চট্টলার বাজপাখি সাদ্দাম

চট্টলার বাজপাখি সাদ্দাম

Share

Goal Keppar⚽

Photos from চট্টলার বাজপাখি সাদ্দাম's post 19/10/2023

শিক্ষনীয় বিষয় ❤️

আমাকে অনেকেই জিজ্ঞেস করে, এত ছোট ক্যারিয়ার নিয়ে আমার কোন অনুশোচনা আছে কিনা? চ্যাম্পিয়নস লীগ জয়, বিশ্বকাপজয়ী দলে না থাকতে পারার ব্যাপারে অনুশোচনা আছে কিনা?

না ভাই। আমি কতটা ভাগ্যবান আপনারা জানেন না। আমার তো এ পৃথিবীতে পা রাখারই কথা ছিল না। আমার জন্মটাই একটা মিরাকল।

আমার মা যখন আমাকে পেটে ধরেন তখন তার বয়স ১৭ আর আমার বাবার বয়স ১৯। এর মাঝেই আমার বড় বোন জেসিকার জন্ম হয়ে গিয়েছে। প্রিবার থেকে পালিয়ে বাবা মা তখন আশ্রয় নিয়েছেন আমার চাচার ফেলে রাখা এক জমিতে। বুয়েনস আইরেসের এক প্রান্তে, ভাইপার নদীর কিনারে। নদী ঐ জায়গাটায় এতটাই দুষিত কেউ সচারাচর থাকে না। সেখানে বাবা নিজের হাতেই আমাদের প্রথম বাসাটা বানালেন। ইঁট কম হয়ে গিয়েছিল, এজন্য বাসার উচ্চতা কম, মাথা নিচু করে ঢুকতে হয়। তার উপর টিনের ছাউনি। টয়লেট ছিল বাসার পেছনে একটা গর্ত। আর পানি আনতে মাকে যেতে হত ১০০ মিটার দূরের পানির কলে, জেসিকাকে কোলে করে।

১৯৮৮ সালের মাঝামাঝি ভয়ানক বন্যা আর ঝড় বয়ে গেল আর্জেন্টিনার উপর দিয়ে। বন্যায় প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ তাদের ঘর হারাল, এর মাঝে ছিলেন আমার বাবা-মাও। বন্যার শুরুর দিকে হাঁটু পানির মাঝেই বাসায় ছিলেন বাবা মা আর জেসিকা, কারণ তাদের যাওয়ার আর কোন জায়গা ছিল না। বন্যা বাড়তে সরকারের লোকজন একরকম জোর করেই তাদের নিয়ে গেল এলাকার বড় গীর্জাটায়, সেখানেই সব বন্যার্তরা আশ্রয় নিয়েছিল।

বন্যার পানি কমতেই বাড়ি ফিরে বাবা মা দেখলেন, তাদের যা অল্প কিছু সহায় সম্পত্তি ছিল সব কেউ লুট করে নিয়ে গিয়েছে। এ নিয়ে খুব বেশি দুঃখ করার সুযোগ পেলেন না তারা। কারণ ওই সময়েই মা’র পানি ভাঙল। ছয় মাসের প্রেগ্নেন্সির মাথাতেই।

আশেপাশে এই অবস্থা সামলানোর মত কোন হাসপাতাল নেই। থাকবেই বা কীভাবে? বাবা মা থাকতেন পান্ডববর্জিত এক এলাকায়, যেটা বস্তির থেকেও খারাপ। দুইবার বাস বদলে, ট্রেনে চেপে তিন ঘন্টার যাত্রা করে মাকে নিয়ে যাওয়া হল বিয়েনস আইরেসের এক দাতব্য হাসপাতালে। সেখানে ডাক্তার আর নার্সরা মাকে বললেন, পানি ভাঙলেও এখন ডেলিভারি করা যাবে না। ডেলিভারি হলে বাচ্চাকে বাঁচানো সম্ভব না। মাকে যেভাবেই হোক বাচ্চা ধরে রাখতে হবে পেটে। মার ঠাঁই হল হাসপাতালের মেটার্নিটি ওয়ার্ডে। মা আমাকে ধরে রাখলেন, দুই মাস। হাসপাতালেই মার ১৮তম জন্মদিন পার হয়ে গেল। একা একা, বাবা কাজে ব্যস্ত থাকতেন, এত দূরে প্রতিদিন আসাও সম্ভব হত না। ঐ সময়ে হাসপাতালের মেটার্নিটি ওয়ার্ডের একমাত্র রোগি ছিলেন মা। তিনি কেবল কাঁদতেন আর ঈশ্বরের কাছে মুক্তি চাইতেন। দুই মাস হাসপাতালে পার করে দেওয়ার পরও যখন আমার জন্ম হল না, ডাক্তাররা মাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন।

বিধির কি লীলা, তিন ঘন্টার জার্নি করে বাড়ি ফেরার পরদিনই মার প্রসব বেদনা উঠল। আবার তিন ঘন্টা বাসে-ট্রেনে করে মা হাসপাতালে এলেন। ডাক্তার মাকে পর্যবেক্ষণ করে জানালেন, বাচ্চা আটকে গেছে। ডাক্তার বললেন ফরসেপ দিয়ে বাচ্চার মাথা ধরে টেনে বার করতে হবে। মা কিছুতেই রাজি হলেন না, দুই মাস ম্যাটার্নিটি ওয়ার্ডে যখন ছিলেন তখন তার সময় কেটেছে ম্যাটার্নিটি ম্যাগাজিন আর বই পরে। তিনি পড়েছেন ওভাবে বাচ্চা বের করলে বাচ্চার মাথার আকৃতি বিগড়ে যায়। ডাক্তার বললেন, এ ছাড়া আর একমাত্র উপায় হল, নবজাতকের কন্ঠার হাড় ভেঙে বাচ্চাকে বের করে আনতে হবে। মা সম্মতি দিলেন।

জন্ম হল আমার।
জন্মের পরও কি ঝামেলার শেষ হল? না। আমার আমার বাবার নাম লিওনেল দেল কাস্তিয়ো আর মায়ের নাম আদ্রিয়ানা আগুয়েরো, মিলিয়ে আমার নাম রাখা হল সার্জিও লিওনেল দেল কাস্তিয়ো আগুয়েরো। বাধ সাথলেন কর্তৃপক্ষ, বুয়েনস আইরেসে নাকি লায়নেল নাম গ্রহণযোগ্য না। নাম রাখতে হবে লায়নেল। আর বাবা মার যেহেতু বিয়ে হয় নি এবং মা অপ্রাপ্তবয়স্কা সেজন্য বাবার পদবি যোগ করা যাবে না। কাজেই আমার নাম হতে গেল সার্জিও লিওনেল আগুয়েরো।

আমার জন্মের কাহিনীটাই কত রোমাঞ্চকর ভেবে দেখুন। হিসবে পৃথিবীর আলোর মুখ দেখারই কথা ছিল না আমার। তাও তো বেঁচে আছি। এতেই আমি খুশি। খুব বেশি চাওয়ার আর নেই।

🇦🇷🇦🇷🇦🇷 সার্জিও এগুয়েরো 🇦🇷🇦🇷🇦🇷

12/10/2023

Old Is gold 🔥

19/02/2023

আলহামদুলিল্লাহ 🙏🥰🙏

উখিয়া কোর্টবাজার বাজার ম্যাচ জয়ী ট্রাইবাকার সেইভ⚽

Want your business to be the top-listed Gym/sports Facility in Chittagong?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address


Chittagong