13/06/2026
অাজ মরমী শিল্পী মলয় ঘোষ দস্তিদারের ১০৬ তম
জন্মবাষিকী
----------------
মলয় ঘোষ দস্তিদারের বাংলাদেশী গীতিকার, সুরকার এবং চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের পথিকৃৎ শিল্পী, চারণ কবি ও রাজনীতিবিদ। তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় প্রথম গান রচয়িতা।মাস্টারদা সূর্য সেনের শিষ্য। ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী গায়ক অগ্নি যুগে অগ্নি রোষে পড়ে গানের জন্য ১৯৫২ সালে তিনি কারাবরণ করেন।তার উল্লেখ্যযোগ্য গানের মধ্যে আছে ছোড ছোড ডেউ তুলি, আঁরা চাটগাঁইয়া নওজোয়ান, বাহার মারি সাম্পান যার, ব্রিটিশ কোম্পানি গাট্টি বোস্কা বান্ধি ধাইলিনি, মা বাপরে চাইতা বলি। ছোড ছোড ডেউ তুলি গানটি তিনি ১৯৪১ সালে রচনা করেন। বিশেষ করে গানটিকে চাটগাঁইয়া আঞ্চলিক গানের নায়ক বলা হয়। তার রচিত গানটি স্বীয় কন্ঠে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক গানের প্রথম রেকর্ডকৃত গান। তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের পথিকৃৎ ।তিনি রাউজানের নোয়াপাড়া গ্রামে ১৩ জুন ১৯২০ সালে জন্মগ্রহন করেন।পিতা,নতুনচন্দ্র ঘোষ দস্তিদার।মাতা
বগলা ঘোষ দস্তিদার।
সঙ্গীত সাধনার জন্য বাবা নতুনচন্দ্র ঘোষ দস্তিদারের উৎসাহে শৈশবকাল থেকে সংগীতচর্চা শুরু হয়। গঙ্গাপদ আচার্যের হাতে উচ্চাঙ্গসংগীতের মাধ্যমে সঙ্গীত চর্চার প্রাথমিক যাত্রা হয়। পরে ধ্যান সেন, চুনুরি বাবু ও সমীরণ বন্দোপাধ্যের কাছে সঙ্গীতের তালিম গ্রহণ করেন।
তৎকালীন বিপ্লবী গায়ক তেজেন ঘোষের অনুপ্রেরণায় ব্রিটিশ বিরোধী গান গেয়ে কিশোর বয়সেই সুনাম অর্জন করে। ১৯৪০ সালে আর্য সঙ্গীত সমিতির আয়োজিত সংগীত প্রতিযোগিতায় ভজন ও আধুনিক গানে প্রথম স্থান অধিকার করে। ১৯৪১ সালে তিনি বেতারে প্রথম গান পরিবেশন করে। পরবর্তীতে কলকাতায় গিয়ে মিনার্ভ থিয়েটারে চাকরি করে। একইসময়ে কলকাতার কলম্বিয়া গ্রামোফোন কোম্পানি তার রচিত ও সুরাপিত প্রথম গানের রেকর্ড বের করেন। তিনি ১২ মার্চ ১৯৮২ বয়স ৬১বয়ষে ফতেয়াবাদ মৃত্যুবরন করেন। মহান শিল্পীর ৩ মেয়ে : প্রতিমা ঘোষ দস্তিদার, তমালী ঘোষ দস্তিদার, মানু ঘোষ দস্তিদার, ২ছেলে : খোকন ঘোষ দস্তিদার, ছোটন ঘোষ দস্তিদার।
তাঁর স্মরণে চট্টগ্রাম মহানগরী কমিটি ও মনন খেলাঘর আসর প্রকাশ করেছিলেন তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে "ছোট ছোট ঢেউ ঢেউ তুলি"বইটি।প্রতিবছর তার জন্মদিনে স্মৃতির স্মরণে ফতেয়াবাদে মনন খেলাঘর অাসর সাংস্কৃতিক চিএাংকন, সংগীত, নৃত্য প্রতিযোগীতা অনুসটানে শিশু, কিশোরদের পুরস্কার এবং ২জন গুণীকে পদক দেওয়া হয়।ইতিমধ্যে মলয় ঘোষ দস্তিদারকে স্মারক সম্মাননা পদক দিয়েছেন।চট্টগ্রামের আবসর সাংস্কৃতিক গৌষ্ঠী প্রবর্তিত স্মৃতি পুরস্কার মলয় ঘোষ দস্তিদার সাহিত্য পুরস্কার, সংকেত সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী কর্তৃক সংকেত পদক (১৯৮০ সাল) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কর্তৃক একুশে স্মারক সম্মাননা পদক (মরণোত্তর)মাসিক হাটহাজারী কন্ঠ পএিকা, খেলাঘর চটগ্রাম মহানগরী কমিটি, মনন খেলাঘর অাসর, মলয় ঘোষ দস্তিদার স্মৃতি সংসদ
তাঁর রচিত বিখ্যাত গান...
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
ছোড ছোড ঢেউ তুলি ফানি...... 💖
কথা ও সুর : মলয় ঘোষ দস্তিদার
ছোড ছোড ঢেউ তুলি ফানি
লুসাই পাহাড়ত্তুন লামিয়ারে
যার গৈ কর্ণফুলি।
এক কূলদি শহর বন্দর
নগর কত আছে
আর এক কূলত সবুজ রুয়ার মাথাত
সোনালি ধান হাসে
হালদা ফাডা গান হুনাইয়ারে
সাম্পান যার গৈ পাল তুলি
লুসাই পাহাড়ত্তুন লামিয়ারে
যার গৈ কর্ণফুলি।
কত না গিরস্তের বৌ ঝি
পানি আইনতো যায়
কত পাখি গাছর আগাত বই
কত গান হুনায়
গাছর তলাত মালকাবানুর গান
গোরুপ পোয়া গায় পরান খুলি
লুসাই পাহাড়ত্তুন লামিয়ারে
যার গৈ কর্ণফুলি।
পাহাড়ি কন সুন্দরী মাইয়া
ঢেউর পানিত যাই
সিয়ান গরি উডি দ্যাখের
হাতত কানর ফুল তার নাই
যেই দিন কানর দুল হারাইয়ে
হেই দিনত্তুন নাম কর্ণফুলি
লুসাই পাহাড়ত্তুন লামিয়ারে
সাগরত যার চলি।।
08/06/2026
বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ অজিত কুমার অাইচকে...
29/05/2026
উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি, চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পুরোধা ব্যাক্তিত্ব ডা. চন্দন দাশের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি।মনন খেলাঘর
24/05/2026
জাতীয় কবি কাজী নজরুলের জন্ম জয়ন্তী অাআগামীকাল
দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীথে, যাত্রীরা হুশিয়ার!
দুলিতেছে তরি, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?
কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ।
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার।
তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান।
ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান,
ইহাদের পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার।
অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরন
কান্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পন।
হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?
কান্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার
গিরি সংকট, ভীরু যাত্রীরা গুরু গরজায় বাজ,
পশ্চাৎ-পথ-যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ!
কান্ডারী! তুমি ভুলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ-মাঝ?
করে হানাহানি, তবু চলো টানি, নিয়াছ যে মহাভার!
কান্ডারী! তব সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর,
বাঙালীর খুনে লাল হল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর!
ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর!
উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া পূনর্বার।
ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান,
আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান
আজি পরীক্ষা, জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রাণ?
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কান্ডারী হুশিয়ার!
======
16/05/2026
বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করি মরমী শিল্পী মলয় ঘোষ
দস্তিদারকে...মনন খেলাঘর আসর ও মরমী শিল্পী মলয় ঘোষ স্মৃতি সংসদ
----------------
মলয় ঘোষ দস্তিদার একজন গীতিকার, সুরকার এবং চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের পথিকৃৎ মরমী শিল্পী, চারণ কবি ও রাজনীতিবিদ। তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় প্রথম গান রচয়িতা। মাস্টার দা সূর্য সেনের শিষ্য। ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী গায়ক অগ্নি যুগে অগ্নি রোষে পড়ে গানের জন্য ১৯৫২ সালে তিনি কারাবরণ করেন। খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরী কমিটি ও মনন খেলাঘর আসর প্রকাশ করেন তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে "ছোট ছোট ঢেউ ঢেউ তুলি"মাসিক হাটহাজারী কন্ঠ পএিকা, অবসর সাংস্কৃতিক গৌষ্ঠী প্রবর্তিত স্মৃতি পুরস্কার মলয় ঘোষ দস্তিদার সাহিত্য পুরস্কার,সংকেত সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী কর্তৃক সংকেত পদক (১৯৮০ সাল)চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কর্তৃক একুশে স্মারক সম্মান প্রদান করেন। ফতেয়াবাদে প্রতিবছরের মত এবারো মনন খেলাঘর আসর মরমি শিল্পী মলয় ঘোষ দস্তিদারকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।
08/05/2026
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তীতে
গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি ; বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী আজ শুক্রবার (৮ মে)। ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে এবং ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর এক ধর্ণাঢ্য ও সংস্কৃতিবান পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন কালজয়ী এ কবি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। তাকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়। রবীন্দ্রনাথকে ‘গুরুদেব’, ‘কবিগুরু’ ও ‘বিশ্বকবি’ অভিধায় ভূষিত করা হয়।
১৮৮৩ সালে মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৮৯০ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের শিলাইদহের জমিদারি এস্টেটে বসবাস শুরু করেন। ১৯০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯০২ সালে তার পত্নীবিয়োগ হয়। উইকিপিডিয়া সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
‘হে নূতন/ দেখা দিক আর বার/ জন্মের প্রথম শুভক্ষণ/ তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদঘাটন/ সূর্যের মতন’—নিজ জন্মদিনের এক আয়োজনে এই আহ্বান জানিয়েছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ‘আজি হতে শতর্বষ পরে/ কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি/শত কৌতুহল ভরে/ . . . আজি হতে শতর্বষ পরে/ এখন করিছো গান সে কোন নুতন কবি/ তোমাদের ঘরে!’
এক’শ বছরেরও বেশি আগে বাঙালি পাঠকদের প্রতি এই জিঞ্জাসা ছিল কবির।
রবীন্দ্রনাথের গান তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি। তার রচিত ‘জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে’ ও ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গান দুটি যথাক্রমে ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। মনে করা হয়, শ্রীলঙ্কার জাতীয় সংগীত ‘শ্রীলঙ্কা মাতা’ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা।
সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার পান রবীন্দ্রনাথ। তার নোবেল বিজয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে এনে দেয় গৌরবের মুকুট। এশিয়া মহাদেশে সাহিত্যে নোবেল পাওয়া তিনিই প্রথম লেখক।
বাল্যকালে প্রথাগত বিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেননি। গৃহশিক্ষক রেখে বাড়িতেই তার শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ৮ বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় তার ‘অভিলাষ’ কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশিত রচনা।