02/11/2020
এক।
কিছুদিন আগের একটা পোষ্টে কথা বলছিলাম প্রবাস জীবনের ক্রিকেট নিয়ে।
সপ্তাহের কর্মদিবসের ক্লান্তি মুছে দিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার একটি জায়গা কম্যুনিটি ক্রিকেট।
সিডনীর মত শহরে সারা বছর ব্যাপিই শুধুমাত্র বাঙালি কম্যুনিটি নিয়ে গঠিত অসংখ্য টিমের শর্টার ফরমেটের ক্রিকেট খেলা চলে।
এই করোনার মধ্যে ও বিরতি দিয়ে গত ২-৩ মাস ধরে চলতে থাকা ২৭টি দলের (টি-২০) স্বাধীনতা কাপ-২০২০ ফাইনালের দ্বারপ্রান্তে আসতে না আসতেই শুরু হয়ে গিয়েছে ২৩ দলের আরেকটি ট্যুর্ণামেন্ট বাংলাদেশ সুপার লীগ (বিএসএল) এর দ্বিতীয় সিজন।
দুই।
আমাদের টিমের নাম বিডি নাইটস (BD Knights)। টেপ-টেনিসে আমরা শুধুমাত্র ১টা ট্যুর্ণামেন্ট খেলেছি এবং রানার্সআপ ছিলাম। স্বাধীনতা কাপ-২০২০ ছিল আমাদের জন্য ক্রিকেট বলে খেলা প্রথম ট্যুর্ণামেন্ট। একঝাঁক ক্রীড়ামোদি প্রাণের মিলন মেলা বিডি নাইটসের স্বাধীনতা কাপে অর্জন বলতে ছিল গতবারের চ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে দেওয়া (এবং আমাদের সাথে হেরে ওরা ২য় পর্বে ওঠার সুযোগ হারায়)। একে তো ভারী ও শক্ত বল, তার ওপরে ব্যাটিং এর সময় এত এত জিনিস নিয়ে দৌড়ানো। ক্রিকেট বলে অভ্যস্ত হতে হতেই তাই স্বাধীনতা কাপ শেষ হয়ে যায় (সাথে বেশ কিছু ইঞ্জুরির সম্মুখীন হই)
তিন।
একটি তথ্য দিয়ে নিই।
স্বাধীনতা কাপ যেখানে ২০-২০ ফরমেটে চলে, সেখানে বিএসএল হল ২৫-২৫ ওভারের ম্যাচ; যেখানে ১ম ৫ ওভার বোলিং পাওয়ার প্লে, এর পরে ব্যাটিং দল যে কোনো সময়ে আরো ৩ ওভার পাওয়ার প্লে নিতে পারে। এবং খেলার ফলাফল আসতে প্রত্যেক টিমের কমপক্ষে ৫ ওভার খেলা হতে হবে।
গতকাল ছিল বিএসএলের ১ম রাউন্ডের সি-গ্রুপের খেলায় রকডেইল রাইজার্সের সাথে আমাদের খেলা। রবিবারের সকালে বৈরি আবহাওয়া (বৃষ্টির সম্ভাবনা ৭০% ছিল) থাকা সত্ত্বে ও সিডনীর প্যাডস্টউ পার্কে যথাসময়ে টস হয়। গতানুগতিক টসে জিতে বোলিং এর সিদ্ধান্ত নেন আমাদের কাপ্তান ফরহাদ। যথাসময়ে (সকাল ৯টায়) খেলা শুরু হয়। দুই ওপেনিং বোলার সুজন ও সাকিবের পেইস বোলিং এর তোপে মুখ থুবড়ে পড়ে প্রতিপক্ষের টপ অর্ডারগণ। এর সাথে যোগ দেন কাপ্তান ফরহাদ, দলের মোস্ট ইকনোমিক বোলার মামুন এবং দলের একমাত্র স্পিনার কাম পেইসার বশির। প্রতিপক্ষের টপঅর্ডার রায়হান কবিরের অনবদ্য অর্ধশতকে ২৫ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে দলের সংগ্রহ গিয়ে দাঁড়ায় ১৩৩। স্পিনার বসির ৫ ওভারে ২৫ রান দিয়ে তুলে নেন ৪ টি উইকেট।
ইনিংস বিরতির পরে ১৩৪ রানের জবাবে বিডি নাইটসের পক্ষে ওপেনিং এ নামেন দলের ব্যাটিং স্তম্ভ ও ঠাণ্ডা মাথার খেলোয়ার পলাশ এবং দলের অন্যতম মারমুখী ব্যাটসম্যান সুজন পারভেজ। দলের সংগ্রহ যখন ১৮/০ (৩.৩ ওভার), তখন বৃষ্টি বাধ সাধে। ২য় ইনিংসের নির্ধারিত সময়ের ঠিক ৪৫ মিনিট আগে বৃষ্টি বন্ধ হলে ও পীচের কারণে পুনরায় খেলা শুরু হওয়াটা অনেক কঠিন হয়ে যায়। টানা বর্ষণে পীচের ওপরে পানি জমে যায়। তবে, আমরা ও দমে যাওয়ার পাত্র না। কেউ তোয়ালে, কেউ জার্সি আবার কেউ গাড়ির পাপস তুলে এনে পানি শুকাতে ব্যস্ত। অবশেষে ১২ ওভার পর্যন্ত খেলা গড়ায় এবং আমাদের টিম ২ উইকেট হারিয়ে ৬৯ রান করে। এই ৬৯ রানের মধ্যে ওপেনার পলাশ ভাইয়ের অনবদ্য ২৮ রান (দূর্ভাগ্যজনক ভাবে রান আউটের শিকার হন), সুজনের অপরাজিত ২০ রান এবং কাপ্তান ফরহাদের একমাত্র ছক্কা উল্লেখযোগ্য। ফলাফল, D/L মেথডে আমরা ১৯ রানে জয়ী।
বশির তার অনন্য বোলিং ফিগারের জন্য ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন।
ফটোকৃতজ্ঞতাঃ Yes TV Australia - এর সাদ্দাম ভাই।
17/09/2020
প্রবাসে বাংলা খাবারের স্বাদ খুঁজে পেতে মানুষ মাইলের পর মাইল পাড়ি জমায়। সিডনীতে যেই কয়টা এলাকা বাঙালি কম্যুনিটি কিংবা বাংলা খাবারের জন্য প্রসিদ্ধ, তার মধ্যে লাকেম্বা অন্যতম।
আবার লাকেম্বায় যেই কয়টা বাংলা খাবারের/বাঙালি রেস্টুরেন্ট আছে, তার মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হচ্ছে গ্রামীন রেস্টুরেন্ট।
দ্বিতল বিশিষ্ট এই বিশাল রেস্টুরেন্টে সুস্বাদু খাবার (যে কোনো বাংলাদেশি কারি/মেন্যু, ফুচকা, চটপটি, সিংগাড়া, মিষ্টি, চা, দই ইত্যাদি)-এর পাশাপাশি ঘরোয়া পরিবেশে আড্ডা এবং ইনডোর খেলাধুলার (যেমনঃ পুল) সুব্যবস্থা রয়েছে।
আমাদের সামনের ক্রিকেট ট্যুর্ণামেন্টে (BSL 2020) স্পন্সর হিসেবে আছে এই গ্রামীন রেস্টুরেন্ট। Grameen Restaurants
বিডি নাইটসের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
The Grameen Restaurants is not only one of the best Bengali restaurants in Lakemba but also within Sydney. You can taste various delicious foods at that Restaurant with cheaper and top quality along with having fun with indoor games.
Thank you so much Grameen Restaurants for sponsoring us towards the ensuing BSL 2020 cricket tournament.
We acknowledge your cordial support to promote the community cricket.
31/08/2020
---পোস্ট ম্যাচ রিভিউ---
===============
ট্যুর্ণামেন্টঃ স্বাধীনতা কাপ ২০২০ অস্ট্রেলিয়া
ম্যাচ: বিডি নাইটস ক্রিকেট ক্লাব বনাম ভিটি ক্রিকেটক্লাব
মাঠঃ ব্রেসিংটন পার্ক, সিডনী।
সময় ও তারিখঃ ৩০ আগস্ট ২০২০, দুপুর ১২:৩০
=============================
প্রখর রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া এবং বাইরের তাপমাত্রা ২৪-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টস ভাগ্য নিয়ে জন্মানো বিডি নাইটসের কাপ্তান ফরহাদ বরাবরের মত টসে জিতে তাই ব্যাটিং এর সিদ্ধান্ত নেন। ওপেনার হিসেবে দলের সব থেকে ঠাণ্ডা মাথার প্লেয়ার ও বিডি নাইটসের ব্যাটিংস্তম্ভ পলাশকে সাথে নিয়ে মাঠে ক্রিজে নামেন কাপ্তান নিজেই। পরিকল্পনা মাফিক, প্রথম ২টি ওভার রানের দিকে না তাকিয়ে দেখে খেলেন ওপেনারগণ, অগত্যা ২ ওভার শেষে দলের সংগ্রহ ২/০। তৃতীয় ওভারে ওপেনার পলাশ চড়াও হন বোলারের ওপরে এবং তাঁর ২টি নান্দনিক শটের মাধ্যমে ঐ ওভারে আসে ১১টি রান। চতুর্থ ওভারে জ্বলে ওঠে কাপ্তানের ব্যাট এবং তাঁর ২টি বিশাল ছক্কায় ঐ ওভারে আসে ১৮ টি রান। কাপ্তানের আগ্রাসি ভাব তখনো ভর করে আছে, ফলশ্রুতিতে পরের ওভারের ৪র্থ বলে আবারো হাঁকালের বিশাল ছয়; পরের বলেই একই শট আবারো খেলতে গিয়ে বোলারের স্লোয়ার ডেলিভারির ফাঁদের পা দিয়ে বোল্ড হয়ে ঝুলিতে ২৩ রান (১১ বলে) নিয়ে সাঁজঘরে ফিরে যান। স্কোর যখন ৩৮/১ (৫.৫ ওভার), পলাশের সাথে ক্রিজে যুক্ত হন দলের সবথেকে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রোকনুজ্জামান তুহিন। এর পরে দুই টপঅর্ডারই ইনিংস গড়ার কাজে মনোযোগ দেন। ১০ম ওভারে দুঃখজনকভাবে তুহিন স্ট্যাম্পিং এর ধোঁয়াশায় সাঁজঘরে ফিরে আসেন ব্যক্তিগত ৬ রানে, যখন দলের সংগ্রহ ৫১/২। ক্রিজে আসেন দলের একমাত্র বাঁহাতি অলরাউণ্ডার বশির উদ্দিন। তিনি বেশ কিছুক্ষণ পলাশের সঙ্গী হয়ে ১৪তম ওভারের শুরুতে একটি চারসহ ব্যক্তিগত ৯ রানের মাথায় ক্যাচ তুলে দিয়ে সাঁজঘরে ফেরত আসেন। পলাশের এবারের সঙ্গী বিডি নাইটসের সব থেকে ধারাবাহিক পারফর্মার/অলরাউন্ডার শোয়েবুল সাকিব; নেমেই প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চড়াও হন। যখন তিনি প্রতিপক্ষের বোলার ফাহাদের বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেছিলেন, তখন তাঁর নামের পাশে উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে ২টি বিশাল ছক্কা ও ২টি চারসহ ২২ বলে ৩৮ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস। ইনিংসের ১৯তম ওভারের শেষ বল মোকাবেলা করতে ক্রিজে আসেন দলের সবথেকে হার্ড হিটিং ব্যাটসম্যান সুজন পারভেজ। প্রতিপক্ষের বোলারের একটু আগের উইকেট পাওয়ার তৃপ্তির হাসিটা মূহুর্তেই ম্লান হয়ে গেল যখন সুজনের ব্যাটের ১ম ঝংকারেই মিড উইকেটের উপর দিয়ে বল সীমানার বাইরে গিয়ে আছড়ে পড়লো। ২০ তম ওভারের ১ম বল, ওপেনার পলাশ তখন ও ৬টি দৃষ্টিনন্দন চারসহ ৪৮-এ অপরাজিত। নিজের অর্ধশতকের কথা চিন্তা না করে একটি সিংগেল নিয়ে সুজনকে সুযোগ করে দিলেন। ফলাফল আবারো ছয়, এবার বল সেই মিডউইকেটের ওপর দিয়েই উড়ে গেল। মাঠের ভেতরের বাকি ১১ জন ফিল্ডারের মতই লেগ আম্পায়ার ও অবাক দৃষ্টিতে দেখছিলেন, বল কোথায় যায় ! ইনিংসের ১৯ তম ওভারের পঞ্চম বলে একটি সিংগেল নিয়ে পলাশ পৌঁছে যান অর্ধশতকে; যেটি এই ফরমেটে বিডি নাইটসের প্রথম অর্ধশতক। ইনিংসের শেষ বলে সুজনের দৃষ্টিন্দন কাভার ড্রাইভে চারের মাধ্যমে ২০ ওভারে শেষে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৯/৪।
প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের জয়ের জন্য ছুঁড়ে দেওয়া ১৫০ রানের লক্ষ্যমাত্রায় ওপেনাররা শুরুতে বেশ ভালভাবেই সামাল দিচ্ছেলেন সুজন এবং ফরহাদকে। যদি ও ৪র্থ ওভারের শেষ বলে ওদের ওপেনিং শিবিরের আগ্রাসি ব্যাটসম্যান আবিদ, ফরহাদের হাতে রান আউটের শিকার হয়ে ফিরে যান প্যাভিলিয়নে, তার পরে ও ৫ ওভারে প্রতিপক্ষের সংগ্রহ ৩৭/১; তখন রানের লাগাম টেনে ধরতে বোলিং এ আসেন একমাত্র বাঁহাতি স্পিনার বশির এবং ঐ ওভারে ৪টি রান দেন। প্রতিপক্ষের টপ অর্ডারে ২য় হানা দেন শোয়েবুল সাকিব এবং দলের ৭ম ওভারে হিমেলের এক দূর্দান্ত ক্যাচে ফিরে যান প্রতিপক্ষের ফাহাদ। ৮ম ওভারে এক অনবদ্য ইয়র্কারে নুরুল আমিনকে সাঁজঘরে ফিরিয়ে দেন বশির। এর পরে শরিফুল ইসলাম মামুন এবং বশিরের ইকনোমিক বোলিং এর কারনে চাপে পড়ে যায় ভিটি ক্রিকেট ক্লাব। বশির তাঁর ৪ ওভারে মাত্র ২১ টি রান দেন, অন্যদিকে মামুন নেন ২টি মূল্যবান উইকেট (যদি ও ২/১ টি ক্যাচ ড্রপড না হলে উইকেট বাড়তে ও পারতো)। দলের ১৪তম ওভারের ১ম বলে প্রতিপক্ষের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করে সাঁজঘরে ফিরতে বাধ্য করেন কাপ্তান ফরহাদ। এর পরে বিডি নাইটসকে আর পেছনে ফিরে তাঁকাতে হয় নি। উইকেট কিপার দিপুর অনবদ্য কিপিং, সাকিবের ১টি অনন্য ক্যাচ, বশিরের একটি অসাধারণ ক্যাচ এবং হিমেলের আরো একটি দূর্দান্ত ক্যাচ এর বিনিময়ে ১৯ ওভার শেষে প্রতিপক্ষের স্কোর গিয়ে দাঁড়ায় ১৩৭/৮। শেষ ওভার, আর লাগে ১৩টি রান, হাতে আছে ২ উইকেট। বোলিং এ আসেন কাপ্তানসহ সবার আস্থা বিডি নাইটসের স্ট্রাইক বোলার সুজন পারভেজ; ওভারের ১ম বলেই ৯ম উইকেটের পতন ঘটান তিনি। ৫ বলে লাগে ১৩ রান, চারিদিকে চরম উত্তজেনা। এই পরিবেশে মাথা ঠান্ডা রেখে মাত্র ৫টি রান দিয়ে ওভার শেষ করেন সুজন।
ফলে গতবারের স্বাধীনতা কাপ ট্যুর্ণামেন্টের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে জয়ের শুভ সূচনা করে বিডি নাইটস ক্রিকেটক্লাব।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ ছিলেনঃ সারা দিন রোজা রেখে ২০ ওভার অনবদ্য ব্যাটিং করে ফিফটি মারা ইনিংস গড়ার কারিগর মেসবাউল পলাশ।
23/08/2020
Happy Birthday to the most energetic, enthusiastic and dedicated performer of BD Knights!
We love you so much, Alam. :) :) :)
15/08/2020
Happy Birthday to the most fittest, dashing and best performer of the community!
May your glory return as the performance in the professional as well as recreational life.
Cheers!