যা ঝরে যাওয়ার তা ঝরে যাক নতুন কুঁড়ি গজিয়ে আবার পূর্ণতা পাক🥰❤️
SUmaiYA ThaSin SuMu
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from SUmaiYA ThaSin SuMu, Sport & recreation, নারায়ণগঞ্জ, Comilla.
01/10/2023
পর্ব ; ১
একমুঠ অপূর্ণ আশা
লেখক : SUmaiYA ThaSin SuMu
(কপি করা নিষিদ্ধ)
🍂
আর চার পাঁচ টা মেয়ের মতো আমিও বউ সেজে বর এর অপেক্ষা করছি। রাত 12:30 বাজে হঠাৎ দরজা ঠেলে কে যেন ঘরের ভিতর প্রবেশ করলো। ঘরের ভিতর এসেই আমাকে স্ব জোরে একটা থাপ্পড় মেরে বসলো। গালে হাত দিয়ে মাথা উচু করে দেখলাম সে আর কেউ না বরং আমার স্বামী। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম তার দিকে। সে আমার দিকে রাগি ভাবে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো
-তুই এই ঘরে কি করছিস।
আমি কিছু বলতেই জাবো তখন দেখলাম আমার শাশুড়ী এবং আমার ননদ দেবর সহ সবাই তারাহুরো করে আমার রুমে ঢুকে পড়লো। আমার শাশুড়ী আমাকে দেখে রাগে গজ গজ করতে লাগলো আর বললো
-তোর তো আমার মেয়ের রুমে থাকার কথা তাহলে তুই এই রুমে কেন এসেছিস নির্লজ্জ মাইয়া কোথাকার। ফকিন্নির মাইয়ার আবার জামাইর আদর খাইতে সখ উঠছে ।
তখনই একপাশ থেকে কেউ একজন বলে উঠলো তার তো বিয়ে হয়েছে স্বামীর ঘরে আসবে না তো কার ঘরে জাবে। কোথায় যাবে মেয়েটা। আর তোমার মেয়ের রুমে কেন জাবে, তোমার মেয়ে কে দেখার জন্য তো কাজের বুয়া রেখেছো তাহলে নতুন বউ জাবে কেন।
-কিসের বাসর রাত আমি তো এই ফকিন্নির মেয়েকে বউ হিসেবে মেনেই নি (ধমকের শুরে আমার স্বামি)
ননদ (রিনু) ভাইয়া ভদ্রভাবে কথা বল ও কিন্তু তোর বিয়ে করা নতুন বউ এভাবে তুই তোর বউকে সবার সামনে অপমান করতে পারিস না।
শাশুড়ী (রহিমা বেগম): ফকিন্নি রে ফকিন্নি বলবে না তো কি বলবে। এই মাইয়া রে কি আমার পোলায় বিয়ে করতো নাকি। এই মাইয়া আমার পোলাটারে ফাঁসিয়ে বিয়া করছে।
আমি পাশ থেকে বলে উঠলাম ঠিক আছে আম্মা আমি রিমার (রিমা আমার ছোট ননদ। সে প্রতিবন্ধী) ঘরেই সুয়ে থাকবো। আমার সমস্যা হবে না। কিন্তু তবুও আমার বাবা মাকে নিয়ে কিছু বলবেন না দয়া করে। তখনই আমার শাশুড়ী আমার দিকে তাকিয়ে চোখ বড় বড় করে বললো।
-দেখেছো নি এই মাইয়ার কতো বড় সাহস আমার মুখের উপর কথা বলে। এই মাইয়া মুখে মুখে তর্ক করবে না একদম। আমাদের বাড়িতে এসব চলে না বলে দিলুম।
-: ঠিক আছে আম্মা।
আমার শাশুড়ী আমার কাছ থেকে সরে গিয়ে আমার স্বামীর কাছে গিয়ে বললো।
-: যা বাপ যা ঘুমিয়ে পর। আজকে সকাল সকাল উঠছছ কতো কাম কাইজ করছোছ। এই মেয়ে তুমি আমার ছোড মাইয়ার ঘরে যাইয়া মাটিতে শুইয়া পরো আর হ্যা একদম আমার পোলার ঘরে আসবা না এই বলে দিলুম। এই রিনু এই মাইয়ারে রিমার ঘরটা দেখিয়ে দে।
রিনু মাথাটা নিচু করে বললো
-: আচ্ছা আম্মু
রিনু তখন আমাকে রিমার ঘরে নিয়ে গেলো আর যাওয়ার পথে বললো ভাবি তুমি অনেক ভালো মানুষ কিন্তু আমাদের বাড়ির মানুষগুলো একটু অন্যরকম মানুষ তুমি কিন্তু সাবধানে থেকো। আর হ্যা ভাইয়া একটু রেগে আছে তাকে সামলাই নিও। আমার ভাইয়া রাগি হলেও তার মন টা অনেক নরম যাকে একবার ভালোবেসে ফেলে তাকে কোনদিনও ছাড়ে না।
-: ঠিক আছে। কিন্তু তুমি সবার মতো আমাকে ভুল বুঝো না বোন আমি পরিস্থিতির শিকার ছিলাম তখন তাই তোমার ভাইকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলাম
-: না ভাবি। আমি তোমাকে কখনোই ভুল বুঝি নি। আমি জানি তুমি কেমন মানুষ। কি করবে বলো তখন তো তোমার কিছু করার ছিলো না তাই তো তুমি ভাইয়াকে বিয়ে করেছিলে। আচ্ছা বাদ দাও এসব কথা। আগে বলো তুমি কিছু খেয়েছো কি না। সেই সকাল থেকে দেখছি তুমি কিচ্ছু টি মুখে দাও নি। আমি কি কিছু এনো দিবো তোমায়।
-: হে খুদা তো লেগেছে কিন্তু কেউ যদি দেখে ফেলে তাহলে বকাবকি করবে যে।
-: আরে কেউ কিছু বলবে না তুমি গিয়ে ওই ঘরে বসো আমি এক্ষুনি খাবার নিয়ে আসছি।
-: আচ্ছা।
আমি রিমার ঘরে গিয়ে বসলাম। তারপর রিনু খাবার নিয়ে আসলো। আমি আর খাবার দেখে নিজেকে সামলিয়ে রাখতে পারলাম না। অর হাত থেকে খাবারের প্লেট নিয়ে খেতে শুরু করলাম আর বললাম রিনু তুমি এক গ্লাস পানি নিয়ে এসো।
-: আচ্ছা ভাবি
দুই লোকমা বিরিয়ানি মুখে নিবো তখনই রহিমা বেগম এসে আমার হাতে থাকা প্লেটে লাথি দিয়ে ফেলে দিলো আর আমার চুলের মুঠি ধরে দু তিন টা ঘুষি মারতে মারতে বললো
-তোর এতো বড় সাহস তুই আমার পাতিল থেকে বিরিয়ানি চুরি করে খাস। আজকে তোর একদিন আর আমার একদিন।
গরম খুন্তি এনে আমার ডান হাতে লাগিয়ে দিলো। আমি যাতে চিৎকার না করি তাই আমার মুখ উরনা দিয়ে বেন্ধে রাখছে।
তখনই রিনু এসে রহিমা বেগমের হাত থেকে আমাকে ছুটিয়ে আনলো। আর রহিমা বেগম কে ঝাড়ি মেরে বললো আম্মু তুমি এসব কি করছো মেয়েটাকে কি একটু শান্তি তে থাকতে দিবে না তোমরা মেরে ফেলবে নাকি।
-: হে কারণ এই মাইয়া একটা অলক্ষি। আর তুই এই ঘরে কি করছিস। তোর সাহস তো কম না আমাকে না জানিয়ে এই অলক্ষি মেয়েটার সাহায্য করছিস।
রিনু কে দুটা থাপ্পড় দিয়ে টানতে টানতে তার ঘরে নিয়ে গেলো। আর আমি মাটিতে পরে থাকা বিরিয়ানির দিকে তাকিয়ে থাকলাম আর মনে মনে বললাম হে আল্লাহ এ কেমন পরিক্ষা নিচ্ছো তুমি আমার। আমি কি এতটাই খারাপ। তারপর মাটিতে পরে থাকা বিরিয়ানি গুলো তুলতে লাগলাম। আর যে গুলো প্লেটে ছিলো ও গুলো খেয়ে নিলাম কারণ খুব খিদে পেয়েছিলো। দুদিন শুধু পানি ছাড়া কিচ্ছু টি খেতে পারি নি। তারপর সব কিছু ঘুছিয়ে মাটিতে শুয়ে পরলাম। খাটে আমার ছোট ননদ রিমা শুয়ে ছিলো সে যেহুতু প্রতিবন্ধী তাই শুধু চেয়ে থাকা ছাড়া কিছু করতে পারে না এমন কি বিছানাতেই মল্য মূত্র ত্যেগ করে। সারাঘর খুব বাজে গন্ধ। কি করবো সেখানে ঘুমিয়ে পরলাম।আর অতিতের কথা ভাবতে লাগলাম
🍂 ----------------------------------------
আমি (অপূর্ণা) বাবা মার একমাত্র মেয়ে।
অপূর্ণা ও অপূর্ণা মা কইরে তুই এদিকে আয় তো মা(আম্মু)
কি হয়েছে আম্মু এভাবে ডাকছো কেন?
- তোর বাবাকে দেখছিনা তো তোর বাবা কোথায়। একটু বাজারে যেতে হবে যে। তোর দাদা দাদি রা আসবে আজ।
-দাদা দাদি কেন আসবে আমাদের বাসায়। উনারা তো তোমাদেরকে ওই বাড়ি থেকে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিলো তাহলে কেন আজ এতো বছর পর এই বাড়িতে আসবে।
- : তোর দাদু নাকি অসুস্থ তাই হসপিটালে চেকআপ করতে আসবে। তাই তোর বড় চাচ্চুর বাসায় যেতে চাইছিলো কিন্তু তোর বড় চাচ্চু নাকি তাদের খরচ উঠাতে পারবে না তাই এই বাসায় আসবে। যাক গে তোর বাবা কে একটু ডেকে দে বাজারে যেতে হবে তাদের জন্য তো খাবার রান্না করতে হবে।
- ঠিক আছে আম্মু আমি বাবা কে ডেকে দিচ্ছি কিন্তু আম্মু একটা বলতো দাদিরা কেন তোমাকে আর আব্বুকে ওই বাসা থেকে তাড়িয়ে দিলো তোমরা তো আমাকে কিছুই বলো না কি হয়েছিলো সেদিন।
-; সেটা অনেক বড় ঘটনারে মা। পরে কোনো একদিন বলবো এখন যা তোর বাবা কে ডেকে দে।
-আচ্ছা আম্মু যাচ্ছি।
তারপর খুজতে লাগলাম। খুজতে খুজতে আমাদের ড্রয়িং রুমে গিয়ে দেখি বাবা নিউজ পেপার পরছে আর কি যেন একটা ভাবছে। আমি বাবাকে ডাকতেই বাবা চমকে গেলো। বাবার পাশে বসতেই। বাবা চোখে থেকে চশমা টা খুললো আর এক হাতে নিউজ পেপার ধরে অন্য হাত দিয়ে আমার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল
- : কি হয়েছেরে মা এভাবে ডাকছিস কেন।
- : বাবা আম্মু তোমাকে ডাকছে বাজার আনার জন্য। আজ নাকি দাদা আর দাদি আসবে।
-; হ্যা শুনেছিরে মা। কিন্তু মা তোর দাদা দাদি আসলেই আবার যদি ঝামেলা হয় সেটা নিয়েই ভাবছিলাম।
আরে বাবা কিছু হবে না। যা হবে এবার আমি দেখে নিবো নে।
- ; তুই কি সামলাভি পাগলি। তুই আগে তোর পড়াশোনা সামলা (কিছু টা হাসি মুখ নিয়ে)
আচ্ছা বাবা। তুমি আগে বাজারে জাও না হলে আম্মু পুরো বাড়ি এখন মাথায় তুলবে।
-; হুম
-আচ্ছা বাবা একটা কথা জিজ্ঞেস করবো
-হুম মা বল কি বলবি।
-দাদা আর চাচ্চু তোমাকে ওই বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলো কেন।
-সে অনেক বড় ঘটনা। তোর দাদা তোর মাকে পছন্দ করতো না। তোর মাকে পালিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিলাম তো তাই। তোর মা ছিলো আমার দূর সম্পর্কের খালাতো বোন। তোর মাকে নিয়ে যখন তোর দাদুর বাড়ি যাই তখন তোর দাদা আমাকে সোজাসুজি কিছু বলে নি। তবে যখন আমি বাড়িতে থাকতাম না তখন সবাই মিলে তোর মাকে কথা শুনাতো। গরিব ঘরের মেয়ে। বাবা মা কেউই নেই তাই নাক ছিটকাতো সবাই। তুই যখন তোর মার পেটে ছিলি তখন সবাই ছেলের আশা করতো। ছেলে হলে বোধহয় তোর আম্মুর ওপর অত্যাচার কমতো। কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহার দেখ আমার ঘরে ছোট্ট একটা রাজকন্যা এসেছে। তখন তোর দাদা ক্ষেপে গিয়েছিল আমাকে আর তোর মাকে বকা ঝকা করা শুরু করলো। তোকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলো অনেক বার কিন্তু আমার কারণে পারেনি। তারপর আর কি সবার সামনে ভালো সেজে আমাদের কে চোরের অপবাদ দিয়ে বারি থেকে বের করে দেয়।
সব কথা বলতে গিয়ে বাবার চোখে থেকে দু ফোটা জল গড়িয়ে পরলো। বাবা তারাহুরো করে আমার কাছ থেকে লুকেয়ে ফেললো। বাবা চলে গেলো বাজার করতে। আমি তখনো ওখানে বসে ছিলাম আর ভাবছিলাম। মেয়ে হওয়া কি পাপ😅 সেখান থেকে উঠে আমি গিয়ে আম্মুর সাথে রান্নায় সাহায্য করার জন্য রান্না ঘরে গেলাম কিন্তু মা আমাকে কোনো কাজই করতে দিলো না। বললো....
#চলবে
বিদ্র; আমার লেখা প্রথম গল্প এটা কেমন হইছে সবাই বলে জাবে
01/10/2023
কেন হারালে??🥀💔
30/09/2023
কিছু মানুষ শুধুমাত্র নামেই বেঁচে আছে। ফ্যামিলি প্রবলেম, অনিশ্চিত ক্যারিয়ার, একজন কে তীব্র ভালোবেসে তাকে না পাওয়ার বেদনা সহ নানান কারনে তারা ভেতরে ভেতরে মরে গেছে কবেই। এইসব কারো কারো কাছে কোন প্রবলেম ই না আসল ব্যাপার টা হচ্ছে যার কষ্ট, সে ই বুঝে!'🙂🖤
30/09/2023
যাদের আমি আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়, তারাই আমাকে পেয়ে অখুশি,😅💔
আমার এই ছোট্ট কুঠিরে তোমাকে স্বাগতম 😊❤️
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
নারায়ণগঞ্জ
Comilla