10/07/2026
এই লোকের নাম শিমুল আকতার, তিনি স্বরাষ্ট্র সচিবের পিএস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞানের ছাত্র শিমুল ছিলেন মুহসিন হলের ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি।
আওয়ামীলীগের আমলে ৩০ ব্যাচে এডমিন ক্যাডারে নিয়োগ লাভ করে ভালো ভালো জায়গায় চাকরি করেন। দীর্ঘদিন ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়।
ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনার পালিয়ে যাবার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শুরুতে জামাতের সুপারিশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ পান শিমুল আকতার।
ওই সময়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পিএস মনিরুজ্জামান বকাউল আর শিমূল মিলে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নির্বাচনের আগে পিএস বকাউলকে সরিয়ে দেয়া হয় জামাত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে। কারণ তার আপন ভাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হয়েছিলেন।
বিএনপি সরকার গঠনের পর স্বরাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিয়োগ পান মাগুরার মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী মিঠু। শিবিরের সাবেক নেতা শিমুল আকতারের বাড়িও মাগুরায়। সেই সুবাধে পাওয়ার চারগুন। একক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্বরাষ্ট্র সচিবের প্রভাবে মন্ত্রণালয়ের শাখা বন্টন বা দায়িত্ব অর্পণ, বিদেশ ট্যুর, কর্মকর্তাদের যোগদান আটকানো ইত্যাদি বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন শিমূল ও তার গোপন সিন্ডিকেট। শুধু তাই নয় ৩০ ব্যাচের জেলা প্রশাসক ফিটলিস্ট তালিকা প্রনয়নের কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক শিবিরের সাবেক এ নেতা শিমুল আকতার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর জায়গায় গুপ্ত হিসেবে অবস্থান করে বিএনপির সরকারের সর্বনাশ করে চলেছেন শিমুল আকতার। সংশ্লিষ্টদের নজর দেয়া উচিত।
09/07/2026
*বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতির অনুষ্ঠানের নামে চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক রূপবদলের অপচেষ্টা:* এলাকায় তীব্র ক্ষোভ
বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা সুবিধাবাদীদের রাজনৈতিক খোলস বদলের অপচেষ্টা এবং একটি সামাজিক সংগঠনের অনুষ্ঠানের নামে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগে ফেনী, লক্ষ্মীপুরসহ বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগামী ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাজধানীর 'ব্লু স্কাই কনভেনশন হল'-এ বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতির উদ্যোগে একটি 'ঈদ পুনর্মিলনী, সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান'-এর আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সমিতির বর্তমান জেনারেল সেক্রেটারি মোঃ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে রাজধানীর ব্যবসায়ী ও নোয়াখালী অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক হারে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
*অভিযোগের নেপথ্যে যারা*
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শেখ হেলাল এবং ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মাসুদ চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আশীর্বাদপুষ্ট ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তৎকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বিশেষ করে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ এলাকায় জাতীয়তাবাদী আদর্শের (বিএনপি) নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একটি তালিকা তৈরি করেন। পরবর্তীতে সেই তালিকা অনুযায়ী বিরোধী মতের নিরীহ লোকজনের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের ও নানাভাবে হয়রানি করার পেছনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
*খোলস বদলের অপচেষ্টা ও বিতর্ক সৃষ্টির পাঁয়তারা*
পটপরিবর্তনের পর বর্তমান প্রেক্ষাপটে মোঃ মিজানুর রহমান নিজেকে রাতারাতি ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনুসারী’ হিসেবে জাহির করার জন্য বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালাচ্ছেন। নিজের অতীত অপকর্ম ঢাকতে এবং বর্তমান সময়ে নিজের অবস্থান শক্ত করতেই তিনি সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে এই জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয়রা মনে করছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মন্ত্রী মহোদয় এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
*মহল মহলে ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া*
এলাকার সচেতন মহল ও রাজনৈতিক কর্মীদের মতে, একজন চিহ্নিত সুবিধাবাদী ও সাবেক স্বৈরশাসনের দোসর কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা, মন্ত্রী এবং বিএনপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি বর্তমান সরকার ও জাতীয়তাবাদী দল—উভয় পক্ষকেই চরমভাবে বিতর্কিত করবে। বিগত দিনে যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের অনুভূতিতে এটি চরম আঘাত হানবে।
ভুক্তভোগী ও নোয়াখালীর সাধারণ জনগণ অনতিবিলম্বে এই তথাকথিত সামাজিক অনুষ্ঠানের নামে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এবং সরকারের নীতিনির্ধারক ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে এই ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের পাতা ফাঁদ ও আয়োজন সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
08/07/2026
মহারাজের নাম মোঃ খায়রুজাজামান মজুমদার। নামের আগে আছে ডক্টর, যেমন সাবেক পুলিশ প্রধানের নামের আছে ছিলো ড, বেনজির আহমদ। যাই হোক এই খায়রুজ্জানের অতীত ইতিহাস কি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানেন? নাকি তাঁকে অন্ধকারে রেখেছেন তাঁর আশপাশের লোকজন?
অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো: খায়রুজাজামান মজুমদার হাসিনার অন্যতম ল্যাসপেন্সার আওয়ামী লুটেরা সিন্ডিকেটের সদস্য বটে। ফ্যাসিবাদকে দীর্ঘায়িত করতে ভূমিকা পালন করেন এ মহারাজ।
মহারাজের অন্তত ঘনিষ্ঠ ছিলেন হাসিনার দরবেশ সালমান এফ রহমান ও নসরুল হামিদ বিপু আর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর রউফ। চরম দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা খায়রুজাজামান মজুমদার চট্টগ্রামে কাস্টম হাউজে কর্মরত থাকাকালে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হন। শুনা যায় অস্ট্রেলিয়ায় মহারাজের বিশাল অট্রালিকা রয়েছে।
অর্থ সচিবের আগে মহারাজ ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব। আওয়ামীলীগের মন্ত্রীদের অর্থ পাচারের সাথে এ মহারাজ সরাসরি জড়িত। এই সচিব নির্বাচিত সরকারের পক্ষে কাজ করবেন এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন বিগত ১৫ বছর ফ্যাসিবাদের বিরোধী আন্দোলনে কার কি অবদান। আমরা কখনো কোনো সুবিধা চাই নি আপনার কাছে, কিন্ত হাসিনার সুবিধাভোগীরা আপনার সরকারের সুবিধা ভোগ করবে সেটা আমরা মেনে নিতে পারবো না।
হাসিনার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমরা লাগাতার যুদ্ধ করেছি, বিগত নির্বাচনে মাঠে ছিলাম, গ্রামের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছি। আর ভোটারদের কথা দিয়েছি কোনো দুর্বৃত্ত বা লুটেরাদের জায়গা হবে না আমাদের সরকারের ভেতরে। কিন্ত এখন যা দেখছি সেটা দুঃখজনক। এভাবে চলতে পারে না। সব খতিয়ে দেখতে হবে।
ভুল হলে সংশোধন করতে হবে।
04/07/2026
ঢাকা-১৩ আসন: সুশাসনের অভাব ও জনপ্রতিনিধির উদাসীনতায় বাড়ছে গণঅসন্তোষ
একটি অঞ্চলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং জননিরাপত্তা অনেকাংশেই নির্ভর করে সেখানকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কর্মতৎপরতা ও দূরদর্শিতার ওপর। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ঢাকা-১৩ আসনে বর্তমানে এর উল্টো চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। চীনের দুঃখ যেমন হোয়াংহো নদী, ঠিক তেমনি ঢাকা-১৩ আসনের বাসিন্দাদের জন্য চরম আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন এ এলাকা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ।
জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও দৃশ্যত সাধারণ মানুষ কিংবা দলীয় নেতাকর্মী—কারও সাথেই তাঁর নিবিড় সম্পৃক্ততা নেই। নিজস্ব একটি বলয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখ, নাগরিক সংকট কিংবা ক্ষোভের বিষয়ে তাঁর কোনো মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে দলের শৃঙ্খলা বিনষ্টকারীদের মদদ দেওয়া এবং ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনে পরোক্ষ সহায়তা করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠছে, যা দলীয় ও জাতীয় আদর্শের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
দীর্ঘদিন ধরে এই আসনের এলাকাবাসী বেশ কিছু তীব্র নাগরিক সমস্যায় ভুগছেন, যা বারবার তাঁর নজরে আনা হলেও কোনো দৃশ্যমান সমাধান মেলেনি:
ফুটপাত ও রাস্তা দখল (মোহাম্মদপুর জাকির হোসেন রোড): জাকির হোসেন রোডের মাঠ সংলগ্ন ফুটপাত এবং মূল রাস্তার একটি বড় অংশ এখন হকারদের দখলে। ফলে পথচারীদের চলাচল যেমন অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তেমনি রাস্তা সংকুচিত হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে এই ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে, যা স্পষ্টতই স্থানীয় নেতৃত্বের অবহেলার প্রমাণ।
ফুট ওভার ব্রিজের বেহাল দশা (শ্যামলী খিলজি রোড): শিশু মেলা সংলগ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফুট ওভার ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। ব্রিজের একপাশ হকারদের দখলে থাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু এ বিষয়ে এমপি মহোদয়ের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
উল্টো পথে যান চলাচল ও দুর্ঘটনা (রিং রোড): জনতা হাউজিং থেকে প্রবাল হাউজিং পর্যন্ত রিং রোডে প্রতিনিয়ত উল্টো পথে গাড়ি চলাচল করছে। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এলাকাবাসী এখানে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
অন্যান্য নাগরিক অরাজকতা: পুরো আসনজুড়ে জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা রাস্তা সংস্কারের অভাব, চাঁদাবাজি এবং ফুটপাত দখলের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও আসন্ন নির্বাচন:
জনপ্রতিনিধির এই চরম উদাসীনতা ও অরাজকতার কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে বর্তমান সরকারের প্রতি তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত মানুষ যখন ক্ষুব্ধ হয়, তখন তার সুযোগ নেয় বিরোধী দল। বর্তমান এই রাজনৈতিক শূন্যতা আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিরোধী শক্তিকে একটি সুবিধাজনক ও সুসংহত অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে, যা দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় বিপদের সংকেত।
করণীয়:
দলীয় স্বার্থ এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ঢাকা-১৩ আসনে অনতিবিলম্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এই এলাকায় জনবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণ, নাগরিক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান এবং স্থানীয় নেতৃত্বকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের খেসারত আসন্ন নির্বাচনে দলকে দিতে হতে পারে।