01/09/2026
ঢাকার মিরপুরে নিজের শিক্ষক বাবাকে নিজের পায়ে সিজদাহ করতে বাধ্য করার মাত্র ৩ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর, মানুৃষজন তা দেখে স্তব্ধ ও বাকরুদ্ধ। এটি কেবল একটি সাধারণ পারিবারিক বিরোধ নয়, এটি আমাদের চেনা সমাজ ও পারিবারিক সম্পর্কের চরম এবং নির্মম অবক্ষয়ের এক নগ্ন চিত্র
ভিডিওটির শুরুতেই দেখা যায়, কীভাবে মাদকাসক্তির অন্ধকারে নিমজ্জিত একটি ছেলে ঘরে বসে সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে তার অসহায় বাবাকে তুই-তোকারি করছে এবং অকথ্য ভাষায় গালাভাল করছে
এবং নিজের পা জড়িয়ে ধরার জন্য চাপ দিচ্ছে। সে সময় সে তার বাবার সাথে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং তুই-তোকারি করছিল এক পর্যায়ে ছেলেটি তার বাবাকে নির্দেশ দেয় যে, আল্লাহর ঘর মসজিদে যেভাবে সিজদাহ দেওয়া হয়, ঠিক সেভাবেই তার নিজের পায়ে সিজদাহ করতে হবে। অসহায় বাবা যখন তাঁর পিঠে ব্যথার কথা বলেন, তখনো ছেলেটি শান্ত হয়নি । সে মারধরের ভঙ্গি করে বাবার দিকে তেড়ে যায় এবং এক পর্যায়ে বাবা নিরুপায় হয়ে ছেলের পায়ে সিজদাহ করতে বাধ্য হন নির্যাতনের শিকার এই বাবার নাম শাকির আহমেদ। তিনি রাজধানীর **মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষক**। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট অনুযায়ী দাবি করা হচ্ছে যে, অভিযুক্ত ছেলেটি **মাদকাসক্ত** । ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিওটি ছেলেটি নিজেই প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছিল এবং পরবর্তীতে তা মুছে ফেলে ।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, পারিবারিক বিরোধ বা বাবার কোনো ভুল থাকলেও কোনো সন্তান নিজের জন্মদাতাকে এভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করতে পারে না। এটিকে মানবতা এবং বাবা-সন্তানের পবিত্র সম্পর্কের ওপর এক বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ।
মানুষজন প্রশাসনের প্রতি দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করার এবং অভিযুক্ত ছেলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন । একই সাথে শিক্ষক শাকির আহমেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে এবং মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরাও তাঁদের শিক্ষকের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।।