30/08/2023
এশিয়া কাপ ২০২৩ এর বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের জন্য আমার পছন্দের একাদশ। টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তাভাবনা আমি জানিনা তাই এটাই যে আজকের প্লেয়িং ইলেভেন হবেই এরকম কিছু বলছিনা। সবাই একটু মিলিয়ে দেখবেন প্লিজ।
* ওপেনিং: বর্তমান পরিস্থিতিতে স্কোয়াডে ওপেনিং এর দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে তানজিদ তামিম। তাকে ফ্রি রোলে খেলতে দিলে ভালোই করবেন আশা করি। তামিম এর পার্টনার চুজ করতে গিয়েই অনেকটা সময় লেগে যায় আমার। শেষ মুহূর্তে এনামুল বিজয় দলে যোগ দিয়েছেন। অনেক চিন্তা করে দেখলাম বিজয়কে সুযোগ দেওয়াই বেটার এইক্ষেত্রে। শ্রীলংকার অফস্পিন ভেরিয়েশনের বিপরীতে লেফট রাইট কম্বিনেশন একটু উপকারই করবে বটে।
* ওয়ান ডাউন: তিন নাম্বারে শান্ত নিজের জায়গা শক্ত করে নিয়েছেন তাই তার থেকে দায়িত্বশীল একটা পারফরম্যান্স আশা করছি।
* মিডল অর্ডার: চারে হৃদয়, পাঁচে সাকিব মিডল অর্ডারের ভরসা। যদিও এই দুই পজিশনে সিচুয়েশন অনুযায়ী এই দুইজনের অদলবদল আসতেই পারে। রানের ফ্লো ধরে রাখার জন্য এই দুইজনের চেয়ে দক্ষ আপাতত কাউকে দেখিনা দলে। এছাড়া ছয় নাম্বারে মুশফিক নিজের ফর্ম ধরে রাখতে পারবে বলেই আমার বিশ্বাস।
* সাত নাম্বার: এই পজিশন নিয়ে জল ঘোলা কম হয়নি। দলে তিনজন স্পেশালিষ্ট থাকলেও আমি এই পজিশনে মেহেদি মিরাজকেই প্রিফার করি আজকের ম্যাচের জন্য৷ শ্রীলংকার বোলিং একটু হলেও অভিজ্ঞতার অভাববোধ করবে তাদের কিছু বোলারের ইনজুরির কারনে। সেইক্ষেত্রে আমাদের যা ব্যাটিং তাই দিয়ে মোকাবিলা করা কঠিন হবেনা বলেই মনে হচ্ছে । কিন্তু তাদের ব্যাটিং লাইন আপ যথেষ্ট স্ট্রং। তাই দলে একটা এক্সট্রা বোলার খেলানো প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। আর মিরাজের ব্যাটিং নিয়ে আমাদের মনে সন্দেহ থাকার কথা না যদি বাংলাদেশের খেলা ফলো করে থাকি।
বোলার: সর্বশেষ খবর অনুযায়ী আজকের ম্যাচে মুস্তাফিজকে নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। যদি সে ম্যাচ ফিট হয় তাহলে তাসকিন ও হাসানের সাথে তার পেইস এটাকের উপরেই আমার আস্থা থাকবে। কোন কারনে মুস্তাফিজ এভেইলেবল না হলে তার জায়গায় শরীফুলকেই সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। শ্রীলঙ্কার কন্ডিশন অনুযায়ী দলে একজন এক্সট্রা স্পিনারের প্রয়োজন বোধ করবে দল তাই এখানে নাসুমের জায়গা হয়ে যাচ্ছে। যদিও আজ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে তাই কন্ডিশন অনুযায়ী চার পেসার খেলানোর সাহস দেখালেও অবাক হবোনা।
আশা করি এই ম্যাচ বাংলাদেশ সহজেই জিতবে। দলের মধ্যে অনেক প্রশ্নের উত্তর এই দুই ম্যাচেই খুঁজে পেতে হবে কারন ৫ তারিখের মধ্যে বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করতে হবে ক্রিকেট বোর্ডের।
ধন্যবাদ।
12/08/2023
এশিয়া কাপের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা করা হয়েছে৷ যেহেতু এটা বাংলাদেশ তাই এই দলই যে বিশ্বকাপের দল সেটা বলা উচিত হবেনা। কিন্তু সিলেকশন প্রসেস যে বিশ্বকাপকে মাথায় রেখেই তা আমরা সবাই জানি। ১৭ সদস্যের এই দল আপাতদৃষ্টিতে ভালো দেখালেও কিছু কথা থেকেই যায়৷ আমার পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে একটু আলোচোনা করার চেষ্টা করছি।
১.লিটন দাস দলে থাকবেন এটা অবধারিতই। কিন্তু রিসেন্ট ফর্ম অবশ্যই চিন্তার বিষয়। বড় দলের বিপক্ষে এখনো প্রমাণ করতে পারেননি নিজেকে। বড় মঞ্চে তার ব্যাটে রান অবশ্যই প্রয়োজন হবে দলের ভালো রেজাল্টের জন্য। আশার ব্যাপার হলো সাকিবের ক্যাপ্টেন্সিতে লিটন অনেকটাই ফ্রি রোলে খেলে তাই ভালো কিছু ইনিংস আশা করছি আমি আগামী ম্যাচগুলোতে।
২. তানজিদ তামিম অবশ্যই একটা সময়োপযোগী ইনক্লুশন। পাওয়ারপ্লে ভালো ইউটিলাইজ করতে পারে৷ ইমার্জিং এশিয়া কাপে ধারাবাহিকভাবে কাজটা করেছেন। অভিজ্ঞতার বিচারে পিছিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপ পর্যন্ত অবশ্যই দলের সাথে রাখা উচিত এবং এশিয়া কাপে ইলেভেনে জায়গা ডিজার্ভ করে সে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে দীর্ঘদিন সার্ভিস দেবে বলেই আমার বিশ্বাস।
৩. নাইম শেখ এই দলের সবচেয়ে ননপার্ফরমিং প্লেয়ার। সত্যি কথা বলতে সে এশিয়া কাপের এই দলে জায়গা কোনভাবেই ডিজার্ভ করেনা। ফিল্ডার হিসেবে অসাধারণ সে কিন্তু শুধু এই যোগ্যতায় দলে জায়গা হয় কিনা আমার জানা নেই। তার জায়গায় জাকির হাসান অথবা এনামুল বিজয় সুযোগ পেতেই পারতেন। যদিও এনামুল বিজয়ের টেম্পারমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কিন্তু জাকির ছেলেটাকে আমার আনলাকিই মনে হয়।
৪. শান্ত, হৃদয়, সাকিব, মুশফিক বর্তমানে অটোচয়েস। সবাই ফর্মে আছে এবং এই চারজনই আপাতত বড় সপ্ন দেখাচ্ছে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ নিয়ে।
৫. লোয়ার মিডল অর্ডারে অনেক জগাখিচুড়ি হয়ে গেছে। দলে রাখা হয়েছে শামিম পাটোয়ারী, শেখ মেহেদি, আফিফকে। মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে পরে কথা বলতেছি। আগে যারা আছে তাদের বিষয়ে কিছু বলি। বিশ্বকাপ দল যেহেতু ১৫ জনের হবে এই তিনজনের একজনকেই হয়ত নিয়ে যাওয়া হবে সেখানে৷ এই সাত নাম্বার পজিশন নিয়ে অনেক নাটক হয়েছে। আমার মনে হয় নির্বাচক প্যানেল এই জায়গায় কোন গুরুত্বই দেয়নি এতদিন। গুরুত্ব দিলে শামিমকে অন্তত একটা সিরিজে সুযোগ দিয়ে দেখতে পারতেন। দলের এপ্রোচ ও মেন্টালিটির সাথে শামিমের খেলার স্টাইল অনেকটাই ম্যাচ করে৷ কম্পিটিশনে তাই আমি শামীমকেই এগিয়ে রাখবো। শেখ মেহেদির ব্যাটিং এবিলিটি নিয়ে অনেক ডাউট থেকে যায়। কিন্তু মিরাজ থাকা সত্বেও আরেকজন অফস্পিনার দল ক্যারি করবে কিজন্যে সেটা আমার প্রশ্ন। তাছাড়াও ফিল্ডিং ও গেম এওয়ারনেসের যথেষ্ট ঘাটতি আছে শেখ মেহেদির তা আমরা নিশ্চই ভুলিনি কেউ।
৬. আফিফকে যদি দলের সাথে ক্যারি করতেই হয় তাইলে মিডল অর্ডারের ব্যাকআপ হিসেবে রাখা হোক। লোয়ার অর্ডারে আফিফকে খেলানোর কোন যৌক্তিকতা নেই। এমনতেই দলে মিডল অর্ডারে কোন ব্যাকআপ প্লেয়ার নেই। এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ অনেক বেশি ম্যাচের খেলা তাই এই পজিশনে অবশ্যই ব্যাকআপ রাখা উচিত এবং সেটা আফিফই হওয়া উচিত।
৭. মিরাজ এই দলের অনেক ইম্পর্ট্যান্ট একটা প্লেয়ার। তার উপর অনেক ম্যাচ নির্ভর করবে। বোলিংয়ে নতুন বলে মাঝে মাঝে তাকে এক্সপেক্ট করছি আমি। মেইনলি বিশ্বকাপে সেনা কান্ট্রিগুলোর সাথে খেলায় মিরাজকে নতুন বলে বল করানোর বিকল্প নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো যদি দল কোন ম্যাচে এক্সট্রা বোলার ক্যারি করে তাইলে তার উপর ৭ নাম্বারে ব্যাট করার দায়িত্ব পড়বে যেখানে তাকে পাশ করতেই হবে দলের জয়ের জন্য।
৮. থার্ড স্পিনার হিসেবে নাসুম এর দলে থাকার ব্যাপারটা খুব বেশি বড় চমক না হলেও এখানেও নির্বাচকদের দল নিয়ে খেলার বিষয়টা এসে যায়। তাইজুল আর নাসুমের যে মিউজিকাল চেয়ার চালানো হইছে তাতে আদৌ কোন লাভ হইছে কিনা আমার জানা নেই। নাসুমের বিষয়ে নির্বাচকদের ব্যাখ্যা আমার কাছে ঠিকই মনে হয়েছে। যদিও ফ্ল্যাট উইকেটে ইকোনমি রেট নাসুমের পক্ষে কথা বলবেনা কিন্তু এশিয়ান কন্ডিশনে যতই ফ্ল্যাট ইউকেট হোক স্পিনাররা সুবিধা পাবে বলেই আমার মনে হয়।
৯. মিডল অর্ডার যেমন আমাদের সপ্ন দেখাচ্ছে, সেই সপ্ন সত্যি মনে করতে বাধ্য করছে আমাদের পেস বোলিং ইউনিট। তাসকিন, হাসান, মুস্তাফিজ, ইবাদত, শরীফুল এই পাঁচজনই সুযোগ পেলেই পারফর্ম করছেন। কোন কোন ম্যাচে চার পেসার নিয়ে একাদশ সাজালেও আমি অবাক হবোনা। ক্যাপ্টেন যদি ঠিকঠাক ইউজ করতে পারেন এই পেস ইউনিট আমাদের ভালো কিছু ডেলিভার করবে বলেই আমার বিশ্বাস।
সবশেষে যদি বলি এই দল কেমন হয়েছে? আমার দৃষ্টিতে সবকিছু বিবেচনায় দল ঠিকই আছে। দলের মধ্যে কনফিডেন্স এর অভাব না থাকলে এই দল নিয়ে ভালো করা সম্ভব। যে উইকলিংক গুলো আছে সেগুলো নিয়ে আপাতত ভাবছিনা কারন আমার মনে হয়না তারা এশিয়া কাপের ইলেভেনে সুযোগ পাবেন। দলের খারাপ দিকগুলো নিয়ে আরেকদিন লিখবো। এতক্ষণ ধৈর্য ধরে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।