07/05/2025
৭ই মে ২০১৫।
সন্ধ্যা নেমে এসেছে কাতালুনিয়ায়, কিন্তু কিন্তু ক্যাম্প ন্যুর আকাশে যেন ভাসছে অদ্ভুত উত্তেজনা। চ্যাম্পিয়নস লীগের সেমিফাইনালের ম্যাচ, স্নায়ুচাপের কাঁপনে থরথর করছিল আকাশ-বাতাস। একদিকে মেসি-নেইমার-সুয়ারেজ-জাভি-ইনিয়েস্তাদের বার্সেলোনা আর একদিকে লেভানডফস্কি-জাবি-বোয়াটেং-নয়্যারদের বায়ার্ন।
চ্যাম্পিয়নস লীগ বিগ নাইট, এমন রাতে মেসি ম্যাজিক হওয়া স্বাভাবিক। তাছাড়া রাতটা তাঁর জন্য আরও বেশি স্পেশাল ২০১৪ সালে যে জার্মানি দলের কাছে বিশ্বকাপ হারলেন সে দলের অনেকেই যে আছেন এই বায়ার্ন দলটায়। মেসির তাই এই দলটার প্রতি সামান্য জেদ তো ছিলই। কিন্তু মেসির সে আগুনে যেন স্ফুলিঙ্গ ছুড়ে দিলেন বায়ার্ন গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যার, ম্যাচের আগে এক ইন্টারভিউতে তিনি বলে ফেললেন, “আমি মেসিকে দেখিয়ে দেব আসল বস কে!”
২০১৫ সনের ৭ই মে, চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের সেই ফুটবল মহাযুদ্ধের কিক অফ...
প্রথম বাঁশির সাথে সাথেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুই শিবির। মাঠ যেন এক চলমান দাবার বোর্ডব,পাঞ্জা কষে চলছে পরিকল্পনার প্রতিআক্রমণ। নেইমার, মেসি, সুয়ারেজদের পায়ে ছিল জাদুর আভাস, কিন্তু তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান ম্যানুয়েল নয়্যার। অন্যদিকে বায়ার্নও বসে থাকেনি। তারাও চেষ্টা করেছে কিন্তু ভাগ্য কিংবা ব্যর্থতা—গোলের মুখে গিয়ে থমকে গেছে দুদলেরই প্রচেষ্টা। ম্যাচের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দুইদলেরই রক্তে। শুধু পায়ে নয়, ধাক্কায়, ট্যাকলে, চোখের দৃষ্টিতে। প্রথমার্ধ জুড়ে একের পর এক ফাউল, যেন প্রতিটি স্পর্শেই বাজছে যুদ্ধের দামামা। অবশেষে, প্রথম ৪৫ মিনিটের পর্দা নামে। স্কোরবোর্ডে শূন্য, কিছু করতে পারেনি কোন দলই।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরতেও বদলায় না কিছুই, পায়ে নয় খেলাটা চলে শরীরী ভাষায়। একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ হয় দুদলই। অবশেষে ৭৭তম মিনিটে গোল করেন মেসি, বক্সের বাইরে বল পেয়ে চিরচেনা মেসির ফিনিস। বাম পায়ে বল পাঠান নয়্যারের বাম দিকে। ঝাপ দিয়েও বলটা ধরতে পারেন নি তিনি, বার্সা এগিয়ে গেল। তবে মেসির এই গোলেও বার্সার স্বস্তি আসেনি তখনও। যেকোন মূহুর্তেই ম্যাচের মোড় বদলাতে পারে, বায়ার্নের কামব্যাকও হয়ে যেতে পারে। তবে শেষের দিকে কিছু একটা হলো, সাধারণ কিছু নয়, একেবারে সুপারন্যাচারাল কিছু!
ম্যাচের ৮০ তম মিনিট, ক্যাম্প ন্যুর ডিজিটাল ঘড়ি টিকটিক করে শেষ বাঁশির দিকে এগোচ্ছে। ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার ইভান রাকিতিচ বলটা বাড়িয়ে দিলেন মেসির দিকে, বলটা পায়ে নিয়েই মেসি নিলেন ভৌ দৌড়। মেসিকে থামাতে এগিয়ে আসলেন জার্মান বিশ্বকাপজয়ী ডিফেন্ডার জেরম বোয়াটেং, কিন্তু লিওর শৈল্পিকতার উৎকর্ষ ছোঁয়া কৌশলে ছিটকে পড়েন বোয়াটেং। রঙতুলির মত বলকে নাচিয়ে ছেলেখেলা করেন বোয়াটেংকে নিয়ে। কোন রকল ধাক্কা-ট্যাকেল ছাড়া পড়ে যান তিনি,যেন কোন অলৌলিক শক্তি ফেলে দিয়েছো তাকে! এরপর পরের বাধা জার্মান গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যার, তবে তিনিও থামাতে পারলেন না জাদুকরকে। পায়ের হালকা ছোঁয়ায় বলটাকে চিপ করে বোকা বানালেন নয়্যারকে। বায়ার্নের ডিফেন্স নিয়ে খেলতে মেসির মাত্র লাগল কয়েক সেকেন্ড, মেসি ততক্ষণে সেলিব্রেশনে ব্যস্ত!
এরপর ৯৪ মিনিটে গেম কিল করে বার্সা, কিন্তু এই ম্যাচটা স্মরণীয় মেসির সেই সুপারন্যাচারাল গোলের জন্য। মেসির পায়ের সেই জাদু মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় বায়ার্ন, ঘাসে লুটিয়ে থাকা বোয়াটেং যেন এক দুঃস্বপ্নে বন্দী। মেসি সেদিন দেখিয়ে দিয়েছিলেন 'বস' কে।
মেসির এই অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয় গোলটার আজ ১০ বছর পূর্ণ হল!
লেখক: মেহেদী হাসান
12/10/2023
16/09/2023
08/09/2023
08/09/2023
04/09/2023
04/09/2023
02/09/2023
02/09/2023
01/09/2023