17/01/2017
যে ‘টেকনিক’ বদলে দিয়েছে কোহলিকে
ইংল্যান্ড সফরে ১০ ইনিংস ব্যাট করে রান করলেন ১৩৪। গড় ১৩.৪০। একটা ফিফটিও নেই! সেই তিনিই ঠিক পরের সিরিজে অস্ট্রেলিয়া সফরে ৮৬.৫০ গড়ে করলেন ৬৯২ রান। ৮ ইনিংসে চারটি সেঞ্চুরি, একটি ফিফটি! বিরাট কোহলি জানিয়েছেন, টেকনিকে ছোট পরিবর্তন এনেই এই বিরাট সাফল্য তিনি পেয়েছেন। আর সেই রহস্য অকপটে খোলাসাও করে দিলেন ভারত অধিনায়ক।
২০১২ সালের ইংল্যান্ড সফরে বেশ ভুগেছিলেন। দুই বছর পর আবারও যখন ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলতে গেল গেল ভারত, কোহলি মানসিকভাবে আগের সফর নিয়ে একটু বেশি দুশ্চিন্তায় ভুগেছেন। আর এটা তাঁকে আরও চাপে ফেলে দিয়েছিল। নাসের হুসেইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোহলি বলেছেন, ‘ইংল্যান্ডে যাওয়ার আগে (২০১৪) নিজের ওপর বেশি চাপ দিয়ে ফেলেছিলাম যে আমাকে ইংল্যান্ডে রান করতেই হবে। জানি না কেন আমাদের উপমহাদেশের খেলোয়াড়দের সামনে সব সময় শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় নির্দিষ্ট দেশগুলোতে পারফর্ম করলেই তবে আপনি ভালো খেলোয়াড়, না হলে নয়। আমি নিজেই অবশ্য ইংল্যান্ডে ভালো করার জন্য মরিয়া হয়ে গিয়েছিলাম। ফলে সেখানে শুরুতে ভালো করতে না পারলে মানসিকভাবে আপনি আরও নেতিয়ে পড়বেন।’
২০১২ সালের ইংল্যান্ড সফরে তবু গড় ছিল ৩১.৩৩। ২০১৪ সালে একদম ভরাডুবি হলো। ঠিক ৫ মাস পরের সিরিজে কোহলি দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন অস্ট্রেলিয়ায়। আর এই পরিবর্তনের পেছনে আছে নিজের ভুলটাকে আবিষ্কার করা, ‘টেকনিক অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেখবেন, টেকনিক ভালো নয় এমন অনেকেই ভালো করছে কেবল ইতিবাচক মানসিকতার কারণে। আমার সমস্যা যেটা ছিল, আমি ধরে নিয়েছিলাম ওরা বেশি ইনসুইংগার দেবে, ফলে আমার পেছনের দিকটা বেশি সামনে চলে এসেছিল। সব সময়ই ইনসুইংগারের অপেক্ষায় ছিলাম জন্যই আউটসুইং খেলার মতো অবস্থায় ছিল না আমার শরীর।’
কোহলি খুব ভালো করে নিজের ভুলটা বিশ্লেষণ করেছেন, ‘আমি মাঝের স্টাম্পে দাঁড়াই সাধারণত। ফলে আমি দেখলাম, আমার পায়ের পাতা পয়েন্টের দিকে না গিয়ে কাভার পয়েন্টের দিকে যাচ্ছে। আর আমার পেছনের দিকটা আরও বেশি উন্মুক্ত হচ্ছে। বলটা বেশি দেখতে চাওয়ার জন্যই এমনটা হচ্ছিল।’ আর এ কারণে অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ভুগছিলেন বারবার।
কোহলি নিজের মানসিকতা আর স্ট্যান্সের কিছু পরিবর্তন আনেন। তবে এই ছোট পরিবর্তন আনতেই অনেক খাটুনি যে খাটতে হয়েছে, তাও জানিয়ে দিলেন, ‘এখন এই পরিবর্তনটাকে মনে হচ্ছে সহজ। কিন্তু শুরুতে তা ছিল না। দিনে তিন ঘণ্টার মতো করে রোজ ব্যাটিং করেছি। সপ্তাহের শেষে আমার হাতের পেশিতে টান পড়ে যেত। তবু টানা দশ দিনের মতো এভাবেই ব্যাটিং করেছি। গলফে বলা হয়, একটা শট ৪০০-৫০০ বার মারলেই তবে সেটা ঠিক হয়। আমার জন্যও তাই এটা ছিল অনুশীলন আর অনুশীলন। নিজের মাথার ভেতরে সব ঠিক করে নিতে চেয়েছিলাম। আমি সামনে বাড়িয়ে খেলার বদলে বলের জন্য অপেক্ষা করে খেলতে অভ্যস্ত ছিলাম।’
সবাই সামনের কোহলির সাফল্যটাই দেখে, পেছনের কোহলির পরিশ্রম, নিজের সামান্য খুঁতগুলোকেও কাটিয়ে ওঠার অন্তহীন প্রচেষ্টাকে দেখে না।
15/01/2017
মুশফিক ব্যাট করবেন, ইমরুল পারবেন?
দ্বিতীয় ইনিংসে মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহরা যখন ব্যাট করছিলেন, ড্রেসিংরুমে প্যাড পরে বসেছিলেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের সমর্থকদের মনেও একটি স্বস্তির হাওয়া বয়ে যায় এতে। চতুর্থ দিনের খেলা শেষের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের মিডিয়া ম্যানেজারও দিয়েছেন সুখবর—মুশফিক ব্যাট করতে পারবেন। কিন্তু শঙ্কা আছে ইমরুল কায়েসকে নিয়ে। আহত (অবসর) হয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে চলে যাওয়া এই ওপেনার আবার ব্যাট করতে পারবেন? এর উত্তর জানতে আরও অপেক্ষাই করতে হচ্ছে।
চোটের কারণে উইকেটের পেছনে মুশফিক ছিলেন না। দুই দিনে ১৪৮.২ ওভার কিপিং করেছেন ইমরুল। বিকল্প উইকেটকিপার হিসেবে ইনিংসে ৫টি ক্যাচ নিয়ে বিশ্ব রেকর্ডও গড়েছেন। এরপর আবার ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নামেন। ট্রেন্ট বোল্টকে চার মেরে ইমরুল শুরুটাও ভালো করেছিলেন। উইকেটে মোটামুটি থিতুও গিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎই চোটের ধাক্কা। তামিমের সঙ্গে একটি রান শেষ করতে গিয়ে ডাইভ দিয়েছিলেন। এরপরই কাতরাতে থাকলেন মাটিতে শুয়ে। সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।
ইমরুলকে পরে যেতে হয় হাসপাতালে। সেখানে এক্স-রেও করানো হয়। তবে এক্স-রেতে কিছু ধরা পড়েনি। তবে বাঁ ঊরুতে ব্যথা ঠিকই টের পাচ্ছেন। পরে তাঁর আলট্রাসাউন্ড করানো হবে। এরপরই জানা যাবে চোট কতটা গুরুতর এবং আবার ব্যাটিংয়ে ফিরতে পারবেন কি না। ২৪ রানে ‘আহত অবসর’ ইমরুলের অপ্রত্যাশিত বিদায়ের পর ছোটখাটো একটা মড়কই লেগে যায় বাংলাদেশের ইনিংসে। প্রথম ইনিংসের ঠিক বিপরীত চিত্র তুলে ধরে মাত্র ১৬ রানের ব্যবধানে আউট তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ ও ‘নাইটওয়াচম্যান’ মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩ উইকেটে ৬৬ রান তুলে চতুর্থ দিন শেষ করা বাংলাদেশের লিড মাত্র ১২২ রানের। এই অবস্থায় ইমরুল ব্যাট করতে না পারাটা বড় এক সমস্যা হয়েই দেখা দিতে পারে বাংলাদেশের সামনে
11/01/2017
অধিনায়কত্বের শেষ দিনে ধোনিকে ভক্তের সেলাম
:মুম্বাইয়ের ব্র্যাবোর্ন স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার বিশেক দর্শক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে এমন অভ্যর্থনা দিল, যেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিই তাঁর শেষবারের মতো মাঠে নামা! ব্যাটিংয়ের সময় তো এক তরুণ নিরাপত্তা বেষ্টনী ডিঙিয়ে একেবারে উইকেটের ওপর এসে পদধূলি নিয়ে গেলেন তাঁর স্বপ্ন-তারকার।
কাল শেষ হয়েছে ধোনির অধিনায়কত্বের অধ্যায়। আর এ কারণেই প্রস্তুতি ম্যাচটাও হয়ে গেল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ! ভারতীয় দলে খেলোয়াড় হিসেবে আপাতত থাকছেন। তবে এখন থেকে ধোনির প্রতিটা যাত্রাই শেষের শুরু।
গতকালই ইংল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে ধোনি খেললেন বিধ্বংসী এক ইনিংস। মাত্র ৪০ বলে ৬০ রান করলেন ঝড়ের মতো ব্যাট চালিয়ে। ক্রিস ওকসের শেষ ওভারটিতে ২৩ রান নিতে যেভাবে ব্যাট ঘুরালেন, তাকে তো চোখরাঙানিই বলে। ওকসের শেষ ওভারে মেরেছেন দুটি চার ও দুটি ছয়।
ধোনির এমন ব্যাটিং সত্ত্বেও ম্যাচটা কিন্তু জিতেছে ইংল্যান্ডই। আম্বাতি রাইডুর সেঞ্চুরি (১০০) আর শিখর ধাওয়ানের ফিফটি (৬৩) যুক্ত হয়ে ভারত ‘এ’ দলের সংগ্রহটা দাঁড়িয়েছিল ৫ উইকেটে ৩০৪। সেটি ইংল্যান্ড টপকে গেছে স্যাম বিলিংসের ৯৩ রানের দারুণ এক ইনিংসে।
ম্যাচটা ভারত হেরেছে, তাতে বয়েই গেছে দর্শকদের। ‘ক্যাপ্টেন কুল’কে একটা যোগ্য সম্ভাষণ দিতে পেরেই যেন খুশি মুম্বাইয়ের দর্শকেরা। অধিনায়ক ধোনিকে যে আর কখনোই দেখবে না তারা। এর মধ্যে এক দর্শক নিরাপত্তাকর্মীদের চোখ এড়িয়ে ঢুকে পড়েন মাঠে। সোজা ধোনির পায়ে ছুঁয়ে সালামও করেন। দুটি বিশ্বকাপ জিতেছেন, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, এশিয়া কাপ। কিন্তু ভক্তদের এই ভালোবাসাই ধোনির আসল ‘ট্রফি’
11/01/2017
অধিনায়কত্বের শেষ দিনে ধোনিকে ভক্তের সেলাম
:মুম্বাইয়ের ব্র্যাবোর্ন স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার বিশেক দর্শক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে এমন অভ্যর্থনা দিল, যেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিই তাঁর শেষবারের মতো মাঠে নামা! ব্যাটিংয়ের সময় তো এক তরুণ নিরাপত্তা বেষ্টনী ডিঙিয়ে একেবারে উইকেটের ওপর এসে পদধূলি নিয়ে গেলেন তাঁর স্বপ্ন-তারকার।
কাল শেষ হয়েছে ধোনির অধিনায়কত্বের অধ্যায়। আর এ কারণেই প্রস্তুতি ম্যাচটাও হয়ে গেল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ! ভারতীয় দলে খেলোয়াড় হিসেবে আপাতত থাকছেন। তবে এখন থেকে ধোনির প্রতিটা যাত্রাই শেষের শুরু।
গতকালই ইংল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে ধোনি খেললেন বিধ্বংসী এক ইনিংস। মাত্র ৪০ বলে ৬০ রান করলেন ঝড়ের মতো ব্যাট চালিয়ে। ক্রিস ওকসের শেষ ওভারটিতে ২৩ রান নিতে যেভাবে ব্যাট ঘুরালেন, তাকে তো চোখরাঙানিই বলে। ওকসের শেষ ওভারে মেরেছেন দুটি চার ও দুটি ছয়।
ধোনির এমন ব্যাটিং সত্ত্বেও ম্যাচটা কিন্তু জিতেছে ইংল্যান্ডই। আম্বাতি রাইডুর সেঞ্চুরি (১০০) আর শিখর ধাওয়ানের ফিফটি (৬৩) যুক্ত হয়ে ভারত ‘এ’ দলের সংগ্রহটা দাঁড়িয়েছিল ৫ উইকেটে ৩০৪। সেটি ইংল্যান্ড টপকে গেছে স্যাম বিলিংসের ৯৩ রানের দারুণ এক ইনিংসে।
ম্যাচটা ভারত হেরেছে, তাতে বয়েই গেছে দর্শকদের। ‘ক্যাপ্টেন কুল’কে একটা যোগ্য সম্ভাষণ দিতে পেরেই যেন খুশি মুম্বাইয়ের দর্শকেরা। অধিনায়ক ধোনিকে যে আর কখনোই দেখবে না তারা। এর মধ্যে এক দর্শক নিরাপত্তাকর্মীদের চোখ এড়িয়ে ঢুকে পড়েন মাঠে। সোজা ধোনির পায়ে ছুঁয়ে সালামও করেন। দুটি বিশ্বকাপ জিতেছেন, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, এশিয়া কাপ। কিন্তু ভক্তদের এই ভালোবাসাই ধোনির আসল ‘ট্রফি’
10/01/2017
মেসিকে সেরা মনে করেন না রোনালদো, রোনালদোকেও মেসি!
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ফিফার বর্ষসেরা হওয়ার পথে যদি লিওনেল মেসির ভোট পেতেন, তাহলে কী দুর্দান্তই না হতো! সূচনা হতো নতুন এক ইতিহাসের, নতুন এক ধারার। কিন্তু বাস্তবে মেসি নিজের ভোটটা রোনালদোকে দেননি। রোনালদো যেমন ভোট দেননি প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী মেসিকে! এমনকি বছরের সেরা তিনজনের মধ্যেও দুজন দুজনকে রাখেননি!
ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কারে ভোট দেন ফিফার সব সদস্য দেশের জাতীয় দলের অধিনায়ক, কোচ ও একজন করে সাংবাদিক। প্রত্যেকেই ভোট দিয়েছেন তিনজন খেলোয়াড়কে। প্রথম পছন্দের খেলোয়াড় পেয়েছেন ৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয় পছন্দ ৩ পয়েন্ট ও তৃতীয় পছন্দ ১ পয়েন্ট। পর্তুগাল ও আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে এই পুরস্কারে ভোটাধিকার ছিল রোনালদো-মেসি দুজনেরই। এই দুজন কেউই একে অন্যকে ভোট দেননি।
রোনালদোর প্রথম পছন্দ ছিল গ্যারেথ বেল। মেসির আন্দ্রেস ইনিয়েন্তা। রিয়ালের ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার লুকা মডরিচ রোনালদোর দ্বিতীয় পছন্দ, তৃতীয় পছন্দ স্পেন ও রিয়াল মাদ্রিদের সার্জিও রামোস। ভোটে রোনালদোর কাছে ‘রিয়াল মাদ্রিদ’ পরিচয়টা মূল ব্যাপার হয়েই এসেছে। মেসিও একই পথে হেঁটেছেন। তাঁর কাছেও ‘বার্সেলোনা’ই শেষ কথা। আর্জেন্টাইন তারকার দ্বিতীয় পছন্দ লুইস সুয়ারেজ ও তৃতীয় পছন্দ নেইমার।
ডিসেম্বরেই ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর ব্যালন ডি’অর জেতা রোনালদো ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কার জিতে নিয়েছেন ৩৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে। মেসি কিন্তু খুব বেশি পিছিয়ে ছিলেন না। তিনি পেয়েছেন ২৬ দশমিক ৪২ শতাংশ ভোট। তাঁদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্সের আঁতোয়ান গ্রিজমান ছিলেন অনেক পিছিয়ে। তিনি ভোট পেয়েছেন মাত্র ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভোট।
08/01/2017
নিউজিল্যান্ড থেকে বয়ে এল দুঃসংবাদ।
:নিউজিল্যান্ড থেকে বয়ে এল দুঃসংবাদ। ক্যারিয়ারে আরও একবার ইনজুরির শিকার হলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ডান হাতের বুড়ো আঙুলের নিচের দিকে হাড়ে চিড় ধরা পড়েছে তাঁর। ছয় থেকে আট সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে বাংলাদেশ অধিনায়ককে। মাশরাফি অবশ্য টেস্ট দলে নেই। আর রঙিন পোশাকে এটাই ছিল সফরের শেষ ম্যাচ।
মাশরাফির পাশাপাশি ম্যাচে ইমরুল কায়েসের চোটের কথা জেনেছেন সবাই। ফিল্ডিংয়ের সময় ক্যাচ ধরার চেষ্টা করতে গিয়ে বাউন্ডারির পাশে বিজ্ঞাপনের হোর্ডিংয়ের ওপর পড়েন ইমরুল। হাঁটুতে ব্যথা পাওয়ায় আর ব্যাটিংয়েই নামেননি বাঁহাতি ওপেনার।
তবে শুধু এ দুজনই নয়, এখন জানা যাচ্ছে, ম্যাচে চোট পেয়েছেন তামিম ইকবালও। মাশরাফির বলেই কেন উইলিয়ামসনের যে ক্যাচটি মিস করেছিলেন, সেটি ধরতে গিয়েই চোট পান তামিম। ম্যাচের পর স্ক্যানও করা হয়েছে তাঁর। তবে তাতে গুরুতর কিছু ধরা পড়েনি।
এখন পর্যন্ত গুরুতর চোট বলতে মাশরাফির চোটের কথাই শোনা যাচ্ছে। ইনিংসের ১৮তম ওভারের দ্বিতীয় বল ছিল সেটি। মাশরাফির ফুল টসে সজোরে সোজা ব্যাট চালিয়েছিলেন কোরি অ্যান্ডারসন। ফলো থ্রুতে ঝাঁপিয়ে বলটি ঠেকানোর চেষ্টা করেন মাশরাফি। বল হাতের তালুতে লেগে ছিটকে যায়। তখনই ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন অধিনায়ক।
ফিজিও তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা দেওয়ার পর মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান মাশরাফি। ওভারের শেষ চারটি বলে করেছেন মোসাদ্দেক। ড্রেসিংরুমে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে বরফ লাগিয়ে বসে ছিলেন। ম্যাচ শেষে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্ক্যান করানোর পর ধরা পড়েছে এই চিড়।
বর্তমান সূচিতে আগামী মে মাসের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি নেই। আর মার্চের মধ্যে আবারও খেলায় ফেরার কথা মাশরাফির।
07/01/2017
কী হয়েছে মোস্তাফিজের?
:মোস্তাফিজুর রহমানের কী হয়েছে? প্রশ্নটা খোদ বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের। আর এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আজ রাতে তাঁর সঙ্গে সভায় বসবেন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে, প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন, ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
সিরিজের প্রথম দুটি ওয়ানডের পর তৃতীয় ওয়ানডেতে বিশ্রাম দেওয়া হয় মোস্তাফিজকে। টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুই ম্যাচ খেলার পর বিশ্রামে যেতে পারেন আবারও। পিঠে নাকি সামান্য ব্যথা অনুভব করছেন তিনি। সে কারণে নিজেই বিশ্রাম চাইছেন। সেটা হলে বে ওভালে কাল সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে মোস্তাফিজের জায়গায় দলে ঢুকবেন আরেক পেসার তাসকিন আহমেদ।
এর আগে জাতীয় দলের ফিজিও ডিন কনয়ের পরামর্শেই বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল মোস্তাফিজকে। কিন্তু যত দূর জানা গেছে, এবার ফিজির দিক থেকে সে রকম কোনো পরামর্শ নেই। মোস্তাফিজ নিজেই মানসিকভাবে একটু নুইয়ে পড়েছেন এবং সেটা উল্টো ফিজিওর কাছে অস্বাভাবিকই মনে হচ্ছে। দল সূত্রের তথ্য, ফিজিও ডিন কনয় বলেছেন, এই বয়সে মানসিকভাবে এতটা নুইয়ে পড়া বিস্ময়কর। তার ওপর মোস্তাফিজের এখন দৃশ্যমান কোনো শারীরিক সমস্যা নেই যে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতেও তিনি ইতস্তত করবেন। অনুশীলন থেকেও সরে থাকবেন দূরে। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির আগের দিন অনুশীলনে এলেও বল করেননি মোস্তাফিজ।
টি-টোয়েন্টি খেলতে না পারলে মোস্তাফিজের টেস্টও খেলতে পারার কথা নয়। ঝুঁকি এড়াতে তাই প্রথম টেস্টের দলে রাখা হয়নি তাঁকে। দ্বিতীয় টেস্টের দলে থাকবেন কি না, নিশ্চিত নয় সেটাও। আজ রাতের সভায় তাঁর সঙ্গে কথা বলে হয়তো সে ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবেন কোচ-নির্বাচকেরা।
04/01/2017
উত্তর খুঁজছেন মাশরাফিও
:ম্যাকলিন পার্কের গ্যালারি দেখার পর আর কোনো সন্দেহই থাকল না। কয়েক দিন ধরে যে ভাবনাটা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, সেটাই ঠিক। ক্রাইস্টচার্চ বা নেলসনের তুলনায় নেপিয়ারের মানুষ একটু বেশিই ক্রিকেট অনুরাগী।
ক্রাইস্টচার্চ, নেলসনেও মাঠে দর্শক ছিল। তবে নেপিয়ারের মতো নয়। ম্যাকলিন পার্কে মূল গ্যালারির প্রায় পুরোটাই ভরে উঠেছিল কাল প্রথম টি-টোয়েন্টির দিন। মাটির ঢিবির গ্যালারিতেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে খেলা দেখল অনেক দর্শক। নেপিয়ারে আসার পর থেকেই দেখা যাচ্ছে, এই শহরের মানুষের ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ প্রবল।
ক্রাইস্টচার্চ, নেলসনে এমন অনেককেই পাওয়া গেছে, যাঁরা তাঁদের শহরে ‘বাংলাদেশ’ নামে একটা ক্রিকেট দল খেলতে এসেছে, সেটাই জানতেন না। নেপিয়ারে উল্টো। ‘বাংলাদেশি’ বললে যে কেউ বুঝে ফেলছেন, এ লোক নিশ্চিত বাংলাদেশের ক্রিকেটের কেউ। মাশরাফি-সাকিব-তামিমদের তো সবাই দেখেই চিনে ফেলছেন। অনেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কাছে এসে ছবি তুলছেন, অটোগ্রাফও নিচ্ছেন।
কিন্তু বাংলাদেশ দল নিউজিল্যান্ডে আসার পর যেভাবে হেরে চলছে, তাতে এসব নেপিয়ারবাসীকে এখনই কোনো তৃপ্তি দিচ্ছে বলে মনে হয় না। একটু লড়াই, একটু জয়ের সম্ভাবনাও যাঁরা তৈরি করতে পারেন না; তাঁদের ছবি আর অটোগ্রাফ দেখিয়ে বন্ধুদের কী বলবেন নেপিয়ারের মানুষ?
ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর ম্যাকলিন পার্কে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও বাংলাদেশ শুরু করেছে হার দিয়ে। হারের কারণ হিসেবে অনেক বিষয়ই সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে। ব্যাটিং ব্যর্থতার কথা তো অবধারিতভাবেই আসবে। ব্যাটিং-বন্ধুতার দিক দিয়ে নিউজিল্যান্ডের সেরা এই মাঠেও কি না ১৪১ রানে আটকে গেছে বাংলাদেশের ইনিংস!
ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার সামনে হারের বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরলেন সাংবাদিকেরা। নিউজিল্যান্ডের পেসাররা গড়ে ১৪৫-১৪৬ কিমি গতিতে বল করে গেছেন। নিশ্চয়ই সেটাই সমস্যায় ফেলেছে ব্যাটসম্যানদের। নাকি ব্যাটসম্যানরা উইকেটে গিয়েই ধুমধাড়াক্কা মারতে গেছেন বলে এই পরিণতি। কন্ডিশনে সমস্যা হচ্ছে? অথবা বাউন্সারে?
মাশরাফি নিজেও সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। কিন্তু একের পর এক সব সম্ভাবনাকেই ‘নাকচ’ করে দিচ্ছেন তিনি। মাশরাফির মতে, গতি যে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য সমস্যা নয়, তা তো মাহমুদউল্লাহই প্রমাণ করে দিয়েছেন, ‘রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) খুব সুন্দর খেলেছে। জোরে বোলারদের ভালোভাবে খেলতে পেরেছে। ওয়ানডেতে রান পায়নি। তবু ওদের আক্রমণাত্মক বোলারদের সুন্দরভাবে সামলে খেলেছে।’ মাশরাফির চোখে সমস্যা ছিল না বাউন্সারেও, ‘উপমহাদেশ থেকে আসার পর কিছুদিন বাউন্সারে সমস্যা হওয়ার কথা। কিন্তু বাউন্সারে আমাদের কজন ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন? তা ছাড়া আমরা তো গ্রানাইটেও অনুশীলন করেছি। আমার মনে হয় না বাউন্সার কোনো সমস্যা করেছে।’
সমস্যা তাহলে কোথায়? কেন টি-টোয়েন্টিতেও সেই একই বাংলাদেশকে দেখছে নিউজিল্যান্ড? সমস্যা যেটা হয়েছে, তা হলো সৌম্য সরকার আর ইমরুল কায়েসের ক্যাচ মিসে। মাশরাফিও বারবার এ প্রসঙ্গই টেনে এনেছেন, ‘ওই দিকটা বড় বলে হয়তো সে পাঁচ-দশ গজ ওপরে ছিল। নির্দেশনা ছিল না। হয়তো চিন্তা করেছে পেছনে গিয়ে ম্যানেজ করতে, পারেনি। ইমরুল হয়তো ভুল বুঝেই এগিয়ে এসেছিল।’
মাঠের অশান্তি বাংলাদেশ দলকে ঘিরে ধরেছে মাঠের বাইরেও। দল নির্বাচন ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে বোর্ড প্রধানের সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য, ওয়ানডে থেকেই দলের কাঠামো নিয়ে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে সিনিয়র খেলোয়াড়দের মতের অমিল—সবকিছু মিলে দলের ভেতর অশান্তির লু হাওয়া। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির দল মাশরাফি-সাকিব মিলেই করেন, বিসিবির সভাপতির এমন মন্তব্যের জবাবে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ নেই খেলোয়াড়দের। তবে মাশরাফি যেন ইশারায় বোঝাতে চাইলেন, এই দায় তাঁর নয়, ‘ভূমিকা (দল নির্বাচনে) তো অবশ্যই থাকে। তবে এ নিয়ে বেশি কিছু বলার নেই।’
সিরিজের বাকি দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হবে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে। নেপিয়ার থেকে আজই সড়কপথে সেখানে চলে যাবে বাংলাদেশ দল। নেপিয়ারের মানুষদের শূন্য হাতে রেখে, ভবিষ্যতে আবার কখনো এই শহরে আসা হলে পুষিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে।
সংখ্যায় সংখ্যায় বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড (১ম টি–টোয়েন্টি)
৫০
বাংলাদেশের পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে ৫০টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেললেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।
১০০০
নিউজিল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে হাজার রান করা চতুর্থ ব্যাটসম্যান কেন উইলিয়ামসন। সব দেশ মিলিয়ে ৩৩তম। গতকালের অপরাজিত ৭৩, উইলিয়ামসনের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ইনিংস।
২৮
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ছক্কার মালিক এখন মাহমুদউল্লাহ। গতকালের ৩ ছক্কা নিয়ে মাহমুদউল্লাহ ছাড়িয়ে গেছেন সাকিব আল হাসান (২৭) ও তামিম ইকবালকে (২৭)।
৫২
মাহমুদউল্লাহর ৫২ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। ৫ ম্যাচে ১১৭ রান করে নাসির হোসেনকে ছাড়িয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রানও মাহমুদউল্লাহর।
৮১*
কেন উইলিয়ামসন ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের অবিচ্ছিন্ন ৮১ রান টি-টোয়েন্টিতে পঞ্চম উইকেটে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় জুটি। পঞ্চম উইকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষেও সর্বোচ্চ জুটি এটি।
২য়
অস্ট্রেলিয়ার মাইকেল কাসপ্রোভিচের পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম দুই বলেই উইকেট পেলেন নিউজিল্যান্ডের লকি ফার্গুসন।
04/01/2017
নারী ফুটবলে ইতিহাস গড়ার দিন আজ?
:শহরের শিবমন্দির সড়কের পাশেই হোটেল মোনার্ক। এখানেই উঠেছে সাফ টুর্নামেন্টে খেলতে আসা বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল। দুপুরের খাবারের জন্য নিজেদের রুম থেকে বের হচ্ছিল গোলরক্ষক সাবিনা, মিডফিল্ডার সানজিদা, স্ট্রাইকার স্বপ্নারা। বেশির ভাগ মেয়েরই চুলে বেণি। ডাইনিংয়ে ঢুকতেই যেন একেকজন হয়ে উঠল চঞ্চলা প্রজাপতি। কেউ গাজরের টুকরো মুখে নিয়ে কামড় বসাচ্ছে। কেউ মজার কোনো গল্প করছেন, অমনি একজন হেসে গড়িয়ে পড়ছে আরেকজনের গায়ে।
শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অনেক কঠিন। হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন ভারত। দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের পরাশক্তি। তবে শক্তিশালী ভারতের সামনে পড়েও বাংলাদেশের মেয়েরা নির্বিকার। নিরুদ্বেগ। ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে যে জুজুর ভয়টা থাকত, সেটি যে এবার একেবারেই উধাও!
ভারতকে কখনোই হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। এই প্রতিযোগিতার আগে ছয়টি সাক্ষাতে বাংলাদেশ কোনো প্রতিরোধের দেয়াল তুলতে পারেনি। হেরেছে সব ম্যাচ। ২০১০ কক্সবাজার সাফে ভারতের কাছে ৬-০ গোলের হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের। একই বছরে ঢাকায় এসএ গেমসে হার ৭-০ ব্যবধানে। পরের বছর অলিম্পিক বাছাই ও কলম্বো সাফে ভারত ৩-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশকে। এরপর ২০১৪ ইসলামাবাদ সাফ ফুটবলে ভারত জেতে ৫-১ ব্যবধানে। গত বছর এসএ গেমসে শিলংয়েও ভারতের জয়ের ব্যবধান ছিল একই। অথচ সেই ভারতের সঙ্গে এবারের সাফের গ্রুপ পর্বে গোলশূন্য ড্র করেছে বাংলাদেশ।
বদলে যাওয়া এই বাংলাদেশ দলের পেছনে রয়েছে বয়সভিত্তিক মেয়েদের সাফল্যের গল্প। এবারের জাতীয় দল গড়াই হয়েছে গত সেপ্টেম্বরে ঢাকায় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ আঞ্চলিক বাছাইয়ের চ্যাম্পিয়ন ১৫ ফুটবলারকে নিয়ে।
এই দল নিয়ে তাই যত ভয় ভারতের কোচ সাজিদ ইউসুফ দারের, ‘এমন বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে আমি কখনোই দেখিনি। যোগ্য দল হিসেবেই ওরা ফাইনালে উঠেছে। বাংলাদেশকে যথেষ্ট সমীহ করছি।’
টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের জালে একটি গোলও ঢোকেনি। এর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব গোলরক্ষক সাবিনা আক্তারের। গোলপোস্টের নিচে যেন অতন্দ্রপ্রহরী যশোরের এই মেয়ে।
গ্রুপ পর্বে ভারতের সঙ্গে দুর্দান্ত খেলেছিল সাবিনা। আজও কি তেমনই দেখা যাবে? প্রশ্নটা করতেই সাবিনার আত্মবিশ্বাসী উত্তর, ‘গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে যে সেভ গুলো করেছি, ওটা নিয়ে এখন আর ভাবছি না। ওটা এখন অতীত। এটা ফাইনাল, নতুন ম্যাচ। আগের সবকিছু ভুলে নতুন করে শুরু করব।’ টুর্নামেন্টে একাধিকবার পোস্ট আগলে রাখার পাশাপাশি জায়গা ছেড়ে বেরিয়ে ডিফেন্ডারদের মতো বল ক্লিয়ার করেছে।
প্রশংসার দাবি রাখে বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররাও। অনূর্ধ্ব-১৬ দলের এই মেয়েরা রক্ষণটাকে বানিয়ে রেখেছে ‘চীনের প্রাচীর’। কাল সংবাদ সম্মেলনে কোচ গোলাম রব্বানীর মুখেও ঝরল সেই প্রশংসা, ‘এখানে যে ছয়জন ডিফেন্ডার নিয়ে এসেছি, ওদের সবাই অনূর্ধ্ব-১৬ দলের। ওদের নিয়ে একটা শঙ্কা ছিল আমার মনে। কিন্তু এখানে ওরা আমার সেই শঙ্কাটা উড়িয়ে দিয়েছে।’
কোচকে আশার গান শোনাচ্ছে সাবিনা, কৃষ্ণা, স্বপ্নারা। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ১২টি গোল করা সাবিত্রা ভান্ডারির দল নেপালকে সেমিফাইনালে হারিয়েছে ভারত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা (৭ গোল) বাংলাদেশের সাবিনা খাতুন। সেমিফাইনালে হ্যাটট্রিক করে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে স্বপ্নাও। ভালো কিছু করার সামর্থ্য এই দলের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোচ, হল্যান্ড-ডেনমার্কপ্রবাসী ফুটবলার নিয়ে টুর্নামেন্টে আসা আফগানিস্তানকে গ্রুপ থেকে বিদায় করেছে বাংলাদেশ। ভারতে আসার আগে মালদ্বীপের মেয়েরা দুবাইয়ে ক্যাম্প করেছে, জাপানি কোচ তাদের দুই বছর ধরে অনুশীলন করিয়েছেন। কিন্তু সেই মালদ্বীপকেও সেমিফাইনালে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।
এই টুর্নামেন্টটা হতে পারে সাবিনা-স্বপ্নারও। বাংলাদেশের এ পর্যন্ত করা ১২টি গোলের ১১টিই এই দুজনের। দুজনই করেছেন হ্যাটট্রিক। আজ সন্ধ্যায়ও এই জুটি জ্বলে উঠলে ১৪ বছর পর হয়তো সাফের ট্রফি আবারও আসতে পারে বাংলাদেশে।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ : সাবিনা আক্তার, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার, নার্গিস খাতুন, মাসুরা পারভীন, মাইনু মারমা, জাহান মৌসুমি, সিরাত জাহান স্বপ্না, সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার, মারিয়া মান্দা।
03/01/2017
স্বপ্নার হ্যাটট্রিকে স্বপ্নের ফাইনাল
এমন রাত খুব কমই এসেছে বাংলাদেশের ফুটবলে। স্বপ্নের রাত! আর এটিকে স্বপ্নাতুর করে রাখলেন সিরাত জাহান স্বপ্না। রংপুরের এই কিশোরীর হ্যাটট্রিকে প্রথমবারের মতো মেয়েদের সাফের ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ।
কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের আলোয় তখন আনন্দের ফল্গুধারা। ম্যাচ শেষে বাঁধভাঙা উল্লাসে মাতল বাংলাদেশের মেয়েরা। এ উল্লাস স্বপ্নছোঁয়ার। এ আনন্দ ইতিহাস গড়ার। শিলিগুড়িতে মেয়েদের সাফের সেমিফাইনালে মালদ্বীপকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে ইতিহাসেরই অংশ হলেন সাবিনা খাতুনরা। আগামীকালের ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত।
মেয়েদের সাফে গত তিন আসরে দুবার সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল বাংলাদেশ। ছেলেদের সাফেও ২০০৩ সালের পর থেকেই শিরোপা-খরা। পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে সেই ২০০৫ সালের পর আবারও সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের এমন দাপুটে জয় এসেছে সিরাত জাহান স্বপ্নার হ্যাটট্রিকে। অন্য দুটি গোল সাবিনা খাতুনের। একটি গোল করেছেন নার্গিস খাতুন।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে বাংলাদেশ। সেই আত্মবিশ্বাসই জ্বালানি জুগিয়েছে মেয়েদের মনে। তা ছাড়া সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ বলেই আশায় বুক বেঁধে খেলতে নামে বাংলাদেশের মেয়েরা। এর আগে সাফে মালদ্বীপের সঙ্গে একবারই মুখোমুখি হয়ে জিতেছে বাংলাদেশ। দুই বছর আগে পাকিস্তান সাফে সেই জয়টাও ছিল বড়, ৩-১ গোলের। এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতার সাফল্যগুলোও ছিল আত্মবিশ্বাস-জাগানিয়া। এই দলে মাত্র পাঁচজন সিনিয়র, বাকি সবাই অনূর্ধ্ব-১৬ দলের। সব মিলিয়েই আজকের এই দুর্দান্ত জয়।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য গোল খেয়েই বসতে পারত বাংলাদেশ। চার মিনিটে মালদ্বীপ মিডফিল্ডার মারিয়া হঠাৎই বক্সে ঢুকে পড়েন। কিন্তু অসাধারণ দক্ষতায় বলটি ধরে ফেলেন গোলরক্ষক সাবিনা আক্তার। ওই একবারই মালদ্বীপ যা একটু সুযোগ পেয়েছে। এরপর সময় যতই গড়িয়েছে বাংলাদেশের আক্রমণের তোড়ে দিশেহারা হয়েছে মালদ্বীপ দল। ম্যাচের ১১ মিনিটে স্বপ্নার গোলে প্রথমে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বক্সের সামান্য বাইরে থেকে কোনাকুনি শটে স্বপ্না বল জড়ান জালে। ২২ মিনিটে সাবিনা খাতুনের পাস থেকে স্বপ্নারই প্লেসিং স্কোরলাইন হয় ২-০।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ ছিল আরও আক্রমণাত্মক। ৪৭ মিনিটে স্বপ্নার ক্রস থেকে সাবিনা খাতুন করেন ৩-০। ৫২ মিনিটে ম্যাচের চতুর্থ গোলটি করেছেন নার্গিস। ৫৬ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন স্বপ্না। এটি ছিল বাংলাদেশের পঞ্চম গোল। ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে বাংলাদেশের ষষ্ঠ গোলটি করেন সাবিনা। বাকি সময় যেন আরও খোলসে ঢুকে যায় মালদ্বীপ। বাংলাদেশের সামনে শেষ পর্যন্ত তারা ছিল অসহায়।
ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন ভীষণ উচ্ছ্বসিত, ‘আমার মনের ভেতরে একটা সুপ্ত বাসনা ছিল সাফে খেলব আমরা। সাফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। ওনার হাত থেকে ট্রফি নিতে চাই আমি, সেই স্বপ্নের এক সিঁড়িতে পা দিলাম। এই জয়ের পুরো কৃতিত্ব দিতে চাই মেয়েদের। আমার পরিকল্পনা ছিল আজ আমরা অলআউট খেলব। প্রথমে গোল পেয়ে একটু নির্ভার হয়ে পড়েছিল সবাই। তবে সবাই তাদের শতভাগ দিয়েই খেলেছে।’
হ্যাটট্রিক-নায়িকা স্বপ্নার মুখেও চিকচিক করছিল আনন্দ, ‘এত দিন শুধু অন্যকে দিয়ে গোল করাতাম। আজ ক্যারিয়ারে প্রথম হ্যাটট্রিক করলাম। দেশের হয়ে হ্যাটট্রিক করলাম, এই আনন্দ বলে বোঝানো যাবে না।’
বাংলাদেশ দল: সাবিনা আক্তার, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার, নার্গিস খাতুন, মাসুরা পারভীন, মাইনু মারমা (সানজিদা), জাহানারা মৌসুমী, সিরাত জাহান স্বপ্না (আনুচিং), সাবিনা খাতুন, মারিয়া মান্দা, কৃষ্ণা (মার্জিয়া)।
03/01/2017
ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিয়ে খুব বড় প্রত্যাশা
এর আগেও তিনবার নিউজিল্যান্ডে এসেছেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু এবারই সফরে ভালো করার সবচেয়ে ভালো সুযোগটা নাকি এসেছিল বাংলাদেশের জন্য। আবহাওয়া, উইকেটের চরিত্র—সবকিছুই ছিল বাংলাদেশের ভালো ফলের সহায়ক। কিন্তু সে সুযোগটা বাংলাদেশ হেলায় হারিয়েছে বলেই বিশ্বাস দলের সহ–অধিনায়কের। সুযোগ হাতছাড়া করার ব্যাপারটিই তাঁকে সবচেয়ে বেশি পীড়িত করছে, ‘আমাদের জন্য এবার খুব বড় সুযোগ ছিল। উইকেটগুলো খুব ভালো ছিল। বড় সুযোগ হারিয়েছি আমরা।’
ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিয়ে খুব বড় প্রত্যাশার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। তবে সাকিবের বিশ্বাস, ভালো করার সামর্থ্য বাংলাদেশ দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই আছে, ‘ওয়ানডে সিরিজের হতাশার মধ্যেও আমাদের ইতিবাচক দিকটা নিতে হবে। আমরা জানি আমাদের জেতার ক্ষমতা আছে। এই বিশ্বাস আমাদের অনেক সাহায্যই করবে।’
ওয়ানডে সিরিজে সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে সাকিবের ভূমিকা নিয়ে একটু প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়েও। সাকিব কেন ওয়ানডে ম্যাচগুলোয় আরও একটু দায়িত্ব নিয়ে খেললেন না—এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে অনেক ক্রিকেটপ্রেমীর মনেই। সাকিব অবশ্য ব্যাপারটাকে এভাবে দেখেন না। তাঁর মতে, দলের ১১ জন খেলোয়াড়ের সবারই দায়িত্ব আছে, ‘যদি এভাবে ভাবা হয় যে সিনিয়ররাই সব করবে, তাহলে তো আপনাকে পাঁচটা খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে হবে। খেলোয়াড় তো ১১ জন। ছয়জন জুনিয়র খেলোয়াড় যখন খেলবে, তখন তাদেরও কাজ আছে।’
জুনিয়র কিংবা নতুন খেলোয়াড়দের প্রতি সাকিবের বিশ্বাস আছে, ‘আমার কাছে সিনিয়র-জুনিয়র ব্যাপারটা খুব সঠিক মনে হয় না। সবারই দায়িত্ব আছে। কেউ নতুন আসছে দেখে যে ভালো করতে পারবে না—এমনটা আমরা বিশ্বাস করি না। নতুনদের ভালো কিছু করার ক্ষমতা আছে বলেই সে দলে এসেছে।’
ওয়ানডে সিরিজের দুই ম্যাচে মুশফিকুর রহিমের অনুপস্থিতি বেশ ভালোভাবেই টের পেয়েছে বাংলাদেশ। ‘সিনিয়র-জুনিয়র’ পার্থক্য নিয়ে মাথা না ঘামালেও সাকিব অবশ্য মনে করেন, মুশফিক এখনো দলে বিকল্পহীনই, ‘মুশফিক ভাই ১০ বছর ধরে বাংলাদেশ দলে খেলছে। দলে তার আলাদা একটা জায়গা হয়ে গেছে। তার প্রতি দলের প্রতিটি সদস্যের আলাদা একটা বিশ্বাসও আছে। স্বাভাবিকভাবেই নতুন যত ভালো খেলোয়াড়ই আসুক, সে বিশ্বাসটা আদায় করে নেওয়া তার জন্য কঠিনই। তবে আমি বিশ্বাস করি, দলে যে-ই আসুক, নিজেরা নিজেদের কাজটা ঠিকমতো করতে পারলে আমরা ম্যাচ জিততে পারি।’
নিজেদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস আছে বলেই টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যই সাকিবের। মাঠগুলো ছোট হওয়ায় প্রতিটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অনেক রান হবে বলেই বিশ্বাস তাঁর। কিন্তু ওয়ানডে তিনটিতে বাজে ব্যাটিং প্রদর্শনীর পর টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো কি কঠিন হবে বাংলাদেশের জন্য? সাকিব অবশ্য বিশ্বাস রাখছেন নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্যে, ‘আমাদের আসলে ব্যাটিংয়ে খুব ফায়ার পাওয়ারের দরকার নেই। দরকার সুযোগ মতো বড় ইনিংস খেলা। নিউজিল্যান্ডের মাঠ ছোট, আমাদের যে শক্তি আছে, তা দিয়ে খুব সহজেই বাউন্ডারি মারা যাবে।