আমি অনেক দিন অসুস্থ ছিলাম তাই পেইজ এ আসতে পারি নাই।এখন থেকে রেগুলার থাকব ইনশাআল্লাহ।
কেমন আছেন সবাই?
DAIRY FARM & Training
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from DAIRY FARM & Training, Dhaka.
10
♦♦ধনুষ্টঙ্কার (Tetanus)♦♦
প্রায় সকল গৃহপালিত পশুর একটি জীবাণু ঘটিত মারাত্মক সংক্রামক রোগ। ধনুষ্টঙ্কারে আক্রান্ত পশু তীব্র ব্যথায় কাতর হয়ে পড়ে। তাছাড়া টিটেনি এবং খিঁচুনী এ রোগের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
#রোগের কারণঃ
ক্লষ্ট্রিডিয়াম টিটেনি (Clostridium tetani) নামক গ্রাম পজেটিভ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট টক্সিন এই রোগের কারণ। এই রোগের জীবাণু মাটিতে স্পোর সৃষ্টি করে সুপ্ত অবস্থায় অনেক বছর টিকে থাকতে পারে।
#রোগের লক্ষণঃ
1. প্রায় সব প্রজাতির পশুর এ রোগের লক্ষণ একইভাবে প্রকাশ পায়।
রোগের প্রথমদিকে দেহের বিভিন্ন অংশের মাংসপেশী শক্ত হয়ে দাঁত কপাটি লাগে। তাই একে লক-জ বলে। এই অবস্থায় পশু খাওয়া বন্ধ রাখে ও মুখ দিয়ে লালা ঝরে।
মাংসপেশী শক্ত হওয়া মাত্র পেশীর কম্পন ও খিঁচুনী দেখা দেয়। ঘাড় ও পায়ের মাংসপেশী শক্ত হবার ফলে পশু কাঠের মত দাঁড়িয়ে থাকে এবং পড়ে গেলে উঠানো যায় না।
যে কোন শব্দে পশু চমকে উঠে, মাংসপেশী অধিকতর শক্ত ও সংকুচিত হতে থাকে। গরুর পেট চাপা হয়ে পিঠের সাথে আটকে যেতে চায় ও এক পর্যায়ে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে পশুর মৃত্যু হয়।
রোগের প্রথম পর্যায়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় যা মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে।
#প্রতিরোধঃ
প্রাণীর প্রসব পরিচ্ছন্ন স্থানে করাতে হবে। জন্মের পর শাবকের নাভী-নাড়ীকে শক্ত করে বেঁধে দেওয়া উচিত এবং Negotox পাউডার নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগানো উচিত। গাভীর ঘায়ের চিকিৎসা না করলে সেখান থেকে অনেক সময় বাছুরের ধনুষ্টংকার হয়।
#চিকিৎসাঃ
ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শে নিন্মলিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যেতে পারেঃ-
টিটেনাস বা ধনুষ্টংকার রোগের চিকিৎসা প্রদান করতে হলে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয়। যেমনঃ রোগের কারণ ব্যাকটেরিয়ার বিনাশ, জীবাণু নিঃসৃত বিষ এবং কার্যকারীতা ধ্বংস ও শক্ত হয়ে যাওয়া মাংসপেশী শিথিল করা ইত্যাদি। চিকিৎসার শুরুতে যদি দেহে কোন ক্ষত পাওয়া যায়, তবে ক্ষতের মধ্যে ATS @ ১৫০০ হারে প্রতিদিন ১ বার করে ৩-৫ দিন দিয়ে ক্ষতের বিষ নষ্ট করতে হবে। এছাড়া হাইড্রোজেন-পার-অক্সাইড দিয়ে ক্ষত স্থান পরিষ্কার করতে হবে।
1.Penicillin Injection
2.Largactil Injection শিরায় ০৪ মি. গ্রাম প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য শিরায়
অথবা মাংসপেশীতে ১ মি. গ্রাম প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য দিনে ২ বার ১০-১২ দিন।
Copyright @ 2016
Department of Livestock Services
09
#কলিব্যাসিলোসিস(Colibacillosis)
#রোগের কারণঃ ইসকোরেশিয়া কলাই (Escherichia Coli) বা ই. কলাই জীবাণু দ্বারা বিভন্ন প্রাণীতে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হয়। খামারভূক্ত নবজাতক পশু ই. কলাই দ্বারা আক্রান্ত হলে রোগটিকে কলিব্যসিলোসিস বলে। রোগটি প্রধানত ২টি আকারে আক্রামন করে। সেপ্টিসেমিক (Septicaemic) আকারে রোগটি আক্রমন করলে পশুর দ্রুত মৃত্যু হয়। আস্ত্রিক আকারে (Enteric form) আক্রমণ করলে পশু মারাত্মক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়।
#রোগের লক্ষণঃ
1. সাধারণত, ৩ দিন বয়সের নীচের বাছুরে এ রোগটি হয়। তবে বাছুরের জন্মের ১২-১৮ ঘন্টা পর থেকে ২১ দিন বয়স পর্যন্ত রোগটি হতে পারে।
2. সেপ্টিসেমিক আকারে রোগটি হলে ব্যাটেরিয়ার স্থানিক সংক্রামন, ডায়রিয়া, শক এবং একপর্যায়ে পশুর দ্রুত মৃত্যু হয়।
3. কলিব্যাসিলোসিস রোগটি আন্ত্রিক আকারে হলে আনারসের রসের মতো তরল পায়খানা ও ডায়রিয়া হয়।
#প্রতিরোধঃ
1.স্বাস্থ্য সম্মত বাচ্চা প্রসব ও পালনের ব্যবস্থা করতে হবে। বাচ্চা জন্মের পর পরই ২% আয়োডিন সলুশন দ্বারা নাভি মুছে দিতে হবে।
2. গর্ভাবন্থায় বাচ্চাকে পর্যাপ্ত সুষম খাদ্য সরবরাহ করিতে হবে।
3.জন্মের পর দু’ঘন্টার মধ্যে প্রতি কেজি দৈহিম ওজনের জন্য ৫০ মিঃ লিঃ সিহাবে কলষ্ট্রাম খাওয়াতে হবে।
#চিকিৎসাঃ
ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শে নিন্মলিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যেতে পারেঃ-
1.Cotramoxasol Suspension অথবা Gentamycin Injection
2. 10% Dextrose Saline শিরায় প্রয়োগ করতে হবে অথবা
3.25% Dextrose Saline মুখে খাওয়াতে হবে।
Copyright @ 2016
Department of Livestock Services
08
♦♦নাভী ফুলা (Navel ill) ♦♦
#প্রচলিত নামঃ নাভি রোগ
#রোগের কারণঃ ষ্ট্রেপটোকক্কাই নামক একধরনের গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ার কারণে প্রথমে নবজাত পশুর নাভিতে এ রোগের সংক্রমনে প্রদাহ হয়। পরে নাভি থেকে জীবাণু রক্তের সাথে মিশে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে যায়। এই জীবাণু অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ, মস্তিষ্ক-ঝিল্লী প্রদাহ ও এন্ডোকার্ডাইটিস বা হৃদপিন্ডে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
#রোগের লক্ষণঃ
#নাভী আক্রান্তের ক্ষেত্রে (১) নাভী ফুলে যায়
(২) নাভীতে ব্যথা ও পুঁজ হয়
(৩) জ্বর ও ক্ষুধামন্দা হয়।
#অস্থি-সন্ধির প্রদাহ হলে (Arthritis/Joint ill)- (১) গিঁট ফুলে যায়
(২) গিঁটে ব্যথা ও গরম অনুভূত হয়। এ কারণে বাচ্চা খুড়িয়ে হাঁটে অথবা হাঁটতে পারে না।
#মস্তিষ্ক-ঝিল্লী প্রদাহ (Meningitis) হলে (১) অতি বেদন (Hyperaesthesia)
(২) চলাফেরা অক্ষমতা (Rigidity)
(৩) জ্বর হয়।
#হৃদপিন্ডে প্রদাহ (Endocarditis) হলে-
(১) জ্বর
(২) সিষ্টেমিক উপসর্গ ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়।
#প্রতিরোধঃ
1. বাছুরের জন্মের পর স্বাস্থ্য সম্মত বিধি-ব্যবস্থা অবলম্বন করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
2. জন্মের পর বাছুরের নাভিতে টিংচার আয়োডিন প্রয়োগে ফল লাভ করা যায়।
3. গর্ভফুল থেকে বাছুরের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।
4. গাভী যেন বাছুরের নাভী না চাটে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
5. মিশ্রিত ব্যাকট্রিন টিকা হিসাবে ব্যবহার করা যায়।
#চিকিৎসাঃ
ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শে নিন্মলিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যেতে পারেঃ-
নাভীর ক্ষতস্থান টিংচার-আয়োডিন দ্বারা পরিস্কার করতে হবে। নাভী পেকে গেলে একটু কেটে সম্পূর্ণ পুঁজ বের করে ফেলতে হবে। পরে জীবাণুনাশক যুক্ত পানি দ্বারা পরিষ্কার করে কাটা জায়গার মধ্যে টিংচার আয়োডিন যুক্ত গজ ঢুকাতে হবে। একদিন পরপর এইভাবে পরিষ্কার করে গজ ঢুকাতে হবে।
নীচের যে কোন একটি ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা করা যায়।
1. Streptomycin (স্ট্রেপটোমাইসিন)
2. Penicillin Injection অথবা Gentamycin Injection
3.Ampicillin Injection
Copyright @ 2016
Department of Livestock Services
07 ♦♦যক্ষা (Tuberculosis)♦♦
#প্রচলিত নামঃ ক্ষয় রোগ।
#রোগের কারণঃ মাইবোব্যাকটেরিয়াম বভিস নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া গরুর যক্ষা রোগের জন্য দায়ী। যক্ষা একটি জুনোটিক রোগ অর্থাৎ এ রোগের জীবাণু প্রাণী থেকে মানুষ এবং মানুষ থেকে প্রাণীতে সংক্রামিত হয়।
#রোগের লক্ষণঃ
1.যক্ষা রোগে আক্রান্ত পশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। দিন দিন শুকিয়ে যেতে থাকে।
আক্রান্ত পশু অনিয়মিতভাবে খাদ্য গ্রহণ করে এবং নড়াচড়া কমে যায়।
2.দেহের তাপমাত্রার পরিবর্তন হয়।
3.পশু ভেদে আক্রান্তের স্থানানুযায়ী যক্ষা রোগের লক্ষণ বিভিন্ন হয়। যেমনঃ ফুসফুসে যক্ষা হলে কাশি, পরিপাকতন্ত্রে যক্ষা হলে থেমে থেমে ডায়রিয়া, কোষ্ঠ-কাঠিন্য, ওলানে যক্ষা হলে ওলান ফুলে যায় এবং অবশেষে আঠালো তরল পদার্থ নিঃসৃত হয়।
4.চূড়ান্ত পর্যায়ে শরীর খুব শুকিয়ে যায় এবং পশুর শ্বাস কষ্ট খুব বেশী হয়।
5.গাভীর ওলান আক্রান্ত হলে দুধের রং হলদে-সবুজাভ হয়।
6.এ রোগে আক্রান্ত পশুতে দীর্ঘমেয়াদী উদরাময় হয় এবং অন্ত্রের প্রাচীর পুরু হয়ে ঢেউ তোলা টিনের ন্যায় ভাঁজ ভাঁজ হয়ে যায়।
#প্রতিরোধঃ
1.যক্ষা রোগাক্রান্ত পশু তাৎক্ষনিকভাবে অন্য পশু থেকে আলাদা করতে হবে।
2.গাভীর দৈনন্দিন পরিচর্যা স্বাস্থ্য সম্মত হতে হবে অর্থাৎ খাবার পাত্র, পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
3.যক্ষা আক্রান্ত পশুর দুধ বা মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না বা একই ঘরে আক্রান্ত পশু ও মানুষ বা অন্য কোন প্রাণী বাস করতে পারবে না।
4.আক্রান্ত পশুর দুধ বাছুরকে খাওয়ানো যাবে না।
5.আক্রান্ত পশুর সর্দি, কাশি, রক্ত বা মল যাতে পরিবেশ দূষিত করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
#চিকিৎসাঃ
ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শে নিন্মলিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যেতে পারেঃ-
1.Streptomycin (স্ট্রেপটোমাইসিন)
2.Penicillin Injection অথবা Gentamycin Injection
3.Ampicillin Injection
Copyright @ 2016
Department of Livestock Services
06 ♦♦গবাদিপশুর ফুট রট রোগ♦♦
#কারণ
1.ফুট রট গবাদিপশুর পায়ের ক্ষুরের চারপাশে ও ক্ষুরের মধ্যবর্তী স্থানের টিস্যুরপ্রদাহজনিত একটি ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রামক রোগ।
2.সকল শ্রেণীর সব বয়সের পশুই (গাভী, বলদ, ষাঁড়, বকনা ইত্যাদি) এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
3.এ রোগকে ইন্টারডিজিটাল নেক্রোব্যাসিলোসিস, ফুট রট বা ইন্টার ডিজিটাল ফ্লেগমন হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।
#রোগবিস্তার
1.সাধারণত আক্রান্ত গরু থেকে রোগের বিস্তার ঘটে।
2.আক্রান্ত প্রাণীর ক্ষুরের ক্ষত স্থান থেকে নিঃসৃত রস প্রচুর জীবাণু বহন করে যা থেকে সুস্থ প্রাণী আক্রান্ত হয়ে থাকে।
3.গবাদিপ্রাণির পায়ের ক্ষুরের করোনেট বা দুই ক্ষুরের মধ্যবর্তী স্থানের টিস্যু কোনো কিছু দ্বারা আঘাতের ফলে ক্ষত হলে ও সর্বদা কাদা-পানি বা গোবরের মাঝে পা রাখলে ক্ষতস্থান দিয়ে রোগজীবাণু সহজেই দেহে প্রবেশ করে এ রোগের সৃষ্টি করতে পারে।
4.শক্ত স্থান, ধারালো পাথরের নুড়ি অথবা চারণক্ষেত্রের শক্ত ধান বা গমের মুড়া থেকে ক্ষুরের নরম টিস্যু আঘাতপ্রাপ্ত হলে সেখান থেকেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।
5.পা যদি সব সময় ভেজা থাকে তাহলে ক্ষুরের মাঝে ক্ষত হবার সম্ভাবনা বেশি দেখা দেয়।
6.অস্বাস্থ্যকর গোয়াল ঘর হলে রোগের সংক্রমণ বেশি হতে পারে।
#রোগলক্ষণ
1.আক্রান্ত প্রাণীকে আকষ্মিকভাবে খোঁড়াতে দেখা যায়।
2.সাধারণত এক পায়ে ব্যথা হলেও তা প্রায়শ মারাত্নক হয়ে থাকে।
3.দেহের তাপমাত্রা ১০৩-১০৪ ডি. ফা লক্ষ্য করা যায়।
4.ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয় ও গাভীর দৈহিক ওজন ও দুধ উৎপাদন হ্রাস পায়।
5.আক্রান্ত ষাঁড় সাময়িকভাবে অনুর্বর (infertile) হয়ে যেতে পারে।
6.পায়ের ক্ষতে পুঁজ হয় ও নেক্রসিস হয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ দুর্গন্ধ বের হতে থাকে।
7.রোগজীবাণুর সংক্রমণের ফলে অস্থিসন্ধি, সাইনোভিয়া ও টেন্ডনের প্রদাহ দেখা দেয়।
আক্রান্ত গরু মাটিতে শুয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে আক্রান্ত গরুর চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে।
ক্ষুর খসে যেতে পারে ও গরু স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যায়।
8.গরু যদি কয়েক সপ্তাহ যাবৎ খোঁড়াতে থাকে তাহলে দুধ উৎপাদন দারুণভাবে কমে যায় এবং দৈহিক ওজনও হ্রাস পায়।
#রোগনির্ণয়
রোগের ইতিহাস ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ রোগলক্ষণ দেখে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।
এছাড়া পায়ের করোনেটের ক্ষত ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে এ রোগ সনাক্ত করা যেতে পারে।
#রোগ সনাক্তকরণে পার্থক্য
রোগের লিশানের স্থান, রোগের প্রকৃতি, লিশানের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ দুর্গন্ধ রোগের ধরন।
ঋতু ও আবহাওয়া পর্যালোচনা করে ফুট রটে আক্রান্ত গরুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়।
ইন্টারডিজিটাল ডার্মাটাইটিস/স্টেবল ফুট রট
গবাদিপশুকে আবদ্ধ অবস্থায় দীর্ঘ দিন প্রতিপালন করলে সাধারণত এ রোগ দেখা দিয়ে থাকে।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পালন করা হলে প্রায়শ এ রোগ দেখা দেয়। আবার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পালিত গরুতেও এ রোগ দেখা দিতে পারে।
এ রোগের কারণ ঠিক জানা না গেলেও আক্রান্ত পশু থেকে Bacteroides সনাক্ত করা গেছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষুরের bulb এলাকা থেকে দুর্গন্ধযুক্ত আঠালো রস নিঃসরণ হতে থাকে।
লিশান বেদনাদায়ক হয় কিন্তু অন্য কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা যায় না। একাধিক ক্ষুর আক্রান্ত হতে পারে।
দীর্ঘ দিন ভুগতে থাকলে ক্ষত মারাত্মক হয় ও সেখানে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে।
স্টেবল ফুটরটে ইনজেকশনের মাধ্যমে চিকিৎসায় তেমন উপকার হয় না তবে ক্ষতস্থানে পরিচর্যা করে সেখানে ব্যাকটেরিয়ানাশক ঔষধ ব্যবহার করলে ফল পাওয়া যায়।
আঘাতজনিত ক্ষত
পায়ের ক্ষুরে কোনো ধারালো বস্তু দ্বারা ক্ষত হলে কিংবা ক্ষুর বেড়ে গেলে তা ভালোভাবে পরীক্ষা করলেই বোঝা যাবে।
ল্যামিনাইটিস (Laminitis) হলে গরু প্রায়শ খোঁড়া হয়ে যায় কিন্তু এসব ক্ষেত্রে কোনো লিশান পরিলক্ষিত হয় না।
চিকিৎসা
#ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শে নিন্মলিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যেতে পারেঃ-
1.আক্রান্ত পশুদেরকে শুকনো পরিষ্কার স্থানে রাখতে হবে।
2.এ্যান্টিবায়োটিকস বা সালফোনামাইডস প্রয়োগ করতে হবে এবং ক্ষত স্থান জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে।
চিকিৎসার জন্য প্রোকেইন পেনিসিলিন-জি প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ২২,০০০ ইউনিট হিসাবে দিনে দুইবার মাংসপেশীতে ইনজেকশন দিতে হবে।
3.অক্সিটেট্রাসাইক্লিন প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১০ মিগ্রা হিসাবে দৈনিক শিরা বা মাংশপেশীতে ইনজেকশন দিতে হবে।
4.ভেড়া ও ছাগলের জন্য প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ৭৫ মিগ্রা স্ট্রেপটোমাইসিন এবং ৭০০০ ইউনিট প্রোকেইন পেনিসিলিন মাংসপেশীতে দিলে উপকার হয়।
5.সোডিয়াম সালফাডিমিডিন প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১৫০-২০০ মিলিগ্রাম হিসাবে শিরা বা পেরিটোনিয়ামের মধ্যে ইনজেকশন দিলেও কাজ হয়।
6.ক্ষতস্থান ভালোভাবে জীবাণুনাশক সলিউশন দ্বারা পরিষ্কার করে এন্টিসেপ্টিক ও এসট্রিনজেন্ট ঔষধ প্রয়োগ করে ব্যান্ডেজ করে দেয়া যেতে পারে।
7.এছাড়াও ৫% কপার সালফেট বা ৫% ফরমালিন দ্বারা ক্ষত স্থান পরিষ্কার করে ১০% জিংক সালফেট ব্রাশের মাধ্যমে প্রয়োগ করলেও উপকার হয়।
#প্রতিরোধ ব্যবস্থা
1.গরুর ক্ষুরে যেন ক্ষত না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিতে হবে।
2.গোয়াল ঘর বা খামারের প্রবেশ পথে ৫% কপার সালফেট সলিউশন ফুট বাথ হিসাবে ব্যবহার করতে হবে। এই সলিউশন দিনে দুইবার নূতন করে প্রস্তুত করে ফুট বাথ হিসাবে প্রয়োগ করতে হবে।
3.নিয়মিত এই ফুটবাথে গরু পা ডুবালে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বহুলাংশে রোধ করা যাবে।
4. কেমোপ্রোফাইল্যাক্সিসঃ রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় প্রতিটি গরুকে দৈনিক ৫০০ মিলিগ্রাম হিসাবে ক্লোরটেট্রাসাইক্লিন ২৮ দিন এবং পরে প্রত্যহ ৭৫ মিলিগ্রাম হিসাবে সেবন করানো হলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব রোধ করা যায়।
5. গবাদিপশুর খাদ্যে দৈনিক ২০০-৪০০মিলিগ্রাম অর্গানিক আয়োডাইড (ethylene diamine dihydriodide) খাওয়ানো হলে এ রোগের প্রতিরোধ হয়।
#ভ্যাকসিন প্রয়োগঃ
1.মিনারেল অয়েল এডজুভ্যান্ট ভ্যাকসিন প্রয়োগ করলে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
2.গবাদিপশুকে কাদা বা ভেজা স্থানে রাখা বা যাওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে।
গোয়াল ঘর সব সময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখতে হবে।
Copyright @ 2016
Department of Livestock Services
NO 05 :
♦♦ #ওলান প্রদাহ বা ম্যাসটাইটিস (Mastitis)♦♦
#প্রচলিত নামঃ ওলান ফুলা, ঠুনকো রোগ, থানফুলা, থানপাকা, পালান পাকা। গাভীর ওলান প্রদাহ হলে দুধের বাহ্যিক ও রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে।
#রোগের কারণঃ গাভীর ওলান প্রদাহ বিভিন্ন প্রকার অনুজীব যেমনঃ ব্যাকটেরিয়া, মাইকোপ্লাজমা ও ছত্রাক দ্বারা হয়। সাধারণত ষ্ট্রেপটোকক্কাই, ষ্টেফাইলোকক্কাই জাতীয় গ্রাম পজেটিভ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়। তবে জটিল ক্ষেত্রে গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া দ্বারাও হয় ও সহযোগী হিসেবে ই. কলাই, করাইনি ব্যাকটেরিয়াম প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া ম্যাসটাইটিস রোগের কারণ হতে পারে।
#রোগের লক্ষণঃ
1: ম্যাসটাইটিস রোগে ওলান লালচে ও স্ফীতকার হয়।
2: গাভীর পিছনের পা দুটো ছড়ানো অবস্থায় থাকে।
3: ওলানে হাত দিলে গরম অনুভূত হয় এবং গাভী ওলানে হাত দিতে দেয় না।
4: শরীরের তাপ বৃদ্ধি পায় এবং ব্যথার কারণে গাভী শুতে পারেনা।
5: দুধের রঙ হলুদ পুঁজের মতো দেখায় এবং পরবর্তীতে রক্ত মিশ্রিত ও দুর্গন্ধযুক্ত দুধ নির্গত হয়।
6: রোগের পরিপক্ক অবস্থায় বাটগুলি শক্ত হয়ে যায় এবং দুধ বের হয় না।
7: এক পর্যায়ে বাটে পচন ধরে, বাট ঠান্ডা হয়ে যায় ও পঁচে খসে পড়ে।
8: মারাত্মক অবস্থায় পৌঁছে গেলে পশুর মৃত্যু হয়।
#প্রতিরোধঃ
1: দুধ দোহনের পূর্বে দোহনকারীর হাত ও ওলান জীবাণুনাশক দিয়ে ভালভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
2: দুগ্ধবতী গাভীকে পরিস্কার, পরিচ্ছন্ন ও শুষ্ক স্থানে রাখতে হবে।
3: দুগ্ধবতী গাভীর ওলান যাতে আঘাতপ্রাপ্ত না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।
4: আক্রান্ত ওলান গরম ও ফোলা থাকলে ও ব্যথাযুক্ত হলে প্রথমে বরফ বা ঠান্ডা পানি আক্রান্ত ওলানে ঢালতে হবে।
5: ওলানে দুধ জমে গেলে মিল্ক সাইফন নামক যন্ত্র দিয়ে দুধ বের করে দেয়া যায়।
6: ৩-৫ বার ওলান প্রদাহে আক্রান্ত গাভীকে খামার থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।
7: দুধ দোহনের পর গাভীকে খাবার দিতে হবে। কেননা দুধ দোহনের পর হতে ২ ঘন্টা পর্যন্ত বাঁটের মুখ খোলা থাকে বিধায় অতি সহজে জীবাণু এ সময় বাঁটের মুখে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়।
8: ওলান শক্ত হয়ে গেলে কর্পুর গুড়ো করে সরিষার তেলের সাথে মিশিয়ে বাটে লাগাতে হবে ।
#চিকিৎসাঃ
ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শে নিন্মলিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যেতে পারেঃ-
1: Broad Spectrum Antibiotic Injecton
2: Long Acting Amoxycillin Injecton
3: Antihistaminic Injecton
4:Di-Clofenac Sodium Injecton
Copyright @ 2016
Department of Livestock Services
NO O4 ♦♦ #বাদলা রোগ (Black Quarter)♦♦
#প্রচলিত নামঃ কালো রোগ, বাদলা, জহরবাত, সুজওরা, কৃষ্ণাংগ রোগ।
#রোগের কারণঃ এক ধরনের গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা বাদলা রোগ হয়।
#রোগের বর্ণনাঃ এ রোগে আক্রান্ত হলে পশুর মাংস পেশীতে প্রদাহ হয়, গ্যাস প্রদাহ হয়, গ্যাসপূর্ণ স্ফীতি ঘটে এবং রক্তে বিষক্রিয়া দেখা দেয়। সাধারণতঃ ৬ মাস-২ বছর বয়সী হৃষ্টপুষ্ট বাছুর এ রোগে আক্রান্ত হলেও কখনও কখনও ১ মাস বয়স থেকেও এই রোগ দ্বারা পশু আক্রান্ত হতে দেখা যায়। নীচু ও জলাভূমি যুক্ত স্যাঁত স্যাঁতে স্থানে এ রোগের প্রকোপ বেশী দেখা যায়।
#রোগের লক্ষণ:
1: অতি তীব্র রোগের ক্ষেত্রে কোনরূপ লক্ষণ প্রকাশের পূর্বেই আক্রান্ত পশু মারা যায়।
2: প্রাথমিক অবস্থায় পশু নিস্তেজ হয়ে পড়ে, ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়, কোষ্ঠ-কাঠিন্যের ফলে পেট ফেঁপে যায়, অত্যধিক জ্বর (১০৫ ডিঃ ফাঃ-১০৭ ডিঃ ফাঃ) হয় এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় (প্রতি মিনিটে ১০০ বার এর বেশী।
3: সাধারণতঃ শরীরের অধিক মাংসপেশী যুক্ত স্থানে যেমনঃ পশুর কাঁধ, পিছনের পা, কোমড়ের অংশ এ রোগ দ্বারা অধিক আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত স্থান ফুলে যায়, ফোলা বাড়তে থাকে, আক্রান্ত স্থান গরম ও বেদনাদায়ক হয়।
ফোলা অংশে পঁচন শুরু হয় এবং চাপ দিলে পচ পচ শব্দ হয়। ফোলা স্থান অবশ হয়ে যায় এবং চাপ দিলে ব্যথা অনুভূত হয় না এবং অপেক্ষাকৃত কালো দেখায়।
4: খাওয়া ও জাবর কাটা বন্ধ হয়ে যায়।
ফোলা স্থান কাটলে টক গন্ধযুক্ত বাতাস ও ফেনাযুক্ত রস বের হয়।
5: ফোলা বাড়ার সাথে সাথে রোগ বাড়তে থাকে এবং এ রোগ ১-৪ দিন স্থায়ী হয়।
আক্রান্ত পশুর কোষ্ঠ কাঠিন্যের ফলে পেট ফাঁপা থাকে ও শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
#প্রতিরোধঃ
1: ৬ মাস থেকে ২ বছর বয়সী বাছুরকে প্রাণিসম্পদ অফিসের মাধ্যমে টিকা প্রদান করতে হবে।
2: আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে।
3: পশুর আবাসস্থল শুকনা ও পরিচ্ছন্ন হতে হবে।
4: মৃত পশুর দেহ মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
#চিকিৎসাঃ
ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শে নিন্মলিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যেতে পারেঃ-
1: Penicillin Injection অথবা
Ampicillin Injection
2: Antihistaminic Injection.
Copyright @ 2016
Department of Livestock Services
3 NO #গলাফুলা (Haemorrhagic Septicaemia)
#প্রচলিত নামঃ গলঘুট, গলবেরা, ব্যাংগা, ঘটু।
#রোগের কারণঃ পাস্ত্তরেলা মাল্টোসিডা নামক এক ধরনের গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া।
#রোগের বর্ণনাঃ গলাফুলা প্রধানত গরু ও মহিষের একটি অত্যন্ত সংক্রামক ও ছোঁয়াচে রোগ। বর্ষার শুরু ও শেষে এ রোগ হয়।
রোগের লক্ষণ
#তীব্র জ্বর ১০৫ ডিঃ ফাঃ থেকে ১০৭ ডিঃ ফাঃ
#গলা ফুলে থলথলে হয়ে যায়। হাত দিয়ে ফুলা স্থান স্পর্শ করলে গরম অনুভূত হয় এবং ফুলা ক্রমশ বুক পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
#শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয় ও শ্বাস ত্যাগের সময় শব্দ হয়।
#জিহবা ফুলে যায় এবং সময় সময় মুখ হাঁ করে জিহবা বের করে শ্বাস-প্রশ্বাস চালায়।
অনেক সময় কাশি হয় ও নাক মুখ দিয়ে সাদাটে শ্লেষ্মা পড়তে দেখা যায়।
#খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেয় ও পশু আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
শেষের দিকে পেটে ব্যথা হয় ও রক্ত মিশ্রিত পায়খানা করে।
#সাধারণতঃ লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আক্রান্ত পশু মারা যায়। কোন কোন সময় ৩-৬ দিন জীবিত থাকে।
মারা যাবার সাথে সাথে পেট খুব ফুলে উঠে এবং নাক ও মুখ দিয়ে তরল পদার্থ বের হতে থাকে।
#প্রতিরোধঃ
#সময়মতো নিকটস্থ প্রাণিসম্পদ অফিসের সাথে সাথে যোগাযোগ করে টিকা প্রদান করতে হবে।
#স্বাস্থ্যকর ব্যবস্থায় পশুকে লালন পালন করতে হবে।
#মড়কের সময় পশুর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
#আক্রান্ত পশুকে সুস্থ্য পশু থেকে দ্রুত আলাদা করে সুস্থ পশুকে টিকা প্রদান করতে হবে।
আক্রান্ত পশুকে পৃথক করে পশু চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
গলাফুলা রোগে মৃত পশুর মরদেহ ৮ ফুট মাটির নীচে পুঁতে রাখতে হবে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
#চিকিৎসাঃ
ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শে নিন্মলিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যেতে পারেঃ-
1.Gentamycin Injection.
2.Diclofenac Injection
3.Antihistaminic Injection.
Copyright @ 2016
Department of Livestock Services
2 NO # # #তড়কা বা এনথ্রাক্স (Anthrax)
SideMenu
#প্রচলিত নামঃ তড়কা, উবামড়কী, তীলাজ্বর, ধড়কা বা গলি।
#রোগের কারণঃ ব্যাসিলাস এনথ্রাসিস নামের এক প্রকার গ্রাম পজেটিভ ব্যাকটেরিয়া।
#রোগের লক্ষণঃ
তড়কা রোগে মৃত্যুহার অত্যধিক, অনেক ক্ষেত্রে লক্ষণ প্রকাশের অল্পক্ষনের মধ্যেই হঠাৎ করে মৃত্যু হতে পারে।
প্রচন্ড জ্বর হয়। জ্বরের ফলে কাঁপুনি দেখা যায় ও লোম খাড়া হয়ে যায়। তাপমাত্রা ১০৭ ডিঃ ফাঃ পর্যন্ত হতে পারে।
ক্ষুধামন্দা, পেটফাঁপা, পেটে ব্যথার কারণে লাথি মারে, রক্ত মিশ্রিত প্রস্রাব ও তরল পায়খানা হতে পারে। রোগের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে মল আলকাতরার মতো কালো ও শক্ত হয়ে যায়।
ঘাড়ের পিছনে চামড়ার নীচে তরল পদার্থ জমে ফুলে উঠে।
গর্ভবতী গাভীকে গর্ভপাত ও দুগ্ধবতী গাভীর দুধ উৎপাদন কমে যায়।
রোগের চূড়ান্ত পর্যায়ে পশু নিস্তেজ হয়ে পড়ে। শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, মাংস পেশীতে কাঁপুনি ও খিঁচুনী দেখা দেয়। লক্ষণ প্রকাশের ১-৩ দিনের মধ্যে আক্রান্ত পশু হঠাৎ পড়ে মারা যায় এবং নাক মুখ ও মলমূত্রের ছিদ্রপথ দিয়ে রক্ত বের হতে পারে।
প্রতিরোধঃ
তড়কা রোগের জীবাণু পরিবেশে অনেকদিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। স্যাঁতসেতে পরিবেশে এই জীবাণু বেশী বিস্তার লাভ করে। তাই এই রোগে মৃত পশু আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে হবে বা ৮ ফুট গভীর গর্তে পর্যাপ্ত কলিচুন সহযোগে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।
আক্রান্ত পশুর প্রাকৃতিক ছিদ্রপথ গুলি দিয়ে মৃত্যুর আগে বা পরে যাতে রক্ত বের হতে না পারে সেজন্য তুলা দিয়ে ছিদ্রপথ গুলি বন্ধ করে দিতে হবে। মাটিতে আক্রান্ত পশুর রক্ত পড়ে থাকলে রক্তশুদ্ধ মাটি পুড়িয়ে ফেলতে হবে অথবা গভীর গর্ত করে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।
এই রোগে আক্রান্ত মৃত পশু কাঁটা-ছেড়া করা উচিত নয়। ময়না তদন্ত করার প্রয়োজন হলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। মনে রাখতে হবে এনথ্রাক্স রোগের জীবাণু দ্বারা মানুষও আক্রান্ত হয়।
পশুজাত দ্রব্য অর্থাৎ মিট বা বোনমিল থেকেও জীবাণু ছড়াতে পারে বলে আক্রান্ত পশুর উপজাত থেকে মিট বা বোনমিল তৈরী করা উচিত নয়।
এই রোগে আক্রান্ত হলে আশেপাশের সমস্ত পশুকে সঙ্গে সঙ্গে পৃথক করা উচিত এবং আপাতঃ সুস্থ পশুকে এনথ্রাক্স রোগের টিকা প্রদান করা উচিত।
Spore সৃষ্টির পূর্বেই মৃত পশুর গোয়াল ঘরকে গরম পানিতে ১০% কাপড় কাঁচার সোডা দিয়ে ধুলে জীবাণুর মৃত্যু ঘটে।
চিকিৎসাঃ
ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শে নিন্মলিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যেতে পারেঃ-
1.Penicillin Injection
অথবা Gentamycin Injection ও Ampicillin Injection
2.Antihistaminic Injection.
Copyright @ 2016
Department of Livestock Services
1 no DISEASE=♦♦ক্ষুরা রোগ (FMD-Foot and Mouth Disease)♦♦
SideMenu
প্রচলিত নামঃ
ক্ষুর পাকা, তাপরোগ, খুরুয়া, এঁসো, বাতা, জ্বরা প্রভৃতি।ক্ষুরা রোগ দ্বি-বিভক্ত ক্ষুরা বিশিষ্ট গবাদি পশুর একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর মুখে এবং পায়ে ঘা হয় এবং দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায়।
রোগের কারণঃ এফথোভাইরাস গোত্রের ভাইরাস ক্ষুরা রোগের জন্য দায়ী। জীবাণুটির ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট হলো এর ৭টি ভিন্ন ধরণের টাইপ রয়েছে। যারা প্রতিনিয়ত বৈশিষ্ট পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন নতুন ষ্ট্রেইন তৈরী করে। তাই টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টসাধ্য।
লক্ষণঃ
Image not found Image not found
ক্ষুরা রোগের আক্রান্ত গবাদিপশুর দেহে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় (১০৪ F-১০৬ F), খাদ্য গ্রহণের অনীহা দেখা দেয় এবং শরীর অবশ হয়ে পড়ে। এ সময় মুখ মন্ডলরে অভ্যন্তরে প্রদাহ হয়। যার ফলে মুখের ভিতরে জিহ্বা, ঠোট, মাড়ি, তালু, স্তনের বাট এবং পায়ের ক্ষুরায় ঘা, ফোস্কা প্রভৃতি দেখা যায়। এ রোগে আক্রান্ত বাছুরের মৃত্যু হার খুবই বেশী।
মুখ দিয়ে প্রচুর পরিমাণে দীর্ঘ, দড়ির মত ঝুলানো লালা পড়ে।
মুখ ও পায়ের ফোস্কা গলে গিয়ে দগদগে ঘা এর মত দেখায়।
মুখের ও জিহ্বার ক্ষত ফেটে মুখ থেকে সাবানের ফেনার মত লালা বের হয়।
পায়ের ক্ষত ফেটে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে।
প্রতিরোধঃ
রোগ প্রতিরোধ অত্যন্ত জটিল। আক্রান্ত পশুকে আলাদা করে শুকনো স্থানে রাখতে হবে। রুগ্ন পশুর ব্যবহৃত জিনিসপত্র জীবাণুনাশক দিয়ে পরিস্কার করতে হবে। ক্ষুরা রোগে মৃত পশুকে ৬ফুট মাটির নীচে পূঁতে ফেলতে হবে। রোগ প্রতিরোধের জন্য নিকটস্থ প্রাণি হাসপাতাল থেকে ক্ষুরা রোগের প্রতিষেধক টিকা প্রদান করতে হবে।
চিকিৎসাঃ
ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শে নিন্মলিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যেতে পারেঃ-
পশুর মুখে ও পায়ে ঘা হলে হালকা গরম পানিতে ফিটকিরি গুড়ো করে ১ গ্রাম ১ লিটার পানিতে বা পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ১ গ্রাম/১০ লিটার পানিতে এর যেকোন একটি দ্বারা ক্ষতস্থান পরিস্কার করতে হবে। অতঃপর
1 Powder এবং Doxacycline Powder আক্রান্ত স্থান ভালভাবে জীবাণুনাশক দ্বারা ধুয়ে দিনে ২ বার নারিকলে তৈল এর সাথে মিশিয়ে পেষ্ট তৈরী করে লাগাতে হবে।
2 Injection
অথবা Ampicillin Injection
3 Injection
Copyright @ 2016
Department of Livestock Services
বাসস্থানের জন্য জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিম্ন লিখিত বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে:
> প্রচুর আলো বাতাস যুক্ত উঁচু স্থান গাভীর বাসস্থানের জন্য নির্বাচন করা উচিত ।
> গাভীর ঘর স্যাঁতস্যাঁতে ও জলাভূমিতে স্থাপন করা মোটেই সমীচীন নয় ।
> পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা যুক্ত স্থানে গাভীর বাসস্থান নির্মাণ করতে হবে।
> পানি, মলমূত্র ও আবর্জনা ইত্যাদি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা থাকতে হবে ।
> বাড়ির পাশে ঘাস উৎপাদনের জন্য উর্বর জমি থাকা ভাল এবং জমির পরিমাণ ফিডমাস্টার এর ঘাসের পরিকল্পনা থেকে নির্ণয় করা যায় ।
> বাসস্থান পাকা হতে হবে। এতে রোগবালাই কম হবে এবং ঘর পরিষ্কার করা সহজ হবে। ঘরের মেঝে খসখসে হতে হবে এবং ড্রেনের দিকে ক্রমশ ঢালু হতে হবে যেন পানি জমে না থাকে।
> ঘর সম্প্রসারণের সুযোগ থাকতে হবে, যাতে প্রয়োজন মাফিক সম্প্রসারণ করা যায় ।
> গাভীর খাবার ও থাকার জায়গা অপেক্ষাকৃত ঢালু হওয়া উচিত, যাতে পানি জমে কাঁদা না হতে পারে ।
প্রাণির বাসস্থান প্রধানত দুই ধরণের হয়ে থাকে। যথা: ১। উন্মুক্ত/উদাম ঘর এবং বাঁধা ঘর। বাঁধা ঘর আবার দুই ধরণের হয়ে থাকে। যথা: ১। এক সারি বিশিষ্ট বাঁধা ঘর এবং দুই সারি বিশিষ্ট বাঁধা ঘর। দুই সারি বিশিষ্ট বাঁধাঘর আবার দুই ধরণের হয়ে থাকে। যথা: ১। ভিতর মুখি ঘর/মুখোমুখি ঘর এবং ২। বাহির মুখি ঘর।
উন্মুক্ত বা উদাম ঘর:
উন্মুক্ত বা উদাম ঘরে পালিত গাভী ও বাছুরের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা
বাঁধা ঘর:
বর্তমানে লাভ জনক ভাবে গরু পালনের জন্য বাঁধা ঘরই উত্তম। চার থেকে পাঁচটি গাভীর জন্য একসারি বিশিষ্ট একচালা বাঁধাঘর প্রয়োজন। কিন্তু প্রাণি সংখ্যা দশটির বেশি হলে দুই সারি বিশিষ্ট দোচালা বিশিষ্ট বাঁধাঘর তৈরি করতে হবে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Culinary Team
Attire
Telephone
Website
Address
Dhaka