26/09/2025
ভালোবাসার রং বদল
Abanti Islam
Part: 21+22 সমাপ্ত পর্ব
অভয় অনুর দিকে তাকিয়ে বলল,,,
---"ওইসব কথা তোর মনে করার দরকার নাই। তুমি আমার সাথে এখান থেকে চলে আয়।ওইসব কিছু তোর মনে করতে হবে না।আর তুমি কাজটা ঠিক কর নি।মাইশা কে উদ্দেশ্য করে বলল,,,,
মাইশা চোখের পানি মুছে বলল,,,
---"আমি ওদের ভালোর জন্য এটা করেছি আমাকে বিশ্বাস কর। আমি চাই অনু আর অভি ভালো থাক ওদের সব ঝামেলা শেষ করে এক সাথে থাকুক।"
অভয় মাইশাকে ধমক এর সুরে বলল,,,
---"এটা কখনও সম্ভব না। অনুকে আমি আবার কোন ধরনের বিপদে ফেলতে পারি না। ওর জীবন আর নষ্ট হতে দিব না। এমনি জীবনে অনু অনেক কষ্ট পেয়েছে। আর কষ্ট পেতে হবে না।"
মাঈশা অভয় দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে বলল,,,
---"তুমি এটা কি বলছ তুমি জানো তোমার ভাইয়ার অবস্থা তখন কেমন ছিল সেটাও তুমি ভালো করে জানো।তাহলে এখন এইরকম কথা কেন বলছ। অভি এখন আর আগের মতো নেই নিজেকে অনেক পরিবর্তন করে ফেলেছে।এখন অভি অনুকে অনেক ভালোবাসবে। আমার কথা তোমাদের বিশ্বাস না হলে কৌশিক কে জিগ্যেসা করে দেখ। "
ডাক্তার কৌশিক এতক্ষন চুপ করে ওদের কথা শুনে যাচ্ছিল। কোন কথা বলে নি। কিন্তু মাইশা কৌশিক এর নাম নেওয়াতে কৌশিক বলতে শুরু করে।
দেখ অভি চৌধুরী অবস্থা আগে অনেক খারাপ ছিল কিন্তু রিহেব এ থাকার পর আমি নিজে ওটার ট্রিটমেন্ট করেছি। ওনি আর আগের মতো নেই অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। অভি চৌধুরী বদলে গেছে। সভাবিক জীবনে চলে এসেছে।
অনু সবার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,,,
---"তোমরা সবাই নিজেদের মতো যা ইচ্ছে বলে যাচ্ছ। আমার ইচ্ছে অনিচ্ছা কথা শোনার কোন দরকার আছে কি তোমাদের।"
অনুর কথা শুনে অভয় মাইশা আর কৌশিক সবাই অনুর দিকে তাকায়।
অনু সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল,,,
---"আমার জীবন এর সিদ্ধান্ত আমি একা নিতে পারি। কারো কথা শুনার কোন দরকার নেই আমার।কিন্তু আমার সাথে কি কি হয়েছে সব কিছু আমাকে অভয় তুই জানাবি কিনা সেটা বল।"
অভয় অনুর দিকে তাকিয়ে বলল,,,
---"তুই শান্ত হয়ে বস আমি তোকে সব কিছু বলছি। বলে অনুর পাশে বসে কিছু বলতে যাবে তার আগে অভয় ফোন বেজে ওঠে। অভয় ফোন হাতে নিয়ে দেখে অভির নাম্বার থেকে ফোন এসেছে। তাই ওখান থেকে ওঠে একটু দূরে যেয়ে ফোন রিসিভ করে। কথা বলে অনুর কাছে এসে বলল,,,
---"আমার সাথে এখনি চল। আমাদের এখন যেতে হবে। মাইশাকে উদ্দেশ্য করে বলল,,,
---" তোমরাও আমাদের সাথে এস।"
সবাই অভয় কথা শুনে ওর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখে। অভয় চোখ লাল হয়ে গেছে। মুখে ভয় আর চিন্তার ছাপ পরে আছে।
অনু অভয় কাছে যেয়ে জানতে চায় কি হয়েছে বলবি তো। কে ফোন করেছিল আর সবাইকে কোথায় যাওয়ার কথা বলছিস।
অভয় অনুর দিকে তাকিয়ে বলল,,,
---"এখন এত কথা বলার সময় নেই। তাড়াতাড়ি চল ভাইয়া এক্সিডেন্ট করেছে। অবস্থা ভালো না।হসপিটালে ভর্তি করতে হয়েছে।"
অভয় কথা শুনে মাইশা অনেক বড় একটা সক পায়। দাড়ানো থেকে বসে পরে। ডাক্তার কৌশিক মাইশাকে ঝড়িয়ে ধরে। মাইশা নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,,
---'আমরা কেন এখনো এখানে আছি।তাড়াতাড়ি হসপিটালে যেতে হবে চল এখনি।"
মাইশার কথা শুনে সবাই হসপিটালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। রাস্তায় যেতে যেতে অভয় মাকে ফোন করে হসপিটালে চলে আসতে বলে।
________________________
হসপিটালে পৌঁছে জানতে পারে অভির অবস্থা ভালো না। অপারেশন করতে হবে তার জন্য আই সিও তে রাখা হয়েছে লাইফ সাপোর্ট এ। ডাক্তাররা বাড়ির লোকের জন্য অপেক্ষা করে যাচ্ছে।
অভয় ডাক্তারদের সাথে কথা বলে জানতে পারে অভির অবস্থা খুব খারাপ। রাস্তায় একটা বাচ্চাকে বাঁচাতে যেয়ে নিজের গাড়ি ট্রাক এর সাথে বাড়ি লেগে যায়। যার ফলে গাড়ি ছিটকে রাস্তার পাশে থাকা গাছের সাথে বাড়ি লেগে নিচে পরে আগুন ধরে যায়। কিন্তু স্থানীয় মানুষরা অভিকে কোন ভাবে গাড়ি থেকে বাহির করে হসপিটালে নিয়ে আসে।
অভির মাথার মগজে রক্তে জমাট বেধে গেছে ঘারের কিছু রগ ছিড়ে গেছে। বাঁচানোর কোন চাস ডাক্তারদের জানা নেই।
অভয় চোখের পানি মুছে ডাক্তার কেবিন থেকে বাহির হয়ে আসে। অভয়কে আসতে দেখে সবাই দৌড় অভয় কাছে চলে আসে। অভির কি অবস্থা সেটার জানার জন্য আগ্রহ নিয়ে অভয় মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।
অভয় সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল,,,
---*ভাইয়া অবস্থা খুব খারাপ হয়ত আর কিছু সময় ভাইয়ার হাতে আছে। অপারেশন করে লাভ হবে না।তাই ডাক্তার অপারেশন করাতে চাইছে না।তোমরা যেয়ে শেষ বারের মতো ভাইয়াকে দেখে আস।"
অভয় কথা শুনে সাহারা বেগম পরে যেতে নিলে আহেলী উনাকে ধরে ফেলে।
সাহারা বেগম নিজেকে সামলে উঠে দাঁড়িয়ে অভয় কাছে এসে বলল,,,
---"যে ভাবে হোক আমার বড় ছেলেকে বা তোল। আমি অভিকে ছাড়া বাচতে পারব না। কিছু একটা তো উপায় আছে অভিকে ভালো করার। তোরা আরো বড় বড় ডাক্তার এর সাথে যোগাযোগ কর। দরকার হলে বিদেশ নিয়ে যা কিন্তু আমার ছেলেকে ভালো করে দে।"
মাইশা নিরবে চোখের পানি ফেলে যাচ্ছে। কৌশিক মাইশাকে ঝড়িয়ে ধরে রেখেছে। কৌশিক কে ছেড়ে মাইশা অভয় এর সামনে এসে বলল,,,
---"যা করা দরকার কর। অপারেশন করা যাবে না কেন। এত ডাক্তার কি করতে আছে একটা অপারেশন করতে পারবে না। অভিকে ভালো হতে হবে।"
অভয় মাইশাকে উদ্দেশ্য করে বলল,,,
---"যদি কিছু করা সম্ভব হতো তাহলে কি আমি চুপ করে এখানে দাড়িয়ে থাকতাম। আমার ও ভাইয়ার জন্য তোমাদের থেকে বেশি কষ্ট হচ্ছে। ভাইয়ার কাছে সময় খুব কম আছে। তোমরা ভাইয়ার সাথে শেষ বারের মতো দেখা করে আস। বলে ওখান থেকে চলে যায়।"
অনু চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে কি করবে কিছু বুঝতে পারছে না। এই মুহুর্তে কি করা উচিৎ সেটাও অনুর কাছে অজানা লাগছে।
সাহারা বেগম আর আহেলী কোহেলী মিলে অভির কেবিনে দাঁড়িয়ে আছে। অভির সারা মাথা বেন্ডেজ করা নাক মুখ দিয়ে রক্ত পরছে। চেহারা বিভ্যৎস দেখা যাচ্ছে। অভির অবস্থা দেখে সাহারা বেগম জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। দুই বোন আর একজন নার্স উনাকে একটা কেবিনে নিয়ে যায়। ডাক্তার উনার চেকাপ করে জানায় সাহারা বেগম ব্রেন স্টোক করেছে। হঠাৎ করে এতবার শোক মেনে নিতে পারে নি। যার ফলে ব্রেন স্টোক করে।
মাইশা আর ডাক্তার কৌশিক আইসিও তে অভিকে দেখার জন্য যায়। মাইশা অভিকে এক পলক দেখে কৌশিক কে ঝড়িয়ে ধরে চিৎকার দিয়ে কৌশিক কে ঝড়িয়ে ধরে। কৌশিক মাইশা অবস্থা বুঝতে পেরে ওকে শক্ত করে ঝড়িয়ে ধরে মাইশাকে নিয়ে বাহির হয়ে আসে।
অনু ওখানে চুপচাপ বসে আছে। কি করবে সেটাই ভেবে যাচ্ছে।
চলবে,,,,,,,,.
অভয় অনুর সামনে বসে বলল,,,
---"শেষ বারের জন্য ভাইয়ার সাথে একবার দেখা করবি না। কথা বলতে বলতে চোখের পানি মুছছে।"
অনু ছল ছল চোখে বলল,,,
---"আমাকে একবার নিয়ে যাবি। আমি একবার উনার সাথে দেখা করতে চাই। বলে অভয় দিকে তাকায়। অভয় অনুর অবস্থা বুঝে বলল,,,
---"ঠিক আছে চল আমার সাথে বলে অনুকে সাথে নিয়ে যায়। অনুর চোখ গুলো ছল ছল করছে। চোখের পানি গুলো মুছে অভয় এর সাথে কেবিনে চলে যায়।"
অভয় অভির পাশে বসে অভির হাতের উপর হাত রেখে বলল,,,
---"ভাইয়া দেখ কে এসেছে। একবার তাকাও আমার দিকে। ভাইয়া আমি তোমার সাথে খুব অন্যায় করেছি। আমাকে ক্ষমা করে দেও ভাইয়া চোখ থেকে পানি পরছে।"
অভি একবার চোখ খুলে অভয় দিকে তাকায়। কিছু একটা বলার চেষ্টা করে কিন্তু শেষ কথাটা বলার হয়তো সুযোগ ছিল না। তাই চোখ বেয়ে দুইফোটা পানি ফেলে নিশ্বাস বন্ধ করে ফেলে। অভয় চিৎকারে সবাই আই সিও তে চলে আসে।
__________________________
অভিকে শেষ বারের জন্য বাসায় নিয়ে আসা হয়। কিছুক্ষন পর কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে। সাহারা বেগম ব্রেন স্টক করে উনার অবস্থা খুব খারাপ তাই উনাকে আই সিও তে সিফট করা হয়।বাকিরা সবাই অভির লাস এর পাশে বসে আছে। অনুর বাবা মা এসেছে। উনারা একপাশে দাড়িয়ে আছে। অভিদের বাকি আত্মীয় সজন অনুকে নিয়ে যায়। গোসল করে সাদা কাপড় পরে আসতে বলে। অনু কোন কিছুতেই বাধা দিচ্ছে না। গোসল করে সাদা একটা কাপড় পরে একপাশে দাঁড়িয়ে আছে।
অভয় একা সব কাজ করে যাচ্ছে। বিকেলে অভিকে নিয়ে যাওয়া হয়। কোহেলি কোন ভাবে অভিকে যেতে দিতে রাজি না। সবাই কোহেলিকে বুঝিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কারো কথা ওর কান পযর্ন্ত যাচ্ছে না। একপ্রকার জোর করে অভিকে নিয়ে যাওয়া হয়। শেষ জানামাজ নিয়ে কবর দিয়ে সবাই নিজেদের মত করে চলে যায়। অভয় ভাই এর কবর এর পাশে বসে আছে। আকাশ তুহিন অভয় বাকি বন্ধুরা একপ্রকার জোর করে অভয় কে কবর এর কাছে থেকে নিয়ে আসা হয়।
____________________________
বাসার এসে সোফায় চুপ করে বসে আছে। আহেলী কোহেলি অভয় পাশে বসে কান্না করে যাচ্ছে। মাইশা নিজের চোখের পানি মুছে সবাইকে বুঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।
হঠাৎ অভয় ফোন বেজে ওঠে ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখে হসপিটাল থেকে ফোন এসেছে তাই সবাইকে চুপ করতে বলে। ফোন রিসিভ করে। হসপিটাল থেকে জানায় অভয় এর মার অবস্থা বেশি ভালো না এখনি হসপিটালে যেতে হবে। অভয় কাউকে কিছু না বলে হসপিটালে চলে যায়।
________________________
হসপিটালে এসে ডাক্তারদের সাথে কথা বলে জানতে পারে সাহারা বেগম এর অপারেশন করতে হবে। অপারেশন এ উনি হয়ত বেঁচে যাবে কিন্তু সুস্থ হবে না। সাভাবিক জীবনে আর ফিরে আসতে পারবে না। অভয় নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,
মা বেঁচে থাকুক এই টুকু অনেক ভাইয়া পরে মাকে হারাতে পারব না। আপনারা যা ভালো হয় করুন শুধু মাকে ভালো করে দিন। বলে চোখ থেকে পানি পড়ছে।
ডাক্তার অভয় কাধে হাত রেখে বলল,,,
---"তুমি এইভাবে ভেঙে পড়লে বাকিদের কে সামলাবে। সব ঠিক হয়ে যাবে আল্লাহ উপর ভরষা রাখো বলে সবাই ওটিতে চলে যায়।"
অভয় চেয়ারে হাত ভাজ করে বসে আছে। চোখ থেকে পানি পরে যাচ্ছে। এত তাড়াতাড়ি এত কিছু হয়ে যাবে ভাবতে পারে নি। একটা পর একটা বিপদ কি ভাবে সব কিছু সামাল দিবে সেটা ভেবে যাচ্ছে।
প্রায় চার ঘন্টা পর,
অপারেশন শেষ করে ডাক্তার টিম বাহির হয়ে আসে। অভয় ওনাদের দেখে সামনে এগিয়ে যায়। মা ঠিক আছে তো।
ডাক্তার অভয় কাধে হাত রেখে বলল,,,
---"এই যাত্রায় তোমার মা বেঁচে গেছে কিন্তু উনার এক সাইট প্যারালাইস্ট হয়ে গেছে। হয়ত ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে যাবে। একটু পরে উনাকে কেবিনে দেওয়া হবে তখন দেখা করতে পারবে। ডাক্তার কথা শুনে অভয় একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলল,,,
ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে মা ভালো আছে এটা আমাদের জন্য অনেক কিছু। বলে চোখের পানি ফেলছে। পেছন থেকে অনু অভয় কাধে হাত রেখে বলল,,,
---"তুই এতো চিন্তা করিস না সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। এখন আন্টির সাথে দেখা করে বাসায় যাওয়া দরকার তোর। অভয় অনুর দিকে তাকিয়ে বলল,,,,
---"তুই এই সাদা শাড়ি চেন্জ কেন করিস নি। আর তুই বাসায় চলে যা অনেকক্ষন হয়েছে এসেছিস।অনু অভয় কে থামিয়ে দিয়ে বলল,,,
---"আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না আমি এখন কিছুদিন তোদের বাড়িতে থাকব বাবা মা কে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। আন্টিকে দেখে একসাথে বাসায় যাব। অভয় কিছু না বলে অনুর দিকে তাকিয়ে আছে। "
অনু কিরে এই ভাবে কি দেখছিস। কি হয়েছে বলবি কিছু।
অভয় কিছুক্ষন চুপ থেকে বলল,,,
---"তুই কত বদলে গেছিস তোকে চেনাই যাচ্ছে না। তুই আমাদের বাড়িতে থাকলে সবার জন্য খুব ভালো হবে।"
অনু অভয় কথা শুনে বলল,,,
---"সময় মানুষকে অনেক বদলে দেয়। এখন চল আন্টিকে দেখে আসি। বলে দুইজনে সাহারা বেগম এর কেবিনে চলে যায়। ওখানে কিছুক্ষন বসে থেকে বাহির হয়ে আসে। বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।"
অনু অভয় বাসায় এসে সব কিছু একা সামলে নিয়েছে। কিছুদিন পর সাহারা বেগম কেও বাসায় নিয়ে আসা হয়। উনি সারাদিন হুইল চেয়ারে বসে থাকে। অভির ছবির সামনে বসে থাকে বেশি সময় আর নিজের মতো করে চোখের পানি ফেলে যায়।
সময় সবকিছু ভুলিয়ে দেয়। ঠিক তেমনি সবাই সবকিছু ভুলে নতুন করে এগিয়ে যায়। আহেলী কোহেলি কলেজ যেতে শুরু করে অভয় হসপিটালে যায় রোজ বাসায় সাহারা বেগম একাই থাকে অনু মাঝে মাঝে এসে ওনাকে দেখে যায়।
দুই বছর পর,,,,
অনু বউ সেজে বাসর ঘরে বসে আছে। এই দুই বছরে অনেক কিছু চেন্জ হয়ে গেছে। অনু বাসর ঘরে বসে ভেবে যাচ্ছে।
সাহারা বেগম আহেলি কোহেলী অনুদের বাসায় এসে। অনুকে নিজের ছেলের বউ করে নেওয়ার দাবী করে। আমেনা বেগম কোন ভাবে উনাদের কথায় রাজি না।
কিন্তু অনুর বাবা উনাদের প্রস্তাব শুনে বলল,,,
---"আমাদের রাজি হওয়ার থেকেও বেশি দরকারি হলো অনুর মতামত জানার অনু রাজি থাকলে আমাদের কোন সমস্যা নেই।"
অনু বাবার পাশে বসে সবকিছু শুনছে। কি বলবে সেটাই ভেবে যাচ্ছে।
সাহারা বেগম রায়হান সরকার এর কথাতে সম্মতি দিয়ে অনুর কাছ থেকে জানতে চায় অনুর কি মতামত। অনু মাথা নিচু করে বলল,,,
---"বাবা যা ভালো বুঝে সেটাই করবে। আর আমি সেটাতেই রাজি বলে ওখান থেকে উঠে চলে যায়। অনুর কথা শুনে সবাই বুঝতে পারে অনু কি চায় তাই দেরী না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওনারা অনু কে বউ করে নিয়ে যেতে চায়।"
আহেলীর বিয়ে হয়ে গেছে ছেলে আহেলী নিজে পছন্দ করেছে। শশুর বাড়ি যেয়ে আহেলী নিজের ভুল বুঝতে পারে। তাই বিয়ের কিছুদিন পর অনুর কাছে যেয়ে ক্ষমা চেয়ে আসে।
হঠাৎ দরজা আওয়াজ শুনে অনু নিজেকে একটু গুটিয়ে বসে। অভয় ভেতরে এসে বলল,,,
---"কিরে তুই এই বিয়েতে রাজি ছিলি না। আমাকে তোর পছন্দ হয় নি।"
অনু অভয় কথা শুনে মাথা নিচু করে আছে কোন কথা বলছে না। লজ্জায় নিজের হাত গুলো মুঠোর মধ্যে নিয়ে রেখেছে।
অভয় কিছু টা এগিয়ে এসে অনুর ঘুমটা সরিয়ে অনুর হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে বলল,,,
ভালোবাসিস আমাকে। পারবি তো সব কিছু ভুলে আমার সাথে সারাজীবন থাকতে। তোর জীবন এর সব কালো ভালোবাসার রং এ বদলে দেওয়ার অধিকার দিবি তো। অনু কোন কথা না বলে অভয় কে জড়িয়ে ধরে। অভয় অনুকে শক্ত করে বুকের মধ্যে ঝড়িয়ে ধরে।
সমাপ্ত