না, সে...
18/10/2026

সাফল্য কোনো একদিনের অর্জন নয়, এটি প্রতিদিনের ছোট ছোট প্রচেষ্টার ফল।

জীবনে সফল হতে হলে শুধু ভালো চিন্তা করলেই হবে না, সেই চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সাহসও থাকতে হবে। অনেকের মাথায় সুন্দর সুন্দর আইডিয়া আসে, অনেকেই বড় স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু সবাই সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রথম পদক্ষেপটি নিতে পারেন না। আর যারা পদক্ষেপ নেন, তাঁদের সবাই প্রথমবারেই সফল হন না।

এখানেই তৈরি হয় সফল ও ব্যর্থতার মধ্যকার পার্থক্য।

THINK → IDEA → TRY → DO → DO AGAIN → AND AGAIN → KEEP DOING → SUCCESS

এই ধারাটির প্রতিটি ধাপের পেছনে লুকিয়ে আছে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

প্রথমে ভাবুন, তারপর পরিকল্পনা করুন। পরিকল্পনাকে বাস্তবে পরীক্ষা করুন। কাজ শুরু করুন। ভুল হলে শুধরে নিন। ব্যর্থ হলে আবার চেষ্টা করুন। প্রয়োজন হলে নিজের কৌশল পরিবর্তন করুন, কিন্তু লক্ষ্য থেকে সরে যাবেন না।

মনে রাখবেন, প্রথমবারের ব্যর্থতা আপনার অযোগ্যতার প্রমাণ নয়। বরং এটি আপনাকে শেখার একটি সুযোগ দেয়। যে ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারে, সে পরবর্তী প্রচেষ্টায় আরও অভিজ্ঞ হয়ে ওঠে।

একবার ভেবে দেখুন, একটি শিশু যখন হাঁটতে শেখে, তখন কি সে প্রথম চেষ্টাতেই নিখুঁতভাবে হাঁটতে পারে? না। সে পড়ে যায়, আবার উঠে দাঁড়ায়, আবার চেষ্টা করে। একসময় যে কাজটি তার কাছে অসম্ভব মনে হতো, সেটিই তার স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়।

আমাদের জীবনেও ঠিক এমনটাই ঘটে। একটি নতুন দক্ষতা অর্জন, ক্যারিয়ারে উন্নতি, নিজের ব্যবসা দাঁড় করানো কিংবা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া—কোনোটিই সাধারণত এক রাতের মধ্যে সম্ভব হয় না। এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, ধারাবাহিকতা, শেখার মানসিকতা এবং প্রতিদিন নিজের আগের অবস্থান থেকে একটু হলেও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা।

আপনি আজ যতটুকু পারেন, ততটুকু দিয়েই শুরু করুন। নিখুঁত সময়ের অপেক্ষায় থেকে নিজের সময় নষ্ট করবেন না। সব উত্তর জানা না থাকলেও প্রথম পদক্ষেপটি নিন। কারণ কাজ শুরু করার পরই আপনি বুঝতে পারবেন কোথায় ভুল হচ্ছে, কী পরিবর্তন প্রয়োজন এবং কীভাবে আরও ভালো করা যায়।

আজ হয়তো আপনার পরিশ্রমের ফল চোখে পড়ছে না। হয়তো অন্য কাউকে আপনার চেয়ে দ্রুত এগিয়ে যেতে দেখে নিজের ওপর সন্দেহ হচ্ছে। কিন্তু মনে রাখবেন, সবার যাত্রাপথ এক নয়, সবার শেখার সময়ও এক নয়।

অন্যের সাফল্য দেখে হতাশ না হয়ে নিজের উন্নতির দিকে মনোযোগ দিন। গতকাল আপনি যেখানে ছিলেন, আজ সেখান থেকে কতটুকু এগিয়েছেন—সেটিই হোক আপনার প্রকৃত হিসাব।

একদিনের বড় প্রচেষ্টার চেয়ে প্রতিদিনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অনেক সময় বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। কারণ ছোট ছোট উন্নতি একসময় বড় পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করে।

সাফল্য তাঁদের কাছেই ধরা দেয়, যাঁরা শুধু স্বপ্ন দেখেন না—স্বপ্ন পূরণের জন্য কাজ করেন, ভুল থেকে শেখেন এবং বারবার চেষ্টা করে যান।
তাই আজ যদি ব্যর্থ হন, আগামীকাল আবার চেষ্টা করুন। আজ যদি পথ বন্ধ হয়ে যায়, অন্য পথ খুঁজুন। আজ যদি ফল না পান, নিজের প্রচেষ্টাকে আরও কার্যকর করার উপায় শিখুন।

থেমে গিয়ে নিজের স্বপ্নকে প্রশ্ন করবেন না। বরং নিজেকে প্রশ্ন করুন—আমি কি আরও ভালো কোনো উপায়ে চেষ্টা করতে পারি?
আপনার ভবিষ্যৎ একদিনের সিদ্ধান্তে নয়, প্রতিদিনের কাজের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে।

আজকের ছোট পদক্ষেপটিই হতে পারে আগামী দিনের বড় সাফল্যের শুরু।

Think less about how far you have to go. Focus on what you can do today.

আপনাকে কতটা পথ পাড়ি দিতে হবে, তা নিয়ে কম ভাবুন। আজ আপনি কী করতে পারেন, সেদিকে মনোযোগ দিন।

— Saiful Lanju Mentorship 💙






স্বার্থ ফুরোলেই অনেকের সম্মানও ফুরিয়ে যায়কখনো কি খেয়াল করেছেন, একটি তালার চাবি যতক্ষণ প্রয়োজন, ততক্ষণই তার কদর থাকে। দরজ...
17/10/2026

স্বার্থ ফুরোলেই অনেকের সম্মানও ফুরিয়ে যায়

কখনো কি খেয়াল করেছেন, একটি তালার চাবি যতক্ষণ প্রয়োজন, ততক্ষণই তার কদর থাকে। দরজা খুলে গেলে অনেকেই চাবিটিকে আর মনে রাখে না। অথচ দরজাটি খোলার পেছনে তারই ভূমিকা ছিল।

মানুষের জীবনেও এমন কিছু সম্পর্ক থাকে। আপনি কারও কঠিন সময়ে সাহস জোগান, বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ান, নিজের ব্যস্ততা সরিয়ে তার জন্য সময় বের করেন। সে যখন দিশেহারা, তখন আপনি তাকে পথ দেখান। কিন্তু একদিন যখন সে নিজের গন্তব্যে পৌঁছে যায়, তখন হয়তো আপনার হাতটি ছেড়ে দিতেও তার এক মুহূর্ত সময় লাগে না।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, আপনি যে মানুষটির জীবনে একসময় প্রয়োজন ছিলেন, সেই মানুষটিই একদিন আপনাকে অপ্রয়োজনীয় মনে করতে পারে।

তখন কি থেমে যাবেন? নিজের ভালোত্ব নিয়ে সন্দেহ করবেন? নাকি ভাববেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ভুল ছিল?

না, কোনোটাই নয়।

কারণ অন্যের অকৃতজ্ঞতা আপনার মহৎ কাজকে ছোট করে না। কেউ আপনার উপকার ভুলে গেলে উপকারের মূল্য হারিয়ে যায় না। আপনি যে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন, সেটি আপনার চরিত্রের পরিচয়—অন্যের কৃতজ্ঞতা আপনার পুরস্কার হতে পারে, কিন্তু আপনার ভালো কাজের একমাত্র কারণ হওয়া উচিত নয়।

তবে একটা কথা মনে রাখবেন—কারও জীবনে প্রয়োজনীয় হওয়া আর কারও কাছে সম্মানিত হওয়া এক জিনিস নয়।

প্রয়োজন আপনাকে সাময়িকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে, কিন্তু আপনার চরিত্রই আপনাকে প্রকৃত সম্মানের যোগ্য করে তোলে।

জীবনে এমন একটি সময় আসতে পারে, যখন আপনার ফোনের অপেক্ষায় কেউ থাকবে না, আপনার সাহায্য চেয়ে কেউ দরজায় আসবে না, আপনার পরামর্শের জন্য কেউ ব্যাকুল হবে না। প্রথমে এই নীরবতা আপনাকে কষ্ট দেবে। মনে হবে, আপনি বুঝি সবার কাছ থেকে হারিয়ে গেছেন।

কিন্তু একটু গভীরভাবে ভাবুন—এই নীরবতাই হয়তো আপনার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু করার সুযোগ।

এতদিন আপনি অন্যের সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে নিজের স্বপ্নগুলোকে অপেক্ষায় রেখেছেন। অন্যের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে নিজের প্রয়োজনগুলো ভুলে গেছেন। অন্যকে এগিয়ে দিতে গিয়ে নিজের পথচলাটাই ধীর করে দিয়েছেন।

এবার নিজের দিকে তাকানোর সময়।

নিজের দক্ষতা বাড়ান। নতুন কিছু শিখুন। নিজের স্বপ্নের জন্য প্রতিদিন একটু একটু করে কাজ করুন। এমন একটি জীবন গড়ে তুলুন, যেখানে আপনার আত্মবিশ্বাস অন্যের প্রশংসার ওপর নির্ভর করবে না, আর আপনার শান্তি অন্যের আচরণের কাছে জিম্মি থাকবে না।

আপনার জীবনের লক্ষ্য এমন হওয়া উচিত নয় যে, একদিন যারা আপনাকে অবহেলা করেছে, তারা যেন আপনাকে দেখে আফসোস করে। আপনার লক্ষ্য হওয়া উচিত—একদিন যেন তাদের স্বীকৃতি বা অনুশোচনা, কোনোটিরই আপনার কাছে প্রয়োজন না থাকে।

কারণ প্রকৃত সাফল্য কাউকে হারিয়ে দেওয়া নয়; নিজের হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাসকে ফিরে পাওয়া।

আর হ্যাঁ, সবাইকে জীবনে একই জায়গায় রাখতে নেই। কেউ আপনার জীবনে শিক্ষা হয়ে আসে, কেউ আসে শক্তি হয়ে, আবার কেউ আসে আপনাকে নিজের মূল্য চিনিয়ে দিতে। প্রত্যেককে ঘৃণা করার প্রয়োজন নেই, প্রত্যেকের কাছে নিজের অবস্থান প্রমাণ করারও প্রয়োজন নেই। কখনো কখনো নীরবে দূরত্ব তৈরি করে নিজের পথে এগিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে পরিণত সিদ্ধান্ত।

তাই মানুষের স্বার্থপরতা দেখে নিজের হৃদয়কে পাথর বানাবেন না। শুধু নিজের ভালোত্বের সঙ্গে বুদ্ধি যোগ করুন। মানুষকে ভালোবাসুন, কিন্তু নিজের আত্মসম্মানকে ভালোবাসার বাইরে রাখবেন না। সাহায্য করুন, কিন্তু এমনভাবে নয় যে নিজের জীবনই থেমে যায়।

মনে রাখবেন, আপনি কারও প্রয়োজন মেটানোর যন্ত্র নন। আপনি একজন মানুষ—আপনারও অনুভূতি আছে, স্বপ্ন আছে, সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার আছে।

কেউ আপনার মূল্য বুঝতে দেরি করলে নিজের উন্নতি থামিয়ে দেবেন না। কেউ আপনার অবদান ভুলে গেলে নিজের অর্জন ভুলে যাবেন না। আর কেউ আপনার সম্মান কমিয়ে দিলে তার কাছে সম্মান ভিক্ষা করবেন না।

নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলুন, যেন আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি হয় আপনার জ্ঞান, সবচেয়ে বড় পরিচয় হয় আপনার চরিত্র, আর সবচেয়ে বড় অর্জন হয় নিজের চোখে নিজেকে সম্মান করতে পারা।

কারণ মানুষ আপনাকে ভুলে যেতে পারে, কিন্তু আপনি যেন কখনো নিজেকে ভুলে না যান।

— Saiful Lanju Mentorship








জীবনে যখন আপনি কোনো একটি লক্ষ্যকে সত্যিই সিরিয়াসলি নিতে শুরু করবেন, তখন একটা সময় দেখবেন—আপনার চারপাশের অনেক মানুষ ধীরে ধ...
16/10/2026

জীবনে যখন আপনি কোনো একটি লক্ষ্যকে সত্যিই সিরিয়াসলি নিতে শুরু করবেন, তখন একটা সময় দেখবেন—আপনার চারপাশের অনেক মানুষ ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে। যারা প্রতিদিন আপনার সঙ্গে আড্ডা দিত, সময় কাটাত, তারা হয়তো বলবে, “তুই অনেক বদলে গেছিস!” আসলে আপনি বদলে যাননি, আপনি শুধু আপনার গন্তব্যটা পরিষ্কার করে ফেলেছেন। মনে রাখবেন, একটি Bus-এ ৫০ জন মানুষ একসঙ্গে যাত্রা করতে পারে, কিন্তু একটি Lamborghini-তে জায়গা হয় মাত্র ২ জনের।

জীবনের শুরুতে আপনার সঙ্গে অনেক মানুষ থাকতে পারে, সবাই আপনার স্বপ্নের কথা শুনতে পারে, সবাই আপনার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপনার স্বপ্নের পথে হাঁটবে খুব কম মানুষ। আর সত্যিকারের সফলতার Lamborghini-তে উঠতে হলে আপনাকেই সেই কঠিন পথটা একা হেঁটে যেতে হবে। তাই আপনার লক্ষ্য যদি সত্যিই বড় হয়, তাহলে কিছু বন্ধুত্ব হারানোর ভয় পাবেন না, কিছু মানুষ দূরে চলে গেলে কষ্ট পাবেন না। কারণ সবাই আপনার গন্তব্য পর্যন্ত আসার জন্য তৈরি হয়নি। কেউ কেউ শুধু আপনার জীবনের Bus-এ কিছুদূর পর্যন্ত যাত্রা করার জন্য আসে। আর যারা শেষ পর্যন্ত আপনার সঙ্গে থাকে, তারাই একদিন আপনার Lamborghini-র পাশে দাঁড়ানোর যোগ্যতা অর্জন করে। তাই মানুষ হারানোর ভয় নয়—নিজেকে হারিয়ে ফেলার ভয় করুন। কারণ জীবনে বড় কিছু অর্জন করতে গেলে কখনো কখনো ভিড় থেকে বেরিয়ে একাই নিজের রাস্তা তৈরি করতে হয়।








পড়ে যাওয়া মানেই হেরে যাওয়া নয়জীবনের সবচেয়ে কঠিন সত্যগুলোর একটি হলো—আপনি কতবার পড়ে গেছেন, সেটি দিয়ে আপনার জীবনের সাফল্য ন...
15/10/2026

পড়ে যাওয়া মানেই হেরে যাওয়া নয়

জীবনের সবচেয়ে কঠিন সত্যগুলোর একটি হলো—আপনি কতবার পড়ে গেছেন, সেটি দিয়ে আপনার জীবনের সাফল্য নির্ধারিত হয় না; বরং প্রতিবার পড়ে যাওয়ার পর আপনি কীভাবে উঠে দাঁড়িয়েছেন, সেটিই আপনার প্রকৃত পরিচয় তৈরি করে।

জীবনের পথে চলতে গেলে এমন কিছু সময় আসবেই, যখন আপনার সব পরিকল্পনা ভেঙে যাবে। যে স্বপ্নটিকে একদিন নিজের ভবিষ্যৎ ভেবেছিলেন, সেটি হয়তো চোখের সামনেই হারিয়ে যাবে। যাদের বিশ্বাস করে সামনে এগিয়েছিলেন, তাদের কেউ কেউ হয়তো মাঝপথে ছেড়ে চলে যাবে। অনেক চেষ্টা করেও যখন কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাবেন না, তখন নিজের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন জাগতে পারে।

মনে হতে পারে, হয়তো আপনি পারবেন না। হয়তো আপনার ভাগ্যে সফলতা নেই। হয়তো অন্যদের মতো আপনার জীবনেও কখনো ভালো সময় আসবে না।

কিন্তু একটু থামুন!

আপনার জীবনের একটি খারাপ অধ্যায় কখনোই আপনার পুরো গল্প নয়।

একটি পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া মানে আপনি অযোগ্য নন। একটি ব্যবসায় ক্ষতি হওয়া মানে আপনি আর কখনো সফল হতে পারবেন না, তা নয়। একটি চাকরি হারানো মানে আপনার কর্মজীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়। আর কোনো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া মানে আপনার জীবনে ভালোবাসা কিংবা সুখের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়।

কখনো কখনো জীবনের একটি পরাজয় আমাদের এমন কিছু শেখায়, যা অনেক দিনের সাফল্যও শেখাতে পারে না।

পরাজয় আপনাকে শেখায়—কোথায় ভুল করেছিলেন, কাকে অতিরিক্ত বিশ্বাস করেছিলেন, কোন জায়গায় প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল এবং পরেরবার কীভাবে আরও ভালোভাবে এগোতে হবে।

তবে মনে রাখবেন, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়া আর ব্যর্থতাকে নিজের পরিচয় বানিয়ে ফেলা এক বিষয় নয়।

আপনি কোনো একটি কাজে ব্যর্থ হয়েছেন—কিন্তু আপনি নিজে ব্যর্থতার সমার্থক নন। আপনার একটি সিদ্ধান্ত ভুল ছিল—কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনার ভবিষ্যতের প্রতিটি সিদ্ধান্তও ভুল হবে।

একবার হেরে গিয়ে যদি আপনি নিজের ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন, তাহলে একটি পরাজয় আপনার কাছ থেকে দুটি জিনিস কেড়ে নেবে—একটি সুযোগ এবং নিজের সামর্থ্যের প্রতি আপনার বিশ্বাস।

কিন্তু সেই একই পরাজয়ের সামনে দাঁড়িয়ে যদি আপনি নিজেকে বলেন, “আমি ভুল করেছি, আমি শিখব, আমি আবার চেষ্টা করব”—তাহলে সেই পরাজয়ই আপনার পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।

♟️ দাবার বোর্ডের দিকে তাকান।

দাবার খেলায় একটি ঘুঁটি পড়ে যেতে পারে, একটি গুরুত্বপূর্ণ চাল ব্যর্থ হতে পারে, এমনকি প্রতিপক্ষও আপনার চেয়ে এগিয়ে যেতে পারে। কিন্তু যতক্ষণ খেলা শেষ হয়নি, ততক্ষণ নতুন চাল দেওয়ার সুযোগ থাকে।

জীবনও অনেকটা তেমন।

আজ হয়তো আপনি অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে আছেন। আপনার বন্ধুরা হয়তো ভালো চাকরি করছে, কেউ নিজের ব্যবসা দাঁড় করিয়েছে, কেউ আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে উঠেছে। আর আপনি হয়তো এখনো নিজের অবস্থান পরিবর্তনের জন্য লড়াই করছেন।

কিন্তু অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনা করে নিজের অগ্রযাত্রাকে ছোট করবেন না। কারণ আপনি জানেন না, তাদের পথ কতটা সহজ ছিল, আর আপনার পথ পাড়ি দিতে আপনাকে কতটা লড়াই করতে হচ্ছে।

আপনার কাজ হলো অন্যকে হারিয়ে দেওয়া নয়; আপনার কাজ হলো গতকালের নিজের চেয়ে আজ একটু ভালো হওয়া।

গতকাল যে ভুলটি করেছিলেন, আজ সেটি শুধরে নিন। গতকাল যে দক্ষতার অভাবে পিছিয়ে পড়েছিলেন, আজ সেই দক্ষতা শেখার চেষ্টা করুন। গতকাল যে ভয় আপনাকে থামিয়ে দিয়েছিল, আজ সেই ভয়কে সঙ্গে নিয়েই ছোট একটি পদক্ষেপ নিন।

আপনাকে একদিনে পুরো জীবন বদলে ফেলতে হবে না। আপনাকে শুধু হাল ছেড়ে না দিয়ে নিজের উন্নতির পথে নিয়মিত এগিয়ে যেতে হবে।

কারণ বড় পরিবর্তন অনেক সময় ছোট ছোট সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই শুরু হয়।

মনে রাখবেন, জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময়টিও স্থায়ী নয়। কিন্তু সেই অন্ধকারে আপনি যে শিক্ষা অর্জন করবেন, তা আপনার ভবিষ্যতের পথকে আলোকিত করতে পারে।

তাই আজ যদি আপনি ভেঙে পড়ে থাকেন, নিজেকে একটু সময় দিন। নিজের কষ্টকে অস্বীকার করবেন না, নিজের ভুল থেকে পালিয়ে যাবেন না, আবার একটি ভুলের জন্য নিজেকে সারাজীবন শাস্তিও দেবেন না।

প্রয়োজনে নতুন করে শুরু করুন। পরিকল্পনা পরিবর্তন করুন। নিজের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করুন। সাহায্য চান, নতুন কিছু শিখুন, আবার চেষ্টা করুন।

মনে রাখবেন, নতুন করে শুরু করার জন্য সবকিছু নিখুঁত হওয়া প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু এই উপলব্ধি—আপনার বর্তমান অবস্থাই আপনার চূড়ান্ত গন্তব্য নয়।

আপনার গল্পের পরবর্তী অধ্যায়টি কেমন হবে, তা আজকের একটি ব্যর্থতা একা নির্ধারণ করতে পারে না। সেখানে আপনার সিদ্ধান্ত, আপনার ধৈর্য, আপনার শিক্ষা এবং আপনার পরবর্তী পদক্ষেপেরও ভূমিকা রয়েছে।

তাই পড়ে গেলে উঠে দাঁড়ান। হেরে গেলে শিখুন। ভুল করলে শুধরে নিন। আর কঠিন সময় এলে নিজের ভবিষ্যতের ওপর বিশ্বাস হারাবেন না।

কারণ আপনি যতক্ষণ শেখার জন্য প্রস্তুত, যতক্ষণ নিজের ভুল শুধরে এগিয়ে যেতে ইচ্ছুক, ততক্ষণ আপনার সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খোলার সুযোগ রয়েছে।

আজকের পরাজয়কে আগামী দিনের শক্তিতে পরিণত করুন। নিজের গল্পের একটি খারাপ অধ্যায়ের কারণে পুরো বইটি বন্ধ করে দেবেন না।

আপনার গল্প এখনো শেষ হয়নি। হয়তো সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়টি এখনো লেখা বাকি।

— Saiful Lanju Mentorship






মানুষ যতটা চেনে, তার চেয়েও আলাদা হোন একটা বন্ধ ক্যানের দিকে তাকালে আপনি কী দেখেন? একটা সাধারণ ক্যান, যার ভেতরে কিছু একটা...
14/10/2026

মানুষ যতটা চেনে, তার চেয়েও আলাদা হোন

একটা বন্ধ ক্যানের দিকে তাকালে আপনি কী দেখেন? একটা সাধারণ ক্যান, যার ভেতরে কিছু একটা আছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, সেটি ভেতরে কী ধারণ করে আছে, কতটা পূর্ণ, কতটা খা‌লি, বা কি আছে তা‌তে, কিংবা তার ভেতরের জগৎটা কেমন?

আমাদের জীবনটাও অনেকটা এমনই,

মানুষ আমাদের দেখে, আমাদের কথা শোনে, আমাদের কিছু আচরণ মনে রাখে—তারপর সেই সামান্য অভিজ্ঞতা দিয়েই আমাদের সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি করে ফেলে। যেমনটা বইয়ের কভার দে‌খে বই সম্প‌র্কে ধারনা করা অথচ একজন মানুষের পুরো গল্প জানার জন্য কয়েকটি মুহূর্ত কখনোই যথেষ্ট নয়।

আপনি হয়তো আজ খুব সাধারণভাবে জীবন কাটাচ্ছেন। আপনার পোশাক, আপনার আর্থিক অবস্থা, আপনার বর্তমান অবস্থান কিংবা আপনার নীরবতা দেখে কেউ কেউ আপনাকে বিচার করে ফেলেছে। কেউ মনে করে, আপনি এর বেশি কিছু পারবেন না। কেউ আপনার স্বপ্নের কথা শুনে মুচকি হাসে। আবার কেউ আপনার অতীতের ভুলগুলো মনে রেখে আপনার ভবিষ্যৎটাকেও সেই ভুলের মাপে মাপতে চায়। ম‌নে ক‌রেন আপনার সীমানা ঐটুকুই ...

কিন্তু একটা কথা মনে রাখবেন—মানুষ আপনার জীবনের যে অধ্যায়টি দেখেছে, সেটিই আপনার পুরো গল্প বা বই নয়।

আপনার গল্পের এমন অনেক পৃষ্ঠা এখনো লেখা বাকি।

আপনি কি সত্যিই নিজেকে চেনেন?

কখনো কি ভেবে দেখেছেন, আপনি নিজেই নিজের কতটা সম্ভাবনাকে চিনতে পেরেছেন?

হয়তো আপনি এখনো জানেন না, নিয়মিত চেষ্টা করলে কতটা দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন। হয়তো আপনি এখনো আবিষ্কার করেননি, কঠিন পরিস্থিতিতেও আপনি কতটা শক্ত থাকতে পারেন। হয়তো আপনার ভেতরে এমন একটি প্রতিভা আছে, যা সঠিক সুযোগ আর অনুশীলনের অভাবে এখনো প্রকাশ পায়নি।

তাহলে অন্য কেউ আপনাকে পুরোপুরি চিনে ফেলেছে—এমনটা বিশ্বাস করেন কীভাবে?

আপনার পরিচিত মানুষগুলো আপনাকে আপনার অতীত দিয়ে চিনতে পারে। কিন্তু আপনার ভবিষ্যৎ তৈরি হবে আপনার আজকের সিদ্ধান্ত দিয়ে।

যে মানুষটি একসময় ভয় পেত, সে-ই একদিন সাহসী হতে পারে। যে মানুষটি একসময় কিছুই জানত না, সে-ই একদিন অন্যকে শেখাতে পারে। যে মানুষটি আজ নিজের সামর্থ্য নিয়ে সন্দিহান, সেও একদিন নিজের অর্জনের দিকে তাকিয়ে অবাক হতে পারে।

তবে এর জন্য শুধু স্বপ্ন দেখলে হবে না। নিজের অজুহাতের সঙ্গে লড়তে হবে, প্রতিদিন কিছু না কিছু শিখতে হবে, নি‌জে‌কে skilled কর‌তে হ‌বে, ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং ফলাফল দেরিতে এলেও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

কারণ, আপনার সম্ভাবনা আপনাকে Special বানায় না; সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সাহসই ও ক‌ন্টি‌নিউ করা প্রতি‌টি কাজ আপনাকে আলাদা করে।

অন্যের ধারণার মধ্যে নিজের জীবন আটকে রাখবেন না

একবার কল্পনা করুন, একটি ছোট্ট বীজকে যদি শুধু তার আকার দেখে বিচার করা হয়, তাহলে কেউ কি বিশ্বাস করবে যে একদিন সেটি বিশাল গাছ হয়ে উঠতে পারে?

বীজটি কিন্তু কারও অনুমতির অপেক্ষায় থাকে না। সে মাটির নিচে নিজের কাজ করে যায়। বাইরে থেকে হয়তো কিছুই দেখা যায় না, কিন্তু অদৃশ্যের মধ্যে তার শিকড় তৈরি হতে থাকে। তারপর একদিন মাটির বুক চিরে বেরিয়ে আসে একটি ছোট্ট চারা।

আপনার জীবনেও এমন সময় আসতে পারে, যখন আপনার পরিশ্রমের কোনো দৃশ্যমান ফল থাকবে না। আপনি শিখছেন, চেষ্টা করছেন, নিজেকে বদলাচ্ছেন—কিন্তু মানুষ তার কিছুই দেখছে না।

সেই সময়টাকে ব্যর্থতা ভেবে থেমে যাবেন না।

হয়তো আপনি এখনো ফল পাচ্ছেন না, কারণ আপনার শিকড় তৈরি হচ্ছে।

আপনি যে বইটি পড়ছেন, যে দক্ষতাটি শিখছেন, যে ছোট্ট সঞ্চয়টি করছেন, যে খারাপ অভ্যাসটি ছাড়ার চেষ্টা করছেন—এসবের কোনোটিই হয়তো আজ আপনাকে বড় করে তুলবে না। কিন্তু প্রতিদিনের এই ছোট ছোট পরিবর্তনই একদিন আপনার জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে।

সব পরিবর্তন চোখে দেখা যায় না। কিছু পরিবর্তন প্রথমে মানুষকে নয়, মানুষের ভিতকে শক্ত করে।

আলাদা হওয়ার জন্য অন্য কারও মতো হতে হবে না

পৃথিবীতে ইতিমধ্যে অনেক মানুষ আছে, যারা অন্যদের মতো হওয়ার চেষ্টা করতে করতে নিজের স্বকীয়তাই হারিয়ে ফেলেছে।

তারা কী পরবে, কী বলবে, কীভাবে জীবন কাটাবে—সবকিছুতেই অন্যের অনুমোদন খোঁজে। তারা ভুলে যায়, সবার পথ এক হতে পারে না, সবার সাফল্যের সংজ্ঞাও এক নয়।

কেউ দ্রুত সফল হবে, কেউ একটু দেরিতে। কেউ ব্যবসা করে নিজের পরিচয় তৈরি করবে, কেউ জ্ঞান দিয়ে, কেউ সৃজনশীলতা দিয়ে, আবার কেউ প্রতিদিন সততার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করেই সম্মান অর্জন করবে।

আপনার পথ অন্যের পথের মতো না হলেই সেটি ভুল হয়ে যায় না।

আপনাকে অন্যের চেয়ে ধনী, জনপ্রিয় কিংবা প্রতিভাবান হতেই হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। বরং নিজের গতকালের সংস্করণের চেয়ে আজ একটু ভালো হওয়া, নিজের দুর্বলতাগুলো চেনা, নিজের মূল্যবোধ ধরে রাখা এবং নিজের লক্ষ্য অনুযায়ী জীবন গড়ে তোলাই প্রকৃত উন্নতি।

মনে রাখবেন, আলাদা হওয়া মানে সবার চেয়ে উঁচুতে ওঠা নয়; আলাদা হওয়া মানে নিজের সত্যিকারের সত্তাকে হারিয়ে না ফেলা।

একদিন আপনার পরিবর্তনই আপনার পরিচয় হয়ে উঠুক

আজ যারা আপনাকে অবমূল্যায়ন করে, তাদের সবাইকে উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আজ যারা আপনার স্বপ্ন বুঝতে পারে না, তাদের প্রত্যেককে বোঝানোরও প্রয়োজন নেই।

আপনার কাজ হলো নিজের জীবনকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যেন একদিন আপনি নিজেই বুঝতে পারেন—আপনি কতটা পথ পেরিয়ে এসেছেন।

আপনার জ্ঞান বাড়ুক। আপনার চিন্তা পরিণত হোক। আপনার কাজের মান উন্নত হোক। আপনার কথার সঙ্গে কাজের মিল থাকুক। আপনার সাফল্য আপনাকে বিনয়ী করুক, আর ব্যর্থতা আপনাকে আরও বিচক্ষণ করে তুলুক।

মানুষ আপনাকে ভুল বুঝতেই পারে। কিন্তু সেই ভুল বোঝাবুঝিকে নিজের পরিচয় বানিয়ে ফেলবেন না।

আপনি যদি জানেন যে আপনার মধ্যে উন্নতি করার সুযোগ আছে, তাহলে সেই সুযোগকে কাজে লাগান। যদি জানেন কোনো অভ্যাস আপনাকে পিছিয়ে দিচ্ছে, তাহলে সেটি বদলানোর চেষ্টা করুন। যদি কোনো স্বপ্ন সত্যিই আপনার কাছে মূল্যবান হয়, তাহলে তার জন্য সময় দিন, পরিশ্রম করুন এবং ধৈর্য ধরুন।

সবাইকে চমকে দেওয়ার জন্য নয়, নিজের জীবনের প্রতি সুবিচার করার জন্য এগিয়ে যান।

একদিন হয়তো মানুষ আপনার পরিবর্তন দেখবে। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেদিন আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে আপনি যেন বলতে পারেন—

“আমি অন্যের ধারণার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখিনি। আমি নিজের সম্ভাবনাকে সুযোগ দিয়েছি। আমি নিজের জীবনকে নিজের হাতে গড়ে তুলেছি।”

সেই দিনটির জন্যই আজকের পরিশ্রম।

সেই মানুষটি হয়ে ওঠার জন্যই আজকের ছোট ছোট চেষ্টা।

কারণ, আপনার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর আবিষ্কারটি হয়তো কোনো নতুন জায়গা নয়, কোনো নতুন মানুষও নয়—সেটি হতে পারে আপনার নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সেই মানুষটি, যাকে আপনি এখনো পুরোপুরি চিনে উঠতে পারেননি।

মানুষ আপনাকে যতটা চেনে, তার চেয়েও Special হ‌য়ে উঠুন। অন্যের ধারণাকে ছাড়িয়ে যান, নিজের সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে যান, আর প্রতিদিন একটু একটু করে হয়ে উঠুন নিজের BEST VERSION, তাহ‌লেই আপ‌নি হ‌বেন UNSTOPPABLE !!

— Saiful Lanju Mentorship





একই পরিশ্রমে কেউ সফল, কেউ ব্যর্থ—কারণটা কৌশলেজীবনে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা দিনের পর দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সকাল থেক...
13/10/2026

একই পরিশ্রমে কেউ সফল, কেউ ব্যর্থ—কারণটা কৌশলে

জীবনে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা দিনের পর দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ততা, অসংখ্য দায়িত্ব, একের পর এক চেষ্টা—তবুও সাফল্য যেন তাঁদের ধরা দিচ্ছে না। অন্যদিকে, কেউ কেউ তুলনামূলক কম সময়ে এমন কিছু অর্জন করে ফেলছেন, যা অর্জন করতে অন্যদের বছরের পর বছর লেগে যায়।

তখন আমাদের মনে একটি প্রশ্ন জাগে—দুজন মানুষই পরিশ্রম করছেন, তাহলে একজন সফল হচ্ছেন আর অন্যজন পিছিয়ে পড়ছেন কেন?

উত্তরটা সব সময় পরিশ্রমের পরিমাণে লুকিয়ে থাকে না। অনেক সময় উত্তরটা লুকিয়ে থাকে তাঁদের কাজ করার পদ্ধতিতে, চিন্তাভাবনায় এবং সঠিক কৌশল বেছে নেওয়ার ক্ষমতায়।

একটি ছোট্ট গল্প দিয়ে বিষয়টি বোঝা যাক।

একদিন প্রচণ্ড রোদে দুটি কাক তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পানি খুঁজছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তারা একটি মাটির কলসি খুঁজে পেল। কিন্তু কলসির ভেতরে পানি ছিল একেবারে তলানিতে। ঠোঁট বাড়িয়েও পানি পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছিল না।

প্রথম কাকটি বারবার চেষ্টা করতে লাগল। কখনো মাথা নিচু করে পানি খোঁজার চেষ্টা করল, কখনো ঠোঁট আরও ভেতরে ঢোকানোর চেষ্টা করল। সে যথেষ্ট পরিশ্রম করছিল, কিন্তু তার পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন ছিল না।

বারবার ব্যর্থ হয়ে একসময় সে হতাশ হয়ে পড়ল। তার মনে হলো, এত চেষ্টা করেও যখন পানি পাওয়া যাচ্ছে না, তখন আর কী করার আছে!

কিন্তু দ্বিতীয় কাকটি সমস্যাটিকে একটু অন্যভাবে দেখল। সে শুধু পানিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করল না; বরং ভাবতে শুরু করল, কী করলে পানিটাকে নিজের কাছে নিয়ে আসা যায়।

কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর সে ছোট ছোট পাথর ঠোঁটে তুলে কলসির মধ্যে ফেলতে শুরু করল। একটির পর একটি পাথর জমা হতে লাগল। পাথরগুলো যত নিচে জমতে লাগল, পানির স্তরও তত ওপরে উঠতে থাকল।

অবশেষে পানি এতটাই ওপরে উঠে এল যে কাকটি সহজেই পানি পান করতে পারল।

দুটি কাকের লক্ষ্য একই ছিল। দুটিই তৃষ্ণার্ত ছিল। দুটিই পানি পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছিল। কিন্তু পার্থক্য তৈরি হয়েছিল তাদের চিন্তাভাবনায়।

একটি কাক শুধু সমস্যার সঙ্গে লড়েছিল, অন্যটি সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজেছিল।

বাস্তব জীবনেও আমাদের অনেক ব্যর্থতার পেছনে ঠিক এই জায়গাটিই কাজ করে।

পরিশ্রম করছেন, কিন্তু সঠিক পথে তো?

ধরুন, দুজন মানুষ একই সময়ে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করলেন। দুজনেরই স্বপ্ন—ক্যারিয়ারে উন্নতি করা, পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন আনা এবং নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া।

প্রথম মানুষটি প্রতিদিন অফিসে আসেন, দায়িত্ব পালন করেন, প্রচুর কাজ করেন এবং দিনের শেষে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন। তিনি মনে করেন, যত বেশি কাজ করবেন, তত দ্রুত উন্নতি হবে।

দ্বিতীয় মানুষটিও সমান আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেন। কিন্তু তিনি কাজ করার পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়ান, নতুন কিছু শেখেন, সময়ের সঠিক ব্যবহার করেন এবং কোন কাজটি তাঁর ভবিষ্যৎ উন্নতিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে, তা বোঝার চেষ্টা করেন।

কয়েক বছর পর দেখা গেল, দ্বিতীয় মানুষটি নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, তাঁর দক্ষতার মূল্য বেড়েছে এবং তিনি ক্যারিয়ারে এগিয়ে গেছেন।

এর অর্থ এই নয় যে প্রথম মানুষটি অলস ছিলেন কিংবা তাঁর পরিশ্রমের কোনো মূল্য ছিল না। বরং দ্বিতীয় মানুষটি পরিশ্রমের সঙ্গে নিজের উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলও যুক্ত করেছিলেন।

ব্যস্ত থাকা আর এগিয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়। অনেক কাজ করাও সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়, যদি সেই কাজগুলো আপনাকে আপনার লক্ষ্যের কাছাকাছি নিয়ে না যায়।

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কৌশলের প্রয়োজন

আপনি যদি ব্যবসা করেন, তাহলে শুধু বেশি সময় দোকানে বসে থাকলেই ব্যবসা বড় হবে না। আপনাকে বুঝতে হবে ক্রেতারা কী চান, কোন পণ্যের চাহিদা বেশি এবং কীভাবে খরচ নিয়ন্ত্রণ করে আয় বাড়ানো যায়।

আপনি যদি চাকরি করেন, তাহলে শুধু দায়িত্ব পালন করলেই হবে না। নিজের দক্ষতা, যোগাযোগের ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্যতা এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহও বাড়াতে হবে।

আপনি যদি পড়াশোনা করেন, তাহলে শুধু ঘণ্টার পর ঘণ্টা বইয়ের সামনে বসে থাকলেই হবে না। কোন পদ্ধতিতে পড়লে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পারবেন, কীভাবে মনে রাখতে পারবেন এবং কীভাবে নিজের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠবেন—সেটিও জানতে হবে।

এমনকি জীবনের কঠিন সময়েও একই কথা প্রযোজ্য। সব সমস্যার সমাধান আরও বেশি চাপ নেওয়ার মধ্যে নেই। কখনো বিরতি নিতে হয়, কখনো পরিকল্পনা বদলাতে হয়, কখনো সাহায্য চাইতে হয়, আবার কখনো পুরোনো পথ ছেড়ে নতুন পথ বেছে নিতে হয়।

কারণ, একই পথে বারবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে সব সময় আরও জোরে চেষ্টা করাই সমাধান নয়; কখনো পথটিই পরিবর্তন করতে হয়।

বিখ্যাত লেখক হেনরি ডেভিড থোরোর একটি গভীর উপলব্ধি

“It is not enough to be busy; so are the ants. The question is: What are we busy about?”

শুধু ব্যস্ত থাকাই যথেষ্ট নয়; পিঁপড়ারাও ব্যস্ত থাকে। আসল প্রশ্ন হলো, আমরা কী নিয়ে ব্যস্ত আছি?

এই কথাটির শিক্ষা আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন। কারণ, জীবনের মূল্য শুধু কতটা পরিশ্রম করলাম, কতটা ক্লান্ত হলাম কিংবা কতটা সময় ব্যয় করলাম—তা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। আমরা সেই সময় ও শ্রমকে কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারলাম, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আজ থেকে নিজের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন রাখুন

আমি কি শুধু ব্যস্ত থাকার জন্য কাজ করছি, নাকি সত্যিই আমার লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছি?

আমি যে সমস্যার সমাধান খুঁজছি, তার জন্য আমার বর্তমান পদ্ধতিটি কি কার্যকর?

আমি কি প্রতিদিন শুধু পরিশ্রম বাড়াচ্ছি, নাকি নিজের জ্ঞান ও দক্ষতাও বাড়াচ্ছি?

আমি কি একই ভুল বারবার করছি, নাকি প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে নতুন কিছু শিখছি?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনাকে নিজের কাজের পদ্ধতি নতুন করে ভাবতে সাহায্য করবে।

মনে রাখবেন, ব্যর্থতা মানেই আপনি অযোগ্য নন। অনেক সময় ব্যর্থতা শুধু এটুকুই জানিয়ে দেয় যে আপনার বর্তমান পদ্ধতিটি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। ভুল পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন পরিশ্রম করার চেয়ে নিজের ভুল বুঝে নতুন কৌশলে এগিয়ে যাওয়া অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ।

জীবনে এমন সময় আসবে, যখন আপনি অন্যদের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করেও প্রত্যাশিত ফল পাবেন না। তখন হতাশ হয়ে নিজের সামর্থ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন না। একটু থামুন, নিজের কাজ বিশ্লেষণ করুন, কোথায় ঘাটতি রয়েছে তা খুঁজে বের করুন এবং প্রয়োজন হলে নতুনভাবে শুরু করুন।

কারণ, সফল মানুষদের সঙ্গে ব্যর্থ মানুষের পার্থক্য সব সময় তাঁদের পরিশ্রমে নয়; অনেক সময় পার্থক্য তৈরি হয় তাঁরা সমস্যাকে কীভাবে দেখেন এবং সমাধানের জন্য কী পদক্ষেপ নেন, তার মধ্যে।

আপনার পরিশ্রমকে কখনো ছোট করে দেখবেন না। শুধু নিশ্চিত করুন, সেই পরিশ্রম যেন সঠিক চিন্তা, কার্যকর পরিকল্পনা এবং বুদ্ধিদীপ্ত কৌশলের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

আজ আপনি কতটা পরিশ্রম করছেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো—আপনার পরিশ্রম আপনাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে।

মনে রাখবেন, লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু শক্তি প্রয়োগ করলেই হয় না; কখন শক্তি প্রয়োগ করতে হবে, কোথায় করতে হবে এবং কীভাবে করতে হবে—সেটি জানাও এক ধরনের দক্ষতা।

পরিশ্রম আপনাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেয়, আর সঠিক কৌশল আপনাকে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

তাই শুধু কঠোর পরিশ্রমী নয়, একজন বুদ্ধিদীপ্ত পরিশ্রমী মানুষ হয়ে উঠুন। কারণ, জীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য ঘাম ঝরানো যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।

— Saiful Lanju Mentorship






সবাইকে হারানো মানেই ক্ষতি নয়—কিছু হারানোই নতুন করে বাঁচতে শেখায়জীবনে এমন কিছু সময় আসে, যখন আমরা কোনো কিছু হারিয়ে ভেঙে পড়...
12/10/2026

সবাইকে হারানো মানেই ক্ষতি নয়—কিছু হারানোই নতুন করে বাঁচতে শেখায়

জীবনে এমন কিছু সময় আসে, যখন আমরা কোনো কিছু হারিয়ে ভেঙে পড়ি। কখনো হারাই প্রিয় কোনো মানুষকে, কখনো হারাই বহুদিনের সম্পর্ক, কখনো হারাই বিশ্বাস, আবার কখনো হারিয়ে ফেলি নিজের দেখা সবচেয়ে সুন্দর স্বপ্নটাকেও।

সেই মুহূর্তে মনে হয়, সবকিছু বুঝি শেষ হয়ে গেল। যে মানুষটিকে ঘিরে এত স্বপ্ন ছিল, সে আর পাশে নেই। যে সম্পর্কটাকে বাঁচিয়ে রাখতে এত চেষ্টা করেছি, সেটি আর আগের মতো নেই। যেটুকু পাওয়ার আশায় এতটা পথ হেঁটেছি, শেষ পর্যন্ত সেটুকুও পাওয়া হলো না।

আমরা তখন শুধু হারানোর হিসাব করি। কতটা সময় দিয়েছি, কতটা ভালোবেসেছি, কতটা ত্যাগ করেছি, কতটা নিজের সঙ্গে আপস করেছি—সবকিছুর হিসাব মেলাতে বসি। কিন্তু একটা প্রশ্ন কখনো নিজেদের করি না—

যাকে হারানোর ভয়ে এত দিন নিজেকেই হারিয়ে ফেলছিলাম, তাকে হারিয়ে কি আমি আবার নিজেকে ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছি না?

একটু ভেবে দেখুন, একটি পেন্সিলের কথা।

পেন্সিলটি যখন শার্পনারের ভেতরে প্রবেশ করে, তখন তার কাঠ ক্ষয়ে যায়, তার পুরোনো আকৃতি বদলে যায়। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, তার কিছু অংশ নষ্ট হয়ে গেল। যে অংশটুকু একসময় তার শরীরের অংশ ছিল, সেটুকু এখন কাঠের ছোট ছোট টুকরো হয়ে পড়ে আছে।

কিন্তু পেন্সিলটি কি সত্যিই শুধু কিছু হারাল?

না। সেই ক্ষয়ের মধ্য দিয়েই তার ভোঁতা হয়ে যাওয়া মাথাটি আবার ধারালো হলো। যে পেন্সিলটি আর স্পষ্ট করে লিখতে পারছিল না, সেটিই আবার নতুন করে লেখার উপযোগী হয়ে উঠল।

পেন্সিলটি কিছুটা হারিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই হারানোর মধ্য দিয়েই সে তার কাজ করার ক্ষমতা ফিরে পেয়েছে।

আমাদের জীবনও অনেকটা এমন।

কিছু সম্পর্ক আমাদের জীবনে আসে, যারা প্রথমে আমাদের অনেক আনন্দ দেয়। আমরা ভাবি, এই মানুষটিই হয়তো শেষ পর্যন্ত পাশে থাকবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারি, সেই সম্পর্কের ভেতর আমরা নিজের শান্তি হারাচ্ছি, আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছি, এমনকি নিজের পরিচয়টুকুও হারিয়ে ফেলছি।

তবুও আমরা সম্পর্কটিকে আঁকড়ে ধরে থাকি। কারণ আমরা মানুষটিকে হারাতে ভয় পাই। আমরা ভুলে যাই, কাউকে ধরে রাখতে গিয়ে যদি প্রতিদিন নিজেকেই হারাতে হয়, তবে সেই ধরে রাখার মূল্যটা কতটা ভয়ংকর!

কখনো কখনো কাউকে ছেড়ে আসা মানে তাকে ঘৃণা করা নয়। বরং নিজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া। কখনো কোনো সম্পর্কের সমাপ্তি মানে ভালোবাসার পরাজয় নয়; বরং নিজের আত্মসম্মান, মানসিক শান্তি এবং ভবিষ্যৎকে গুরুত্ব দিতে শেখা।

তবে মনে রাখবেন, সব বিচ্ছেদই ভালো, এমন নয়। কিছু মানুষকে হারানো সত্যিই কষ্টের, কিছু শূন্যতা সহজে পূরণ হয় না। কিন্তু সেই কষ্টের মধ্যেও জীবনকে নতুনভাবে বোঝার, নিজেকে গড়ে তোলার এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইতিহাসও আমাদের এই শিক্ষা দেয়

বিশ্ববিখ্যাত লেখক জে. কে. রাউলিংয়ের জীবনের দিকে তাকান। হ্যারি পটার প্রকাশের আগে তিনি ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। তাঁর পাণ্ডুলিপি একাধিক প্রকাশকের প্রত্যাখ্যানের মুখেও পড়েছিল। প্রতিটি প্রত্যাখ্যান তাঁর জন্য হতাশার কারণ হতে পারত। কিন্তু সেই প্রত্যাখ্যানগুলো তাঁর গল্প লেখার যাত্রাকে থামিয়ে দিতে পারেনি।

অবশেষে Harry Potter and the Philosopher’s Stone প্রকাশিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে হ্যারি পটার সিরিজ বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি পাঠকের হৃদয় জয় করে।

এখানে শিক্ষাটা এই নয় যে, প্রত্যাখ্যান পেলেই সাফল্য নিশ্চিত। শিক্ষাটা হলো—একটি দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া মানেই আপনার সব সম্ভাবনার দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়।

যে সুযোগটি আপনি পাননি, সেটিই হয়তো আপনাকে নতুন প্রস্তুতি নিতে বাধ্য করবে। যে ব্যর্থতাটি আপনাকে থামিয়ে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে, সেটিই হয়তো আপনার ভুলগুলো চিনতে সাহায্য করবে। আর যে মানুষটি আপনার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েও চলে গেছেন, তাঁর চলে যাওয়ার পর হয়তো আপনি বুঝতে শিখবেন—আপনার জীবনের মূল্য অন্য কারও উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়।

তাই হারানোর পর নিজেকে শেষ করে দেবেন না

কোনো সম্পর্ক শেষ হলে নিজেকে প্রশ্ন করবেন না, “আমার মধ্যে কী এমন কমতি ছিল যে মানুষটি চলে গেল?”

বরং নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, “এই অভিজ্ঞতা থেকে আমি কী শিখলাম? ভবিষ্যতে নিজেকে কীভাবে আরও ভালোভাবে বুঝব? কীভাবে এমন একটি জীবন গড়ব, যেখানে কাউকে ভালোবাসলেও নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দিতে হবে না?”

কোনো চাকরি, সুযোগ কিংবা স্বপ্ন হাতছাড়া হলে ভাববেন না, আপনার যোগ্যতা শেষ হয়ে গেছে। হয়তো আরও কিছু শেখার আছে, হয়তো নতুনভাবে চেষ্টা করার আছে, কিংবা হয়তো আপনার পরিকল্পনাটিই একটু বদলানো প্রয়োজন।

আর কখনো নিজের কোনো ভুলের কারণে কিছু হারিয়ে ফেললে, সেই ভুলকে নিজের পরিচয় বানিয়ে নেবেন না। ভুল স্বীকার করুন, প্রয়োজন হলে ক্ষমা চান, শিক্ষা নিন এবং নিজেকে সংশোধন করুন।

কারণ জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি সব সময় কিছু হারিয়ে ফেলা নয়। কখনো কখনো সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো, হারানোর ভয়কে এত বড় করে তোলা যে আমরা নতুন করে শুরু করার সাহসটুকুও হারিয়ে ফেলি।

মনে রাখবেন, পেন্সিলকে বারবার শার্প করতে হয় বলে তার জীবন থেমে থাকে না। বরং সে আবার লিখতে পারে, নতুন শব্দ তৈরি করতে পারে, নতুন গল্পের জন্ম দিতে পারে।

আপনার জীবনও কোনো একটি মানুষ, একটি সম্পর্ক, একটি ব্যর্থতা কিংবা একটি প্রত্যাখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আপনার সামনে আরও অনেক পথ, অনেক সম্ভাবনা এবং অনেক নতুন অধ্যায় অপেক্ষা করছে।

আজ যেটিকে আপনি জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি মনে করছেন, কিছুদিন পর হয়তো সেটিকে দেখেই বলবেন—সেই অভিজ্ঞতা না হলে আমি নিজেকে এত গভীরভাবে চিনতে পারতাম না। নিজের মূল্য বুঝতে পারতাম না। নিজের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শিখতাম না।

তবে এই উপলব্ধির জন্য আপনাকে আজই সব কষ্ট ভুলে যেতে হবে না। কষ্ট পেলে কাঁদুন, মন খারাপ হলে নিজেকে সময় দিন, প্রয়োজন হলে বিশ্রাম নিন। শক্তিশালী হওয়ার অর্থ কখনো কষ্ট না পাওয়া নয়; শক্তিশালী হওয়ার অর্থ হলো, কষ্ট পাওয়ার পরও ধীরে ধীরে জীবনের দিকে ফিরে আসা।

আপনি যা হারিয়েছেন, তা হয়তো আর আগের মতো ফিরে পাবেন না। কিন্তু সেই হারানোর কারণে আপনি যেন নিজের ভবিষ্যৎটুকুও হারিয়ে না ফেলেন।

কিছু মানুষ চলে যায়, কিছু স্বপ্ন বদলে যায়, কিছু দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। তবুও জীবন থেমে থাকে না।

কারণ কখনো কখনো পুরোনো কিছু জায়গা ছেড়ে না দিলে নতুন কিছুর জন্য জায়গা তৈরি হয় না। কখনো কখনো কিছু হারানোর পরই আমরা বুঝতে পারি, আসলে কোন জিনিসগুলো আমাদের জীবনে সত্যিই মূল্যবান।

আজ তাই নিজের হারানোর তালিকা নয়, নিজের শেখার তালিকাটি তৈরি করুন। কী হারিয়েছেন, শুধু তা নয়—সেই অভিজ্ঞতা আপনাকে কী শিখিয়েছে, সেটিও লিখুন।

হয়তো দেখবেন, আপনার কিছু ক্ষত আপনাকে আরও সহানুভূতিশীল করেছে, কিছু ব্যর্থতা আপনাকে আরও দক্ষ করেছে, আর কিছু বিচ্ছেদ আপনাকে নিজের প্রতি আরও যত্নশীল হতে শিখিয়েছে।

জীবনের প্রতিটি হারানোকে সুন্দর বলে মেনে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। শুধু এটুকু বিশ্বাস রাখুন—একটি খারাপ অধ্যায় আপনার পুরো জীবনের গল্প নয়।

আপনার গল্পের পরের অধ্যায়টি কেমন হবে, তা লেখার সুযোগ এখনও আপনার হাতে আছে।

— Saiful Lanju Mentorship






Address

House-62, Road-20, Sector-11, Uttara
Dhaka
1230

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Saiful Lanju posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Saiful Lanju:

Shortcuts

Share

Category