01/01/2026
এই দেড় বছর সচিবালয়ে ঘুরাঘুরি করে দূর্নীতি না করলেও দূর্নীতি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ সহকারে খোঁজ খবর নিয়েছি। কেউ দূর্নীতির প্রস্তাব দিলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
কীভাবে দূর্নীতি করা হয়, কালো টাকা কীভাবে শাদা করতে হয়, দূর্নীতি করার ক্ষেত্রে টাকা পাওয়ার আগেই কাজ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্যারান্টর কীভাবে সেট করতে হয়, সচিবালয়ে দূর্নীতির পরিভাষা কী, নিকনেমস কী, টাকা কীভাবে লুকিয়ে রাখতে হয়, কীভাবে সেইফ কমিউনিকেশন করতে হয় - ইত্যাদি বিস্তারিত শিখেছি। আদালতের যেমন আলাদা সংস্কৃতি ও ভাষা আছে, জেলখানার যেমন আলাদা রীতি নীতি ও ভাষা আছে, দূর্নীতিরও কিছু প্রটোকল আছে। দূর্নীতির ভাষায় কথা না বললে, আপনি নতুন অফিসার হলে দূর্নীতির সার্কেলে সোজা ঢুকতে পারবেন না। রাঘব বোয়ালরা আপনাকে সন্দেহ করবে।
এনসিপির দূর্নীতির রাজাধিরাজ হলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া। অতি চালাক, চিকন বুদ্ধির এই বড় ভাই বহু চেষ্টা করেও ক্লিন দূর্নীতি করতে পারেননি। ফুটপ্রিন্ট রয়ে গেছে। তার বেসরকারি শুভাকাঙ্ক্ষীরা, সাংবাদিকরা বিরক্ত হয়েও এসব তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করেননি। তাছাড়া রুচিবোধ সম্পন্ন কেউ মতিউর রহমান রেন্টু হতে চায় না। কাঁদা ছিটালে কাঁদা নিজের গায়ে এসেও লাগে। ফলে উচ্চরুচিবোধের কেউ এসব নিয়ে কথা বলেন না। আমি যেহেতু কিছুটা নির্লজ্জ এবং পলিটিকালি কারেক্ট হওয়ার ফেটিশ নেই, আমি কিছুটা বলতে পারি।
কমন সেন্স বলে মাসে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ইনকাম করা কোন ব্যক্তি ২৩ হাজার টাকার চাকরি করার জন্য মারামারি করার কথা না, আন্দোলন করার কথা না। কিন্তু নাহিদ ভাই করেছেন। উনার আয় মাসে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আর দেড় বছর আগে উনি শেখ হাসিনা সরকারের অংশ হবার জন্য আন্দোলন করেছেন।
মনে রাখা জরুরি যে বিসিএসকামী, ক্যারিয়ারবাজরা সর্বোচ্চ নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে পারেন। তাদের দিয়ে জাতীয় আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় না।
যারা শেখ হাসিনা সরকারকে সার্ভ করতে চেয়েছেন, শেখ হাসিনা সার্ভ করতে দেয়নি বলে সরকার ফেলে দিয়েছেন তারা সৎ হতে পারে, সাহসী হতে পারে, তারা যোগ্য হতে পারে না। দেশের সর্বোচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন ছেলেপেলেরা বিসিএস দেয় না। লুম্ফেনরা দেয়। নাহিদ, আসিফ, সারজিস, হাসনাতরা হয়তো সৎ। কিন্তু তারা সর্বোচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন নন। তার উত্থানের প্রেক্ষাপটের কারণেই, তাদের মুখস্ত বিদ্যার বিসিএস দিতে চাওয়ার কারণেই বাই ডিফল্ট তারা রাষ্ট্র পরিচালনার অযোগ্য।
দূর্নীতি অ, আ, ক, খ বোঝানোর সময় এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আমাকে শিখিয়েছিলেন, সত্য বলতে হয় মিথ্যার খুব কাছাকাছি। আর কালো টাকা কামাতে হয় শাদা টাকার খুব কাছাকাছি। আপনি দূর্নীতি করবেন না, আপনি পরামর্শক হবেন। পরামর্শক হলো দূর্নীতির সবচেয়ে বড় পোস্ট। যেখানেই পরামর্শক কথাটা শুনবেন, সেখানেই বুঝবেন ঘাপলা আছে।
পরামর্শক ব্যয় নাম দিয়ে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করার ফর্মুলা মূলত শেখ হাসিনা সরকারের আবিষ্কার।
নাহিদ ভাই এখন পরামর্শক হয়েছেন। অথচ এই দেশে যেটা কেউ কোনদিন চায় না, যেটা সবচেয়ে ফেলনা ও সস্তা, সেটা হলো পরামর্শ।
কালো টাকা লুকানোর আরেক জরুরি শবক হলো - বড়লোকি দেখাবেন না। হাসনাতের মত পাঠাও বাইকে করে উঠবেন। গাড়ি কিনবেন না। হান্নান মাসুদের মত দালান কোঠা বানাবেন না। এতে চোখ পড়ে। সেইফলি সোনার বার কিনে ব্যাংকের ভল্টে ফেলে রাখবেন। সময়মত আস্তে আস্তে বের করবেন। তাই এই জুলাইযোদ্ধা (!) দের বাড়ি গাড়ি নেই। কেবল সোনা আছে। তার উপর কতটা দেখিয়েছে আর কতটা লুকিয়েছে সেটা অন্য প্রশ্ন।
যে সারজিস দারিদ্র্যপীড়িত হয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে পারেননি, ছাত্র হলে থাকতে বাধ্য হয়েছেন, হলে থাকার কারণে ছাত্রলীগ করতে বাধ্য হয়েছে, ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকতে বাধ্য হয়েছেন, সেই দরিদ্র সারজিসের এখন ৩৩ লাখ টাকার সম্পদ। তিনি গাড়ি বহর দিয়ে পুরানো বন্দোবস্তের মত পঞ্চগড়ে শো ডাউন দেন।
যে হাসনাত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রথম আলোতে নিয়মিত লিখেছেন, জাতির শ্রেষ্ঠ মানব বলে সস্তা স্তুতি করেছেন, যার কুমিল্লার বাসার টিনের চাল দিয়ে পানি পড়তো - তিনি এখন ৫০ লক্ষ টাকা সম্পত্তির মালিক। বদান্যতা এতো বেশি যে ঘুরে বেড়ান পাঠাও বাইকে, পরেন বাংলাদেশের ময়লা জার্সি।
হান্নান মাসুদ কী করেছে, রিফাত রশিদরা কীভাবে গাড়ি কিনেছে সেটা অন্য আলাপ। আমি খুব কাছ থেকে এনসিপির নেতাদের দূর্নীতির টাকা খরচ করতে দেখেছি। হান্নান, রিফাতদের মত যারা আহাম্মক না, যারা বাড়ি, গাড়ি করেননি তাদের দেখেছি টাকা দিয়ে কী করবে বুঝতে পারছে না। কাওকে বলতেও পারছে না, খরচও করতে পারছে না।
উপায় না পেয়ে প্রতিদিন সকাল বিকাল রেস্টুরেন্টে খেয়েছে, মদ গিলেছে, বাইক কিনেছে, সোনার চেইন কিনেছে, গাদা গাদা ব্র্যান্ডের শার্ট, ব্রান্ডের ঘড়ি কিনেছে, ভুড়ি বড় করেছে। গরীব মানুষের ইচ্ছাগুলোও গরীবদের মতো। কেউ বিদেশে ঘুরতে যায় নি, কারও ইচ্ছা করেনি একটা প্রতিষ্ঠান তৈরি করি, নিদেনপক্ষে একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করি - এমনটাও তাদের ভাবতে দেখিনি। তাদের একটা বাগান করার ইচ্ছা হয়নি, রেয়ার কালেকশন তৈরি করার ইচ্ছা হয়নি।
দোষটা তাদের না। দোষটা আমাদের যে আমরা বিসিএসকামীদের কাছ থেকে, দ্রুত আমলা হয়ে দ্রুত জাতে উঠতে চাওয়াদের কাছ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রত্যাশা করেছিলাম। তারা কেমন রাষ্ট্র পরিচালনা করে সেটা আমাদের দেখা হয়েছে। এই সরকারের কোন মন্ত্রণালয় কী কাজ করেছে তার ফাইনাল রিপোর্ট কম্পাইলেশন আমার হাতে হয়েছে। সকল মন্ত্রণালয় তাদের করা সংস্কার আর কৃতকর্মের তালিকা জমা দিয়েছে। এটাই ইন্টেরিমের রেসাল্ট কার্ড। সেই কার্ডে আসিফ, নাহিদ, মাহফুজরা শূন্য পেয়েছেন। তাদের দ্বারা কোন ইনোভেটিভ, কোন সমাধানমূলক, কোন যুগান্তকারী পদক্ষেপ আসেনি। তারা কোন ভিশনের পরিচয় দেননি। এট লিস্ট ভারতীয় ফিল্ম, অনীল কাপুড়ের নায়াক দেখলেও হতো। সেটাও মনে হয় দেখেনি। আসিফের যুব মন্ত্রণালয় সংস্কার প্রশ্নে 'শেখ হাসিনা যুব উন্নয়ন কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন'-কে সংস্কার হিসেবে দেখিয়েছে। কারণ খাতা তো ফাঁকা রাখা যায় না। কিছু একটা লিখতে হবে তাই লিখেছে। তাদের মন্ত্রণালয়গুলো হাসিনা আমলের চেয়ে স্লো এবং পুওর পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।
ইনাদের সহযোদ্ধা দিলশানা পারুল বলেছিলেন, বড় দলগুলো দূর্নীতি করলে তো কিছু বলেন না। খালি ছোট দল দূর্নীতি করলেই সুশীলদের গায়ে লাগে।
সমস্যা হলো - আমরা বড় দলগুলোকে ভরসা করতে না পেরেই ছোট দলকে ভরসা করেছিলাম। এই বাংলাদেশ একদিন সমন্বয়কদের কথায় উঠতো, সমন্বয়কদের কথায় বসতো। সেই সমন্বয়করা এখন দেউলিয়া হয়ে গেছেন। প্রথমে উদ্ভাবনী দক্ষতার অভাবে, এরপর নৈতিক যোগ্যতার অভাবে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এবং তার প্রজাদের জন্য আফসোস।
Sheikh
29/12/2025
28/12/2025
28/12/2025
19/12/2025