13/10/2021
Adnan Habib
কখনো হাল ছেড়ে দিও না, সফলতা একদিন আসবে।
13/10/2021
হয়তো এখন আপনার গুরুত্বপূর্ণ পড়া তৈরি করার কথা ছিলো বা হয়তো খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ করার কথা ছিলো। কিন্তু ভেবেছেন ফেসবুক বা ইউটিউবে কিছু পোস্ট দেখবেন বা একটা ভিডিও দেখবেন এইভাবে দেখতে দেখতে একটি পর্যায়ে এই অ্যাপটি থেকে অনুপ্রেরণার গল্প পড়ছেন। আপনি কী জানেন এমনটা হয় কেন? কেন আমরা একটা ভিডিও দেখবো বলে একটানা দশটা ভিডিও দেখে থাকি? কারন আমাদের মধ্যে একটা রোগ আছে রোগটা তেমন জটিল নয় কিন্তু ভয়ঙ্কর। এটা যার ভিতরে বেশি আছে তার জীবন শেষ, আর এর ঔষধ আপনার ভিতরেই এটার ঔষধ কনো দোকানে আপনি পাবেন না। রোগটির নাম হলো Procratination ঢিলেমি করা অর্থাৎ অকারনে সময় নষ্ট করা। তো এখন আমি একটা ট্রিক্স শেয়ার করবো আপনাদের সাথে হয়তো আজকের পর থেকে আপনি আর সময় নষ্ট করবেন না। এই ট্রিক্স টার নাম হলো The 5 second rule কোন কাজ করার আগে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আপনার কাছে ৫ সেকেন্ড সময় থাকে। বাস্তবে আমাদের মস্তিস্ক খুব কমফোর্টেবল থাকতে চায় তার খুব ভাল লাগে যখন আমরা হাসি খুশি থাকি এবং খাটের উপরে শুয়ে আরাম করি। তখন আমাদের মস্তিস্কে ডোপামিন নামক এক কেমিক্যাল রিলিজ হয় আর আপনার মধ্যে একটা ভাল লাগার অনুভব আসে আমার আপনার মস্তিস্ক এই ভাবেই ডিজাইন করা। যেটা সব সময় চায় ভালো থাকতে, হাসি খুশি থাকতে, খারাপ ভাবনা থেকে দূরে থাকতে। সেই জন্যই আপনি যখন একের পর একটা নতুন ভিডিও বা অন্য কিছু দেখতে থাকেন তখনই ডোপামিন রিলিজ হয়ে আরো ভালো লাগা শুরু করে।
এই সময়টা আপনি জাস্ট বসে বসে সময় নষ্ট করতে থাকেন এই অবস্থা থেকে বের হওয়ার জন্য আপনার কিছুটা পরিমাণ এক্টিভেশন প্রয়োজন হয়। যার দ্বারা আপনি ওইটা থেকে বের হয়ে কাজ করতে শুরু করতে পারেন। কিন্তু আপনার মস্তিস্কটা চায় না সে এই এনার্জিটা শেষ করুক এবং কাজটা না করার জন্য হাজারটা কারন দেখায়। কাজটা করার জন্য কি কি সমস্যা হবে সেই গুলো আর বড় বড় করে দেখাতে থাকে আমাদের মস্তিস্ক এমনটা করে কারন এটা আমাদের বেসিক ফাংশন। সে Problem ও Difficult situation থেকে আপনাকে রক্ষা করতে চায়। কিন্তু কোন পরিবর্তন আনার জন্য কোন নতুন কিছু করার জন্য ওই সমস্থ কিছু যা আপনার জীবন, আপনার কাজ, আপনার স্বপ্নকে পূরণ করবে, আপনাকে সেই সব কাজই করতে হবে যা Difficult যা Risky যা Uncomfortable । আমরা সবাই জানি পড়া লেখা না করলে ভবিষ্যতে কঠিন সময়ের সম্মুখীন হতে হবে সেই ভাবনা থেকে এনার্জি নিয়ে ৪ দিন খুব মন দিয়ে পড়ালেখা করলাম তার পরে মনে হলো ধুর যা হবার হবে পরে দেখা যাবে। তার পরে ধরুন আপনার একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ খাতা লিখতে হবে কিন্তু আপই কোন ভাবেই সেটা শুরু করতে পারছেন না এখন প্রশ্ন হলো এই সময় নষ্ট কিভাবে বন্ধ করা যাবে? এর জন্য ব্যাবহার করতে হবে The 5 second rule আপনি ৫ সেকেন্ডের জন্য সচেতন হয়ে যান। আর নিজেকে বলুন হা এটা আমি এখনি করবো এটা একটা রকেট লঞ্চের মতো 5 4 3 2 1 Gooo.... যেখানে না বলার কোন সুযোগ নেই।
ধরুন সকাল ৭ টায় আপনাকে উঠতেই হবে অ্যালার্ম বাজার সঙ্গে সঙ্গে চোখটা খুলেই 5 4 3 2 1 Gooo.... উঠে পরুন। একবার উঠে পরলেই আর পিছু চিন্তা করা যাবে না। কোন কাজ করার আগে সকল মানুষের কাছে ৫ সেকেন্ড সময় থাকে যদি আপনি তার ভিতরে সিন্ধান্ত না নিয়ে থাকেল তাহলে আপনার মস্তিস্ক আপনার সাথেই ট্রিক্স খেলা শুরু করবে। মনে হবে আর ১০ মিনিট শুয়ে নেই কি আর এমন ক্ষতি হবে কিন্তু আপনি দেখবেন ১০ মিনিটের জায়গায় আপনি ১ ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন। সারা দিন এমন অনেক পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে আপনাকে সিন্ধান্ত নিতে হয় তার ভিতরে আপনার আইডিয়াকে একশনে পরিনত করতে হয়। সেটা না হলে আপনার মস্তিস্ক আপানকে বলবে কাজটা পরেও করা যাবে আর আপনি ঢিলেমি করতে শুরু করবেন। সেই জন্য ৫ সেকেন্ডের মধ্যেই সিন্ধান্ত নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে যাতে আপনার টার্গেটের দিকে আপনি যেতে পারেন। এটা যদি আপনি নিয়মিত করেন তাহলে আপনার অভ্যাসে পরিনত হয়ে আপনাকে জয়ী করবে।
***Mel Robbins এর The 5 second rule ব্যাবহার করে সারা পৃথিবীর মানুষ আজকে সফল হয়েছেন আশা করি আপনি হবেন ইনশা-আল্লাহ্। MaxPro BD
মোঃ রিদয় যখন শিশু শ্রেণিতে পড়ালেখা করছিল তখন তার মাত্র চার বছর বয়স। রিদয়ের জ্ঞান বুদ্ধি তখন একটি সাধারণ ছেলের চেয়ে তুলনামূলক কম ছিলো। সে অন্য ছাত্র-ছাত্রীদের মত পড়ালেখায় ভাল ছিলো না, হঠাৎ একদিন ম্যাডাম তার মাকে ডেকে এনেছে এবং তাকে তার মায়ের সামনে একটি অংক করতে বলে কিন্তু রিদয় ভয় পেয়ে করতে পারল না। রিদয় কিছু সময় অচল হয়ে গেল। সে অনেক সময় দারিয়ে থাকল ম্যাডাম তাকে তার মায়ের সামনে অনেক লজ্জা দিল এবং তার মাকেও অনেক কথা শুনাল আর বলে দিলো রিদয়ের স্কুলে রাখবে না। কিছু দিন রিদয় স্কুলে যাওয়া থেকে বিরত থাকে পরে তার মায়ের অনেক অনুরধের পরে একটি সুযোগ দেওয়া হয়। স্কুলে রিদয়কে নিয়ে ছাত্র-ছাত্রিরা হাসি-ঠাট্রা করে। রিদয় বাড়ি ফিরে প্রচুর কান্না করতে ছিলো তখন তার মা তাকে বলে, আমি জানি তুমি অনেক মেধাবী চাইলেই তুমি পড়ালেখায় ভাল হতে পাড়। কিন্তু তোমার ভিতরে লজ্জা ভয় এমন কি বিভিন্ন জড়তা কাজ করে যেটা তোমাকে আজ সবার কাছে নিচু করেছে। আমি জানি তুমি পারবে, তোমার ভিতরে যে প্রতিভা লুকিয়ে আছে সেটা সবাইকে দেখিয়ে দাও। এই পৃথিবীতে কেউ জ্ঞানী হয়ে জন্মায় না সবাই এসে জ্ঞানী হয়ে উঠে। আমার দোয়া তোমার সাথেই আছে তুমি এগিয়ে যাও বাবা,,,!
দীর্ঘ চার বছর পরে রিদয় স্কুলের মেধাবীদের তালিকায় ১ম স্থান অধিকার করে এবং মেধাবী তালিকার বৃত্তি অর্জন করে। সে তার মায়ের মুখে একটা মধুর হাসি উপহার দেয়। একদিন যেই মানুষটাকে সবাই হাসির পাত্র বানিয়েছে আজ সেই মানুষটা স্কুলের নাম উজ্জ্বল করেছে। ছেলেটির এই সফলতার পিছনে ছিলো তার একটা বড় শক্তি সেটা হলো তার মায়ের একটু অনুপ্রেরণা, হাজার শক্তিশালী মায়ের দোয়া। যা পারে একটা সন্তানের জীবন বদলে দিতে, সেরা মানুষ বানিয়ে দিতে। আজকে আমরা ছেলে-মেয়ের একটু উৎসাহিত করার বদলে বলে থাকি তোমার দিয়ে কিছু হবে না, তুমি এটা করতে পারবে না, তুমি একটা অপদার্থ ইত্যাদি। একটি কাজ একবার দুই বার করতে না পারলে আমরা বকা দিয়ে থাকি আর এর জন্যই আমাদের মধ্য থেকে হাজারও এডিসন, মাইকেল জর্ডান, কাজী নজরুল ইসলাম হারিয়ে যাচ্ছে। কেন আমরা কি পারি না তাদের একটু অনুপ্রেরণা দিতে, পারিনা একটু সাহস দিতে, যে তুমি চেষ্টা করো তুমি পারবে।
কবি বলেছেন পারিও না এ কথাটি বলিও না আর, একবার না পরিলে দেখো শত বার। তাই আমরা সব সময় চেষ্টা করবো আমাদের সন্তানদের মনে সাহস যোগাতে যেন তারা কোন কাজে ভয় না পেয়ে জয় করতে পারে। নিজের সন্তানের উপরে বিশ্বাস রাখুন, ভালবাসুন, কারোর কথায় নিজের সন্তানকে কখন ভুল বুঝবেন না ।
(মনে রাখবেন আপনার একটি কথায় আপনার ছেলে-মেয়ে একটি অন্যরকম কিছু করতে পারে, হতে পারে দেশের সেরা মানুষের একজন) MaxPro BD
Click here to claim your Sponsored Listing.