15/09/2024
পোস্ট নং - ২০
বর্তমানে বহুল আলোচিত ড. ইউনূসের মেগাফোন কূটনীতি। আসুন জেনে নেই এই কূটনীতি আসলে কি ও কখন ব্যবহার করা হয়?
★★ Megaphone Diplomacy (মেগাফোন কূটনীতি):
মেগাফোন শব্দে দুইটি আলাদা শব্দ আছে। মেগা - অর্থ বৃহৎ, ফোন - অর্থ কথা বলার মাধ্যম। মেগাফোন’ প্রকৃত অর্থে একটি যন্ত্র, যা মানুষের কণ্ঠস্বরকে উচ্চমাত্রায় বাড়িয়ে জনসমক্ষে পৌঁছে দেয়।
মেগাফোন কূটনীতির উৎপত্তি ১৯৭০/১৯৮০ এর দশকে যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলমান ছিল। তারা নিজেদের অবস্থান জানাতে প্রতিপক্ষকে হুশিয়ার করতে এই কূটনীতি ব্যবহার করত। এই কূটনীতি Quiet Diplomacy বা Softy Softy Approach এর বিপরীত।
❝সহজ ভাষায়, কোন বিতর্কিত ইস্যু বা জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হলে তা নিরসনের জন্য গোপন কোন কূটনৈতিক পদ্ধতি অবলম্বন না করে সরাসরি হুশিয়ার বা প্রতিবাদ করে যে জোরালো বক্তব্য দেওয়া হয় বিভিন্ন মাধ্যমে (জনসম্মুখে কড়া ভাষায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি, রাষ্ট্রীয় ঘোষণা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি হুশিয়ারি করা ইত্যাদি), সেই কূটনীতিকে মেগাফোন ডিপ্লোম্যাসি বলা হয়।❞
এটি সাধারণত চাপ প্রয়োগ বা জনগণের মনোযোগ আকর্ষণ করার উদ্দেশ্যে করা হয়, যাতে সমঝোতার পরিবর্তে নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরা যায়। এক্ষেত্রে কোনো রাষ্ট্র বা তার প্রতিনিধি গোপন বা আনুষ্ঠানিক আলোচনার পরিবর্তে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বা জনসমক্ষে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে বক্তব্য দেয়। জনসম্মুখে বিবৃতি, বক্তব্য, বা সতর্কতা দেয়া হয়।
মোট কথা দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনা না করে, মিডিয়ার মাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করে পরস্পরের উপর চাপ সৃষ্টি করায় এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য। লক্ষ্য নিজেদের অবস্থানকে জোরালো করা, জনমতকে প্রভাবিত করা।
According to Longman Dictionary, ❝ The practice of making strong or threatening statements in order to make another country do what you want.❞
>> বৈশিষ্ট্যঃ
১. নানাভাবে প্রতিপক্ষের উপর হুশিয়ারি প্রদান করা।
২. অফিশিয়াল কূটনীতির কোন প্রয়োগ নেই।
৩. সামরিক হুমকি, আক্রমনাত্মক স্টেটমেন্ট ও দেওয়া হয়ে থাকে।
৪. প্রতিবাদের জন্য গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
>> বাস্তব উদাহরণঃ
মার্কিন সেনাবাহিনী কর্তৃক তাইওয়ান সেনাবাহিনীকে গোপনে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ায় চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, ওয়াশিংটন যেন তাইওয়ানের সাথে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ভাল ফলাফল বয়ে আনবে না।
#মেগাফোনকুটনীতি
08/09/2024
পোসট নং - ১৯
খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করব, যেটা নিয়ে বিসিএস প্রিলিতে প্রশ্ন করা হয়েছিল।
প্রশ্নঃ রোহিঙ্গারা কি আসলেই শরণার্থী না শরণার্থী নয়?
> শরণার্থীর সংজ্ঞা অনুযায়ী, নিজের জীবন বাঁচাতে নিজ দেশ ত্যাগকারীকে শরণার্থী (Refugee) বলা হয়।
> ১৯৫১ সালের জেনেভা কনভেশনের অনুচ্ছেদ ১ অনুযায়ী, শরণার্থী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি তার নিজ বর্ণ, ধর্ম, জাতীয়তা, কোন নির্দিষ্ট গ্রুপের সদস্য হওয়া কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শের জন্য নিজ দেশে প্রাণনাশের হুমকির কারণে সেই দেশ ত্যাগ করে এবং পরবর্তীতে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে ভয়ে থাকেন।
এই সংজ্ঞা অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের শরণার্থী বলা যায় না। বাংলাদেশে বর্তমানে ১১ লাখের উপরে রোহিঙ্গা আছে। বলা যায় না কারণ,
❝কুতুপালং ক্যাম্পের বাইরে একটি দোকানে মাসে আট হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন মোহাম্মদ রফিক। তিনি বলছেন, এখানে ভালোই আছেন, তবু নিজ দেশে ফিরে যেতে চান।❞
তার মানে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে ইচ্ছুক। যা জেনেভা কনভেনশনের শরণার্থী হওয়ার শর্ত কে লঙ্ঘন করে।
>> যদি রোহিঙ্গারা শরণার্থী নাই হয়ে থাকে তাহলে তারা কি?
> তারা "বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক”।
এই কথা বাংলাদেশ সরকার থেকেও বলা হয়েছে।
> বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া এসব রোহিঙ্গা ‘শরণার্থী’ নয় বরং তারা “বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক”।
>> বাস্তুচ্যুত এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, যখন কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে জোরপূর্বক তাদের নিজেদের বাসস্থান বা ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হয় তখন তাদেরকে বাস্তুচ্যুত (Displacement) বলা হয়।
> রোহিঙ্গাদের ঠিক এভাবেই জোর করে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এবং তারা এখন স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চায়।
তাই তারা "বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক, শরণার্থী নয়।"
★ তবে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেন, ১৯৯২ সালের আগে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে তাদেরকে শরণার্থী হিসেবে হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। এমন ৩২ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী তখন বাংলাদেশে ছিল।
কিন্তু ১৯৯২ সালের পর যেসব রোহিঙ্গা এদেশে এসেছে তারা শরণার্থী নয়, তাদের সেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
>> বাংলাদেশ সরকার কেন বর্তমান রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে না?
> মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক কুটনীতিক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম মনে করেন, রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে।
> তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হলে তাদেরকে ফেরত পাঠাতে হলে তাদের মতামত নিতে হবে। এই প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হতে হবে জাতিসংঘকে। জাতিসংঘ যদি তখন বলে যে, রোহিঙ্গা ফিরে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে, কেবল তখনই তাদেরকে ফেরত পাঠাতে পারবে বাংলাদেশ। তার আগে তাদের প্রত্যাবাসিত করা যাবে না।
একই সাথে শিক্ষা, বাড়িঘরসহ অন্য সব সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে বাংলাদেশকে।
তার মতে, এটি করতে গেলে অনেক রোহিঙ্গাই বাংলাদেশে থেকে যেতে চাইবে যেহেতু ধর্মসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাঙালিদের সাথে মিল রয়েছে তাদের। তবে বাংলাদেশ আসলে তাদের নিতে চাইছে না। আর এটিই তাদেরকে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়ার মূল কারণ বলে মনে করেন তিনি।
★★ নিম্নে উল্লিখিতদের মধ্যে কারা শরণার্থী নয়? [৪৫ তম বিসিএস অনির্বাচিত প্রশ্ন, সেট-কীর্তনখোলা)
ক) বাংলাদেশে অবস্থিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী
খ) তুরস্কে অবস্থিত সিরিয় জনগোষ্ঠী
গ) পোল্যান্ডে অবস্থিত ইউক্রেনীয় জনগোষ্ঠী
ঘ) পাকিস্তানে অবস্থিত আফগান জনগোষ্ঠী
>> সঠিক উত্তরঃ বাংলাদেশে অবস্থিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী
তথ্যসূত্রঃ বিবিসি বাংলা নিউজ, জেনেভা কনভেনশন - ১৯৫১
#রোহিঙ্গা
#শরণার্থী
08/09/2024
পোস্ট নং - ১৮
বর্তমান সময়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিসিএস লিখিত প্রশ্নঃ
✅ প্রশ্নঃ সার্কের মূলনীতি, সফলতা, ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতাগুলা আলোচনা করুন। [বিসিএস লিখিত]
''সার্ক এখন শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ, এটি কাজ করছে না।" — ড. মুহম্মদ ইউনুস
>> একনজরে সার্কঃ
> পূর্ণরূপ : সাউথ এশিয়ান এসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশন।
> প্রতিষ্ঠা সাল: ৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৫।
> প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য: ০৭
> বর্তমান সদস্য:০৮
> সর্বশেষ সদস্য: আফগানিস্তান (২০০৭)
> সদর দপ্তর : কাঠমান্ডু,নেপাল।
> সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা : জেনারেল জিয়াউর রহমান।
> প্রথম সম্মেলন :১৯৮৫ সালে,বাংলাদেশে।
> সর্বশেষ সম্মেলন :২০১৪ সালে,নেপালে।
> সম্মেলন বন্ধ আছে: ২০১৬ সাল থেকে।
২০১৬ সালে পাকিস্তানে সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। সে বছরই জম্বু ও কাশ্মীরের উরিতে ভারতীয় সেনা ফাঁড়িতে হামলায় ভারত সম্মেলনে যোগ দিতে অসম্মতি জানায়। তারপর থেকেই সার্কের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
> ঢাকায় সম্মেলন হয়েছে ৩ বারঃ ১ম - ১৯৮৫ সালে, ৭ম - ১৯৯৩ সালে, ১৩তম - ২০০৫ সালে।
★ সার্ক গঠনের মূলনীতি বা প্রধান উদ্দেশ্যঃ
১. সার্কের যে কোনো সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত হতে হবে।
২. দ্বিপক্ষীয় বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো এ সংস্থায় তোলা হবে না।
৫. প্রত্যেকটি সদস্য রাষ্ট্র পরস্পরের আঞ্চলিক অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে, কেউ কারোর অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না।
৪. এ অঞ্চলের দেশগুলোর আশা-আকাঙ্খার প্রতি লক্ষ্য রেখে সার্ক ভূমিকা পালন করবে।
৫. দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের জনগণের কল্যাণ মাথায় রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়ন।
৬. পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ক্ষেত্র তৈরি করা।
৭. এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৮. সামাজিক অগ্রসরতা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন।
★★ সার্কের সফলতাঃ
১. সার্কের মূল্যবোধের কারণে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বড় কোন সংঘাত হয়নি।
২. সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সাফ গেমসের প্রচলন।
৩. সদস্য রাষ্টগুলোর মধ্যে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রায়ই আন্তর্জাতিক ফোরামে অভিন্ন নীতি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে।
৪. সার্ক সদস্য দেশগুলো সন্ত্রাস দমন সংক্রান্ত একটি কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে। তবে এটি পুরাপুরি কার্যকর হয়নি।
৫. সার্ক দেশগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে UNCTAD-এর সঙ্গে সার্কের একটি সমঝোতা স্মারক, দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য ESCAP ও UNDP এর সঙ্গে এগ্রিমেন্ট, অর্থনেতিক উন্নয়নের জন্য জাপানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক, শিশুদের অধিকার নিশ্চিতকরণ ও উন্নয়নের জন্য UNICEF এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে এ ধরনের পদক্ষেপ সার্কের অন্যতম সাফল্য।
৬. ২০১০ সালে সার্ক ভুক্ত অঞ্চলে শিক্ষা ও গবেষণার প্রসারে "সার্ক বিশ্ববিদ্যালয়" প্রতিষ্ঠা সার্কের অন্যতম সাফল্য।
৭. সদস্য দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য SAPTA (South Asian Preferential Trade Agreement) ও SAFTA (South Asian Free Trade Area) চুক্তি সার্কের অন্যতম সাফল্য। অবাধ বাণিজ্য অঞ্চল গঠনের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে SAPTA-এর আওতায় ২২৬ পণ্য এবং দ্বিতীয় দফায় ২০০ পণ্যের ৭.৫% থেকে ৫০% শুল্ক কমানো হয়।
৮. জরুরি খাদ্য সঙ্কট, খাদ্য ঘাটতি এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় সার্ক ফুড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাক্ষরিত চুক্তি সার্কের আরেকটি সাফল্য।
৯. নারী ও শিশু উন্নয়ন, শান্তি প্রতিষ্ঠা, দরিদ্রতা দূরীকরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এসব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ২০০৪ সাল থেকে সার্ক অ্যাওয়ার্ড দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
১০. সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সার্ক কৃষি কেন্দ্র ও আবহাওয়া কেন্দ্র, সার্ক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ইত্যাদি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সার্ক দুর্যোগ, কৃষি, আবহাওয়া, জ্বালানী, সংস্কৃতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে ভুমিকা রেখেছে।
★★ সার্কের ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতাঃ
১. সার্ক দেশগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যের অভাব। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ভারতের তিক্ততা সম্পর্ক, ফলে বাণিজ্যিক চুক্তি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে। যা সার্কের ব্যর্থতা।
২. সার্কের দেশগুলো সাধারণত অনুন্নত ও উন্নয়নশীল। ফলে চাঁদা প্রদানে গড়িমসি করা, যা সার্কের নিয়মের ব্যর্থতা।
৩. প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত প্রায় আড়াই দশকে সার্কের আওতায় ২১টি চুক্তি এবং অনেকগুলো ঘোষণা আসলেও তার অধিকাংশই বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
৪. ২০০০ সালের মধ্যে এই অঞ্চলের প্রতিটি মানুষকে শিক্ষিত করে তোলার জন্য সার্ক যে অঙ্গীকার করেছিল তা যেমন বাস্তবায়িত হয়নি তেমনি ২০০২ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়াকে দারিদ্র্যমুক্ত করার ঘোষণাও এখনো স্বপ্নই রয়ে গেছে।
৫. বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে SAPTA ও SAFTA-র মতো চুক্তি করা হলেও গত ২৫ বছরে দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বেড়েছে মাত্র ৫.৮ শতাংশ।
৬. সন্ত্রাস দমনে একযোগে কাজ করার কথা থাকলেও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিস্তার ও উৎস নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সন্দেহের বেড়াজাল। উদাহরণঃ ভারতের বাবরি মসজিদ ধ্বংস, ১৯৯৩ সালে মুম্বাই বিস্ফোরণ, ২০০৮ সালে হোটেল তাজে হামলা সার্কের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
৭. BIMSTEC এর উত্থান সার্কের ব্যর্থতার আরেকটি কারণ। কারণ বিমস্টেকের গ্রহণযোগ্যতা সার্কের তুলনায় বেশি।
৮. সার্ক দেশগুলোর মধ্যে যোগ্য নেতৃত্বের অভাব। ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে নেওয়ার মত কোন যোগ্য নেতৃত্ব নেই।
৯. সার্ক সনদ অনুযায়ী সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে চলার মূলনীতি সার্ককে এগোতে দেয়নি। কারণ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও রেষারেষি এক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
১০. কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব, ১৯৯৭ সালে ভারতের কার্গিলে পাক সেনাদের অনুপ্রবেশ দু-দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে। যা সমাধান করে সম্পর্ক উন্নয়নে সার্ক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
#সার্ক
#আন্তর্জাতিক
07/09/2024
পোস্ট নং — ১৭
✅ নির্বাচনে ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক যেসব দেশেঃ
> আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রথম বাধ্যতামূলক ভোট চালু করে বেলজিয়াম। দেশটি ১৮৯৩ সালে পুরুষ এবং ১৯৪৮ সালে নারীদের জন্য ভোটদান বাধ্যতামূলক করে আইন করে।
> এর পরপরই অস্ট্রেলিয়া নাগরিকদের জন্য ভোট প্রদান বাধ্যতামূলক করে আইন করে ১৯২৪ সালে।
> সর্বশেষ দেশ হিসেবে যে দেশটি বাধ্যতামূলক ভোটের বিধান করেছে সেটি হলো — কম্বোডিয়া।
ওয়াল্ড পপুলেশন রিভিউ ও যুক্তরাজ্যের নির্বাচন কমিশনের এক গবেষণা বলছে, বিশ্বে এমন দেশের সংখ্যা মোট ৩১টি।
সেগুলো হলো—
আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, বলিভিয়া, ব্রাজিল, চিলি, সাইপ্রাস, ইকুয়েডর, মিসর, ফিজি, পানামা, গ্রিস, ইতালি, লিকটেনস্টেইন, লুক্সেমবার্গ, নাউরু, প্যারাগুয়ে, পেরু, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, উরুগুয়ে, হন্ডুরাস, এল সালভাদর, ডমিনিকান রিপাবলিক, কোস্টারিকা, ভেনেজুয়েলা, মেক্সিকো এবং কম্বোডিয়া।
>> শাস্তির বিধানঃ
ব্রাজিলে ভোট না দিলে তিনি যে অঞ্চলের বাসিন্দা সেই অঞ্চলে সর্বনিম্ন মজুরির একটি অংশ জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া টানা তিনবার ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকলে তাঁর ভোটার রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যাবে। এর ফলে তিনি পাসপোর্ট করা থেকে শুরু করে অনেক নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন।
সিঙ্গাপুর এবং অস্ট্রেলিয়ায় ভোট না দিলে এবং ভোট না দেওয়ার উপযুক্ত কারণ না দেখাতে পারলে ওই ব্যক্তিকে ৫ থেকে ২০ ডলার পর্যন্ত আর্থিক দণ্ড দেওয়া হয়। আবার পেরুতে ভোট না দিলে আর্থিক দণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়।
#নির্বাচন
#ভোট
05/09/2024
পোস্ট নং - ১৬
🌍 বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন সমূহঃ
১. অপারেশন রেবেল হান্টঃ
- ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানা হত্যাযজ্ঞের জড়িতদের গ্রেফতারে পরিচালিত অভিযান।
২. অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল ১ঃ
- ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের সময় মার্কিন সেনাবাহিনী পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের সাংকেতিক নাম।
৩. অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল-২ঃ
- ২০০৭ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় এর সময় মার্কিন সেনাবাহিনী পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের সাংকেতিক নাম।
৪.অপারেশন মান্নাঃ
- ১৯৯১ সালে উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত এলাকায় ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত ত্রাণ তৎপরতা।
৫. অপারেশন জ্যাকপটঃ
- ১৯৭১ সালের ১৫ / ১৬ আগষ্ট মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি নৌ-শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য পরিচালিত অভিযান।
৬. অপারেশন সার্চলাইট / ব্লিজঃ
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানের বর্বর ও নির্মম হামলা। পূর্ব নাম - অপারেশন ব্লিজ।
৭. অপারেশন ক্লোজডোরঃ
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সারাদেশের মানুষের কাছে যে অবৈধ অস্ত্র ছিল তা জমা দেওয়ার জন্য পরিচালিত অভিযান।
৮. অপারেশন ক্লিনহার্টঃ
- ১৬ অক্টোবর ২০০২ থেকে ৯ জানুয়ারি ২০০৩ পর্যন্ত বাংলাদেশে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের গ্রেফতার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য যৌথবাহিনী (সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ, আনসার) কর্তৃক পরিচালিত অভিযান।
৯. অপারেশন চ্যানেল রেইডার্সঃ
- বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান।
১০. বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক অপারেশন উত্তরণ পরিচালিত হয়ঃ
- পার্বত্য তিন জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি।
১১. অপারেশন ক্যাক্টাস লিলিঃ
- ৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১ ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ বাহিনী একত্রে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে বিমান আক্রমণ চালায়।
১২. অপারেশন চেঙ্গিস খানঃ
৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১ পাকিস্তান বিমানবাহিনী ভারতের ১১ টি এয়ারফিল্ডের উপর যে ব্যর্থ আক্রমণ চালায়।
১৩. অপারেশন বিগবার্ডঃ
- ২৬ শে মার্চ ১ম প্রহরে ১২.২০ মিনিটে ধানমন্ডির ৩২ নং বাসা থেকে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের অভিযান।
১৪. অপারেশন কিলোফ্লাইটঃ
- ৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী কর্তৃক পাকিস্তান বাহিনীর উপর আকাশপথে আক্রমণ (চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে)
#বাংলাদেশবিষয়াবলী
#বিসিএস
#অপারেশন
08/08/2024
পোস্ট নং – ১৫
👉 সংবিধানের কোথাও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের কথা বলা না থাকলেও কিভাবে, কোন আইনে গঠিত হতে যাচ্ছে বর্তমানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আসুন জেনে নেই।
> অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসলে কি?
অন্তর্বর্তী শব্দের অর্থ হচ্ছে মধ্যবর্তী। অর্থাৎ, এক সরকারের পদত্যাগ বা পতন ও অন্য নতুন সরকার গঠনের মধ্যবর্তী সময়ই হল অন্তর্বর্তীকালীন। আর এই সময়ে গঠিত সরকার হল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যারা দেশের এক্সট্রা অর্ডিনারি অবস্থায় দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও তত্ত্ববধায়ক সরকারের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে। আজকে সেটা নিয়ে আলোচনা করছি না।
>> বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হচ্ছে ডকট্রিন অব নেসেসিটি আইনের ভিত্তিতে।
আসুন জেনে নেই এই ডকট্রিন অব নেসেসিটি আসলে কিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, “পৃথিবীর দেশে দেশে যখন গণ অভ্যুত্থানে সরকারের পতন হয়, তখন নানা রকম সংকট দেখা দেয়। তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে শান্তি শৃঙ্খলার স্বার্থে সংবিধান বা প্রচলিত আইন ও ব্যবস্থার বাইরে অনেক কিছু করা হয়ে থাকে। যুক্তিটা হচ্ছে, ‘মানুষের জন্য আইন, আইনের জন্য মানুষ নয়’।
অর্থাৎ, দেশে সরকারের অনুপস্থিতিতে দেশের বাস্তবতার প্রয়োজনে আইন শৃঙ্খলা, শান্তি, নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে যে আইনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয় সেটাই ডকট্রিন অব নেসেসিটি।
তবে শর্ত থাকে যে, আগামী নির্বাচনের পর গঠিত সংসদকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং তাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে অনুমোদন দিতে হবে।
> ডকট্রিন অব নেসেসিটি অনেক পুরানো। এর প্রথম বাস্তব প্রয়োগ করেন পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ মুনীর। তিনি ১৯৫৪ সালে গভর্নর জেনারেল গোলাম মুহম্মদ এর সংবিধান বহির্ভূত জরুরি ক্ষমতাকে বৈধতা দিতে এর প্রয়োগ করেন।
পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে গ্রানাডায় এর ২য় প্রয়োগ হয়। তারপর কমনওয়েলথভুক্ত অনেক দেশেই এর প্রয়োগ হয়েছে।
> বাংলাদেশে ডকট্রিন অব নেসেসিটির প্রথম প্রয়োগ করা হয় এরশাদের পতনের পর ১৯৯০ সালে। সে সময় ডকট্রিন অব নেসেসিটির ভিত্তিতেই অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে ১১তম সংশোধনীর মাধ্যমে তার সকল কার্যকলাপের বৈধতা দেওয়া হয়।
> বাংলাদেশে এর ২য় প্রয়োগ ঘটে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সময়।
> ২০২৪ সালে ডকট্রিন অব নেসেসিটির ৩য় প্রয়োগ হতে চলেছে।
সুতরাং, সংবিধানে না থাকলেও ডকট্রিন অব নেসেসিটির ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে কোনো বাধা নেই। তবে পরবর্তী সংসদে এটি অনুমোদিত হতে হবে।
তথ্যসূত্রঃ বিডিনিউজ২৪, Doctrine of Necessity Law.
#অন্তর্বর্তীকালীনসরকার
#মুহম্মদইউনুস
#সংবিধ
11/07/2024
পোস্ট নং - ১৪
>> বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় আসা ও ভাইভার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে আজকে আলোচনা করব।
√√ ব্যাকডোর ও ব্যাকচ্যানেল কূটনীতি বিসিএস লিখিত তে পরপর ২ বার ৪৩ তম ও ৪৪ তম বিসিএসে এসেছিল। দুইটা দেখতে প্রায় একই রকম মনে হয়। যার কারণে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়।
👉 ব্যাকডোর কূটনীতিঃ
ব্যাকডোর মানে হল পিছনের দরজা। অর্থাৎ আড়ালে কাজ করা।
দেশের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে জনসাধারণের কাছে দায় ও স্বীকার এড়াতে দুই দেশের মধ্যে কুটনীতি যখন জনসাধারণ ও গণমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গির বাহিরে গিয়ে (আড়ালে) সম্পাদিত হয় তখন তাকে ব্যাকডোর কূটনীতি বলে।
*** একে ব্যাকরুম ডিপ্লোম্যাসি ও বলা হয়ে থাকে।
√ Oxford Academy অনুযায়ী,
> The term ‘back-door diplomacy’ is put forward to capture peculiar mode of secret diplomatic practice.
>>>> বাস্তব প্রয়োগঃ
১. ২০১২ সালে ফিলিপাইন ও চীনের মধ্যে আঞ্চলিক বিরোধের অবসানের জন্য গোপনে আলোচনা হয়েছিল।
২. ১৯৬২ সালে কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র এই কূটনীতি প্রয়োগ করে।
★ সুবিধাঃ
১. গোপনীয়তা বজায় থাকে।
২. জণসাধারণের আড়ালে সম্পাদিত হওয়ায় ও সরকারের মনোভাব প্রকাশিত না হয় দায় থাকে না।
৩. দ্রুত বাস্তবায়নের কোন চাপ থাকে না।
★ অসুবিধাঃ
১. দীর্ঘ প্রক্রিয়া।
২. কূটনীতি প্রয়োগকারীরা নিজ স্বার্থের দিকে বেশি নজর দেয়।
৩. এই কূটনীতির কারণে নেওয়া সিদ্ধান্ত জণসাধারণের জন্য ইতিবাচক নাও হতে পারে।
👉 ব্যাকচ্যানেল কূটনীতিঃ
কূটনীতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে এক দেশ অন্য দেশের সরকারের সাথে যোগাযোগের জন্য একটি চ্যানেল তৈরি করে। সাধারণত অফিশিয়ালি বা আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে যখন কূটনীতি প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না তখন আন অফিশিয়ালি জনসাধারণ, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক এবং আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর আড়ালে গিয়ে যে কূটনীতি প্রয়োগ করা হয় তাকে ব্যাকচ্যানেল কূটনীতি বলে।
√ অক্সফোর্ড ডিকশনারি অনুযায়ী,
> Back channel Diplomacy is a secret, unofficial, or informal channel of communication as used in politics or diplomacy.
**** ব্যাকচ্যানেল ডিপ্লোম্যাসি কে Track II ডিপ্লোম্যাসিও বলা হয়ে থাকে।
>>>> বাস্তব প্রয়োগঃ
১. ২০২১ সালে জম্বু কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে দুবাইতে ভারত ও পাকিস্তানের গোপন বৈঠক।
২. ইরানের ১৯৭৯-১৯৮০ সালের জিম্মি সমস্যা সমাধানে প্রয়োগ করা হয়।
৩. ১৯৯৪ - ১৯৯৬ সালের ইসরায়েলের ফিলিস্তিনের শান্তি প্রক্রিয়া।
৪. ডিসেম্বর ২০০৫ সালের নিউইয়র্কের ট্রানজিট স্ট্রাইকের সমস্যা সমাধানে এই কূটনীতি প্রয়োগ করা হয়।
৫. ১৯৮৫ সালে কারাবন্দী থাকা অবস্থায় বর্ণবাদ অবসানের জন্য নেলসন মেন্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রী Hendrik Jacobus এর সাথে ব্যাকচ্যানেল কূটনীতির মাধ্যমে যোগাযোগ করেন।
৬. M15 এর বিখ্যাত অপারেশন, Operation Chiffon এ যুক্তরাজ্য সরকার ও IRA এর নেতৃত্বদানকারির মধ্যে এই কূটনীতি প্রয়োগ করা হয়।
★★★★★ রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাকচ্যানেল কূটনীতি প্রয়োগ করতে পারে। চীন, রাশিয়া, ভারত কিংবা আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো ব্যাক চ্যানেল হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে মিয়ানমারের সদিচ্ছাও জরুরি।
★★ সুবিধাঃ
১. গোপনীয়তা বজায় থাকে।
২. জনগণ, আমলা ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির আড়ালে সম্পাদিত হয় জন্য দায়বদ্ধতা থাকে না।
৩. অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আগে পক্ষদ্বয়ের আচরণ ও প্রকৃতি সম্পর্কে জানা যায় যে তারা এই কূটনীতিতে কতটুকু বিশ্বাসী।
৪. সরাসরি কূটনীতি প্রয়োগের মাধ্যমে যোগাযোগের অবস্থা না থাকলে তখন ব্যাকচ্যানেলের মাধ্যমে আন অফিশিয়ালি যোগাযোগ চালু রাখা যায়।
★★ অসুবিধাঃ
১. গোপনীতা বজায় থাকে এজন্য অনেকে এতে বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে যা পরবর্তীতে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
২. জনগণ ও তথ্য ফাঁসকারীদের থেকে স্থায়ী নয়, সাময়িক নিরাপত্তা দেয়।
৩. কোন ভাবে কূটনীতির সমস্ত প্রক্রিয়া ফাঁস হয়ে গেলে বা কোন তথ্য কেউ জেনে গেলে সম্মানহানি হওয়া ও বিপদে পড়ার সম্ভাবনা আছে।
৪. দীর্ঘ প্রক্রিয়া।
★★ ব্যাকচ্যানেল ও ব্যাকডোর এর সংজ্ঞা প্রায় একই রকম মনে হলেও পার্থক্য টা আসলে কোথায়?
✅ ব্যাকডোর ও ব্যাকচ্যানেল কূটনীতির মধ্যে পার্থক্যঃ
১. ব্যাকডোর কূটনীতি শুধু জনসাধারণ ও গণমাধ্যমের আড়ালে গিয়ে সম্পাদিত হয়।
কিন্তু ব্যাকচ্যানেল কূটনীতি জনসাধারণ, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক কাঠামো থেকে দূরে সম্পাদিত হয় যারা সাধারণত যেকোনো আলোচনায় জড়িত থাকে।
২. ব্যাকচ্যানেল কূটনীতিতে যোগাযোগের জন্য চ্যানেল তৈরি করতে হয়, কিন্তু ব্যাকডোর কূটনীতিতে চ্যানেল তৈরির প্রয়োজন হয় না সরাসরি গোপনে যোগাযোগ করা যায়।
৩. ব্যাকচ্যানেল কূটনীতি আন অফিশিয়াল ভাবে করতে হয়, কিন্তু ব্যাকডোর কূটনীতি অফিশিয়াল ভাবে সম্পন্ন করা যায়।
৪. ব্যাকডোরের চেয়ে ব্যাকচ্যানেলে কূটনীতি প্রয়োগে সময় বেশি লাগে।
৫. ব্যাকচ্যানেল কূটনীতি প্রয়োগকারীদের মধ্যে অফিশিয়াল বা কূটনৈতিক সম্পর্ক সাধারণত থাকে না। কিন্তু ব্যাকডোর কূটনীতিতে অফিশিয়াল সম্পর্ক সাধারণত থাকে।
৬. ডিসেম্বর ২০০৫ সালের নিউইয়র্কের ট্রানজিট স্ট্রাইকের সমস্যা সমাধানে ব্যাকচ্যানেল কূটনীতি প্রয়োগ করা হয়। অন্যদিকে, ২০১২ সালে ফিলিপাইন ও চীনের মধ্যে আঞ্চলিক বিরোধের অবসানের জন্য ব্যাকডোর কূটনীতি প্রয়োগ করা হয়।
তথ্যসূত্রঃ Havard Law School,Oxford Dictionary,Oxford Academy,The Anatomy of World Politics - Miraz Mia
#ব্যাকডোরকূটনীতি
#ব্যাকচ্যানেলকূটনীতি
#বিসিএস
#আন্তর্জাতিক
★ পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
20/06/2024
পোস্ট নং - ১৩
★ প্রশ্নঃ মঙ্গলকাব্যের নাম মঙ্গলকাব্য কেন?
ক) দেবদেবীর মাহাত্ম্য পাঠ করলে মঙ্গল হয়
খ) এক মঙ্গলবার থেকে আরেক মঙ্গলবারে গাওয়া হয়
গ) মঙ্গলসুরে গাওয়া হয়
ঘ) সব
>>>> সঠিক উত্তরঃ সব
>> ব্যাখ্যাঃ
★ মঙ্গলকাব্যের নাম মঙ্গলকাব্য হওয়ার কারণ নিয়ে নানা মত আছেঃ
- দেবদেবীর মাহাত্ম্য পাঠ, শ্রবণ করলে মঙ্গল হয়
- এক মঙ্গলবার থেকে আরেক মঙ্গলবারে গাওয়া হয়
- মঙ্গলসুরে গাওয়া হয়
- আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে, মঙ্গলরাগে গাওয়া হয়
• মঙ্গলকাব্য:
- মধ্যযুগের উপন্যাস বলা হয়
- পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- মঙ্গলকাব্যের অধিকাংশ দেবদেবী অস্ট্রিক গোষ্ঠীভুক্ত
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি। যথা:
• মনসামঙ্গল,
• চণ্ডীমঙ্গল,
• অন্নদামঙ্গল।
- একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে। যথা:
• বন্দনা,
• আতত্মপরিচয়,
• দেবখণ্ড,
• মর্ত্যখণ্ড,
• শ্রুতিফল।
- ড. দীনেশচন্দ্র সেনের মতে, মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও লাল নীল দীপাবলি
#বিসিএস
#বাংলাসাহিত্য
#মঙ্গলকাব্য
পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
20/06/2024
পোস্ট নং - ১২
★ মুঘল সম্রাট কর্তৃক নিযুক্ত বাংলার শেষ সুবেদার কে?
মুর্শিদকুলী খান
শায়েস্তা খান
মানসিংহ
কেদার রায়
>>>> সঠিক উত্তরঃ মুর্শিদকুলী খান
>>> ব্যাখ্যাঃ
★ মুর্শিদ কুলি খান:
দক্ষ সুবাদার হিসেবে বাংলায় আসেন মুর্শিদ কুলি খান। প্রথমে তাঁকে বাংলার দেওয়ান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়(দেওয়ানদের কাজ ছিল সুবার রাজস্ব আদায় ও অর্থনৈতি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা)।
⇒ সম্রাট ফররুখশিয়ারের রাজত্বকালে মুর্শিদ কুলি খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন। কিছুদিন পর তিনি অনেকটা স্বাধীন হয়ে পড়েন।
তিনি সম্রাটের নামমাত্র আনুগত্য প্রকাশ করতেন এবং বার্ষিক ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকা রাজস্ব পাঠাতেন।
নবাব মুর্শিদ কুলি খানের সময় থেকেই বাংলা সুবা প্রায় স্বাধীন হয়ে পড়ে। এ সময় সুবাকে বলা হতো 'নিজামত' আর সুবাদারের বদলে পদবি হয় 'নাজিম'। নাজিম পদটি হয়ে পড়ে বংশগত।
সুবাদার বা নাজিমগণ বাংলার সিংহাসনে বসে মুঘল সম্রাটদের কাছ থেকে শুধু একটি অনুমোদন নিয়ে নিতেন। তাই আঠারো শতকে বাংলায় মুঘল শাসনের ইতিহাস 'নিজামত' বা 'নবাবি' আমলরূপে পরিচিত আর প্রায় স্বাধীন শাসকগণ পরিচিত হন নবাব হিসেবে।
★★★ মুর্শিদ কুলি খান মুঘল সম্রাট কর্তৃক নিযুক্ত বাংলার শেষ সুবাদার এবং বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব। তার উপাধি ছিল জাফর খান। রাজস্ব সংস্কার মুর্শিদ কুলি খানের সর্বাধিক স্মরণীয় কীর্তি। তিনি ভূমি জরিপ করে রায়তদের সামর্থ্য অনুযায়ী রাজস্ব নির্ধারণ করেছিলেন।
★★★ নবাব সিরাজউদ্দৌলা শেষ স্বাধীন নবাব হিসেবে বাংলার শেষ সুবেদারির দায়িত্ব পালন করেন।
**** বাংলার ১ম সুবেদার - ইসলাম খান
**** বেশি মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী সুবেদার - শায়েস্তা খান (২ বার ছিলেন)
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম – দশম শ্রেণী।
#বিসিএস
#বাংলাদেশবিষয়াবলি
#ইতিহাস
#মুঘলশাসন
#সিরাজউদ্দৌলা
পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
19/06/2024
পরীক্ষায় কনফিউশান লাগার মত প্রশ্নঃ
পোস্ট নং - ১১
★ প্রশ্নঃ বাংলায় মুঘল শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কে?
হুমায়ুন
আকবর
জাহাঙ্গীর
ইসলাম খান
**** অনেকেই কনফিউশানে জাহাঙ্গীর কিংবা হুমায়ুন দাগাতে পারে।
>>>>> সঠিক উত্তরঃ আকবর।
>> ব্যাখ্যাঃ
★ বাংলায় মুগল শাসনঃ
বাংলায় মুগল বিজয়ের সূত্রপাত ঘটে সম্রাট হুমায়ুনের রাজত্বকালে। ১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট হুমায়ুন বাংলায় প্রবেশ করেন এবং গৌড় অধিকার করেন। তিনি গৌড় নগরীর চমৎকার প্রাসাদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এর নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'। বাংলায় ৮মাস অবস্থান করে হুমায়ুন দিল্লির দিকে যাত্রা করলে বক্সারের নিকটবর্তী চৌসা, নামক স্থানে শেরশাহ তাঁকে অতর্কিত আক্রমণ করে। চৌসারের যুদ্ধে (১৫৩৯ সাল) পরাজিত হয়ে হুমায়ুন কোনোক্রমে প্রাণ নিয়ে দিল্লি পৌঁছেন।
★ ১৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবরের সেনাপতি খান-ই-জাহান কুলী বেগ কররানী বংশের শেষ সুলতান দাউদ খান কররানীকে রাজমহলের যুদ্ধে পরাজিত করে বাংলায় মুগল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাকে মুগল সাম্রাজ্যের একটি সুবাহ হিসেবে ঘোষণা করা হয় সুবাহ হলো মুগল সাম্রাজ্যের প্রদেশ। সুবা বাংলার অর্ন্তগত ছিল (বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা সম্রাট আকবরের সময়ে বাংলায় মুগল শাসনের সূত্রপাত হলেও সমগ্র বাংলার ওপর মুগল আধিপত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি। বারো ভূঁইয়াদের দমনের পর সমগ্র বাংলায় মুগল আধিপত্য প্রতিষ্ঠা সম্রাট জাহাঙ্গীরের অন্যতম কৃতিত্ব।
★★ বাংলায় মুঘল শাসনের সূচনা করেন – হুমায়ুন
★★ বাংলায় মুঘল শাসনের প্রতিষ্ঠা করেন – আকবর
★★ বাংলায় মুঘল শাসনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা – জাহাঙ্গীর
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম – দশম শ্রেণী; ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
#ইতিহাস
#বিসিএস
#বাংলাদেশবিষয়াবলি
#মুঘলশাসন
#আকবর
#হুমায়ুন
#জাহাঙ্গীর
পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
18/06/2024
এতদিন ভুল জেনে আসা উত্তর.....
পোস্ট নং - ১০
★ প্রশ্নঃ চাপাইনবাবগঞ্জের ছোট সোনা মসজিদ কে নির্মাণ করেন?
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
নুসরত শাহ
ইলিয়াস শাহ
মনসুর ওয়ালী মুহম্মদ বিন আলী
*** এই প্রশ্নের উত্তর এতদিন আমরা জেনে এসেছি আলাউদ্দিন হোসেন শাহ। কিন্তু তিনি মোটেও নির্মাতা ছিলেন না।
>> সঠিক উত্তরঃ মনসুর ওয়ালী মুহম্মদ বিন আলী
>>ব্যাখ্যাঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে সুলতানি স্থাপত্যে ছোট সোনা মসজিদ অবস্থিত।
★★ ছোট সোনা মসজিদের প্রধান প্রবেশপথের ওপরে স্থাপিত শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১৪৯৩ থেকে ১৫১৯ সালের মধ্যে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহর শাসনকালে জনৈক মনসুর ওয়ালী মুহম্মদ বিন আলী ছোট সোনা মসজিদটি নির্মাণ করেন।
সোনা মসজিদে গ্রানাইটের টালি ব্যবহৃত হয়েছে। সুলতানি স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত ছোট সোনা মসজিদে ইটের তৈরি ১২টি গম্বুজ রয়েছে।
সুতরাং, আলাউদ্দিন হোসেন শাহ নির্মাণ করেননি। তিনি আদেশ দেন। তার শাসনামলে, তার আদেশে মনসুর ওয়ালী মুহম্মদ বিন আলী মসজিদ টি নির্মাণ করেন। তবে অপশনে এটি না থাকলে হোসেন শাহ উত্তর হবে।
★ বড় সোনা মসজিদ নুসরত শাহের আমলে নির্মিত।
উৎসঃ প্রথম আলো পত্রিকা।
#বিসিএস
#বাংলাদেশবিষয়াবলি
#ইতিহাস
#আলাউদ্দিনহোসেনশাহ
#ছোটসোনামসজিদ
#চাপাইনবাবগঞ্জ
★ পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করতে অবশ্যই ভুলবেন না।
30/05/2024
পরীক্ষায় ভুল করার মত আরেকটি কনফিউজিং প্রশ্ন
পোস্ট নং - ৯
★ পাঁচালি গানের স্রষ্টা কে?
ক) দাশরথি রায়
খ) লক্ষীকান্ত বিশ্বাস
গ) রামনিধি গুপ্ত
ঘ) মধু ঠাকুর
*** এই প্রশ্ন পরীক্ষায় আসলে ৯৯.৯৯% দাশরথি রায় দাগাবে। কিন্তু এটা সঠিক উত্তর নয়।
>>>> সঠিক উত্তরঃ লক্ষীকান্ত বিশ্বাস
>> ব্যাখ্যাঃ
★ পাঁচালি গান:
- পাঁচালি লোকগীতির একটি ধারা।
- এতে গানের মাধ্যমে কোনো আখ্যান বর্ণিত হয়।
- পঞ্চাল বা পঞ্চালিকা শব্দ থেকে পাঁচালি শব্দের উৎপত্তি।
- বাংলায় 'পাঁচালি' বলতে আমরা বুঝি দেবমাহাত্ম্যসূচক কাহিনি সূচক গান।
- আবার এতে গান, বাজনা, ছড়া কাটা, গানের লড়াই ও নাচ এই পঞ্চাঙ্গের সমাবেশে ঘটে বলেও কেউ কেউ একে পাঁচালি বলেন।
★ পাঁচালি গানের সর্বপ্রথম প্রচলন করেন লক্ষীকান্ত বিশ্বাস। এজন্য তাকে এই গানের স্রষ্টা বলা হয়।
- পাঁচালি রচয়িতাদের মধ্যে বিশেষ প্রসিদ্ধ ও জনপ্রিয় দাশরথি রায়।
- ‘দাশু রায়ের পাঁচালি’ সারা বাংলায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে।
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
ভাল লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
#বিসিএস
#পাঁচালি