Happy Society

Happy Society

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Happy Society, Sports, Namazgor, Bogura.

12/12/2022

১২/১২/২০২২ আজ HAPPY CLUB এর এক দশকপূর্তি। সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
💐💐💐

27/03/2022

মুরগি প্রতিদিন ডিম পাড়তো,
আর মালিক বিক্রি করে দিতো।

মালিক বললো -"দেশের স্বার্থে তোমার ডিমের ভীষণ প্রয়োজন। তোমাকে সোনার ঘর বানিয়ে দেওয়া হবে।
তুমি লাগাতার ডিম পেড়ে যাও। এতোদিন শুধু ডিম পেড়ে গেলে, বলো কি পেয়েছো ,, বিনিময়ে ??
সব মনিব তোমাকে ঠকিয়ে গেছে,, বিশ্বাস করো, আমিই বানিয়ে দেবো, তোমার সোনার ঘর।,"

মুরগি খুশী হয়ে গেলো, দেশভক্তি বলে কথা,, দেশের প্রয়োজনে কাজে লাগা ,ভীষণ সৌভাগ্যের ব্যাপার।

পরের দিন থেকে মুরগি ২ টো করে ডিম দিতে লাগলো। দেশের জন্য এটুকু ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে।

মালিক খুশি হয়ে গেলো। ইনকাম ডবল। বেশি লাভের লোভে মালিক মুরগির খাদ্যের পরিমাণ কম করে দিলো।

মুরগি অবাক হয়ে মালিককে জিজ্ঞেস করলো -" আজকে আমার খাবার কমিয়ে দেওয়া হলো কেন ?
কোনো সমস্যা আছে নাকি ?"

মালিক বললো -" দেশ আজ সঙ্কটে, বহু মুরগি খেতে পাচ্ছে না। আমাদের লক্ষ্য হলো, প্রত্যেক মুরগির মুখে
আহার তুলে দেওয়া। যতদিন না সব মুরগি খেতে পাচ্ছে, একটু কম খেয়েই তোমাকে থাকতে হবে। দেশের জন্য , দেশকে ভালোবাসার জন্য ,এটুকু ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে। "

মুরগি খুশী হয়ে গেলো। দেশভক্তি বলে কথা, কোনো আপস চলবে না। আধপেটা খেয়ে মুরগি ডিম দিতে লাগলো।

এদিকে মালিক ডিম বিক্রির মুনাফা নিয়ে, নিজের
অট্টালিকা বানিয়ে নিলো। মুরগির সোনার ঘর তো দুরের কথা, যে ঘরটা ছিলো, সেটাও মেরামত করা হলো না। মালিক তখন মুনাফার নেশায় বুদ।

বর্ষাকাল এসে গেছে,মুরগির ঝড়জলে ভেজা ছাড়া কোনো উপায় ছিলোনা। তবুও অসুবিধা নেই, দেশভক্তি বলে কথা।

এভাবে আধপেটা খেয়ে , ডবল ডিম দিয়ে, জলে ভিজে, একদিন মুরগি জ্বরে পড়ে গেলো । মালিককে বললো-
"আমার পরিশ্রম ডবল করিয়ে দেওয়া হলো, খাদ্য অর্ধেক করিয়ে দেওয়া হলো, সোনার ঘর বানিয়ে দেওয়ার কথা ছিলো, সেটাও দেওয়া হলো না। এখন এই বর্ষায় ভীষণ অসুবিধা হচ্ছে। অন্তত আমার ভাঙা
ঘরটা মেরামত করে দেওয়া হোক।"

মালিক সহানুভূতি-র সুরে বললো -"জানো, এই দেশে বহু মুরগি রয়েছে, যাদের মাথায় ছাদ-টুকুও নেই ? কতো মুরগি সারারাত অসহায়ের মতো ফুটপাতে ঘুমিয়ে পড়ে ? সরারাত কতো মুরগি বহুকষ্টে কাটিয়ে থাকে ? তোমার শুধু নিজের চিন্তা, একটু দেশের কথা
ভাবলে না ?"

মুরগি চুপ করে গেলো। দেশভক্তি বলে কথা।

লাগাতার অমানবিক পরিশ্রম, অপুষ্টি, এবং জ্বরের কারণে মুরগি দূর্বল হয়ে পড়লো। মুরগি মনে বিদ্রোহ দেখা দিলো, মাঝে মাঝে ভাবতো, মালিকের কাছে
জবাব চাইতে হবে, ডিম বিক্রি করে এতো মুনাফা করলেন, আপনি দামি কাপড় পরলেন, দামি খাবার খেলেন, এদিক সেদিক ভ্রমণ করলেন,, আমাদের,, না হলো সোনার ঘর, না পেলাম পর্যাপ্ত আহার ।

কিন্তু ততোদিনে মুরগি মালিকের অন্ধভক্ত হয়ে গেছে। প্রশ্ন করার সাহসটুকুও হারিয়ে ফেলেছে।

অন্য কোনো মুরগি প্রশ্ন তুললেই, তাকে দেশদ্রোহী বলে দেওয়া হয়েছে।

মুরগির ডিম পড়ার শক্তি নেই, মালিক এসে বললো-" মেরে পিয়ারে মুরগি... দেশ এখন বলিদান চাইছে, বহু
মুরগির জীবন রক্ষা করার জন্য, তোমাকে প্রাণ দিতে হবে। তুমি রেডি হয়ে যাও।"

মুরগির ব্যাপারটা বুঝতে অসুবিধা হলো না। একবার শেষ চেষ্টা করে দেখা যাক। মুরগি বললো -"কিন্তু
মালিক, আমিতো দেশের জন্য এতো কিছু করলাম, বিনিময়ে কি পেলাম ? আপনি তো কিছুই দিলেন না!'

মালিক হেসে বললো -" অনেক করেছো, আমি অস্বীকার করছিনা। এবার তোমাকে দেশের জন্য "শহীদ" হতে হবে।

মালিক মুরগিকে বাজারে বিক্রি করে আরো একবার মুনাফা করে নিলো। মুরগি দেশের জন্য শহীদ হয়ে গেলো।

লেখা ও ছবি সংগৃহীত 🌿

26/02/2022

জন্মদিনের মর্মবীণঃ

“হ্যাপি বার্থডে, আরজু”- ঘড়ির কাটায় যখন ঠিক ১২ টা, তখন আরজুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে টেক্সট করেছিলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম ম্যাসেজ সিন করেছে কিন্তু কোনো রিপ্লাই দেয়নি। আজকে যে আরজুর বার্থডে, সেটা আমি ছাড়া ভার্সিটির আর কেউ জানেনা। জানবেই বা কিভাবে?
তার ফেসবুকের About এ জন্মদিনের তথ্য হাইড করা।

শীতের দিন এই সাজসকালে ক্লাসে যেতে মোটেই ভালো লাগে না।
এটেন্ডেন্সের জন্য যেতে হয়।
ঘুমঘুম চোখে ক্লাসে গেলাম।
দেরী করে যাওয়ায় বসতে হলো একেবারে পেছনের সিটে।
আরজু ছিলো সামনের সিটে বসা।

প্রথম ক্লাস শেষে এক ঘন্টার ব্রেক, তারপর পরের ক্লাস।
সকালের নাস্তা করার জন্য শ্যাডোতে যাবো।
আরজুর সাথে দেখা হলে আবার বললাম, “হ্যাপি বার্থডে, আরজু”।
আমার উল্লাসের সাথে পাল্লা না মিলিয়ে সে পাল্টা জিজ্ঞেস করলো, “কই নাস্তা করতে যাবি, শ্যাডোতে?”

ব্যাটা আমার উইশের উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করছে।
আমিও তার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চুপ করে থাকলাম।
আরজু আবার জিজ্ঞেস করলো, “বল না, রোজা ভাঙ্গার জন্য কোথায় যাবি?”

- রোজা ভাঙ্গা মানে?
- ‘Breakfast’ এর আক্ষরিক অনুবাদ করলে তো হয় রোজা ভাঙ্গা। হা.হা.হা.হা।

ভাবছিলাম তার উপর রাগ করে থাকবো, সে এখন হাসাচ্ছে! চল শ্যাডোতে চাই। সিঁড়ি নামতে নামতে আরজু বললো, আজকে তোকে একটা মজার ঘটনা বলবো।
মনে মনে বললাম, আমার বার্থডে উইশের রিপ্লাই দিচ্ছে না, উল্টো আমাকে গল্প শুনাচ্ছে।
বিদ্রুপের সুরে বললাম, বলুন আপনার ‘মজার ঘটনা’।

- এই যে কয়েকদিন আগে ‘ক্রিসমাস’ গেল, খ্রিস্টানরা যেই দিনটিকে যিশু খ্রিস্ট্রের জন্মদিন বলে পালন করে, আসলে আগেকার খ্রিস্টানরা যিশুর জন্মদিন পালন করতো না।

সকাল সকাল আরজু এগুলো কী বলছে? ক্রিসমাস হলো খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব, আর সে বলছে আগেকার খ্রিস্টানরা যিশুর জন্মদিন পালন করতো না!
কৌতুহল দমিয়ে রাখতে না পেরে জিজ্ঞেস করলাম, কেন?

- কারণ, আগেকার খ্রিস্টানরা মনে করতো জন্মদিন উদযাপন করা হলো প্যাগানদের প্রথা। [১]

- কিন্তু জন্মদিনের প্রসঙ্গ উঠলেই তো অনেকে বলে, এটা ইহুদি-খ্রিস্টানদের প্রথা।
আরজু বললো, “না, এটা একটা ভুল ধারণা।
খ্রিস্টানরা এই প্রথার প্রচলন তো করেইনি, বরং পূর্ববর্তী খ্রিস্টানরা জন্মদিন উদযাপন করাকে ঘৃণা করতো।
তারা বলতো, পাপীরাই কেবল তাদের জন্মদিনে আনন্দ উদযাপন করে। [২] এমনকি বিখ্যাত ইহুদি বিশ্বকোষ ‘Encyclopedia Judacia’ অনুযায়ী, চিরাচরিত ইহুদি সংস্কৃতিতে জন্মদিন উদযাপনের রীতি খুঁজে পাওয়া যায় না।” [৩]

- তাহলে জন্মদিন উদযাপন করতোই বা কারা? আমি জিজ্ঞেস করলাম।

- জন্মদিন উদযাপনের সবচেয়ে প্রাচীন তথ্য পাওয়া যায় বাইবেলে।
কিন্তু কে সর্বপ্রথম জন্মদিন উদযাপন করে এই তথ্য ইতিহাসে অনুপস্থিত।
বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট অনুযায়ী, ফির’আউন তার জন্মদিন উপলক্ষে একটি ‘বার্থডে পার্টি’র আয়োজন করে। [৪]
প্রাচীন গ্রীক, রোম, পারস্য, চীনেও জন্মদিন উদযাপন করা হতো।
ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস পারস্যের ইতিহাস লিখতে গিয়ে লিখেন, পারস্যের লোকেরা নিজেদের জন্মদিনকে ঘটা করে উদযাপন করতো। [৫]

হাঁটতে হাঁটতে জন্মদিনের ইতিহাস শুনে শ্যাডোতে চলে আসলাম।
আমার জন্য একটা স্যান্ডুইচ আর আরজুর জন্য ভেজিটেবল রুল নিলাম।
গাড়ি পার্কিং এর জায়গাটি খালি।
সেখানে রোদও পড়ছে।
বোতলে পানি ভরে গাড়ি পার্কিং এর জায়গায় গেলাম।
স্যান্ডুইচ-এ এক কামড় দিয়ে বললাম, “হ্যাঁ, কী যেন বলছিলি”।

- জন্মদিনের ইতিহাস নিয়ে একটা বিখ্যাত বই আছে, Adelin Linton এর ‘The Lore of Birthday’। বইটির নাম শুনছিস?
- হ্যাঁ, তোর পড়ার টেবিলে দেখেছিলাম।

- এই বইতে লেখক লিখেন, জন্মদিনের সাথে জৌতিষশাস্ত্রের একটা গভীর সম্পর্ক আছে। [৬]
কারণ, আগেকার গণকরা মানুষের জন্ম তারিখের হিসাব অনুযায়ী ভাগ্য গণনা করতো।
ভাগ্য গণনা করার জন্য তাদের জন্ম তারিখ জানার প্রয়োজন হতো।
এজন্য মানুষ জন্মদিন মনে রাখতো যাতে তার ভাগ্য গণনা করা যায়।

- আগেকার বলিস কেন? এখনও তো পত্রিকায় দেখবি প্রতিদিনের রাশিফল দেয়, সেটাও তো নির্ভর করছে জন্ম তারিখের উপর।
এমনকি ফেসবুকেও দেখবি একটা ট্রেন্ড আছে, তোমার জন্ম এই তারিখে, তো তুমি এই হবে।

- বাই দ্যা ওয়ে, গণকের কাছে যাওয়া নিয়ে ইসলামের নির্দেশনা তো জানিস নিশ্চয়?
- হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে গণকের কাছে গিয়ে কোনো প্রশ্ন করলো তার চল্লিশ দিনের ইবাদাত কবুল হবে না। [৭]
- আর যে গণকের কথা বিশ্বাস করবে সে কাফির হয়ে যাবে। [৮]

স্যান্ডুইচ খেয়ে পানি খেলাম।
আরজুর দিকে পানির বোতল এগিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “তারমানে বলতে চাস, জন্মদিন অনুষ্ঠানের প্রথা প্যাগানদের থেকে এসেছে?”

এক ঢুক পানি খেয়ে আরজু বললো, “ইয়েস মাই ডিয়ার ফ্রেন্ড, হিস্ট্রি টেল আল দিস। এমনকি জন্মদিন উদযাপনের পুরো অনুষ্ঠানের সাথে প্যাগানদের সংস্কৃতি জড়িত।”

মানে, মোমবাতি জ্বালানো, কেক কাটা, উইশ করা, গিফট দেওয়া সবগুলোই? আমি প্রশ্ন করলাম।

- হ্যাঁ, সবগুলোই। বার্থডে পার্টি, শুভেচ্ছা, জন্মদিনের উপহার দেওয়া এগুলোর উদ্দেশ্য হলো অশুভ আত্মা (Evil Spirit) থেকে আত্মরক্ষা। [৯]
আগে মনে করা হতো, অশুভ আত্মা থেকে আত্মরক্ষা করার একটা মাধ্যম হলো জন্মদিন অনুষ্ঠানে পশুবলি দেওয়া।
জন্মদিন অনুষ্ঠানের মোমবাতি জ্বালানোর প্রচলন শুরু করে গ্রীকরা।
গ্রীকরা প্রতি মাসের ছয় তারিখে তাদের দেবী Artemis (চন্দ্র এবং শিকারের দেবী) এর জন্মদিন উপলক্ষে গোলাকার কেক বানাতো যা দেখতে পূর্ণিমার চাঁদের মতো মনে হতো এবং মন্দিরের বেদীতে মোমবাতি জ্বালাতো, যা দেখলে মনে হয় চাঁদের মতো দীপ্তি ছড়াচ্ছে। [১০]
আর মোমবাতিকে মনে করা হতো সৌভাগ্যের প্রতীক। [১১]
এজন্য অনেকসময় দেখবি, কারো জন্মদিন উপলক্ষ্যে যততম জন্মদিন ততোটি মোমবাতে জ্বালানো হয়।
এক ফুঁ দিয়ে সবগুলো মোমবাতি নিভাতে পারলে মনে করা হয়, এটা সৌভাগ্য।
অথচ না বুঝে কত বড় কুফরী করা হচ্ছে।

স্রেফ একটা জন্মদিন অনুষ্ঠানের পেছনে এতো এতো পৌত্তলিক সংস্কৃতি জড়িয়ে আছে শুনে থতমত খেয়ে গেলাম।
এবার আরজুকে জিজ্ঞেস করলাম, “বুঝলাম, তাই বলে কি জন্মদিনে উইশ করাও যাবে না?”

আরজু হাসলো। শুনলে অবাক হবি যে, এই শুভেচ্ছা জানানোর পেছনেও কাহিনী আছে।
জন্মদিন অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানানোর প্রচলনের সাথে জাদুবিদ্যার সম্পর্ক আছে। মনে করা হতো, জন্মদিন অনুষ্ঠানে একজনের আত্মা তার কাছে ফিরে আসে। সেই অনুষ্ঠানের শুভকামনার উপর তার ভবিষ্যৎ এর ভালো-মন্দ নির্ভর করছে। সেদিন যদি সবাই তাকে শুভেচ্ছা জানায় তাহলে আত্মা সেই অনুযায়ী ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে, আর সবাই যদি অশুভ কামনা করে তাহলে আত্মা সেই অনুযায়ী ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
এজন্যই তো জন্মদিন অনুষ্ঠানে শত্রুদের নিমন্ত্রণ করা হয়না, কারণ তারা অশুভ কামনা করলে হিতে বিপরীত হবে। [১২]

খাওয়া শেষে মল চত্বর দিয়ে আমরা হাঁটছি। পরবর্তী ক্লাস শুরু হতে অনেকক্ষণ বাকি। জন্মদিন উদযাপনের এতো অজানা কাহিনী শুনার পর এখন যদি আরজুকে বলি, ‘আমিতো না জেনেই এগুলো পালন করছি, আর আমি তো প্যাগানদের মতো এতো কিছু মাথায় নিয়ে উদযাপন করছিনা’ তাহলে আরজু হয়তো রবার্ট ব্রাউনিং এর মতো বলবে, Ignorance is not innocence but sin.

ব্যাগের মধ্যে তিনটা বই আছে।
র‍্যাপিং পেপার দিয়ে সাজিয়ে এনেছিলাম আরজুর জন্মদিনে উপহার দিবো বলে। জন্মদিনের মর্মবীণ শুনার পর সিদ্ধান্ত নিলাম, এবার থেকে আর জন্মদিন পালন করবো না, কাউকে উইশও করবো না।
আরজুকে বললাম, তাহলে তো তুই জন্মদিনের গিফট পাবি না।

আরজু হেসে বললো, “জন্মদিনকে আমার কাছে একরকম ‘দিবস পূজা’ মনে হয়?”
- দিবস পূজা? কিভাবে? অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম।
- এই দেখ, কাউকে যদি শুভেচ্ছা জানাতে চাস, আইমিন ধর তার জন্য দু’আ করতে চাস, তাহলে সেটা কেনই বা তার জন্মদিনেই হতে হবে?
একদিন আগে পরে নয় কেন?
কাউকে যদি তার জন্মদিনে ‘তোমার জীবন সুন্দর হোক, আল্লাহ তোমার ভালো করুন’ না বলে পরের দিন বলা হয় সে রাগ করবে। সে বলবে গতকাল (আমার জন্মদিনে) কেন এটা বলোনি!

- হা.হা.হা। আমাদের ক্লাসের সাকিবের ব্রেক-আপ হলোই তো এ কারণে।
- তাই নাকি? জানতাম না তো।
আর এই গিফটের কথাই ধর, এটা এখন হয়ে গেছে টেকেন ফর গ্রান্টেড!
- Taken for granted?
- হ্যাঁ, টেকেন ফর গ্রান্টেড।
আজকাল কেউ বন্ধুদেরকে ভালোবেসে উপহার দেয় না।
জন্মদিন অনুষ্ঠানে দিতে হয় বলেই দেয়।
আবার, এক বন্ধু তার জন্মদিনে গিফট পেলে সে আনন্দিত না হয়ে মনে করে, তার জন্মদিন উপলক্ষ্যে তো গিফট পেতেই পারে।
এটাতে অবাক হবার কী আছে?
সেই আবার তার বন্ধুর জন্মদিনে তাকে গিফট দিয়ে পুষিয়ে নেয়।

আরজুর বলার পর বেশ কিছু ঘটনা আমার মনে পড়লো।
একবার এক ফ্রেন্ড আরেক ফ্রেন্ডের জন্মদিনে একটা দামি ঘড়ি গিফট দিলো।
তার যখন জন্মদিন আসলো, তখন তার ঐ ফ্রেন্ড তাকে একটা টি-শার্ট দিলো। হয়তোবা তখন তার কাছে টাকা ছিলো না, কিন্তু ঐ ফ্রেন্ডটি ট্রি-শার্ট পেয়ে খুশি না। বরং সে কম্পেয়ার করছে, সে কী দিলো, আর তার বন্ধুটি তাকে কী দিলো।

জন্মদিনে এই ধরণের গিফট দেওয়াকে আরজু নাম দিয়েছে Conditional Gift- শর্তসাপেক্ষে উপহার।

আরজু বলে চললো, “গিফট হতে হবে উইদাউট কন্ডিশন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পরকে উপহারাদি বিনিময় করো, এতে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে।’ [১৩]
আবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গিফটকে ‘তুচ্ছ’ বলে হেয় করতেও নিষেধ করেছেন। [১৪]
আর এই যে জন্মদিন উপলক্ষ্যে খাওয়ানো হয়, পার্টি দেওয়া হয়, কেন ই বা সেটা জন্মদিন উপলক্ষ্যে হতে হবে রে ভাই? মানুষকে খাওয়ানোকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইসলামের মধ্যে সর্বোত্তম কাজ বলে অভিহিত করেছেন। [১৫]
সেটা কেন বছরে একদিনই হবে, অন্যদিন হলে হবে না?”

আরজুর সাথে এই ব্যাপারে দ্বিমত করার কোনো সুযোগ নেই।
আসলেই তো ভালো কাজকে স্রেফ একদিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে কেন।

- আমার মনে হয়, জন্মদিন উপলক্ষ্যে মানুষকে খাওয়ানো, সেদিন এক্সট্রা ইবাদাত করা এগুলোর সাথেও হয়তো কোনো ধর্মবিশ্বাস (ইসলাম ব্যতীত) জড়িত। ইহুদি রাব্বি Yissocher Frand এর মতে, কারো জন্মদিন হলো তার কাছে স্পেশাল দিন, এইদিন সে যা প্রার্থনা করবে সবই গ্রহণ করা হবে। [১৬]
আর অ্যামেরিকার শয়তান উপাসকদের চার্চের প্রতিষ্ঠাতা এন্টন জান্দর লেভেই এর মতে, শয়তান উপাসকদের কাছে সবচেয়ে বড় দিন হলো একজনের নিজের জন্মদিন। [১৭]

কুয়াশাভেজা শীতের সকালে রোদ দেখলে আমরা আনন্দিত হই, রোদ পোহাতে ছুটে যাই, রোদের উষ্ণতায় আস্তে আস্তে শীতের আবহ কমতে থাকে।
আমার কাছে এখন আরজুকে মনে হচ্ছে কুয়াশাভেজা শীতের সকালের একটু খানি রোদ।
সেই রোদ সত্যের দ্যুতি ছড়াচ্ছে।

রেফারেন্সঃ

১। The World Book Encyclopedia, Volume 3, Page 416.
২। Origen. In Levit Hom viii in migne P.G. xii, page 495.
৩। Encyclopedia Judacia, Volume 4, Page 495.
৪। Bible, Genesis 40:20-22.
৫। The Lore of Birthday, Ralph Linton, Page, 12
৬। The Lore of Birthday, Ralph Linton, Page, 53
৭। সহিহ মুসলিমঃ ৫৭১৪।
৮। তারগিব তারহিবঃ ৪৫৮৯
৯। Funk and Wangalls Dictionary of Folklore, Volume 1, Page 144.
১০। The Lore of Birthday, Ralph Linton, Page 51-52
১১। The Lore of Birthday, Ralph Linton, Page 18-20
১২। The Lore of Birthday, Ralph Linton, Page 12
১৩। আদাবুল মুফরাদঃ ৫৯৭
১৪। সহিহ মুসলিমঃ ২২৬৯
১৫। সহিহ বুখারীঃ ১২
১৬। Archieve/ Kabbalas hatorah at three landmark Flatbush yeshivos
১৭। The Satanic Bible, Anton Szandor LaVey, Page 96



লেখাঃ আরিফুল ইসলাম

কপি, শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দিন।

08/02/2022

☔বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির পূর্বাভাসঃ☔

🌧আগামি ১০ ও ১১ তারিখ রোজ বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাজশাহী বিভাগের বেশকিছু স্থান, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু স্থানসহ দেশের অন্যত্র দু এক জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এটি পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় নয় বলে দেশের সকল এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। যার ফলে দেশের অনেক এলাকা এসময় প্রায় স্বাভাবিক থাকতে পারে। সেই সাথে এসময় দেশের কোথাও একটানা মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা না থাকায় দুশ্চিন্তার কিছু নেই ইনশা-আল্লাহ। যেহেতু ইংরেজী তারিখ রাত ১২ টার পর থেকে পরিবর্তন হয় সেই হিসেবে আগামি ৯ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকেই এই বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিবলয়ের প্রভাব শুরু হতে পারে। সুতরাং আপনারা রোদের কাজ আগামিকাল ৯ তারিখ দিনের মধ্যেই সেরে ফেলুন। পরবর্তিতে কোন পরিবর্তন হলে আপনাদের জানিয়ে দেয়া হবে।

আপডেটঃ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, সন্ধ্যা ৭:২৫ মিনিট।
Collected Bangladesh weather observation team.

05/02/2022

⭕বাংলাদেশের সম্ভবত একটা গিনিস রেকর্ড আছে। যেটা কেউ খেয়াল করছে না⭕

পৃথিবীতে একটা বিশ্ববিদ‍্যালয় আছে। যার স্টুডেন্ট স‍ংখ‍্যা প্রায় ত্রিশ লক্ষ। সে বিশ্ববিদ‍্যালয়ের নাম জাতীয় বিশ্ববিদ‍্যালয়! নামটা অসম্ভব সুন্দর। একসাথে “জাতীয়” ও “বিশ্ব” দুটাই ধারণ করে।

দুনিয়ার বহু দেশে ত্রিশ লক্ষ মানুষ নেই। কিন্তু আমাদের একটা বিশ্ববিদ‍্যালয়ে ত্রিশ লাখ স্টুডেন্ট। তাদের নিয়ে আমাদের কর্তাদের চুলসম মাথাব‍্যাথা আছে বলে আমার কখনো মনে হয়নি।

একটা বিশ্ববিদ‍্যালয়ে কখনো এতো স্টুডেন্ট থাকতে পারে না। সে মানের ম‍্যানেজম‍্যান্ট আমাদের নেই। সে পরিমান রিসোর্চ আমাদের নেই। সেই পরিমান যোগ‍্য শিক্ষক আমাদের নেই। সেই পরিমান অবকাঠামোগত সাপোর্ট নেই। গণহারে কতোগুলো সাবজেক্ট দিয়ে রাখা হয়েছে। এবং গণহারে স্টুডেন্ট ভর্তি চলছে বছরের পর বছর।
এতো এতো স্টুডেন্টদের ভবিষ‍্যত কি—সে বিষয়ে কেউ সুস্পষ্ট কোন ধারণা দিতে পারবে না। সাথে লক্ষ লক্ষ স্টুডেন্ট সেশন জটের শিকার। হতাশায় নিমগ্ন।

একটা দেশের তরুণদের নিয়ে এতো বড়ো অপরিকল্পনা, এতো ঔদাসীন‍্য—অবিশ্বাস‍্য। এই তরুণদের গড়ে তোলার যুগপোযোগী ব‍্যবস্থা না থাকলে দেশ গড়ে উঠে কি করে?
ওরা না পাচ্ছে যুগপোযোগী আধুনিক শিক্ষা, না পাচ্ছে যথা সময়ে সনদ!

দেশের রাজনীতিবিদ, আমলা আর পয়সাওয়ালাদের বাচ্চারা যদি ওখানে পড়তো—তাইলে দেখতেন সবই ঠিকমতো চলতো।

✒️©️

01/02/2022

যে দেশে ১৭ বছর পড়ালেখা করে
পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে চাকরির
আবেদন করতে গিয়ে বেকার যুবক শোনে
"অভিজ্ঞতা ছাড়া চাকরি দেয়া হয়না।
তখন প্রশ্ন জাগে তাহলে ১৭ বছর
ওয়ার্কশপে কাজ শিখলেই হতো !

- যে দেশে পাশ করার ৪ বছরের মধ্যে
বিয়ে করতে গেলে পাত্রীর মা
"প্রতিষ্ঠিত পাত্রের" দোহাই দিয়ে
বিদায় করে দেয় সেখানেও প্রশ্ন আসে
১৭ বছর পড়ালেখা না করে তো ব্যবসার
চিন্তা করলেই হতো, কাড়ি কাড়ি
টাকা থাকতো !

- এদেশে কি সার্টিফিকেট আর ২
টাকার পুরোনো নোটের মধ্যে আদৌ
কি কোন পার্থক্য থাকছে ?
১৭ বছর পড়াশোনা করে যদি ১২ হাজার
টাকা বেতনে সকাল ৯টা টু রাত ৯টা
ডিউটির অফার আসে, তাহলে নামের
আগে ওই "ইঞ্জিনিয়ার/ গ্রেজুয়েট"
শব্দের
দরকার কি ?
সিএনজি চালিয়েও ১৫ হাজারের ও
বেশী ইনকাম করা যায় !

Collected

22/12/2021

আমেরিকায় এক বরফশীতল রাতে একজন কোটিপতি তার ঘরের সামনে এক বৃদ্ধ দরিদ্র মানুষকে দেখতে পেলেন।
✨তিনি বৃদ্ধ মানুষটি কে জিজ্ঞাসা করলেন- "বাইরে এত ঠান্ডা আর আপনার গায়ে কোন উষ্ণ কাপড় নেই, আপনার কি ঠান্ডা লাগে না?”
✨বৃদ্ধ লোকটি উত্তর দিল-“ আমার কাছে উষ্ণ কাপড় নেই কিন্তু আমি মানিয়ে নিয়েছি।”
✨কোটিপতি বললেন- “আমার জন্য অপেক্ষা করুন। এক্ষুনি আমি ঘরে গিয়ে আপনার জন্য একটি উষ্ণ কাপড় নিয়ে আসছি।” দরিদ্র বৃদ্ধ খুব খুশি হয়ে বললেন যে তিনি অপেক্ষা করবেন।

ধনী ব্যক্তিটি তার বাড়িতে ঢুকলেন এবং কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলেন আর দরিদ্র বৃদ্ধটির কথা ভুলে গেলেন। সকালে তার মনে হলো সেই দরিদ্র বৃদ্ধের কথা। তিনি সাথে সাথে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন সেই বৃদ্ধ কে খুঁজে বের করার জন্য। কিন্তু তিনি বৃদ্ধটিকে ঠান্ডায় মৃত অবস্থায় দেখতে পান। আর মানুষটির হাতে একটি চিরকুট দেখতে পেলেন।
✨চিরকুটে লেখা ছিল - “ যখন আমার কোন উষ্ণ কাপড় ছিলনা তখন ঠান্ডার সাথে লড়াই করার ক্ষমতা আমার ছিল কারণ আমি মানিয়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু যখন আপনি আমাকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তখন আমি আপনার প্রতিশ্রুতির সাথে আসক্ত হয়ে গিয়েছিলাম এবং আমি আমার তীব্র ঠান্ডা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছি....। ”

শিক্ষাঃ 🙏কাউকে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে ভাবুন এবং অহেতুক মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। প্রতিশ্রুতি দিয়ে রক্ষা না করার থেকে মারাত্মক আর কিছুই হতে পারে না।
©️

Want your business to be the top-listed Gym/sports Facility in Bogura?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Namazgor
Bogura
5800