30/06/2026
পড়ুয়ার গল্প | পর্ব ৮ | রাহাতের গল্প
রাহাত আগে কখনো গল্পের বই পড়েনি। তার পুরো পড়াশোনার জগৎ ছিল পাঠ্যবইয়ের কয়েকটি অধ্যায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। বাবা সিএনজি চালান, মা অন্যের বাসায় কাজ করেন। সংসারের বাস্তবতায় গল্পের বই কেনার সুযোগ হয়নি কখনো।
তারপর একদিন স্কুলে এলো পড়ুয়ার লাইব্রেরি। অনেক বইয়ের ভিড়ে একটি বই তার চোখে পড়ে, ""বাংলা মায়ের সাতটি ছেলে""।
বইটি পড়তে পড়তে রাহাত প্রথমবারের মতো বাংলার ইতিহাসের অনেক গল্প জানতে পারে। যে গল্পগুলো পাঠ্যবইয়ের কয়েকটি লাইনের মধ্যে আটকে থাকে,
সেগুলোই তার কাছে জীবন্ত হয়ে ওঠে। একটা বই তাকে শুধু পড়ার আনন্দ দেয়নি, বরং নিজের দেশকে নতুনভাবে জানার সুযোগও দিয়েছে।
পড়ুয়া বিশ্বাস করে যে প্রতিটি বইয়ের ভেতরে শুধু গল্প থাকে না, থাকে নতুন কিছু জানার দরজা।
পড়ুয়াকে সাপোর্ট করতে নিচের লিংকে ক্লিক করুনঃ https://porua.co/
#পড়ুয়া
26/06/2026
পড়ুয়ার গল্প | পর্ব ৭ | সাজেদার গল্প
ছোটবেলা থেকে সাজেদা অন্যদের মুখে গল্পের বইয়ের কথা শুনেছে। বন্ধুরা গল্প বলত, কেউ বইয়ের চরিত্রের কথা বলত অথবা কেউ বলত দারুণ কোনো গল্পের কথা। সে সব শুনত। কিন্তু নিজের হাতে একটা গল্পের বই নিয়ে পড়ার সুযোগ তার কখনো হয়নি।
কারণ সে জানত, তার বাবা-মায়ের পক্ষে বই কিনে দেওয়া সম্ভব না। তাই সে কোনোদিন চাওয়ার সাহসও করেনি। তার পৃথিবী ছিল শুধু পাঠ্যবইয়ের ভেতর।
পড়ুয়ার লাইব্রেরি যখন তাদের স্কুলে স্থাপন করা হলো, প্রথমবারের মতো সাজেদা সেই গল্পগুলোর কাছে পৌঁছাতে পারল। এখন সে নিয়মিত বই পড়ে। নতুন মানুষ, নতুন সংস্কৃতি, নতুন চিন্তা সবকিছুর সাথে পরিচিত হচ্ছে বইয়ের মাধ্যমে।
আর এই ছোট্ট পরিবর্তনটাই একটি শিশুর শেখার যাত্রায় অনেক বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
পড়ুয়াকে সাপোর্ট করতে নিচের লিংকে ক্লিক করুনঃ https://porua.co/
#পড়ুয়া
23/06/2026
পড়ুয়ার গল্প | পর্ব ৬ | শরীফের গল্প
আপনার কি মনে আছে আপনার জীবনের প্রথম গল্পের বইয়ের কথা? কোন গল্পের বইটা দিয়ে শুরু হয়েছিল আপনার গল্পযাত্রা?
কিন্তু শরীফের মনে নেই, কারণ তৃতীয় শ্রেণিতে পড়লেও সে কখনো কোনো গল্পের বই পড়ার সুযোগ পায়নি।
বাবা ঢালাই কারখানায় কাজ করেন, মা অন্যের বাসায় গৃহস্থালির কাজ করেন। সংসারের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে গল্পের বই কেনা কখনোই সম্ভব হয়নি। তাই শরীফের পৃথিবী সীমাবদ্ধ ছিল শুধু পাঠ্যবইয়ের পাতায়।
তারপর একদিন স্কুলে এলো পড়ুয়ার লাইব্রেরি। জীবনে প্রথমবারের মতো সে নিজের পছন্দে একটি বই বেছে নেওয়ার সুযোগ পেল। প্রথমে পড়ল একটি ভূতের গল্প, তারপর একটি কার্টুন বই। বইগুলো হয়তো আমাদের কাছে খুব সাধারণ। কিন্তু শরীফের জন্য এগুলো ছিল সম্পূর্ণ নতুন এক পৃথিবীর দরজা।
একটা শিশুর হাতে যখন প্রথম গল্পের বই পৌঁছায় তখন সে শুধু একটা বই পায় না, সে আবিষ্কার করে কল্পনা করার স্বাধীনতা। আর সেই স্বাধীনতাটাই পৌঁছে দিতে চায় পড়ুয়া।
পড়ুয়াকে সাপোর্ট করতে নিচের লিংকে ক্লিক করুনঃ https://porua.co/
#পড়ুয়া
21/06/2026
বাবা মানেই সাহস। বাবা মানেই ভরসা। ❤️
শিশুরা যখন পৃথিবীকে চিনতে শেখে, তখন তাদের প্রথম সুপারহিরো কোনো গল্পের চরিত্র নয়—সেটা তাদের বাবা।
একটি ছোট্ট হাত যখন বাবার হাত ধরে, তখন সে শুধু হাঁটতে শেখে না; সে স্বপ্ন দেখতে শেখে, চেষ্টা করতে শেখে, আর বিশ্বাস করতে শেখে যে সে পারবে।
বাবার একটি উৎসাহ, একটি গল্প, একটি বই, কিংবা একসাথে কাটানো কিছু সময়—শিশুর আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার সবচেয়ে শক্তিশালী উপহার।
এই বাবা দিবসে উপহার হোক এমন কিছু, যা শুধু আজকের জন্য নয়, সন্তানের সারাজীবনের জন্য স্মৃতি হয়ে থাকবে। 📚✨
কারণ—
"বাবা, তোমার সাথে থাকলে আমি নির্ভয়ে মেঘেরও ওপরে উড়তে পারি।"
সব বাবাকে জানাই বাবা দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা। 🌿
#বাবাদিবস
20/06/2026
পড়ুয়ার গল্প | পর্ব ৫ | সামিয়ার গল্প
সামিয়ার বাড়িতে তার আলাদা পড়ার টেবিল নেই। নেই পড়াশুনা করার কোনো নিরিবিলি জায়গাও। পাঁচ ভাইবোন, বাবা-মা সবাই মিলে একটি ছোট্ট ঘরে তাদের বসবাস। বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন, মা অন্যের বাসায় রান্নাবান্না ও গৃহস্থালির কাজ করেন।
সামিয়ার একটা স্বপ্ন আছে, সে ডাক্তার হতে চায়। ডাক্তার শুধু তাঁর নিজের জন্য না; নিজের পরিবার আর তাদের জন্যেও যারা চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারে না।
একসময় তার জগৎটা সীমাবদ্ধ ছিল শুধু পাঠ্যবইয়ে। গল্প, কল্পনা, নতুন চিন্তা সবকিছুই ছিল অনেক দূরের। পড়ুয়ার লাইব্রেরি হওয়ার পর সেই সীমাবদ্ধতা ভেঙেছে। এখন সে বই নিয়ে বাড়ি যায়। এক রুমের ঘরটাও তখন গল্পে, স্বপ্নে আর নতুন জানার আনন্দে ভরে ওঠে। কারণ কখনো কখনো বড় স্বপ্নের শুরু হয় একটা ছোট বই থেকে।
পড়ুয়াকে সাপোর্ট করতে নিচের লিংকে ক্লিক করুনঃ https://porua.co/
#পড়ুয়া
18/06/2026
পড়ুয়ার গল্প | পর্ব ৪ | জুঁই মনির গল্প
জুঁই মনির সবচেয়ে প্রিয় কাজ কী জানেন? বই পড়া। কিন্তু একটা সময় পর্যন্ত তার কাছে বই বলতে ছিল শুধু পাঠ্যবই।
মোহাম্মদপুরের একটি ছোট ঘরে পরিবারের পাঁচ সদস্যের সাথে থাকে জুঁই। বাবা-মা দুজনেই পাথর ভাঙার কাজে যুক্ত। সংসারের বাস্তবতায় গল্পের বই কেনা কখনোই সম্ভব হয়নি। তবুও তার বই পড়ার আগ্রহ কমেনি।
পড়ুয়ার লাইব্রেরি যখন তাদের স্কুলে স্থাপন করা হলো, জুঁই যেন নতুন একটা পৃথিবী খুঁজে পেল। মজার বিষয় হলো, তখন চলছিল বার্ষিক পরীক্ষা। পরীক্ষার ব্যস্ততার মাঝেও সে লাইব্রেরি থেকে বই নেয় "ভোলানাথের সরদারি"। আর মাত্র দুই দিনেই শেষ করে ফেলে পুরো বই। কারণ কিছু কিছু বই শুধু পড়া হয় না, সেগুলো মানুষকে টেনে নেয়।
জুঁইয়ের মতো অসংখ্য শিশু আছে, যাদের বই পড়ার আগ্রহ আছে, কিন্তু সুযোগ নেই। পড়ুয়া সেই সুযোগটাই তৈরি করার চেষ্টা করে।
পড়ুয়াকে সাপোর্ট করতে নিচের লিংকে ক্লিক করুনঃ https://porua.co/
#পড়ুয়া
15/06/2026
পড়ুয়ার গল্প | পর্ব ৩ | শামীমের গল্প
শামীমের গল্পের বই পড়ার ইচ্ছা শুরু হয়েছিল বন্ধুদের কাছ থেকে। বন্ধুরা গল্পের বই পড়ত, তারপর সেই গল্পগুলো তাকে বলত। সে মুগ্ধ হয়ে শুনত। ধীরে ধীরে তারও ইচ্ছা হলো নিজের একটা গল্পের বই থাকবে।
একদিন বাবাকে বলেছিল, "আমারেও একটা গল্পের বই কিনে দিবা?" কিন্তু সংসারের হিসাব নিকাশের ভিড়ে তার বাবা তার ইচ্ছাটা পূরণ করতে পারেনি।
তারপর স্কুলে এলো পড়ুয়ার লাইব্রেরি। হঠাৎ করেই শত শত গল্প তার হাতের নাগালে চলে এলো। বই পড়ে সে শুধু আনন্দই পায়নি, স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কেও নতুন অনেক কিছু শিখেছে।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, যে ছেলেটি আগে অন্যদের মুখে গল্প শুনত, এখন সে নিজেই বই পড়ে ছোট বোন আর বন্ধুদের গল্প শোনায়। একটা বই কখনো কখনো একজন পাঠকই তৈরি করে না, একজন গল্পবাহকও তৈরি করে।
পড়ুয়াকে সাপোর্ট করতে নিচের লিংকে ক্লিক করুনঃ https://porua.co/
#পড়ুয়া
07/06/2026
পড়ুয়ার গল্প | পর্ব ২ | রিফাতের গল্প
রিফাতের গল্পটা শুনলে অবাক লাগতে পারে। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে, কিন্তু জীবনে কোনোদিন নিজের হাতে একটা গল্পের বই নিয়ে পড়ার সুযোগ হয়নি।
তার বাবা অসুস্থ। সংসারের পুরো দায়িত্ব মায়ের কাঁধে। মা তিনটি বাসায় কাজ করেন, শুধু পরিবারটাকে টিকিয়ে রাখার জন্য। গল্পের বই কেনা তাদের জন্য কখনোই প্রয়োজনীয় খরচের তালিকায় ছিল না।
তবুও রিফাতের বইয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল। সে পাঠ্যবইয়ের ভেতরে থাকা ছোট ছোট গল্পগুলো বারবার পড়ত। কারণ গল্পের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল, কিন্তু গল্পের বই ছিল না। পড়ুয়ার লাইব্রেরি তাদের স্কুলে আসার পর প্রথমবারের মতো রিফাতের সামনে খুলে যায় গল্পের বইয়ের জগৎ।
এখন সে বই ধার নেয়, পড়ে, বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে। কখনো কখনো একটা লাইব্রেরি শুধু বই দেয় না, একটা শিশুর দীর্ঘদিনের অপেক্ষারও শেষ করে।
#পড়ুয়া
03/06/2026
পড়ুয়ার গল্প | পর্ব ১ | রূপার গল্প
রূপা আক্তার সাদিয়া, তৃতীয় শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী।
গল্পের বই পড়তে তার খুব ভালো লাগত। কিন্তু সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়। তার নিজের কোনো গল্পের বই ছিল না। বাবা দিনমজুর, মা অন্যের বাসায় কাজ করেন। পাঁচ ভাইবোনের সাথে একটি ছোট্ট ঘরে তাদের বসবাস। এমনকি কাপড় রাখারও পর্যাপ্ত জায়গা নেই ঘরে।
তারপরও রূপা তাঁর বাবাকে প্রায়ই বলতো, "আমাকে একটা গল্পের বই কিনে দিবা?" কিন্তু দরিদ্র বাবার পক্ষে সেটা সম্ভব ছিল না।
পড়ুয়ার লাইব্রেরি যখন তাদের স্কুলে স্থাপন করা হলো, রূপার জন্য যেন নতুন একটা পৃথিবীর দরজা খুলে গেল। সে আনন্দের সাথে বাবাকে বলেছিল, "এখন আর বই কিনে দিতে হবে না। আমাদের স্কুলেই লাইব্রেরি হয়েছে।" লাইব্রেরি থেকে তার প্রথম নেওয়া বই ছিল ‘তুষারকন্যা ও সাত বামন’।
রূপার গল্পটা শুধু একজন শিশুর গল্প না। এটা সেইসব শিশুদের গল্প, যারা বই পড়তে চায়, জানতে চায়, স্বপ্ন দেখতে চায়, কিন্তু সুযোগ পায় না।
আর পড়ুয়া কাজ করে সেই সুযোগটা তৈরি করার জন্য।
#পড়ুয়া
02/06/2026
পড়ুয়া - ভবিষ্যৎ বদলের গল্প!
আজকের সময়ে শিশুদের হাতে বইয়ের চেয়ে মোবাইল ফোনই বেশি দেখা যায়।ফলে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে বই পড়ার অভ্যাস, মনোযোগ, কল্পনাশক্তি।
পড়ুয়া বিশ্বাস করে এই অভ্যাসটা ছোটবেলা থেকেই তৈরি করা জরুরি। তাই পড়ুয়ার প্রতিটি লাইব্রেরিতে শুধু বইই দেওয়া হয় না, তৈরি করা হয় এমন একটা পরিবেশ যেখানে শিশুরা নিয়মিত বই পড়তে আগ্রহী হয়। কারণ একটা বইয়ের সাথে বন্ধুত্ব একটা শিশুর পুরো ভবিষ্যৎটাই বদলে দিতে পারে।
#পড়ুয়া