Sportologists

Sportologists

Share

খেলার দুনিয়ার সকল গল্প, মধ্যকার কথা-বার্তা ও খুঁটিনাটি বিশ্লেষণে ক্রিড়াপ্রেমী সকলের আমন্ত্রণ ।

25/12/2025

Coming back soon Guys......

Photos from Sportologists's post 19/12/2022

"বিশ্বকাপে মেসির জয়
অবাক পৃথিবী তাকিয়ে রয়"

আর্জেন্টিনা ৩(৪)-(২)৩ ফ্রান্স -সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বকাপ ফাইনাল। এ ম্যাচ পৃথিবীতে স্মরণীয় হয়ে থাকবে আজীবন। কী নেই এ ম্যাচে? টেনশন, উত্তেজনা, আনন্দ, কান্না, ক্ষোভ, ভীতি, উল্লাস সবকিছু নিয়ে এ ফাইনাল সাজানো হয়েছে। এইটা একটি ফিল্ম বললেও ভুল কিছু হবে না। পুরো শেষ পর্যন্ত সাসপেন্স দিয়েছে সকলকে। এমন ম্যাচ আর কবে আসবে ধারণা নেই। যারা পুরো ম্যাচ দেখেছে, তারাই একমাত্র এ স্বাদ নিতে পেরেছে।

●প্লে বাই প্লে:

🔵খেলা শুরু হওয়ার আগে প্রায় সকলের ধারণা ছিল যে দুই দল নিজেদের জান-প্রাণ দিয়ে খেলবে। খেলা হবে হাড্ডাহাড্ডি। তবে অদ্ভুত ও বিস্ময়কর বিষয় প্রথম দিকে ফ্রান্স খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নি। শুরুর হাফে আর্জেন্টিনা দারুণ খেলে ও তাদের ভয়ঙ্কর দেখায়। তবে ফ্রান্স এর চেয়েও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে আগে। তাই অবশ্যই এতে তাদের কেমন অসুবিধা হয়নি ও তারা চেষ্টা চালিয়ে যায় খেলা তাদের আয়ত্বে রাখতে। ১৯তম মিনিটে আর্জেন্টিনা তাদের প্রথম চান্স পায়। ফ্রান্সের ডিফেন্সে ভুলের কারণে আর্জেন্টিনা বল পায়। সেখানে বাম দিকে পাস দেওয়াতে ডি মারিয়া শট‌ নিতে প্রস্তুত। তবে তার দুর্বল ডান পায়ে শট দেওয়া বল চলে যায় গোলপোস্টের অনেক উপর দিয়ে। সময় যাওয়ার সাথে সাথে বোঝা যায় আর্জেন্টিনা মূলত ফ্রান্সের ডান ফ্লানক্ টার্গেট করেছে। তারা দ্রুত বল শিফট করে ডি মারিয়া কে বল প্রভাইড করে বারবার। ২২তম মিনিটে ডেম্বেলে বাম দিক থেকে ডি মারিয়ার সাথে বক্সের মধ্যে পা এর সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে ডি মারিয়া পড়ে যান এবং আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পায়। এ পেনাল্টি কে নেবে-সেটা কি কখনো সন্দেহ ছিল? পেনাল্টি তে গোল পান মেসি।

এরপর ফ্রান্স কামব্যাক করার চেষ্টা করে। ফ্রি কিকের মাধ্যমে কিছু করার প্রয়াস চালিয়ে যায়। তবে কোনো রেসপন্স পায় নি। ফ্রান্স এটাক করার মুহূর্তে হাফওয়ে লাইনের ঠিক আগে আর্জেন্টিনা বল জেতার পর, মেসি একটি সুন্দর থ্রু পাস দিয়ে ম্যাক অ্যালিস্টারকে বল ছেড়ে দেন। সেখানে ম্যাক অ্যালিস্টার খুবই চালাকের সাথে ডি মারিয়া কে বল তৈরি করে দেন পেনাল্টি বক্সের দিকে। ডি মারিয়া কোনো ভুল না করে তা গোলপোস্টের ভিতরে ঢুকাতে সক্ষম হন। স্কোর হয় ২-০। আর্জেন্টিনার সকল ভক্তরা যেন স্বপ্ন দেখছে। মনের মধ্যে বিশ্বজয়ের ক্যানভাস তৈরি করছে। এ গোল কোনো তর্ক-বিতর্ক ছাড়া বিশ্বকাপের সর্বশ্রেষ্ঠ টিম গোল। ফ্রান্স কোচ আর অপেক্ষা না করে প্রথম হাফের আগে দুইটা সাব করে বসেন। জিরুড ও ডেম্বেলের জায়গায় তিনি থুরাম ও মোয়ানি কে নামান। এই পদক্ষেপ এমবাপ্পেকে আরও কেন্দ্রীয় স্ট্রাইকিং ভূমিকায় পরিবর্তন করে। ফ্রান্সের মুখে হতাশার ছাপ নিয়ে শেষ হয় ১ম হাফ।

🔵২য় হাফে আর্জেন্টিনার খেলায় পরিবর্তন আসে নি প্রথম দিকে।প্রথমার্ধে যেখানে ছেড়ে এসেছিল সেখান থেকেই খেলা চালিয়ে যায় এবং ৬০ মিনিট পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধে আধিপত্য বিস্তার করে। ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে ফ্রান্স আরেকটি গোল খাওয়ার মুখ থেকে বেঁচে যায়। ম্যাক অ্যালিস্টার গোল করার জন্য এক পরিষ্কার পথ তৈরি করে নেয়। তবে গোলকিপার লরিস তা লক্ষ করেন এবং তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যান সামনে। ম্যাক অ্যালিস্টারকে পরাজিত করার জন্য তিনি একটি স্লাইড ও সময়ের সাথে বলের কাছে যেতে সক্ষম হন। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে ওটিমেন্দি পিছন দিয়ে মোয়ানি কে টেনে ধরায় পেনাল্টি ঘোষণা করেন রেফারি। ওটিমেন্দির ভুলের কারণে এ পেনাল্টি ভোগায় আর্জেন্টিনা কে। এমবাপ্পে পেনাল্টি নেয় ও গোল করেন । আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক ইমিলিয়ানো সঠিক দিকে ডাইভ দিলেও শটে পাওয়ার থাকায় তা পুরোপুরি ঠেকাতে পারেন নি । স্কোর হয় ২-১।

ঠিক ২ মিনিট পর আরেকটি সুন্দর গোল করে বসেন এমবাপ্পে ও ফ্রান্সের কামব্যাক কমপ্লিট। এমবাপ্পের চরম নিখুঁত ভলি গোলকিপারকে পরাজিত করে ও স্কোর বরাবর হয়ে যায়। ফ্রান্স পুনরায় জীবিত হয়েছে- ২টা শট অন টার্গেট ও ২টিই গোল। এবার হতাশার ছাপ দেখা যায় আর্জেন্টিনা ভক্তদের মাঝে। তারা এটি অবশ্যই আশা করেন নি। দুই গোল দেওয়ার পর আবার দুই গোল খাওয়া, এটি‌ তারা হজম করতেই পারছে না। ৯০+৭ মিনিটের মাথায় মেসির জোড়ালো শট লরিস ঠেকাতে সক্ষম হন এবং এভাবেই শেষ হয় নরমাল টাইমের খেলা।

🔵এক্সট্রা টাইমের খেলা শুরু হয় যেখানে প্রায় সব খেলোয়াড় ক্লান্ত। সাব থেকে আসা লাউতারো ১০৫তম মিনিটে দুইটি বড় সুযোগ পায় যা ফ্রান্সের উপেমাকানো সাহসের সাথে ডিফেন্ড করেন। ১০৮ মিনিটে আর্জেন্টিনা আরেকটি গোল দিয়ে এগিয়ে যায়। মেসি টু দ্যা রেসকিউ!! লাউতারোর শটে লরিস সেভ করে, তবে তা সহজেই মেসির কাছে এসে বাজে। মেসি কোনো রকম ভুল না করে তা গোলপোস্টের ভিতরে ঢুকাতে সক্ষম হন ও হয়ে যায় ৩-২। ভাগ্যের এক আকস্মিক খেলায় ১১৭ মিনিটে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। এমবাপ্পের শটে মন্টিয়েলের হাত এসে বাধাপ্রাপ্ত হয় ও রেফারি সাথে সাথে হ্যান্ডবল ঘোষণা করেন। এমবাপ্পে পেনাল্টি নেন ও গোল। বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে হাট্রিক করেন এ ক্ষুদে তারকা। ভবিষ্যতে তিনি হয়তো সকলকে ছাড়িয়ে যাবেন। এ বিশ্বকাপে মেসি কে ছাড়িয়ে গোল্ডেন বুটের তালিকায় শীর্ষে তিনি। পেনাল্টি শুটআউট হবে হবে এমন সময় ফ্রান্স ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগ পায় কিন্তু হাতছাড়া করে। এমিলিয়ানো নিজেকে প্রসারিত করে ও সম্ভবত তার জীবনের সবচেয়ে বড় সেভ তিনি করেন।

শুরু হয় পেনাল্টি। এমিলিয়ানো ও লরিসের মাঝে জমজমাট কম্পিটিশন। তবে এমিলিয়ানো নিজেকে প্রমাণ করেন আবারো। মাইন্ড গেম ও নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা কে কাজে লাগিয়ে ফ্রান্সের ১টি পেনাল্টি সেভ করেন ও নিজেকে পুনরায় জীবিত করেন। শেষে ম্যাচ উইন পেনাল্টি তে মন্টিয়েল গোল করেন এবং সবাই থো!

আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন। মেসি যে কাপটি‌ কমতি ছিল তা এবার পূর্ণ হয়েছে। সকল ভক্তদের কান্নার আওয়াজ যেন কানে বাজছে। ৩য় বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

Author: Tawhidul Hasan
Source: Al Jazeera

18/12/2022

বিশ্বকাপ ফাইনালে আজকের ম্যাচে কে বিজয়ী হবে?
❤️ আর্জেন্টিনা🇦🇷
😮 ফ্রান্স🇫🇷

আপনার প্রেডিকশন জানাতে ভুলবেন না !

Photos from Sportologists's post 17/12/2022

আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফাইনাল! আরজেন্টিনার সাথে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স! আর্জেন্টিনার সামনে আবারো একটা সুযোগ রয়েছে সোনালী ট্রফিটা জিতে নেওয়ার। চলুন জেনে আসা যাক আর্জেন্টিনা স্কোয়াডের কিছু Strength এবং Weakness সম্পর্কে।

Strength:

1. Lionel Messi: শক্তির কথা বলতে গেলে এই মানুষটার নামই সবার উপরে আসার কথা। লিওনেল মেসি এবার বিশ্বকাপের সেরা পেয়ারদের একজন। তিনি ইতিমধ্যে ৫ গোল এবং ৩ এসিস্ট করে ফেলেছেন। গোল্ডেন বল এবং গোল্ডেন বুট উভয়ের লড়াইয়েই আছেন প্রথম কাতারে। যখনই টিম তাকে চেয়েছে, টিমের দরকার পড়েছে, তখনই তিনি পারফর্ম করে প্রতিনিয়ত টিমকে উঠিয়ে নিয়ে এসেছেন বিপদের মুখ থেকে। এটাই হতে যাচ্ছে লিও মেসির শেষ বিশ্বকাপ। একারণে ফর্মের তুঙ্গে থাকা লিও মেসি সবটি দিতে চলেছেন ফাইনালে, আশা করা যায়।

2. Julian Alvarez: নিশ্চয়ই লিও মেসির পর জুলিয়ান আলভারেজ টিমের বেস্ট প্লেয়ার। তিনি এবার বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। ইতিমধ্যে এই বালক ৪ গোল করে ফেলেছেন এই বিশ্বকাপে। সাথে সাথে তিনি গোল্ডেন বুট এর রেসেও যোগ দিয়েছেন। ফিল্ডে প্রচুর Energetic তিনি। তার ওয়ার্ক রেট দুর্দান্ত। টীম পজেশনে থাকাকালিন সে একজন পিওর নাম্বার নাইনের ভূমিকা পালন করেন আর অফ দা বলে ট্র্যাক ব্যাক করে ডিফ্রেন্সেও দারূন কন্ট্রিবিউট করতে দেখা যায় তাকে।

3. Emiliano Martinez: আর্জেন্টাইন গোলপোস্ট এখন অনেকটা সুরক্ষিত এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এর জন্য। তিনি বলতে গেলে মাইন্ড গেম এক্সপার্ট। শট স্টপিং এও দুর্দান্ত। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে তিনি আছেন ফর্মের তুঙ্গে। ন্যাশনাল টীমে যখনই তার স্টেপ আপ করার টাইম এসেছে, তখনই তিনি নিজ দায়িত্বটা সুন্দরভাবে পালন করে টিমকে বিপদের হাত থেকে বাচিয়েছেন। কোপার ফাইনাল বলেন অথবা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালঃ সবখানে একা হাতে তুলেছেন টিমকে। এই বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ মিনিটে গুরুত্বপূর্ণ সেইভ দিয়ে দলকে বাচিয়েছেন বিপদের হাত থেকে। অতঃপর নেদারল্যান্ডসের সাথে ২ টা পেনাল্টি সেইভ, মেক্সিকোর সাথে অতিমানবীয় পারফরমেন্স এর কথা তো সকলেরই মনে থাকার কথা।

মিডফিল্ডঃ ম্যাক এলিস্টার ও এঞ্জো ফারনান্দেজ আছেন তাদের টপ ফর্মে। প্রেসিং, বল রিকোভারি, থ্রু পাসিং, ইন্টারসেপশন সবদিক দিয়েই তারা টপ নচ পারফরমেন্স করে চলেছেন।

মার্কস আকুনা এর ফেরত আসাটাও এই টিমের একটা স্ট্রং পয়েন্ট। লেফট ব্যাক হিসেবে একজন স্পিডি ফুলব্যাক তিনি। লেফট উইং এ ওভারল্যাপ করে প্রায়ই খেলতে দেখা যায় তাকে। লেফট উইং থেকে ক্রসিং এর জন্য তিনি এই টিমের অন্যতম বেস্ট অপশন। এছাড়া স্পিড ভালো থাকায় তিনি ঠিকমতো ট্র্যাক ব্যাক করেও ডিফেন্সে কন্ট্রিবিউট করতে পারেন।

ডিফেন্সঃ আরজেন্টিনার এবারের ডিফেন্স ২০১৮ বিশ্বকাপের তুলনায় অনেক গুণে বেটার। লিসান্দ্রো, রোমেরো, ওটামেন্ডি , মলিনা, মন্টিয়েল, আকুনা! সবাই যেন ক্লিক করতেছে এই টিমের সাথে। ফ্রান্সের দুর্দান্ত এট্যাক সামলানোর মতো ডিফেন্স আর্জেন্টিনার আছে বলে আমি মনে করি।

Weakness:

1. Lautaro Martinez: স্কালোনির প্ল্যানে থাকা লাউতারো মারটিনেজ এবার বিশ্বকাপে যেন হারিয়ে খুজছেন নিজেকে। ম্যাচের মধ্যে অনেক বিগ চান্স মিস, সঠিকমতো পাস রিড করতে না পারাসহ বেশ কিছু মিস্টেক দেখা যাচ্ছে লাউতারো এর মধ্যে। আগের ফর্মে থাকলে তিনিই দলের হয়ে স্টার্ট করতেন। কিন্তু তেমন ফর্মে না থাকায় এবং আলভারেজ এর মতো ডেডলি স্ট্রাইকার থাকার জন্য তাকে বেঞ্চ হইতে হচ্ছে ম্যাচের পর ম্যাচ।

2. Paredes and Guido Rodriguez: মিডফিল্ডে সবকিছু ঠিক থাকলেও পারেদেস এবং গিদো রদ্রিগেজ তেমন ফর্মে নাই। প্রেসিং, ট্যাকেল করা থেকে শুরু করে সবদিক দিয়ে একটু পিছিয়ে তারা। তবে এ ম্যাচে পারেদেস স্টার্ট করবে বলে আশা করা যায়। দেখা যাক ফাইনালে তার কাছ থেকে কি পারফরমেন্স পাওয়া যায়।

3. Molina’s Defensive Duty: রাইট ব্যাকে মলিনা বা মন্টিয়েল কে খেলতে দেখতে পারি। ফ্রান্সের লেফট উইং বরাবর-ই অনেক ভালো। এম্বাপ্পে ও থিও হারনান্দেজ এর এট্যাক ঠেকানোর জন্যে মলিনা/মন্টিয়েলকে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হতে পারে।

এগুলাই ছিলো মেইনলি সবলতা ও দুর্বলতার দিকগুলা। এখন বাকিটা নির্ভর করে স্কালোনির ট্যাক্টিক্স এর উপরে। আশা করি, এই স্কোয়াড নিয়ে আর্জেন্টিনা যথেষ্ঠ ফাইট দিবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদেরকে এবং সোনার ট্রফিটা অর্জন করবে। লিও মেসির ক্যারিয়ারের উপরে চেরির মতো একটা বস্তু অর্জন করার জন্য সবাই লড়বে বলা আশা করা যায়। বাকিটা সময়ের অপেক্ষা! 🇦🇷

Author: Iftekhar Islam

Photos from Sportologists's post 17/12/2022

বিশ্বজয়ের দোরগোড়ায় আবারো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স🇫🇷!!! আল বায়েত স্ট্যাডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়া সেমি ফাইনালে মরক্কো🇲🇦 কে ২ - ০ গোলে পরাজিত করে লস ব্লুস রা টানা দ্বিতীয়বার এর মত ফাইনালে!!! ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে নীল সাদা মেসির আর্জেন্টিনা🇦🇷 এর সাথে!!! বিশ্বকাপ ট্রফি উঠবে এই দুই নীলের মধ্যে কারো হাতেই!!!

🔵সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়া ফ্রান্স🇫🇷 ও মরক্কো🇲🇦 কে নিয়ে সবার জল্পনা কল্পনার শেষ ছিলো না। কে অবশেষে ফাইনালে অপ্রতিরোধ্য মেসির মুখোমুখি হবে, এটিই ছিলো সবারই জিজ্ঞেসা। কেউ কেউ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের অসাধারন ও অভিজ্ঞ স্কোয়াডকে এগিয়ে রাখছিলেন, আবার কেউ কেউ ইতিহাস গড়ে তোলা আফ্রিকান আরব নেশন মরক্কো এর অতুলনীয় স্পৃহা কে এগিয়ে রাখছিলেন। তবে ম্যাচ শেষে ফলাফল হাতে পাওয়ার পরই বোঝা গেল আমরা দেখতে চলেছি, ৮ বছর পর আবারো একটি ইউরোপ বনাম লাতিন আমেরিকা’র বিশ্বকাপ ফাইনাল!!! ডিফেন্ডার Theo Hernandez এর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে বদলি হিসেবে নামা তরুণ Kolo Muani এর গোলের মাধ্যমে ফ্রান্স মরক্কো কে প্রথম আফ্রিকান ও আরব দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার ইতিহাস রচনার স্বপ্নকে ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়! ২-০ গোলে এক বিজয়ের পর ফ্রেঞ্চরা এখন ২য়বারের মতো বিশ্বজয় করার থেকে মাত্র এক পা দূরত্বে আছেন। তাদের পূর্বে এই ইতিহাস গড়া কেবল ইতালি এবং ব্রাজিলের দ্বারাই সম্ভব হয়েছিলো! দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে না ছোয়া এই রেকর্ড এইবার হতে চলেছে Mbappe, Varane, Griezmann দের, যদি তারা কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ আসরের শেষ ম্যাচটিতে জয় লাভ করতে পারেন!

🔵তবে ফ্রান্স🇫🇷 এর জয় খুব একটি সহজ হয়নি। মরক্কো🇲🇦 একের পর এক অ্যাটাক করে গেছে প্রথম গোল হজম করার পর থেকেই; তাদের কাছে বল ও ছিলো প্রায় ৬১% সময়ে এবং তার ফ্রেঞ্চ গোলে প্রায় ১৩টি মত শট ও নেন। তাদের আবেগ, স্পৃহা, সাহস ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে তারা বারবার হানা দিয়েছিলেন ফ্রেঞ্চ শিবিরে! রাইট ফ্ল্যান্ক থেকে করা Hakimi, Ziyech, Boufal, Ounahi এর একের পর এক অ্যাটাক করা সত্ত্বেও তারা ফ্রেঞ্চ গোলে বল জড়াতে পারেননি। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ফ্রেঞ্চ ডিফেন্স ছিলো অটল এবং মরক্কো অ্যাটাক বল হারানো মাত্র ফ্রেঞ্চ অ্যাটাকার দের দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এর জন্য ফ্রান্স এর উপর থেকে প্রেশার কিছুটা হলেও দূর হয়! দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, মরক্কো পূর্বের মতো কোনো ম্যাজিক দেখাতে পারেননি এবার, তবে প্রথমবারের মত আফ্রিকান আরব নেশন হিসেবে বিশ্বকাপে সেমি ফাইনাল পৌঁছে রেকর্ড করে, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দের কাছে হেরে হয়তো কিছুটা হলেও তাদের দুঃখ লাঘব হয়েছে!

🔵খেলার শুরু থেকে যদি আমরা দেখি, তবে দেখতে পাবো পূর্ববর্তী ম্যাচ এর মতো করেই ফ্রান্স এর একাদশ গঠিত হলেও, তার মধ্যে থেকে ২টি বড় পরিবর্তন রয়েছে, যেখানে ক্যামেল ভাইরাস এর কারনে অসুস্থ হওয়া দলের রেগুলার স্টার্টার Upamecano এবং Rabiot এর বদলে মাঠে নামেন Konate এবং Fofana! এরা দুইজনই এই বিশ্বকাপে যথাক্রমে মাত্র ২টি এবং ১টি ম্যাচ স্টার্ট করেছেন। স্বাভাবিক ভাবেই ফ্রেঞ্চ ফ্যানরা শঙ্কায় ছিলেন যে তাদের রেগুলার সেরা একাদশে নতুন এই দুজন কিভাবে ফিট হতে পারবেন এবং তাতে ফ্রান্সের খেলায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পরবে কিনা! তবে সকল কেই স্বস্তি দিয়েই Konate এবং Fofana খেলেছেন দুর্দান্ত এবং সাহায্য করেছেন ফ্রান্স কে একটি অতি জরুরী ক্লীন শীট রক্ষা করেছেন! অন্যদিকে গোলপোস্টের নিচে থাকা ক্যাপ্টেন Lloris ও ছিলেন গত ম্যাচের মতই দুর্ভেদ্য, অসাধারণ ২টি ডাইভিং সেভ করে তিনি তার দলকে বাচিয়েছেন নিশ্চিত গোল হজম করার মতো অবস্থা থেকে। সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার Varane এবং দুই ফুলব্যাক Kounde এবং Theo রাও মরক্কো এর ভয়ানক অ্যাটাক কে প্রতিহত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছেন। Theo তো ফ্রান্সের হয়ে প্রথম গোল ও এনে দেন মাত্র ৫ম মিনিটে। এরপর পুরো ম্যাচই তিনি খেলেছেন অসাধারণ। মিডফিল্ডেও সদা প্রানবন্ত Tchouameni তার পূর্বের ক্লাবমেট Fofana এর সাথে যে খুব ভালোমতই মানিয়ে নিয়েছিলেন, তা স্পষ্ট তার খেলার মাধ্যমেই বোঝা যাচ্ছিলো। তবে আজ মিডফিল্ডের প্রানভোমরা ছিলেন Griezmann!!! তার মধ্যে যেন ইনজুরি তে পরা তার টিমমেট Kante এবং Pogba এর আত্মা ভর করেছিলো। তিনি যেমন ছিলেন অ্যাটাকে Pogba এর মতো অপ্রতিরোধ্য, তেমনই ডিফেন্সে ছিলেন Kante এর মতো প্রানবন্ত!! তিনি মাঠে সবচেয়ে বেশি(৪) টি চান্স ক্রিয়েট করেন এবং সবচেয়ে বেশি গ্রাউন্ড কভার করেন! এছাড়া প্রথম গোলেও তার অবদান ছিলো সবচেয়ে বেশি। রাইট ফ্ল্যাঙ্কে Varane এর দেওয়া ডিফেন্সচেড়া পাসটি Griezmann এর পায়ে চলে যাওয়ার পর ই লেফট ফ্ল্যাঙ্কে Mbappe এবং Theo স্পেস পান। পরবর্তী তে Griezmann এর ক্রসেই Mbappe পরপর ২টি শট নিলেও তা প্রত্যেকবারই মরক্কান ডিফেন্সিভ ওয়ালের জন্য ডিফ্লেক্ট হয়ে যায়, তবে ভাগ্যবশত ২য় শট টি ডিফ্লেক্ট হয়ে লেফট ফুলব্যাক Theo এর নাগালে চলে আসে; এর পরে Theo এর দুর্দান্ত এক্রোবেটিক ফিনিশিং এর জোরে ফ্রান্স ম্যাচের প্রথম গোল টি করতে সক্ষম হয়। বলে রাখা ভালো, ফ্রান্স প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকার পর কখনোই কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচ হারেনি, এবং এটি এবারও সত্য প্রমাণিত হলো! অন্যদিকে উইঙ্গার হিসেবে খেলা Dembele এবং Mbappe রাও এ ম্যাচে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য! একের পর এক উইং থেকে অ্যাটাক তৈরি করেছেন তারা! এবং ফ্রান্সের ২য় গোল টি ও আসে Mbappe এর কল্যাণেই। ৭৯তম মিনিটে হওয়া একটি ফ্রেঞ্চ অ্যাটাকে, স্ট্রাইকার Giroud এর বদলি হিসেবে নামা Marcus Thuram এর নেওয়া রানে তাকে সাহায্যে মরক্কান ডিফেন্স এড়িয়ে ডিবক্সে ঢুকে পরেন Mbappe; বল Marcus থেকে তার পায়ে বদল হওয়া মাত্র তার দ্রুত পায়ের জাদুতে একনাগাড়ে ৪ ডিফেন্ডার কে কাটিয়ে যান তিনি; এবং শেষ মুহূর্তে এক শট নেন তিনি যা পূর্বের মতই ডিফ্লেক্ট হয়ে যায়; এবং ফ্রান্সের কল্যাণেই ডিফ্লেক্ট হওয়া বলটি আরেক ফ্রেঞ্চ প্লেয়ার এর পায়ে গিয়ে গড়ায়; সেই প্লেয়ার টি হলেন বদলি নামা Randal Kolo Muani এবং ২৪ বছর বয়সী এই Frankfurt স্ট্রাইকার মোটেও সেই সুযোগ টি মিস করেননি; সজোরে ঢুকিয়ে দিয়েছেন জালে!! তার মাঠে নামার মাত্র ৪৪ সেকেন্ডের মাথায় এই গোল টি হয়, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে বদলি হিসেবে নেমে গোল করার ৩য় দ্রুততম রেকর্ড!! এই গোলের কারণেই ফ্রান্স তাদের জয় সুনিশ্চিত করতে সক্ষম হন!! এসবের পাশাপাশি ফ্রেঞ্চ রেগুলার স্ট্রাইকার Giroud এর কথা না বললেই না, তিনি ফ্রান্স এর হয়ে এই পুরো বিশ্বকাপে অসাধারণ খেলে ৪ গোল করলেও, আজকে যেন তার দিন ছিলো না! তার নেওয়া টোটাল ৩ শট এর মধ্যে একটি বারে লাগে, একটি ব্লকড হয়ে যায় এবং অন্য একটি ক্লিয়ার চান্স তিনি মিস করেন! এই বড় বড় চান্স গুলো গোলে পরিণত হলে হয়তো আমরা ফ্রান্স এর একটি খুব ই আরামদায়ক একটি জয় দেখতে পেতাম।

🔷️MAN OF THE MATCH: ANTOINE GRIEZMANN🇫🇷

🔷️MATCH STATS:

FRANCE 🇫🇷 MOROCCO 🇲🇦

39% Ball Possession 61%

2.10 Expected Goals(xG) 1.00

14 Total Shots 13

3 Shots on Target 3

3 Big Chances 1

2 Big Chances Missed 1

293(81%) Accurate Passes 500(87%)

11 Fouls Committed 11

4 Offsides 3

2 Corners 3

🔷️ম্যাচ স্ট্যাটস দেখে হয়তো বোঝা যাচ্ছে যে ফ্রান্স বলের সিংহভাগ দখল না রাখলেও তারা তাদের কম সুযোগ গুলোকেই কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যদিকে তাদের পজেশন কে একটি ভালো ফিনিশার এর অভাবে গোলে রূপান্তর করতে পারেননি। তবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে তারা যথেষ্ট ভালোই খেলেছেন, এবং তাদের এই অসাধারন পারফর্মেন্স হয়তো আরো অনেক আফ্রিকান, এশিয়ান, আরব দেশকে এভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের কে শক্তিশালী হিসেবে তুলে ধরতে অনুপ্রেরণা দিবে। মরক্কো দলকে আগামীর জন্য শুভ কামনা।

🟦এখন আপনাদের কি মতামত? Mbappe, Giroud, Griezmann রা কি পারবে আবার বিশ্বজয় করতে? তারা কি ৬০ বছরের পুরোনো সেই রেকর্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারবে? তারা কি এবার Lionel Messi এর দুঃস্বপ্ন হয়ে আরেকটি ফাইনাল হারের জন্য দায়ী হবে? নাকি Neymar, Cristiano Ronaldo, Suarez এর কান্নার পর Messi এর হাসিতেই মুখরিত হবে সারা বিশ্ব???
সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে এই আসরের ৬৪তম ম্যাচে, ১৮ তারিখ রবিবারেই!!!

Author: Sarwad Hasan Siddiqui
Sources:Twitter(Equipe de France), Fotmob, Opta Analyst, Al Jazeera

Photos from Sportologists's post 17/12/2022

সব অপেক্ষার পালা শেষ । ১৮ তারিখ বাংলাদেশ সময় রাত ৯ টায় টানা দ্বিতীয়বার এবং নিজেদের ইতিহাসের ৩য় বার বিশকাপ জয়ের জন্যে মাঠে নামবে ফরাসীরা। গত ১২ বছরের চ্যাম্পিয়ন কার্স ভেঙে তারা জায়গা করে নিয়েছে ফাইনাল এ যেখানে তাদের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা। ইনজুরি জর্জরিত ফ্রেঞ্চ স্কোয়াড নিয়ে দেশম এতদূর আসতে পারবেন অনেকেই ভাবতে পারেননি, তবে এম্বাপ্পে, জিরু আর গ্রিজমানদের ওপর ভর করে ফ্রেঞ্চরা স্বপ্ন দেখছে আরেকটি বিপ্লবের। যেটা নীল রঙ্গা। ফাইনালের আগে আজকে ফরাসীদের শক্তিমত্তা আর দুর্বলতার জায়গাগুলো তুলে ধরা হয়েছে এইখানে ।

ফ্রান্স এর এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ ছিল তাদের ইনজুরিজনিত সমস্যা । এবার তারা তাদের সেরা স্কোয়াড নিয়ে কাতারে আস্তে পারেনি, আগেই বাদ পড়েছিলেন কান্তে, পগবা, বেঞ্জেমাদের মত তারকারা। বিশ্বকাপ চলাকালে ইনজুরিতে ছিটকে গেছেন লুকাস হারনান্দেজ। সেমিফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামতে পারেননি ভাইরাস আক্রান্ত অ্যাড্রিয়েন রাবিয়ত আর দায়ত উপামেকানো । তবে তাদের অনুপস্থিতি বড় সমস্যা হয়েছিলনা মরক্কোর বিপক্ষে । কিন্তু আর্জেন্টিনার মত দলের সাথে কেমন করতে পারে ফ্রান্স সেটাই এখন বড় বেপার। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের ডিফেন্স লাইনকে মরক্কো বারবার আঘাত এনেছিলো । সাধারনত অ্যাটাকের সময় ভারানের কিছুটা উপরে উঠে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার কাউন্টার এটাক অনেক স্পিডি হয়ে থাকে । বিশেষত লিও মেসি আর আলভারেজ লে ব্লুজদের ভোগাতে পারেন অনেকখানি । মরক্কো ম্যাচে ইব্রাহিমা কোনাতেও কিছুটা স্লপি ছিলেন , যার জন্যে মরোক্কান এটাকাররা বারবার আনমার্র হয়ে যাচ্ছিলো । দেশম তাই ফাইনালে উপামেকানোকেই চাইতে পারেন । ফরাসীদের মাঝমাঠও কিছুটা কম শক্তি প্রদর্শন করেছিল গত ম্যাচে । ফোফানা নিজের সেরাটা দিতে পারেননি । যার জন্যে হাকিমি , জিয়েখরা বারবার ফরাসী দূর্গে আঘাত করেছিলো ।তবে ইনফর্ম রাবিওত ব্যাক করলে এই জায়গাটা স্ট্রং থাকবে লে ব্লুজদের। আর্জেন্টিনার ডি পল ,পারেদেস ,ম্যাক অ্যালিস্টারদের সামনে বড় পরীক্ষায়ই পড়তে হবে শুয়ামিনিদের। লে ব্লুজরা এতোদূর আসতে পেরেছে তাদের স্ট্রং এটাকিং লাইনের সুবাদে । কিলিয়ান এমবাপ্পে এবার গোল্ডেন বুট-বল দুইটারই দাবিদার । এ পর্যন্ত তিনি ৫ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট করেছেন । তিনি চাইলে একাই সব লাইমলাইট নিজের দিকে নিয়ে যেতে পারেন । তবে এই দলে আরেকজন আছেন যিনি গোল্ডেন বলের অন্যতম দাবীদার - গ্রীজম্যান । ফ্রেন্চ টিমের মেরুদন্ড বলা চলে তাকে । মাঝমাঠ থেকে ফাইনাল থার্ড পর্যন্ত তার ডমিনেন্স , চান্স ক্রিয়েশনগুলো ছিলো অনবদ্য। অলিভিয়ের জিরু এই বয়সেও ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। পুরো ওয়ার্ল্ড কাপ জুড়ে তার ক্লিনিকাল ফিনিশিং দিয়ে বেনজেমার অভাব একটুও বুঝতে দেননি । উসমান ডেম্বেলেও আছেন দূর্দান্ত ফর্মে । তার স্পিড দিয়েই প্রতিপক্ষের বুকে কাপন ধরাতে পারেন । তার এরিয়াল ক্রস, লো ক্রসগুলো ডিফেন্সচেরা হয়ে থাকে ।সব মিলিয়ে অলস্টার এক ম্যাচ দেখতে যাচ্ছে বিশ্ব ।

এখন ১৮ তারিখ লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে দেশম ও তার শিষ্যরা শেষটা সুন্দর করে রাঙাতে পারেন কিনা নাকি লিও মেসি তার ক্যারিয়ারের অধরা ট্রফির ছোয়া পান সেইটাই দেখার বিষয়।
Author : Aszad Nabil
Source : FFF, footmob , sportsbible .

16/12/2022

ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৫ এ হবে সেটা অনেকটা জেনে গেছেন অনেকেই। ২০২৫ এর জুনে মরক্কো তে বসবে এই আসর।যেখানে পৃথিবীর সেরা ৩২ টি ক্লাব অংশগ্রহণ করবে। অনেকেই মনে করতে পারেন আপনারা ওয়ার্ল্ড কাপ ভাইভ আবার পাবেন।তাই হয়তো অনেকেই এক্সাইটেড এটা শুনার পর।বাট যদি এটা প্লেয়ার পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে দেখেন, স্পেশালি যারা ইউরোপীয় এবং লাতিন ফুটবলার দের দৃষ্টিকোণ থেকে তাহলে আপনার কাছে মনে হবে IT'S TOO MUCH। কারন প্লেয়ার রাও মানুষ। অনেকেই জানেন যে ২৬ এ ৪৮ দলের ফুটবল ওয়ার্ল্ড কাপ।২৪ এ ইউরো এবং কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্ট।আবার ২৩-২৪, ২৫-২৬ এ দুই দুইটা ইউয়েফা নেশনস লিগ।২০২৩ এই এশিয়ান কাপ, ২৭ এ আরো একটা।।মাত্র ৪ বছরের মধ্যে এত গুলা বৈশ্বিক আসর খেলতে হবে লাতিন,ইউরোপীয় ও এশিয়ান ফুটবলার দের।এখন বলতে পারেন এগুলা তো সবসময় হয়ে আসতেসে এত মাথাব্যথা কেন?
যারা ক্লাব ফুটবল ফলো করেন, তারা জানেন টপ লিগ গুলাতে প্রতি সিজনে লিগে ৩৮ টা ম্যাচ খেলতে হয়।সাথে এফিলিয়েটেড আরও টুর্নামেন্ট যেমনঃ এফএ কাপ,কারাবো কাপ,কোপা ডেল রে,স্প্যানিশ সুপার কাপ খেলতে হয়। সাথে মহাদেশীয় ক্লাব ফুটবল যেমনঃ চ্যাম্পিয়নস লিগ,ইউরোপা লিগ,এএফসি,কনমেবল,কনক্যাকাফ ইত্যাদি প্রতি সিজনেই খেলতে হয়।
প্রতিটা সিজনের শেষ ই হয় জুন জুলাই মাসে। সারা বছর ক্লাব, দেশের হয়ে খেলার পর প্লেয়ার রা আগস্ট সেপ্টেম্বর এ একটু রেস্ট পান।যদি জুন এ ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ হয় তাহলে লিগ সিজন তাড়াতাড়ি বা দেরী করে শেষ করতে হবে। এতে ফুটবলের আমেজ টা অনেক নষ্ট হবে।।ফুটবলার দের ব্যাক্তিগত জীবন অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে আর সবচেয়ে বড় একটা এলার্মিং বিষয় হচ্ছে প্লেয়ার দের ইঞ্জুরি।এত এত ব্যাস্ত সূচির পর এমনি তেই প্লেয়ার রা ক্লান্ত যার কারনে দেখেছি এইবার এর বিশ্বকাপে অনেক প্লেয়ার ছিটকে গিয়েছে।তারপর নতুন করে ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ বা হালের ফাইনালিসিমা,নেশন্স লিগ ফুটবল এফটিপি তে যুক্ত হওয়া অনেকটা ওভারলোড মনে হয়েছে।এর কারনে অনেকের ক্যারিয়ার ইঞ্জুরিতে শেষ হয়ে যেতে পারে।

→দীপ শেখর দত্ত

Photos from Sportologists's post 15/12/2022

আর্জেন্টিনার পারফেক্ট নম্বর ৯ এর যে দুর্ভিক্ষ চলছিল তা কি এবার ঘুচতে চলেছে?

গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা এর পর আর্জেন্টিনা অনেকদিন ধরে একজন প্রকৃত নম্বর ৯ এর খোঁজে রয়েছে। মাঝে অনেক বড় বড় নাম এসেছে। কিন্তু তারা সেভাবে নিজেদের ধরে রাখতে পারেন নি বা নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করতে পারেন নি। এর কারণে দেখা গিয়েছে আর্জেন্টিনা একের পর এক বিশ্বকাপে যখন গোল দরকার তখন গোল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আর সামনে আগাতে পারে নি। ২০১৪ সালে সকলেই দেখেছি সহজ-সরল সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেন নি গোঞ্জালো হিগুয়েন। এজন্য শেষমেশ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের হাত থেকে ছিটকে যায় আর্জেন্টিনা।

কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনায় মেসির পর কেউ যদি স্পটলাইটে আসে তাহলে তিনি জুলিয়ান আলভারেজ। একেবারে অপরিচিত মুখ ছিল কিছু মাস আগে। হঠাৎ করে ম্যান সিটি তাকে সাইন করে ও একজন বেঞ্চে বসে থাকা স্ট্রাইকার যে বিশ্বকাপে এভাবে জ্বলে উঠবে কেউ তা এক্সপেক্ট করে নি।

আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি কোপা আমেরিকার সময় থেকে লাউতারো মার্টিনেজ কে অন্যভাবে প্রস্তুত করে ছিলেন। তিনিই ছিলেন কোচের ট্রাম কার্ড ও আস্থা। তবে বিশ্বকাপে এসে তিনি যেন একরকম হারিয়ে যান। গ্রুপ পর্বের ১ম ও ২য় ম্যাচে অর্ধেকের বেশি মিনিট খেলে তেমন কোনো সুবিধা করতে পারেননি তিনি। আবার প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হোঁচটও খেতে হয়। এরপরে আলভারেজ যখন মাঠে নামলো তখন গোল বা ফিনিশিং বা পজিশনিং এর যে শঙ্কা ছিল তা বলতে গেলে একদমই কেটে গেছে। এছাড়া একজন স্ট্রাইকার হিসেবে তার যে ওয়ার্করেট তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

জুলিয়ান আলভারেজ একজন চালাক খেলোয়াড়ও বটে। প্রতিপক্ষের দুর্বলতা বা ভুল পজিশনিং কে কাজে লাগিয়ে যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে দিতে সক্ষম। বিশ্বকাপের ৬ ম্যাচে মোট ৩৬২ মিনিট খেলে মোট গোল করেন ৪টি । ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তিনি ১ম যে গোলটি‌ করেন তা সেই '৮৬ এর ম্যারাডোনার স্মৃতিকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। ভক্তরা বলছেন ম্যারাডোনা ভর করেছিল আলভারেজ এর উপর। এছাড়া তিনি মেসির পাসও ঠিকভাবে রিসিভ করতে পারছেন। আলভারেজ-মেসির মধ্যকার লিংকআপ প্লে যেকোনো দলের জন্য দুঃস্বপ্ন হতে পারে। একজন স্ট্রাইকার হিসেবে তার যত গুণ থাকা উচিত, সবগুলো নিয়ে তৈরি এই ২২ বছর বয়সী তরুণ। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন যে তিনি আর্জেন্টিনার ভবিষ্যত সুপারস্টার।

ফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে খেলবে আর্জেন্টিনা। ইতিমধ্যে লিওনেল মেসি ঘোষণা করে দিয়েছেন, এটি তার শেষ বিশ্বকাপ। তাই স্বপ্নের নায়ককে জেতাতে মরিয়া আর্জেন্টিনা দলের সদস্যরা। নিজেও দারুণ ছন্দে রয়েছেন মেসি। এই বিশ্বকাপে ৫টি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এমবাপ্পের সঙ্গে এক নম্বরে মেসি। এর পরেই রয়েছেন আলভারেজ। সবমিলিয়ে পারফেক্ট নম্বর ৯‌ এর যে আকাঙ্ক্ষা, যে দুঃখ তা কিন্তু এ বিশ্বকাপের মাধ্যমে কেটে গেছে জুলিয়ান আলভারেজ এর হাত ধরে। সেই ৩৬ বছরের অপেক্ষা হয়তো ঘুঁচবে আলভারেজ-মেসির জুটির মাধ্যমে।

Author: Tawhidul Hasan

14/12/2022

বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল ২ এ আজকে কে বিজয়ী হবে?
❤️ফ্রান্স
😮মরক্কো

আপনার প্রেডিকশন জানাতে ভুলবেন না কিন্তু।

Photos from Sportologists's post 14/12/2022

🔵⚪🔵 নানান জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা। স্বপ্ন জয়ের আরেকটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেন লিওনেল মেসি।

সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সোনার ট্রফি ছোঁয়ার দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনা। মেসির জয়ে সমর্থকদের বাঁধভাঙা উল্লাস।

বিশ্বকাপের অন্যতম হট ফেভারিট দল ছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই তাদের পরাজয়ের পর প্রশ্ন উঠেছিল অনেকের কাছে । সে সকল প্রশ্নের কড়া জবাব দিয়ে স্বপ্ন ছুঁতে চলেছে আর্জেন্টিনা । মেসির শেষ বিশ্বকাপে কি পারবে আর্জেন্টিনা বুক ফুলিয়ে সকলকে পিছনে ফেলে সেই ট্রফি উঁচিয়ে তুলতে?

আর্জেন্টিনা বনাম ক্রোয়েশিয়া ! নিশ্চয়ই সকলের মনে আছে সেই ২০১৮ সালের কথা যেখানে ক্রোয়েশিয়া ৩-০ গোলের ব্যবধানে জয় লাভ করে । আজ আর্জেন্টিনা ঠিক ৩-০‌ গোলের ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। প্রতিশোধ হয়তো এটাকেই বলে।

●প্লে-বাই-প্লে:

🔵 লুসাইল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশি সময়ে ঠিক ১ টায় শুরু হয় আর্জেন্টিনা বনাম ক্রোয়েশিয়া। পূর্বের রেকর্ড অনুযায়ী আর্জেন্টিনা যতবার সেমিফাইনাল খেলেছে ততবার জিতেছে। তাই একধরনের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছিল তারা।

ক্রোয়েশিয়া ৪-৩-৩ ফর্মেশনে খেলা শুরু করে যেখানে তাদের মিডফিল্ডে রয়েছে এ বিশ্বকাপের ৩ জন সেরা তারকা কোভাসিচ-মোডরিচ-ব্রজোভিচ। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের খেলা ও ট্যাকটিস এর সাথে তাল মিলিয়ে ফর্মেশন চেঞ্জ করে আর্জেন্টিনা। ৪-৪-২ ফর্মেশন খেলিয়ে মিডফিল্ড কমপ্যাক্ট রাখার চেষ্টা তাদের। ম্যাচের শুরুতে পুনরায় আগের মতো ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডে বল কন্ট্রোল করতে দেখি। আর্জেন্টিনা প্রথম দিকে প্রেস করতে হোঁচট খায়। তখনই সকলের মনে হয়েছে যে এটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে। ক্রোয়েশিয়া খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করে শুরুতেই যেখানে আর্জেন্টিনা প্রেস করার চেষ্টায়। আর্জেন্টিনা বল পেলেও বেশিক্ষণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয় ও বল চলে যায় আবারো ক্রোয়েশিয়ার কাছে। ক্রোয়েশিয়া মূলত উইং পজিশন দিয়ে বল প্লে করতে থাকে। তাদের মধ্যকার যে বোঝাপড়া তা মানিয়ে সুন্দরভাবে আগায় তারা। কিন্তু আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার সবসময়ই তাদের উপর ভারী পড়ে। ১৫ মিনিটের মাথায় আর্জেন্টিনা কাউন্টারে এটাকে সামনে আগাতে থাকে , কিন্তু সেখানে মেসিকে ফাউল করা হয় ও রেফারি তাতে সন্তুষ্ট নয়। ফাউলে রেফারি বাঁশি ফু দিলে তা ফ্রি-কিকে গোল করার একটি সুযোগ তৈরি হতো। যাই হোক প্রথম ২০ মিনিট ক্রোয়েশিয়া প্রায় ৬৫% পসেশন নিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে। কিন্তু কোনো শট করতে পারে নি উভয়পক্ষ।

হতাশাজনক শুরুর পর আর্জেন্টিনার ইনজো ফার্নান্দেজ দূরপাল্লার একটি শট নেন যা ঠিকই টার্গেটে ছিল তবে শটে যথেষ্ট পরিমাণ পাওয়ার জেনারেট করতে না পারায় তা গোলকিপার লিভাকোভিচ সহজেই থামাতে সক্ষম হন। ৩০তম মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার মোডরিচ প্রায় ২৫ মিটার দূর থেকে একটি জোড়ালো শট নেন যা আর্জেন্টিনার পারেদেজ এর শরীরে লাগে ও কর্ণার পায় ক্রোয়েশিয়া।

ম্যাচের মূল মোড় ঘুরে ৩২তম মিনিটে যেখানে আর্জেন্টিনা কে পেনাল্টি দেওয়া হয়। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার আলভারেজ গোল দিতে গিয়ে গোলকিপারের সাথে সংঘর্ষ হয় ও তখন রেফারিAy সাথে সাথে পেনাল্টি ঘোষণা করেন। পেনাল্টি কে নিবে তাতে সন্দেহ নেই। ৩৪তম মিনিটে মেসি উপরের ডান কোণায় একটি শক্তিশালী স্ট্রাইক দিয়ে গোল করেন। গোলকিপার লিভাকোভিচ ঠিক দিকে ডাইভ দিলেও এ পেনাল্টি ঠেকানোর সাধ্য কারোর নেই। এ নিয়ে তিনি টুর্নামেন্টে পাঁচটি গোল করে এমবাপ্পের সাথে শীর্ষ স্কোরার হিসাবে সমতায় চলে যান। ঠিক তার ৫ মিনিট পরই আর্জেন্টিনা আরেকটি গোল দিয়ে খেলা পুরোপুরি তাদের দিকে নিয়ে যায়। জুলিয়ান আলভারেজের অত্যাশ্চর্য একক প্রচেষ্টা আর্জেন্টিনাকে ২-০‌ গোলের লিড এনে দেন। এ গোলে তার ভাগ্য তাকে পুরোপুরি সাথে দিয়েছে। দুইবার রিফ্লেকশনেও আলভারেজ কোনোভাবে বল প্লে করে একটি চমৎকার গোল করে। এমনকি তখন আলভারেজ এর এই একক প্রচেষ্টা দেখে স্বয়ং ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহো মুগ্ধ হন। আর্জেন্টিনা সমর্থকরাও হতবাক । কেননা কেউ ভাবে নি যে আলভারেজের এই রান একটি গোলে কনভার্ট হবে। আর্জেন্টিনার ভক্তরা স্বপ্নভূমিতে এবং ক্রোয়েশিয়ানরা হতবাক। তাদের ভক্তরা নিশ্চুপ। তাদের খেলার নিয়ন্ত্রণ ছিল কিন্তু ৫ মিনিটের মধ্যে সবকিছু পাল্টে গেল। খেলার ৪৪ মিনিটে আরেকটি বড় চান্স পায় আর্জেন্টিনা। তবে গোলকিপার লিভাকোভিচ এবার গোল ঠেকানোর কোনো ঘাটতি রাখেন নি। এরই সাথে শেষ হয় ১ম হাফ যেখানে পসেশনের দিক দিয়ে ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে আর গোলের দিক দিয়ে আর্জেন্টিনা।

🔵 ২য় হাফে ক্রোয়েশিয়া ডাবল সাবস্টিটিউশন এর মাধ্যমে খেলার গতি পরিবর্তন করার চেষ্টায় মাঠে নামে। সেট পিসের মাধ্যমে কিছু একটা করার চেষ্টা চালিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। তবে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডাররা মাথা নত করতে একদমই প্রস্তুত না। ক্রোয়েশিয়া বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ায় আর্জেন্টিনাও পিছিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত।এখন পর্যন্ত, ক্রোয়েশিয়া কোন সফলতা আনতে পারেনি, তবে আর্জেন্টিনা শীঘ্রই কৌশল পরিবর্তন না করলে এটি সময়ের ব্যাপার বলে মনে হয়। কিছুক্ষণ পরেই আর্জেন্টিনা কৌশল পরিবর্তন করে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ কে নামায় ও ৫-৩-২ ফর্মেশনে শিফট করে ডিফেন্সিভলি শক্তিশালী হয়। কোচ স্কালোনির মাথায় সঠিক ট্যাকটিকস কাজ করেছে বলে মনে হয়। ক্রোয়েশিয়া গোলের সবচেয়ে কাছে আসে ৬৪তম মিনিটে। যেখানে মোডরিচ বল ডি-বক্সে পাঠায়। লোভরেন একটুর জন্য বলের সাথে পা কানেক্ট করতে পারেন নি ও কোনো রকম ক্ষতি ছাড়া আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক ইমি মার্টিনেজ বল তা প্রতিরোধ করেন।ম্যাচের ৭১তম মিনিটে প্রায় মাঝ মাঠ থেকে মেসি চমৎকার বল কন্ট্রোল করে ডি-বক্সের ভিতরে ঢুকে। সেখানে মেসি আবারো আলভারেজ কে খুঁজে পান ও তাকে বল পাস করেন। আলভারেজ তার অন্যতম সহজ ফিনিশিং করেন ও দলকে ৩-০ গোলে এগিয়ে নিয়ে যান। সকলেই মেসির এই মাস্টারক্লাস উপভোগ করে। যেখানে ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার গ্যাভারদিওল কে এ বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার বিবেচনা করা হয়েছিল, সেখানে মেসি তাকে নাকানিচোবানি খাওয়ায়। সকল ভক্তরা হাত উঁচিয়ে "মেসি! মেসি!" চিল্লাতে থাকে।

ক্রোয়েশিয়ার মনে এক আত্মবিশ্বাস ছিল যে তারা নেদারল্যান্ডস এর মতো কামব্যাক করতে পারবে। কিন্তু ৩য় গোল হওয়ার পর তাদের সকল বিশ্বাস ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বুঝতে পারে যে এ ম্যাচ এখন তাদের সীমানা থেকে বাইরে। এরই সাথে ৮৩তম মিনিটে মোডরিচ কে সাব অফ করানো হয়। মোডরিচ ভক্তদের কাছ থেকে এই মুহূর্ত ও হাততালি ডিজার্ভ করতেন । তাই ক্রোয়েশিয়ান কোচ তা বুঝতে পেরে সেই কাজটিই করেন। ৮৪তম মিনিটে আর্জেন্টিনার একটি সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়। পাওলো দিবালার চিপ পাসের মাধ্যমে ম্যাক অ্যালিস্টার একটি ভলি নেন যা গোলবার এর কাছ দিয়ে চলে যায়।

শেষের দিকে ক্রোয়েশিয়া কিছু চান্স তৈরির চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়।এরই মাধ্যমে রেফারি চূড়ান্ত বাঁশি বাজালেন এবং আর্জেন্টিনার প্লেয়াররা ১৮ ডিসেম্বর বিশ্বকাপের ফাইনালে যাওয়ার আনন্দ উদযাপন করছে। ক্রোয়েশিয়ার প্লেয়ারদের মনে হতাশার ছাপ। কারণ তাদের অপ্রত্যাশিত রান শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আমেরিকানদের হাতে শেষ হয়ে গেছে। চার বছর আগে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকে স্তম্ভিত করেছিল ক্রোয়েশিয়া।

প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ হয়েছেন লিওনেল মেসি। সাথে সাথে জুলিয়ান আলভারেজও ডিজার্ভ করে। কেননা আজকের ম্যাচটির মোড় ঘুরে ২য় গোলটাই। পারফেক্ট নম্বর ৯ অনেকদিন ধরে খুঁজছিল আর্জেন্টিনা। অবশেষে তারা পেয়ে গিয়েছে। আর্জেন্টিনা হয় ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে না হয় মরক্কো। এ দল এবার দমিয়ে যাওয়ার জন্য মাঠে নামে নি। তাই ফাইনালে অবশ্যই আর্জেন্টিনা কে হারানো এত সহজ কাজ হবে না।

🇦🇷🇦🇷🇦🇷

Author: Tawhidul Hasan

13/12/2022

বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল ১ এ আজকে কে বিজয়ী হবে?
❤️ আর্জেন্টিনা
😮 ক্রোয়েশিয়া

আপনার প্রেডিকশন জানাতে ভুলবেন না।

Want your business to be the top-listed Gym/sports Facility in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Dhaka