09/08/2018
বাইকের বেসিক রক্ষনাবেক্ষন
আমরা সবাই আমাদের মোটর সাইকেল থেকে ভালো সার্ভিস প্রত্যাশা করি । ভালো সার্ভিস পেতে হোলে আমাদের শখের বাইকটি নিয়মিত সার্ভিস করানো অতি প্রয়োজন । তাই কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী সার্ভিস রুল ফলো করা খুব দরকার ।
নিয়মিত সার্ভিস ও চেকাপ করলে আমাদের মোটর সাইকেল নিয়ে অপ্রত্যাশিত সমস্যার সন্মুখিত হতে হবেনা ।
তবে কিছু বেসিক বিষয়ে লক্ষ্য রাখলে আমরা আমাদের মোটর সাইকেল থেকে ভালো সার্ভিস আশা করতে পারি ।
১/ প্রতি ১৫ দিন পরপর বাইকের উভয় চাকার হাওয়ার প্রেশার চেক করুন । কমে গেলে হাওয়া দিয়ে নিন । এতে বাইকের মাইলেজ ও পারফর্মেন্স ভালো থাকবে ।
২/ প্রতি ৭০০ থেকে ১০০০ কিমি পরপর এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করুন ও ৫০০০ কিমিতে পরিবর্তন করুন । মনে রাখবেন বাইকের ফুয়েল এফিসিয়েন্সি ও পারফর্মেন্স এ এর গুরুত্ব অপরিসীম ।
৩/ বাইকের ড্রাইভ চেন এডজাস্ট ও লুব করুন । লুজ চেন বাইকের গিয়ার শিফটিং , স্পকেট ও পারমরমেন্স এর জন্য ক্ষতিকর ।
৪/ নিয়মিত বাইকের ব্রেক প্যাড চেক করুন ও প্রয়োজনে পরিবর্তন করুন । ব্রেক প্যাড ক্ষয়ে গেলে তা আপনার বাইকের মুল্যবান ডিক্সটিকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে ।
৫/ ব্রেক সু পরিষ্কার , এডজাস্ট ও প্রয়োজনে পরিবর্তন করুন ।
৬/ স্পার্ক প্লাগ প্রতি ১০০০ কিমি পরপর পরিষ্কার ও ৬০০০ থেকে ৭০০০ কিমিতে পরিবর্তন করুন । স্পার্ক প্লাগ বাইকের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ । স্পার্ক প্লাগ পরিবর্তনের সময়ে স্টক স্পার্ক প্লাগ এর নাম্বার অনুযায়ী পরিবর্তন করুন ।
৭/ বাইকের IDLE RPM 1.3 to 1.4 এ সেট করুন ।
৮/ প্রতি ১০০০ কিমি ( মিনারেল ) পরপর ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করুন । সঠিক গ্রেড এর ইঞ্জিন অয়েল ব্যাবহার করুন , মনে রাখবেন ভুল গ্রেড এর ইঞ্জিন অয়েল বাইকের ইঞ্জিন এর আয়ুষ্কাল ও পারফর্মেন্স কমিয়ে দেয় ।
৯/ প্রতি ৩ মাস অন্তর বাইকের ক্লাচ ও এক্সালারেটর এর ক্যাবেল চেক ও লুব করুন । ক্যাবেল এর সমস্যা থাকলে তা পরিবর্তন করুন ।
১০/ প্রতি মাসে বাইকের সব নাট , বোল্ট ও স্কু চেক করুন , ঢিলা থাকলে তা টাইট দিয়ে নিন ।
১১/ প্রতি ৬ মাসে একবার ফুয়েল ট্যাংক পরিষ্কার করুন । এতে বাইকের ফুয়েল ট্যাংক ও কারবুরেটর ভালো থাকবে ।
১২/ প্রতি মাসে বাইকের ব্যাটারির ইলেক্ট্রোলাইট লেভেল চেক করুন । ইলেক্ট্রোলাইট লেভেল কমে গেলে তা ডিস্ট্রিল ওয়াটার দিয়ে পূর্ণ করুন । মনে রাখবেন ইলেক্ট্রোলাইট লেভেল কমে গেলে ব্যাটারির উপর তা বিরূপ প্রভাব ফেলবে ও ব্যাটারির আয়ু কমিয়ে দিবে ।
১৩/ প্রতি ৭ দিন পরপর বাইকের উভয় চাকা ফ্রি আছে কিনা তা চেক করুন ।
১৪/ প্রতি মাসে বাইকের চাকার বিয়ারিং চেক করুন ।
১৫/ বাইকের ঘাড় থেকে কোন শব্দ আসলে বাইকের ঘাড় টাইট দিয়ে নিন । তবে লক্ষ রাখবেন যেন বেশী টাইট না দেয়া হয় , বেশী টাইট দিলে বাইকের ব্যালেন্স এ সমস্যা হবে ।
১৬/ বাইকের ভাল্ভ ক্লিয়ারেন্স চেক করুন । ভাল্ভ এর গ্যাপ ঠিক না থাকলে বাইকের পারমরমেন্স ও ফুয়েল ইকোনমি নষ্ট হয় ।
আশা করি লেখাটি কিছুটা হলেও আপনাদের কাজে আসবে । কস্ট করে লেখাটি পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ।
07/04/2018
আমরা অনেকেই জানি না যে কীভাবে হেলমেট এর গ্লাস পরিষ্কার করতে হয়। হেলমেট যেমন প্রয়োজন ঠিক তেমনই প্রয়োজন এর গ্লাস পরিষ্কার রাখা তাই নিচের লিংকে আপনাদের জন্য সহজ করে দেখিয়ে দেয়া হচ্ছে কীভাবে এর গ্লাস পরিষ্কার করবেন।
হ্যাপি বাইকিং। :)
https://m.youtube.com/watch?feature=youtu.be&v=oYNvRN8kIKo
07/04/2018
, #বাইক_কিনার_সময়_শোরুম_এর_প্রয়োজনীয়_______পরীক্ষা
আপনার বাইকটি যখন বিদেশ থেকে আমদানী করা হয় তখন এটা একটা ক্রেটের সংগে বেঁধে নিয়ে আসা হয়। নতুন বাইকে ছোটখাট অনেক সমস্যা থাকতে পারে। এখানে একটা চেক লিস্ট দেওয়া হলো। কেনার সময় ব্যাপার গুলো মিলিয়ে নিলে সার্ভিসিং এর জন্য বার বার দোকানে আসার ঝামেলা থেকে বাঁচবেন।
বাইক কিনার সময় শোরুম এর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা
১. সামনের ও পেছনের টায়ার ঠিক মত লাগানো আছে কিনা, টায়ারে গায়ে দেখুন তীর চিহ্ন আছে। সেটা মোটর সাইকেল যেদিকে যাবে সেদিকে দিক নির্দেশ করছে কিনা দেখে নিন।
২. টায়ারের পাম্প বা এয়ার প্রেসার টায়ারে বা ম্যানুয়ালে যা লেখা আছে সে মত পাম্প রাখবেন।
৩. ফ্রন্ট এক্সেল বোল্ট টাইট করুন।
৪. ব্রেক চেপে দেখে নিন এর কার্যকারিতা ঠিক আছে কিনা।
৫. এখনকার বেশির ভাগ বাইকই অবশ্য স্পোক লেস। রীম বাঁকা হওয়ার সম্ভবনা কম তবুও রীম সোজা আছে কিনা ভালমত দেখে নিন। স্পোক থাকলে সেগুলো ঠিক মত লাগানো আছে কিনা দেখুন।
৬. স্টিয়ারিং হ্যান্ডল ঠিকমত যেন ঘোরে চেক করুন। স্টিয়ারিং যে নাট বল্টু দিয়ে লাগানো থাকে সেগুলো যথেষ্ঠ টাইট কিনা খেয়াল করুন।
৭. বাইকে চেপে বসে খেয়াল করুন ফর্ক বা শক অ্যাবজর্বার ঠিকমত ওঠানামা করছে কিনা।
৮. আপনার বাইকটির সীট যদি অ্যাডজাস্টটেবল হয়, তাহলে আপনার উচ্চতা অনুযায়ী অ্যাডজাস্ট করে নিন।
৯. ক্লাচ কেবল আর থ্রটল কেবল ঠিক করে নিন। দেখে নিন গিয়ার ক্লাচ করা অবস্থায় সহজেই পরিবর্তন করা যাচ্ছে কিনা। নইলে ক্লাচ অ্যাডজাস্ট করতে বলুন।
১০. বাইকটি স্থির থাকা অবস্থায় ইঞ্জিন অয়েল যথেষ্ঠ আছে কিনা দেখে নিন। অবশ্যই ম্যানুয়ালে যে গ্রেড এর ইঞ্জিন ওয়েল ব্যবহার করতে বলা হয়েছে সে গ্রেড এর ওয়েল ব্যবহার করুন।
১১. চেন অতিরিক্ত ঢিলা বা টাইট থাকলে প্রয়োজনমত অ্যাডজাস্ট করে নিন।
১২. বাইক এর ম্যানুয়াল ও ওয়ারেন্নটি কার্ড বুঝে নিন।
অবশ্যই বাইক এর ম্যানুয়াল ভালমত পরে সে অনুযায়ী বাইক রক্ষনাবেক্ষন করুন।
14/07/2017
আমরা সবাই বাইকের ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করি, কিন্ত কিছু অতি জরুরী বিষয় হয়তো অনেকেই জানিনা , তা হলো,
ইঞ্জিন অয়েল চেঞ্জ করার সময় ডিপ স্টিক ফলো করুন, যদি ডিপ স্টিক না থাকে সেক্ষেত্রে ইউজার ম্যানুয়াল বা ইঞ্জিন থেকে ইঞ্জিন অয়েল ভলিউম ফলো করুন,
অর্থাৎ আমি বোঝাতে চাইছি, সব বাইকের ইঞ্জিনে একই পরিমান ইঞ্জিন অয়েল নিতে পারেনা, কিছু বাইকে ৯০০ মিলি লিটার/কিছু বাইকে ১০০০ মিলি লিটার আবার কিছু বাইকে ১২০০/১৫০০ মিলি লিটার অয়েল দিতে হয়।
তাই কোন বাইকের ইঞ্জিনে কতটা অয়েল লাগে সেটা অবশ্যই জেনে নেবেন, কেননা সঠিক মাপ এর চেয়ে ৫০/১০০ এম এল অয়েল কম থাকলে ক্ষতি নেই তবে যদি আপনি মাপ এর চেয়ে বেশি অয়েল ইঞ্জিনে দেন তবে তা আপনার বাইকের ইঞ্জিনের অয়েলসীল গুলো নষ্ট করে দিতে পারে যা রিপেয়ার করা খুব দুরহ ও ব্যায়বহল ব্যাপার।
প্রতি ৯০০/১০০০ কি.মি পর পর ইঞ্জিন অয়েল এবংপ্রতি ৩ হাজার কিলোমিটার পর পর ইঞ্জিন অয়েল ফিল্টার চেঞ্জ করুন ।
আরেকটা জিনিস সবসময় খেয়াল রাখবেন, ড্রেইন নাট যেন সঠিক যন্ত্র দিয়ে সতর্কতার সাথে খোলা এবং লাগানো হয়, কারন ড্রেইন নাট নষ্ট হলেও আপনাকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে ।
ম্যানুফ্যাকচার এর রিকমেন্ডেশন অনুযায়ী সঠিক গ্রেড ও ভালো ব্রান্ডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যাবহার করুন ।
আপনার প্রিয় বাইকের ইঞ্জিন দীর্ঘস্থায়ী হোক এই কামনায় আজ এখানেই শেষ করছি ।
ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন ।
23/05/2017
সবার মতামত চাই ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে ভালো পেট্রোল পাম্প কোনটা?