Al kaas sports est

Al kaas sports est

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Al kaas sports est, Jeddah.

01/09/2022

দিনলিপি-২৮৯
(১৬-০৮-২০১৫)
আশার হাসি (২)
ইমাম শাফেয়ী ও Physiognomy(!)
---------
ইলমুল ফিরাসাত। (Physiognomy:ফিজিওনামি)। মুখ বা শারীরিক গঠন দেখে চরিত্র বিচার।

ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর একটা চমৎকার গুণ ছিল। তিনি আমার খুবই প্রিয় একজন মানুষ। তাদের ইলম সাধনা দেখে, জীবনের দীর্ঘ একটা সময়, (দাওরা পর্যন্ত) দৃঢ় সিদ্ধান্ত ছিল, জীবনে যাই করি, বিয়ে করবো না। শুধু ইলম তলব করেই যাবো। করেই যাবো। এমনকি দাওরার পরও দু‘বছর সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল। দিল্লি কা লাড্ডু খাবো না। কিন্তু কোত্থেকে কী হয়ে গেল, টেরও পেলাম না। সব ছক বদলে গেল।

ইমাম শাফেয়ী খুঁজে খুঁজে অনেক বিলুপ্ত বিদ্যাও শিখেছেন। যেগুলো সাধারণত কেউ শেখে না। অবশ্য সেকালে ‘ফিজওনমিবিদ্যা’-র বেশ প্রচলন ছিল। অনেকেই এ বিদ্যা শিখতেন। চেহারা বা শরীরের গঠন, অভিব্যক্তি, আচরণ, অঙ্গভঙ্গি ইত্যাদি দেখে বলে দিতেন: এ-লোক সাহসী। এ-লোক কৃপণ ইত্যাদি।

বলে রাখা ভাল, এটা কিন্তু ভাগ্যগণনা নয়। ওটাতো হাতের রেখা দেখে ভবিষ্যতকথন। ভাগ্য বলে দেয়া। ফিজিওনমি এর সম্পূর্ণ বিপরীত।

ইমাম সাহেব ছয় মাস সময় লাগিয়ে বিদ্যাটা বেশ ভালই আয়ত্ব করলেন। এবার মাঠে নেমে কাজ করাটা বাকি। যেই সামনে পড়ে, তাকে দেখে বোঝার চেষ্টা করেন, লোকটা কেমন।

শার্লক হোমস, ব্যোমকেশ বক্সী বা মিসির আলি যেভাবে একটা মানুষকে দেখে তার সম্পর্কে অনেক কথা বলে দেন, এটা তারা করেন সেই আদিকালের ‘ইলমুল ফিরাসত’ এর মাধ্যমে।

ইমাম শাফেয়ী (রহ.) তখন মক্কায়। রাস্তায় বেশ জনসমাগম। যে সামনে পড়ছে, তাকে দেখে কিছু একটা বোঝার চেষ্টা করছেন। এক লোকের ওপর নজর পড়লো। নিজ বাড়ির দাওয়ায় বসে আছেন।
তার ওপর চোখ পড়তেই, হিসেব বের হয়ে গেল:
-লোকটা কৃপণ।
পায়ে পায়ে এগিয়ে গেলেন। মুখে কাতর ভাব ফুটিয়ে তুলে বললেন:
-আমি মক্কায় নবাগত। আমার থাকার জায়গা নেই।
লোকটা তৎপর হয়ে বললো:
-আপনি কি দয়া করে আমাদের গরীবালয়ে মেহমান হবেন?

ইমাম সাহেব বিস্মিত হলেন। তবে কি তার এত কষ্ট করে শেখা বিদ্যোটা ভুল? বৃথা গেল কষ্ট-পরিশ্রম?
লোকটা ইমাম সাহেবকে বাড়ি নিয়ে ভাল করে বসতে পিঁড়ি এগিয়ে দিল। শোয়ার জন্যে ঝকঝকে বিছানা পেতে দিল। উপাদেয় খাবার পরিবেশন করলো।
এত যত্নআত্তি দেখে, ইমাম সাহেব কোথায় খুশিতে আটখানা হবেন তা না, উল্টো যত আদর-আপ্যায়ন বাড়তে লাগলো, ততই তার মন খারাপ হওয়ার মাত্র বেড়েই চলল।

নাস্তা-পানি সেরে একটু গা এলিয়ে দিয়েছেন, দরজায় করাঘাত হলো। ইমাম সাহেবের মুখ উজ্বল হয়ে উঠলো। যাক, লোকটা বোধ হয় তার মত বদলে আসল স্বভাবে ফিরে এসেছে। তাকে বের করে দিতে বা টাকা চাইতে এসেছে। তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দিলেন:
-জনাবে আ‘লা: এ-কামরাটাতো খুবই ছোট। আপনার জন্যে আমরা আরও আরামদায়ক প্রশস্ত কামরার ব্যবস্থা করেছি। আসতে আজ্ঞা হোক!
ইমাম সাহেব হতাশায় ভেঙে পড়লেন। ধুর! শুধু শুধু ছয়টা মাস! এভাবে জামাই আদরে তিন দিন কেটে গেল। তার কাছে মনে হলো তিনি মাত্র একটু আগে এসেছেন। কৃতজ্ঞ গদগদ ভাষায় বললেন:
-ভাই আপনার মতো মহৎ মানুষের দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। এ-যমানায় এতটা কে কার জন্যে করে। আপনি যা করেছেন, নিজের মায়ের পেটের ভাইও করে না।
ইমাম বাক্স-প্যাঁটরা গুছিয়ে বের হতে উদ্যত হলেন। পেছন থেকে হাঁক এল:
-এই মিয়া! তুমি কি আমাকে তোমার বাপের চাকর পেয়েছ?

ইমাম শাফেয়ী এমন বাজখাঁই গলা শুনে কিছুটা আশা দেখতে পেলেন। কোথায় ভয় পাবেন তা না, উল্টো হাসি হাসি মুখ করে বললেন:
-ভাইজান কিছু বলছেন?
-বলছি মানে! আলবৎ বলছি। যাবার আগে হিসেব বুঝিয়ে দিয়ে যান।
তিনদিনের খাবার বাবৎ ১০০ দীনার।
শরবত-পানীয় ২০ দীনার।
আবাসন বাবৎ ৪০০ দীনার।
বিবিধসহ মোট ১০০০ দীনার আদায় করে যান।

ইমাম সাহেব যারপরনাই আনন্দিত গলায় বললেন:
-ভাই, বড় বাঁচা বাঁচালেন রে! এই না হলে, আমি তো দুঃখে-শোকে কাতর হয়ে যেতাম। এই নিন, একহাজার দীনার। আরও কোনও খরচাপাতি বাদ পড়লো কি না ভেবে দেখুন তো!



এ যুগের ফিজিওনমি!
-------------
আমাদেরও একবার শখ চেপেছিল। ইলমুল ফিরাসত শেখার। এক বড় ভাই ছিলেন। সলীম। তিনি বার্মীজ। আরাকানের লোক। বেশ ডাকসাইটে তুখোড় ছাত্র। সব বিষয়ে তার দখল। কথায় কথায় বললেন:
-আমি আমাদের বুচিডঙে এক জনের কাছে ইলমুল ফিরাসাত (কিয়াফাহ) শিখেছি।
আর যায় কোথায়, আমি আর ‘সাইফুল হক’ তার পেছনে লেগে গেলাম। সারাক্ষণ ঘ্যানঘ্যান করে বলতে থাকলাম:
-সলীম ভাই! আমাদেরকেও ‘ফন’(শাস্ত্র)-টা একটু শিখিয়ে দিন না।
-নাহ, যাকে তাকে এ-বিদ্যা শেখানো যায় না। এটা শিখতে হলে অনেক মোজাহাদা করতে হয়।
-আপনি যা করতে বলেন, তাই করবো। শুধু বলেই দেখুন না!

এভাবে চলে গেল কয়েক সপ্তাহ। পরে আমাদেরকে ঝেড়ে ফেলতে না পেরেই না কী জন্য তিনি নিমরাজি হলেন। আমরা তো মহাখুশি।
প্রথম সবক দিলেন:
-চল্লিশদিন একটানা রোজা রাখতে হবে। নিরামিষ খেয়ে।
আমি তখন বড়ই খাচ্ছিলাম। সলীম ভাইয়ের কথা শুনে হেঁচকি উঠে বিচি গলায় আটকে গেল। চল্লিশ দিইইইইইইন! তাও নিরামিষ খেয়ে!
-হাঁ, আমি তো কমিয়ে দিয়েছি। আমার ওস্তাজ ষাটদিন রোজা রাখতে বলেছিলেন। রেখেওছিলাম।

শুরু হলো অগস্ত্য যাত্রা। কয়েক দিন পর থেকে শুরু হলো, চোখে সর্ষে ফুল দেখা। সারাদিন খালি ঘুম আসে। নড়চড়া করতে ইচ্ছে হয় না। মনে হয় সারাক্ষণ শুয়েই থাকি। শুকিয়ে শরীর পাটকাঠি। ওস্তাজের মনে দয়ামায়া নেই।
রোজা চলছে। চলছে। চলছে। আমাদের সাধনা দেখে ওস্তাজ কিছুটা প্রসন্ন হলেন বলে মনে হলো। তিনি আস্তিন থেকে প্রথম প্রসাদ দিলেন:
-শোন! যাদের পায়ের গোড়ালি হাঁটার সময় থেবড়ে থাকে, পেছন দিকে বেরিয়ে যায়, তাদের স্বভাবে চুরি আছে।

পাশের কামরায় দু’দিন পর চুরি হলো। আমরা দুই ‘ফিজিওনমিস্ট’ অভিযানে নেমে পড়লাম। কারো পায়ের গোড়ালি থেবড়ে থাকে কি না! নামাজের ছুটি হলেই, দু’জন ও-কামরার সামনে গিয়ে উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। পায়ের দিকে শ্যেনদৃষ্টি।

ইউরেকা! পাওয়া গেছে। একজনের পায়ের অবস্থা চোরের মতো। ব্যস! মাগরিবের পরই যার টাকা চুরি হয়েছে, তাকে জানিয়ে দিলাম, কে চোর। তার বিশ্বাস হয় না।
-তোরা কিভাবে জানলি?
আমরা মারফতি হাসি দিয়ে বললাম:
-জানি রে! জানি! সে তোকে জানতে হবে না। তুই হুযুরের কাছে নিশ্চিন্তে চলে যা। গিয়ে চোরের নাম মুখ বুজে বলে আয়।

হুযুর ছেলেটাকে ধরে, ভালমতো জেরা করলেন। ও ছেলে তো স্বীকার করতেই চায় না সে চোর। হুযুর আরও পেঁচিয়ে ধরেন। এরপর কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা হলো। ফজরের আগে আগে যদি টাকা ফেরত না দেয়, তাহলে তার ওপর ছোট-বড়-মাঝারি সব ধরনের কেয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে।

রাত পোহাবার অপেক্ষায় থাকলাম। জীবনের প্রথম অভিযানেই সফল। নামায পড়ে তাড়াতাড়ি কামরায় এলাম। আমাদের দুজনেরও ডাক পড়লো হুযুরের কামরায়। আমরা ভেবেছি আমাদের গুণপনার খ্যাতি ইতিমধ্যেই হুযুরের দরবারেও ছড়িয়ে পড়েছে।

হাসতে হাসতে এক প্রকার দৌড়ে গেলাম। দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে না করতেই মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়লো। সেটা আর না বলাই ভাল।

পরে জানতে পেরেছি, চোর ছিল আরেকজন। নিজেই স্বীকার করেছে। টাকাও ফেরত দিয়েছে। হুযুর তাকে মাফ করে দিয়েছেন। অনুসন্ধান করতে করতে আমাদের কথা বেরিয়ে গেল। আর যায় কোথা! আমরা ধোলাইয়ের চোটে, সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে শুরু করে বর্তমান কাল পর্যন্ত ‘ইলমুল ফিরাসত’এর সমস্ত ইতিহাস উগড়ে দিলাম। মায় আমাদের সলীম উস্তাদের নাম সহ।

এদিকে আমাদের ঘটনা আমাদের ‘গুরুজি’-এর কানে যেতেও দেরী হলো না। ভাবগতিক সুবিধের নয় দেখে, তিনি সাথে সাথে একবস্ত্রে মাদরাসা থেকে পালিয়ে, টেকনাফ পার হয়ে, মুংডু আকিয়াব-বুচিডঙ ছাড়িয়ে সেই রেঙ্গুন গিয়ে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন।
কপিড

19/08/2021
Want your business to be the top-listed Gym/sports Facility in Jeddah?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Jeddah