25/06/2025
🇮🇷 ইরান যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তাহলে কী ঘটতে পারে?
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। প্রতিদিন এই এলাকা দিয়ে বিশ্বজুড়ে তেলের বিশাল অংশ পরিবাহিত হয়। ইরান যদি এই প্রণালী বন্ধ করে দেয়, এর প্রতিক্রিয়া শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, সারা বিশ্বেই তীব্রভাবে অনুভূত হবে।
1️⃣ জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা
হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয় — যা বৈশ্বিক তেলের চাহিদার প্রায় ২০%! কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) বড় অংশও এই পথ দিয়ে যায়। এই পথ বন্ধ হলে চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং বাংলাদেশের মতো দেশের জ্বালানি সরবরাহ তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
2️⃣ তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি
যদি এই পথ বন্ধ হয়, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার থেকে ৪০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। অনেক বাজার বিশ্লেষক মনে করছেন তেলের দাম ৯০/১০০ ডলার বা তারও বেশি হতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়াবে এবং সাধারণ মানুষের খরচ বাড়াবে।
3️⃣ বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিঘ্ন
শুধুমাত্র তেল বা গ্যাস নয়, বিশ্ববাণিজ্যের প্রায় ৯০% সমুদ্রপথে হয়, আর এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী অন্যতম প্রধান অংশ। এটি বন্ধ হলে বিশ্ববাণিজ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে এবং সাপ্লাই চেইন ধাক্কা খাবে।
4️⃣ সামরিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি
যদি ইরান এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা সামরিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে মনে করা হয়। আগেও ইরান এমন ধমক দিয়েছিল, কিন্তু তারা জানে এটি তাদের অর্থনীতির জন্যও আত্মঘাতী হতে পারে।
5️⃣ বিকল্প রুটের সীমাবদ্ধতা
সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু পাইপলাইন বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে, তবে সেগুলোর সক্ষমতা খুবই সীমিত এবং বিশ্ব চাহিদা মেটানোর মতো নয়।
★★ ইরান হরমুজ প্রনালী তখন ই বন্ধ করবে যখন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশগ্রহণ করবে।