Robiul Islam

Robiul Islam

Share

Assalamu alikum
Welcome my page

08/06/2025
02/11/2023

কালো মায়াবতী

একটা মেয়ের সাথে নাকি আমার বিয়ের কথাবার্তা চলছে। ভদ্র পরিবার, মেয়ের শিক্ষাও ভালো। বিএসসি পাশ। বয়স একটু বেশী, ২২ বছর। মেয়েটা নাকি একটু কালো। তাই পাত্রপক্ষ আগে বাড়ে না। আমার চাচাজান সে মেয়েটিকেই আমার জন্য পছন্দ করলো।

মেয়েটিকে আমি দেখেছি ঢাকা থাকার সময়। মেয়ের মামা একটা ছবি ডাকের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন। আহামরি তেমন কিছু না মেয়েটা। একটু শ্যাম বর্ন। কিন্ত চিঠিতে তো লিখলো,মেয়েটি নাকি কালো।
আমি ছবির খামটা হাতে নিলাম। ইটালিয়ান হরফের স্টাইলে লিখা আছে,রঙ্গিলা স্টুডিও। ছবিটাতে আলাদা কাজ করা হয়েছে জানি। সে যাই হোক, আমার এতো কিছু না দেখলেও চলবে। তবে আমার নজর কেড়েছে মেয়েটির দু চোখ। চোখ যে এত সুন্দর হতে পারে, তা আমার জানা ছিলো না। যে দেখেছে মেয়েটির ও দুচোখ,সে কখনো ভুলতে পারবে না। আমি শিওর, এই চাপা মেয়েটার চোখের প্রেমে অনেকেই ডুব দিয়েছিলো। আমিও ডুবে গেলাম। এই মেয়েটির প্রেম সাগরে। মেয়েটিকে আমার চাই ই চাই।

গ্রামে ফিরে এলাম। দীর্ঘ বিশ বৎসর পর। কেনো এতোদিন আসিনি, সেটা আরেক ইতিহাস। ক্রমান্বয়ে বলবো।

আজ আমার বিয়ে। চাচা,কাজিন,এলাকার কয়েকজনকে নিয়ে আমি বিয়ে করতে গেলাম। রিক্সায় চড়ে।
রিক্সাটির নাম,ছাবেরা পরিবহনতার নিচে লিখা বিবাহের জন্য রিজার্ভ দেয়া হয়। আট মাইল দূর থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছে। গঞ্জ থেকে। গঞ্জের একমাত্র রিক্সা। বিবাহের সময় কাজে লাগে। আমরা মেয়েদের বাড়ি এসে গেছি। আমি সামনে এগুচ্ছি, চাচা বললো,রুমাল কই? নাকে মুখে রুমাল দাও। আমি বললাম, আনি নি তো। চাচা এমন করে তাকালো,যেনো মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে গেছে।

মেয়েদের কোনো আহামরি আয়োজন ছিলো না। এরা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের। আমাদের পরিবারও আগে এমন ছিলো। ছোটো বেলায় মা বাবাকে হারিয়েছি। ছোটো চাচার কাছে ছিলাম কিছুদিন। তারপর যে কোনো এক কারনে ঢাকা চলে যাই। বাকীটা ইতিহাস। আর আসিনি। এইবার এলাম,বিয়ে করতে। চাচার সাথে চিঠিতে যোগাযোগ হতো। যাই হোক, মেয়ের বাবা নাকি বিশ হাজার টাকা আর এক ভরি স্কর্ণ দেবেন।
আমার চাচা দেনমোহর ধার্য করেছেন ত্রিশ হাজার টাকা। এসবে আমার কোনো মাথা ব্যাথা নেই। আমি মেয়েটিকে চাই। আর কিছু নয়।

বিয়ে করে বৌ নিয়ে আসলাম। চাচাতো ভাই বোনেরা সবাই খেপাচ্ছে আমাকে। কালীর জামাইবলে।
আমি এসব গায়ে মাখাচ্ছি না। আমি ডুবে আছি আমার স্বপ্নে। কখন কালো কাঁজল ডাগর ডাগর আঁখি দুটি দেখবো। কতটা মায়া সে চোখে নিয়ে আমার দিকে তাকাবে আমার বৌ? ইশ্.. আমার যে আর তর সইছে না গো....! কতক্ষন বসে ছিলাম জানিনা। ধ্যান ভাঙ্গলো পাশের ঘরের ভাবির কটুক্তি তে। কি ভাইসাব? খবর কি? বিবি ঘরে আইনা দেখি একেবারে ধ্যানে চইলা গেলা? হি হি হি.... যাও, যাও... অনেক রাইত হইছে। শুনো ভাইসাব, ঘর কিন্ত আন্ধার, মোম জ্বালাইয়া দিছি। মোমের আলোয় বিবিরে দেইখা আবার ভূত কইয়া চিল্লাইয়োনা। হি হি হি..

আমি কিছু বলিনি। শুধু হাঁসলাম। গুটি গুটি পায়ে রুমের দিকে এগুতে লাগলাম। খাটের কাছে পৌছে গেছি। মেয়েটি লম্বা ঘোমটা দিয়ে বসে আছে। আমি গলা খাঁকারি দিলাম। মেয়েটি নড়েচড়ে উঠলো। আমি বলতে লাগলাম, তোমার নাম কি? মেয়েটি আস্তে করে বললো, মাইমুনা আক্তার ইরিইরি কোনো নাম? বাবায় রাখছে, আমার কি দোষ? আমি আবার বললাম, শুনো ইরি, আমি তোমার বর। তুমি আমার বৌ। আমি জানি,এতক্ষন অনেক কথার তীক্ষ্ণ বান হজম করেছো। করতে তো হবেই, কারন তুমি কালো। কালো হয়ে জন্ম নেয়া যে আজন্ম পাপ। তবে তুমি এসব নিয়ে ভেবো না। তুমি শিক্ষিতা,রুচিশীল মেয়ে। এসব নিয়ে ভাবলে চলবে না। পৃথিবীর কে কি বললো না বললো,তাতে তোমার কি? আমি তোমার বর। আমি কি বলেছি সেটা তোমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কারো কথায় কষ্ট পেয়ো না। লেগে থাকো,তুমিই পারবো।
কালো তো অনেকেই আছে। এটা পাপ নয়। বরং আশীর্বাদ। বেঁচে থেকো ঠিক ততদিন,যতদিন আমি ভালোবেসে যাবো তোমায়। তুমি আমার অর্ধাঙ্গিনী। মনে রেখো,তুমি আমি একই স্বত্ত্বা। ভয় এবং সংকোচ করো না। আমি তো আছি। কি? ভয় পাবে? নিজেকে ছোটো ভাববে? বলো?মেয়েটি কিছু বলছে না। হঠাৎ করে মনে হলো, ইরির দেহটা কেঁপে কেঁপে উঠছে। আরে,মেয়েটা তো কাঁদছে। আমি তার পাশে বসলাম।
তার দু বাহুতে ধরলাম। আলতো ঝাঁকুনি দিলাম। ইরির মাথার কাপড় সরে গেলো। ইরি আমার দিকে তাকিয়ে আছে, জল ছলছল চোখে টলমল। আমি ইরির চোখের দিকে তাকিয়ে আছি। আমার দৃষ্টি ফেরাতে পারিনা সে চোখ হতে। মনের মাঝে একটা কথা ধাক্কা দিচ্ছে, ওরে মায়া.... তুই এতো মায়া কেনো? এতোটা মায়াবতী কেনো? কি মায়া! কি মায়া! কি মায়া! মনের অজান্তে মুখ ফসকে বলে ফেললাম, মায়াবতী আমার..

সপ্তাহ্ খানেক হলো বিয়ে করেছি।ইরিদের বাড়ি ছিলাম দুদিন। ঢাকা ফেরার সময় হয়ে গেছে। ঢাকা ফেরার আগের দিন চাচীকে বললাম,ইরিকে আমি নিয়ে যাবো। চাচি বললো,নয়া বৌ। কদিন শ্বশুড় বাড়ি থাকুক। মাস দুয়েক পরে এসে নিয়া যাইস। আমি ইরিকে বললাম,কি হলো? যাবে নাকি থাকবে? ইরি বললো,কয়েকদিন থাকি এখানে আর বাবার বাড়ি, তারপর আপনে আইসেন। তখন যামু। আমি আর কিছু বললাম না। সেদিন রাতে আমি আর ইরি অনেক গল্প করেছি। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিলো। জোরে বজ্রপাতের শব্দে ইরি আমার বুকে মুখ লুকালো। কি হয়েছিলো সেদিন? পদ্মা বান ডেকেছিলো, ভাসিয়ে নিয়েছিলো সব।
আমি আর ইরি সেদিন বৃষ্টির শব্দে আর নদীর বানে ভেসেছিলাম। কুল কিনারা পাইনি সেদিন আমরা কেউ। সব ভেসে যাক,বান সব কেড়ে নিক। আমরা ডুবে থাকি ভালোবাসার নদীতে। ভাসতে থাকি প্রেমের বানে।

আমি চলে এলাম ঢাকা। সপ্তাহে দু তিনটা চিঠি আদান প্রদান হয়। মাসখানেক পর একদিন একটা চিঠিতে রক্তের ফোঁটা দেখলাম দু তিনটে। আমার মনটা কেমন জানি করতে লাগলো। কি হয়েছে আমার মায়াবতীর? সাথে সাথে আমি চিঠি লিখলাম। সারাদিন অস্থির ছিলাম। রাতেও ঘুমাতে পারিনি। কখন চিঠি আসবে আমার মায়াবতীর? চিঠিতে ব্লাড কেনো? তিনদিন পর চিঠি পেলাম। চিঠিতে ইরি লিখেছে, তার হাত কেটে গেছে। সেই ব্লাড। আমি যেনো চিন্তা না করি। আমার বুক থেকে পাথর নেমে গেলো। তবে মায়াবতীকে দেখার জন্য মনটা উসখুশ করতে লাগলো। একটু ফ্রী হলেই চলে যাবো গ্রামে। সাথে করে নিয়ে আসবো আমার মায়াবতীকে। মায়াবতী আমার, কালো মায়াবতী।

গ্রামে এলাম। আমার গ্রামটা কিন্ত অঁজপাড়াতে। আমার চাচী আমাকে দেখে এগিয়ে এলো। মায়াবতী আড়ালে লুকালো। আমি দেখতে পেলাম। আর মুঁচকি হাঁসলাম। খাবার দাবার কমপ্লিট করে রুমে গেলাম।
মায়াবতী মাথা নিচু করে আছে। আমি শুধু বললাম, তোমার নাকে এটা কিসের দাগ? ইরি চমকে উঠে নাকে হাত দিলো। বললো,কই? কিছু নেই তো। আমি হেঁসে উঠলাম। ইরি কপট রাগের ভঙ্গিতে আমার দিকে তাকালো। আর আমি দেখতে লাগলাম, রাগলে মানুষ লাল হয়। কিন্ত ইরি তো কালো। লাল আর কালো মিলে তো বেগুনী হবার কথা। কিন্ত ইরিকে দেখতে মোটেও বেগুনী লাগছে না। আর বেগুনী যেহেতু লাগছে না, সেহেতু ইরি কালো নয়। আর এম্নিতেও ইরিকে সুন্দর লাগছে। আমি কিছুক্ষন পর বললাম, কি?
ভালোবাসো আমাকে? ইরি বললো,যাহ্.... বলেই দৌড়ে বাইরে গেলো। দরজার ওপার হতে বললো, দোকানে গেলে একটা সাবান আর স্নো এনো। বলেই পাশের ঘরে চলে গেলো। আমি শুধু মনে মনে বললাম,
বৃথা প্রয়াস। সাবান আর স্নো দিয়ে কি হবে? বন্যেরা বনে সুন্দর, আর ইরি চাপা কালো তে। যাই,মায়াবতীর জন্য সাবান আর স্নো নিয়ে আসি।

ইরিকে নিয়ে ঢাকা আসছি। পথে ইরির কত প্রশ্ন! ঢাকা কেমন? সেখানে গেলে থাকবো কোথায়? আমি কি কাজ করি? ঢাকাতে চলতে তো অনেক টাকা লাগে। রাস্তাতে এতো গাড়ি কেনো? এই বিল্ডিংগুলো কার?
এতো বড় বড়! আমি শুধু হাঁসি। বাচ্চাদের মতো প্রশ্ন। কে বলবে,এই মেয়েটা বিএসসি পাশ?! হি হি হি,,,,,,,

একসময় গাড়ি হতে নামলাম। একটা বিল্ডিংয়ের সামনে দাড়ালাম। ইরি হঠাৎ চিৎকার করে উঠলো,
ফারাবী,দেখো দেখো.. তোমার নাম। আমি তাকিয়ে দেখলাম। ইরি একটা নেমপ্লেটের দিকে আঙুল তুলে আছে। সেখানে লিখা,আল-ফারাবী প্লাজা ২আমি বললাম,চলো। একটু বাড়িটার ভেতর ঢুকি। ইরি বললো,চোর বলে মার দেবে। আমি ভেতরে যাচ্ছি, ইরি আমাকে অনুসরন করছে। বাসার দরজার কাছে আসতেই ইরি থেমে গেলো। সে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। যেখানে ইরির একটা ছবি অনেক বড় একটা ছবি ঝুলানো। আমি বললাম,কি হলো? আসো.... ইরি কিছুই বললো না। আমি ইরির দিকে এগিয়ে গেলাম। ইরি আমার দিকে তাকিয়ে আছে। সে দৃষ্টিতে অবাক বিস্ময়। একটু পর ইরি বললো, কে তুমি ফারাবী? কি কাজ করো তুমি? বলো,কে তুমি? আমি আলতো হাঁসলাম। আর ইরির কানে মুখ নিয়ে বললাম, আমি মায়াবতীর বর। ইরি কেঁদে উঠলো। আমি শুধু বলে উঠলাম,
আহারে....
আহারে....
আহারে....

রাতে আমি ম্যাগাজিন পড়ছি। ইরি আমার সামনে এসে বসলো। আমি ম্যাগাজিন হতে মুখ তুলে তাকালাম। ইরি আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কি কঠোর সে দৃষ্টি! ইরি আমার দিকে এভাবে তাকাচ্ছে কেনো? আমি আবার ম্যাগাজিনের দিকে মনোনিবেশ করলাম। কিছুক্ষন পর ইরি হঠাৎ ম্যাগাজিন টা টেনে ছুঁড়ে ফেলে দিলো। আমি বললাম,
- - কি হয়েছে ইরি?
- - কি হবার বাকী আছে ফারাবী?
- - মানে কি?
- - এ বাড়ি কার?
- - আমার।
- - এটার নাম আল-ফারাবী প্লাজা ২কেনো?
- - মানে?
- - মানে হলো এটা কি তোমার দুনম্বর বাড়ি?
- - হুম।
- - একনাম্বারটা কোথায়?
- - উত্তরা ৬ এ।
- - কি কাজ করো তুমি?
- - পরে বলবো।
- - এখন বলবে।
- - কি বলবো?
- - কি ককাজ করে দুটো বাড়ি বানিয়েছো?
- - পরে বলবো।
- - এখন বলো।
- - না বললে?
- - গ্রামে চলে যাবো আমি।
- - যাও,চলে যাও।
- - তোমার বলতে প্রবলেম কি?
- - সময় আসলে বলবো।
- - কখন হবে সময়?
পুলিশ এসে ধরে নিয়ে গেলে?
- - মানে?
- - আমার তো মনে হয় তুমি মাদক নয়তো চোরাকারবারি করো।
- - ইরি,মুখ সামলে কথা বলো।
শহরের সব বাড়ির মালিক কি মাদক ব্যাবসা করে?
- - তাদের বিজন্যাসের মূলধন ছিলো।
তোমার তো ছিলো না।
তুমি তো নিম্নবিত্তের সন্তান।
- - আজ উচ্চবিত্ত হলাম।
- - বিশ বৎসর কোথায় লুকিয়ে ছিলে?
- - এসব প্রশ্ন এখন করো না।
সময় হলে আমিই বলবো।
- - না,করবো।
- - রাত তো অনেক হলো ঘুমাও।
- - না,আমার প্রশ্নের জবাব চাই।
তোমার বিশ বৎসর লুকিয়ে থাকা, দুটো বাড়ি করা, বিজন্যাস করা,এসব রহস্য। তুমি রহস্য তৈরী করেছো। এর জট না খোলা অবধি আমি আর তোমার সাথে কথা বলবো না।
- - তো কি করবে?
- - গ্রামে চলে যাবো।
- - সত্যিই?
- - হ্যাঁ। তোমার ড্রাইভারকে বলো, আমাকে গ্রামে দিয়ে আসতে।
- - এখন?
পাগল হয়েছো? এতো রাতে গ্রামে যাওয়া নিরাপদ নয়।
- - আমি তো তোমার কাছেই নিরাপদ নই।
- - ইরি.....
- - আমার নাম উচ্চারন করো না। আমি গেলাম,বাই।

আমি পুরো পাথর হয়ে আছি। কি হলো এটা? আমি চোরাকারবারি? আসি মাদক ব্যাবসা করি? ইরি আমার কাছে নিরাপদ নয়? ইরি সত্যিই চলে গেছে? আমার মাথায় কিছু আসছে না। কি করবো আমি? আমি অতলে হারিয়ে যাচ্ছি। পায়ের নিচে মাটির নাগাল পাচ্ছি না। আমি তলিয়ে যাচ্ছি। কেউ তুলতে পারবেনা আমাকে। কি করে তুলবে? কে তুলবে? আমার মায়াবতী ছাড়া? ইরি আমাকে বুঝেনি। বোঝানোর সময়টুকুও দেয়নি। নিজের আপনজন যখন নিজেকে বোঝেনা, তখন যে নিজেকে কতটা অসহায় লাগে,
সেটা বিশ বৎসর আগে একবার আর আর দ্বিতীয়বারের মতো বুঝলাম। খুব ক্লান্ত লাগছে নিজেকে। বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। দু চোখে জলের ধারা। মায়ের মুখটা অস্পষ্ট ভেসে উঠছে চোখে সামনে।
মনে হচ্ছে, মা মাথায় হাত বুলাচ্ছে। আহ্, কি শান্তি। আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। আমি ঘুমের ঘোরে চলে গেছি। ঘুমের মাঝেই দেখতে পেলাম, আমি আর ইরি খালি পায়ে ঘাসের উপর হাঁটছি। ইরি হঠাৎ প্রজাপতির পেছনে ছুটতে লাগলো। আমিও তার পেছনে। প্রজাপতি ফুলে গিয়ে বসলো। ঘাসফুলের উপর।
ইরি হাত বাড়িয়ে আছে, কখন প্রজাপতি তার হাতে বসবে। আমি ঘাসের উপর বসে তা দেখছি। ইরি প্রজাপতি ছুঁয়ে দেবার অপেক্ষায়। আমি মনে মনে বলছি, প্রতীক্ষার প্রহর রে.... তুই আর কত দূর? শুনতে কি পাস না রে... হৃদয় ভাঙ্গার সুর?...

ঘুম হতে উঠলাম। ঘড়ির দিকে তাকাতেই আমার চোখ ছানাবড়া! দশটা বাজে?! আমার অফিস! কোনোরকম ফ্রেশ হয়ে অফিসে ছুটলাম। ভালো লাগলে লাইক ও শেয়ার কমেন্ট ফলো করবেন ধন্যবাদ।

01/11/2023

ভালোবাসার টানে

>দেখ অনিক আজ কিন্তু তোকে পারতেই হবে। (রাফি)
>খুব ভয় লাগছে রে।আজ না।পরে আরেকদিন বলবো। (অনিক)
>চুপ কর ভীতুর ডিম।আজই তোকে বলতে হবে।নয়তো তোর কপালে মাইর আছে। (মিশু) অনিক মিশুর কথা শুনে ভয় পেয়ে যায়।কারন মিশু অনেক স্বাস্থ্যবান,তাছাড়া মারমিট করতে পারে।
>আমাকে মারিস না ভাই।আমিতো পিচ্চি একটা মানুষ! (অনিক)
>তবে আমরা যেভাবে বলছি সেভাবে করবি।আজই এর একটা এস্পার বা ওস্পার করবি।ওই যে তোর অহনা আসছে।চল রাফি আমরা লুকোই।
এইবলে রাফি আর মিশু দ্রুত কেটে পড়ে সেখান থেকে। দূরে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে অনিক কি করে।
ক্লাস শেষে স্কুলের কাছে দাঁড়িয়ে আছে অনিক এবং ওর ক্লোজ বন্ধু রাফি ও মিশু।
অনিক সামনে এগিয়ে চলছে ধীরপায়ে। অহনা ওর বান্ধবীদের সাথে কথা বলে বাসার দিকে যাচ্ছিলো।
অনিক মনে অনেক ভয় নিয়ে ডাক দেয় অহনাকে।
>অহনা। (অনিক)
অহনা হঠাত ডাক শুনে দাঁড়িয়ে যায়।
>কি ব্যাপার অনিক?কিছু বলবে? (অহনা)
>হ্যা।মানে…
অনিক মাথা চুলকাতে চুলকাতে আশেপাশে তাকায়। হঠাত দেখতে পায় মিশু অনিককে ইশারায় মাইর দেখাচ্ছে। অনিক ভয় পেয়ে আবার অহনার দিকে তাকায়।
>না মানে…আসলে....মানে....। (অনিক)
>কি এতো মানে মানে করছো হ্যা?কিছু বলার থাকলে সোজাসুজি বলো। আমাকে এখনই বাসায় যেতে হবে। (অহনা)
>আসলে অহনা আমার তোমাকে অনেক ভালো লাগে। (অনিক চোখ বুজে বলে ফেলে)
অহনা হা করে তাকিয়ে থাকে।
>এই কথা বলতে ৪বছর সময় নিলে!! (অহনা)
>আসলে মানে... (অনিক)
>থাক আর বলতে হবেনা।ভীতুর ডিম। (অহনা)
>কিন্তু তুমি কিভাবে জানলে আমি ৪বছর থেকে তোমাকে পছন্দ করি!! (অনিক)
>সেই ক্লাস ফোর থেকেই তো দেখতেছি ড্যাবড্যাব করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকো।আর মেয়েরা তো সবই বুঝতে পারে পাগল।
অহনা অনেক চটপটে মেয়ে হলেও কথাটা বলে ব্যাপক লজ্জা পায়।তাই কিছু না বলেই ছোট্ট একটা হাসি দিয়ে চলে যায় তখন।

>কিরে অনিক,তুইতো শালা ফাটাইয়া দিছোস। (মিশু)
>চল অনিক,তোকে আজ খাওয়াবো খুশিতে।এতদিনে সফল হলি তবে! (রাফি)
এরপর ৩বন্ধু একসাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দেয়।

পরদিন থেকে চলতে থাকে অনিক এবং অহনার প্রেম। অনিক ও অহনার পরিচয় হচ্ছে দুজনে একই ক্লাসে পড়ে।প্রাইমারী থেকেই দুজন দুজনকে পছন্দ করে। কিন্তু অনিক ভীতু ছেলে তাই অহনাকে কখনো বলতে পারেনি। অহনা অনিকের কাছ থেকে এই কথাটা শোনার অপেক্ষায় থাকতো সবসময়।


ভালোই চলছিলো অনিক এবং অহনার প্রেম। কিন্তু বেশিদিন ভালো ভাবে থাকা তো কারোর কপালেই সয়না! অনিক ও অহনাকে একসাথে ফুসকা খেতে দেখে ফেলে অনিকের কাকা। অনিকের বাবা মিজান সাহেব ওই এলাকার নামকরা একজন লোক। তার ক্লাস এইট/নাইনে পড়া ছেলে প্রেম করছে শুনে সে খুব রেগে যায়। সেদিন অনিক ক্লাস শেষে বাসায় ফিরলো।
>অনিক একটু কথা শুনে যা। (মিজান সাহেব)
>হ্যা বাবা বলো। (অনিক)
>তুই নাকি কোন মেয়ের সাথে ঘুরাঘুরি করছিস?কথাটা কি সত্যি? (মিজান সাহেব)
>কে বলেছে!কখন ঘুরলাম? (অনিক)
>একদম কথা ঘুরাবি না।সত্যি কথা বল।নয়তো মেরে পিঠের চামড়া তুলে ফেলবো তোর। (মিজান সাহেব)
>আসলে বাবা আমি ওই মেয়েকে অনেক পছন্দ করি। (অনিক)
>কি বললি তুই!!এইটুকু বয়সেই এতো পেকে গেছিস! দাড়া.. এইবলে মিজান সাহেব অনিককে প্রচুর মারলো সেদিন।

রাতে অনিকের প্রচুর জ্বর ওঠে। মা আর অহনা ছাড়া আর কিছু শুনা যায়না ওর প্রলাপে।

৩দিন পর অনিক মোটামুটি সুস্থ হয়।
>এই তুমি ৩দিন কোথায় ছিলে হ্যা?আমার কতো চিন্তা হচ্ছিলো জানো? (অহনা) অনিক সবকিছু খুলে অহনাকে খুলে বললো।
>ওহ তবে এই ব্যাপার।দেখো অনিক আমারতো বাবা নেই।তোমার বাবাও যদি এমন করে তবে এই সম্পর্ক হয়তো টিকিয়ে রাখা সম্ভব না।সম্পর্কের শুরুতেই এতো ঝামেলা! পরবর্তীতে কপালে কি আছে জানিনা!! এসব বলতে বলতে অহনার চোখে পানি এসে যায়।
>প্লিজ অহনা কেঁদো না।আমি আছিতো।
>না অনিক।কারোর অমতে সম্পর্ক রাখা ঠিক হবেনা।
এই বলে অহনা চলে যায়। অনিক হতবিহ্বল হয়ে দাড়িয়ে থাকে।


রাতে অনিককে বাসায় টিচার পড়াতে আসে।
>কি হলো পড়া বলছোনা কেনো। (প্রাইভেট টিউটর)
>আসলে স্যার...
অনিক কথা শেষ করার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়প। অনিককে দ্রুত হসপিটালে নেওয়া হয়।

>মিজান সাহেব। (ডাক্তার)
>জ্বী বলুন ডক্টর।
>আপনার ছেলে অনেকগুলো হাইপাওয়ারের ঘুমের ওষুধ খেয়েছে।
>বলেন কি!
>হ্যা।এটাই সত্যি।একটাই তো ছেলে আপনার। ছেলেকে এতো শাসন করলে কি করে হবে বলেন?
>এখন দেখা করা যাবে ওর সাথে।
>জ্ঞান ফিরেনি এখনো। অপেক্ষা করুন।
>আচ্ছা।

কিছুক্ষণ পর-
>এসব কি শুনছি অনিক?ঘুমের ওষুধ কেনো খেলি? (মিজান সাহেব)
>বাবা আমি অহনাকে ছাড়া থাকতে পারবোনা। (অনিক)
>তাই বলে এই বয়সেই আমার মান সম্মান ডুবালি? (অনিকের বাবা)
>ওর জন্য আমি সব করতে পারবো। তুমি শুধু ওকে ফিরিয়ে দাও।
>আচ্ছা যা ওকে তোর হাতে দিবো,কিন্তু একটা শর্তে। (মিজান সাহেব)
>কি শর্তে বলো। (অনিক)
>তোকে ভালো করে লেখাপড়া করতে হবে।ভালো রেজাল্ট করতে হবে।পাবলিক ভার্সিটি থেকে বিবিএ, এমবিএ কমপ্লিট করতে হবে।নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে নিজের প্রচেষ্টায়। লোকে যেনো বলে মিজান সাহেবের ছেলেটা সবদিক থেকে ভালো। এসব যেদিন পারবি সেদিন আমি নিজে তোদের বিয়ে দিবো।
>আচ্ছা বাবা।আমি রাজী তোমার শর্তে। অনিকের মুখে হাসি ফুটলো।

এরপর থেকে অনিক মন দিয়ে লেখাপড়া করতে লাগলো। ছোটবেলা থেকেই অনিকের মেধা মোটামুটি ভালো ছিলো।আর ক্লাসের ১ম সারির স্টুডেন্টদের ভিতর অনিক একজন ছিলো। তাই অনেক চেষ্টা করে এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি তে অনিক সব বিষয়ে এ প্লাস পায় এবং জেলার ভিতর ৩য় হয়।

অহনা মধ্যম সারির ছাত্রী।সেও মোটামুটি ভালো ফলাফল করে। মিজান সাহেব ছেলের সাফল্যে আনন্দিত হন। এরপর অনিককে ঢাকায় ভালো কোচিং সেন্টারে ভর্তি করিয়ে দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধ!!
সেখানে চান্স পেতে হলে কতোটা পরিশ্রম করতে হয় তা শুধু চান্সপ্রাপ্তরাই ভালো জানে।অবশ্য ভাগ্য বলেও একটা কথা আছে। অনিক সৌভাগ্যক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাউন্টিং ডিপার্টমেন্টে চান্স পায়।
অনিক উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা চলে যায়। অহনা অনেক কান্নাকাটি করে।কিন্তু কারোর কিছু করার থাকেনা।
অহনা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে ভর্তি হয়। দুজন হয়ে পড়ে বিচ্ছিন্ন।


৫ বছর পর- অনিক ঢাকায় ভালো একটি ব্যাংকে চাকুরী পেয়েছে।
>অনিক,বাবা তুই বাড়ি আসবি কবে? (অনিকের মা)
>মা,কেবল তো জয়েন করলাম।মাসখানেক দেরী হবে আসতে।শীতের ছুটিতে আসবো। (অনিক)
>আচ্ছা।ভালো থাকিস।

এরপর অহনাকে কল করে অনিক।
>কেমন আছো অহনা? (অনিক)
>সেটা জেনে আপনার দরকার কি!আপনি তো ব্যস্ত লোক। (অহনা অভিমানী কণ্ঠে বলে)
>আহা!রাগ করছো কেনো!ব্যাংকের কাজ নিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকতে হয় তাই খবর নিতে পারি কম।রাগ করেনা লক্ষ্মীটি। (অনিক)
>ঠিক বলছো তো?নাকি শহরের অন্য কোনো সুন্দরী মেয়েকে পেয়েছো? (অহনা)
>অহনা!এসব কি বলো তুমি!জানোনা আমি কিভাবে এতদূর এসেছি!তোমার ভালোবাসার টানেই এসেছি। তুমি এমন ভাবে বললে খুব কষ্ট হয় আমার। (অনিক)
>সরি অনিক।কখনো বলবোনা।লাভিউ। (অহনা)
>আচ্ছা এখন রাখো।পরে কথা হবে। (অনিক)
>ওকে।
অহনা জানে অনিক কখনোই আর কারোর হবেনা।কারন ওদের ভালোবাসায় রয়েছে অফুরন্ত বিশ্বাস।

দেড় মাস পর অনিক দেশের বাড়িতে ফিরে।
>বাবা অনিক। (মিজান সাহেব)
>হ্যা বাবা বলো। (অনিক)
>আজ সন্ধ্যায় এক জায়গায় যাবো তোমাকে নিয়ে।তোমার কি কোনো কাজ আছে? (মিজান সাহেব)
>না বাবা।বিশেষ কোনো কাজ নেই।রাফি ওদের সাথে দেখা করবো ভাবছিলাম। (অনিক)
>আচ্ছা ওদেরকেও তবে বাসায় আসতে বলো।আজ অহনা মামনিকে আংটি পড়াতে যাবো আমরা।তোমার কোনো সমস্যা আছে? (মিজান সাহেব) অনিক খুশিতে কি বলবে ভেবে পায়না।
>কি হলো?যাবেনা আজ? (মিজান সাহেব)
>হ্যা বাবা যাবো।সমস্যা নেই কোনো। (অনিক)
>আচ্ছা। এখন তবে রেস্ট নাও।

অনিকের বাবা বাসার বাহিরে চলে যান। এরপর অনিক খুশিমনে অহনাকে কল দিলো-
>শুনলাম আজ নাকি তোমাকে পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে? (অনিক)
>বলো কি!কখন! (অহনা)
>সন্ধ্যায়।সাজগোজ করে রেডি হয়ে থাকবেন ম্যাডাম। (অনিক) অহনা বুঝতে পারে অনিক কি লুকোচ্ছে।
>হুম।ভুতনী সেজে বসে থাকবো।যাতে ছেলে আমাকে দেখার সাথেসাথেই অজ্ঞান হয়ে যায়। (অহনা)
>হাহা।আচ্ছা আপনার যেভাবে ভালো লাগো তাই করেন ম্যাডাম।আমার শুধু অহনাকে পেলেই চলবে। (অনিক)
>অহনা সবসময়ই আপনার জন্য আছে,এবং থাকবে। (অহনা)
>ওকে।See you.

এই গল্পের শেষ এখানেই।তবে কাহিনী এখনো চলমান। অহনা এবং অনিকের বিয়ে হয়েছে গতবছর।
ওদের সংসারে কিছুদিন আগে এক নতুন সদস্যের আগমন ঘটেছে। অহনা ও অনিকের একমাত্র আদরের কন্যা আনিকা।আনিকাকে নিয়ে ওরা দুজনেই এখন সূখে আছে।

সত্যকারেরর ভালোবাসার অফুরন্ত ক্ষমতা রয়েছে। পারষ্পরিক বিশ্বাস এবং ভালোবাসার টানেই হয়তো অনিক এবং অহনা বহুবছর অপেক্ষা করে আর চেষ্টা করে রাখা ওদের পাশাপাশি পথ চলার স্বপ্ন পূরনে সক্ষম হয়েছে। বেচে থাকুক সবার ভালোবাসা। অপেক্ষার ফল সবসময় মধুর হয়।

01/11/2023

2011 সাল তখন ক্লাস নাইনে পড়ি ,
সবে মাত্র গোঁফের রেখা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে ।
সারাদিন স্কুল আর বন্ধুদের সহিত আড্ডা দেওয়াই ছিল দৈনন্দিন রুটিন ।

ভালবাসা কি সেটা নিয়ে তেমন কিউরিসিটি ছিল না !
বন্ধুদের অনেকেই দেখতাম প্রেম করে ,
হাত কাটে , চিরকুট লিখে , ফোনে কথা বলে ইত্যাদি !

সেদিন ছিল বুধবার (07-10-2011) তাকে আমি প্রথম দেখি আমাদের ক্লাসের সামনে নিম গাছে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে আর কার সাথে যেন কথা বলতেছে আর হাসতেছে !

আমি লক্ষ করলাম হাসলে ওর বাম গালে অনেক সুন্দর একটা টোল পরে । যা আমাকে ঐ দিন বেশি মুগ্ধ করেছিল ।

তারপর থেকে যতই দিন যেতে থাকল আমার ততই মেয়েটিকে ভাল লাগতে থাকে! কথাটা আমি আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু বিলাস কে জানাই ,

বিলাস হয়তো ক্লাসের কারো সাথে কথাটা শেয়ার করে আর পরে , বিশেষ করে আমার আল-আমিন চাচার গার্লেফ্রন্ড অর্থাৎ যাকে আমি স্যার -ম্যাডামদের সামনেই চাচি ডাকতাম!

উনি আমাকে বলতেছে যে ''পছন্দ করো বল না কেন?''
আমি বললাম কেমন করে বলব ? মেয়ে ক্লাস সিক্সে পড়ে যদি স্যারের কাছে বিচার দেয় ! এটা এমনিতেই বললাম।

আসলে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে স্যারের কাছে বিচার দিলেও স্যার আমাকে কিছু করবে না (কারন তখন আমরাই ছিলাম স্কুলের মাথা যা বলতাম তাই করতাম)

যাই হোক , পরের দিন চাচি আমাকে বলল আজকে মেয়েকে তোমার কিছু বলতেই হবে । আমি কিছুক্ষণ ইতস্তত করে পরে বললাম আচ্ছা বলব ।

চাচি মেয়েকে আমাদের ক্লাসরুমের দক্ষিনের জানালায় এনে দাঁড় করালো । আর বলল নীল তোমায় কিছু বলতে চায় ।
আর চাচি বলল এবার বলো আমি পাশেই আছি ।

কি বলব বুঝেছিলাম না ।।
ঐ দিকে মেয়েটা বার বার জিজ্ঞাসা করছে কি বলবেন বলেন ??

-না মানে .....(আমি)
-কি না মানে ?(মেয়ে )
-না মানে বলছিলাম কি ....
-কি এত না মানে করছেন ? বলেন কি বলবেন ?
-আসলে হয়েছে কি ! কালকে বলি ?
-না আজকেই বলেন , না হলে আমি গেলাম !
-এই শুনো ,
-আমি না তোমাকে খুব পছন্দ করি ! একদমে চোখ বন্ধ করে বলে ফেললাম ।
বলেই সেখান থেকে চলে আসলাম ।

কিছুদিন পর .....

-এইযে শুনছেন ?(মেয়ে )
তাকিয়ে দেখি ঐ মেয়েটি ,
-আপনি তো অনেক সুন্দর গান করেন !
-আমি সুন্দর গান করি কে বলছে তোমায় ?(আমি)
-কেউ বলেনি , আমি দেখছি ঐযে সেদিন স্যারের সাথে আপনাদের ক্লাসে গানের প্রেকটিস করছিলেন ।
-ওহ্
-আচ্ছা সেদিন জানি কি বলছিলেন ?
-কি বলছিলাম শুনতে পাওনি ?
-হ্যাঁ শুনেছি তো !
-তো উত্তর টা কি ?
জবাবে কিছু বলছে না মাথা নিচু করে আছে ! হয়তো লজ্জা পেয়েছে ।
-কি হল ? কিছু বলো !
-কি বলব ?
-ভালবাসি তোমায় ! এইটা বলো ।
-না পারব না ।
-না বলতে হবে ।
মেয়েটি দৌড়ে চলে গেল !

বহু কষ্টে মেয়ের ফুফুর ফোন নাম্বার জোগাড় করলাম !
কিন্তু এখন ফোন করব কি দিয়ে ?? আমার তো ফোন নেই আর বাসার ফোন দিয়ে কথা বলা যাবে না ।
কয়েকদিন পর সে আমাকে পছন্দ করে বলছে । কিন্তু কথা খুব কম হতো ওর সাথে কারন এই স্কুলেই তার খালাত বোন পড়ত ।

তারপর একটা ফোন কিনলাম ! শুধু ওর সাথে কথা বলার জন্য ।

সম্পর্কটা বেশ ভালই ছিল ।
কিন্তু ফোনেও কথা বলা সমস্যা !
ওর সাথে প্রথম আমার ফোনে কথা হয়েছিল ৩৭
সেকেন্ড ।
পরে আর একদিন ৫৩ সেকেন্ড ।
এই দুইদিন ।
প্রতিদিন স্কুল ছুটির পর তাকে বলে আসতাম ''যাচ্ছি'' !!
সেও আমাকে বলেই যেত !

এইভাবেই আমি ক্লাস টেনে উঠলাম ।
কিন্তু হঠাৎ কি জানি হলো সে বলল আমার সাথে সম্পর্ক রাখবে না ।

আমি স্কুলের পিছনে গিয়ে খুব কেঁদেছিলাম !
বিলাস আমাকে ওদের ক্লাসে গিয়ে তাকে অনেক বুঝাইছে কিন্তু লাভ হয়নি ।।

ও আমাকে ডিরেক্ট বলে দিছে আমার সাথে কোন সম্পর্ক রাখতে চায় না !!
কিন্তু কেন তা আমি আজও জানি না ।।

আমি বার বার জিজ্ঞাসা করেছিলাম কেন সম্পর্ক রাখতে চাওনা ?
সে আমাকে কিছু বলে নি ।।
আমার মতো আরো অনেকেই এই প্রশ্নটাই করে থাকেন ,,
কেন ছেড়ে গেলে ?? আমার কি দোষ ছিল ??

যারা চলে যায় তারা একটা কথাই বলে যায় ''আমি জানি না''

কেন এই কথা বলে তারাই জানে ! আর উপরওয়ালাই জানে ।।।।

[গল্পটি ইন্টারনেট হতে সংগ্রহিত]

01/11/2023
Want your business to be the top-listed Gym/sports Facility in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Dhaka