Goal Bangla Live

Goal Bangla Live

Share

Goal Bangla Live

Photos from Goal Bangla Live's post 13/01/2022

ব্রেকিং নিউজ:

তুরস্ক জাতীয় দলের ২৭ বছর বয়সী ডিফেন্ডার আহমেদ চালিক আজ একটি গাড়ি দূর্ঘটনায় মারা গেছে 😥

ফুটবল ফ্যান হিসেবে অনেক কষ্টের 😭😭😭

11/01/2022

আল রায়ানের বিপক্ষে নাবিল ইরফান।বিশ্বকাপার জেমস রদ্রিগেজের সাথে অ্যারিয়েল ডুয়েলসের লড়াইয়ে💥 বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই সেন্টার ব্যাক!

07/01/2022

বাংলাদেশ ফুটবল দলের নতুন কোচ স্প্যানিশ হাভিয়ের ক্যাবরেরা। সব ঠিক থাকলে ১৩ জানুয়ারি আসছেন বাংলাদেশে।

26/12/2021

আমার দেখা বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় আলফাজ আহম্মেদ। যিনি ১ মাস এর জন্য এশিয়ার সেরা খেলোয়ার নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদি বাংলাদেশের ৯০ দশকের ফুটবল এখনো তেমন ফুটবলার থাকতো তাহলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতো 😓।

17/11/2021

Mon manena × Bathroom

24/12/2020

প্রাইভেট টিচার বার বার মেয়েটার হাত ধরছিলো।
মেয়েটা বিরক্ত হয়ে স্যার কে বললো আপনি বার বার আমার হাত কেনো ধরছেন?
টিচার বললো পাঁচ বার আমি তোমার হাত ধরেছি। তারমানে তুমিও পাঁচ বার আমার হাত ধরেছো।
৫+৫=কতো হয়? উত্তরঃ ১০।
টিচার এটাকে যোগ বলে।
পাঁচ বার তুমি হাত ছাড়িয়ে নিয়েছো
১০-৫=কতো হয়? উত্তরঃ ৫।
টিচারঃ এটাকে বিয়োগ বলে।
পাঁচ বার তুমি বিরক্ত হয়েছো।
৫×৫= কতো হয়? উত্তরঃ ২৫।
টিচারঃ এটাকে গুন বলে।
এতক্ষন দরজার ওপাশ থেকে মেয়েটির বাবা সব শুনে ভিতরে এসে এক লাথি মেরে টিচার কে ফেলে দিয়ে বললো এটাকে ÷(ভাগ) বলে 😹😹😹

01/12/2020

বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই

সবার বাবু অনলাইনে আমার বাবু কই😒





JuNaEid JaVer

29/11/2020

নিজের ঠান্ডা হাত অন্যজনের 😎

শরীরে লাগাইতে প্রচুর ভাল্লাগে 😂




JuNaEid JaVer

27/11/2020

# EX গার্লফ্রেন্ড যখন পুলিশ অফিসার 💕
# লেখকঃ Sahid Hasan Sahi
# পর্বঃ ২০শ ও অন্তিম

হে আল্লাহ আপনি আমার সামিয়া কে সুস্থ করে দিন।

শ্বশুর মশাই গাড়ি দ্রুত গতিতে ড্রাইভ করতেছে। তবুও মনে হচ্ছে ধীরে ধীরে যাচ্ছে। পথ যেন শেষই হচ্ছে না। সামিয়ার অবস্থাও ক্রমশই খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের সামনে এসে গাড়ি দাঁড় করালো। সামিয়া কে কোলে নিয়ে ভিতরে দৌড় দিলাম।

ডাক্তার সামিয়াকে দেখার পর বললোঃ সরি স্যার। ম্যামের অবস্থা এখন বেশ খারাপ। ম্যামের টিউমার টা লাস্ট স্টেপে চলে এসেছে। এখন আমরা কিছু করতে পারবো না। এছাড়া আমাদের এখানে বর্তমান ভালো ডাক্তার নেই। আপনারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঢাকাতে নিয়ে যান। সেখানে ভালো ভালো ডাক্তার আছে। আমি তাদেরকে মেডিকেল টিম গঠন করার জন্য বলতেছি।

সামিয়া কে নিয়ে এয়ারপোর্টে আসলাম। ঐশীর নানু এখানকার প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় তাড়াতাড়ি ফ্লাইটের ব্যবস্থা হয়ে গেলো।আমি, ঐশী আর ঐশীর নানু সামিয়া কে নিয়ে রাওনা দিলাম ঢাকার উদ্দেশে।

ঢাকাতে আসার পর সামিয়াকে মেডিকেলে নিয়ে গেলাম। দুজন টা ডাক্তার সামিয়া কে বললোঃ ওহহ মাই গড! রুগি তো সিরিয়াস।

আমি কান্না করতে করতে ডাক্তার কে বললামঃ ডাক্তার আমার ওয়াইফ সুস্থ হবে তো?

ডাক্তার আমার কাঁধে হাত রেখে বললোঃ প্লিজ আপনি শান্ত হন। আমরা বোর্ড গঠন করেছি। আমরা দেখতেছি। আপনি আল্লাহকে ডাকুন।

ডাক্তাররা সামিয়া কে ওটিতে নিয়ে গেল। আমি আর আমার মেয়ে ওটির বাইরে বসে থেকে কান্না করতেছি। ঐশী শুধু মামনি মামনি বলে কান্না করতেছে।

ঐশী আমাকে জড়িয়ে ধরে বললোঃ বাবাই আমাল মামনিল তি হয়েতে? আমাল মামনিতে ঐ লোত দুলো তোথায় নিয়ে দেলো?(কান্না করতে করতে)

ঐশীর কপালে একটা চুমু দিয়ে বললামঃ আম্মু তোমার মামনি কে ঐ লোক গুলো ভালো করার জন্য নিয়ে গিয়েছে।

ঐশী খুশি হয়ে বললোঃ সততি আমাল মামনি ভালো হয়ে দাবে।

আমিঃ হুমম আম্মু। তুমি কান্না করো না ঠিক আছে।

ঐশীঃ থিক আতে বাবাই। বাবাই মামনি ভালো হয়ে দেলে আমলা আবাল তপিং কলতে দাবো থিত আতে।

আমি ঐশীকে বুকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে লাগলাম। এতো ছোট্ট বাচ্চার চিন্তা ধারা কতটা গভীর। তার মামনি ভালো হয়ে গেলে তাকে নিয়ে শপিং করতে যাবে। কিন্তু জানিনা সে তার মায়ের মুখে ঐশী ডাক টা আর শুনতে পারবে কি না? জানিনা আর কোনোদিন সে মায়ের আদর, যত্ন ভালোবাসা পাবে কি না? জানিনা আমিও আমার প্রিয়সীর সাথে এই রঙিন দুনিয়ার রং তামাশায় মেতে উঠতে পারবো কিনা? এ গুলো ভাবতেছি আর ঐশীকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতেছি।

ঐশী আমাকে কাঁদতে দেখে বললোঃ বাবাই তুমি তান্না কলতেথো তেন? আমালে তপিং কলতে নিয়ে দাবে না?(চোখের পানি মুছে দিতে দিতে)

আমি ঐশীর হাতে চুমু দিয়ে বললামঃ নিয়ে যাবো আম্মু। তোমার মামনি সুস্থ হলে তুমি, আমি আর তোমার মামনি একসাথে যাবো।

ঐশীর সাথে কথা বলতেই ঐশীর নানু এসে বললোঃ সাহিদ তুমি মনে হয় সকাল থেকে কিছুই খাওনি। এগুলো খেয়ে নাও।( আপেল, বিস্কিট,কেক আরো কিছু এগিয়ে দিয়ে।)

আমিঃ না বাবা আমি খাবো না।

ঐশীর নানুঃ একটু খাও নইলে শরীর খারাপ করবে।

ঐশীর নানুর জোরাজুরিতে একটু খেলাম। খাওয়ার রুচি ছিলো না।আমি না খেলে আবার আমার মেয়ে খাবে না। তাকে খাওয়ানোর জন্য একটু খেলাম। আর হ্যাঁ সামিয়ার আব্বু আম্মু আর আমার আব্বু আম্মুকে সামিয়ার ব্যাপারে কিছুই বলিনি। যদি সামিয়ার অসুস্থতার কথা সামিয়ার আম্মুকে বলি, তাহলে সামিয়ার আম্মু আরো অসুস্থ হয়ে পড়বে।

প্রায় একঘন্টা পর ডাক্তার ওটি থেকে বের হয়ে এসে বললেনঃ স্যার অপারেশন সাকসেসফুল। কিন্তু,,,

আমিঃ কিন্তু কি ডাক্তার?(উত্তেজিত হয়ে)

ডাক্তারঃ ১২ ঘন্টার মধ্যে জ্ঞান না ফিরলে রোগি কামাই চলে যেতে পারে। টিউমার টা লাস্ট স্টেপে চলে গিয়েছিলো। যারফলে, অপারেশন করার সময় মস্তিষ্কে কিছুটা চাপ পড়ে। এখন সব কিছু মহান আল্লাহর হাতে। আপনি তাঁর কাছে দোয়া করুন।

ডাক্তার চলে যাওয়ার পর আমি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লাম। ঐশীকে ওর নানু বাইরে ঘুরতে নিয়ে গেছে। সামিয়ার কথা গুলো আমার মনে পড়তেছে। সে আমাকে এখনো আগের মতই ভালোবাসে। কিন্তু তার অনিশ্চিত জীবনে আমাকে জড়াতে চায়নি বলে আমাকে ইগনোর করে গেছে। আমার ভালোবাসার জন্য সে আমার জায়গায় কাউকে বসাতে পারেনি। তাকে ছাড়া আমি কি ভাবে জীবনের বাকিটা সময় কাটাবো? হে আল্লাহ আপনি শুধু আমার সামিয়া ক্ষমা করে দেন।

দীর্ঘ ১২ ঘন্টা ওটির দরজার পাশে বসে থেকে কাটিয়ে দিলাম। এখনো সামিয়ার জ্ঞান ফিরেনি। মনের মধ্যে ভয় হচ্ছে, সামিয়া কে কি আর পাবো না।

মাথা হেলে কান্না করতেছি। পাশেই ঐশী আর তার নানু বসে আছে। নার্স ওটি থেকে বের হয়ে এসে বললোঃ স্যার রোগির জ্ঞান ফিরেছে।

নার্সের কথাটা যেন আমি নিজের কানেও বিশ্বাস করতে পারতেছি না। দৌড়ে সামিয়ার কাছে গেলাম। দেখি আমার সামিয়ার বেডে শুয়ে আছে। আমাকে দেখার পর হাত দিয়ে কাছে ডাকতেছে। আমি সামিয়ার কাছে যায়ে সামিয়ার পাশে বসে সামিয়ার হাত ধরে কান্না করতে লাগলাম। মনে হচ্ছে যে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান কোনো হারানো রত্নকে ফিরিয়ে ফেয়েছি।

সামিয়া ওর হাত দিয়ে আস্তে আস্তে আমার চোখের পানি মুছে দিয়ে দিয়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললোঃ এ এই তুমি কান্না করতেছো কেন? জানো না তোমার কান্না আমার সহ্য হয়না।

আমীন সামিয়ার কপালে চুমু দিয়ে বললামঃ কলিজা তোমাকে ছাড়া আমি কী করে থাকবো বলো? মনে হচ্ছিল আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে। কলিজা তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচবো না। প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও।

সামিয়া আমার মাথার পিছনে হাত দিয়ে নিজের দিকে টেনে কপালে একটা চুমু দিয়ে বললোঃ আমিও তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না। জানো, আমাকে অপারেশন করানোর আগে আমি শুধু তোমাকে দেখতে চাওয়ার কথাই বলেছিলাম। কিন্তু শয়তান ডাক্তারেরা আমার কথা শুনে নি আচ্ছা আমাদের মেয়ে কোথায়?

আমিঃ মেয়ে আর মেয়ের নানু বাইরে বসে আছে। তুমি থাকো আমি নিয়ে আসতেছি।

বাইরে থেকে ঐশীকে নিয়ে ভিতরে আসলাম। সাথে ঐশীর নানুও আছে। ঐশী তার মামনিকে দেখে জড়িয়ে ধরতে চাইলে আমি আটকিয়ে বললামঃ আম্মু তোমার মামনি এখন অসুস্থ মা । এখন জড়িয়ে ধরা হবে না, কোলে উঠা হবে না বুঝেছো।

ঐশীঃ হ্যাঁ বাবাই বুদেথি।

ঐশী ওর মায়ের মাথার কাছে বসে পড়লো। সামিয়া ঐশীকে তার কাছে টেনে নিয়ে বললোঃ আম্মু তুমি সকালে খেয়েছো?

ঐশীঃ হ্যাঁ মামনি বাবাইয়েল সাতে খেয়েথি। দানো মামনি বাবাই তোমাল দন্য অনেত তান্না তলেথে।

সামিয়া ঐশীর কথা শুনে আমার দিকে তাকিয়ে বললোঃ তাই।

ঐশীঃ হ্যাঁ। আর বলেথে তোমাল মামনি ভালো হয়ে দেলে আমালে আল তোমালে নিয়ে তপিং কলতে দাবে।

মেয়ের কথা শুনে মেয়ের মা ঠিক করে হেসে দিলো। অপরদিকে ঐশীর নানুও হেসে দিলো। সামিয়া ঐশীর নানুর হাসির শব্দ শুনে মাথা ঘুরে ঐশীর নানু কে দেখতে পেয়ে বললোঃ বাবা কেমন আছো?(আস্তে আস্তে)

ঐশীর নানু সামিয়ার কাছে এসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললোঃ তোকে এই অবস্থায় রেখে কেমন করে ভালো থাকি বল? তোর এখন কেমন লাগতেছে?

সামিয়াঃ হুমম ভালো।

নার্স রুমে ঢুকে সামিয়ার কথা শুনতে পেয়ে বললোঃ ম্যাম আপনি এখন বেশি কথা বলবেন না। কথা বললে আমার মস্তিষ্কে চাপ পড়তে পড়ে পরবর্তীতে প্রবলেম হতে পারে।

সামিয়াঃ ঠিক আছে।

এরপরে সামিয়া কে কেবিনে শিফট্ করা হলো। ঐশীর নানুর অফিসে একটা জরুরি মিটিং থাকায় সে সিলেটে চলে গেলো। যদিও তিনি সামিয়া রেখে যেতে চাইছিলো না। আমিও জোর করে পাঠিয়ে দিয়েছি। কেননা, তার অফিস আছে ‌।আর অফিস সামলানোর তিনি ছাড়া কেউ নেই। আমি আর ঐশী সামিয়ার কাছে আছি।

এক সপ্তা হাসপাতালে রাখতে হবে। রাতে রেস্টুরেন্ট থেকে স্যুপ নিয়ে এসে সামিয়াকে খাইয়ে দিলাম। এরপরে আমার আর আমার মেয়ের জন্য নিয়ে আসা বিরিয়ানি খেলাম। আমার মেয়েটা আবার বিরিয়ানি পাগলি। তার জন্যই মূলত নিয়ে আসা। যদিও আমাকে বিরিয়ানি ভালো লাগে।

রাতে ডিনার শেষ করে বেডের একপাশে ঐশীকে ঘুম পাড়িয়ে দিলাম। কারণ,সে তার মামনি কে ছাড়া শুবে না। সামিয়ার মাথায় কাছে বসে সামিয়ার মাথাটা আমার কোলে নিয়ে চুলে বিলি কেটে দিতে লাগলাম। সামিয়ার আমার দিকে তাকিয়ে বললোঃ তুমি ঘুমাবে না? সারাদিন অনেক কষ্ট করেছো।

আমিঃ আমার এসব কষ্ট কিছুই মনে হয় নি। তোমাকে ফিরিয়ে পেয়েছি এটাই অনেক।

সামিয়াঃ তাই। তুমিও আমার পাশে শুয়ে পড়ো।আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।

আমিঃ আমি এভাবেই ঠিক আছি। আর এখন আমার আদরের প্রয়োজন নেই। সুস্থ হও তার পরে নাহয় আমিই আদর আদায় করে নিবো।(চোখ টিপি দিয়ে)

সামিয়া আমার থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে মুচকি হেসে বললোঃ হুমম তোমার তো শুধু এসবই। একটুও চেঞ্জ হওনি তো দেখতেছি।

আমিঃ পুরোটাই চেঞ্জ হয়েছিলাম। কিন্তু এখন ভালোবাসার মানুষটিকে কাছে পেয়ে আবার আগের মতোই হয়েছি।

সামিয়াঃ তাই।

আমিঃ হুমম। এবার ঘুমিয়ে পড়ো। আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।

সামিয়াঃ ঠিক আছে।

সামিয়া কে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে আমিও সোফায় ঘুমিয়ে পড়লাম। বেডে তিনজন শুয়ে থাকা মুশকিল। তারপরেও সামিয়া অপারেশনের রুগি।


কেটে গেল এক সপ্তাহ। এই এক সপ্তাহের প্রতিটা দিনের প্রতিটা ক্ষণ আমি সামিয়ার সেবা করেছি। তুলে খাওয়ানো, প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা ফ্রেশ করে দেওয়া, বাথরুমে নিয়ে যাওয়া, ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া সব কিছু আমি নিজ হাতেই করেছি। তাকে সেবা করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে। তার ভালোবাসার কাছে আমার এই সেবা কিছুই নয়। কতটা ভালোবাসলে, সত্যটা জানার পরেও ভালোবাসার মানুষটিকে সুখে রাখতে তার কথা শুনে পরিবার পরিজনকে ছেড়ে চলে যেতে পারে সেটা সামিয়া কে না দেখলে বুঝতে পারতাম না।

ঐশীকে ফ্রেশ করে দেওয়া, খাইয়ে দেওয়া, ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া আমিই করেছি। ঐশীর নানু নার্স রাখতে চেয়েছিলেন কিন্তু আমি নিষেধ করে দেই। ঐশীর নানু তার কাজের জন্য সিলেটে যেতেন কাজ শেষ করে আবার আসতেন। সামিয়া এখন আল্লাহর রহমতে মোটামুটি সুস্থ। হাঁটতে পারবে,নিজ হাতে খেতে পারবে আর কোনো সমস্যা হবে না। আগামি কাল ফ্লাইটে সিলেট যাবো।

হাসপাতালের বিল পেমেন্ট করতে যায়ে শুনলাম ঐশীর নানু আগেই পেমেন্ট করেছেন। আসলে লোকটা খুব ভালো। সামিয়ার কাছ থেকে শুনেছি,একটা এক্সিডেন্টে তিনি তাঁর পরিবারকে হারিয়েছেন। এরপর থেকে তিনি তার কম্পানি থেকে যত কিছু আয় হয় সব কিছুই এতিমখানায় আর গরিবদেরকে দান করে দেন। এতিমদের জন্য তিনি একটা স্কুল খুলেছেন, যেটা তিনি নিজের টাকা দিয়ে পরিচালনা করেন।

হাসপাতাল থেকে এয়ারপোর্টে আসলাম। ফ্লাইটে উঠার কিছুক্ষণ পরেই ফ্লাইট আকাশের বুকে উড়াল দিলো।আমি আর সামিয়া পাশাপাশি সিটে বসেছি। ঐশী তার নানুর কোলে বসে আছে। ঐশীর খুশি দেখে কে। নানুর কোলে বসে থেকে হাত তালি দিচ্ছে আর বলতেছেঃ তি মদা আমলা পাতি হয়েতি লে। আকাসে উলতেথি লে ( কি মজা আমরা পাখি হয়েছি যে। আকাশে উড়তেছি রে )।

ঐশীর হাততালি আর কথা শুনে ফ্লাইটের সকল যাত্রীর নজর ঐশীর দিকে। সামিয়া আমার দিকে তাকিয়ে বললোঃ তোমার মেয়ে একে বারে তোমার মতোই হয়েছে।

আমি মুচকি হেসে বললামঃ দেখতে হবে মেয়েটি কার?

সামিয়াঃ কার আবার আমার।(একটু ভাব নিয়ে)

আমিঃ শুধুই কি তোমার?(মন খারাপ করে)

সামিয়া আমার কাঁধে মাথা রেখে বললোঃ আমার আর আমার এই পাগল বরটার।

কথা বলতে বলতে ফ্লাইট সিলেটে এসে ল্যান্ড করলো। ফ্লাইট থেকে নেমে শ্বশুর বাড়িতে আসলাম। রাতে ডিনার করে আমি আর সামিয়া সামিয়ার রুমে বসে আছি। আমার মেয়ে এসে বললোঃ মামনি আদকে আমি নানু ভাইয়াল কাথে থাকবো।

ঐশীর কথা শুনে সামিয়া আমার মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকলো। কারণ,ঐশী কোনো রাতই সামিয়া কে ছাড়া থাকেনি। আর থাকতেও চায়না।

আমি ঐশীকে বললামঃ ঠিক আছে মা যাও।আর ভালো ভাবে ঘুমাবে কেমন?

ঐশীঃ ঠিক আছে বাবাই।

ঐশী রুম থেকে বের হয়ে যেতেই আমি সামিয়া কে বললামঃ ঐশীর কথা শুনে এভাবে হাঁ করে থাকার কারণ কী?

সামিয়াঃ আমার মেয়ে কোনোদিন আমাকে ছাড়া থাকে না। কিন্তু আজকে কি হলো ওর?

আমি মুচকি হেসে বললামঃ আমাদের মেয়েও চাই তার বাবাই আর মামনি যেন একা একা কিছু টাইম অতিবাহিত করে।

সামিয়া লজ্জা মাখা হাসি দিয়ে বললোঃ হুমম তোমার শুধু দুষ্টামি।

সামিয়া কে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। পরেরদিন সকলে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে ঐশী আর সামিয়া কে নিয়ে শপিং মলে। শপিং শেষ করে কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করে বাসায় আসলাম। পরেরদিন সামিয়ার থানাতে গেলাম ‌। সেখানে সামিয়ার রিজাইন লেটার জমা দিয়ে আসলাম। কারণ, আমি আর চাইনা সামিয়া জব করুক। ঘোরাফেরা করার মাধ্যমে কেটে গেলো আরো এক সপ্তাহ।
সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে সামিয়া কে বললামঃ বাসায় যাবে কবে?

সামিয়াঃ আর কয়েকটা দিন থাকি এখানে। বাবাকে ছেড়ে যেতে মন চাইছে না।

আমিঃ তোমার আম্মু খুবই অসুস্থ। এছাড়া শ্বশুর আব্বুকে নাহয় আমাদের বাসায় নিয়ে যাই।

সামিয়া কিছুক্ষণ ভেবে বললোঃ ঠিক আছে। চলো বাবাকে বলে আসি।

আমিঃ চলো।

ঐশীর নানুর রুমে গেলাম। দেখি তিনি বসে থেকে ফাইল চেক করতেছেন। আমাদের দেখে ঐশীর নানু বললোঃ কি হয়েছে মা তোমাদের?

আমিঃ আব্বু আমি সামিয়া কে নিয়ে যেতে চাচ্ছি।

আমার কথা শুনে ঐশীর নানু কিছুটা চমকে উঠলো।আর চেহারাটা কেমন যেন হয়ে গেল। হয়তোবা সামিয়া কে যেতে দিতে তার মন চাচ্ছে না। তবুও ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে বললোঃ কখন যাবে তোমরা?

আমিঃ আমরা একাই যাবো না। আপনাকেও সাথে নিয়ে যাবো।

ঐশীর নানুঃ আমি যেতে পারবো না বাবা আমার অফিসের কাজ আছে।

সামিয়াঃ না আব্বু তোমাকে ছাড়া আমরা যাবো না।

ঐশীর নানুঃ মা বুঝার চেষ্টা কর। কালকে অফিসে একটা জরুরি মিটিং আছে। আর তোরা যা আমি কাজ শেষ করে যেয়ে তোদের দেখে আসবো ।

সামিয়াঃ ঠিক আছে তাহলে।

সকালের নাস্তা করে আমি,সামিয়া আর ঐশী রুম থেকে বের হলাম। ঐশীর নানুর গাড়ি বাইরে অপেক্ষা করতেছে। আমাদের নামিয়ে দিয়ে আসবে। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ঐশীর নানু আমার হাত ধরে বললোঃ বাবা আমি জানি সামিয়া আমার জন্ম দেওয়া সন্তান নয়। কিন্তু এই চার বছর তাকে নিজের সন্তানের মতোই দেখেছি। কখনো তাকে না খাইয়ে দিয়ে আমি নিজে খাইতাম না। এই চার বছরে তাকে কখনো কষ্ট পেতে দেয় নি।আমি জানি সামিয়া আমার কাছে সারাজীবন থাকবে না।তার মা-বাবা,স্বামী, সংসার আছে। আমি তাকে বাধাও দিবো না।

বলেই কান্না করতে লাগলো। হয়তো সামিয়া কে ছেড়ে দিতে তার মন চাচ্ছো না।

চোখের পানি মুছে আবার বলতে লাগলোঃ আমার মেয়ে তোমাকে খুব ভালোবাসে। তোমার কথা ভেবে প্রতি রাতেই কান্না
করতো। বাবা তোমার কাছে আমার একটাই অনুরোধ তুমি আমার মেয়েকে কখনো কষ্ট দিয়ো না। কখনো আর ছেড়ে দিয়ো না।

আমি উনাকে জড়িয়ে ধরে বললামঃ আমি কখনো আপনার মেয়েকে কষ্ট দিবো না বাবা আপনাকে কথা দিলাম।

এরপরে সামিয়া তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো। সামিয়ার বাবা সামিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললোঃ মারে কান্না করতেছিস কেন? কান্না করিস না মা! সেখানে তোর মা বাবা শ্বশুর শ্বাশুড়ি সবাই আছে। তারাও তোর জন্য অপেক্ষা করতেছে।

সামিয়াঃ তোমাকে ছেড়ে কি করে থাকবো বলো?(কান্না করতে করতে)

ঐশীর নানু সামিয়ার চোখের পানি মুছে দিয়ে বললোঃ পাগলি মেয়ে আমি তোকে মাঝে মাঝেই দেখতে যাবো কেমন। কান্না করিস না।

যাইহোক, বাসা থেকে বের হয়ে বাইরে আসলাম। বাইরে এসে দেখি একটা রেড কালারের নিউ গাড়ি দাঁড় করানো। আমি কিছু বলার আগেই ঐশীর নানু আমার হাতে চাবি ধরিয়ে দিয়ে বললোঃ বাবা তোমাকে আমার মেয়ের জামাই হিসেবে কিছুই দিতে পারিনি। তাই তোমার জন্যে আমি এই গাড়িটা কিনেছি। প্লিজ বাবা তুমি এটা নাও।

আমিঃ বাবা আমার গাড়ি তো আছে। আপনি কেন এটা কিনতে গেলেন?

ঐশীর নানুঃ আমি কোনো কথা শুনতে চাইনা তুমি নিবে এটাই চুড়ান্ত।

আমিঃ ঠিক আছে।

গাড়ির কাছে আসতেই বললেনঃ তুমিই ড্রাইভ করবে নাকি ড্রাইভার নিবে?

আমিঃ আমিই ড্রাইভ করবো। ড্রাইভার লাগবে না।

ঐশীর নানুঃ ঠিক আছে ।আর নানু ভাই এখানে এসে তো।

ঐশী সামিয়ার কোলে থেকে নেমে তার নানুর কাছে গেল। ঐশীর নানু ব্যাগ থেকে একটা নেকলেস এর প্যাক বের করে ঐশীর সামনে হেটু গেঁড়ে বসে ঐশীর গলায় নেকলেসটি পড়িয়ে দিয়ে বললেনঃ বাহহ আমার নানু ভাইকে তো প্রিন্সেস এর মতো লাগতেছে।

ঐশী তার নানুর কথা শুনে ফিক করে হেসে দিয়ে আমার কাছে আসলো। সামিয়া তার বাবাকে বললোঃ এতো কিছু করার কি প্রয়োজন ছিলো বলো?

ঐশীর নানু একটু রেগে গিয়ে বললোঃ এসব আমি কার জন্য করতেছি? আমার মেয়ের আর জামাইয়ের জন্যেই তো। তাদেরকে দিবো না তো কাকে দিবো?

ঐশীর নানুর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠলাম। তিনি গাড়ির কাছে এসে সামিয়া কে বললোঃ মা তুই পৌঁছে আমার কাছে ফোন করিস। আর এই বুড়ো বাবা টাকে যেন ভুলে যাস না মাঝে মাঝেই আসবি কিন্তু।(চোখের কোণার পানি মুছে)

সামিয়াঃ ঠিক আছে বাবা আসবো। আর তুমিও মাঝে মাঝে যাবে।

ঐশীর নানুঃ আচ্ছা। নানু ভাইয়া ভালো ভাবে যাবে কেমন।

ঐশীঃ আততা নানু ভাইয়া।

সামিয়া ঐশীকে বললোঃ নানু ভাইয়াকে বিদায় দেও।

ঐশীঃ আততালামুআলাইতুম নানু ভাইয়া থাতো ।

ঐশীর নানুঃ আচ্ছা যাও।

গাড়ি স্টার্ট দিয়ে রান্না দিলাম রাজশাহীর উদ্দেশ্যে। কিছুদূর যাওয়ার পর লুকিং গ্লাসে তাকিয়ে দেখি ঐশীর নানু এখনো আমাদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।

মানুষ এতো তাড়াতাড়ি একটা মানুষ আপন করে নিতে পারে সেটা উনাকে না দেখলে বুঝতে পারতাম না। গাড়ি চলতেছে হাইওয়েতে। আমি ড্রাইভ করতেছি। সামিয়া আমার পাশের সিটে বসে আছে।আর ঐশী সামিয়ার কোলে।

আমি মোবাইল টা পকেট থেকে বের করে আম্মুর কাছে ফোন দিলাম। একবার রিং হতেই আম্মু রিসিভ করলো। আমি সালাম দিয়ে বললামঃ আম্মু কেমন আছো?

আম্মু সালামের উত্তর দিয়ে বললোঃ তোকে ছাড়া আর কেমন থাকবো বল? তুই কবে বাসায় আসবি?

আমিঃ আজকেই যাচ্ছি।

আম্মুঃ কিহহহ সত্যি?

আমিঃ হুমম। আর সামিয়ার আব্বু আম্মু কোথায় আছে?

আম্মুঃ নওগাঁয় আছে। কেন?

আমিঃ উনাদের ফোন করে এখনি আমাদের বাসায় আসতে বলো।

আম্মু অবাক হয়ে বললোঃ কেন?

আমিঃ একটা সারপ্রাইজ আছে । তুমি উনাদের ফোন করে তাড়াতাড়ি আসতে বলো।

আম্মুঃ আচ্ছা ঠিক আছে বাবা।

আম্মুর সাথে কথা বলে ফোন রাখতেই ঐশী বললোঃ বাবাই আমলা তোথায় দাতথি? তপিং মলে?

আমিঃ না আম্মু। আমরা তোমার দাদুর বাড়িতে যাচ্ছি।

ঐশীঃ মামনি দাদু তি?

ঐশীর প্রশ্নে শুনে আমি হাসতে লাগলাম। সামিয়া আমার হাসি দেখে বললোঃ এই তুমি হাসতেছো কেন?

আমিঃ মেয়ের কথা শুনে।

সামিয়াঃ মেয়ে কি কোনোদিন দাদুকে দেখেছে নাকি দাদুর নাম কোনোদিন শুনেছে? তাহলে বুঝবে কি করে দাদু কী?

আমি সামনে তাকিয়ে বললামঃ মেয়ে তার দাদু কে দেখেনি শুধু তার মায়ের জন্য। সে যদি আমাদের ছেড়ে না আসতো তাহলে অবশ্যই দেখতে পেতো।

সামিয়াঃ হুঁ,,,।

ঐশী ওর মায়ের মুখ নিজের দিকে ঘুরিয়ে বললোঃ মামনি বলো না দাদু তি?

সামিয়াঃ আমার বাবা তোমার কে হয়?

ঐশীঃ নানু ভাইয়া।

সামিয়াঃ তেমনি তোমার বাবাইয়ের বাবা তোমার দাদু হয়। বুঝেছো?

ঐশী চকলেট মুখে দিতে দিতে বললোঃ হুমম বুদেথি।

ঐশী আর কিছু না বলে চকলেট খাওয়ায় মনোনিবেশ করলো। আমি ড্রাইভ করতে লাগলাম। দীর্ঘক্ষণ ড্রাইভ করে এসে পৌঁছলাম বরেন্দ্র অঞ্চল রাজশাহীতে। রাজশাহীতে পৌঁছতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। গাড়ি নিয়ে শপিং মলে গেলাম। কারণ,সামিয়া আর ঐশীর কোনো ড্রেস নিয়ে আসা হয়নি। আর হ্যাঁ ঐশী ঘুমিয়ে গেছে। এখনো ঘুমিয়ে আছে।

শপিং শেষ করে গাড়ি নিয়ে বাসায় আসলাম। গাড়ি পার্ক করে ঐশীকে ঘুম থেকে জাগিয়ে কোলে তুলে নিলাম।আর সামিয়া নেকাবটা ভালো ভাবে পরে নিলো। সামিয়া বোরকা পরেছিল।

কলিং বেল বাজাতেই আম্মু দরজা খুলে দিলো। আমার কোলে বাচ্চা দেখে অবাক হয়ে গেল। আর সবচেয়ে বেশি অবাক হলো আমার পাশে থাকা বোরকা পরা মেয়েটিকে দেখে।

আম্মু আমাকে বললোঃ সাহিদ কে এরা?

আমি আম্মুকে বললামঃ ভিতরে চলো।

ভিতরে যায়ে দেখি সামিয়ার আব্বু আম্মু, আমার আব্বু, সাফিয়া আর তিশা সোফায় বসে আছে। আমাকে দেখে সাফিয়া মুচকি হাসলো। যেটার মানে কেউ বুঝতে না পারলেও আমি বুঝতে পেরেছি। সাফিয়ার হাসির কারণ হলো,কাজ হয়েগেছে।

আব্বু আমার পাশে বোরকা পরা মেয়ে আর কোলে বাচ্চা দেখে বললোঃ সাহিদ কে এরা?

আমি কিছু না বলে ঐশীকে কোল থেকে নামিয়ে দিয়ে সামিয়ার মুখ থেকে নেকাব টা খুলে দেওয়ার সাথে সাথে সামিয়ার আম্মু সামিয়া কে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলো। একবারো ভালো ভাবে দেখার প্রয়োজনও মনে করলো না যে,এটা তার মেয়ে নাকি অন্য কেউ।

সামিয়া আম্মু সামিয়া কে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো। সামিয়ার তার আবেগ কে ধরিয়ে রাখতে না পেরে তার আম্মু কে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলো। এটা তাদের কষ্টের কান্না নয়।এটা তাদের সুখের কান্না। একজন তার হারানো মানিককে খুঁজে পাওয়ার জন্য কান্না করতেছে ,অন্য জন তার সবচেয়ে আপন জনকে পেয়ে কান্না করতেছে।

সামিয়ার আম্মু সামিয়া কে বললোঃ মা তুই আমাদের কে মাফ করে দে। বিনা কারণ তোকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছি।

সামিয়া তার আম্মুকে বললোঃ তোমাদের কারো উপর আমার রাগ অভিমান নেই। আমি সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছি।

সামিয়া তার মাকে ছেড়ে দিয়ে তার আব্বুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো। সামিয়ার আব্বু ও মেয়েকে তার পেয়ে কান্না করতে লাগলো। সামিয়ার আব্বু বললোঃ মা আমি জানি আমরা তোকে কষ্ট দিয়েছি। বাসা থেকে বের করে দিয়েছি। তুই যদি আমাদেরকে মাফ না করিস তাহলে আমরা চিরকাল তোর কাছে পাপী হয়ে থাকবো।

সামিয়াঃ আব্বু আমি সবাইকে মাফ করে দিয়েছি। তাছাড়া তোমাদের জায়গায় যে কেউ হলে একই কাজ করতো।

সামিয়া আমার আব্বু আম্মুর কাছে গেলো তারাও সামিয়ার কাছে ক্ষমা চাইলো। ঐশী এতোক্ষণ আমার কাছেই ছিলো। সামিয়ার কাছে যায়ে বললোঃ মামনি এই লোত দুলা যে?

ঐশীর কথা শুনে সবাই ঐশীর দিকে তাকালো।আর সামিয়া কে মামনি ডাকায় সবাই বেশ অবাক হয়েছে।

আমি সামিয়ার কাছে যায়ে ঐশীকে কোলে নিয়ে আমার আব্বুকে দেখিয়ে দিয়ে বললামঃএটা হলো তোমার দাদু ভাই। আম্মুকে দেখিয়ে দিয়ে বললামঃ এটা তোমার দাদি। শ্বাশুড়ি মাকে দেখিয়ে দিয়ে বললামঃ এটা তোমার নানি। শ্বশুর আব্বুকে দেখিয়ে দিয়ে বললামঃএটা তোমার নানু ভাই।

নানু ভাই বলাতে ঐশী কিছুটা অবাক হয়ে বললোঃ আমাল তো নানু ভাই আতে।

আমিঃ এটাও তোমার নানু ভাই। এখন থেকে এই নানু ভাই তোমাকে চকলেট কিনে দিবে।

ঐশীঃ আততা।

এরপরে ঐশীকে সাফিয়া কে দেখিয়ে দিয়ে বললামঃএটা তোমার আন্টি।

ঐশীঃ ওও। আন্নির নাম তি?

আমিঃ সাফিয়া।

আব্বু আমাকে বললোঃ সাহিদ এই বাচ্চাটাকে?

আমি মুচকি হেসে বললামঃ এটা তোমাদের নাতনি।

আব্বু-আম্মুঃ কিহহ?

আমিঃ হ্যাঁ। সামিয়া এখান থেকে যাওয়ার সময় প্রেগন্যান্ট অবস্থায় ছিলো।

আব্বুঃ ওওও। তো আমার মিষ্টি দাদু ভাইয়ের নাম কি?

ঐশীঃ আমার নাম ইসলাত দাহান ঐতী।

ঐশীর বলা নাম শুনে সবাই হাসতে লাগলো। সামিয়া সাফিয়া আর তিশার সাথে কথা বলতে লাগলো।এর পর সাফিয়া আর তিশা সামিয়া কে সাফিয়ার রুমে নিয়ে গেল ফ্রেশ হওয়ার জন্য। আমি আমার দুই আম্মুর সাথে কথা বলতে লাগলাম আর ঐশী তার দাদু আর নানুর সাথে কথা বলতেছে।

একটু পরে আম্মু ডিনার করার জন্য ডাইনিং টেবিলে যেতে বললোঃ সবাই একসাথে ডাইনিং টেবিলে বসলাম। আজকে খুব মজা লাগতেছে।আজ থেকে চার বছর পর সবাই একসাথে বসে খাওয়া-দাওয়া করতেছি। যদিও চর বছর আগে একসাথে বসে খাওয়া-দাওয়া করেছি । কিন্তু তখন একটা চেয়ার ফাঁকা ছিলো। আর সেটা হলো আমার মেয়ের চেয়ার।

আমি আম্মুর পাশে বসেছি। সামিয়া সামিয়ার আম্মুর পাশে আর ঐশী তার আন্টিদের কাছে। ডিনার শেষ করে বাসায় সকল মেম্বার সোফায় বসে থেকে আড্ডা দিতে লাগলাম।

সামিয়া সব সময় তার আম্মুর কাছে আছে। আর থাকবেই না কেন আজ থেকে চার বছর পর মাকে কাছে পেয়েছে। সবাইকেই পেয়েছে কিন্তু মায়ের প্রতি ভালোবাসার একটা আলাদা রকম টান আছে।

আম্মু সামিয়ার বললোঃ সামিয়া মা তুই এতো দিন কোথায় ছিলিস?

এরপরে সামিয়া বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে ঐশী জন্ম গ্রহণ করা, তারপরে আমার সাথে দেখা হওয়া, ব্রেন টিউমার হওয়ার সব কিছু বললো।

সামিয়ার ব্রেন টিউমার হওয়ার কথা শুনে সামিয়ার আম্মু কান্না করতে লাগলো। মেয়ের অসুস্থ হওয়ার খবর তিনি মেনে নিতে পারতেছে না।

সামিয়া তার আম্মুকে শান্তনা দিতে শুরু করলো। কিছুক্ষণ পর তিনি শান্ত হলেন। আরো কিছু আড্ডা দিলাম। মনে হচ্ছে গল্প শেষ হতেই চাচ্ছে না।

আমি আর সামিয়া আমার রুমে আসার জন্য উঠে দাঁড়ালাম। বাসায় আসার পরে আমি আর সামিয়া কেউ এখনো রুমে যাইনি।

ঐশীকে সাফিয়া আর তিশা তাদের রুমে নিয়ে গেছে। আমি রুমের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলাম। সামিয়াও আমার পিছে পিছে আসতেছে। রুমের লাইট জ্বালিয়ে দিলাম। লাইট জ্বালিয়ে দেওয়ার পর সামিয়া যখন বেডের দিকে তাকালো তখন সে কিছু টা অবাক হয়ে গেল। সে তার চোখ কে বিশ্বাস করতে পারতেছে না। সে কি দেখতেছে।

বেডটা ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে আর নানা রকম বেলুন ফুলিয়ে উপরে টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছে। এক কথায় বাসর ঘরের মতোই।

আমাকে বললোঃ এসব কখন করলে?

আমিঃ সে টা তোমার না জানলেও চলবে।

সামিয়া কে কিছু না বলে তার হাত ধরে বেলকুনিতে নিয়ে আসলাম। বেলকুনিতে একটা টেবিলের বার্থডে কেক আছে আর সাইটে ছোট্ট ছোট্ট মোমবাতি জ্বালিয়ে দেওয়া আছে।

সামিয়া সেগুলো মুগ্ধ নয়নে দেখতেছে। আমি তার সামনে হেটু গেঁড়ে বসে একগুচ্ছ গোলাপ ফুল তার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললামঃ

সামিয়া তোমাকে আমি না বুঝে অনেক কষ্ট দিয়েছি।
দিয়েছি প্রিয় জনদের ভালোবাসার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে । তবুও তুমি আমাকে নিঃস্বার্থ ভাবে ভালোবেসে গেছো। জানি তোমার ভালোবাসার কাছে আমার ভালোবাসাটা নগন্য তম।
সামিয়া তুমি কি আমাকে ক্ষমা করে দিবে?
দিবে কি সেই সুযোগ একবার, বুকের ভিতরের
সেই ছোট্ট কুটিরে তোমাকে রাখার? কথা দিচ্ছি আর কখনো যাবো না ছেড়ে। ভুলিয়ে দিবো বিগত দিনের সব দুঃখ কষ্ট আমার ভালোবাসার বিনিময়ে। পাড়ি দিয়ে দিবো আমাদের ভালোবাসার মাধ্যমে চলার পথে সমস্ত বাধাকে। গড়বো নতুন করে দুজনের ভালোবাসা দিয়ে একটা তাজমহল। যেখানে থাকবে না কোনো সন্দেহ, থাকবে না কোনো ভুল বুঝাবুঝির স্থান। থাকবে শুধু তোমার আমার সুখের সংসারে নতুন দিনের পথ চলার সন্ধান।

কথা গুলো বলেই সামিয়ার দিকে অশ্রু ভেজা নয়নে তাকিয়ে থাকলাম। সামিয়ার চোখ দিয়েও পানি পড়তেছে। আমার হাত থেকে ফুল গুলো নিয়ে টেবিলের একপাশে রেখে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো।

আমি বললামঃ এই পাগলি কান্না করতেছো কেন?

সামিয়া ডুকরে ডুকরে কান্না করতে করতে বললোঃ ছেড়ে যাবে না তো কখনো? বাঁচবো না সাহিদ । সত্যিই আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না।

আমি চোখের পানি মুছে দিয়ে কপালে একটা চুমু দিয়ে বললামঃ ছেড়ে যাওয়ার জন্য তো এতো দিন অপেক্ষা করে থাকি নি। জীবনের শেষ পর্যন্ত তোমাকে আমার বুকের এই ছোট্ট কুটিরে রাখবো। যাতে একটা মাছিও তোমাকে স্পর্শ করতে না পারে।

সামিয়া কান্না করেই যাচ্ছে। আমি বললামঃ এই পাগলি সারা রাত শুধু কান্নায় করবে? কেক কখন কাটবে?

সামিয়া হুঁ বলে যেমনি কেক কাটতে যাবে তখনই পিছন থেকে কে যেন বললোঃ হাতি বাত দে তু ওু,হাতি বাত দে তু ওু মামনি( হ্যাপি বার্থডে টু ইউ)।

সামিয়া আর আমি পিছনে ঘুরে দেখি ঐশী, সাফিয়া আর তিশা দাঁড়িয়ে আছে। ওরা তিনজন সামিয়ার কাছে আসলো। এরপরে সামিয়া কেক কেটে প্রথমে আমাকে, তারপর ঐশীকে তার পর সাফিয়া আর তিশা কে খাইয়ে দিলো।

বেলকুনিতে সবাই মিলে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে রুমে আসলাম । রুমে আসার পর ঐশী সামিয়া কে বললোঃ মামনি আদকে আমি আন্নিল কাথে থাকবো।

সামিয়াঃ ঠিক আছে মা যাও।

ঐশী যাওয়ার পর আমি দরজাটা ভালোভাবে লাগিয়ে দিয়ে রুমের লাইট অফ করে ডিম লাইট জ্বালিয়ে দিয়ে সামিয়ার কাছে এসে বললামঃ আজকের দিনে তুমি আমার থেকে যা চাইবে তাই পাবে।

সামিয়া ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে থেকে গলা থেকে নেকলেস খুলতে খুলতে বললোঃ আজ থেকে চার বছর আগে তোমার বার্থডে আমি তোমার কাছ থেকে চেয়েছিলাম। আজ আমার বার্থডে তে তুমি আমার কাছে কি চাও বলো?

আমি সামিয়ার ঘাড়ের উপর থুতনি লাগিয়ে দিয়ে বললামঃ আমি আরো একটা সন্তানের জনক হতে চাই।

সামিয়া আমার কথা শুনে লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে নিরব বসে থাকলো। "নিরবতা সম্মতির লক্ষণ" ভেবে আমি আর সময় নষ্ট না করে সামিয়া কে কোলে নিয়ে বেডে শুয়ে দিলাম ‌। এরপরে শ
সংঘটিত হলো আমাদের লাইফের সেকেন্ড ফুলশয্যার রাত।

সকালে সামিয়া কে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছি। সামিয়া আমাকে বললোঃ এই উঠো অনেক বেলা হয়েছে ‌।

আমি সামিয়ার চুলে মুখ গুজে বললামঃ ওমম আর একটু থাকি না।

সামিয়াঃ হুঁ,, বুড়ো হয়েছে তার পরেও ভিমরতি পুরায় না।

আমিঃ কিহহ আমি বুড়ো হয়েছি? এখনো যদি বিয়ে করার জন্য পাত্রীর সার্কুলার ছাড়ি তাহলে মেয়ের লাইন ধরে যাবে।(সামিয়া কে রাগানোর জন্য)

সামিয়াঃ ঠ্যাং ভেঙ্গে দিবো এসব চিন্তা ভাবনা করলে হুঁ।(রেগে)

ব্রেকফাস্ট করার সময় শ্বশুর মশাই বললেনঃ বাবা আজকে তোমরা দুজন আমাদের সাথে আমাদের বাসা থেকে বেড়ে এসো।

আমি ভাবলাম অনেক দিন থেকে যাওয়া হয়নি। একটু ঘুরে আসি। তাছাড়া সামিয়ার যায়নি।

আমিঃ ঠিক আছে। যাবো।

বিকেলে সিলেটের শ্বশুরের গাড়ি নিয়ে বেড় হলাম নওগাঁতে মানে সামিয়ার বাবার বাসায়। আমি আর সামিয়া এক গাড়িতে। ঐশী তার নানা-নানীর সঙ্গে এক গাড়িতে উঠেছে। নওগাঁয় পৌঁছতে রাত হয়ে গেল।

সামিয়ার রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে গেলাম। এরপরে সামিয়া কে নিয়ে ছাদে গেলাম। রাতে ডিনার করে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে নাস্তা করে আমার বন্ধুদের সাথে দেখা করতে গেলাম। ইকবালের সঙ্গে দেখা করে শাকিব আর রিয়াদের সঙ্গে দেখা করলাম। তাদেরকে নিয়ে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে শ্বশুরের বাসায় আসলাম।

শ্বশুর বাড়িতে তিন দিন থেকে আবার রাজশাহীতে চলে আসলাম। এক সপ্তাহ পর থেকে অফিসে জয়েন করলাম। ভালোই চলতেছে দিন গুলো। সিলেট থেকে ঘুরেও এসেছি কয়েক বার। দেখতে দেখতে কেটে গেল আট মাস। সামিয়া এখন প্রেগন্যান্ট। পেট অনেক বড় হয়ে গেছে।

দুপুরে অফিস থেকে বাসায় এসে রেস্ট নিচ্ছি। সামিয়াও আছে আমার পাশে। ঐশী রুমে এসে তার মামনি কে বললোঃ মামনি তোমাল পেত এতো বলো তেন?

মেয়ের কথা শুনে আমি হাসতে হাসতে বললামঃ তোমার মামনির পেটে তোমার ভাইয়া আছে এইজন্য বড়।

ঐশীঃ সত্যি আমাল ভাইয়া আতে? আমাল তাওথিফ (তাওসিফ হলো সামিয়ার কাজিনের ছেলে) ভাইয়াল মতো ভাইয়া আথে এতানে( সামিয়ার পেটে হাত দিয়ে)?

আমিঃ হ্যাঁ মা তোমার ভাইয়া আছে ওখানে।

ঐশী সামিয়ার পেটের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে বললোঃ ভাইয়া তুমি তালাতালি এথো। তোমাল সাতে থেলা তলবো। তোমালা দন্য আমি অনেত দুলো চকলেত রেখে দিবো আততা।

বলেই সামিয়ার পেটে চুমু দিলো।

মেয়ের এমন কাহিনী দেখে আমি আর সামিয়া হাসতে লাগলাম।আর হ্যাঁ সামিয়া কে আর কোনো কাজ করতে দেয়না। কারণ, সামিয়া ঐশীর সময়ে অনেক কষ্ট পেয়েছে। এখন আর কষ্ট দিতে চাইনা।

রাতে ডিনার করে বেডে বসে সামিয়া

26/11/2020

# EX গার্লফ্রেন্ড যখন পুলিশ অফিসার 💕
# লেখকঃ Sahid Hasan Sahi
# পর্বঃ ১৯শ

সামিয়াঃ এটা আপনারই সন্তান।

আমি অবাক হয়ে বললামঃ মানে?

সামিয়াঃ আজ থেকে চার বছর আগে আপনি যখন আমার মতো হতভাগী পাপী কে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিলেন তার আগের দিন আপনাকে আমি দুইটা সারপ্রাইজ দেওয়ার কথা বলেছিলাম।তার একটা হলো এই সন্তান আমার গর্ভে আসার কথা। আপনাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার কথা বলার কয়েক দিন আগে আমার শরীরটা বেশ খারাপ হয়ে পড়ে। মাঝে মাঝেই বমি হতো। বুঝতে পেরেছিলাম আমি প্রেগন্যান্ট।

কিন্তু আপনাকে বলেনি আপনাকে সারপ্রাইজ দিবো বলে। সেদিন সকালে আপনাকে বলেছিলাম আজকে আমার বাসায় দেরি হবে। দেরি হওয়ার কারণ আমি থানার টাইম শেষ করে প্রেগন্যান্সির বিষয়টা টেষ্ট করার জন্য হাসপাতাল গিয়েছিলাম। হাসপাতালে যাওয়ার পর ভালোভাবেই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করি।আর রিপোর্ট ভালো আসে। রিপোর্ট নিয়ে বাসায় যাই। ভেবেছিলাম আপনি সারপ্রাইজ পেয়ে খুশি হবেন কিন্তু না আমার ধারণা ভুল ছিলো। আমি সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে নিজেই বড় সারপ্রাইজ পেয়েছিলাম।(কাঁপা কাঁপা কন্ঠে)

কিছুক্ষণ থেমে আবার বললোঃ এখানে আসার প্রায় নয় মাস পর ঐশী জন্ম গ্রহণ করে। বুঝতে শিখার পর থেকেই বাবাই বাবাই বলে কান্না করতো। আমি তাকে থামাতে না পেরে মোবাইলে একটা ফটো ছিল সেটা বের করে দিতাম। ঐশী ছবিটাকে দেখে বাবাই বাবাই বলে ডাকতে থাকে। যখন ছবিটা কথা বলতো না তখন ঐশী কান্না করে দিতো।তার কান্না আমার সহ্য হতো না। কারণ,এই পৃথিবীতে সে ছাড়া আর আপন কেউ নেই।(লেখকঃ সাহিদ হাসান সাহি)

তার কান্না থামানোর জন্য আমি আপনার ফোনে কল দিতাম আর আমার মেয়ে বাবাই বাবাই বলে ডাকতো। আপনার কথা শুনার পরে আবার ফোনটা আমাকে দিয়ে দিতো।অন্যের বাবারা যখন তাদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে পার্কে যেতো তখন আমার এই ছোট্ট বাচ্চাটা কান্না করে দিয়ে বলতোঃ মামনি আমার বাবাই কোথায়? আমি বাবাইয়ের সাথে ঘুরতে যাবো।

আমি তার কথার উত্তর না দিলে সে কান্না করতো। তার কান্না আর থামাতে পারতাম না। কারণ, তার বাবাই যে তাদের কাছে আসবে না। তার বাবাই যে তার পাপী, অপবিত্র মায়ের কাছে আসবেনা। এট লাস্ট নিজেই তাকে নিয়ে ঘুরতে বের হতাম।

সামিয়া কথা গুলো বলেই ডুকরে কেঁদে উঠলো।

আমি ঐশীকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলাম। কপালে, গালে অজস্র চুমু দিতে লাগলাম। আজকে আমার জন্য আমার মেয়ে এতো কষ্ট পেয়েছে। আমার কলিজাকে মেয়েকে আমি চিনতে পারতেছি না। আমি সামিয়া কে বললামঃ প্লিজ সামিয়া আবার ফিরে এসো না? ঐশীর তো মামনি বাবাই দুজনেরই দরকার।

সামিয়া চোখের পানি মুছে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললোঃ আমি জানি আপনি আপনার ভুল টা বুঝতে পেরেছেন।এই জন্য হয়তোবা আজকে চার বছর পর আমার কাছে এসেছেন আবার আম আমাকে আপনার জীবনে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য। কিন্তু আমি আপনার জীবনে ফিরিয়ে যাবো না। আমি চাই না আমার মায়ায় পড়ে কারো জীবন নষ্ট হয়ে যাক। আমার মতো পাপী কে নিয়ে কারো সম্মান হানি হোক। দয়া করে আপনি আমাদের কাছ থেকে চলে যান। একাই বাঁচতে শিখেছি আল্লাহর রহমতে বাকিটা পথ অতিক্রম করতে পারবো। হয়তোবা মেয়েটিকে তার বাবার অধিকার দিতে পারবো না। কিন্তু চেষ্টা করবো বাবার সমান ভালোবাসা স্নেহ প্রদান করতে। দয়া করে আপনি চলে যান।

আমিঃ আমি তোমাদেরকে না নিয়ে কোথাও যাবো না।

সামিয়াঃ দেখুন আপনি না গেলে আমি কিন্তু দারোয়ান ডাকতে বাধ্য হবো।

আমি মুচকি হেঁসে বললামঃ ডাকো। নিজের স্বামীকে যদি দারোয়ান দিয়ে বের করে দিতে ভালো লাগে তাহলে ডাকো।

সামিয়া বিরক্ত হয়ে এদিক ওদিক তাকাতেই ফল কাটার চাকুটার কথা মনে হলো। চাকু হাতে নিয়ে বাম হাতের শিরার উপর রেখে বললোঃ আপনি যাবেন কিনা?

আমিঃ যাচ্ছি প্লিজ তবুও তুমি নিজের কোনো ক্ষতি করো না।

সামিয়ার বাসা থেকে আমি হোটেলে চলে আসলাম। ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা করে চকলেট ফুচকা আর আইসক্রিম নিয়ে চলে গেলাম সামিয়ার বাসায়। বাসায় ঢুকতেই দেখি ঐশী আর ভদ্র লোকটা ফুলের গাছে পানি দিচ্ছে।

ঐশী আমাকে দেখে দৌড়ে আমার কাছে আসলো।আমি তাকে কোলে তুলে নিয়ে কপালে একটা চুমু দিয়ে বললামঃ আম্মু তুমি কি করতেছো? আর ঐ টা তোমার কে হয়?

ঐশী আমার গলা জড়িয়ে ধরে বললোঃ আমি আমাল নানু ভাইয়াল সাতে গাথে পানি দিততি।আল ঐতা আমাল নানু ভাইয়া হয়।

আমিঃ তোমার মামনি বাসায় আছে?

ঐশী মাথা নেড়ে হ্যাঁ সম্মতি দিলো।

আমিঃ ওও আচ্ছা। এই চকলেট গুলো তুমি খাবে আর আইসক্রিম আর ফুচকা গুলো তোমার মামনি কে দিবে কেমন?

ঐশীঃ থিক আতে বাবাই।

ঐশী কোল থেকে নেমে ফুচকা, চকলেট আর আইসক্রিম নিয়ে ছোট্ট ছোট্ট পায়ে দৌড়ে বাসায় চলে গেল। আর আমি তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছি। একেবারে মায়ের কপি। হাঁটা, কথা বলার স্টাইল সব কিছু।

ওফফস এবার কিছুটা শান্তি পেলাম। কারণ, আমার মেয়ে এবং তার মাকে পেয়েছি। এখন শুধু মেয়ের মায়ের অভিমানটা ভাঙ্গানোর অপেক্ষায়। খুব কষ্ট হবে সামিয়ার রাগ আর অভিমান ভাঙ্গাতে । ঐশীকে বাসায় পাঠিয়ে ভদ্রলোক মানে ঐশীর নানুর সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে হোটেলে চলে আসলাম। গোসল করে যোহরের নামাজ পড়ে রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ করতে গেলাম। লাঞ্চ করে হোটেলে এসে কিছুক্ষণ রেস্ট নিলাম।

বিকেলে আবার গেলাম সামিয়ার বাসায়। কিন্তু সামিয়ার সাথে দেখা হলো না। ঐশীর সাথে কিছুক্ষণ খেলাধুলা করে সামিয়ার বাসার আশেপাশে একটা বাসা খুঁজতে লাগলাম। অনেক খুঁজাখুঁজি করার পর পেলাম একটা বাসা। সামিয়ার বাসা থেকে কাছেই। এখানে বাসা ভাড়া নেওয়ার কারণ, যাতে করে সব সময় সামিয়ার পাশে থাকতে পারি।তার মনে যেন আবার আমার জন্য ভালোবাসা জন্মাতে পারি।

কেটে গেল তিন দিন।এই তিনদিনে রাত ছাড়া আমি প্রতিটা সময় সামিয়ার কাছে থেকেছি। সামিয়া যদি থানায় থাকলে আমি থানাতে গিয়েছি। কিন্তু সামিয়ার রাগ এখনো কমাতে পারিনি।একি কথা সে আমার সঙ্গে যাবে না। তবে ভদ্রলোক মানে ঐশীর নানুও সামিয়া কে অনেক বুঝিয়েছে কিন্তু। তাতেও কাজ হয়নি। আমিও হাল ছেড়ে দেওয়ার ছেলে না। দেখি তার কত অভিমান আছে।

সন্ধ্যায় সামিয়ার বাসায় গেলাম। কিছু শপিং করা প্রয়োজন তাই ভাবলাম ঐশী আর সামিয়া কে নিয়ে যাই।যদিও সামিয়া যেতে চাইবে না। কিন্তু চেষ্টা করে দেখি। সামিয়ার বাসার কলিং বেল বাজাতেই ভদ্র লোক দরজা খুলে দিলেন। আমাকে দেখে বললেনঃ আরে জামাই যে ভিতরে এসো বাবা।

সোফায় সামিয়া বসে আছে।সামিয়ার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপি দিয়ে বললামঃ ঠিক আছে শ্বশুর মশাই (ভদ্রলোক)।

সামিয়া আমার দিকে রাগি মুডে তাকালো।আমি যায়ে সামিয়ার পাশে বসলাম।এতে সামিয়া আরো একটু রেগে গেল। আমি আরো একটু তার দিকে চেপে বসলাম। শ্বশুর মশাই আমাদের কাহিনী দেখে হাসতেছে।

শ্বশুর মশাই সামিয়া কে বললেনঃ সামিয়া জামাইয়ের জন্য নাস্তা করার ব্যবস্থা করো।

সামিয়া রেগে গিয়ে বললোঃ আব্বু কে তোমার জামাই ? বারবার জামাই জামাই করতেছো কেন? আর কিসের নাস্তা?(চিৎকার করে)

ঐশী তার মামনির চিৎকার শুনে ভয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। ছোট বাচ্চা তো, চিৎকার করে কথা বলায় ভয় পেয়েছে। শ্বশুর মশাই সামিয়াকে শান্ত ভাবে বললোঃ দেখ মা প্রত্যেকেরই ভুল হতে পারে। একটা সংসারে ভুল বুঝাবুঝিটা স্বাভাবিক ব্যাপার। হতেই পারে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, সংসার ছেড়ে,প্রিয় মানুষগুলোকে ছেড়ে একা একাই থাকতে হবে। সে তো তার ভুল বুঝতে পেরেছে।

এখন তুই যদি তাকে মাফ না করে নতুন করে আবার শুরু না করিস তাহলে তো তোর মেয়ের ভবিষ্যৎ টা কি হবে ভেবে দেখেছিস? সে ঠিকমতো পাবে না মায়ের আদর, যত্ন ,ভালোবাসা আর না পাবে বাবার আদর, যত্ন, ভালোবাসা।অথচ একটা সন্তান বড় হতে হলে মা বাবা উভয়ের আদর যত্ন সমান ভাবে পাওয়া দরকার। সুতরাং বলি কি, এমন সিদ্ধান্ত নিস না যেটার ফলে তোদের ভবিষ্যৎ টা অন্ধকার হবে। এখন এইসব কথা না বলে জামাইকে নাস্তা দে।

শ্বশুর মশাইয়ের কথাই সামিয়া আমার দিকে তাকিয়ে বসা থেকে উঠে বিরক্তি সুরে বললোঃ আসুন,,, যত্তসব।

আমি আর কিছু না বলে ঐশীকে নিয়ে ডাইনিং টেবিলে গেলাম। চেয়ারে বসতেই সামিয়া প্লেটে মিষ্টি, আপেল, কেক আরো কিছু কিছু দিলো। আমি প্লেট থেকে ছোট্ট আপেলের অংশ হাতে নিয়ে ঐশীকে খাইয়ে দিলাম। এরপরে সামিয়া কে বললামঃ "বাবু খেয়েছো?"

সামিয়া মুখটা ঘুরিয়ে বললোঃ আমার জন্য কাউকে চিন্তা করতে হবে না। আপনি আপনার কাজ করুন।

ঐশীকে পাশের চেয়ারে বসে দিয়ে সামিয়ার হাত ধরে একটান দিয়ে
আমার কোলে বসিয়ে একহাত দিয়ে আটকে রেখে বললামঃ এতো রাগ কেন হুমম? যেটা প্রশ্ন করেছি সোজাসুজি সেটার উত্তর দিবে।

সামিয়া আমার কোল থেকে উঠার জন্য চেষ্টা করতেছে বাট পারতেছে না। ঐশী তার মামনি কে আমার কোলে দেখে হাততালি দিতে দিতে বললোঃ তি মদা লে আমাল মামনি লে আমাল বাবাই তোলে নিতে লে,, তি মদা লে।

মেয়ের কথা শুনে আমি ফিক করে হেসে দিলাম।আর সামিয়া রাগে শুধু ফোসতেছে। প্লেট থেকে একটা মিষ্টি আমার মুখে নিলাম। এরপরে মুখটা সামিয়ার মুখের সাথে লাগিয়ে দিয়ে মিষ্টি টা ট্রান্সফার করে দেওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু সামিয়া নিতে চাচ্ছে না। প্রথমে নিতে না চাইলেও পরবর্তীতে আর কোনো উপায় না পেয়ে খেয়ে নিল।

একটা আপেলের টুকরো হাতে নিয়ে বললামঃ এটাও আগের নিয়মে খাইয়ে দিতে হবে নাকি নিজ ইচ্ছায় খাবে?

সামিয়া এক রাশ বিরক্তি নিয়ে আমার হাত থেকে আপেলের টুকরো টা নিয়ে খাওয়া শুরু করলো।

আমি মুচকি হেসে মনে মনে বললাম, কেবল তো শুরু জানু।

নাস্তা শেষ করে সামিয়া কে বললামঃ রেডি হও শপিং মলে যাবো।

সামিয়া অবাক হয়ে বললোঃ আমি কেন আপনার সঙ্গে যাবো?

আমিঃ যাবে কিনা তাই বলো?

সামিয়া কিছু বলার আগেই ঐশী বললোঃ তলনা মামনি আদকে বাবাইয়েল সাতে তপিং মলে দাবো।

সামিয়াঃ আমি যাবো না।

আমিঃ কেন যাবে না? ঐশী তো যেতে চাচ্ছে তাকে নিয়ে চলো।

ঐশী সামিয়ার হাত ধরে নাড়াতে নাড়াতে বললোঃ তলো না মামনি।

সামিয়া ঐশীর দিকে তাকিয়ে চিৎকার দিয়ে বললোঃ বললাম তো আমি যাবো না। তারপরেও তোর কানে কথা যাচ্ছে না কি?

সামিয়ার চিৎকার শুনে ঐশী ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কান্না করতে লাগলো। বিষয়টা আমার খুব খারাপ লাগলো। আমি কিছু বলতে যাবো তখনই সামিয়া ঐশীকে কোলে নিয়ে ওর রুমের দিকে হাঁটা ধরলো।আর আমাকে ঝাঁজালো সুরে বললোঃ দেরি করুন।

আমি সোফায় বসে ভাবতে লাগলাম কি করে ওর রাগ ভাঙ্গানো যায়। ভেবেছিলাম সহজ হবে কিন্তু এখন দেখতেছি যা ভেবেছিলাম তার বিপরীত।

একটু পরে মা আর মেয়ে একসাথে রুম থেকে বের হয়ে আসলো। তাদেরকে নিয়ে শপিং মলে গেলাম। শপিং মলে যাওয়ার পর আমার জন্য দুইটা টিশার্ট,একটা জিন্স প্যান্ট আর ব্রান্ডের গেঞ্জি নিলাম। এর পর ওদেরকে নিয়ে লেডিস সাইটে গেলাম। মহিলা কর্মচারী সামিয়াকে দেখে বললোঃ ম্যাম কেমন আছেন?

সামিয়াঃ আলহামদুলিল্লাহ। আপনি কেমন আছেন?

মহিলাটিঃ আমিও ভালো আছি। আপনার পাশের ছেলেটা কে?(আমাকে দেখিয়ে দিয়ে)

সামিয়া কিছু বলার আগেই আমি বললামঃ আমি আপনার ম্যামের হাজবেন্ড।

মহিলাটিঃ সরি স্যার। আসলে আপনাকে কোনো দিন দেখিনি তো তাই চিনতে পারিনি।

আমি সামিয়ার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললামঃ নো প্রবলেম। আর এখন থেকে প্রতিবারই আমি আর আপনার ম্যাম এক সঙ্গে আসবো।

মহিলাটিঃ ওহহ রিয়েলি। বাই দা ওয়ে স্যার আপনাকে আর ম্যাম কে খুব ভালো মানিয়েছে। আর আপনি হ্যান্ডসামও বটে।

আমি সামিয়া কে একটা চোখ টিপি দিয়ে বললামঃ এটাই তো আপনার ম্যাম বোঝে না।

মহিলাটিঃ স্যার বুঝলাম না।

আমিঃ কিছু না। আপনি আপনার ম্যামের জন্য কিছু শাড়ি দেখান।আর আমার মেয়ের জন্য কিছু টিশার্ট আর ফ্রোক দেখান।

সামিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখি ম্যাম নিচের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁতে চেপে রাগে ফুসতেছে আর দুই হাত কচলাচ্ছে । পাবলিক প্লেস হওয়ার ফলে আমাকে কিছু বলতে পারতেছে না। নইলে কাঁচায় চিবিয়ে খাবে। আর আমার মেয়ে হেঁটে হেঁটে পুরো দোকান ঘুরে ঘুরে দেখতেছে।

শপিং শেষ করতে করতে রাত আটটা বেজে গেলো। আকাশ টা মেঘলা মেঘলা করতেছে।মনে হচ্ছে বৃষ্টি হবে। আর আমার শরীরটাও কেমন জ্বর জ্বর ভাব করতেছে। হয়তোবা সিলেটের আবহাওয়ার জন্য।

সামিয়ার বাসার সামনে এসে গাড়ি থেকে নেমে বাসার ভিতরে ঢুকতেই সামিয়া বললোঃ কোথায় যাচ্ছেন আপনি?

আমিঃ কেন তোমার সাথে তোমার বাসাতে।

সামিয়াঃ আপনি আমার বাসায় ঢুকবেন না। আপনি আমাকে পেয়েছেন টা কি ? আমি কি আপনার খেলনার বস্তু? শপিং মলে আপনি কেন আমার স্বামী হিসেবে পরিচয় দিলেন? আমার কোনো স্বামী নেই । যে ছিলো সে আজ থেকে চার বছর আগেই আমার নিকট মারা গেছে! আমি আপনার সঙ্গে কথা বলি বা আজকে শপিং মলে গিয়েছিলাম শুধু আমার মেয়ের জন্য। আপনি ভাববেন না যে,আমি আপনাকে মেনে নিয়েছি। আর আপনি কেন আমার বাসায় আসতেছেন? আর কখনো আসবেন না। আপনাকে আমার সহ্য হয়না।

সামিয়া কথা গুলো বলেই দরজা বন্ধ করে দিতে যাবে তখন আমি বললামঃ তুমি যদি আমাকে ভিতরে ঢুকতে না দেও তাহলে আমি এখানেই বসে থাকবো।

সামিয়া কিছু না বলে দরজা লাগিয়ে দিয়ে ভিতরে চলে গেল। আমি সেখানেই হেটু ভাঁজ করে বসে পড়লাম। হাঁটুতে মুখ গুজে কান্না করতে লাগলাম। সামিয়ার নিকট আমি মৃত হয়ে গেছি। আমাকে নাকি আর তার সহ্য হয়না। আমি কি এতোই খারাপ কাজ করেছি? সামিয়া তুমিও তো আমার মতো ভুল করেছিলে।আমি তো তোমাকে এতো কষ্ট দেইনি। তোমাকে তো বুকে জড়িয়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু তুমি কেন আজকে আমাকে এতো কষ্ট দিচ্ছো?

মনের আকাশে মেঘ জমেছে। তেমনি বাইরের আকাশের বুকে আজকে বেশ মেঘ জমেছে। হয়তোবা, এখনি সেই গুলোকে পৃথিবীর বুকে ঠেলে দিবে। বসে থাকতেই ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়তে শুরু করলো। কেন জানি বৃষ্টিতে ভিজতে মন চাচ্ছে। যদি বৃষ্টির পানির সাথে মনের মেঘ গুলোও ঝড়ে পড়ে। গার্ডেনে থাকা দোলনায় বসে পড়লাম। আমার যে বৃষ্টির পানিতে এলার্জি আছে সেটা ততক্ষণাৎ ভুলে গেলাম। বৃষ্টিতে ভিজতেছি আর সামিয়ার সাথে কাটানো মূহুর্ত গুলো মনে করতেছি।

এরপরে আর কি হলো মনে নেই।

_-_-_-_-

সামিয়া দরজা লাগিয়ে দিয়ে ঐশীকে নিয়ে রুমে আসলো। ঐশীকে ফ্রেশ করে দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিলো। এরপরে বেডে বসে ভাবতে লাগলো সাহিদের সঙ্গে যা যা ঘটেছে সব কিছু। কিছুক্ষণ বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো। হঠাৎ, সামিয়ার মনে পড়ে গেল সাহিদের বলা কথাটা যে,"আমি এখানেই বসে থাকবো।" সামিয়া দৌড়ে বাসা থেকে বের হয়ে আসলো। কারণ,সামিয়া জানে সাহিদ বৃষ্টিতে ভিজতে পছন্দ করে। আর বৃষ্টির পানিতে সাহিদের এলার্জি আছে।

দরজা খুলে দেখে সাহিদ আশেপাশে কোথাও নেই। সামিয়ার চিন্তা বাড়তে লাগলো। রাতে কিছু দেখতেও পাচ্ছে না। আনমনে সে চারিদিকে সাহিদ কে খুঁজতে লাগলো। গার্ডেন লাইটে দেখে দোলনায় কে যেন শুয়ে আছে আর কাঁপতেছে।

সামিয়া দৌড়ে দোলনায় কাছে যায়ে দেখে এটা তার সাহিদ। কপালে হাত দিয়ে দিয়ে দেখে তার জ্বর আসার কারণে শরীর তাপে পুড়ে যাচ্ছে। সামিয়া কি করবে তা ভেবে পাচ্ছে না।

কোনো কিছু না ভেবে সাহিদ কে দোলনা থেকে উঠায়ে কোনো রকম ভাবে তার রুমে নিয়ে আসে। টাওয়াল দিয়ে শরীরটা মুছে দিলো।আর হ্যাঁ শপিং করার সময় সাহিদ যেগুলো নিয়েছিল সেগুলো সামিয়ার ব্যাগেই আছে।এর পরে ডিম লাইট জ্বালিয়ে সামিয়া ব্যাগ থেকে সাহিদের প্যান্ট আর টিশার্ট নিয়ে এসে চেঞ্জ করে দেয়।

সাহিদ কে চেঞ্জ করে দিয়ে সেও চেঞ্জ হতে যায়। এরপরে তার বাবার রুম থেকে মেডিসিন নিয়ে এসে সাহিদ কে খাইয়ে দিলো। ওয়াশরুম থেকে এক জগ পানি আর একটা রুমাল নিয়ে বেডে বসলো। সাহিদের মাথাটা কোলে নিয়ে রুমাল ভিজিয়ে জলপট্টি দিতে লাগলো। বেশ কিছুক্ষণ পরে সাহিদের জ্বর কিছুটা কমে গেলো।

সামিয়া সাহিদের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখতেছে আর বিড়বিড় করে বলতেছে, এখন কতই না নিষ্পাপ লাগতেছে।আর জেগে থাকলে মনে হয় আমাকে জ্বালানো ছাড়া আর কাজ নেই। এই পাগলটা কি কিছু বুঝে না নাকি? কত ভালোবাসি তাকে। কিন্তু আমার জীবনে যে ভালোবাসা সইবে না।

কিছুক্ষণ চুপ থেকে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে আবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলতে লাগলো, চেহারা কি করে ফেলেছে? কেন এখন কেউ যত্ন নেওয়ার জন্য নেই নাকি? আমার কাছেই আবার এসেছিস কেন(চুল টানতে টানতে)? আমি নাকি পাপী? তাহলে আমার কাছে এসেছিস কেন?
যা অন্য মেয়ের কাছে। পবিত্র মেয়ের কাছে। আমার কাছে আছিস কেন?

কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে সাহিদের কপালে একটা চুমু দিতে যাবে।

_-_-_-

হঠাৎ ঘুম টা ভেঙে গেল। এতোক্ষণে ঘুমে ছিলাম নাকি তা বলতে পারবো না। কিন্তু এখন কারো কথা শুনতে পারতেছি। চোখ এখনো বন্ধ করে আছি। মাথার নিচে নরম কিছু অনুভব করলাম। মিটমিট করে চোখ খুলে দেখি আমি সামিয়ার কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে আছি।আর সামিয়া আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ডিম লাইটের আলোতে সামিয়া কে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ভাবতে লাগলাম আমি এখানে কেন? আমি তো পানিতে ভিজতে ছিলাম।

হঠাৎ,সামিয়া তার মুখ আমার কাছে নিয়ে আসলো।যেই কিস দিবে তখনই আমি নড়ে উঠলাম। সামিয়া লজ্জা পেয়ে তার মাথাটা অন্য দিকে ঘুরাতে যাবে তখনই আমি হাত দিয়ে সামিয়ার মাথা আমার দিকে ঘুরিয়ে কাছে নিয়ে এসে চার ঠোঁট এক করে দিলাম। সামিয়া শুধু ছাড়ানোর চেষ্টা করতেছে।

একটু পরে শান্ত হয়ে গেলো কিন্তু কোনো রেসপন্স দিচ্ছে না। আমিও ছেড়ে দিলাম। কেননা,আমি চাই না জোড় করে অধিকার আদায় করতে। আমি সামিয়া কে বললামঃ সামিয়া তুমি আমাকে এতো কষ্ট দিচ্ছো কেন? আমাকে কী মাফ করা যায় না?

সামিয়াঃ আমি কেন আপনাকে কষ্ট দিতে যাবো? আর মাফ তো আমি অনেক আগেই আপনাকে করেছি।

আমিঃ তাহলে আমাকে বারবার দূরে সরিয়ে দিচ্ছো কেন?

সামিয়া চুপ করে আছে। আমি বললামঃ আমাকে ভালো নাই বাসলে কেন আমাকে বৃষ্টির পানি থেকে এখানে নিয়ে আসলে? কেন আমার সেবা করলে?

সামিয়া বেড থেকে নামিয়ে যায়ে বললোঃ অনেক রাত হয়েছে ঘুমিয়ে পড়ুন। নইলে শরীর খারাপ করবে।

আমিঃ আমার কথার উত্তর দেও আগে।

সামিয়াঃ প্রশ্নের উত্তর গুলো নাহয় অজানাই থাক নাকি?

আমি কিছু না বলে সামিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। সামিয়া রুম থেকে বের হওয়ার জন্য দরজার কাছে যেতেই আমি বললামঃ কোথায় যাচ্ছো?

সামিয়াঃ আপনি এখানে ঘুমিয়ে পড়ুন আমি অন্য রুমে যাচ্ছি।

আমিঃ এখানে থাকলে কী সমস্যা?

সামিয়াঃ না না আমি থাকাতে যদি আপনার কোনো কষ্ট হয়।

সামিয়ার কথায় প্রচুর পরিমাণে রাগ উঠলো। নিজেকে সামলে নিয়ে বেড থেকে একটা বালিশ নিয়ে সোফায় যায়ে শুয়ে সামিয়া কে বললামঃ যাও বেডে শুয়ে পড়ো।

সামিয়াঃ তার দরকার নেই, আপনি বেডে শুয়ে পড়ুন আমি অন্য রুমে যাচ্ছি।

আমিঃ খারাপ হলেও এতোটা খারাপ নইযে,কারো অনুমতি না নিয়ে তার কাছে অধিকার ফোলাতে যাবো।

সামিয়া কিছুক্ষণ ভাবার পর বেডে পড়লো। সামিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পড়লাম। হঠাৎ করেই ঘুমটা ভেঙে গেল। মোবাইল টা হাতে নিয়ে দেখি রাত তিনটা বাজে। আর ঘুম ধরতেছে না।

বেলকুনিতে গেলাম। সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে রুমে চলে আসলাম। রুমে এসে সামিয়ার বেডের পাশে দাঁড়িয়ে সামিয়া কে দেখতে লাগলাম। ডিম লাইটের আলোতে খুব সুন্দর লাগতেছে। আলোটা একেবারে মুখের উপর পড়েছে। কিন্তু চুল গুলো আমাকে দেখতে বাঁধা দিচ্ছে। মন চাচ্ছে চুল গুলো সরিয়ে দেই কিন্তু সেই অধিকার এখন আমার নেই। যদিও সে আমার স্ত্রী।

দাড়িয়ে থেকে দেখতে দেখতে মন আর মানলো না। সামিয়ার পাশে বসে পড়লাম। শরীরটা একটু ক্লান্ত লাগতেছে আর জ্বর জ্বর মনে হচ্ছে। হাত দিয়ে সামিয়ার মুখের উপর থাকা চুল গুলো সরিয়ে দিলাম। এর পরে দেখতে লাগলাম আমার প্রিয়শীকে।

দেখতে দেখতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি বলতেই পারবোনা। সকালে পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙলো। চোখ খুলে দেখি আমি সামিয়া কে জড়িয়ে ধরে আছি আর সামিয়া আমার বুকের উপর শুয়ে আছে। কপালে যেমনি একটা চুমু দিতে যাবো তখনি সামিয়া চোখ খুললো।

চোখ খুলে আর কোনো কথা না বলে আমার বুকের উপর থেকে নেমে ঠাসস ঠাসস করে আমার গালে দুইটা চড় মারলো। আমি গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম।

সামিয়া বলতে শুরু করলোঃ লুচ্চা তোকে আমি নিষেধ করিনি তুই আমার কাছে আসবি না? রাতেই তুই লেকচার দিলি অনুমতি ছাড়া তুই কিছু করিস না তাহলে এখন কি করতে চেয়েছিলিস? কেনো তুই আমার পিছনে লেগে আছিস? আমাকে কি একটু শান্তিতে থাকতে দিবি না। তোদের খুশির জন্যই তো আমি চলে এসেছি দূরে। তবুও কেন তুই আমার পিছে পড়ে আছিস? আর কি চাস তোরা আমার থেকে? আমার সন্তানকে? নিয়ে যা। তবুও আমাকে মুক্তি দে। আমি চাইনা তোদের কাছে ফিরে যেতে আমি একাই ভালো আছি। তোদের মতো স্বার্থপরদের কে দেখলে শুধু ঘৃণা হয় ঘৃণা।

সামিয়ার চড়ের আঘাত যতটা না লেগেছে কথা গুলো তার থেকে বেশি এই মনে আঘাত করেছে। আমি সামিয়া কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললামঃ সামিয়া তুমি কি আমাকে ভালোবাসো না?

সামিয়াঃ না আমি কাউকে ভালো বাসি না। আর পুড়তে চাইনা ভালোবাসা নামক কোনো দহনে। যেখানে নেই কোনো বিশ্বাস, নেই কোনো আস্থা আছে শুধু ঘৃণা আর স্বার্থপরতা। আর ভালোবাসা সেটা আবার আপনাকে , এটা অসম্ভব । কান খুলে শুনে রাখুন আপনাদের প্রতি আমার কোনো ভালোবাসা নেই আছে শুধু ঘৃণা আর ঘৃনা।( বেড থেকে নামতে নামতে)

কথাগুলো শুনে আমার দাঁড়িয়ে থাকাটা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। আমি সামিয়ার সামনে যায়ে দাঁড়িয়ে বললামঃ চোখে চোখ রেখে বলো তো তুমি আমাকে ভালোবাসো কিনা? আর হ্যাঁ তুমি যদি আমাকে ভালো না বাসো তাহলে আমি তোমাদের ছেড়ে চলে যাবো। যেখানে থেকে আর আর ফিরে আসে না কেউ। হারিয়ে যাবো কোনো এক অজানা জায়গায় যেখানে খুঁজে পাবে না কেউ। বলো তুমি আমাকে ভালোবাসো কিনা?

সামিয়া কিছু না বলে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। আমিও ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আছি। সামিয়ার চোখের কোণায় পানি চিকচিক করেছিলো। সামিয়া কে চুপ করে থাকতে দেখে বললামঃ কি হলো বলো? আচ্ছা বলতে হবে না। আমার দোষ টা কি ছিলো জানো, আমি তোমাকে কোনো কিছু না জিজ্ঞাসা করে, ভুল বুঝে বাসা থেকে বের করে দিয়েছি। ভুল বুঝে দূরে ঠেলে দিয়েছি। তাইতো?
আচ্ছা তোমার মনে আছে কি? আজ থেকে আট বছর আগে তুমিও আমার মতো ভুল করেছিলে। আমাকে ভুল বুঝে ছেড়ে চলে গেয়েছিলে। আর ভুল বুঝার অন্যতম কারণ ছিলো তুমিও আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করেছিলে না। সেদিন তুমিও আমাকে বলেছিলে "লুচ্চা", "চরিত্রহীন", "স্বার্থপর" ইত্যাদি। আমি কি সেদিন কষ্ট পেয়েছিলাম না? নাকি আমি তোমাকে ছেড়ে সুখেই ছিলাম? এরপরে তুমি আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলে। আমিও তোমাকে ক্ষমা করে বুকে জড়িয়ে নিয়েছিলাম। শুধু ভালোবাসি বলে। আর

সেদিন তোমাকে ভুল বোঝার কারণ কি জানো? সেদিন তোমাকে কিছু জিজ্ঞাসা না করা। তুমি যেদিন আমাকে সারপ্রাইজের কথা বলেছিলে সেদিন তোমাকে আমি সিহাবের সাথে পরিত্যক্ত বাসায় দেখেছিলাম। কিন্তু কি জন্য গিয়েছিলে সেটা আমি জানতাম না। তোমাকে জিজ্ঞাসা করলে তুমি বলেছিলে আমাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার কথা। তার পরের দিনই তোমার আর সিহাবের কিছু ফটো আর ভিডিও পাই। আচ্ছা তুমি কি করতে সেদিন আমার জায়গায় থাকলে? ভুল তো মানুষের হয়।

আমার ভুলের প্রায়চিত্তের জন্যই তো আজ আমি এখানে পড়ে আছি।পড়ে আছি আমার মেয়ের মুখে বাবা ডাকটা শুনার জন্য। আমার ভুলের জন্য আমি তো তোমার কাছে বারবার ক্ষমা চাচ্ছি কিন্তু বারবারই তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছো। একটা কথা জানো কি? তুমি বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরের তিনটা বছর আমি কি ভাবে কাটিয়েছি তা বলতে পারবো না।

তিনটা বছর আমার কাছে মনে হয়েছিল তিনটা যুগ। আজ থেকে একবছর আগে সিহাবের কাছ তোমার ব্যপারে সত্যটা জানার পর থেকে আমি ঠিকমতো ঘুমাতে পারতাম না। ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করতাম না। শুধু তোমার কথা ভেবে। মনে পড়তো তোমার একটা কথাই "সাহিদ তুমি আমাকে সব সময় খাইয়ে দিবে তো? তোমাকে ছাড়া আমার ভালো লাগে না।"

তোমাকে দিনে খুঁজতাম আর রাতে তোমার ছবি বুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতাম। কোলবালিশ কে তোমায় ভেবে জড়িয়ে ধরে কথা বলতাম। রুম থেকে বের হতাম না। কারণ রুমে তোমার কিছু স্মৃতি ছিল যেগুলো আঁকড়ে ধরে বসে থাকতাম।মা বাবা বিয়ের কথাও বলেছিলো। কিন্তু আমি তোমার জায়গায় অন্য কাউকে বসাতে পারবোনা বলে বিয়ে করিনি।

চোখের পানি মুছে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে আবার বললামঃ এখন আমাকে নাকি তোমার কোনো প্রয়োজন নেই। ঠিক আছে আমি চলে যাচ্ছি।ভালো থেকো।আর আসবো না তোমাকে বিরক্ত করতে।

কথা গুলো বলে যেমনি পিছনে ঘুরতে যাবো তখনই সামিয়া আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো। আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললামঃ কি হয়েছে কান্না করতেছো কেন? আমি তো চলেই যাচ্ছি আর তো বিরক্ত করবো না।

সামিয়া ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললোঃ আমিও তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু আমার এই অনিশ্চিত জীবনে আর তোমাকে জড়াতে চাই না।

আমি অবাক হয়ে বললামঃ অনিশ্চিত জীবন মানে?

সামিয়া আমাকে ছেড়ে দিয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে ড্রয়ারের কাছে গেলো। ড্রয়ার থেকে একটা ফাইল নিয়ে এসে আমার হাতে দিয়ে বলতে লাগলোঃ কয়েক দিন আগে আমার প্রচন্ড মাথা ব্যথা শুরু হয়। আগে ছিলো কিন্তু এতোটা বেশি ছিলো না। আমি ডাক্তারের কাছে পরামর্শ নিতে গেলে ডাক্তার আমাকে সিটি স্ক্যান করতে বলেন।

এরপরে আমি সিটি স্ক্যান করলাম। রিপোর্ট আসলো আমার ব্রেন টিউমার। যেটা তখন অপারেশন করলে সাকসেস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিলো। কিন্তু আমার বেঁচে থাকার আর কোনো ইচ্ছা ছিলো না। সেদিন ঐশী তোমাকে ফোন দিয়ে আমার অসুস্থতার কথা বলেছিলো। সেদিন আমার মাথা ব্যথা বেশি হয়। ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। ডাক্তার বলেছিলেন আমি লাস্ট স্টেপে চলে এসেছি। এখন অপারেশন করলে ঝুঁকি টা বেশি হবে। মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু দিন বাঁচতে চেয়েছিলাম। কিন্তু রোগের জন্য এটাও আর হবে না।

আমার রোগের কথা বাবাকে বলি নি। বললে তিনি চিন্তা করবে। আমার মেয়েটাকে নিয়ে চিন্তা হতো আমি না থাকলে কে দেখবে তাকে? কিন্তু এখন তার বাবাই এসেছে আমার আর কোনো চিন্তা নেই।(মুচকি হেসে)

আমি সামিয়ার কথা গুলো শুনে ভাবতেছি আমি কি আমার সামিয়া কে হারিয়ে ফেলবো? সামিয়া আমাকে জড়িয়ে ধরে বললোঃ জানো সাহিদ তুমি আমাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিলেন এর জন্য আমার কোনো রাগ হয় নি।কারণ,আমি জানি তুমি আমাকে ভুল বুঝতেছিলে। আমি জানি কেউ তোমার জায়গায় থাকলে একই কাজ করতো। আমিও তোমাকে ভুল বুঝেছিলাম। এইজন্য আমি এই বিষয়ে রাগ করি নি। কিন্তু আমি খুবই কষ্ট পেয়েছিলাম। যেখানে আমি তোমার হাতে তুলে খাওয়া ছাড়া খেতে পারতাম না। আর সেখানে আমি তোমাকে পাশে ছাড়া কীভাবে খাবো বলো। অনেক কষ্ট হতো প্রেগন্যান্সির সময় ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারতাম। প্রেগন্যান্সির সময় প্রত্যেক টা মেয়ের‌‌ই চায় তার প্রিয় মানুষটা তার সাথে থাকা। কিন্তু আমার ভাগ্যে হয়নি। প্রত্যেক মেয়েই সেই সময় মা-বাবার আদর পাওয়ার আশা করে কিন্তু আমার হয়নি।

ঐশী হওয়ার পরে অনেকে অনেক কথা বলে কিন্তু আমি সেদিকে কান দেয়নি। আমার জবের জন্য অনেকে আমাকে বিয়ের অফার দেয় কিন্তু আমি আমার মেয়ের মুখের দিকে দেখে তাকিয়ে, তোমাকে দেওয়া কথা আর তোমার ভালোবাসার বন্ধন ছেড়ে কোথাও যাইনি।

তোমাকে যেদিন দেখেছিলাম যেদিন আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। যখন শুনলাম আল্লাহর রহমতে তুমিই আমাদের মেয়েকে এক্সিডেন্ট থেকে রক্ষা করেছো।এটা শুনে তো আমার চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগছিলো।যে আমার মেয়েকে তার বাবাই রক্ষা করেছে। কিন্তু পরোক্ষণেই আমার রোগের কথা ভেবে তোমার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেছি। তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি। আজকে সকালে তোমার গায়ে হাত তুলতে চাই নি কিন্তু কি করবো বলো আমার এই অনিশ্চিত জীবনে যে তোমাকে জড়াতে চাচ্ছি না।
বলেই কান্না করতে লাগলো।

আমিও আর নিজের কান্না ধরে রাখতে পারলাম না। আমিও সামিয়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে বললামঃ এই পাগলি তোমাকে বাঁচতে হবে। বাঁচতে হবে আমার জন্য,বাঁচতে হবে আমাদের মেয়ের জন্য। আল্লাহ তোমাকে সুস্থ করেন যেন।

সামিয়া ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করতে করতে বললোঃ খুব ভালো বাসি সাহিদ তোমাকে খুব ভালোবাসি। প্লিজ একটু জড়িয়ে ধরো না।

আমি সামিয়া কে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম। আমাদের মেয়ে ঘুম থেকে উঠে আমাদের কান্না করতে দেখে সেও কান্না করতে লাগলো। সামিয়া আমাকে বললোঃ সাহিদ আমার মাথাটা কেমন জানি ব্যথা করতেছে। প্লিজ একটু টিপি দেওনা।

সামিয়ার মাথা টিপে দিতে লাগলাম। হঠাৎ, করেই সামিয়া কেমন জানি করতে লাগলো। আমি ঐশীর নানুকে ডাক দিলাম।

ঐশীর নানু আসলে বললামঃ আপনি তাড়াতাড়ি গাড়ি বের করুন। সামিয়া কে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

সামিয়া কে কোলে নিয়ে গাড়িতে বসালাম। আমিও ওর পাশে বসে ওর মাথা আমার বুকে রাখলাম। ঐশীর নানু গাড়ি ড্রাইভ করতেছে।সামিয়া ক্রমশই নেতিয়ে পড়তেছে।

ঐশী কান্না করতে করতে বললোঃ বাবাই মামনিল তি হয়েতে?
আমি আমার মেয়েকে কি বলে শান্তনা দিবো ভেবে পাচ্ছি না। শুধু মাথার মধ্যে একটা চিন্তায় হচ্ছে, আমি কী সামিয়া কে হারিয়ে ফেলবো। এতো কষ্ট করে আমি আমার সামিয়া কে পেয়েছি। এখন যদি হারিয়ে ফেলি তাহলে আমি আর বাঁচবো না। হে আল্লাহ আপনি আমার সামিয়া কে সুস্থ করে দিন।

(চলবে)

*** WaiTinG fOr LAsT pARt ****

Want your business to be the top-listed Gym/sports Facility in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Dhaka