Elhamur Nutrition & Fitness
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Elhamur Nutrition & Fitness, Personal trainer, Jalesharitola, Bogura.
সার্টিফাইড পুষ্টি বিশেষজ্ঞ এবং ফিটনেস প্রশিক্ষক
(Certified Nutrition Specialist @ FM-CNS, USA)
(Certified Fitness Trainer @ FM-CPT, USA)
[খাদ্য ও পুষ্টি, সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং ফিটনেস সংক্রান্ত পরামর্শ নিতে যোগাযোগ :
(WhatsApp)+880 1757- 449400]
25/08/2026
মেয়েটার প্রথম বাচ্চা। ব্যথা শুরু হইসে দুপুরের দিকে। সে হাঁটতেসে, বসতেসে, আবার উঠতেসে, আবার শুইতেসে। তার মা পাশে বইসা আছেন। তার স্বামী বাইরের বেঞ্চে, হাতে একটা পলিথিনের ব্যাগ, ব্যাগের ভিতরে বাচ্চার নতুন কাপড় আর একটা কাঁথা। ডাক্তার আসলেন। মিনিট কয়েক দেখলেন। তারপর বাইরে আইসা লোকটাকে বললেন, রিস্ক নেয়া যাইব না, ওটিতে নিতে হবে, সিজার করবো। লোকটা জিগায় নাই কিসের রিস্ক। জিগানোর কথা তার মাথায়ও আসে নাই। তার সামনে একজন মানুষ দাঁড়ায়ে আছে যে জানে, আর সে নিজে জানে না। ওই সাদা শুভ্র এপ্রোনের মানুষটা তখন তার কাছে ঈশ্বরের পরেই। সে একটা কাগজে সই করল। সম্মতি দিলো অপারেশনের। একটু পরে সে বাচ্চার কান্না শুনলো। নার্স আইস্যা বাচ্চাটারে দেখায়ে নিয়ে গেলো লোকটারে। আনন্দের অশ্রু গড়ায়ে পড়লো লোকটার চোখ দিয়া। ফিস ফিস কইর্যা আজান দিলো, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ। হাইয়া আলাস সালাহ, হাইয়া আলাল ফালাহ আল্লাহু আকবার....
বাচ্চাটা কাঁদতেছে। মেয়েটার মা কানতেসেন। লোকটা মিষ্টি আনতে দৌড়াইল।
আমাদের কারো কাছেই এই গল্পটা অস্বাভাবিক লাগে নাই। বরং খুবই স্বাভাবিক লাগসে।
জ্বি না আমার ভ্রাতা ও ভগিনিরা। এইটা একটা অতি অস্বাভাবিক ঘটনা। মাতৃত্ব কোন রোগ না। সন্তান জন্মদানে তখুনি মেডিক্যাল ইন্টারভেনশন লাগে যখন সেটা কোন মেডিক্যাল জটিলতায় পর্যবসিত হয়। সন্তান জন্ম নেবে বাসায় বা মেটারনিটি সেন্টারে, হাসপাতালে না। খুঁজে দেখেন বাংলাদেশে কয়টা মেটার্নিটি সেন্টার আছে।
মেটার্নিটি সেন্টারে প্রশিক্ষিত ধাত্রী থাকবে, যার কাজটাই হইল ওই মেয়েটার পাশে বইসা থাকা, ঘণ্টায় ঘণ্টায় দেখা, ব্যথাটা ঠিকভাবে আগাইতেসে কি না বোঝা, আর মেয়েটার হাতটা ধইরা বলা যে এইটা স্বাভাবিক, এইটা হওয়ার কথা।
কারণ স্বাভাবিক প্রসব ছয় থেকে দশ ঘণ্টার কাজ। দেশে গত বছর প্রায় সতেরো লাখ নারীর পেট কাটা হইসে। হাসপাতালে যত বাচ্চা জন্মায় তার ঊনআশি শতাংশই এখন অপারেশনে, যেইটা দুনিয়ার সর্বোচ্চ। আর এইটা রাতারাতি হয় নাই। দুই হাজার চার সালে এই দেশে সিজারের হার ছিল চার শতাংশ। সতেরো আঠারো সালে তেত্রিশ। বাইশ সালে পঁয়তাল্লিশ। চার থেকে ঊনআশি। বাইশ বছরে। এই দেশে আর কোনো জিনিস এই গতিতে বাড়ে নাই। বিশেষজ্ঞরা বলতেসেন এইভাবে চললে দুই হাজার ত্রিশের মধ্যে এইটা নব্বই ছাড়াবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উনিশশো পঁচাশি সালে বলসিল, কোনো অঞ্চলের হার দশ থেকে পনেরো শতাংশের উপরে থাকার কোনো যুক্তি নাই। সিজারের হার যতক্ষণ দশ শতাংশের কাছাকাছি থাকে ততক্ষণ মা আর নবজাতকের মৃত্যু কমে। তারপর আর কমে না। দশের পরে যত ছুরি চলে, ওই ছুরিগুলা আর কারও জীবন বাঁচায় না।
দুনিয়ার গড় একুশ। ভারতে সাড়ে একুশ, নেপালে আঠারো, পাকিস্তানে বিশের কাছাকাছি। আর আমাদের? সব জন্ম মিলাইয়া, বাড়িতে হওয়াগুলা ধইরাও, পঁয়তাল্লিশ। প্রতিবেশীর দ্বিগুণ। আর যেই মেয়েটা হাসপাতালের দরজা দিয়া ঢোকে, তার জন্য সংখ্যাটা ঊনআশি। মানে আমাদের মেয়েদের শরীর প্রতিবেশী দেশের মেয়েদের শরীর থেকে আলাদা কিছু না। কিন্তু আমাদের হিসাবটা আলাদা।
এখন প্রশ্ন হইল, এত সিজার হয় কেন? এই প্রশ্নের উত্তরটা নীতিবাক্যে নাই। উত্তরটা একটা সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানে আছে।
এই দেশে প্রতিদিন গড়ে দশ হাজার বাচ্চা জন্মায়। আর গাইনোকোলজিস্ট আছেন আড়াই থেকে তিন হাজার। একটা স্বাভাবিক প্রসব ছয় থেকে দশ ঘণ্টার কাজ। একটা সিজার বিশ মিনিটের কাজ। এখন আপনি ওই ডাক্তারের জায়গায় বসেন। রাত নয়টা। আপনার চেম্বারে আরও এগারোজন রোগী বসা। কাল সকালে আপনার দুইটা অপারেশন। আপনি কি এই মেয়েটার পাশে সকাল ছয়টা পর্যন্ত বইসা থাকবেন, বিনা পয়সায়, শুধু এই আশায় যে বাচ্চাটা নিজের রাস্তায় নিজে বাইর হইব?
আপনি থাকবেন না। কেউ থাকবে না। আর আপনি পারবেনও না। এতো গাইনেকোলজিস্ট নাই বাংলাদেশে। আর ক্লিনিকের মালিকের হিসাবটা আরও সহজ। স্বাভাবিক প্রসবে ক্লিনিকের আয় প্রায় শূন্য। বিছানা আটকায়ে থাকে দশ ঘণ্টা, বিল ওঠে সামান্য। আর সিজারে ওটি চার্জ, অ্যানেস্থেসিয়া চার্জ, সার্জন ফি, তিন দিনের কেবিন। সিজারের খরচ স্বাভাবিক প্রসবের প্রায় পাঁচ গুণ।
তাহলে ক্লিনিকটা কোনটা বেচবে?
এইটা কোনো ষড়যন্ত্র না। কেউ ঘরে বইসা প্ল্যান করে নাই যে দেশের মেয়েদের পেট কাইটা ফালাইব। এইটা স্রেফ ইনসেন্টিভ। যেই ব্যবস্থায় ধৈর্যের কোনো দাম নাই আর ছুরির দাম আছে, সেই ব্যবস্থায় ছুরিই চলবে। ডাক্তারকে গালি দিয়া এইটা থামবে না। যতক্ষণ ওই দশটা ঘণ্টা কারও চাকরির অংশ না হইতেসে, ততক্ষণ থামবে না। আর ওই দশটা ঘণ্টা যার চাকরির অংশ হওয়ার কথা, তাকে আমরা তৈরিই করি নাই।
সারা দুনিয়ায় স্বাভাবিক প্রসব সামলান ধাত্রীরা, গাইনোকোলজিস্ট না। গাইনোকোলজিস্ট লাগে জটিলতা হইলে। এই দেশে প্রশিক্ষিত ধাত্রী আছেন আট হাজার ছয়শ ছেচল্লিশ জন। তার মধ্যে সরকারি চাকরিতে আছেন দুই হাজার পাঁচশ সাতান্ন জন। দশ হাজার বাচ্চার জন্য দুই হাজার পাঁচশ সাতান্ন জন। দরকার অন্তত বাইশ হাজার। আমরা পদটাই বানাই নাই। তারপর অবাক হই পেট কাটা হইতেসে কেন।
এইবার সবচেয়ে জরুরি কথাটা। সিজার হইলে বাচ্চাটার কী ক্ষতি হয়।
আমাদের শরীরে উপকারী জীবাণুর একটা গোটা জগত আছে। মুখে, পেটে, চামড়ায়, এমনকি ফুসফুসে। এইটার নাম মাইক্রোবায়োম। এই জীবাণুগুলা আমাদের খাবার হজম করায়। ক্ষতিকর জীবাণুর সাথে লড়ে। আর সবচেয়ে বড় কাজটা হইল, এরা আমাদের শরীরকে শিখায়। আমাদের শরীরের নিজের একটা প্রতিরক্ষা বাহিনী আছে। ডাক্তারি ভাষায় এইটার নাম ইমিউন সিস্টেম। এই বাহিনীটা জন্মের সময় কিছুই চেনে না। কোনটা শত্রু আর কোনটা না, এইটা তারে কেউ শিখাইয়া দিতে হয়। শিখায় ওই জীবাণুগুলাই। আর ক্লাসটা হয় জীবনের একদম প্রথম দিনগুলাতে।
মায়ের পেটের ভিতরে বাচ্চা থাকে প্রায় জীবাণুশূন্য একটা জায়গায়। তাহলে সে এই বন্ধু জীবাণুগুলা প্রথম পায় কই?
পায় জন্মের সময়। মায়ের যোনিপথে ওই জীবাণুগুলা থাকে। বাচ্চা যখন ওই পথ দিয়া বাইর হয়, তখন ওইগুলা তার গায়ে, মুখে, নাকে লাইগা যায়। ওইটাই তার প্রথম টিকা। কেউ ওইটার দাম নেয় না, কেউ ওইটা প্রেসক্রাইব করে না। এইটা খোদাতায়ালার দান। আমাদের শিরীর এইভাবেই ডিজাইন করা।
সিজারের বাচ্চা ওই পথটা দিয়া আসে না। সে প্রথমে পায় অপারেশন থিয়েটারের জীবাণু আর যেই হাত তাকে ধরল তার জীবাণু। মায়ের শরীরে জীবানু না অন্য কারো জীবানু। এইটা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে জীবনের প্রথম প্রহরেই ব্যাড়াছ্যাড়া কইর্যা ফেলে।
এই দেশের প্রায় এক চতুর্থাংশ শিশু খর্বকায়। আমরা ভাবি এইটা শুধু কম খাওয়ার ফল। না। শরীরের ভিতরের জীবাণু আর ইমিউন সিস্টেমের ভারসাম্য নষ্ট হইয়া গেলে খাওয়া খাবারটাও কাজে লাগে না। দুনিয়ার পুষ্টিবিজ্ঞানে এখন সবচেয়ে আলোচিত জিনিসটাই এইটা। মানে আমরা একদিকে পুষ্টি প্রকল্পে হাজার কোটি টাকা ঢালতেসি, আর অন্যদিকে জন্মের ওই বিশ মিনিটে বাচ্চাটার হজম আর প্রতিরোধের ভিতটাই ধ্বংস কইর্যা দিতেসি।
মা স্থিতিশীল আছেন, বাচ্চা স্থিতিশীল আছে, শুধু ব্যথাটা ধীরে আগাইতেসে, এইটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে সিজার করার কোনো কারণই না। প্রসবের জন্য সময় লাগে। সময় লাগাটাই স্বাভাবিক। আমরা সময়টাকেই রোগ বানায়ে ফেলসি।
তারপর টাকা। শুধু আঠারো সালেই এই দেশে সিজারিয়ান ডেলিভারিতে খরচ হইসিল প্রায় চার হাজার সাতান্ন কোটি টাকা। ওইটা আঠারো সালের হিসাব, আর তখন হার ছিল আজকের অর্ধেকের নিচে। এই টাকাটা সরকারের বাজেট থেকে যায় নাই। এই টাকাটা গেছে ওই লোকটার পকেট থেকে যে বাইরের বেঞ্চে পলিথিনের ব্যাগ নিয়া বইসা ছিল। জমি বেচা টাকা, ধার করা টাকা, এনজিওর কিস্তির টাকা।
এখন ওই ঘরটাতে ফিরা যাই।
মেয়েটা এখন বাড়িতে। পেটে একটা দাগ। কয়েক বছর পর তার আরেকটা বাচ্চা হবে, আর ওইটাও সিজার হবে, কারণ এই দেশে একবার কাটা মানে সারা জীবন কাটা। চিরজীবনের জন্য বান্ধা কাস্টমার। কী চমৎকার।
স্বাভাবিক জন্মের ওই মুহূর্তে একটা মা তার বাচ্চাকে যেই জিনিসটা দেয়, ওইটার কোনো বিল হয় না। কোনো ফার্মেসিতে ওইটা বিক্রি হয় না। কোনো ডাক্তার ওইটা প্রেসক্রাইব করতে পারেন না। ওইটা দুনিয়ার একমাত্র জিনিস যেইটা শুধু মায়ের কাছেই আছে। আমরা সেই খোদাতায়ালার কুদরত থিকা বাচ্চাটারে বঞ্চিত করতেছি। কিন্তু অবাক ব্যাপার দেখেন, ওই মেয়েটা সারাজীবন ওই ডাক্তারের জন্য দোয়া করবে। বিশ্বাস কইরা যাবে ওই ডাক্তার, ওই হাসপাতাল তার বাচ্চাটাকে বাঁচাইসিলো।
25/08/2026
এলোপ্যাথি মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সিন্ডিকেট, যারা সেবামূলক ব্যবসা নাম দিলেও মানুষের মৃত্যু নিয়ে লাভজনক ব্যবসা করে। অস্ত্রের ব্যবসায় যেমন মানুষের মৃত্যু নিয়ে ব্যবসা করা হয়, এলোপ্যাথি মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি ও একি মূদ্রার এ পিঠ ও পিঠ। একটি সুন্তে ভাল আরেকটি সুন্তে খারাপ। কিন্তু ভিতরের খোলস একি। আপনার খাবারটাই মুল মেডিসিন, খাবারের সমস্যা ঠিক করতে না পারলে, ঠিক মত পুস্টি চাহিদা পুরন করতে না পারলে, চিরকাল এলোপ্যাথি মেডিসিন খেয়ে সুস্থ হবার আশা করা অনেকটা পশ্চিম দিকে সূর্য উঠে পূর্ব দিকে অস্ত যাবার শামিল।
অত্যাবশ্যকীয় ৬০ শতাংশ ওষুধের উৎপাদন বন্ধ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় থাকা ১১৭টি ওষুধের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশের উৎপাদন বন্ধ রেখেছে কোম্পানিগুলো। ওষুধ শিল...
23/08/2026
লিভার নষ্ট করছে প্যারাসিটামলসহ যেসব ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট লিভারের অসুখ বা ক্ষতি বলতেই কি আপনার কেবল মদ্যপানের কথা মনে পড়ে? প্রতিদিন সাধারণ মাথাব্যথা, জ্বর কিংবা সর্দি-কাশি....
🩺 চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রমাণভিত্তিক বাস্তবতা বনাম দুরবলতা:
প্রচলিত যে চিকিৎসা পদ্ধতিগুলোকে “গৃহীত” বা “স্ট্যান্ডার্ড” মনে করা হয়, সেগুলো আসলে সবসময় শক্ত প্রমাণের উপর দাঁড়িয়ে থাকে না।
📖 Mayo Clinic Proceedings জার্নালে ২০১৩ সালে প্রকাশিত ড. বিনয় প্রসাদ, ড. অ্যাডাম সিফু এবং তাঁদের সহকর্মীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা (A Decade of Reversal: An Analysis of 146 Contradicted Medical Practices) দেখিয়েছে—
- তাঁরা ২০০১ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে New England Journal of Medicine এ প্রকাশিত ২,০৪৪টি গবেষণা পর্যালোচনা করেন।
- এর মধ্যে ৩৬৩টি গবেষণা বিদ্যমান চিকিৎসা পদ্ধতি পরীক্ষা করে।
- ফলাফল ছিল চমকপ্রদ:
- ১৪৬টি (৪০%) চিকিৎসা পদ্ধতি ভুল প্রমাণিত হয় বা কোনো উপকার দেখায়নি।
- ১৩৮টি (৩৮%) কার্যকর প্রমাণিত হয়।
- ৭৯টি (২২%) অনিশ্চিত থাকে।
👉 অর্থাৎ, প্রায় অর্ধেক প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি পরবর্তীতে বাতিল হয়ে গেছে বা কার্যকারিতা হারিয়েছে।
🔍 কিছু উদাহরণ
- মেনোপজের পর নারীদের জন্য হরমোন থেরাপি (যা আগে সুপারিশ করা হতো, পরে দেখা গেছে ঝুঁকি বাড়ায়)।
- উচ্চ ঝুঁকির রোগীদের জন্য পালমোনারি আর্টারি ক্যাথেটার (ফলপ্রসূ নয়)।
- স্থিতিশীল করোনারি রোগীদের জন্য স্টেন্ট (ওষুধের তুলনায় বাড়তি জীবনকাল দেয় না)।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে “মেডিকেল রিভার্সাল” একটি বাস্তব ঘটনা। Medical Reversal বলতে বোঝায় এমন একটি ঘটনা, যেখানে আগে প্রচলিত বা “গৃহীত” চিকিৎসা পদ্ধতি পরবর্তীতে নতুন, উচ্চমানের গবেষণায় ভুল বা অকার্যকর প্রমাণিত হয়। Medical Reversal হলো চিকিৎসা বিজ্ঞানের আত্মসমালোচনার প্রক্রিয়া যেখানে পুরনো ধারণা নতুন প্রমাণের আলোয় বদলে যায়। বিজ্ঞান নিজেকে সংশোধন করে। রোগী ও চিকিৎসক উভয়েরই উচিত নতুন গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে সচেতন থাকা।
📌 রেফারেন্স:
Prasad V, Cifu A, et al. A Decade of Reversal: An Analysis of 146 Contradicted Medical Practices. Mayo Clinic Proceedings. August 2013.
21/08/2026
কোলকাতার একটা হোটেলে আগুনে পুড়ে কয়েকজন বাংলাদেশি মা'রা গেছেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত।
কারো মা, কারো বাপ, কারো স্বামী, কারো সন্তান, কারো স্বজন। ভাড়া কম বলে ছোট একটা হোটেলে উঠসিলেন। যাওয়ার আগে হয়তো জমি বন্ধক দিয়া গেছেন, কেউ গহনা বেচসেন, কেউ সমিতি থেকে টাকা তুলসেন। বাঁচার লাইগ্যা গেছিলেন। ফিরসেন কফিনে।
আমি তাদের আত্মার শান্তি কামনা করি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।
এই মানুষগুলা কোলকাতা গেলো ক্যান?
ডাক্তার সাহেবরা, প্রশ্নটা আপনাদের।
আপনারা বলবেন ওইখানে টেস্ট সস্তা, ওইখানে ইনভেস্টিগেশন ভালো। রোগীকে জিজ্ঞাসা করেন তো একবার। রোগী মেশিনের কথা বলবে না। রোগী বলবে, "উনি আমার পুরা কথাটা শুনসেন।" রোগী বলবে, "উনি আমার চোখের দিকে তাকায়া কথা কইসেন।" রোগী বলবে, "উনি বলসেন, চিন্তা কইরেন না, ও সুস্থ হইয়া বাড়ি ফিরবে।"
এইটুকু। এই এতটুকুর লাইগ্যা একটা পরিবার পাসপোর্ট বানায়, ভিসার লাইনে দাঁড়ায়, ট্রেনে চড়ে, অচেনা শহরের সস্তা হোটেলে গিয়া ওঠে। আর কফিনবন্দি হইয়া দেশে ফিরে।
আর দেশে আমাদের রোগীর অভিজ্ঞতাটা কী?
বিকাল থাইকা সিরিয়ালে বসা। রাত এগারোটায় নাম ডাকে। ঘরে ঢুকতে না ঢুকতে প্রেসক্রিপশন লেখা শুরু হইয়া গেছে। রোগী তখনো তার কষ্টের কথাটা শেষ করতে পারে নাই। তিন মিনিট। কোনো কোনো দিন দুই মিনিট। একটা প্রশ্ন করলে বিরক্তির শব্দ। কখনো ধমক। ধমক শুনেই দ্বিতীয় প্রশ্ন করার সাহস আর হয় না। বাইর হওয়ার সময় হাতে থাকে টেস্টের লম্বা লিস্ট, আর বুকের ভিতরে থাকে সেই একই ভয়, যেই ভয়টা নিয়া সে ঢুকসিলো।
মানুষ ডিগ্রি দেইখা দেশ ছাড়ে না। মানুষ দেশ ছাড়ে অপমান নিয়া।
এইবার একটা অপ্রিয় কথা বলি। কিছু মনে কইরেন না।
আমার রাজশাহী মেডিক্যালের কয়েকজন সহপাঠী কোলকাতায় আর পশ্চিমবঙ্গের নানা শহরে কাজ করে, খুব ভালো পজিশনে। বিভাগীয় প্রধান পর্যন্ত। আমি তাদের চেম্বারে গেছি, রোগী দেখা দেখসি। তাদের বাসায় গেছি, লাইফস্টাইল দেখসি। আমার দুই সহপাঠী নেপালে, দুইজনেই প্রফেসর হইয়া রিটায়ার করসে। তাদের বাসায়ও গেছি।
দুইটা বিস্ময়কর জিনিস দেখসি।
এক নম্বর, তারা সময় নেয়। কোনো কোনো রোগীর পিছনে আধা ঘন্টা। আমার মেডিক্যাল কলেজের এক সহপাঠী বন্ধু কোলকাতার খুব বিখ্যাত একটা ক্যান্সার হাসপাতালের বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের প্রধান। যেই জিনিসটা সে জানে না বা পারে না, অকপটে রোগীকে বইলা দেয়। আমি তার মুখ দেখসি রোগী দেখার সময়। অখণ্ড মনোযোগ। রোগীর কথার উপরে আর কিছু নাই। আর ডাক্তার হিসাবে যেইটা বলে, খুব কনফিডেন্টলি বলে, রোগী ভরসা পায়। বলে, উনাকে সুস্থ কইরা বাড়ি পাঠানো আমার দায়িত্ব, আপনি ভাইবেন না।
একটা ভয় পাওয়া পরিবারের কাছে এই একটা বাক্য কী জিনিস, ভাবা যায় না। যে কোনোদিন হাসপাতালের করিডোরে সারারাত দাঁড়ায়া থাকসে, খালি সে বুঝবে।
দুই নম্বর, সে দিনে দশজনের বেশি রোগী দেখতেই পারে না। আর তার জীবনযাপন খুব সাধারণ। আমি প্যারিসে অনেক ডাক্তারের বাসায় গেছি, আমার সহকর্মীরাই আছে। তাদেরও লাইফস্টাইল মডেস্ট। ফ্যাবুলাস না। বাংলাদেশের ডাক্তারদের মতো না।
এইখানেই আসল কথাটা।
ব্যাংকক সিঙ্গাপুরে যাইতেসে, একটা কথা ছিলো। কিন্তু ইন্ডিয়ার অর্থনৈতিকভাবে সবচাইতে দুর্বল রাজ্যগুলার একটা, সেই পশ্চিমবঙ্গ আপনার রোগী টাইনা নিয়া যাইতেসে। কী দিয়া নিতেসে? টাকা দিয়া না। মেশিন দিয়া না। সময় দিয়া, মনোযোগ দিয়া, আর ভরসা দিয়া।
আপনারা কি নিজেদের কোলকাতার ডাক্তারদের চাইতে ইনফিরিওর মনে করেন? আপনাদের হাত খারাপ না, মাথা খারাপ না, ডিগ্রিও কম না। আপনারা যেইটা রোগীকে দেন না, সেইটা কিনতে টাকা লাগে না।
তাহলে আপনাদের গ্লানিটা হয় না ক্যান?
প্রচুর উপার্জন করতে হবে, প্রচুর রোগী দেখতে হবে। এই ট্রাপ থেকে বাইর হইতে না পারলে আমরা আমাদের রোগীকে তৃপ্ত করতে পারবো না। সার্ভিসের কম্পিটিশনে আমরা কোলকাতার কাছে হারতেই থাকবো।
আর যারা হারতেসে, তারা আমরা না। তারা ওই মানুষগুলা, যারা জমি বেইচা ভিসার লাইনে দাঁড়ায়।
ওই হোটেলটায় যারা পুড়সেন, তাদের একজনকে যদি দেশের একটা চেম্বারে একজন ডাক্তার আধা ঘন্টা সময় দিতেন, চোখের দিকে তাকায়া বলতেন, "চিন্তা কইরেন না, আমি আছি," তাহলে হয়তো ওই রাতে তারা নিজের বিছানায় ঘুমাইতেন।
আ'গু'নে পো'ড়া লা'শ ভরা কফিনটার দায় আ'গু'নে'র একার না, আপনারো।
20/08/2026
"আমি তো ব্যস্ত, কাজ না করলে খাব কী?"
"একদিন তো মরতেই হবে, ডায়াবেটিস-ফ্যাটি লিভার নিয়ে ভেবে লাভ কী?"
পরিচিত লাগছে কথাগুলো? প্রতিদিন নিজের সাথে এই ধরনের মিথ্যা অজুহাত দেওয়াকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে কগনিটিভ ডিসোনেন্স (Cognitive Dissonance) বা "মনস্তাত্ত্বিক আত্মপ্রতারণা"। সহজ কথায়, যখন আপনি মনে মনে ভালো করেই জানেন যে আপনার কিছু অভ্যাস (যেমন: অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়া, ব্যায়াম না করা বা ধূমপান) আপনাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কাজটা না ছাড়ার জন্য আপনার মস্তিষ্ক অদ্ভুত সব যুক্তি আর বাহানা বানিয়ে আপনাকে শান্ত রাখে।
আমরা ধুমপায়ীদের দোষ দিই, অথচ ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার, প্রেশার বা থাইরয়েড থাকা সত্ত্বেও যারা লাইফস্টাইল পরিবর্তন করছেন না—তারাও ঠিক একই আত্মঘাতী ভুলটা করছেন! এটা কোনো সাধারণ অলসতা নয়, এটা সরাসরি নিজের শরীরের সাথে অবহেলা।
টাকা কামানো জরুরি, কিন্তু সেই টাকা হাসপাতাল আর ডায়ালাইসিস সেন্টারে ঢালার জন্য নয়! লাইফস্টাইল পরিবর্তন না করলে আপনার জন্য যা অপেক্ষা করছে:
স্বল্পমেয়াদী ক্ষতি (১-২ বছরের মধ্যে):
* ক্লান্তি, সারাদিন অলস লাগা এবং কোনো কাজে মনোযোগ না থাকা।
* ফ্যাটি লিভার থেকে লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া এবং হজমের স্থায়ী সমস্যা।
* ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত রেখে ঘন ঘন ইনসুলিন বা ওষুধের ডোজ এবং খরচ বাড়াতে হওয়া।
দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি (৫-১০ বছরের মধ্যে):
* অঙ্গহানি ও অন্ধত্ব: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের শেষ পরিণতি কিন্তু চোখের দৃষ্টি হারানো এবং পায়ের আলসার থেকে গ্যাংগ্রিন হয়ে অঙ্গ কেটে ফেলা।
* অকাল মৃত্যু ও পক্ষাঘাত: ফ্যাটি লিভার রূপ নেবে লিভার সিরোসিস বা ক্যান্সারে, আর অনিয়ন্ত্রিত লাইফস্টাইল সোজা নিয়ে যাবে সাডেন হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকের দিকে।
"একদিন তো মরতেই হবে"—এই অজুহাত দিয়ে অন্তত নিজেকে ফাঁকি দেবেন না। কারণ এই ব্যাধিগুলো আপনাকে একবারে মারবে না, তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে আপনার পরিবারের সামনে আপনাকে অসহায় বানিয়ে ছাড়বে।
এখনই সচেতন হন! কোনো ফেক ইউটিউব টিপস বা ইন্টারনেটের চটকদার ক্র্যাশ ডায়েট নয়—একজন সার্টিফাইড নিউট্রিশন স্পেশালিস্ট (CNS) এবং প্রফেশনাল ফিটনেস ট্রেনারের পরামর্শ নিন। আপনার বডি সাইকেল অনুযায়ী সঠিক খাবার এবং সঠিক ওয়ার্কআউট গাইডলাইনই আপনাকে ওষুধ মুক্ত বা স্বাস্থ্যকর জীবন দিতে পারে।
অজুহাত বন্ধ করুন, আজই সঠিক পথ বেছে নিন। আপনার শরীর আপনারই দায়িত্ব!
Md. Elhamur Rahman
(FM-CNS, FM-CPT, FM-COPT)
Internationally Certified Nutrition Specialist (USA)
Certified Holistic Health & Wellness Coach (USA)
Certified Diet & Nutrition Coach (USA)
Diploma in Sports Nutrition (USA)
Internationally Certified Personal Fitness Trainer (USA)
Diploma in Advanced Fitness (USA)
20/08/2026
গবেষণায় দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত ৬৫ শতাংশ শিশু কোনো না কোনো মাত্রার অপুষ্টিতে ভুগছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ শিশু তীব্র এবং ৫৩ শতাংশ শিশু মাঝারি অপুষ্টিতে ছিল। গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্যগুলোর একটি হলো, হামে আক্রান্ত ৩৮ শতাংশ শিশু জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে বুকের দুধ পায়নি। আর গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত যেসব শিশু মারা গেছে, তাদের ৮২ শতাংশই প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে বুকের দুধ পায়নি।
19/08/2026
গ্রাম্য একটি ভুল সংস্কৃতি যা আজও বাবা-মা দের মধ্যে বিদ্যমান, শিশু যত মোটা নাদুশ নুদুশ গলু-মুলু ততই নাকি বাচ্চা "হেলদি"। "মোটা" এবং "স্থুলতা" এই দুইটি শব্দের সাথে "হেলদি" বা "সুস্থতার" কোনই সম্পর্ক নেই। দাদা-দাদি বা নানা-নানির যুগ বা তারও আগে থেকে এই প্রচলন চলে আসছে যে, যার শরীর যত ফোলা বা মোটা, যার "খান্দানি ভূরি আছে সে নাকি তত স্বাস্থ্যবান! রাজা- জমিদারী আমলে আমাদের পূর্ব পুরুষরা দেখেছেন ধনী বেক্তিরা সাধারণ মানুষের তুলনায় মোটা, মানে এটি সম্পদ শালি হবার একটি বাহ্যিক পরিচয় হিসেবে ধরে নেয়া হইত। এছাড়াও তাঁদের সময়ে মহামারী এবং দুর্ভিক্ষ এই দুইটি কমন বিষয় ছিল। তাই দেখা যেত ধনী বেক্তি ছাড়া সবাই দেখতে "রোগা" বা হাল্কা পাতলা গড়নের। এই "রোগা" থেকেই ধারনা চলে আসছে যে হাল্কা পাতলা মানে অসুস্থ আর মোটা ফোলা শরীর মানে হেলদি এবং সুস্থ! বাঙ্গালী সমাজের সব বিষয়ই যে উল্টো, বা এক ধাপ বেশি বুঝে, এটি তার সুন্দর একটি উদাহরণ। এই বিষয় গুলো যেমন একটি ইতিহাস এর অংশ, ঠিক তেমনি এই বিজ্ঞান প্রজুগতির যুগে হাজার লক্ষ বার প্রমানিত হয়েছে যে "মোটা" বা "স্থুলতা" এই দুটি শব্দ "হেলদি" বা "সুস্থতার" সমার্থক নয়, বরং "অপুষ্টি" এবং "রোগ" এর সমার্থক। কিভাবে? ধরুন, আপনি এক বালতি পানি মেশানো পাতলা দুধ খেলেন। এতে পেট ভরে যাবে ঠিকই, কিন্তু শরীরে কোনো শক্তি তথা পুষ্টি পাবেন না। অন্যদিকে, মাত্র এক গ্লাস খাঁটি ঘন দুধ খেলে তা শরীরে আসল পুষ্টি ও শক্তি দেবে। কেউ যদি এক গামলা সাদা ভাত আর সামান্য আলুভর্তা খায়, তবে তার পেট অনেক বেশি ভরবে, সে দিন দিন মোটা হবে ঠিকই, কিন্তু তার হাড় ও পেশি দুর্বল থেকে যাবে। আপনার চামড়ার নীচে আছে হাড়, মাংস এবং চর্বি। আপনার খাবার পুষ্টি গুণ সম্পন্ন না হইলে আপনার ভূরি বা চর্বিই শুধু বাড়বে, কিন্তু মাংস আর হাড় সময়ের সাথে পুষ্টির অভাবে ক্ষয় হইতে থাকবে। কারন এই ভাত বা আলু ভরতার মধ্যে ডিম, মাছ বা মাংস বা শাকসবজির মতো সব ধরনের ভিটামিন, প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি নেই। আপনি যদি ভাত আলু বাদ দিয়েও, খাবারের পরিমাণ কম হলেও নিয়মিত ডিম, মাছ বা মাংস বা শাকসবজির মতো খাবার খান, তারপরওঁ আপনার শরীরের সমস্থ পুষ্টি পূরণ হয়ে যাবে। শরীর সব ধরনের ভিটামিন, প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম পাবে। হাড় শক্ত এওং মজবুত হবে, মাংস পেশি সুঠাম হবে। সুতরাং খান্দানি ভূরি আসলে অসুস্থতা বা পুষ্টির অভাবের লক্ষণ, যা আপনাকে ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্ত চাপ, ফ্যাটি লিভার, কিডনি সমস্যা, ক্যান্সার ইত্যাদি উপহার দিবে।
শিশু প্রসঙ্গে আসি, শিশুর স্বাস্থ্য কেমন হবে তা পুরোটাই বাবা মার গাইডেন্স এর উপর নির্ভরশিল। বিশেষ করে শিশু যখন মায়ের দুধ পান করে, তখন মায়ের দুধ যদি পুষ্টি গুণ সম্পন্ন না হয়, তাহলেই শিশুটি হবে মোটা নাদুশ নুদুশ গলু-মুলু ! মোটা নাদুশ নুদুশ বলতে সুনতে ভালও লাগলেও, আসলে বিজ্ঞান বলেন, ডাক্তার বলেন, পুষ্টিবিদ বলেন সবার চোখেই "বড় একটি সমস্যা" বা অসুস্থতার লক্ষণ। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর মা যদি শুধু ভাত আলুর উপর নির্ভরশীল হন, জাঙ্ক ফুড/ফাস্ট ফুড বেশি খান, যেমন ধরুন চিপস, পেকেট জুস, কেক, বিস্কুট, মুরি, চানাচুর, শামুছা, সিঙ্গারা, পুরী, পরোটা, কাবাব, আইসক্রিম বা কোমল পানীয় ইত্যাদি, তবে বুকের দুধের গুণমান কমে যায় এবং শিশুর স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। শিশু হয়ত দেখতে বিশাল দেহি মনে হবে, কিন্তু বিষয়টা হবে, শূনও কলশী বাজে বেশির মতো ব্যাপার। উচ্চমাত্রার চিনি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও লবণ থাকা খাবারের কারনে, মায়ের শরীরে প্রদাহ ও বিপাকীয় সমস্যা তৈরি করবে। এই উপাদানগুলো বুকের দুধে প্রতিফলিত হয় বা মিশে যায়, ফলে শিশুর শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি ও অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট জমে। গবেষণায় দেখা গেছে, মায়ের অতিরিক্ত আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড (UPF) খাওয়া শিশুর মাইক্রোবায়োম পরিবর্তন করে, যা স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। মা যদি শুধু ডাল-ভাত বা অপুষ্টিকর খাবার খায়, তবে তার বুকের দুধে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাট বা চর্বি কম থাকবে। বাচ্চা পেট ভরে শুধু পানিযুক্ত পাতলা দুধই খাবে, কিন্তু শরীর গঠনের আসল উপাদানগুলো পাবে না। বুকের দুধের প্রথম অংশ সাধারণত একটু পাতলা ও পানিযুক্ত হয় (তৃষ্ণা মেটানোর জন্য), আর শেষের দিকের দুধে আসল পুষ্টি ও ফ্যাট থাকে। বাচ্চা যদি প্রতিবার অল্প একটু টেনে ছেড়ে দেয় বা মায়ের দুধের কোয়ালিটি ভালো না হয়, তবে বারবার খাওয়ানোর পরও বাচ্চার সঠিক পুষ্টি হবে না। একটা বেলুনে বেশি বাতাস বা পানি ঢোকালে সেটা দেখতে অনেক বড় ও মোটা লাগে, কিন্তু সামান্য আঘাতেই ফেটে যায়। একইভাবে, অতিরিক্ত মোটা বা চর্বিযুক্ত বাচ্চা দেখতে সুন্দর লাগলেও ভেতর থেকে তারা অত্যন্ত দুর্বল হতে পারে। এটি বড় হয়ে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড এবং ফ্যাটি লিভারের মতো মারাত্মক রোগ ডেকে আনে। একজন ১-২ বছরের শিশুরও ডায়াবেটিস ধরা পরতে পারে।
বাচ্চার পেট ভরানো আর বাচ্চার শরীর গঠন করা এক জিনিস নয়। মায়ের সুষম খাবার খাওয়া এবং বাচ্চার সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করাই আসল কাজ, তাকে জোর করে মোটা বানানো নয়।বাচ্চার ভেতরের শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই আসল স্বাস্থ্য, শরীরের চর্বি বা অতিরিক্ত ওজন নয়। মোটা নাদুশ নুদুশ গলু-মুলু শিশু নড়াচড়া কম করে, দ্রুত হাঁপিয়ে ওঠে, অলস বসে থাকে। ভারী শরীরের কারণে বসতে, হামাগুড়ি দিতে বা দাঁড়াতে দেরি হয়। ঘন ঘন ঠাণ্ডা-কাশি বা পেটের সমস্যায় ভুগতে পারে। কথা দেরীতে শিখবে, হাড় এবং পেশী হবে দুর্বল। এই জন্য অনেকে পেরাসিটামল বা অ্যান্টিবায়টিক এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পরেন। কিন্তু পেরাসিটামল বা অ্যান্টিবায়টিক দীর্ঘ মেয়াদে শিশুর শরীর আরও নষ্ট করে দিবে, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে আরও বড় রোগের আবির্ভাব ঘটাবে।
Md. Elhamur Rahman
(FM-CNS, FM-CPT, FM-COPT)
Internationally Certified Nutrition Specialist (USA)
Certified Holistic Health & Wellness Coach (USA)
Certified Diet & Nutrition Coach (USA)
Diploma in Sports Nutrition (USA)
Internationally Certified Personal Fitness Trainer (USA)
Diploma in Advanced Fitness (USA)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Address
Jalesharitola
Bogura