Cracky Fans of selecao & Los Blancos

Cracky Fans of selecao & Los Blancos

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Cracky Fans of selecao & Los Blancos, Professional Sports Team, Dhaka.

16/01/2021

পেলে, অফসাইড ও নিন্দুকদের প্রতিষ্ঠিত এক মিথ্যে গল্প--

পেলের ক্যারিয়ারে গোলের সংখ্যা ১২৮৩। অফিসিয়াল ম্যাচে করেছেন ৭৫৭ গোল ৮১২ ম্যাচে। বাকী ৫০০+ গোল করেছেন আনঅফিশিয়াল ম্যাচে। সান্তোস অনেক গুলো প্রীতি ম্যাচ খেলেছে ইউরোপ, আমেরিকার বড় বড় ক্লাব গুলোর বিপক্ষে। সেইসব ক্লাব গুলোর বিপক্ষে করা পেলের গোলগুলোকে আনঅফিশিয়াল হিসেবেই কাউন্ট করা হয় দুর্ভাগবশত। অফিশিয়াল ও আনঅফিশিয়াল মিলিয়ে ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর বিপক্ষে পেলের গোল সংখ্যা ১৩০ ম্যাচে ১৪৪। পেলের সময় ইউরোপীয় লীগের চেয়ে ব্রাজিলের লীগ বর্তমানের মতো পিছিয়েও ছিলো না।

অফসাইডের রুলস ফুটবলে যুক্ত হয় ১৮৬৩ সালে অর্থ্যাৎ পেলের অভিষেকের প্রায় ১০০ বছর পূর্বে। ১৯২৫ সালে ফিফা অফসাইড রুলস কিছুটা পরিবর্তন করে অফিসিয়ালি প্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৩০ বিশ্বকাপ থেকেই বিশ্বকাপে অফসাইড রুলস ছিলো। পেলের ফুটবলে আগমন ১৯৫৬ সালে। ১৯৫৬ সালে ব্রাজিলিয়ান লীগ ও দক্ষিণ আমেরিকার সব প্রতিযোগীতায় অফসাইড রুলস ছিলো। ব্রাজিলীয়ান লীগে পেলে ১৮ বছর খেলেছে এবং সেই ১৮ বছরই অফসাইড রুলস ছিলো ব্রাজিলীয়ান লীগে। পেলের সময় আন্তর্জাতিক ফুটবলেও অফসাইড রুলস ছিলো। কিন্তু না জেনে নিজের মূর্খতা সবার সামনে প্রকাশ করার জন্য অনেকে মিথ্যাচার করে যে পেলের যুগে অফসাইড ছিলো না। ১৯৫৬-১৯৭৪ সাল পর্যন্ত পেলে অফসাইড রুলসের অধীনে ছিলেন। অফসাইড রুলসের অধীনেই করেছেন প্রায় ১১০০ গোল। ১৯৭৪ সালে সান্তোসকে বিদায় জানিয়ে যোগ দেন আমেরিকান লীগে। সেই লীগে দুই বছর খেলেন। আমেরিকান লীগে তখন অফসাইড রুলস ছিলো না। সেখানে ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ দুই বছরে তিনি অফসাইড রুলস ছাড়া খেলেছিলেন। ২০ বছরের ক্যারিয়ারের ১৮ বছরই খেলেছেন অফসাইড রুলসের আওতাধীন। শেষ দুই বছর মাত্র খেলেছেন অফসাইড রুলস ছাড়া। অর্থ্যাৎ অফসাইডে তার গোল ৫০টাও হবে না। তবুও যদি কেউ বলে পেলের যুগে অফসাইড ছিলো না কিংবা পেলের বেশিরভাগ গোল অফসাইডে তবে সে অজ্ঞ, মূর্খ ও মিথ্যুক।

আধুনিক ফুটবলে অফসাইডের রুলসের তুলনায় পেলের যুগে অফসাইড রুলস বেশি কঠিন ছিলো। আধুনিক ফুটবলে প্রতিপক্ষের একজন প্লেয়ারের (গোলকিপার সহ দুজনের) পেছনে থাকলে অফসাইড হয় না। এই রুলস চালু হয় ১৯৯০ সালে। কিন্তু পেলের যুগে ২ জন ডিফেন্ডারের (গোলকিপার সহ তিনজনের) পেছনে থাকা লাগতো। নয়তো অফসাইড হয়ে যেতো পেলের যুগে। এখন ভেবে দেখেন কোন যুগের অফসাইড রুলস কঠিন ছিলো? পেলের যুগের অফসাইড রুলস বর্তমানের চেয়ে কঠিন ছিলো। বর্তমান অফসাইড রুলসের অধীনে খেললে পেলের গোল সংখ্যা টোটাল ১২৮৩ নয় বরং ১৫০০+ হতো বলে অনেকের ধারনা। অফিসিয়াল গোল ৭৫৭ নয় বরং আরে অনেক বেশি থাকতো। এসব কথা কতিপয় নিন্দুকরা জেনেও না জানার ভান করে থাকে। তারা বর্তমানের সাথে অতীতের খেলার মানের পার্থক্য নির্ধারণ করে শর্ট প্যান্টের সাইজ এবং সেসময়ের ভিডিও কোয়ালিটি দেখে।

বর্তমান ফুটবল অর্থাৎ আধুনিক ফুটবলে সুযোগ সুবিধা বেশি যেটা পূর্বের ফুটবলে ছিল না। আগের যুগে মাঠের মান কিংবা বলের মান বর্তমানের মতো ভাল ছিলো না তাই প্লেয়ারদের খেলতে অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হতো। হলুদ কার্ড ফুটবলে সংযুক্ত হয় ১৯৭০ সালে। এর আগে পেলে কিংবা সেই সময়ের তারকারা কতটা ঝুঁকি নিয়ে খেলতো ভেবে দেখেন ?

Uddin

21/09/2020

আড়ালে থেকে যাওয়া হিরো

পরিবর্তন হলো জীবনের নিয়ম। বিদায় হলো জীবনের অংশ৷ তাই অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিস আমাদের মেনে নিতে হয়। কষ্ট হলেও বিদায় মানতে হয় এবং পরিবর্তনকে মানিয়ে নিতে হয়। জীবনের সব অধ্যায়কে স্বাগতম জানানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে হয় সবসময়। জীবনের সব অধ্যায়ে সফলতার দেখা পান এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। তবে হামেস রুদ্রিগেজ তার ব্যতিক্রম। ইউরোপের টপ ছয লীগের চারটা লীগেই সে সফল। নতুন সিজনে যোগ দিয়েছেন এভারটনে৷ ইপিএল হয়তো অপেক্ষা করছে তার মহাকাব্যের অংশ হতে।

২০১৪ সালে বিশ্বকাপের পর্দা উঠেছিলো বিশ্বের সবচেয়ে সফল ফুটবল দল ব্রাজিলে। জলমলে ভাবেই দ্যা গ্রেটেষ্ট শো চলতে থাকে মহাবন আমাজনের পাশের এই দেশটিতে। বিশ্বকাপে সবার চোখ ছিলো মেসি, নেইমার, রোনালদো, মুলার, ওজিল, রোবেন, স্নাইডার, বেনজেমা, ইনিয়েস্তাদের মতো তারকাদের দিকে। কিন্তু সেই আসরে বাজিমাত করেন অখ্যাত এক ফুটবলার৷ সবার চোখে বিষ্মযের আবেশ ভুলিয়ে দিয়ে একের পর এক গোল করেন ২৩ বছর বয়সী কলম্বিয়ান এক তরুণ ফুটবলার। লীগ ওয়ানের মোনাকোতে খেলায় তেমন একটা পরিচিত মুখ ছিলেন না তিনি। তবে সেই ২০১৪ আসরে টিভি, পত্রিকা, ম্যাগাজিন থেকে শুরু করে চায়ের দোখানের ফুটবলীয় আলোচনাতেও সবার মুখে মুখে থাকতো তার নাম। জেমস রুদ্রিগেজ। কলম্বিয়ার দশ নাম্বার জার্সি পরা রুদ্রিগেজের মায়াভরা নিষ্পাপ চাহনি ও সুদর্শন চেহারা একবার দেখলে কেউ সহজে ভুলে যাবার নয়। একবার থাকালে চোখ ফেরানোও কঠিন। হাজারো তরুণীর ক্রাশ হয়ে গিয়েছিলেন সেই আসরেই। শুধু কী সুদর্শন ছিলো রুদ্রিগেজ? তার পারফরম্যান্সও ছিলো জাদু। বিশ্বকাপের মতো আসরে ৬ গোল তাকে জায়গা দেয় সকল ফুটবল প্রেমীর হৃদয়ে।

১৯৯১ সালে যখন কলম্বিয়ার ফুটবলে বসন্তের ছোঁয়া তখন পৃথিবী নামক নাট্যমঞ্চে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে আবির্ভাব হয় হামসের। শৈশব কেটেছি ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে। পড়াশুনায় ছিলেনে মেধাবী। তবে তার বাবা ছিলেন ফুটবল প্রেমী। তাই ফুটবলের সাথে হামেসের পরিচয় ছোটবেলাতে। জেমস অভিনেতা হতে চেয়েছিলেন। তার এই সুদর্শন চেহারার জন্য হয়তো অভিনয়ে জায়গা করে নিতেন সহজে। কিন্তু তার তোতলামি সমস্যার জন্য সেই স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়। একাডেমিতে ফুটবল খেলার সময় কিশোর রুদ্রিগেজের পছন্দের ফুটবলার ছিলো রোনালদো। যেটা পরবর্তীতে তাকে রিয়ালে যোগ দিতে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে খেলেন কলম্বিয়া ও আর্জেন্টিনার লীগে। ২০১০ সালে ইউরোপে জেমসের যাত্রা শুরু হয় পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তোর জার্সিতে। পোর্তোর হয়ে জিতেছিলেন টানা তিনটি লীগ শিরোপা ও ইউরোপা। ২১ বছর বয়সে পর্তুগীজ লীগের সেরা প্লেয়ার হিসেবে গোল্ডেন বুট জিতে নিজের যোগ্যতার জানান দেন রুদ্রিগেজ। পোর্তোর হয়ে করেছেন ১০৮ ম্যাচে ৩২ গোল ও ৪১ অ্যাসিষ্ট। ২০১৩ সালে রেকর্ড ৩৮ মিলিয়নের বিনিময়ে পোর্তো থেকে পাড়ি জমান লীগ ওয়ানের ক্লাব মোনাকোতে। ২২ বছর বয়সেই হয়ে যান কলম্বিয়ার ২য় সর্বোচ্চ দামী প্লেয়ার। যদিও রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছিলেন কলম্বিয়ার সবচেয়ে দামী ফুটবলার হয়ে। ক্লাব পরিবর্তন হলেও পারফরম্যান্স পরিবর্তন হয়নি জেমসের। মোনাকোর হয়ে এক সিজন খেলে ১০ গোলের পাশাপাশি করেন ১৪ অ্যাসিষ্ট। জায়গা পেয়েছিলেন লীগ ওয়ানের টিম অব দ্যা সিজনে৷

তারপর শুরু হলো হামেস রুদ্রিগেজের স্বপ্নের বিশ্বকাপ। দশ নাম্বার জার্সি পরে রূপকথার মতোই রুদ্রিগেজের বিশ্বকাপ শুরু হলো। অভিষেক ম্যাচে গ্রীসের বিপক্ষে এক গোল ও দুই অ্যাসিষ্ট করে বাজিমাতের আভাস দেন। ৩-০ গোলে জেতা ম্যাচে তিনি হন ম্যান অব দ্যা ম্যাচ। আইভরিকোষ্টের বিপক্ষে ২য় ম্যাচে হেডে এক গোল করে আবার ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হয় হামেস। জাপানের বিপক্ষে ২য়ার্ধে বদলি নেমে করেন এক গোল। গ্রুপ পর্বে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট অর্জন করে শেষ ষোলতে উঠে হামেসের কলম্বিয়া। গ্রুপ পর্ব শেষ হলেও হামেসের ম্যাজিক শেষ হয়নি। ক্যারিযারের সেরা ম্যাচ খেললেন উরুগুয়ের বিপক্ষে। তার জোড়া গোলে বিদায় নিশ্চিত হয় দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের। ৩য় বারের মতো হোন ম্যান অব দ্যা ম্যাচ। উরুগুযের বিপক্ষে করা প্রথম গোলটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল গুলোর একটি। হামেসের হাত ধরেই ইতিহাস রচনা করে প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা পায় কলম্বিয়া। কোয়ার্টারে ব্রাজিল বাঁধা টপকাতে না পারলেও হামেস পেনাল্টিতে করেছিলেন এক গোল। ম্যাচ শেষে হামেসের স্বপ্ন ভাঙ্গার কান্নায় সেদিন কেঁদেছিলো অনেকেই। এমন মায়াভরা চেহারায় জল দেখতে বড্ড বেমানান লাগছিলো। প্রথম বিশ্বকাপেই ৫ ম্যাচে ৩ বার ম্যান অব দ্যা ম্যাচ একজন কিংবদন্তীর আগমনের পূর্বাভাস দিয়েছিলো। ছয় গোল করে ব্রাজিল বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জিতেছিলো হামেস। গোল অব দ্যা টুর্নামেন্টের খেতাবও গিয়েছিলো হামেসের ঝুলিতে । ৩য় ফুটবলার হিসেবে করে বিশ্বকাপে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল। ২০১৪ বিশ্বকাপের ম্যাজিকাল পারফরম্যান্সের প্রতিদান স্বরূপ বিশ্বকাপের অলস্টার টিম ও ড্রিম টিমে জায়গা পেয়েছিলো রুদ্রিগেজ।

বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের জন্য তাকে দলে নিতে চেয়েছিলো অনেক ক্লাব। বিশেষ করে মাদ্রিদ প্রেসিডেন্ট পেরেজ। বিশ্বকাপের পর মাদ্রিদ সাইন করায় নাভাস ও রুদ্রিগেজকে। মারিয়াকে ছেড়ে হামেসকে সাইন করানোটা প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত ছিলো অনেকের কাছে। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে প্রথম সিজনে উড়ন্ত সূচনা হয় হামেসের। ১৭ গোলের পাশাপাশি করেন ১৮ অ্যাসিষ্ট। দল ব্যর্থ হলেও লা লীগার সেরা একাদশে জায়গা করে নেন প্রথম সিজনেই। কার্লোর পরবর্তী যুগে মাদ্রিদে আর নিজেকে মেলে ধরার যথেষ্ট সুযোগ হয়নি হামেসের৷ ২য় সিজনে ৩২ ম্যাচে ৮ গোল ও ১০ অ্যাসিষ্ট করে। জিদান যুগে নিজেকে প্রমান করতে পারেন নি ভালো ভাবে। সুযোগও পেয়েছেন কম। তবে যতটুকু সুযোগ পেয়েছেন তাতে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন। ২০১৬-১৭ সিজনেও ১১ গোল ও ১২ অ্যাসিষ্ট করেন। জিদানের প্রথম একাদশে নিজের জায়গা পেতে ব্যর্থ হয়ে লোনে পাড়ি দেন জার্মানির ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে। আবারো নতুন লীগে নতুন ক্লাবে সফলতার দেখা পান হামেস। প্রথম সিজনেই বুন্দেস লীগার টিম অব দ্য সিজনে জায়গা পান। বায়ার্নের হয়ে ২ সিজনে করেছেন ১৫ গোল ও ২০ অ্যাসিষ্ট। লোনের মেয়াদ শেষে রিয়ালে ফেরত আসলেও জিদানোে আস্থা অর্জন করতে পারে নি। রিযাল মাদ্রিদের জার্সিতে তার নামের পাশে রযেছে ১২৫ ম্যাচে ৩৭ গোল ও ৪২ অ্যাসিষ্ট৷

কোন ক্লাবের হয়ে ফ্লপ ছিলেন না হামস রুদ্রিগেজ। নিজের জাদুকরী পারফরম্যান্সের জন্য লা লীগা, লীগ ওয়ান, বুন্দেস লীগা, পর্তুগীজ লীগ সব জায়গাতে অন্তত এক সিজন টিম অব দ্যা সিজনে নিজের নাম লেখিয়েছেন। বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরকিার টিম অব দ্যা টুর্নামেন্টেও জায়গা পেয়েছেন একবার করে। কলম্বিয়ার হয়ে কোন ট্রফি না জিতলেও ৭৬ ম্যাচে করেছেন ২২ গোল ও ২৫ অ্যাসিষ্ট । কলম্বিয়ার মানুষ তাকে মনে রাখবে ২০১৪ বিশ্বকাপে তাদের অবিশ্বাস্য মুহূর্তের সাক্ষী করানোর জন্য। ক্লাব ক্যারিয়ারে সাম্ভাব্য সব ট্রফি জিতেছেন। দশ বছর ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলে তার অর্জন ২৪ ট্রফি।

জেমস রুদ্রিগেজ একজন আদর্শ অ্যাটাকিং মিড ফিল্ডার। গোল করানোর পাশাপাশি গোল করার জন্যও সে পারদর্শী। সঠিকভাবে তাকে পরিচালনা করলে সিজনে ১০+ গোল ও ১৫+ অ্যাসিষ্ট তার কাছে আশা করা যায়। আবারো গুরু আনচেলত্তির অধীনে খেলার সুযোগ পেয়েছেন হামেস। আশা করি তার দুঃসময়ের পরিসমাপ্তি ঘটবে। বর্তমানে অ্যাটাকিং মিড ফিল্ডারদের ব্যবহার করেন না বেশিরভাগ কোচই। যার কারনে হামেস, ওজিল, কৌতিনহোরা অবহেলিত থেকে যাচ্ছেন। তবে কোচ সঠিক ব্যবহার করলে একজন অ্যাটাকিং মিড প্রতিপক্ষের জন্য কতটা ভয়ংকর হতে পারে তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ ম্যান সিটির ডি ব্রুইনা৷ আশা করি, এভারটনের জার্সিতে নতুন কোন মহাকাব্য রচনা করে নিজেকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আরো উপরে নিয়ে যাবেন হামেস রুদ্রিগেজ। শুভ কামনা থাকবে সবসময়৷

মাদ্রিদের সাথে হামেসের মনোমালিন্য কিছুটা হয়েছে শেষ দিকে। তবুও আশা করি খেলোয়াড়ী জীবনের পরবর্তী সময়ে বার্নাব্যুর সাথেই যেনো যুক্ত থাকে হামেস। রাজকীয় শিবিরে যেনো আবার ফিরে আসে সাবেক মাদ্রিদিস্তাদের মতো। মাদ্রিদের জার্সিতে সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ হে প্রিয়।

Uddin

21/09/2020

বিদায় "গ্রেট বেল"

সবাই চলে যায় কারন সবাইকে চলে যেতে হয়। নক্ষত্রেরও একদিন পতন হয়। নশ্বর পৃথিবীতে ধীরে ধীরে মুছে যায় অনিন্দ্য সুন্দর সবকিছু। কেউ কোন ঠিকানায় চিরস্থায়ী নয়। জীবনের প্রয়োজন সবকিছু বদলায়। অস্তিত্ব মূল্যহীন হযে গেলে নিজেকে প্রমান করার জন্য সেই প্রিয় জায়গাকেও বিদায় বলে দিতে হয়। পরিবর্তন বাধ্যতামূলক ভাবে দরকার জীবনে যদি সামনে এগিয়ে যেতে চান। তবে চলে গেলেই কী সবাই আড়াল হতে পারে? দূরত্ব বাড়লে কিংবা সম্পর্কের আগে সাবেক শব্দ লাগালেই কী অপ্রিয় হযে যায় সবাই? ভুলে যাওয়া যায় তাকে? বাস্তবতার কঠিন বেড়াজালে মায়া শব্দটা যত অসহায় হোক না কেন, দিন শেষে পৃথিবী দাড়িয় আছে মাযার উপর। সাত বছর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে কাটিয়ে একরাশ অভিমান নিয়ে গ্যারেথ বেল চলে গেলেন পুরনো ক্লাব টটেনহ্যামে। জার্সির লোগো বদলে যাবে তার পরের ম্যাচে৷ ভবিষ্যতে মাদ্রিদের জার্সিতে তাকে দেখার সম্ভাবনা খুব কম। টটেনহ্যাম থেকে ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে দামী ফুটবলার হয়ে রিয়ালে এসেছিলেন। চোখে মুখে তখন ঝলকাচ্ছিলো হাজারো অব্যক্ত স্বপ্ন। সব স্বপ্ন বেলের পূরণ হয়েছে কী না সেটা বেল ভালো বলতে পারবেন। তবে মাদ্রিদের একজন সফল ফুটবলার খেতাব তিনি ডিজার্ভ করেন। রিয়াল থেকে টটেনহ্যামে ফিরে গেলেন চোখে মুখে অতৃপ্তি, আশাহত, বেদনার চাপ নিয়ে। মাদ্রিদের হয়ে হয়তো আরো কিছু করতে চেয়েছিলেন। আরো কিছু করতে না পারার দুঃখ তাকে অনিদ্রায় ভুগিয়েছে হয়তো অনেক রাত্রি। নীরবে চোখের জল ফেলে ফিরে গেছেন লন্ডনে। যেখান থেকে এসেছিলেন সাত বছর আগে হাজরো আশা নিয়ে। রাজপুত্রের আশাহত দৃষ্টি অশ্রুসজল করেছে মাদ্রিদিস্তাদেরও। বিবিসি ত্রয়ী ভেঙ্গে যেতে দেখা কত কষ্টের ছিলো সেটা প্রকাশ করতে অভিধানের সবচেয়ে বেদনাদায়ক শব্দটাও যথেষ্ট নয়। হৃদয় মাঝে গ্যারেথ বেল যে জায়গা দখল করেছেন তা থেকে তিনি কখনো হারাবেন না।

বাগানের সবচেয়ে সুন্দর ফুলকেও একদিন ঝরে যেতে হয় নতুন কোন কুঁড়িকে জায়গা দিতে গিয়ে। কোন জায়গাতে আমরা পার্মানেন্ট না। বিদায় নামের ছোট একটি শব্দ আমাদের গন্তব্য বদলে নেয়। পরিচিত জায়গাকে পর করে দেয়। সত্যিই প্ল্যটফর্ম সবসময় থেকে যায়, পরিবর্তন হয় শুধু ট্রেনের। ক্লাবকে প্ল্যাটফর্ম এবং প্লেয়ারদেরকে ট্রেনের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। প্রিয় প্ল্যাটফর্মে সবার শেষটা সুখের হয় না। প্রফেশনাল জগতে আপনাকে সবসময় দিয়েই যেতে হবে। এখানে আবেগের কোন স্থান নেই। আপনার অস্তিত্ব কখনো মূল্যহীন হলে আপনাকে নীরবে চলে যেতে হবে। নয়তো আপনাকে যেতে বাধ্য করা হবে। বার্নাব্যুতে বেলের শেষ দিন গুলো কেটেছে বড় অবহেলায়। মুখ কালো করে তাকে ব্রেঞ্চে বসে থাকতে দেখলে মনে হতো পৃথিবী জুড়ে বিষাদের ছায়া। ট্রফি সেলিব্রেশনের দিনেও নেই তার মধ্যে উত্তেজনা। বেলের বিধ্বস্ত চেহারা দেখে মনে হতো ভেতরে কোন আগ্নেয়গিরি নিয়ে দিন পার করছেন। নিজের ইগোর কাছে নিজে পুড়ছেন। ইনজুরি, শেষ দিকে প্রফেশনালিজমের অভাব তার অগ্রসরকে স্থিমিত করে দিয়েছে। রিয়ালে তার ভবিষ্যত অন্ধকার হয়ে গিয়েছিলো। তাই বলা যায়, জোর করেই তাকে টটেনহ্যামে পাঠানো হয়েছে।

বরাবরের মতো সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদ নামবে। ১১ নম্বর সাদা জার্সি গায়েও কেউ একজন নামবে। গোল হবে। উল্লাস হবে। শুধু নামা হবে না গ্যারেথ বেলের। মাঠের ডান পাশে লম্বা চুল ওয়ালা এই প্লেয়ারকে দেখতে না পারার কষ্ট ভোগাবে দীর্ঘদিন। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে নিজের গতি দিয়ে বার্নাব্যুতে নাস্তানাবুদ করতে দেখা যাবে না আর বেলকে। তার ইনজুরির সংবাদ দলকে করবে না আর কখনো বিচলিত। তাকে দলে না রাখায় কাঠগড়ায় দাড় করানো হবে না জিদানকে আর কখনো।

গ্যারেথ বেলের উত্থান হয়েছিলো টটেনহ্যামের জার্সিতে। গত দশকের শুরুর দিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে টটেনহ্যামের এক স্টাইলিশ তরুণের সবার নজর কেড়েছিলেন। তাকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন দেখে লন্ডনের সাদা শিবির। নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে টটেনহ্যাম ফ্যানদের চোখের মনি হয়ে উঠেন দিনে দিনে। নিখুঁত ক্রস, বিদ্যুৎ গতিতে দৌড়, দ্রুত পাস, ড্রিবলিং দিয়ে একজন ল্যাফট ব্যাক থেকে হয়ে গেলেন সময়ের সেরা উইংগার। খেলেছেন মিডফিল্ডার হিসেবেও অনেক ম্যাচে। মাঠের বাম পাশে চলতো শুধু বেলের জাদু। সেটা পরবর্তী দেখা গেছে মাঠের ডান পাশেও। টটেনহ্যাম ফ্যানদের কাছে সেই সময় সেরা দৃশ্য ছিলো বিদ্যুৎ গতিতে দৌড়ে ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে ড্রিবলং করে দৃষ্টিনন্দন শটে বল জালে পাঠাচ্ছেন স্পাইক করা চুলের এক তরুণ। ফ্রী কিক নিতেও পারতেন দক্ষতার সাথে। নাম তার গ্যারেথ বেল। ভক্তরা তাকে ডাকা শুরু করে গ্রেট বেল। টটেনহ্যামের জন্য বেল অবশ্যই এক গ্রেট নাম। টটেনহ্যামের জার্সিতে লীগ কাপ ছাড়া কোন ট্রফি জুটে নি বেলের কপালে। তবে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে জিতেছেন একের পর এক ব্যক্তিগত অ্যাওয়ার্ড। স্বভাবতই তখন তার উপর চোখ পড়ে ইউরোপের বড় বড় ক্লাবের। ১০০ মিলিয়ন অফার করে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে পেরেজ রিয়াল মাদ্রিদে নিয়ে আসেন সেই গতিদানবকে। নেইমারকে কেনার চেষ্টা করেছিলো রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়ে উঠেনি বিভিন্ন কারনে। তাই নেইমারের পরিবর্তে বেলকে এতো দামে সাইন করানোটা পেরেজের ক্ষোভ হিসেবে দেখেছিলো সমালোচকরা৷ এতো দাম দিয়ে কেনা প্লেয়ার ফ্লপ যাবে কী না সেটা নিয়ে চতুর্দিকে তখন আলোচনার ঝড়। গ্যারেথ বেল রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সাত বছরের ক্যারিয়ারে মিস করেছে প্রায় অর্ধেকের মতো ম্যাচ ইনজুরির কারনে। শেষ দুই সিজন তো মাঠেই দেখা যেতো না। তবুও প্রথম হান্ড্রেড মিলিয়ন ম্যানকে কেউ ওভাররেটেড তকমা দিতে পারে নি। পেরেজের একশ মিলিয়নের প্রতিদান দিয়েছেন কড়ায় গন্ডায। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে যখনই সুযোগ পেয়েছেন তখনই দুহাত ভরে দিয়েছেন। রিযাল মাদ্রিদ শিবিরে সেভাবে কখনো হাইলাইট না হলেও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন সবসময়। ইনজুরি ও আত্মঅভিমানী স্বভাব তার ক্যারিয়ারকে অনেক উঁচুতে নিয়ে যেতে দেয় নি। তবে মাদ্রিদিস্তাদের হৃদয়ে তিনি থাকবেন সবসময়।

ওয়েলেসের রাজধানী কার্ডিফে বেলের জন্ম ১৯৮৯ সালে। ফুটবলের হাতেকড়ি সাউথহ্যাম্পনে। ফুটবলের পাশাপাশি রাগবি, ব্যাডমিন্টনে খেলেছেন একাডেমি পর্যায়ে। ২০০৭ সালে তাকে কিনে নেয় টটেনহ্যাম। পরের যাত্রা রূপকথার এক বীরের। তবে রূপকথার শুরুটা ছিলো ব্যর্থতায় সাজানো। অনেক কাঁটাময় পথ অতিক্রম করে বেলকে আজকের এই অবস্থানে আসতে হয়েছে। টটেনহ্যামের হয়ে গ্যারেথ বেল মাঠে নামলেই দল হেরে যেতো। সেটা নিয়ে ট্রলের শিকার হয়েছেন ইংলিশ মিডিয়ার কাছে বহুদিন। টটেনহ্যামের জার্সিতে বেল জয়ের দেখা পান অভিষেকের ২৪ ম্যাচ পর। অনেক সাধনার পর একবিংশ শতাব্দীতে টটেনহ্যাম প্রথম বারের মতো চ্যাম্পিয়ানস লীগে খেলার সৌভাগ্য অর্জন করে ২০১০-১১ সিজনে। তখন ইউসিএল খেলা স্বপ্নের মতো ছিলো টটেনহ্যামের কাছে। সেই আসরে নিজের আগমনী বার্তার সংকেত দেন বেল। গ্যারেথ বেল কেমন সেটার সংঙ্গা সবচেয়ে ভাল দিতে পারবেন ইন্টার মিলানেে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মাইকন। বেলের গতি ও ড্রিবলিংয়ের কাছে কতটা অসহায় ছিলো গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচে মাইকন তা ম্যাচে দর্শকের টিটকারি থেকে বুঝা যাচ্ছিলো। ইন্টারের সাথে দুই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়া ম্যাচে বেলের হ্যাট্টিকে জয় পেয়েছিলো দশজনের টটেনহ্যাম। উইঙ্গাররা যে শুধু ক্রস নয়, গোলও দিতে পারে সেটা ততদিনে সবাইকে জানান দিচ্ছিলেন মেসি, রোনালদোরা। বাম পায়ের ফুটবলার বাম পাশের উইংয়ে খেলবে এমন প্রচলিত নিয়ম থেকে বের হয়ে আসছিলো তখন মডার্ণ ফুটবল। কিন্তু বা পায়ের বেল মাঠের বাম পাশে খেলেই ক্রস, গোল করে যাচ্ছিলেন সমান ভাবে। মেসি, রোনালদোর পর তর্কসাপেক্ষে গত দশকের অন্যতম সেরা উইংগার বলা যায় গ্যারেথ বেলকে। টটেনহ্যামে ল্যাফট ব্যাক, ল্যাফট মিড, ল্যাফট উইং তিন জায়গাতেই খেলেছেন স্পীড স্টার গ্যারেথ বেল। বেলকে শুধু রাইট ব্যাক দিয়ে আটকানো যেতো না তার গতির জন্য। তাই প্রতিপক্ষ বেলকে থামানোর জন্য রাইট ব্যাকের সাথে একজন মিড ফিল্ডারকে রাখতে হতো বেলকে থামাতে। এই ট্যাক্টিসে বেলকে থামাতে সফলও হয়েছিলো ইউনাইটেড, আর্সেনাল, এভারটনের কোচরা। তখন টটেনহ্যাম কোচ বেলকে দিলেন ফ্রী রুল। ল্যাফট, রাইট কিংবা মিড সব জায়গায় খেলতে লাগলেন বেল। বহুমাত্রিক বেল হয়ে উঠলেন আরো অপ্রতিরোধ্য। তার এই প্রতিভার প্রতিদান হিসেবেই রিয়াল মাদ্রিদের রাইট উইংয়ের জন্য তাকে চয়েজ করে তৎকালীন কোচ মরিনহো। যদিও মরিনহোর অধীনে খেলা হয়নি গ্যারেথ বেলের। বেল যখন উইংয়ে খেলতেন তখন স্তব্ধ হয়ে ফুটবলের সৌন্দর্য্য উপভোগ করা ছিলো ভিনটেজ পানের মতো। টটেনহ্যামের হয়ে লীগে ১৪৬ ম্যাচে গ্যারেথ বেলের পা থেকে এসেছিলো ৪২ গোল। সর্বমোট করেছেন ৫৬ গোল ও ৫৮ অ্যাসিষ্ট। ইংল্যান্ডে ছয় বছর কাটিয়ে দুইবার জিতেছেন প্রিমিয়ার লীগের বর্ষসেরার পুরুষ্কার। তিনবার জায়গা পেয়েছেন ইপিএলের বর্ষসেরা একাদশে। ইপিএলের সেরা ইয়াং প্লেয়ার হয়েছেন এক বার। ইউসিএলের বর্ষসেরা একাদশেও জায়গা করে নিয়েছিলেন এক বার। টটেনহ্যামের বর্ষসেরার মুকুটও মাথায় পরেছেন। টটেনহ্যামের জার্সিতে এমন ব্যক্তিগত অর্জন ঈর্ষার যোগান দিবে অনেকের মনে।

রিয়াল মাদ্রিদে আগমনের পর গ্যারেথ বেল শুধু নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন। গোল, অ্যাসিষ্ট, ট্রফি কোন কিছুর কমতি হয়নি। এল ক্লাসিকো কিংবা মাদ্রিদ ডার্বি সব জায়গাতে ছিলেন উজ্জ্বল। লিসবন, মিলান, কার্ডিফ, কিয়েভ সব মহাকাব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন গ্যারেথ বেল। ফর্ম ইজ টেম্পোরারি বাট ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট এর সেরা উদাহরণ সম্ভবত ওয়েলসের এই ফরোয়ার্ড। মাদ্রিদের হয়ে কয়েক ম্যাচ খেলতেন তো পরের কয়েক ম্যাচ থাকতেন হাসপাতালের বেডে। আবার আসতেন মাঠে। আবার ইনজুরি হতেন। এটা ফুটবলে পরিচিত দৃশ্য ছিলো গত দশকে। ইনজুরি ক্যারিযারের অনেক ক্ষতি করলেও খুব বেশি দিন তাকে অফ ফর্মে রাখতে পারতো না। মাঠে ফিরেই পুরনো ভয়ংকর রূপ প্রদর্শন করতেন। তবে জিদানের সময় ইস্কো, অ্যাসেন্সিও, ভাস্কুয়েজদের ফর্মে উঠে আসা এবং গ্যারেথ বেল বারবার ইনজুরিতে পড়া বেলকে দলে অনিয়মিত করে দেয়। দুজনের মধ্যে তিক্ততার সম্পর্ক তৈরী হয়। অভিমানী বেল তখন ফিরে আসার চেষ্টা না করে উল্টো অপেশাদার হয়ে যান। ফুটবলের চেয়ে ফুটবলের বাহিরের জিনিস তার কাছে গুরুত্ব পেতে থাকে। অবহেলার সাগরে হাবুডুব খেয়েও জিদানের যুগে হারিয়ে যান নি। সেটার শ্রেষ্ঠ প্রমান লিভারপুলের বিপক্ষে ইউসিএলের ফাইনাল ম্যাচ। বদলি নেমে জোড়া গোল করে রাজকীয় শিবিরের হ্যাট্টিক ইউসিএল জেতার কারিগর। বাই সাইকেল কিকে করা গোলটি প্রশংসা পেয়েছিলো সর্বমহলে। লিসবনে লা দেসিমার ফাইনালে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সাথেও দি মারিয়ার অ্যাসিষ্ট থেকে করেছিলেন ব্যবধান বাড়ানো এক গোল। কোয়ার্টারে ডর্টমুন্ডের সাথেও করেছিলেন এক গোল। মিলানের ফাইনালে পেনাল্টি শ্যুট আউটে অবালাককে পরাস্ত করে দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন। চারটা চ্যাম্পিয়ান্স লীগের সাথে জিতেছেন চারটা ক্লাব বিশ্বকাপ ও তিনটা উয়েফা সুপার কাপ। ৬৪টি চ্যাম্পিয়ানস লীগ ম্যাচে খেলে ২০ গোলের পাশাপাশি করেছেন ১৯ অ্যাসিষ্ট। ক্লাব বিশ্বকাপে একবার হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা ও টুর্নামেন্টের সেরা প্লেয়ার। ক্লাব বিশ্বকাপের ইতিহাসে রোনালদোর পর সর্বকালের ২য় সর্বোচ্চ গোলদাতাও গ্যারেথ বেল। কোপা দেলরে ফাইনালে গতির ক্যারিশমা দেখিয়ে বার্সা বিপক্ষে করা গোলটি ফুটবলপ্রেমীদের মনে জীবন্ত থাকবে চিরদিন। সতীর্থ হিসেবে গ্রেটেষ্ট রোনালদো থাকায় রিয়াল মাদ্রিদে ব্যক্তিগত অর্জন খুব বেশি নেই বেলের। আবার লা লীগায় বেলের পজিশনে আরেক গ্রেটেষ্ট মেসি থাকায় সেখানেও আড়ালে থেকে গেছেন বেল৷ লা লীগাতে প্রথম সিজনে করেছিলেন ১৫ গোল। ২০১৫-১৬ সিজনে লীগে করেছিলেন ২৩ ম্যাচে ১৯ গোল। স্প্যানিশ লীগে তার গোল সংখ্যা ৮০। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ২৫১ ম্যাচে বেল করেছেন ১০৫ গোল। সাথে রয়েছে ৬৮ টি অ্যাসিষ্ট। দুটি লা লীগা, চারটি চ্যাম্পিয়ান্স লীগ সহ জিতেছেন ১৫ টি ট্রফি।

ওয়েলসের জার্সি গায়ে এখনো বিশ্বকাপ খেলা হয়নি গ্যারেথ বেলের। তবে ২০১৬ সালে ওয়েলসবাসীকে উপহার দিয়েছেন তাদের জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। বাছাই পর্বে শেষ ম্যাচে বসনিয়ার কাছে ২-০ হেরে ইউরো ২০১৬ অনিশ্চিত হয়ে যায় বেল-রামসিদের ওয়েলসের। তবে গ্রুপের অন্য দল ইসরায়েলও শেষ ম্যাচ হেরে যাওয়ায় প্রথম বারের মতো ইউরো কাপে জায়গা করে নেয় ওয়েলস। ৫৮ বছর পর কোন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সুযোগ পায় ওয়েলস। সেই ঐতিহাসিক আসর স্বরণীয় করে রেখেছে ওয়েলস। বাছাই পর্বে ৬ গোল ও দুই অ্যাসিষ্ট করেন দলের সেরা তারকা বেল। দলের ১১ গোলে ৮ টির পেছনে বেলের অবদান। মূলপর্বে বেল ছিলো আরো ভয়ংকর। ওয়েলস গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে উঠে। ইংল্যান্ডের কাছে হারলেও স্লোভাকিয়া ও রাশিয়াকে হারাতে সক্ষম হযেছিলো। আসরে তাদের প্রথম গোল আসে বেলের পা থেকে স্লোভকিয়ার বিপক্ষে। ইংল্যান্ড ও রাশিযার বিপক্ষেও গোল করেছেন বেল। নক আউটে আয়ারল্যান্ড ও বেলজিয়ামকে হারিয়ে প্রথম বার খেলতে এসেই সেমির টিকেট পেয়ে যায় ওয়েলস। তবে রোনালদোর পর্তুগালের কাছে হেরে তাদের স্বপ্ন সেখানেই সমাপ্ত হয়। ওয়েলসের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে ওয়েলসের হয়ে ২০০৬ এ অভিষেক হয় বেলের। নিজের ৩য় ম্যাচে ফ্রী কিকে গোল করে ওয়েলসের জার্সিতে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ডও বেলের দখলে। ৩৩ গোল করে ওয়েলসের সর্বকালের সেরা গোলদাতার মাইলফলক স্পর্ষ করেছেন ৮৫ ম্যাচ খেলে। ওয়েলসের জার্সি গায়ে জড়িয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতাতে না পারার আক্ষেপ বেল ঘুচাতে পারবে কী না সেটা সময়ই বলে দিবে।

বিবিসি ত্রয়ীর একজন হিসেবে বেলের নাম সবসময় স্বরণ করা হবে মাদ্রিদ ইতিহাসে। যা কিছু দিয়েছেন সবকিছুর জন্য কৃতজ্ঞতায় হাজার বছর পরও হৃদয় গর্বে ভরে উঠবে মাদ্রিদিস্তাদের। ক্লাবের সাথে ও কোচের সাথে বেলের মনোমালিন্য বিষয়টা সবার জানা ছিলো। তবুও এই বিষয় নিয়ে মিডিয়া কখনো বাড়াবাড়ি করার সুযোগ পায় নি। কারন বেল ক্লাবকে আঘাত করে কখনো কিছু বলেন নি। সব অপমান নীরবে সহ্য করেছেন। মনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিমিত ভাবে। কখনো ক্লাবকে ছোট করেন নি। লোনের মেয়াদ শেষ হলেও বেলের মাদ্রিদের হয়ে হয়তো আর কখনো খেলা হবে না। তবে যেখানেই খেলুক না কেনো তার প্রতি শুভকামনা থাকবে সবমসময়। নতুন ক্লাবে তার সফলতা আনন্দিত করবে আমাদের সবসময়। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ "Great Bale."

Uddin

16/09/2020

সাফ চ্যাম্পিয়ানশীপ ২০০৩: বাংলাদেশের স্বপ্নের আসর

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। রেসকোর্সের উত্তপ্ত ময়দানে শেখ মুজিবের বিদ্রোহী কন্ঠে "যার যা আছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ো" শুনে অনেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছিলেন জার্সি গায়ে ফুটবল নিয়ে।" স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল নামের সেই দলের গল্পটা আমাদের সবার জানা। এতো বছর পরও তাদের কথা মনে হলে গর্বে বুক ভরে উঠে। স্বাধীনতার এক বছর পর ১৯৭২ এ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ফিফার সদস্য পদ লাভ করে ১৯৭৪ সালে। ফুটবলে বাংলাদেশের তেমন একটা সফলতা নেই। ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার কাছে ফুটবল কখনো মাথা উচু করে দাড়াতে পারেনি একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশে। তবে একসময় আবাহনী-মোহামেডান দ্বন্ধে পুরো জাতি দুই ভাগ হয়ে যেতো। ৮০ বা ৯০ এর দশকে গ্যালারী ভর্তি দর্শক থাকতো মাঠে। সেই দিনগুলো এখন অতীত। ক্রিকেটের পেছনে যেভাবে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে সেটার এক তৃতীয়াংশ গুরুত্ব দেওয়া হয়না ফুটবলে। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের গর্ব কাজী সালাউদ্দীনের দুর্নীতিতে গত এক যুগে দেশের ফুটবল নিজের রং হারিয়েছে। নেমে এসেছে অন্ধকার। বর্তামনে ফিফা র্য্যাংকিংয়ে ২১০ দেশের মধ্যে আমরা ১৯০ তম। ফুটবলে বাংলাদেশের গর্ব করার মতো বেশি কিছু না থাকলেও এদেশের মানুষের হৃদয়ে আছে ফুটবল। স্বাধীনতার এতো বছর হয়ে গেলেও আমাদের ফুটবলে সফলতার গল্প খুবই সংক্ষিপ্ত। সাফ গেমসে চ্যাম্পিয়ান হওয়া ছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছু নেই আমাদের ফুটবল ইতিহাসে। ১৯৮০ সালে সালাউদ্দীন, মোনেম মুন্না, বাদল, মোর্শেদিদের হাত ধরে এশিয়া কাপের মূলপর্বে খেলেছিলো বাংলাদেশ৷ এর পরবর্তী প্রজন্মের আমিনুল, মুন্না, কাঞ্চন, রজনী, আরিফ খান জয়, আলফাজদের হাত ধরে জিতেছে সাফ চ্যাম্পিয়ানশীপের ফাইনাল।

ক্লাব ফুটবলে বার্সা, রিয়াল, বায়ার্ন, পিএসজি জুভেন্টাস, লিভারপুল, ইউনাইটেড, চেলসি, মিলান কোন দলের বা লীগের খেলা এ দেশের মানুষ রাত জেগে দেখে না? প্রিয় দলের হারে কত রাতে অশ্রু ঝরেছে এদেশের ফুটবল প্রেমীদের সেটা কেউ কখনো টের পাবে না। বাংলাদেশে তো সবচেয়ে বেশি আনন্দ হয় বিশ্বকাপ ফুটবলে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বিতর্কে রক্তক্ষয়ী
সংঘর্ষ পর্যন্ত হয়েছে এদেশে। বিশ্বকাপ এলে পতাকা, ব্যানারে চেয়ে যায় পুরো দেশ। প্রিয় দলের খেলায় ৯০ মিনিট হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক ভাবে চলতে থাকে সবার। চায়ের দোখান থেকে অফিস সব জায়গায় চলে ফুটবলীয় আলোচনা। প্রিয় দলের পতাকার রংয়ে বাড়ি, গাড়ি সাজানো বাঙ্গালীর প্যাশন এখন৷ ২০১৪ বিশ্বকাপে এক জার্মান ফ্যান কয়েক কিলোমিটার পতাকা লাগিয়ে অবাক করে দিয়েছিলো বিশ্বকে। তাকে সম্মাননা দিতে জার্মান ফুটবলের এক বড় কর্তা বাংলাদেশে এসে চারিদিকে
এতো পতাকা ও ব্যানার দেখে বলেছিলো, "আমার মনে হচ্ছে বাংলাদেশে খেলা হচ্ছে বিশ্বকাপ।" বাংলাদেশে বর্ষাকাল ঋতু জনপ্রিয়তো শুধু ফুটবলের জন্য। বৃষ্টিতে ভিজে কিংবা কাঁদা মেখে গ্রামে, হাওরে বা শহরের ছোট গলিতে ফুটবল নিয়ে মেতে উঠা আমাদের স্বভাব।

ফুটবল হৃদয়ে ধারন করা সেই বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাফল্যের একটি আসে ২০০৩ সালে। ২০০৩ এ সাফ ফুটবলের দশম আসর বসে ঢাকায়। টুর্নামেন্টটি ২০০২ এ অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিলো। কিন্তু বাংলাদেশের উপর ফিফার স্থগিত আদেশ থাকায় এক বছর দেরিতে আসরটির পর্দা উঠে। এএফসির অনুরোধে সেই বছর যোগ হয় নতুন দলে আফগানস্থান। প্রথম বারের মতো সাফ ফুটবল খেলতে আসে ভূটান। টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু
জাতীয় স্টেডিয়ামে। "এ গ্রুপে" ছিলো ভারত, পাকিস্তান,
শ্রীলঙ্কা, আফগানস্থান। "বি গ্রুপে" স্বাগতিক বাংলাদেশির সঙ্গী ছিলো মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান। ২০০৩ সালের দশ জানুয়ারি ঢাকায় এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দশ দিনের জন্য পর্দা উঠে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের।

বাংলাদেশের কোচ জর্জ কোটান ডিফেন্সিভ ভাবে খেলাতেন দলকে। সেই আসরে তার ফর্মেশন ছিলো ৫-৩-২। তবে খেলা শুরুর পর সেটা হয়ে যেতো ৩-৫-২ ফর্মেশনে। কারন রাইট ব্যাক ও ল্যাফট ব্যাক হাসান ও বাবু উপরে উঠে খেলতেন। ডিফেন্সে অধিনায়ক রজনী কান্তের সঙ্গী ছিলেন সুজন ও নজরুল। দলের প্রাণভোমরা ছিলো মাঝমাঠের আরিফ খান জয় ও মতিউর মুন্না৷ গেম প্ল্যান সাজানো হতো দলের মেইনম্যান আরমানকে কেন্দ্র করে। অ্যাটাকিং মিডে খেলা এই মিডফিল্ডারের পাসিং, ক্রস, লং পাস ছিলো দক্ষতার ছোঁয়া । যে কারনে বাংলাদেশ দলের আক্রমন সাজাতে নেতৃত্ব দিতেন তিনি। ফরোয়ার্ড হিসেবে ছিলেন কাঞ্চন ও আলফাজ। ৮০ দশকের দলে যে পরিমাণ তারকা ছিলো সেই পরিমাণ তারকা না থাকলেও বাংলাদেশ দল ছিলো ভারসাম্যপূর্ণ। প্লেয়ারদের সঠিকমতো ব্যবহার করে বাংলাদেশ দলকে প্রতিপক্ষের কাছে ভয়ংকর রুপে দাড় করাতেন কোচ জর্জ।

গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে নেপালের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। গ্যালারীতে উপস্থিত থাকা ৫৫ হাজার দর্শককে হতাশ করেনি বাংলাদেশ ফুটবল দল। ম্যাচের ৩০ মিনিটে আলফাজের করা গোলে ১-০ তে জিতে শুভ সূচনা করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মিনিটের আরিফ খান জয়ের করা একমাত্র গোলে জিতে জয়ের মিশন অব্যহত রাখে স্বাগতিক বাংলাদেশ। সেই সাথে নিশ্চিত হয় সেমিফাইনাল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ভূটানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ান হয় বাংলাদেশ। ম্যাচে জোড়া গোল করেন ফরহাদ, অপর গোলটি করেন টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া কাঞ্চন। তিন ম্যাচেই ক্লীনশীট রাখে বাংলাদেশ। গ্রুপ বি থেকে শেষ চারে বাংলাদেশের সাথে জায়গা করে নেয় মালদ্বীপ। গ্রুপ এ থেকে শেষ চারের যোগ্যতা অর্জন করে পাকিস্তান ও ভারত।

সেমি ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হয় টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল দল ভারত। সেমিতে হট ফেবারিট ভারতকে ২-১ গোলে হারিয়ে মহাকাব্যের জন্ম দিয়ে ফাইনালের টিকেট পায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের হয়ে ৭৭ মিনিটে কাঞ্চন প্রথম গোল করেন। কিন্তু মিনিট চারেক পর গোল শোধ করে ভারত। অতিরিক্ত সময়ে দূরপাল্লার শটে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল কর গ্যালারীতে দর্শকদের উল্লাস ফিরিয়ে আনেন মুন্না অপর সেমিতে মালদ্বীপের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় পাকিস্তান। ৩য় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে পাকিস্তানকে ২-১ হারায় ভারত।

ফাইনালে গ্রুপ পর্বে হারানো মালদ্বীপের মুখোমুখী হয় বাংলাদেশ। চোখে অনেক স্বপ্ন ও বুকে অনেক আশা
নিয়ে গ্যালারীতে ৪৬ হাজার দর্শক উপস্থিত হয়েছিলো। টিভির সামনে ছিলো হয়তো কোটি কোটি বাঙ্গালির চোখ। স্বপ্নের ফাইনালে ভক্তদের নিরাশ করেনি আমিনুল, জয়, ফরহাদ, কাঞ্চনরা। ফাইনালে ১৩ মিনিটে বাংলাদেশের একমাত্র গোল করে আবারো দলের ত্রানকর্তা হন কাঞ্চন। এটি ছিলো টুর্নামেন্টে তার তৃতীয় গোল৷ ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধ করে মালদ্বীপ। ম্যাচ গড়ায় ট্রাইবেকারে। প্রার্থনারত তখন সারা বাংলাদেশ। আমিনুল আমিনুল ধ্বনিতে মুখোরিত গ্যালারী। বাংলাদেশের ৫টি শ্যুট জালের ঠিকানা খোঁজে পায়। মালদ্বীপের ২য় শট আটকে দেন ইনজুরি নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশি গোলকিপার আমিনুল। ৫ম শটে গোল করেই জার্সি খুলে সতীর্থদের দিকে দৌড় দেন সুজন। ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরউল্লাহর কন্ঠ থেকে ভেসে আসে চ্যাম্পিয়ান চ্যাম্পিয়ান ধ্বনি। ৫-৩ ব্যবধানে জিতে প্রথম বার শিরোপা উল্লাস করে বাংলাদেশ। এটাই ছিলো সাফে বাংলাদেশে প্রথম ও একমাত্র শিরোপা। পরের সতেরো বছরের গল্প আক্ষেপের।

সেইদিন শিরোপা নিয়ে বাধভাঙ্গা উল্লাস করা বাঙ্গালীর স্বপ্ন ছিলো দেশের ফুটবলের গন্ডি আরো বড় হবে। এটা তো মাত্র উত্থান। দেশ একদিন এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ মাতাবে। সেদিনের পর কেটে গেছে সতেরো বসন্ত। ফুটবল ঘুরে দাড়াতে পারেনি বাংলাদেশে। সব স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে দুর্নীতিবাজদের জন্য। বর্তমান অবস্থা খুবই নাজেহাল। বাংলাদেশের কোচ, প্লেয়ার, ক্লাব কোন কিছুর নাম জানেনা দেশের অধিকাংশ ফুটবল প্রেমী। দেশের ফুটবলে সুদিন ফিরুক সেই স্লোগানে আবারো গর্জে উঠেছে দেশ। অনেক সম্ভাবনা থাকার পরও এগিয়ে যেতে পারছে না দেশের ফুটবল শুধুমাত্র বাফুফের দুর্নীতির জন্য। এবারের বাফুফের নির্বাচনে যেনো সৎ কর্তারা জয়ী হন সেই কামনা রইলো।

@ Burhan Uddin

30/07/2020

দ্য গ্যালপিং মেজর পুসকাস

১ম বিশ্বযুদ্ধের দামামা তখন থেমে গিয়েছে। বদলে গেছে বিশ্বের অনেক কিছু। তুরস্কে সমাপ্তি ঘটে গেছে শত শত বছর ধরে চলে আসা খেলাফতির। মুসলমানদের ক্ষমতা কমে গেছে। অটোমান সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে গিয়েছে। শান্তির জন্য গড়ে উঠেছে জাতিপুঞ্জ। পৃথিবীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মানচিত্র উল্টে গেছে পুরোপুরি। পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় হাঙ্গেরি। যুদ্ধের পরও সেই যুদ্ধে প্রকোপ কাটিয়ে উঠতে পারছিলো না দেশটা। চারিদিকে অশান্তি। যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ এমনই এক পরিবারে পৃথিবীকে শাসন করার জন্য জন্ম নেয় এক ছোট্ট শিশু। সেই শিশু বড় হয়ে নেপোলিয়ন কিংবা সিজারের মতো তরবারি দিয়ে পৃথিবী শাসন করেন নি। দুই পায়ের জাদুতে করেছেন শাসন। ফুটবল মাঠে তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ১৯২৭ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের হাঙ্গেরিতে জন্মগ্রহন করা সেই শিশু হলো ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বিষ্ময়কর তারকা পুসকাস। অনেকের মতে এই দুর্ভাগা তারকা ইউরোপের সেরা ফুটবলার। রাজনৈতিক অস্থিরতার রোষাণলে না পড়লে হয়তো তার নামের আগে লেখা থাকতো দ্য গ্রেটেষ্ট অব অলটাইম। কিন্তু ভাগ্য তো সবার সঙ্গে থাকে না। তাই পুসকাস লিজেন্ড হয়েও এক আফসুসের নাম।

পুসকাসের ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয় কিসপেষ্টের হয়ে
১৯৪৩ সালে। এর আগে এই ক্লাবের জুনিয়র দলে খেলেছিলেন। ১৬ বছর বয়সী কিশোর পুসকাস নিজের প্রতিভা দেখিয়ে ক্লাবে নিজের আসন পাকাপোক্ত করে ফেলেন। কিসপেষ্ট ক্লাবকে পরবর্তীতে হাঙ্গেরির
সেনাবাহিনী জোর করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। ক্লাবের নতুন নাম হয় বুদাপেষ্ট হনডই। সেনাবাহিনীর অধিনে যাবার পর বিভিন্ন খেলোয়াড় বিভিন্ন উপাধি পায়। যেমন সিপাহি, ল্যাফট্যানেন্ট ইত্যাদি। পুসকাস বল পায়ে দ্রুত গতিতে ছুটতে পারতেন বলে তাে উপাধি দেওয়া হয় গ্যালপিং বা বিদ্যুৎগতির মেজর।
ইউরোপিয়ান বাঘা ক্লাব গুলোকে তখন কাপিয়ে দিয়েছিলো পুসকাসের বোদাপেষ্ট। সেই ক্লাবে ১২ বছর খেলে দলকে যা যা জেতানো যায় সবই জিতিয়েছেন সেই সময়। ৫ টা লীগ ট্রফি এনে দেন দলকে। সেই পাঁচবারের মধ্যে চার বার টপ স্কোরার হন লীগের। একজন স্ট্রাইকার গোল করবেই কারন গোল করা তার পেশা। কিন্তু পুসকাসের গোল করা ছিলো পেশা এবং নেশা দুটোই। পরিসংখ্যান দেখলে পুসকাসের গোল গড় দেখে যে কারোরই হিংসে হবে। তার গোল রেশিও ০.৯৯। অর্থ্যাৎ গড় হিসেব করলে প্রতি ম্যাচেই বলকে জালের ছোয়া দিতে পেরেছেন পুসকাস। বোদাপেষ্টের হয়ে ৩৫৫ ম্যাচে ৩৫২ গোল পুসকাসের গোলমেশিন হওয়ার একটা উদাহরন মাত্র। পুসকাস দুই বার ইউরোপের লীগগুলোর সবাইকে টপকে ইউরোপের টপ স্কোরার হন। হাঙ্গেরির মানুষের কাছে তাই পুসকাস ফুটবল ঈশ্বর৷

তবে ফুটবল ইতিহাস বুদাপেষ্ট বা রিয়াল মাদ্রিদের পুসকাসকে স্বরন করে না। ইতিহাস স্বরন করে হাঙ্গেরির পুসকাসকে। হাঙ্গেরির পুসকাসকে মনে রাখতে বাধ্য। পুসকাসের যুগের আগে গাঙ্গেরির ফুটবল ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য কোন অর্জন নেই। পুসকাস যুগের পরও হাঙ্গেরির উল্লেখযোগ্য কোন অর্জন নেই। হাঙ্গেরির ফুটবল ইতিহাস পুরোটাই পুসকাসময়। ১৯৪৫ সালে অষ্ট্রিয়ার বিপক্ষে জাতীয় দলে অভিষেক হয় পুসকাসের। অভিষেকেই গোল করেন ১৮ বছর বয়সী পুসকাস। ১৯৪৭ সালে হাঙ্গেরিকে জেতান বলকান চ্যাম্পিয়ন ট্রফি। ২য় বিশ্বযুদ্ধের জন্য ১৯৪২ ও ১৯৪৬ এ অনুষ্ঠিত হয়নি। পরবর্তীতে বিশ্বকাপ ১৯৫০ এ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর রাজনৈতিক অস্থিরতায় ১৯৫০ বিশ্বকাপ খেলা হয়নি হাঙ্গেরির। রাজনৈতিক অস্থিরতার বলি হতে হয় তাদের। তবে ১৯৫০ এর বিশ্বকাপের পর শুরু হয় হাঙ্গেরির স্বর্নযুগ। এক ঝাঁক তারকাকে নিয়ে গড়া হাঙ্গেরি সেই সময় সব দলের জন্য ছিলো ভয়ের নাম। হাঙ্গেরি টানা ৩ বছর থাকে অপরাজিত। ৩২ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর ১৯৫৪ এর ফাইনালে গিয়ে হারে হতভাগা পুসকাসের হাঙ্গেরি। আহাঃ ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস!

১৯৫২ তে হাঙ্গেরিকে ঐতিহাসিক অলিম্পিক জেতান পুসকাস। তারই হাত ধরে ১৯৫৩ তে দল জিতে মেজর ট্রফি সেন্ট্রাল ইউরোপ কাপ। ১৯৫৩ সালে ব্রিটিশবধের মাধ্যমে এক ইতিহাস রচনা করে হাঙ্গেরি। ইংল্যান্ড বনাম হাঙ্গেরির এই ম্যাচকে অনেকেই জায়গা দিয়েছেন শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ম্যাচ হিসেবে। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে খেলতে নামার আগে ইংল্যান্ডের ব্রিটিশ দ্বীপের বাহিরের কারো সাথে হারার রেকর্ড ছিলো না। ঘরের মাঠে এক যুগ ধরে অপরাজিতও ছিলো ইংল্যান্ড। খেলার আগে ইংল্যান্ড অনেক অপমানমূলক কথা বলে হাঙ্গেরিকে। যার প্রতিশোধ খেলাতে নেয় হাঙ্গেরি। ম্যাচের ৪৫ সেকেন্ড গোল করে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে পুসকাস। তার দল ৪-০তে এগিয়ে যায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই। হাজারো দর্শকের সামনে ওয়েম্বলিতে ব্রিটিশদের আভিজাত্যের অহংকারকে মাটিতে মিশিয়ে দেয় হাঙ্গেরি৷ শেষপর্যন্ত ম্যাচটিতে ৬-৩ গোলের জয় পায় তারা। জয়ের কারিগর পুসকাসের পা থেকে আসে জোড়া গোল। আধুনিক ফুটবলের জনক হওয়া সত্বেও ফিফা তাদের বিশেষ সুবিদা বা সম্মান না দেওয়ায় ১৯৩০-৫০ পর্যন্ত বিশ্বকাপ খেলেনি ইংলিশরা। তবে হাঙ্গেরির কাছে হারার পর তাদের টনক নড়ে। বিশ্বকাপ খেলতে আগ্রহী হয়।

হট ফেবারিটের তকমা গায়ে নিয়ে অবশেষে ১৯৫৪ বিশ্বকাপ খেলতে যায় হাঙ্গেরি। সবাই প্রায় নিশ্চিত ছিলো যে এবারের কাপ হাঙ্গেরির। হাঙ্গেরির কাছে তখন যেকোন প্রতিপক্ষই ছিলো দুধের শিশুর মতো। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সেটার প্রমান মিলে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কোরিয়াকে ৯-০ ও পশ্চিম জার্মানিকে ৮-৩ গোলে হারায় হাঙ্গেরি। পুসকাসের পা থেকে ২ ম্যাচে আসে ৩ গোল। তারপর ইনজুরিতে পড়েন পুসকাস। তবে পুসকাসকে ছাড়াও দুর্দান্ত ছিলো দ্যা মাইটি খ্যাত হাঙ্গেরি। কোয়ার্টারে ১৯৫০ এর রানার্সআপ ব্রাজিলকে ও সেমিতে ১৯৫০ এর চ্যাম্পিয়ান উরুগুয়েকে উড়িয়ে ফাইনালে যায় হাঙ্গেরি। ব্রাজিল বনাম হাঙ্গেরির সেই ম্যাচটি ইতিহাসে Battle of Berne নামে পরিচিত। বৃষ্টিভেজা সেই ম্যাচে বারবার মারামারিতে জড়িয়ে পড়ছিলো হাঙ্গেরি ও ব্রাজিল। তখন কার্ডের প্রচলন ছিলো না তাই চারজন প্লেয়ারকে হুশিয়ার ও তিন জন প্লেয়ারকে বহিষ্কার করেন রেফারি। ম্যাচে ৪২ টি ফ্রী কিক ও ২টি পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ব্রাজিল ও উরুগুয়ে দুই দলকেই ৪-২ ব্যাবধানে হারিয়েছিলো হাঙ্গেরি। ফাইনালে প্রতিপক্ষ সেই পশ্চিম জার্মান। যাদেরকে গ্রুপ পর্বে ৮-৩ এ হারিয়েছিলো
হাঙ্গেরি। ইনজুরি নিয়ে ফাইনাল খেলতে নামা
পুসকাসের গোলে ৬ মিনিটে এগিয়ে যায় মাইটি ম্যাগিয়ার্স হাঙ্গেরি। ৮ মিনিটে পুসকাসের এসিষ্টে আবারো গোল করে ২-০ তে এগিয়ে যায় হাঙ্গেরি। তবে বিরতির আগে ব্যবধানটা ২-২ করে ট্র্যাজেডির আবাস দেয় অন্য ধাতুর তৈরী জার্মান। শেষ বাঁশি বাজার একটু আগে গোল করে ৩-২ এগিয়ে যায় জার্মান। তবে শেষ মিনিটে পুসকাস গোল করে দলকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেন কিন্তু রেফারি বিতর্কিত ভাবে গোল বাতিল করে। সেজন্য বিশ্বকাপের এই ফাইনাল ম্যাচটা আজও বিতর্কের চোখে দেখে সমালোচকরা। ম্যাচটা ইতিহাসে পরিচিত "মিরাক্কেল অব বার্নস" নামে। অঘটন ঘটিয়ে কাপ জিতে জার্মান যেটা বিশ্বকাপের গ্রেটেষ্ট আপসেট হিসেবে ধরা হয়। সবচেয়ে ব্যতিক্রম ধাতুর তৈরী জার্মান। যাদের কাছে এসে ম্লান হয়ে গিয়েছিলো পুসকাস, ক্রুয়েফ, মেসির মতো লিজেন্ডদের জীবনের শ্রেষ্ট মুহূর্ত। টানা ৩ বছর অপরাজিত থাকার পর ফাইনালে হারা হাঙ্গেরি সেদিন চোখের জল ফেলার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছিলো। দল ব্যর্থ হলেও ১৯৫৪ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল পুসকাসের হাতে উঠে । বিশ্বকাপের পরও নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছিলো হাঙ্গেরি। ১৯৫৬ সালে সমাপ্ত হয় হাঙ্গেরির স্বর্নযুগ। ৬ বছরে ৪৩ ম্যাচে মাত্র একটা ম্যাচ হেরেছিলো তারা। সেই ম্যাচটা তাও ১৯৫৪ এর বিশ্বকাপ ফাইনাল। এমনি এমনি দুর্ভাগা বলা হয় না পুসকাসকে৷ ১৯৫৬ তে হাঙ্গেরির ফুটবল আবারো রাজনীতির ভয়াল থাবা। রাজনীতির কালো ছায়াতে ধ্বংস হয় তাদের ফুটবল৷ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় বেশির ভাগ ফুটবলার। ১৯৫৫ তে সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়ার) আগ্রাসন শুরু হলে সেনাবাহিনীর ক্লাব বোদাপেষ্ট থেকে পালিয়ে বেলজিয়াম যান পুসকাস দেশে ফিরতে না চাওয়ায় তাকে ২ বছর জন্য ব্যান করে ফিফ। হাঙ্গেরির হয়ে তার ক্যারিয়ার এখানেই শেষ হয়ে যায়। হাঙ্গেরির হয়ে পুসকাস করেছেন ৮৫ ম্যাচে ৮৪ গোল। যা ইউরোপের কোন জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্ছ গোলের রেকর্ড ছিলো ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে। সেই রেকর্ড অবশেষে ভেঙ্গেছেন আরেক লিজেন্ড ক্রিষ্টিয়ানো রোনালদো। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে পুসকাস সহ হাঙ্গেরির আগের বিশ্বকাপের বেশির ভাগ খেলোয়াড় সুযোগ পায়নি রাজনৈতিক সমস্যার কারনে। হাঙ্গেরিও হারে প্রথম রাউন্ডে। পরবর্তীতে স্পেনের হয়ে ১৯৬২ বিশ্বকাপ খেললেও নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে ব্যর্থ ছিলেন পুসকাস।

জুভেন্টাস ও এসি মিলান চুক্তি করতে গিয়েও করে নি সোভিয়েতদের রোষানল থেকে বাঁচতে। ইতালির সরকারও না করেছিলো তাকে দলে ভেড়াতে। তবে ১৯৫৮ তে বিমান দুর্ঘটনায় ধ্বংশ হয়ে যাওয়া ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড নিজেদের পুনরায় গড়তে পুসকাসকে দলে নিতে চায়। তবে রাজনৈতিক ঝামেলার জন্য ও কোচের অনাগ্রহে তাকে আর কেনা হয়নি। কারন দুই বছর নিষেধাজ্ঞা ও ফিটনেস হারিয়ে বেশি মোটা হওয়ায় সবাই ভেবেছিলো তাকে দিয়ে আর সম্ভব না। ইংরেজি ভাষা না জানাও বড় একটি বাধা ছিলো সেই সাইনিংয়ের পথে। তবে হিরে চিনতে ভুল হয়নি রিয়াল মাদ্রিদের। শেষ পর্যন্ত তাকে কিনে নেয় সেই সময়ে ইউরোপে একক রাজত্ব করা স্টেফানোর মাদ্রিদ। বার্নাব্যুর অনেক প্রচেষ্টার পর তাকে সাইন করানো সম্ভব হয়। ৩১ বছর বয়সী পুসকাসকে সাইনিংয়ের পর বেশ সমালোচনারও শিকার হয় রিয়াল।

রিয়াল মাদ্রিদ যদি হয় বিস্তীর্ণ আকাশ তবে সেই আকাশের রংধনুর সাত রংয়ের একটি পুসকাস। রিয়ালে এসে পুসকাসের পুনর্জন্ম হয়। রিয়ালের হয়ে ৮ বছরে ৫টা লা লীগ, ৩টা চ্যাম্পিয়ান্স লীগ ও ১টা ক্লাব বিশ্বকাপ জিতের। ৪বার লীগের টপ স্কোরার হয়েছেন।
ইউসিএলতেতে ৩৯ ম্যাচে ৩৫ গোল এবং রিয়ালের হয়ে টোটাল ২৩৩ ম্যাচে করেছেন ২২৫ গোল। তার গোলের পরিসংখ্যান এখানেও ঈর্ষনীয়। তবে রিয়াল মাদ্রিদেও তার দুর্ভাগা সাথে ছিলো। না হলে ১৯৬২ সালের চ্যাম্পিয়ানস লীগের ফাইনালে পুসকাস হ্যাট্টিক করার পরও কেনোই বা হেরে ইউসেবিওর বেনিফিকার কাছে হেরে গিয়েছিলো রিয়াল মাদ্রিদ। স্টেফানো-পুসকাস জুটির জন্যই রিয়াল মাদ্রিদের সম্ভব হয়েছিলো শতাব্দীর সেরা ক্লাব হওয়া৷ তাই তো অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে মাদ্রিদিস্তাদের হৃদয় জুড়ে আছেন। চিরদিন থাকবেন।

ক্যারিয়ারে পুসকাসের মোট গোল ৭৫৪ ম্যাচে ৭৪৬টি। অফিসিয়াল গোল সংখ্যায় সর্বকালের সেরার তালিকায় তিনি ৪র্থ। অবসরের পর পুসকাস কোচিং করিয়েছেন বিভিন্ন ক্লাবকে। তবে সেখানে সাফল্য আসেনি তেমন। রাজনীতির কালো ছায়ার জন্য ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ট সময় নষ্ট হয়েছে৷ নয়তো শ্রেষ্ঠত্বের তালিকায় নিজেকে আরো উপরে তুলতে পারতেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য তার ক্যারিয়ারে অনেক বাজে প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধ ও রাজনীতি কুপ্রভাব তার ক্যারিয়ারে না পড়লে হয়তো বিশ্বকাপের ছোঁয়া পেয়ে যেতেন৷ ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে হাঙ্গেরির জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন মাত্র একটি। এটা সত্যি কষ্টকর। তবুও পুসকাস জিতেছেন ব্যলন ডি অর, বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল। বিংশ শতাব্দীর ফিফার সেরা দশ প্লেয়ারের তালিকাতে ছিলেল এবং ইউরোপের সেরা পাঁচ জনের তালিকাতে জায়গা পান।

ইতিহাস শুধু বিজেতাদের মনে রাখে এটা কিন্তু সত্য নয়। পৃথিবী মনে রেখেছে অনেক ট্রাজিক হিরোকে। পুসকাসকে ইতিহাসে স্বরন রাখতে তার নামনুসারেই দেওয়া হয় ফিফা পুসকাস অ্যাওয়ার্ড। ২০০৬ এ মারা যান সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবল জাদুকর।

Uddin

Want your business to be the top-listed Gym/sports Facility in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Culinary Team

Attire

Website

Address


Dhaka