শবে বরাত বা ভাগ্য রজনীকে স্বয়ং আল্লাহ পাক স্বীয় কুরআন শরীফ-এ সূরা ‘আদ দোখান’ এর ৩-৪ নম্বর আয়াত শরীফে ليلة المبارك (বরকত পূর্ণ রাত) হিসেবে উল্লেখ করে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-
انا انزلناه فى ليلة مباركة انا كنا منذرين. فيها يفرق كل امر حكيم
অর্থ: “নিশ্চয়ই আমি উহা (কুরআন শরীফ) এক রবকতপূর্ণ রাত্রিতে নাযিল করেছি। অর্থাৎ নাযিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী, ওই রাত্রিতে সমস্ত হিকমতপুর্ণ কাজসমূহের বণ্টন করা হয় তথা বণ্টনের ফায়সালা করা হয়।” (সূরা আদ দোখান-৩-৪)
উক্ত আয়াত শরীফ-এ বর্ণিত ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ দ্বারা অনুসরনীয় মুফাসসিরীনে কিরাম উনারা শবে বরাতকেই বুঝিয়েছেনঃ অর্থ: “প্রখ্যাত ছাহাবী হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, (সূরা আদ দুখানের ৩ নম্বর আয়াত শরীফ) ليلة مباركة হচ্ছে ১৫ই শা’বানের রাত তথা শবে বরাতের রাত। এ রাত্রে সারা বৎসরের কাজ কর্মের ফায়ছালা করা হয় এবং কতজন জীবিত থাকবে ও কতজন মারা যাবে তারও ফায়ছালা করা হয়। অতঃপর এ ফায়ছালার থেকে কোন কিছু বেশি করা হয় না এবং কোন কমতিও করা হয় না। অর্থাৎ কোন প্রকারের পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হয় না। হযরত ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেছেন, হযরত মুহম্মদ ইবনে মাইসারা ইবনে আখফাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, শা’বান মাসে পরবর্তী শা’বান মাস পর্যন্ত মৃত্যুর ফায়ছালা করে দেয়া হয়। এমনকি লোকেরা যে বিবাহ করবে, সেই বৎসর তার থেকে কত জন সন্তান জন্মগ্রহন করবে তার তালিকা এবং তার মৃত্যুর তালিকাও প্রস্তুত করা হয় ওই বৎসরে অর্ধ শাবানের রাতে তথা শবে বরাতে।
আবুদ্বহা এর বর্ণনায় এসেছে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা তিনি বলেন, শা’বানের মাঝামাঝি অর্থাৎ ১৫ই শা’বানের রাতে তথা শবে বরাতে আল্লাহ পাক সমস্ত কিছুই ফায়ছালা করেন, আর রমাদ্বানের ক্বদর রাতে (শবে ক্বদরে) সেই ফায়ছালার তালিকা (কপি) বাস্তবায়ন করার জন্য বাস্তবায়নকারীদের কাছে অর্পণ করা হয়।
অর্থ: (অনেকেই বলেছেন ليلة مباركة তথা বরকতপুর্ণ রাতই হচ্ছে অর্ধ শা’বানের রাত (১৫ই শা’বানের রাত) এবং এ রাতের বুযূর্গী সম্পর্কে হাদীছ শরীফ ও বর্ণিত আছে, হযরত মুহম্মদ ইবনে কাসিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতার মাধ্যমে অথবা উনার চাচার মাধ্যমে। উনার পিতা অথবা চাচা উনার পিতামহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবার হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। আর হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন অর্ধ শা’বানের (১৫ই শা’বান) রাতে মহান আল্লাহ পাক তিনি পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। তবে ওই সকল লোকদের ক্ষমা করেন না যাদের অন্তরে হিংসা রয়েছে অর্থাৎ হিংসুকদের এবং আল্লাহ পাক-উনার সাথে শরীককারীদের তথা মুশরিকদেরকে ঐ অর্ধ শাবান তথা শবে বরাতে ক্ষমা করেন না।
Balughat Eid gah & Playground
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Balughat Eid gah & Playground, Sport & recreation, Amligola Balurghat. Lalbagh, Dhaka.
25/10/2012
কুরবানীর ঈদে করণীয় ও বর্জনীয়
১. ঈদের সালাত আদায় করা
দুই রাকাত ঈদের সালাত আদায় করা ওয়াজিব। কোন অবস্থায়ই ঈদের সালাত আদায়ে অলসতা করা যাবে না। শিশু-সন্তানদের ঈদের সালাতে নিয়ে যাওয়া ও ব্যবস্থা থাকলে মেয়েদের যেতে উৎসাহিত করা। মনে রাখতে হবে ঈদের সালাত ইসলামের একটি শিআ’র তথা মহান নিদর্শন। উমার রাদি আল্লাহু আনহু বলেন, জুম‘আর সালাত দু’ রাকাত, ঈদুল ফিতরের সালাত দু রাকাত, ঈদুল আযহার সালাত দু’ রাকাত ও সফর অবস্থায় সালাত হল দু’ রাকাত। [সুনান আননাসায়ি]
২. কুরবানী করা
ঈদের সালাত আদায় করার পর সামর্থবান ব্যক্তি কুরবানী করবে। কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে : ‘তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর ও পশু কুরবানী কর।’ [সূরা আলকাওসার : ২]। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি সামর্থ থাকা সত্ত্বেও কুরবানি করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারে না আসে। [মুসনাদ আহমাদ, ইবন মাজাহ- ৩১২৩ হাদীসটি হাসান]
৩. ঈদের চাঁদ দেখার পর থেকে তাকবীর পাঠ করা
তাকবীর পাঠ করার মাধ্যমে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করা হয়। ঈদুল আযহা এর অন্যতম করণীয় হচ্ছে এ দিনের তাকবীর। এ ঈদকে যেভাবে পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করা হয়েছে সেভাবে এ দিনের তাকবীরকেও দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। ইবনে আবি শাইবা তার মুসান্নাফে [২/১৪১] বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদি আল্লাহু আনহু নিম্নোক্ত তাকবীরটি বলতেন, ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’।
৪. ত্র“টিমুক্ত পশু কুরবানী দেয়া
কুরবানীর পশু ত্র“টিমুক্ত হওয়া প্রয়োজন। আল-বারা ইব্ন আযেব রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন, তারপর বললেন, চার ধরনের পশু, যা দিয়ে কুরবানী জায়েয হবে না। অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে পরিপূর্ণ হবে না—অন্ধ; যার অন্ধত্ব স্পষ্ট, রোগাক্রান্ত; যার রোগ স্পষ্ট, পঙ্গু; যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট এবং আহত; যার কোন অংগ ভেংগে গেছে। নাসায়ির বর্ণনায় ‘আহত’ শব্দের স্থলে ‘পাগল’ উল্লেখ আছে। [সুনান আততিরমিযি-১৫৪৬]
৫. আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে পশু উৎসর্গ করা :
আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে পশু উৎসর্গ করতে হবে। কেননা কুরআনে এসেছে, ‘বল, আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই উদ্দেশ্যে। তার কোন শরিক নাই এবং আমি এর জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই প্রথম মুসলিম। [সূরা আনআম: ১৬২-১৬৩]
সালমান রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : এক ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে একটি মাছির কারণে। অন্য এক ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে একটি মাছির কারণে। এ কথা শুনার পর লোকেরা জিজ্ঞেস করল এটা কীভাবে হবে ? তিন বললেন : দু ব্যক্তি এক সম্প্রদায়ের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। সে সম্প্রদায়ের নিয়ম হল যে ব্যক্তি তাদের কাছ দিয়ে যাবে তাকে তাদের প্রতিমার উদ্দেশ্যে কিছু উৎসর্গ করতে হবে। সে সম্প্রদায়ের লোকেরা এ দুজনের একজনকে বলল : আমাদের এ প্রতিমার জন্য কিছু উৎসর্গ কর ! লোকটি উত্তর দিল আমার কাছে তো এমন কিছু নেই যা আমি এ প্রতিমার জন্য উৎসর্গ করতে পারি। তারা বলল একটি মাছি হলেও উৎসর্গ কর। সে একটি মাছি উৎসর্গ করল। তারা তাকে ছেড়ে দিল। ফলে সে জাহান্নামে যাবে। তারপর তারা দ্বিতীয় ব্যক্তিকে অনুরূপ কথা বলল। সে উত্তরে বলল আমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য কিছু উৎসর্গ করি না। তারা তাকে হত্যা করল। ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করল। [ আবু নাঈম, মুসনাদ আহমাদ]
৬. আল্লাহর নামে নিজ হাতে কুরবানী দেয়া
যেমন হাদীসে এসেছে : জাবের রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত … একটি দুম্বা আনা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে যবেহ করলেন এবং বললেন ‘বিসমিল্লাহি ওয়াআল্লাহু আকবার, হে আল্লাহ! এটা আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মতের মাঝে যারা কুরবানী করতে পারেনি তাদের পক্ষ থেকে।
৭. ঈদের সালাত আদায় করার পর কুরবানী করা।
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : এ দিনটি আমরা শুরু করব সালাত দিয়ে। অতঃপর সালাত থেকে ফিরে আমরা কুরবানী করব। যে এমন আমল করবে সে আমাদের আদর্শ সঠিকভাবে অনুসরণ করল। আর যে এর পূর্বে যবেহ করল সে তার পরিবারবর্গের জন্য গোশতের ব্যবস্থা করল। কুরবানীর কিছু আদায় হলো না। [সহীহ আলবুখারী- ৯৬৫]
৮. কুরবানী ও আক্বীকা পৃথকভাবে দেয়া
কুরবানীর সাথে আক্বীকা না করে পৃথকভাবে করা। যেহেতু কুরবানীর উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যক্তির পক্ষ হতে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করা, পক্ষান্তরে আক্বীকার উদ্দেশ্য হচ্ছে নবজাতকের পক্ষ হতে ফিদিয়া হিসেবে আদায় করা। এছাড়াও এধরনের আমল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের আমল দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি।
৯. কুরবানীর গোস্ত নিজে খাওয়া ও অপরকে খাওয়ানো
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর গোশত সম্পর্কে বলেছেন, ‘তোমরা নিজেরা খাও ও অন্যকে আহার করাও এবং সংরক্ষণ কর’ [সহীহ বুখারী : ৫৫৬৯]।
১০. কুরবানীর গোস্ত গরীব ও অভাবীকে দেয়া
কুরবানীদাতা যথাসম্ভব কুরবানীর গোস্ত গরীব ও অভাবীকে দিবে। কেননা কুরআনে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, ‘অতঃপর তোমরা উহা হতে আহার কর এবং দুঃস্থ, অভাবগ্রস্তকে আহার করাও।’ [সূরা আলহজ্জ-২৮]
১১. ঈদের দিনে খাবার গ্রহণ
ঈদুল আজহার দিন ঈদের সালাতের পূর্বে কিছু না খেয়ে সালাত আদায়ের পর কুরবানির গোশত খাওয়া সুন্নাত। বুরাইদা রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, ‘নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিনে না খেয়ে বের হতেন না, আর ঈদুল আজহার দিনে ঈদের সালাতের পূর্বে খেতেন না’ [সুনান আততিরমীযি : ৫৪৫]।
১২. আনন্দ প্রকাশ করা
ইসলাম এমন একটি জীবন ব্যবস্থা যেখানে সুস্থ বিনোদনের সুযোগ রয়েছে। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদি আল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন : ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন আমার ঘরে আগমন করলেন, তখন আমার নিকট দুটি ছোট মেয়ে গান গাইতেছিল, বুয়াস যুদ্ধের বীরদের স্মরণে। তারা পেশাদার গায়িকা ছিল না। ইতোমধ্যে আবূ বকর রাদি আল্লাহু আনহু ঘরে প্রবেশ করে এই বলে আমাকে ধমকাতে লাগলেন যে, নবীজির ঘরে শয়তানের বাঁশি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা শুনে বললেন : মেয়ে দুটিকে গাইতে দাও হে আবূ বকর! প্রত্যেক জাতির ঈদ আছে, আর এটি আমাদের ঈদের দিন’ [সহীহ বুখারী : ৯৫২]।
১৩. পায়ে হেঁটে যাওয়া ও পথ বিপরীত করা
ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া এবং এক পথে যাওয়া ও অন্যপথে আসা সুন্নাহ এর অন্তর্ভুক্ত। আলী রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ‘সুন্নাত হল ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া’ [সুনান আততিরমিযী : ৫৩৩]। হাদীসে এসেছে, ‘নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিনে পথ বিপরীত করতেন’ [সহীহ বুখারী : ৯৮৬]।
১৪. আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর খোঁজ-খবর নেয়া
ঈদের সময় বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ-খবর নেয়া ও তাদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া ও প্রতিবেশীর হক আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়। আলকুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা ইবাদাত কর আল্লাহর, তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতা-পিতার সাথে, নিকট আত্মীয়ের সাথে, ইয়াতীম, মিসকীন, প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাস-দাসীদের সাথে। নিশ্চয় আল্লাহ পছন্দ করেন না তাদেরকে, যারা দাম্ভিক, অহঙ্কারী’ [সূরা নিসা : ৩৬]
১৫. দোয়া ও ইস্তেগফার করা
ঈদের দিনে আল্লাহ তা‘আলা অনেক বান্দাহকে মাপ করে দেন। মুয়ারিরক আলঈজলী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ঈদের এই দিনে আল্লাহ তা‘আলা একদল লোককে এভাবে মাপ করে দিবেন, যেমনি তাদের মা তাদের নিষ্পাপ জন্ম দিয়েছিল। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘তারা যেন এই দিনে মুসলিমদের জামায়াতে দোয়ায় অংশ গ্রহণ করে’ [লাতাইফুলমায়ারিফ]।
১৬. ঈদে শুভেচ্ছা বিনিময়ের ভাষা
ঈদে পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানানো শরিয়ত অনুমোদিত একটি বিষয়। বিভিন্ন বাক্য দ্বারা এ শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়। যেমন : (ক) হাফেয ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, সাহাবায়ে কিরামগণ ঈদের দিন সাক্ষাৎকালে একে অপরকে বলতেন : ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়ামিনকা’ অর্থ- আল্লাহ তা‘আলা আমাদের ও আপনার ভাল কাজগুলো কবুল করুন (খ) ‘ঈদ মুবারক’ ইনশা আল্লাহ (গ) ‘ঈদুকুম সাঈদ’ বলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়।
১৭. পরিবেশ সুন্দর রাখা
কুরবানীর পর ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। সেজন্য সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে কুরবানীদাতা পরিবেশ সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর রাখতে অবশ্যই ভূমিকা পালন করবেন।
কুরবানীর ঈদে বর্জনীয়
১. ঈদের দিন সিয়াম পালন করা
ঈদের দিন সিয়াম পালন করলে ঈদের কাজসমূহ যথাযথ পালন করা যাবে না। হাদীসে ঈদের দিন সিয়াম পালন করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন’ [সহীহ মুসলিম : ২৭৩০]।
২. বিজাতীয় আচরণ প্রদর্শন
বিজাতীয় আচরণ মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। নারী-পুরুষ একে অপরের বেশ ধারণ, পোশাক-পরিচ্ছদে, চাল-চলনে, শুভেচ্ছা বিনিময়ে অমুসলিমদের অনুকরণে লিপ্ত হয়ে পড়েছে মুসলমানদের অনেকেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাথে সাদৃশ্যতা রাখবে সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে’ [আবূ দাউদ : ৪০৩৩]।
৩. গান-বাজনা করা, অশ্লীল সিনেমা ও নাটক দেখা
ঈদ উপলক্ষে বিশেষ নাটক, নারীদের খোলা-মেলা অবস্থায় রাস্তা-ঘাটে বের হওয়া সিনেমা ও বিভিন্ন গান বাজনা- যা ইসলাম অনুমোদন করে না, তা থেকে বিরত থাকতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ‘আমার উম্মতের মাঝে এমন একটা দল পাওয়া যাবে যারা ব্যভিচার, রেশমি পোশাক, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল (বৈধ) মনে করবে’ [সহীহ বুখারী : ৫৫৯০]।
৪. কুরবানীর গোশত নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ করা
মূলত কুরবানী করা হয়ে থাকে আল্লাহর জন্য। এর প্রকৃত উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি। গোশত খওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে কুরবানী করা যাবে না। তাই গোশত নিয়ে শরীকরা পরস্পর বাড়াবাড়ি করা গর্হিত ও কুরবানীর প্রকৃত উদ্দেশ্য পরিপন্থী কাজ।
৫. কুরবানীর পশুকে কষ্ট দেয়া
যবেহ করার সময় পশুকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আর যখন যবেহ করবে তখনও তা সুন্দরভাবে করবে। তোমাদের একজন যেন ছুরি ধারালো করে নেয় এবং যা যবেহ করা হবে তাকে যেন প্রশান্তি দেয়। [সহীহ মুসলিম-১৯৫৫]
৬. কুরবানীদাতার চুল ও নখ কাটা
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের মাঝে যে কুরবানী করার ইচ্ছে করে সে যেন যিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে’ [সহীহ মুসলিম-১৯৭৭]।
৭. ফরজ সালাত আদায়ে অলসতা করা
ঈদের আনন্দ ও কুরবানীর কাজে এমনভাবে উদাসীন থাকেন যে, ফরজ সালাত আদায়ে অলসতা করেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। আলকুরআনে বলা হয়েছে, ‘অতএব সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা নিজেদের সালাতে অমনোযোগী’ [সূরা আলমাউন : ৪-৫]।
৮. কুরবানীর চামড়ার মূল্য নিয়ে প্রতারণা করা
বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্যক্তি পর্যায়ে কুরবানীর চামড়ার মুল্য নিয়ে প্রতারনা বা কারসাজি করা হয়ে থাকে । এর মাধ্যমে মূলত গরীবের হক নষ্ট করা হয়। যা থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রতারণা করে সে আমার উম্মাত নয়” [জামিউল আহাদিস : ২৩০৩৩] ।
৯.রিয়া বা লোক দেখানো,খ্যাতি অর্জনে কুরবানী করা
রিয়া বা লোক দেখানো কিংবা খ্যাতি অর্জনের জন্য কুরবানী করা যাবে না। কারণ, রিয়া হলো ছোট শিরক । কেননা হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি লোক দেখানো সালাত আদায় করল সে শিরক করল, যে ব্যক্তি লোক দেখানো সিয়াম পালন করল, সে শিরক করল। আর যে দান করল লোক দেখানোর জন্য সেও শিরক করল”। [মুসতাদরিক লিল হাকিম:৭৯৩৮]
আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে শরীয়াহ মোতাবেক কুরবানীর ঈদ পালন করার তাওফীক দিন। আমীন!
চেয়ারম্যান, তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন
23/10/2012
কুরবানী করার ছহীহ তরীক্বা বা নিয়ম
-মুফতী সাইয়্যিদ আহমদ আবূ সাফওয়ান
কুরবানীর পশুর মাথা দক্ষিণ দিকে এবং পা পশ্চিম দিকে রেখে অর্থাৎ ক্বিবলামুখী করে শোয়ায়ে পূর্ব দিক থেকে চেপে ধরতে হবে, তারপর কুরবানী করতে হবে। আর কুরবানী করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে, সীনার উপরিভাগ এবং কন্ঠনালীর মাঝামাঝি স্থানে যেন যবেহ করা হয়।
আরো উল্লেখ্য যে, গলাতে চারটি রগ রয়েছে, তন্মধ্যে গলার সম্মুখভাগে দুটি- খাদ্যনালী ও শ্বাসনালী এবং দুপার্শ্বে দুটি রক্তনালী। এ চারটির মধ্যে খাদ্যনালী, শ্বাসনালী এবং দুটি রক্তনালীর মধ্যে একটি অবশ্যই কাটতে হবে। অর্থাৎ চারটি রগ বা নালীর মধ্যে তিনটি অবশ্যই কাটতে হবে, অন্যথায় কুরবানী হবে না।
যদি সম্ভব হয়, তবে ছুরি চালানোর সময় বেজোড় সংখ্যার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
কুরবানীর নিয়ত: (যবেহ করার পূর্বে) “ইন্নী ওয়াজ্জাহ্তু ওয়াজ্হিয়া লিল্লাযী ফাত্বারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বা হানীফাঁও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না ছলাতী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহ্ইয়াইয়া ওয়া মামাতী লিল্লাহি রব্বিল আলামীন। লা শারীকালাহু ওয়া বি যালিকা উর্মিতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমীন। আল্লাহুম্মা মিন্কা ও লাকা।” এ দোয়া পড়ে ‘বিস্মিল্লাহি আল্লাহু আকবর বলে যবেহ করতে হবে। যবেহ করার পর এ দোয়া পড়বে- “আল্লাহুম্মা তাক্বাব্বাল মিন্নী কামা তাক্বাব্বালতা মিন্ হাবীবিকা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও খালীলিকা ইব্রাহীমা আলাইহিস সালাম।”
যদি নিজের কুরবানী হয়, তবে ‘মিন্নী বলতে হবে। আর যদি অন্যের কুরবানী হয়, তবে ‘মিন্ শব্দের পর যার বা যাদের কুরবানী, তার বা তাদের নাম উল্লেখ করতে হবে। আর যদি অন্যের সাথে শরীক হয় তাহলে ‘মিন্নীও বলবে অতঃপর ‘মিন্ বলে অন্যদের নাম বলতে হবে।
কেউ যদি উপরোক্ত নিয়ত না জানে, তাহলে যবেহ করার সময় শুধু ‘বিস্মিল্লাহি আল্লাহু আকবর বলে কুরবানী করলেও শুদ্ধ হয়ে যাবে। কারণ নিয়ত অন্তরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তবে অবশ্যই প্রত্যেক যবেহকারীর উচিৎ উপরোক্ত নিয়ত শিক্ষা করা। কেননা উপরোক্ত নিয়ত পাঠ করে কুরবানী করা সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।
23/10/2012
Shobaike Pobitro Eid-Ul-Azhar Ogrim Eid Mubarak. Balughat Eid mathh er pandeling er kaz cholche. Chad raate shobaike Eid er jamat er somoy suchi janiye dea hobe InshaAllah. Shobai valo thakun. R je kono eid gah er jamat er time jante ei page e msg korun. >
Prio bondura Balughat Eid gah & playground er kaj druto gotite egiye jacche . Ekhon Ground er shoman o ghass laganor kaj cholche. Asha kori January mas er agei ati compete hoye jabe.
15/08/2012
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Amligola Balurghat. Lalbagh
Dhaka
1211