08/08/2026
২০১৪ সাল। তখন আমি নবম শ্রেণির ছাত্র। বয়সটা ছিল অদ্ভুত এক সময়—স্বপ্ন দেখতাম অনেক, কিন্তু সেই স্বপ্নের অর্থ বুঝতাম খুব কম।
আমার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল রিফাত আর সুমন। স্কুল, প্রাইভেট, মাঠ, রাস্তা—রাত বাদ দিলে দিনের প্রায় পুরোটা সময়ই আমরা তিনজন একসঙ্গে কাটাতাম। আমরা ছিলাম দুরন্ত তিন কিশোর। পড়াশোনার চেয়ে গল্প, আড্ডা আর ঘুরে বেড়ানোর প্রতিই আমাদের আগ্রহ ছিল বেশি।
আমাদের স্কুলে মেঘলা আর তিশা নামে দুজন মেয়ে ছিল। আর পাশের ক্লাসে পড়ত পায়েল। আশ্চর্যের ব্যাপার, তিনজনের বাড়িই ছিল পাশাপাশি—শালবাগ গ্রামের শেষ মাথায়।
আমরা তিন বন্ধু তিনজনকেই পছন্দ করতাম।
তখন বুঝতাম না, এটা ভালোবাসা নাকি বয়সের আবেগ। শুধু জানতাম, ওদের দেখলে ভালো লাগত। আর ওরাও বুঝত যে আমরা ওদের পিছু পিছু ঘুরি।
কিন্তু মনের কথা মুখে বলার সাহস কারও ছিল না।
মেঘলাকে দেখলেই আমার কেমন যেন অন্যরকম অনুভূতি হতো।
তার লম্বা কালো চুল, শান্ত দুটি চোখ, মিষ্টি হাসি—সবকিছুই যেন আমার কিশোর মনে আলাদা একটা জায়গা করে নিয়েছিল। ও যখন হাসত, মনে হতো চারপাশের সবকিছু একটু সুন্দর হয়ে গেছে।
কথা হতো আমাদের।
কত গল্প, কত হাসাহাসি, কত আড্ডা—প্রাইভেটেও পাশাপাশি বসতাম। অথচ যে কথাটা সবচেয়ে বেশি বলতে চাইতাম, সেটাই বলা হতো না।
“আমি তোমাকে ভালোবাসি।”
এই চারটি শব্দ যেন মুখের কাছে এসে বারবার থেমে যেত।
ও একদিন স্কুলে না এলে আমার মন খারাপ হয়ে যেত। বারবার রিফাতকে জিজ্ঞেস করতাম,
—“মেঘলা আজ আসেনি কেন?”
কখনো ওর কোনো বান্ধবীর কাছে খোঁজ নিতাম।
বিকেল হলেই আমরা তিন বন্ধু সাইকেল নিয়ে চলে যেতাম শালবাগের দিকে। উদ্দেশ্য একটাই—দূর থেকে হলেও ওদের দেখা।
একদিন তিনজন বসে সিদ্ধান্ত নিলাম,
—“এভাবে আর কতদিন? প্রেম করতেই হবে!”
আমি বললাম,
—“আমি তো ওকে ছাড়া থাকতে পারব না। রাতে ঘুম আসে না। সারাক্ষণ মনে হয় কখন ওকে দেখব।”
সুমন হেসে বলল,
—“তাহলে আগে তুই শুরু কর। তোরটা হলে আমাদের পথও খুলে যাবে!”
শেষ পর্যন্ত আমার এক বান্ধবীর মাধ্যমে মেঘলার কাছে আমার মনের কথাটা পৌঁছে দিলাম।
পরদিন প্রথম ক্লাসের পর উত্তর এলো।
না।
ও বলেছিল,
—“ভালো ছাত্ররা এসব করে না। তুমি একদিন আমাকে ছেড়ে দেবে।”
কথাটা শুনে মনে হলো কেউ যেন বুকের ভেতর থেকে সব আনন্দ টেনে নিয়ে গেছে।
সেদিন চারটা ক্লাস আমি চুপচাপ বসে কাটিয়ে দিলাম। কারও সঙ্গে কথা বললাম না। টিফিনও খেলাম না।
ক্লাসরুমে তখন আর কেউ ছিল না।
হঠাৎ দরজার কাছে মেঘলাকে দেখলাম।
ও ধীরে ধীরে আমার কাছে এসে বলল,
—“সত্যি তুমি আমাকে ভালোবাসো?”
আমি কোনো উত্তর দিলাম না।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে ও মৃদু হেসে বলল,
—“আমিও।”
সেদিন আমি ওর দিকে তাকিয়ে কেঁদে ফেলেছিলাম।
সেটা ছিল আনন্দের কান্না।
জীবনে প্রথমবার বুঝেছিলাম, কাউকে নিজের পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ মনে হওয়া কাকে বলে।
---
চিঠির দিনগুলো
সালটা ছিল ২০১৪।
আমার কাছে একটা পুরোনো নোকিয়া ফোন ছিল। কিন্তু মেঘলার নিজের কোনো ফোন ছিল না।
তাই শুরু হলো আমাদের চিঠির দিন।
গণিতের খাতার পৃষ্ঠা হয়ে উঠল আমাদের গোপন যোগাযোগের মাধ্যম। আমার বন্ধু সুমন ছিল আমাদের চিঠির বাহক।
একদিন আমার চিঠি যেত, পরদিন ওর উত্তর আসত।
সেই কয়েকটি লাইনের জন্য কত অপেক্ষা করতাম!
ততদিনে অবশ্য স্কুলের প্রায় সবাই জেনে গেছে—
“ভদ্র ছেলে প্রেমে পড়েছে!”
মাঝেমধ্যে মেঘলা ওর মায়ের ফোন থেকে কিংবা ভাইয়ের ফোন থেকে আমাকে কল করত।
ওর সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ার পর এমন কোনো দিন মনে পড়ে না যেদিন আমি স্কুল বা প্রাইভেট বাদ দিয়েছি।
আমাদের একজন প্রিয় শিক্ষক ছিলেন মোস্তাক স্যার। একসময় তিনিও আমাদের সম্পর্কের কথা জানতে পারলেন।
স্যার অনেক বুঝিয়েছিলেন।
—“পড়াশোনা নষ্ট করিস না। জীবনে আগে নিজের পায়ে দাঁড়াবি।”
তখন স্যারের কথাগুলো শুনতাম, কিন্তু বয়সের আবেগে সবকিছু মাথায় ঢুকত না।
মেঘলা মাঝে মাঝে প্রাইভেটের সময় স্যারের বাসায় নুডুলস বা অন্য কিছু রান্না করে নিয়ে আসত। স্যারও আমাদের ব্যাপারটা বুঝতেন। কখনো কখনো আমার সঙ্গে বসে গল্প করতেন।
সেই দিনগুলো এখন ভাবলে মনে হয়—জীবনের সবচেয়ে সরল, সবচেয়ে সুন্দর সময় ছিল সেটা।
---
এসএসসি পরীক্ষার দিনগুলো
সময় থেমে থাকেনি।
দেখতে দেখতে চলে এলো এসএসসি পরীক্ষা।
আমার স্বপ্ন ছিল ভালো ফলাফল করা। প্রেম করলেও পড়াশোনার ক্ষতি হতে দিইনি।
ক্লাসে দেখা, টিফিনে গল্প, প্রাইভেট শেষে একসঙ্গে হাঁটা—আমাদের প্রতিদিনের জীবন যেন একে অপরকে ঘিরেই ছিল।
মেঘলা অসুস্থ হলে আমার দুশ্চিন্তা হতো। ওর একটা চিঠি না এলে মন খারাপ হয়ে থাকত।
চিঠির ভাঁজে আমি যেন ওকে খুঁজে পেতাম।
আর ফোনটা হাতে নিয়ে অপেক্ষা করতাম—
“কখন ফোন আসবে?”
অবশেষে বিদায়ের সময়ও এসে গেল।
টেস্ট পরীক্ষা শেষ হলো। বিদায় অনুষ্ঠান হলো। তারপর শুরু হলো এসএসসি পরীক্ষা।
পরীক্ষার পর আমরা অনেক সময় একসঙ্গে বাড়ি ফিরতাম।
কত কথা হতো!
কখনো ও বলত,
—“যত কষ্টই হোক, আমাকে ছেড়ে যাবে না তো?”
আমি হাসতাম।
—“পাগলি! তুই তো আমার জীবনের অংশ।”
ও তখন মিষ্টি করে হাসত।
সেই হাসিটা আজও আমার মনে আছে।
শেষ পরীক্ষার দিন মেঘলা আমাকে একটা ছোট্ট উপহার দিল।
একটি স্বর্ণের আংটি।
নিজের আঙুল থেকে খুলে আমার হাতে দিয়ে বলল,
—“এটা রাখো। মনে করবে আমি তোমার সাথেই আছি।”
আমি আংটিটা হাতে নিয়ে শুধু ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম।
কী জানতাম তখন, এই ছোট্ট আংটিটাই একদিন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্মৃতিগুলোর একটি হয়ে থাকবে!
---
দূরত্বের শুরু
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর মেঘলা তার মামার বাড়ি মাধবপুরে বেড়াতে গেল।
আমি শহরে গেলাম পলিটেকনিকে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে।
ওর নিজের ফোন ছিল না।
শুরুতে ভাবতাম, কয়েকদিন পরেই হয়তো কথা হবে।
কিন্তু দিন গেল।
তারপর সপ্তাহ।
তারপর আরও কিছুদিন।
যোগাযোগ কমতে কমতে একসময় প্রায় বন্ধ হয়ে গেল।
আমি ঠিকমতো খেতে পারতাম না। পড়াশোনায় মন বসত না। ঘুমাতে গেলেই ওর কথা মনে পড়ত।
একদিন আমার এক বান্ধবীর কাছ থেকে এমন একটা খবর পেলাম, যেটা শোনার জন্য আমি কোনোভাবেই প্রস্তুত ছিলাম না।
মেঘলার নাকি তার এক মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক হয়েছে।
কথাটা শোনার পর মনে হলো চারপাশের পৃথিবীটা হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে গেছে।
যে মেয়েটা একদিন আমাকে বলেছিল,
“আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না।”
সে-ই আজ অন্য কারও সঙ্গে নতুন স্বপ্ন দেখছে।
আমি অনেক চেষ্টা করলাম ওর সঙ্গে যোগাযোগ করার।
কিন্তু কোনোভাবেই পারলাম না।
কিছুদিন পর মেঘলা মাধবপুর থেকে বাড়ি ফিরল।
আমিও শহর থেকে বাড়ি এলাম।
ওর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলাম। পুরোনো সম্পর্কটা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলাম।
কিন্তু ও কোনো উত্তর দিল না।
দিনের পর দিন আমার ভেতরের কষ্টটা বাড়তে লাগল।
এর মধ্যেই পলিটেকনিকের ভর্তি পরীক্ষার সময় চলে এলো।
আমি বুঝতে পারছিলাম না—আমার জীবনে কোনটা আগে?
ভালোবাসা?
নাকি ভবিষ্যৎ?
অবশেষে নিজেকে বললাম,
“আগে পরীক্ষাটা দিই। তারপর যা হওয়ার হবে।”
---
জিপিএ ৫—তবুও আনন্দ ছিল না
এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলো।
আমি জিপিএ ৫ পেলাম।
বন্ধুরা আনন্দ করল।
বাড়ি থেকে বাবা ফোন করলেন।
—“বাবা, তুই জিপিএ ৫ পেয়েছিস! সবাই বাড়িতে চলে এসেছে। তুই এখনো আসিসনি কেন?”
বাবা জানতেন আমি একটা মেয়েকে ভালোবাসি।
কিন্তু জানতেন না, সেই সম্পর্ক তখন ভেঙে গেছে।
আমার বন্ধুদের কাছ থেকে সব শুনে বাবা আমাকে বললেন,
—“বাবা, মন খারাপ করিস না। জীবনে আগে নিজের ক্যারিয়ার গড়। মানুষ হারালে জীবন শেষ হয়ে যায় না। তুই আরও ভালো মানুষ পাবি।”
মায়ের কান্নার কথাও বললেন।
আমি দু’কেজি মিষ্টি কিনে বাড়ি ফিরলাম।
কিন্তু জিপিএ ৫ পাওয়ার আনন্দটাও যেন বুকের ভেতর ঢুকছিল না।
মনে হচ্ছিল—
যাকে সবচেয়ে বেশি জানাতে চেয়েছিলাম, সে-ই তো নেই।
---
আকাশ কি কখনো কারও হয়?
সেদিন রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে অনেকক্ষণ বসে ছিলাম।
মনে হলো—
আকাশ তো সবারই প্রিয়।
কেউ আকাশের নীল ভালোবাসে, কেউ মেঘলা আকাশ, কেউ আবার বৃষ্টির আকাশ।
কিন্তু কেউ কি কখনো আকাশকে নিজের করে রাখতে পেরেছে?
আকাশ তো তার নিজের নিয়মে রং বদলায়।
হয়তো মানুষও তেমনই।
একসময় যে মানুষটা তোমাকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারে না, সময়ের সঙ্গে তার পৃথিবী বদলে যেতে পারে।
হয়তো মেঘলার পরিবার আর আমার পরিবারের সামাজিক অবস্থানের পার্থক্যও একটা কারণ ছিল।
হয়তো ওর পরিবার আমাকে কখনো মেনে নিত না।
হয়তো ওর কাছে ভবিষ্যৎটা অন্যরকম ছিল।
আমি আজও জানি না আসল কারণটা কী।
---
শেষবারের মতো সুযোগ
মেঘলার সেই নতুন সম্পর্কটাও বেশিদিন টেকেনি।
একসময় সেটাও ভেঙে গেল।
তারপর সে আবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল।
কিন্তু ততদিনে আমি বদলে গেছি।
যে ছেলেটা একদিন ওর একটা ফোনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করত, সে আর আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারেনি।
আমি জানতাম—
আজ যদি আবার ওকে গ্রহণ করি, কাল যদি আবার আমাকে ছেড়ে যায়?
তাহলে কি আবার সেই একই কষ্ট সহ্য করতে পারব?
তাই আর ফিরে যাইনি।
ওর জন্য আমার পছন্দের পলিটেকনিক আর পছন্দের ট্রেডেও সুযোগটা হাতছাড়া হয়েছিল।
অনেক কঠিন সময় গেছে।
কখনো খেয়ে, কখনো না খেয়ে দিন পার করেছি।
কিন্তু বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজেকে সামলে নিয়েছি।
নিজেকে একটা কথাই বলেছি—
“ও যদি আমাকে ছাড়া ভালো থাকতে পারে, আমিও পারব। আমাকে ভালো থাকতেই হবে।”
আমি ঠিক করলাম, জীবনে এমন কিছু করব যাতে একদিন নিজের দিকে তাকিয়ে বলতে পারি—
“তুই হারিসনি। তুই শুধু অন্য একটা পথ বেছে নিয়েছিস।”
---
তারপর আর কোনো প্রেম হয়নি
আমার জীবনে সেই প্রথম প্রেমই শেষ প্রেম হয়ে রইল।
তারপর আর কোনো মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়াইনি।
সময় অনেক পেরিয়ে গেছে।
মেঘলারও বিয়ে হয়েছে প্রায় দুই বছর।
তার একটি ছোট ছেলে আছে।
একদিন মেসেঞ্জারে ও তার ছেলের ছবি পাঠিয়েছিল।
আমি কোনো উত্তর দিইনি।
ও আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টও পাঠিয়েছিল।
সেটাও গ্রহণ করিনি।
তবুও সত্যি কথা বলতে কী—
কখনো কখনো ওর ফেসবুক প্রোফাইলে ঢুকে দেখি।
শুধু একবার দেখতে ইচ্ছে করে—
কেমন আছে সেই মানুষটা, যে একসময় আমার পুরো পৃথিবী ছিল?
কোনো কথা বলি না।
শুধু দেখি।
তারপর বেরিয়ে আসি।
---
স্মৃতিগুলো এখনো আছে
আজও আমার কাছে যত্ন করে রাখা আছে ওর দেওয়া কয়েকটি জিনিস।
একটা কলম।
একটা ছোট প্যাড।
এক জোড়া চশমা।
একটা ঘড়ি।
আর সেই স্বর্ণের আংটি।
মাঝেমধ্যে আলমারি খুলে সেগুলো বের করি।
হাতে নিই।
কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকি।
তারপর মনে হয়—
কত বছর পেরিয়ে গেল!
একসময় যে মেয়েটাকে একদিন না দেখলে আমার পৃথিবীটা অসম্পূর্ণ মনে হতো, আজ সে অন্য কারও সংসারের মানুষ।
জীবন সত্যিই অদ্ভুত।
কিছু মানুষ আমাদের জীবনে আসে থাকার জন্য নয়—
আমাদের জীবনের একটা সুন্দর অধ্যায় হয়ে থাকার জন্য।
মেঘলা আমার জীবনে সেই অধ্যায়।
আমি জানি, তাকে আর ফিরে পাব না।
হয়তো কোনোদিন ফিরে পেতেও চাই না।
কারণ কিছু ভালোবাসা ফিরে পাওয়ার জন্য নয়।
কিছু ভালোবাসা শুধু মনে রাখার জন্য।
আজও যখন সেই আংটিটা হাতে নিই, চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই স্কুলের করিডোর, টিফিনের সময়, গণিতের খাতার ভাঁজে লুকানো চিঠি, সাইকেলে করে বিকেলের পথ, পরীক্ষার পর একসঙ্গে বাড়ি ফেরার দিনগুলো…
আর মনে হয়—
আমাদের গল্পটা শেষ হয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু সেই সোনালি দিনগুলো কখনো শেষ হবে না।
কারণ মানুষ চলে যায়।
সম্পর্ক বদলে যায়।
জীবন নতুন পথে হাঁটে।
কিন্তু কিছু স্মৃতি—
সারা জীবন হৃদয়ের কোনো এক গোপন ঘরে চুপচাপ বেঁচে থাকে।
আর আমার সেই গোপন ঘরে আজও একটা নাম লেখা—
মেঘলা।
প্রথম ভালোবাসা।
শেষ ভালোবাসা।
আর হয়তো—
চিরকাল মনে থেকে যাওয়া ভালোবাসা।