29/09/2026
কুলিয়ারচরে ডেঙ্গুর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত
৯ মাসে শিয়াল-কুকুর-বিড়ালের কামড়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩০৭ জন, ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৬
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ডেঙ্গুর তুলনায় শিয়াল, কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেওয়া মানুষের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩০৭ জন। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৬ জন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই নতুন করে ৩৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) একদিনে ছয়জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। একই মাসে শিয়াল, কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৪ জন।
তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ পরিসংখ্যানে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওয়া রোগীরা অন্তর্ভুক্ত নন। ফলে প্রাণীর কামড়ে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুলিয়ারচরের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বেওয়ারিশ কুকুরের পাশাপাশি শেয়ালের বিচরণও বেড়েছে। আগে সাধারণত লোকালয় থেকে দূরে বা রাতে শেয়ালের দেখা মিললেও বর্তমানে দিনের বিভিন্ন সময়ও বসতবাড়ি, সড়ক ও পাড়া-মহল্লার আশপাশে শেয়াল ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে।
এর আগে গত ২৬ জুলাই একদিনে শেয়ালের কামড়ে নয়জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। একই দিনে বিড়ালের কামড়ে চিকিৎসা নেন আরও তিনজন। এ ঘটনার পর লোকালয়ে শেয়ালের বিচরণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেওয়ারিশ প্রাণীর সংখ্যা ও বিচরণ বাড়ায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রাণীর কামড়ের পর চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি লোকালয়ে এসব প্রাণীর বিচরণ বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
এদিকে কুলিয়ারচরসহ বিভিন্ন এলাকায় পোষা বিড়াল পালনের প্রবণতাও বাড়ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা পোষা বিড়ালকে নিয়মিত জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আদনান আখতার বলেন, ‘ইদানীং অনেকেই শখ করে বিড়াল পালন করছেন। পোষা বিড়ালকে অবশ্যই জলাতঙ্কের টিকা দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কুকুর, শিয়াল, বিড়ালসহ জলাতঙ্কের ঝুঁকিপূর্ণ কোনো প্রাণী কামড়ালে ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ৩০ মিনিট ধুয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হবে। কামড় বা আঁচড়কে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়।’
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। দিবসটি সামনে রেখে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জলাতঙ্কের ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ জরুরি।
স্থানীয়দের মতে, কুলিয়ারচরে বেওয়ারিশ প্রাণীর বিচরণ নিয়ন্ত্রণে পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে লোকালয়ে শেয়ালের উপস্থিতির কারণ অনুসন্ধান এবং বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নয় মাসের হিসাব অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৬ জনের বিপরীতে শিয়াল, কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩০৭ জন। বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রের রোগীদের হিসাব যুক্ত হলে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিষয়টি কুলিয়ারচরে জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তা—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি রাখে।