31/05/2025
চ্যাম্পিয়নস লীগ ফাইনাল-
চ্যাম্পিয়নস লীগের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে পিএসজি- ইন্টার এই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে। এর আগে একটা প্রীতি ম্যাচে ইন্টার ২-১ গোলে পিএসজিকে হারিয়েছিলো।
আজকে মিউনিখের মাঠে দুই দলই ফেবারিট। পিএসজির দলটা তারণ্যে ভরা, ইন্টার দলটা অভিজ্ঞতায় ভরা। পিএসজি সর্বশেষ ২০২০ এ বায়ার্নের কাছে হেরে রানার আপ। এখন পর্যন্ত পিএসজি চ্যাম্পিয়নস লীগ টাইটেল ধরতে পারিনি। অন্যদিকে ইন্টার মিলান ১৯৬৪,১৯৬৫,২০১০ তিনবার চ্যাম্পিয়ন, আজ জিতলে চতুর্থবার চ্যাম্পিয়নস লীগ জিতবে।
30/05/2025
প্রিমিয়ার লীগে ২০০৩ এ চার্লটোন এথলেটিকের বিপক্ষে ডি-বক্সের কোনা থেকে শট নিয়ে গোল করে তেড়েফুড়ে দৌড় বা চ্যাম্পিয়নস লীগে ২০০৪-০৫ সিজনে অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৮৬ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে নেয়া তার হাফ ভলিতে গোলের পর দুই হাত প্রসারিত করে দর্শক অভিমুখে দৌড়ের কথা শুনলে আপনার যার কথা মনে পড়বে তার নাম জেরার্ড।
ইংল্যান্ডের হুইস্টন শহরে জন্মগ্রহণ করে সেই হাটি হাটি পা বয়সেই হুইস্টন জুনিয়র্সে খেলা শুরু, কিছুদিন যেতে না যেতেই লিভারপুল যুবদলের নজরে আসা। তারপর আর থামতে হয়নি মাঝমাঠের এই ফুটবল জাদুকরের। মাত্র ৯ বছর বয়সে ১৯৮৯ সালে লিভারপুল যুব ক্লাবে যোগদান।
সেই ছোট বয়সেই একটা এক্সিডেন্টে ডান পায়ের বুড়ো আঙুল এর চোটটা বেশ গুরুতরই ছিলো, লিভারপুলের সেসময়ের ক্লাব ডিরেক্টরের কারণে বড় কোন ক্ষতি তো হয়নি বরং দ্রুত সেরে উঠার ব্যবস্থা করে দেন তিনি, একথা জেরার্ড তার আত্বজীবনীতে লিখতে ভুলে যাননি।
১৯৯৮ তে লিভারপুলের মূল দলে যোগদেন এবং ২০১৫ তে লিভারপুল ছাড়ার আগ পর্যন্ত জেরার্ড লিভারপুলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে আজীবন দর্শকদের প্রানে স্থান করে নিয়েছেন। লিভারপুল ছাড়ার পর মেজর লীগ সকারে লা গ্যালাক্সির হয়ে কিছুদিন খেলে ২০১৬ তে ক্লাব ফুটবলকে বিদায় জানান এই লিজেন্ড। ইংল্যান্ডের হয়ে ২০০০ সালে ডেব্যু করার পর ২০১৪ তে ইন্টারন্যাশনাল ফুটবলকে বিদায় জানান, তার মধ্যে ২০০৬,২০১০ এবং ২০১৪ তিনটা বিশ্বকাপ খেলার সৌভাগ্য হয়েছে তার। ইন্টারন্যাশনাল ফুটবলে ১১৪ ম্যাচ খেলা ছাড়াও ২০১২ তে কোচ রয় হজসনের আন্ডারে ক্যাপ্টেনের ব্যাজ হাতে নেন। তাকে ইংল্যান্ডের ২০০১-২০০৬ গোল্ডেন জেনারেশনের অন্যতম রুপকার বলা হয় কারণ ডেভিড বেকহাম, পল স্কলস, মাইকেল ওয়েনদের নাম নিলে তার পাশে জেরার্ড এর নাম না বসালে ইংল্যান্ডের গোল্ডেন জেনারেশন ফুলফিল হয়না।
লিভারপুলের হয়ে অসংখ্য ম্যাচ উইন আর ট্রফির কথা আলাদাভাবে বলার কিছু নাই। ২০০৪-০৫ সিজনে ইস্তাম্বুলে চ্যাম্পিয়নস লীগের ফাইনালে এসি মিলানের বিপক্ষে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হয়ে দলকে চ্যাম্পিয়নস লীগ জেতানো তার ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক।
জেরার্ডকে মিডফিল্ডার হিসাবে বিবেচনা করলে সেটা নেহাতই বোকামি, জেরার্ডকে সবাই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে চিনলেও দলের প্রয়োজনে ক্যারিয়ার শুরুর সময়ে সে লিভারপুলের হয়ে ডিফেন্সিভ মিডে দীর্ঘদিন খেলেছেন, কখনো কখনো রাইট ব্যাকে, কখনো রাইট উইংগার হিসেবে বা কখনো হোল্ডিং মিডে। ন্যাশনাল টিমের হয়ে জেরার্ড সেন্ট্রাল মিডে, কখনো সেকেন্ড স্ট্রাইকার বা কখনো এটাকিং মিডে খেলেছেন। ফ্রি কিক থেকে গোল করার জন্য বা ডি-বক্সের বহু দূর থেকে দুর্দান্ত ভলিতে বা শক্তিশালী দূরপাল্লার শটে গোল দেয়ার জন্য জেরার্ড বিখ্যাত তার সময়ে। দলকে নেতৃত্ব দেবার জন্য জেরার্ড ছিলো মাস্ট চয়েজ হোক সেটা ক্লাব বা ন্যাশনাল টিমে। গোল দেবার পর দুই হাত প্রসারিত করে প্রতিপক্ষের কর্নার বারের কোনায় দর্শকদের দিকে ছুটে যাওয়া জেরার্ডের নিজস্ব সিগনেচার।
তার সময়ে জেরার্ড ফুটবল বিশ্বের মাঝমাঠের ওয়ান অব দ্যা বেস্ট। ফুটবল থেকে রিটায়ারমেন্টের পর ফুটবলকে বিদায় জানাননি এই বরপুত্র। আমেরিকার লীগ এবং পরে এস্টন ভিলার ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে এসে বর্তমানে সৌদি প্রো লীগের আল ইত্তিফাকের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৮০ সালের ৩০ মে জন্ম নেয়া ফুটবলের মাঝমাঠের এই লিজেন্ডকে জানায় জন্মদিনের শুভেচ্ছা, শুভ জন্মদিন আমার ছোটবেলার অন্যতম ফুটবল নায়ক স্টিভেন জেরার্ড।
29/05/2025
Welcome to Football Hereditary in BD to all passionate football followers of Bangladesh.