30/03/2026
উপাখ্যানটা আন্দালুসিয়ায় জন্ম নেয়া এক এক বালকের, যার স্বপ্নাতুর চোখ দু'টো বুঁদ হয়ে থাকতো ষাঁড়ের লড়াইয়ে নামার আকাঙ্খায়। উপাখ্যানটা বালক থেকে বেড়ে ওঠা সেই কিশোরের, যে সফরকারী রিয়াল মাদ্রিদকে দলটির প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজসমেত ভরকে দিয়েছিলো র্যামন সানচেজে দুর্দান্ত এক ফ্রীকিক থেকে গোল করে। উপাখ্যানটা কিশোর থেকে বেড়ে ওঠা সেই যুবকের, রোনালদো নাজারিওর পর যার জন্য পেরেজ সাহেবকে দলবদলের দরজা বন্ধ হওয়ার একদম আগ মুহূর্ত অবধি অপেক্ষা করতে হয়েছিলো। উপাখ্যানটা যুবক থেকে বেড়ে উঠে একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক "পুরুষ"- এর, যে যৌবনের শেষধাপে স্পেনের স্বর্ণালী প্রজন্মের অন্যতম মাথা হয়ে চার বছরে টানা তিনটে আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতার পর পৌরুষের প্রথম ধাপে পরপর দু'বার দুই জার্মান পরাশক্তির কাছে মাথা নত করার পর সিংহশাবক থেকে পরিপূর্ণ সিংহ হয়ে সমগ্র একটি ফুটবল খেলুড়ে অঞ্চলের ওপর নিজের দোর্দণ্ডপ্রতাপ চালিয়েছিলো।
উপাখ্যানটা সার্জিও রামোসের, জোসে মারিয়া রামোস এবং পাকুই রামোস দম্পতির ঘর আলো করে জন্মানো কামাসের সূর্যসন্তান সার্জিও রামোস গার্সিয়ার।
রামোসের ফুটবলে হাতেখড়ি হয়েছিলো স্থানীয় ক্লাব কামাসের যুবদলের হয়ে, নিজের ষষ্ঠ জন্মদিন পার করার পর। এরপর যখন তাঁর বয়স দশ, তখন তিনি যোগ দেন সেভিয়াতে। সেখানে সাত বছর কাটাবার পর সেভিয়ার দ্বিতীয় দলে কাটান তিনি আরো এক বছর, এই এক বছর সময়টাতেই হয়ে যায় তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারের অভিষেক। এরপর বয়স ১৮ হলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সেভিয়ার মূলদলে যোগ দেন। সেভিয়ায় তিনি ছিলেন কেবল এক মৌসুম, কেনন তিনি সে মৌসুমে এতটাই প্রখর ছিলেন যে সেভিয়ার পক্ষে তাঁকে ধরে রাখা সম্ভব ছিলো না। সে মৌসুম তথা ২০০৪-০৫ মৌসুমে তিনি জিতে নেন লালীগার "ব্রেকথ্রু প্লেয়ার অফ দ্যা ইয়ার" সম্মাননা, ওই মৌসুম শেষেই রিয়াল মাদ্রিদ তাঁকে দলে পেতে উঠেপড়ে লাগে এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার সাথে যুদ্ধে জিতে তাঁকে দলে আনতে সমর্থ হয়। যদিও শেষ অবধি তাঁকে পাওয়ার জন্য তৎকালীন একজন ডিফেন্ডারের জন্য রেকর্ড পরিমাণ অংক খসাতে হয়েছিলো রিয়াল মাদ্রিদকে, তবুও ২৭ মিলিয়ন ইউরো খরচার পরও নিজের প্রথম দফায় একমাত্র স্প্যানিশ খেলোয়াড় রামোসকে পাওয়ার নিশ্চয়তা পেরেজ সাহেব পেয়েছিলেন সে ২০০৫-০৬ মৌসুমের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সময় শেষ হওয়ার মাত্র মিনিট দশেক আগে।
১৯ বছরের রামোস ছিলেন ঝর্ণার মতো চঞ্চল। মূলত রাইটব্যাক হলেও খেলতে পারতেন সেন্টারব্যাক হিসেবেও, দলের প্রয়োজনে বেশ ক'বার খেলেছেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবেও। তবে মাঠে তাঁর অবদান, প্রত্যয় নিয়ে কোনো সন্দেহ না থাকলেও তাঁর শৃঙ্খলার ব্যাপারে সকলে ছিলো বিরক্ত। কেননা অযথা সব ট্যাকল আর মুহূর্মুহু মেজাজ হারানোর কারণে কার্ড দেখার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই রিয়াল মাদ্রিদের মতো দলের স্বভাববিরুদ্ধ। এসব যখন চলমান, তখন একপর্যায়ে রিয়াল মাদ্রিদ ভাবা শুরু করে তাঁকে ছেড়ে দেয়ার। আর ঠিক এ সময়টাতেই নিজেকে আরো পরিণত করে তোলেন রামোস। ততদিনে স্পেনের হয়ে ইউরো জিতে নিয়েছেন, একটি আন্তর্জাতিক শিরোপার জন্য স্প্যানিশদের প্রায় অর্ধশতকের আক্ষেপ মেটানোর অন্যতম কারিগর ক্লাবে পর্তুগীজ ডিফেন্ডার পেপের চোটের কারণে এর পরপরই ফুলব্যাক থেকে বনে যান হাফব্যাকে।
এরপরের যাত্রাটা হাসি-কান্না মিলিয়ে হলেও পথটা ছিলো রামোসের জন্য অনেকটাই মসৃণ।
২০১০ সালে উঁচিয়ে ধরেছেন বিশ্বকাপ, গ্রুপ পর্বে দু'গোল হজম করলেও নকআউট পর্বে করেননি একটিও। এরপর বছর গড়ালে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের শেষ চারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার নিকট ঘোল খেলেও পরের মৌসুমে ইতিহাস গড়েন শতপয়েন্ট নিয়ে মরিনহোর ঐতিহাসিক লীগ বিজয়ী রিয়াল মাদ্রিদের অন্যতম সারথি হিসেবে। যদিও সেবারও চ্যাম্পিয়ন্স লীগের শেষ চার থেকে ফিরতে হয়েছিলো বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে পেনাল্টি নষ্ট করে। এ ঘটনার পর আবারো ইউরো জিতেছিলেন ঠিক, তবে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের পরের আসরেও ঠিক একই গল্প, চ্যাম্পিয়ন্স লীগ এবং শেষ চার; তবে এবারে দায়ী বুরুশিয়া ডর্টমুন্ডের ছলনা। টানা দু'বার এমনকিছু মেনে নেয়া রামোসের মতো দৃঢ় প্রত্যয়বান ব্যক্তিত্বের পক্ষে সম্ভব না। তাই রামোস ক্যাসিয়াসকে জড়িয়ে ধরে জার্সি চাপা দিয়ে চালানো ক্রন্দনপর্ব শেষে কথা দিলেন, রিয়াল মাদ্রিদকে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ তিনি জেতাবেনই; সে যে মূল্যেই হোক না কেনো।
এর বছরখানেক পরের ছবিটাতো ইতিহাসই হয়ে আছে। লিসবনে অতিরিক্ত সময় শেষ হতে যখন সেকেন্ড বারো বাকী, তখন অবধি ম্যাচে এগিয়ে থাকা নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কিটম্যানসমেত পুরো বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে লুকা মদ্রিচের নেয়া কর্ণার থেকে সার্জিও রামোসের সমতাসূচক গোল.....
সকলের মনে তখন বিস্ময়ের স্বরে জিগ্যেস, এভাবেও ফিরে আসা যায়!? জবাবে রামোস করে দেখিয়েছিলেন, যেনো বলেছিলেন- ❝এভাবেই ফিরে আসতে হয়❞।
বর্তমান সময়ের যে রিয়াল মাদ্রিদ, এর সূতিকাগার বলা হয় হোসে মরিনহোকে। যদিও তাঁর সময় রিয়াল মাদ্রিদের অর্জন ছিলো শূণ্যের কাছাকাছি। তবে রিয়াল মাদ্রিদের ভেতরে জয়ের ক্ষুধাটা জাগিয়েছিলেন তিনিই, এনেছিলেন ভাবনায় পরিবর্তন। খেলোয়াড় বিবেচনায় আনলো ঠিক এ কৃতিত্বটা যাবে একজনের কাঁধে, সার্জিও রামোসের কাঁধে। সেদিন পুরো ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ একটি গোল না করতে পারলেও রামোসের গোলের পর অতিরিক্ত আধঘন্টায় রিয়াল মাদ্রিদ গোল করেছিলো আরো তিনটে। সে ঘটনার এক বছর পর এরপর ক্যাসিয়াসের প্রস্থানে সার্জিও রামোসের বাহুতে রিয়াল মাদ্রিদের বাহুবন্ধনী, আর সে বাহুবন্ধনী পেঁচিয়েই রামোস দলকে জেতালেন টানা তিনটে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা.....কথা দিয়ে কথা রাখা নয় বরং এভাবে বলে বলে জেতার নজির আপনি সমগ্র ইতিহাস ঘেটে কয়টি পাবেন!
সিংহশাবক থাকাবস্থায় অপরিপক্ক নখে বহু আঁচড় কেটেছেন, পরিপূর্ণ হয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলে পড়েছেন স্বর্ণালী কেশরে ঝড় তুলে। মাঠের খেলা থেকে মুখের কথা বা প্রতিপক্ষে গোলের উদ্দেশ্য আক্রমণ বা ঝামেলার উদ্দেশ্য আক্রমণ; রামোস চিরকালই ছিলেন দল এবং সতীর্থদের জন্য, ব্যক্তিস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে হলেও। বিনাতর্কব্যয়ে প্রজন্মের সেরা ডিফেন্ডার, তর্কসাপেক্ষে ইতিহাসের সেরা তিন হাফব্যাকের একজন; রামোস নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়। উত্তরাধিকার তাঁর এমনই যে দূর থেকে দেখতেই সুশ্রী, ভাবাটা সকলের সাধ্যের বাহিরে।
ডিফেন্ডার হিসাবে সবচেয়ে বেশিবার ফিফা এবং উয়েফার বর্ষসেরা দলে নাম লিখিয়েছেন, লালীগায় সর্বাধিকবার সেরা ডিফেন্ডার মনোনীত হয়েছেন, প্রায় আড়াই ডজন দলীয় শিরোপার পাশাপাশি পাঁচ ডজনেরও অধিক ব্যক্তিগত সম্মাননা লাভ করেছেন রামোস। প্রায় সাড়ে ন'শ ম্যাচ খেলে দুইশ'র কাছাকাছি গোলে অবদান রেখেছেন। এছাড়া রিয়াল মাদ্রিদ'র জার্সিতে ১৬ বছরে ৬৭১ ম্যাচ এবং স্পেনের জার্সি'তে ১৮০ ম্যাচ; যার মাঝে আবার জয় সংখ্যা ১৩১; এসবতো জীবন্ত ইতিহাস হিসেবে জিয়ে রয়েছেই।
দর্শক-সমর্থক-শুভাকাঙ্ক্ষী-সমালোচক; রামোস নিজেকে এমন জায়গায় এনে উপনীত করেছেন যে তাঁকে তর্ক ছাড়াই প্রজন্মের তৃতীয় সেরা খেলোয়াড় বলতে কারো বাঁধবে না। নিজেকে এমন উচ্চতায় রামোস আসীন করেছেন যে তাঁকে ফুটবলের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ একাদশে জায়গা দিতে অত একটা তর্ক করতে হবে না। রামোস নিজেকে এমনভাবে সাজিয়েছেন, যাতে করে তাঁকে ঘিরে কোথাও কোনো তর্কেরই অবকাশ না থাকে। মেধা ছিলো, স্রষ্টাও দিয়েছেন দু'হাত ভরে আর তিনি নিজেও সামর্থ্য কাজে লাগিয়েছেন সমানে, নিজেকে রাঙ্গিয়েছেন নিজেকেই উজাড় করে। ষাঁড়ের লড়াইয়ে অংশ নিতে বুঁদ হয়ে থাকা এক বালকের পক্ষে কী আদৌ এতকিছু ভাবা সম্ভব ছিলো?
শুভ জন্মদিন সার্জিও রামোস গার্সিয়া, আপনার ৪০তম জন্মদিনে একরাশ শুভেচ্ছার পাশাপাশি কৃতজ্ঞতা নিবেন আমাদের সময়টা সুন্দর করার জন্য। আপনি ভালো থাকুন সবসময়, দারুণ থাকুন, জীবনকে উপভোগ করতে থাকুন; এই আপনার প্রতি শুভকামনা।
🗞️: Sports Fiesta
✍️: আফিফ ইব্রাহীম ইক্বরা ©
05/02/2026
মাদেইরা থেকে রিয়াদের দূরত্ব কত, জানেন? ৩ হাজার ৮২৫ মাইল। এ পুরো পথের প্রতিটা বর্গফুট আপনি তাঁর জীবনের একেকটা গল্প দিয়ে সাজাতে পারবেন, এতটাই পরিপূর্ণ এবং বৈচিত্র্যময় জীবন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর।
জন্মেছিলেন এক মদ্যপ বাবার ঘরে, একদিন দেখলেন ঠুস করে বাবাটা মরে গেলো। ছাদ হারিয়ে তখন তাঁর মাথায় হাত। আর ওই অবিশ্বাসের হাত মাথায় তুলেই পণ করলেন, জীবনেও ছুঁয়ে দেখবেন না অ্যালকোহল।
আজ অবধি ছুঁয়ে দেখেননি।
রাস্তায় ঝাড়ুদারের কাজ করেছেন, সেখান থেকে হয়েছেন সমগ্র ইউরোপের সবচাইতে নামী নামটা। ইউসেবিও - ফিগোরা খেলে গেলেও পর্তুগাল আন্তর্জাতিক শিরোপার স্বাদ পেয়েছে এই মানুষটির হাত ধরেই। ইতিহাসে সেরা ফুটবলার যেমন তিনি একা নন, তেমনি পর্তুগীজদের ফুটবলটাও তিনি একা চেনাননি। তবে শতসহস্র বহির্বিশ্ববাসীকে পর্তুগাল ভক্ত বানানোর কারিগর তিনি নিজে, একাই।
বৃটিশ মুলুকে না জন্মেও মাত্র অর্ধযুগেই ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের ইতিহাসে নিজেকে চিরস্থায়ী আসন দেয়া বা UEFA CHAMPIONS LEAGUE এর আদলে UCL কে UCL রেখেই UEFA CRISTIANO LEAGUE নামে প্রতীকী অর্থে নামান্তর করা; এসব অসাধ্যকে সাধ্যরূপ দিয়ে তিনি নিজেই এসব কীর্তি মানবপানসপটে বাস্তব বলে প্রতীয়মান করে ছেড়েছেন।
গেন্তো যে সময়ে ছ'টি জিতেছিলেন সে সময় মানটা একই থাকলেও নামটা ছিলো ভিন্ন। সে ইউরোপীয়ান কাপ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোই সর্বপ্রথমবারের মতো জিতেছিলেন এক হাতের আঙ্গুলসংখ্যক, জিতে দেখিয়েছিলেন ব্যাপারটা খুব একটা কঠিন না। তবে তিনি রক্তমাংসে গড়া নন দেখেই হয়তো এত সহজে করে ফেলেছেন। কেননা, এখনো শতবর্ষীয়ান অনেক ক্লাবই যে এ আসরের পাঁচটি শিরোপা নিজেদের উঠোনে আনতে পারেনি!! শুধু কী তাই, ডজনদুয়েকেরও বেশী ইউরোপীয়ান ক্লাবের মাঝে কেবল চারটে ক্লাবই পেরেছে ব্যক্তি ক্রিস্টিয়ানোর চেয়ে বেশীসংখ্যক সর্বোচ্চ ইউরোপীয়ান সম্মাননা জিতে নিতে। এখন অবশ্য সে কীর্তিতে তিনি আর একা নন, লুকা মদ্রিচ-টনি ক্রুস-দানি কার্ভাহাল-নাচো ফার্নান্দেজরা ছাড়িয়ে গিয়েছেন তাঁকেও। তবে যাত্রাটা যে শুরু হয়েছিলো এ যুগে তাঁকে দিয়েই!
নিজ দেশেরতো বটেই, হয়েছেন সবমিলিয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতাও। মাথা ছুঁইয়ে বল জালে গলানোকে একাই নিয়ে গিয়েছেন শিল্পের পর্যায়ে। ২০০৮-০৯ মৌসুমে এমিরেটসে সেই ৩৫ মিটার দূর থেকে করা ফ্রী-কিক গোল থেকে শুরু করে ২০১৭-১৮ মৌসুমে অ্যালিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামে করা সেই মহাকাব্যিক বাই-সাইকেল কিক গোল; রোনালদো ছড়িয়ে আছেন সর্বত্রই, অমর হয়ে।
কেও কেও নিজ ক্লাবকে বা দেশকে সেরা হিসেবে উপস্থাপন করেনতো আবার কেন কেও করে নিজ খেলোয়াড়কে। তবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ছিলেন এখানে ভিন্ন। রিয়াল মাদ্রিদ ততদিনে দু'টি গ্যালাক্টিকো থেকেও ফল বের করে আনতে ব্যর্থ হওয়ার পর যখন তৃতীয় গ্যালাক্টিকো থেকে ক্লাব ফুটবলের ইতিহাস নাড়িয়ে দেয়া ফল বের করে আনলো, সে দলের মূল চালক ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো। আর ঠিক এসব কীর্তিই তাঁকে তুলে দিয়েছে শ্রেষ্ঠত্বের এককাঠি ওপরে। আবার আনকোরা পর্তুগালকে তালিকার সেরা দশের নিয়মিত মুখ বানানো থেকে শুরু করে ফুটবল মানচিত্রে সমীহ আদায় করানো; সবইতো তাঁর একারই খেল কার্যত।
পাঁচটি ব্যালন ডি অর, চারটি ইউরোপীয়ান গোল্ডেন বুট, তিনটি করে উয়েফা বেস্ট অ্যাওয়ার্ড এবং ফিফা বেস্ট অ্যাওয়ার্ড, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি ; গিনেস কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এবং ফিফার তরফ থেকে- এসবতো সকলেই জানে। জানে তাঁর জিতে নেয়া পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা, চারটি ফিফা ইন্টার কাপ শিরোপা, তিনটি উয়েফা সুপার কাপ শিরোপা, প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা এবং কমিউনিটি শিল্ড শিরোপা, দু'টি করে লালীগা শিরোপা, সেরি আ শিরোপা, কোপা ডেল রে শিরোপা, স্প্যানিশ সুপার কাপ শিরোপা, ইতালীয়ান সুপার কাপ শিরোপা, ইংলিশ লীগ কাপ শিরোপা এবং একটি করে কোপা ইতালীয়া শিরোপা, এফএ কাপ শিরোপা ও পর্তুগীজ সুপার কাপ শিরোপা আর বাহুতে বাহুবন্ধনী জানিয়ে পর্তুগালকে জেতানো ইউরো ও গোটা দুই উয়েফা ন্যাশন্স লীগের কথাও। তাঁর নিজস্ব "সিউ" বা "ক্যালমা" বা "পিস ইন মাইন্ড" সিংহভাগেরই অনুপ্রেরণা। আসলে সত্যি বলতে কী, তিনি যা থেকে আজকের ক্রিস্টিয়ানো হয়েছেন, তার আগাগোড়া সবটাইতো মুগ্ধতা আর অনুপ্রেরণায় মোড়ানো। এবার কেবল এসবের সাথে তাঁর পাঁচ ডজনেরও বেশী হ্যাটট্রিক আর সাড়ে নয় শতাধিক গোল জুড়ে দিন, দেখুন কোথায় উঠে আসীন হয় তাঁর মহিমা!
একজন মিডফিল্ডার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করে বহুমুখীতার পরিচয় দিয়ে নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়। লেফট উইংকে বানিয়েছেন নিজের স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র, কায়েম করেছেন সপক্ষে আয়েশের গালিচা আর প্রতিপক্ষের জন্য শ্বাস আটকে দেয়া দুঃসহ স্মৃতি। এমনসব কীর্তি গড়েছেন, যা কার্যত আর হবে না বললেই চলে। শেষকালে নিশ্চিত ভবিষ্যতের হাতছানি ফেলে পরিচয় দিয়েছেন আনুগত্যের, ভুলে যাননি শেকড়কে। যদিও শেকড় তাঁর সাথে প্রতারণা করেই ছেড়েছে। কিন্তু তাতে কী! এই ভিন্নমুখী আচরণ যে তাঁর মাহাত্ম্যকে আরো এক কাঠি উঁচিয়েই ধরেছে!!
হিসাবের খেরোখাতা খুললে বলা যায় অনেক কিছুই, এক মরু কালি ফুরিয়ে গেলেও তাঁর কীর্তিগাঁথার কথা বলে শেষ করা কার্যত অসম্ভব। কিছু কিছু ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান বা ধরাবাঁধা কথার বাহিরে গিয়ে বিশেষন আবৃত্তি করাই শ্রেয়তর। সেই অল্পকতক ব্যক্তিত্বের মাঝে তিনি হলেন অন্যতম একজন।
শুভ ৪১তম জন্মদিন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দস সান্তোস আভেইরো। প্রতিপক্ষ হোক বা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, আপনার ভক্ত-সমর্থককূলের পাশাপাশি তাঁরাও আপনাকে ভালোবাসে; ফুটবলপ্রেমী নামধারী কিছু কীট ব্যতীত। আপনি ভালো থাকবেন সবসময়, সুন্দর থাকবেন। নিজে মেতে থাকবেন এবং সকলকে মাতিয়ে রাখবেন। শ্রদ্ধা, শুভেচ্ছা এবং একরাশ ভালোবাসা নিবেন। ভালো থাকবেন সবসময়।
🗞️: Sports Fiesta
✍️: আফিফ ইব্রাহীম ইক্বরা ©
05/02/2026
জগতে যারা প্রতিভাবান, তারা সৌভাগ্যবান। এটা সর্বজনবিদিত। তবে যারা প্রতিভাহীন, তারা নিজেদের দূর্ভাগা ভাবতেই পারে। কিন্তু জানেনতো, এদের চাইতেও দূর্ভাগা কারা? যারা যথেষ্ট প্রতিভা থাকার পরও যথেচ্ছ অপচয়ের ফলে তার ন্যূনতম অংশটুকুনও কাজে লাগাতে পারেনি, তারা।
বলছি ব্রাজিলের মোগি ডাস ক্রুজেসে ১৯৯২ সালের আজকের এ দিনেই জন্ম নেয়া নেইমার ডা সিলভা সান্তোস জুনিয়র-এর কথা, লোকমুখে যিনি এক শব্দের 'নেইমার' নামেই সবচেয়ে বেশী খ্যাত। উপরে উল্লেখিত তিন শ্রেণীর মাঝে তৃতীয় শ্রেণীর সবচাইতে আদর্শ উদাহরণ যাকে বলা যায়।
সাত বছর বয়সে ফুটবলে হাতেখড়ি হয় তাঁর পর্তুগীজা স্যান্তিস্তা ক্লাবের হয়ে, সেখানে বছর চারেক কাটিয়ে যোগ দেন ঐতিহাসিক ক্লাব সান্তোসে। সান্তোসের যুবদলে ছয় বছর কাটাবার পর ১৭ বছর বয়সে ডাক পান সান্তোসের মূলদলে। সেখানে ছিলেন চার বছর, খেলেছিলেন ১৩৪টি ম্যাচ। যাতে গোল করেছিলেন ৭০ টি এবং করিয়েছিলেন আরো ৩৫টি। এসবের মাঝেই ২০১১ সালে ফ্ল্যামেঙ্গোর বিরুদ্ধে কোনো এক ম্যাচে দলের পক্ষে তৃতীয় গোল করেন ম্যাচের ২৬তম মিনিটে, সেটা এতটাই দারুণ ছিলো যে বছর শেষে তাঁর হাতেই উঠে সে বছরের পুসকাস অ্যাওয়ার্ড আর নেইমারও ইতিহাসের সর্বপ্রথম ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে অর্জন করেন এ সম্মাননা। এসবের পাশাপাশি সান্তোসের দিনগুলোতে তিনি আরো জিতেছিলেন তিনটি কম্পেওনাতো পলিস্তা শিরোপা এবং একটি করে কোপা দো ব্রাজিল, কোপা লিবার্তেদোর্স এবং রিকোপা সুদাম্যারিকানা শিরোপা।
এরপর ২০১৩-১৪ মৌসুমের গ্রীষ্মে ৮৮ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে সান্তোস থেকে নেইমার যোগ দেন কাতালুনিয়ান ক্লাব বার্সেলোনাতে, তর্কসাপেক্ষ যাকে বলা হয় ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের জন্য স্পেনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দল। সেখানে ছিলেন চার বছর, বিনাতর্কব্যয়ে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুন্দর এবং সোনালী সময়গুলো তিনি কাটিয়েছিলেন সেখানেই। বার্সেলোনার হয়ে খেলেছিলেন মোট ১৮৬ ম্যাচ, যাতে তাঁর গোল এবং অ্যাসিস্ট সংখ্যা যথাক্রমে ১০৫টি এবং ৭৬টি। তবে এ সময়টায় এসবের পাশাপাশি আরো বড় ব্যাপার ছিলো লিওনেল মেসি এবং লুইস সুয়ারেজের সাথে মিলে গঠিত হওয়া প্রজন্মের অন্যতম সেরা ত্রয়ী "MNS" ত্রয়ী, ডানে মেসি বায়ে সুয়ারেজ আর ডানে নেইমার; খাতকলমে জুটিটা অতটাও অমানবীয় না হলেও ছিলো বেশ উপভোগ্য। এ সময়কালে তিনি জিতে নিয়েছিলেন নিজের ক্যারিয়ারের সর্বপ্রথম এবং এখন অবধি একমাত্র উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ এবং ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ শিরোপাসহ তিনটি কোপা ডেল রে, দু'টি লালীগা এবং একটি স্প্যানিশ সুপার কাপ শিরোপা।
নিজের বার্সেলোনার দিনগুলোয় তিনি ছিলেন দলটির অবিস্মরণীয় কিছু অর্জনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী, যার মধ্যে অন্যতম হলো ২০১৬-১৭ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লীগের শেষ ষোলোতে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের বিপক্ষে প্রথম পর্বে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পরও দ্বিতীয় পর্বে ৬-১ গোলের অসম্ভবতুল্য জয় তুলে নিয়ে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা এবং সে ম্যাচের পূর্বে বলা তাঁর অমর হয়ে যাওয়া বাণী- "1% CHANCE... 99% FAITH"; সবই ছিলো তাঁর স্বর্ণালী সময়ের একেকটি অবিচ্ছেদ্য অনুচ্ছেদ।
তবে একটা কথা আছে না, 'তোমার হলো শুরু আর আমার হলো সারা'- প্যারিস সেন্ট জার্মেইনেরও যেনো সেটাই হলো, তবে কিঞ্চিৎ উল্টোভাবে। এ লজ্জায় দলটিই নুয়ে গিয়েও এতটাই ক্ষুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলো যে তারা পাখির চোখ করে বসে স্বয়ং নেইমারকেই, বার্সেলোনার সে সময়ে মেসির পর যে সবচেয়ে ভয়ংকর নাম ছিলো। তারা তাঁর জন্য এতটাই মরিয়া হয়ে উঠে যে অর্থের অংককে অংকের বাহিরে কিছুই ভাবেনি। ফলে রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ২০১৭-১৮ মৌসুমের গ্রীষ্মে নেইমার পাড়ি জমান ফ্রান্সে, নতুন আবাস হলো তাঁর প্যারিস সেন্ট জার্মেইন।
এরপরের ছয়টি মৌসুম বল পায়ে জাদু দেখিয়ে আর চোটের সাথে লড়ে তিনি ছিলেন দলের প্রাণভোমরা হয়ে। খেলেছেন ১৭৩টি ম্যাচ, গোল করেছেন ১১৮টি আর অ্যাসিস্ট তাঁর ৮০টি। দলের সাথে জিতেছেন পাঁচটি লীগ আঁ শিরোপা, তিনটি করে ফ্রেঞ্চ কাপ ও ফ্রেঞ্চ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং দু'টি ফ্রেঞ্চ লীগকাপ। একবার সুযোগ এসেছিলো দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চুমু আঁকবারও, কিন্তু রানার্সআপ হয়েই সেবার থামতে হয়েছিলো। অর্জনের পাল্লাটা অন্যসবের সাপেক্ষে ফ্রান্সে এসে বেড়েছিলো বহুগুণ, কিন্তু আফসোসও বেড়েছিলো তারই সাথে সমানুপাতিক হারে; কোথায় গেলেন আগের সেই নেইমার! আর সে আফসোস থেকেই শেষের শুরু, উড়াল দিলেন মধ্যপ্রাচ্যে; যোগ দিলেন সৌদি ক্লাব আল হিলালে। তবে চোট জর্জর নেইমার সেখানেও সুবিধা করতে পারেননি খুব একটা। একবার সৌদিসেরা হলেও দেড়বছরে মাঠে নামতে পেরেছিলেন কেবল সাতবার। এরপর আবারও ফিরলেন নিজের ঘর সান্তোসে, চোটের সাথে লড়াই করে চলছেন। এরইমাঝে তিনি হাসলে হাসে সান্তোস, তাঁট দুঃসাহসিক বদৌলতেই দলটি এড়িয়ে চলছে অবনমনের শঙ্কা।
২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের পরপরই জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ঘটে নেইমারের, সেই থেকে আজ অবধি ম্যাচ খেলেছেন ১২৮টি; যাতে তাঁর গোল এবং অ্যাসিস্ট সংখ্যা যথাক্রমে ৭৯ এবং ৫৯। এ যাত্রায় ব্রাজিলকে কার্যত একাই জিতিয়েছেন কনফেডারেশন কাপ, ২০১৩ সালে। শুধু তাই নয়, শিরোপার উঁচিয়ে ধরবার পাশাপাশি বাগিয়ে নিয়েছিলেন আসরের সেরা খেলোয়াড়ের তকমা এবং ব্রোঞ্জ বুট ; যৌথভাবে আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ায়। ২০১৬ সালে অপেক্ষা ঘুচিয়েছিলেন ব্রাজিলের শিরোপাসম্ভারে অনুপস্থিত একমাত্র অর্জন অলিম্পিক স্বর্ণপদকেরও। তবে ব্রাজিল জিতলেও চোটের কারণে স্কোয়াডে অনুপস্থিত থাকায় ২০১৯ কোপা আমেরিকা জয়ীর তালিকায় নেই নেইমারের নাম।
২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ আট তথা কোয়ার্টার ফাইনালে নেইমারকে করা কলম্বিয়ান ফুলব্যাক জুয়ান জুনিগার করা সেই ভয়াবহ ট্যাকলটির কথা মনে আছেতো?? কার্যত সেটা ছিলো নেইমারের ওপরে উঠবার পথে বাঁধাগ্রস্ত হওয়ার শুরু। এমনিতেও ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই হালকাপাতলা গড়নের নেইমার মাত্রাতিরিক্ত ড্রিবলিং করে প্রতিপক্ষের চোখের বিষে পরিণত হয়েছেন, এরওপর আবার ২২ বছর বয়সেই পঙ্গুত্বের খুব কাছ থেকে ঘুরে আসা নেইমার গেলেন অতিরিক্ত শরীরনির্ভর ফরাসী লীগে। এছাড়াও বোনের জন্মদিন আসলে ছুটি নিয়ে পার্টি করতে যাওয়া বা নিজের প্রতি অবহেলাতো আছেই। ফলে সবমিলিয়ে একটা সময় তাঁকে প্রজন্মের সবচেয়ে সেরা দুই রোনালদো-মেসির পর তৃতীয় সেরা হিসেবে ধরা হলেও বাস্তব হিসাবে তাঁকে বহুদূরে এখন ছিঁটকে ফেলে দিয়েছেন আরো অনেকেই। শুধু তাই নয়, এসব অবহেলার দরুন পৌঁছাতে পারেননি নিজের সর্বনিম্ন সম্ভাবনার ন্যূনতম সীমান্তেও। পাশাপাশি বিতর্কতো বহু আছেই, যার মাঝে অন্যতম একটি হলো নিজ দেশে: আরো স্পষ্ট করে বললে মারাকানার মতো স্মৃতিবহুল জায়গায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে ফাইনাল হারবার পরও বিজয়ী দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির সাথো হাস্যোজ্জ্বল বার্তা বিনিময়। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনাল পরবর্তী এ দৃশ্য যতই বন্ধুত্বের চাদরে মোড়াবার চেষ্টা করা হোক, ব্রাজিলিয়ানদের চোখে তা কখনো ক্ষমার যোগ্য নয়।
ধরণীর বুকে যুগে যুগে বহুজন এসেছেন, আবার চলেও গিয়েছেন। কেও কেও সমর্থ হয়েছেন রাজ করতে আবার কেও কেও সম্ভাবনা জাগিয়েই ফুরিয়েছেন। নেইমারও তাদেরই একজন। সব সম্ভাবনা ফুল হয়ে ফুটে না, আর এমন কিছু সম্ভাবনাই সবসময় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে। নেইমারও নাহয় সেভাবেই গণহৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকুক!!
শুভ ৩৪তম জন্মদিন নেইমার, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নিবেন।
🗞️: Sports Fiesta
✍️: আফিফ ইব্রাহীম ইক্বরা ©
07/01/2026
প্রায় অর্ধযুগ খেলে মাত্র ২৮ বছর বয়সে যখন আপনি বিশ্বের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ ঘরোয়া লীগের কিংবদন্তি হিসেবে প্রস্থান করেন; তখন মানতে কষ্ট হলেও মেনে নেয়া ছাড়া উপায় নেই যে আপনি বিশেষ কেও।
আপনার কাছে 'আগ বাড়িয়ে নিজ থেকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেটি রক্ষা করা' আর 'প্রত্যাশা পূরণ' ; এ দু'টো কথার মাঝে ঠিক কতটা তফাৎ রয়েছে?
আপনারটা আপনি নিজেই ভালো জানবেন। তবে আমি বলতে পারি ইডেন হ্যাজার্ডের ব্যাপারে। তাঁর কাছে এ কথা দু'টোর মাঝে রয়েছে এ ব্রহ্মাণ্ডের তফাৎ, এতটাই তফাৎ যে দু'টি ব্যাপার তাঁকে রীতিমতো দু'টি দুনিয়া দেখিয়ে দিয়েছে।
না, একটু ভুল বললাম। দু'টো দুনিয়া নয়, বরং বলি দু'টো ব্যাপার তাঁকে এ দুনিয়ার দু'টি রূপ দেখিয়ে দিয়েছে, চোখে আঙ্গুল দিয়ে।
বেলজিয়ান ক্লাব তুবিজ থেকে ফরাসী ক্লাব লিল তাঁকে তুলে এনেছিলো '১৪ বছর বয়সী এক প্রতিভাবান কিশোর' হিসেবে। তবে পাঁচ মৌসুম বাদে তিনি যখন লিল- এর নিয়মিত মুখ, ততদিনে লিল তাঁকে ঘিরে বুনছে স্বপ্ন, তাঁর সওয়ারি হয়ে আস্বাদন করার আশায় রীতিমতো ভুলে বসে থাকা এক স্বাদ; শিরোপার স্বাদ। ১৯৯৯-০০ মৌসুমের প্রথম বিভাগের চ্যাম্পিয়ন হয়ে লীগ আঁ'তে ফেরার শিরোপাটি বাদ দিলে যে দলটি শিরোপার স্বাদ পায় না ততদিন হয়েছে অর্ধ শতাব্দীরও বেশী!
মূল দলে এসেই তিনি ঘোষণা দিয়ে বসলেন, লিল-কে পাওয়াবেন শিরোপার স্বাদ। হয়তো আবেগের বশে, বা হয়তো কৃতজ্ঞতাস্বরূপ; তবে যাই হোক একে অন্তত পাগলের প্রলাপ ভাবেনি লিল। কারণ? ওই যে, 'ছেলেটার ভেতর কিছু একটাতো আছে!'
আট মৌসুম বাদে তিনি যখন দল ছাড়েন, তখন লিল-কে এনে দিয়েছেন লীগ আঁ এবং কোপ দে ফ্রান্স-এর শিরোপা; তাও আবার এই দ্বৈত এসেছে ২০১০-১১ মৌসুমে। এর বাহিরে লিল-এর জার্সিতে তাঁর অবদান ১৬০ ম্যাচে ৩৭ গোল এবং ৩৮ এসিস্ট, সেই স্মরণীয় ২০১০-১১ মৌসুমে ছিলো প্রায় অর্ধশত ম্যাচ খেলে ডজনখানেক গোল আর জোড়া পাঁচেক এসিস্ট। তবে তিনি দ্যুতিটা মনে রাখার মতো ছড়িয়েছেন এরপরের মৌসুমে, ২০১১-১২ মৌসুমে যে ২২ গোল এবং ২০ এসিস্ট করার জন্য তিনি ম্যাচ খেলেছিলেন মাত্র ৪৯টি!!
২০১০-১১ মৌসুমে সকলকে নিজের জানানটা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দিয়েছিলেন, আর ২০১১-১২ মৌসুম শেষে ইডেন মাইকেল ওয়াল্টার হ্যাজার্ড যেনো রীতিমতো বলেই বসলেন নিজের সামর্থ্য দেখিয়ে, 'Catch Me If You Can!'
আর রবার্তো ডি মাতেও ঠিক তাই করলেন, ছুঁতে গিয়ে তাঁকে ধরেই ফেললেন। এরপরের উপাখ্যানটা বেশ দ্রুতই ঘটে যায়। এয়ারপোর্ট দে লিল থেকে উড়াল দিয়ে হ্যাজার্ড হিথ্রো বিমানবন্দরে নামেন, পশ্চিম লন্ডনের ক্লাব চেলসিতে যোগ দেন ৩৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে, ১৭ নম্বর জার্সি গায়ে চাপান এবং ব্যস্ত হয়ে যান স্ট্যামফোর্ড ব্রীজের সবুজ ঘাসে বুটের আচঁড় কাটতে। প্রথম মৌসুমেই ৬০ ম্যাচ খেলে ১৩ গোলের পাশাপাশি ১৬ এসিস্ট; চেলসির ডাগআউট থেকে রবার্তো ডি মাতেও গিয়ে রাফায়েল বেনিতেজ আসলেও অপরিবর্তিত রইলো সে কথাটাই; 'ছেলেটার মাঝে কিছু একটাতো আছে!' ২০১২-১৩ মৌসুম শেষে ২২ বছরের হ্যাজার্ড যেনো এটি ভাবতে সকলকে বাধ্য করলেন।
তবে এটি ছিলো কেবল শুরু। এরপর সাত মৌসুম ছিলেন রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য, সকলের ধরাছোঁয়ার বাহিরে। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ এবং উয়েফা সুপার কাপ বাদে এ সময়টায় জিতেছেন বাদবাকীসব সম্ভাব্য শিরোপাই। দলে এসেমাত্র জন টেরী-ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের আঁচলে থেকে জিতেছিলেন উয়েফা ইউরোপা লীগ, বিদায়বেলায় একা হাতে চেলসিকে তা আবারো এনে দিয়েছিলেন ২০১৮-১৯ মৌসুমে। একবার করে জিতেছেন এফএ কাপ এবং ইংলিশ লীগ কাপ, কার্যত দলের মাথা হয়েছিলেন চেলসির ঐতিহাসিক ২০১৪-১৫ এবং ২০১৬-১৭ মৌসুমের প্রিমিয়ার লীগ জয়ী দলে। এতো গেলো শিরোপার কথা, তবে হ্যাজার্ডের মাহাত্ম্য এতটাই যে আপনি কখনোই তাঁর গুরুত্ব এবং প্রভাব এ দু' লাইনে বুঝাতে পারবেন না। গোল করবার চেয়ে করাতে পছন্দ করা এ মানুষটির মাঠে থাকাই মানে চেলসি কার্যত এগিয়ে থাকতো; অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবটা ছিলো এমনই। দূরপাল্লার গতিসমৃদ্ধ দৌঁড়, পাক ঘুরানো ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক থেকে শুরু করে রাইটব্যাক - রাইট মিডফিল্ডার - রাইট উইঙ্গারকে ঘোল খাওয়ানো হ্যাজার্ড চেলসির হয়ে এ সাত মৌসুমে করেছেন সাড়ে তিনশো ম্যাচ খেলে ১১০ গোল, করিয়েছেন আরো ৭৯ টি। সত্যি বলতে কী, হ্যাজার্ডের মাহাত্ম্যটা এখনও অস্পষ্ট। আসলে তিনি ব্যাপারটাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন যে, নিজেকে এমন উচ্চতায় আসীন করেছেন যে; মাটি থেকে অত উঁচুতে দৃষ্টি তাক করে রাখাই দায়।
এতক্ষণ যা যা ঘটলো, এবার তাঁর উল্টোটা ভাবুন; একদম ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে গিয়ে। যা পাবেন ফলাফলে, তাই হলো হ্যাজার্ডের চেলসি পরবর্তী জীবন; আরো স্পষ্ট করে বললে নিজের স্বপ্নের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে হ্যাজার্ড যেমন। তর্কসাপেক্ষ ক্যারিয়ারের সেরা সময়টায় এসেছিলেন নিজের স্বপ্নপূরণ করতে, ফর্ম ছিলো তুঙ্গে, সাথে বয়সটাও বরাবর। কিন্তু ভাগ্য না চাইলে কারোর যে কিছুই করার নেই! মাঠের জাদুকরের ওপরও বড় জাদুকর বিধাতা; তাই যেনো সকলের নিকট আরো একবার জানান দিলো প্রকৃতি। ফিটনেস ইস্যু দিয়ে শুরু, আর শেষ? অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে শেষটাও যে ওখানেই হয়ে গিয়েছে। দিনশেষে হ্যাজার্ড এখন কেবলই স্মৃতির পাতার একজন।
স্বপ্নের আঙ্গিনায় দুঃস্বপ্নের ছড়াছড়ি, বিধাতা এতটা নিষ্ঠুর না হলেও পারতেন। রিয়াল মাদ্রিদ থেকেই মাত্র বত্রিশে পাকাপাকিভাবে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানানোর সময় চার বছরের মাদ্রিদ ক্যারিয়ারে ৭৬ ম্যাচ খেলে ৭ গোল ও ১২ এসিস্ট; দুঃস্বপ্নের চূড়ান্ত রীতিমতো! যদিও এ সময়টায় স্বাদ নিয়েছেন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ এবং উয়েফা সুপার কাপের পাশাপাশি লালীগা, কোপা ডেল রে এবং স্প্যানিশ সুপার কাপেরও; কিন্তু হ্যাজার্ডকে এসব অর্জন আক্ষরিকভাবেই ব্যক্তিস্বার্থে খুশী করবে না।
এর বাহিরে বেলজিয়ামের হয়ে খেলেছেন ৩টি বিশ্বকাপ এবং ২টি ইউরো, সবমিলিয়ে ৫টি আন্তর্জাতিক ইভেন্টের মাঝে ২০১৮ বিশ্বকাপ ছিলো তাঁর অবর্ণনীয় সুন্দর, আর ভুলে যাওয়ার মতো ছিলো সর্বশেষ ২০২২ বিশ্বকাপ; যার রেশ টেনে বিশ্বকাপের পরপর জাতীয় দলকেই বিদায় বলে দিলেন। সবমিলিয়ে শেষটা সুন্দর না হলেও ১২৬ ম্যাচে ৩৩ গোল এবং ২১ এসিস্ট বলবে সামগ্রিক চিত্রটা আসলেই সুন্দর।
ব্যক্তিগতভাবেও হ্যাজার্ডের অর্জন বেশ। প্রিমিয়ার লিগ এবং চেলসির হল অব ফেমে জায়গা করে নেয়া হ্যাজার্ড ক্যারিয়ারে একবার হয়েছিলেন উয়েফা ইউরোপা লিগের আসরসেরা খেলোয়াড়, সঙ্গতভাবে সেবার ছিলেন তিনি আসরসেরা একাদশেও। এছাড়াও দুইবার লিগ আঁর বর্ষসেরা খেলোয়াড় হবার পাশাপাশি দু'বার হয়েছিলেন ফরাসী শীর্ষস্তরের তরুণ বর্ষসেরা খেলোয়াড়। সবমিলিয়ে তিনবার জায়গা করে নিয়েছিলেন লিগ আঁর বর্ষসেরা দলে। টানা তিনবারসহ মোট চারবার তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা দলে, চারবার চেলসির বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের খেতাব জেতার পাশাপাশি একবার জিতেছিলেন প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের খেতাব। এর পাশাপাশি দু'বার উয়েফার বর্ষসেরা দলে জায়গা করে নেয়া হ্যাজার্ড ২০১৮ বিশ্বকাপে ৩ গোল এবং ২ অ্যাসিস্ট করে জিতে নিয়েছিলেন আসরের দ্বিতীয় সেরা খেলোয়াড়ের সম্মাননা, সিলভার বল।
সব গল্পের শেষটা সুন্দর হয় না। রূপকথাকে বাস্তবে ফিরিয়ে কিছু কিছু সময় রাজপুত্র ঘুটে কুড়ুনীকে ফেলে রাজকন্যাকেই এক সুঁতোয় বেঁধে নেয়। আর এমন দিকগুলোই পাঠককে বাধ্য করে গল্পটি মনে রাখতে। হ্যাজার্ডের গল্পটিও নাহয় হয়ে থাকুক তেমনই এক গল্প, যার শেষ সুন্দর না হয়েও আগাগোড়া বিমুগ্ধতায় মোড়ানো।
শুভ ৩৪তম জন্মদিন ইডেন হ্যাজার্ড, আমরা আপনাকে সত্যিই অনেক অনেক ভালোবাসি।
🗞️: Sports Fiesta
✍️: আফিফ ইব্রাহীম ইক্বরা ©
06/01/2026
সকল গুঞ্জনকে সত্য প্রমাণ করে লিয়াম রসেনিওরকে নিজেদের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিলো ইংলিশ ক্লাব চেলসি। ইংলিশ এই কোচের সাথে চেলসির চুক্তি সাড়ে ছয় মৌসুমের, অর্থাৎ আগামী ২০৩১-৩২ মৌসুম পর্যন্ত।
ক্যারিয়ারে সর্বপ্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগে কোচিং করাতে এলেও ৪১ বছর বয়সী এই কোচের ইংল্যান্ডে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা নতুন নয়। ডার্বি কাউন্টির অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে কোচিং শুরু করার পর তিনি সামলেছিলেন হাল সিটির ডাগআউটও। অতঃপর সেখান থেকে উড়াল দিলেন ফ্রান্সে, ফরাসী ক্লাব স্ট্রসবার্গের দায়িত্ব ছিলো তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বপ্রথমবারের মতো শীর্ষস্তরে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা। এবং সেখান থেকে তিনি এখন দায়িত্ব নিলেন ছয়বারের ইংল্যান্ডসেরা এবং দুইবারের ইউরোপসেরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন চেলসির।
প্রত্যাশা, তাঁর নতুন পথচলাটা সুন্দর হোউক।
🗞️: Sports Fiesta
✍️: আফিফ ইব্রাহীম ইক্বরা ©
05/01/2026
বহু জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইতি ঘটলো রুবেন আমোরিমের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধ্যায়ের। ক্রমাগত ব্যর্থতার দায়ে ৪০ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ কোচকে আজ বরখাস্ত করলো ইংলিশ ক্লাবটি।
২০২৪ সালে নভেম্বর পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিং সিপির দায়িত্ব ছেড়ে ডাচ কোচ এরিক টেন হ্যাগের স্থলাভিষিক্ত হবার পর থেকে বরখাস্ত হবার আগ অবধি ১৪ মাসে আমোরিমের অধীনে রেড ডেভিলসদের সাফল্য বলতে গেলে শূণ্যের কোঠায়। আমোরিমের প্রথম মৌসুমে লীগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড হয়েছিলো পঞ্চদশতম, তাও আবার লীগ শিরোপাজয়ী চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিভারপুলের চেয়ে কড়ে গুণে অর্ধেক পয়েন্ট নিয়ে। সে তুলনায় চলতি মৌসুমে দলটির অবস্থা অতটা খারাপ না হলেও চলছে ধারাবাহিকতার বড্ড অভাব। এ সময়কালে ম্যানচেস্টারের ক্লাবটির সর্বোচ্চ সাফল্য ছিলো উয়েফা ইউরোপা লিগের গত সংস্করণের রানার্সআপ হওয়া। আর এর বাহিরে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায়ও নেই কোনো সাফল্য, গত মৌসুমে লিগকাপ তথা কারাবাও কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও এ সংস্করণে দলটি বিদায় নিয়েছে দ্বিতীয় পর্ব থেকে; তাও আবার চতুর্থ স্তরের ক্লাব গ্রিমসবি টাউনের বিপক্ষে পরাজিত হয়ে। আর এফএ কাপের গত সংস্করণ থেকে দলটি বিদায় নেয় পঞ্চম পর্ব শেষেই। উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে এখনও দলটির এফএ কাপ যাত্রা শুরু হয়নি। সবমিলিয়ে আমোরিম ৬৩ ম্যাচ ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডাগআউটে, যাতে দলটির জয়, পরাজয় এবং ড্রয়ের সংখ্যা যথাক্রমে ২৫টি, ১৫টি এবং ২৩টি।
আমোরিমের বদলী হিসেবে দলটি এখনও কোনো পূর্ণ মেয়াদি কোচ নিয়োগ না দিলেও অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে ঘোষণা করেছে ড্যারেন ফ্লেচারের নাম। উল্লেখ্য, এই স্কটিশ মিডফিল্ডার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের যুবদলে বেড়ে ওঠার পর অনিয়মিত হলেও লম্বা সময় ধরে ছিলেন দলটির মূলদলেও। যদিও তাঁর কখনো কোনো পেশাদার দলের দায়িত্ব থাকা হয়নি, তবে সর্বশেষ ছিলেন রেড ডেভিলসদের অনূর্ধ্ব-১৮ দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে। অতঃপর সেখান থেকেই এলো তাঁর ডাক, সাময়িক সময়ের জন্য ধরতে হবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হাল।
🗞️: Sports Fiesta
✍️: আফিফ ইব্রাহীম ইক্বরা ©
01/01/2026
বাজারে গুঞ্জন ছিলো মারেস্কার চেলসি অধ্যায় শেষ হবার বিষয়ে। শেষ পর্যন্ত মারেস্কাই এগিয়ে এলেন স্বয়ং, খোলাসা করলেন নিজেই। দিলেন চাকরিতে ইস্তফা। আর এর মধ্য দিয়েই শেষ হলো ৪৫ বছর বয়সী এই ইতালিয়ান কোচের চেলসি অধ্যায়।
ইংলিশ ক্লাব লেস্টার সিটিকে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ জিতিয়ে ফিরিয়েছিলেন তিনি প্রিমিয়ার লিগে, তবে দলের সাথে আর তার শুরু করা হয়নি প্রিমিয়ার লিগে যাত্রা। বদলে সে মৌসুম অর্থাৎ ২০২৪-২৫ মৌসুমে তিনি হাল ধরেন আরেক ইংলিশ ক্লাব চেলসির। দেড় বছরের সেই যাত্রার ইতি ঘটলো আজ।
১৭ মাসের চেলসি অধ্যায়ে তাঁর অধীনে ক্লাবটি খেলেছে মোট ৯২টি ম্যাচ, যাতে জয়ের সংখ্যা ৫৫ এবং ড্র ও পরাজয়ের সংখ্যা যথাক্রমে ১৬ এবং ২১। দুই মৌসুমের বিরতি শেষে চেলসি তাঁর সময়েই প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ চারে জায়গা পাকা করে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। যদিও এ সয়মকালে ঘরোয়া আসর তথা লিগকাপ এবং কাপ (কারাবাও কাপ এবং এফএ কাপ) যায়নি চেলসির মোটেও ভালো। তবে নিজেদের ইতিহাসের সর্বপ্রথম উয়েফা কনফারেন্স লিগ শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি মারেস্কা ইতিহাসের সর্বপ্রথম দল হিসেবে চেলসিকে জিতিয়েছিলেন ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা।
যদিও চেলসি এখনও নিজেদের পরবর্তী কোচের ব্যাপারে কোনো ঘোষণা দেয়নি, তবে জোর সম্ভাবনা আছে মারেস্কার পদে লিয়াম জেমস রসেনিওরের স্থলাভিষিক্ত হবার। ইংলিশ এই কোচ বর্তমানে আছেন চেলসির সিস্টার ক্লাব স্ট্রসবার্গে, ফরাসি ক্লাবটার প্রধান কোচ হিসেবে।
শেষটা আশানুরূপ না হলেও মারেস্কা চেলসির ভক্ত-সমর্থকদের কাছে সবসময়ই রয়ে যাবেন পছন্দের এক চরিত্র হিসেবে!
🗞️: Sports Fiesta
✍️: আফিফ ইব্রাহীম ইক্বরা ©
31/12/2025
May everyone's New Year be blessed, beautiful & filled with prosperity. Greetings & best wishes from The Sports Fiesta family.
HAPPY NEW YEAR 2️⃣0️⃣2️⃣6️⃣!
25/12/2025
Merry Christmas to all those celebrating!
On behalf of Sports Fiesta , we extend our warm greetings & best wishes for Christmas to all Christians across the world ❄⛄🎅🎄
যারা উদযাপন করছেন, তাদের সকলকে জানাই শুভেচ্ছা। শুভ বড়দিন!
Sports Fiesta -এর পক্ষ থেকে, আমরা বিশ্বের সকল খ্রিস্টানদের বড়দিনের উষ্ণ শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানাই ❄⛄🎅🎄
15/12/2025
ঘরের মাঠে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে এক দশক পর পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পাবার পর ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েও পরাজয়; ঘরের মাঠে টানা দুই পরাজয়ের বেদনা রিয়াল মাদ্রিদ ভুললো স্বাগতিক ডেপোর্টিভো আলাভেসকে ২-১ গোলে পরাজিত করার মাধ্যমে।
তবে এ জয়ের পাশাপাশি দলটির জন্য আরও একটি সুখকর বিষয় হলো, একযোগে দলটির আক্রমণভাগের জ্বলে ওঠাটা।
শ্যাবি আলোন্সোর অধীনে এই ম্যাচেই সর্বপ্রথমবারের মতো একইসাথে শুরুর একাদশে মাঠে নামলেন ফরাসি তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে, ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রদ্রিগো গোয়েস, ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম এবং আরেক ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। আর শুরুতেই প্রত্যাশার দারুণ বাস্তবায়ন; প্রত্যেকেই দলের পক্ষে গোলে রেখেছেন প্রত্যক্ষ অবদান।
বেলিংহামের চৌকস অ্যাসিস্ট থেকে এমবাপ্পে দৃষ্টিনন্দন গোলে রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচে এগিয়ে থেকে শেষ করে প্রথমার্ধের খেলা। তবে ৬৮তম মিনিটে আলাভেস সমতায় ফেরার পর ৭৬তম মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদ পেয়ে যায় জয়সূচক গোলটি, ভিনি বলের ওপর দারুণ নিয়ন্ত্রণ রেখে তা বাড়িয়ে দেন ওঁৎ পেতে থাকা রদ্রিগোর উদ্দেশ্যে আর সেখান থেকে সহজ গোল করেন রদ্রিগো।
যদিও এদিন ম্যাচসেরা মনোনীত হয়েছেন এম্বাপ্পে, তবে এর যোগ্য দাবীদার ছিলেন বেলিংহামও। কর্ণার থেকে বল জড়িয়েছিলেন জালে, যদিও তা বাতিল হয়েছে পরবর্তীতে। এছাড়াও মাঠজুড়ে ছিলেন তিনি অনবদ্য।
এমবাপ্পে দ্বিতীয়ার্ধের গোড়ায় কিছুটা মিইয়ে গেলেও শেষবেলায় আবারও জাগিয়েছিলেন গোলের সম্ভাবনা।
চলতি মৌসুমে সর্বপ্রথমবারের মতো টানা দুই ম্যাচে শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়া রদ্রিগোও ছিলেন আজ দারুণ। সিটির বিপক্ষে দলকে এগিয়ে নেয়ার পর আজ গোল করে নিশ্চিত করলেন দলের জয়। মৌসুমের শুরু থেকেই তাঁকে ঘিরে বাজারে ছিলো অনেক মুখরোচক গল্প। 'তিনি নিজের পছন্দের লেফট উইঙ্গেই খেলতে চান' থেকে শুরু করে 'শ্যাবি তাঁকে চান না' হয়ে 'তিনি জায়গা আদায় করে নিতে চান'- কম খবর হয়নি। তাঁর প্রতি ম্যানেজারে অবজ্ঞা অনেকটাই স্পষ্ট হবার পরও দাঁতে দাঁত চেপে তিনি ছিলেন সুযোগের অপেক্ষায়। আর যখন তা আসলো, ভুলেননি তা তিনি কাজে লাগাতে।
সবশেষে ভিনি। সত্যি বলতে কি, ম্যাচে তিনি বাকিদের তুলনায় অনেকটাই নিষ্প্রভ ছিলেন। যদিও জয়সূচক সে গোলের সহায়তার পাশাপাশি একটি নিশ্চিত পেনাল্টিও তিনি আদায় করেছিলেন, তবে রেফারি শেষ অবধি তা নাকচ করায় হয়নি আর বিশেষ কিছুই।
শ্যাবির অধীনে দুর্দান্ত শুরুর পর আচমকাই হোঁচট খাওয়া রিয়াল মাদ্রিদ আবারও ছন্দে ফিরবে এবং এর পুরোধায় থাকবে এম্বাপ্পে-রদ্রিগো-বেলিংহাম-ভিনি চতুষ্টয়; এখন এমনটাই প্রত্যাশা লস ব্লাংকোস সমর্থকদের!
🗞️: Sports Fiesta
✍️: আফিফ ইব্রাহীম ইক্বরা ©