ABOL TABOL

ABOL TABOL

Share

সব আবল তাবোল

10/06/2024

❇️❇️❇️

23/04/2020

আম গাছে আম নেই ঢিল কেনো মারো! তোমার সাথে কথা নেই চোখ কেনো মারো! রাজার যেমন রাজ্য আছে.......

গরম গরম কফি খাচ্ছিলাম এমন সময় বরের মুখে রিপন ভিডিওর গান শুনে মুখ থেকে অর্ধেক গরম কফি পরে গেলো।

কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,হঠাৎ এই গান গাচ্ছো কেনো! তুমি না রিপন ভিডিওর হেটার্স!

সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,আমাকে বিয়ে দাও।

আরেক চুমুক কফি মুখে দেয়ার আগেই তার কথা শুনে আমার হাত থেকে কফির কাপ পরে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো।

অবাক হয়ে বললাম, কি বলতেছো! বিয়ে দিবো মানে!

সে কাঁদো কাঁদো মুখ করে আবার বলল,বিয়ে দাও আমকে...বিয়ে দাও.....

শাড়ীর আঁচল কোমরে গুজে বললাম,লেট মি ক্লিয়ার।বিয়ে দিবো মানে কি! ঘরে একটা বউ থাকতে আবার বিয়ে করার সাধ জাগে কেমনে তোমার!!ভীমরতিতে পাইছে?

এর মধ্যেই আবার সে মুচকি মুচকি হাসি দিয়ে বলা শুরু করলো,সুন মেরি শেহজাদি মে হু তেরা শেহজাদা....

ব্যাপার কি তোমার! একটু আগে বিয়ে দাও বিয়ে দাও বলে চিল্লাচ্ছিলে এর ভেতরেই আবার রোমান্টিক গান গাওয়া শুরু করে দিলা! শরীর টরীর খারাপ হয়নি তো তোমার?

কপালে হাত দিলাম জ্বর টর আসছে কিনা দেখার জন্য।

সে আমার হাত ছিটকে দিয়ে বলল,আম গাছ জাম গাছ কাঁঠাল গাছ লিচু গাছ...আজকালকার মেয়েরা বেশিরভাগ চিটিংবাজ চিটিংবাজ চিটিংবাজ চিটিংবাজ।

প্রচন্ড রাগি স্বরে একটা ধমক দিয়ে বললাম,কি হইছে তোমার এমন অদ্ভুত আচরণ করতেছো কেনো!

রান্নাঘর থেকে চামেলি বুয়া এসে বলল,ভাবি ভাইজান তো মনে হয় টিকটক করতাছে।বেশি বেশি টিকটক করলে নাকি মানুষ প্রতিবন্ধী হইয়া যায় ভাবি।আহারে বেচারা ভাইজানের কোয়ারেন্টাইনে থাইকা এই হাল হইলো!আমি দেখছিলাম টিকটিকে এমন অনেক ভিডিও আছে।দেখবেন ভাবি?

রাগি চোখে চামেলির দিকে তাকিয়ে বললাম,তুমি রান্নাঘরে যাও আমি তোমার ভাইজানের টিকটক করা বের করছি।

এক মগ পানি নিয়ে বরের মুখে ছুড়ে দিয়ে বললাম,প্রতিবন্ধীদের মতো এসব রং তামাশা বন্ধ করবা নাকি আমি বাপের বাড়ি চলে যাবো?

সে অট্টহাসি দিয়ে বলল,যাও যাও রাস্তায় তোমার ভাইয়েরা সব দাঁড়ায় আছে।গেলেই উত্তম মাধ্যম দিয়ে দেবে।

সারাক্ষণ বলতাম অফিসের কাজে সময় দিতে পারে না। বাসায় থাকলে কতো ভালো হতো।কিন্তু এখন তো শুধু একটা কথাই মনে হচ্ছে___
বন্যেরা বনে সুন্দর আর বরেরা অফিসে।

11/03/2020

করোনা ভাইরেসের মৃত্যুর হার অন্যান্য মহামারি থেকে অনেক কম। তাছাড়া যাদের মৃত্যু হচ্ছে তাদের বয়স ও ৫৫ বছর+ অথবা অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত। সুতরাং বেশি ভয় কিংবা আতংকিত না হয়ে সাবধানতা অবলম্বন করুন।

সাবধানতা :

১। সাবান/ডেটল দিয়ে ঘন ঘন হাত পরিষ্কার করুন।
২। এলকোহলযুক্ত স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন।
৩। হাচিঁ কাশির সময় টিস্যু দিয়ে মুখ ও নাক ঢেকে রাখুন।
৪। অপরিষ্কার হাত দিয়ে নাক, মুখ, চোখ স্পর্শ করবেন না।
৫। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যাক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন।
৬।আক্রান্ত ব্যাক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।
৭। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া হাসপাতাল এ রোগী দেখতে কিংবা ঘুরতে যাবেন না।
৮।বাইরে বের হওয়ার সময় সার্জিকাল কিংবা N-95 মাস্ক ব্যাবহার করুন
৯। পশু পাখি থেকে দূরত্ব বজায় রাখায় শ্রেয়।
১০।খাবার যথেষ্ট সিদ্ধ করে খাবেন।
১১। জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট হলে সাথে সাথে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন কিংবা আইইডিসিআর এর হটলাইনে যোগাযোগ করুন।

পরিশেষে আবার ও বলছি। আতংকিত না হয়ে সচেতন হন।

আল্লাহ সবাইকে হেফাজক করুক।

18/08/2019

ওর ঈগলের ঠোঁটের মতো বাঁকানো বড়বড় নখ আঁচড়ে দিচ্ছে স্নিগ্ধার অর্ধনগ্ন শরীর। বারবার চিৎকার করছে স্নিগ্ধা। "ভাইয়া, বাঁচাও আমাকে। আমাকে বাঁচাও।"
কিন্তু আমি কিছু করতে পারছি না। চোখের সামনে একমাত্র আদরের বোনকে এভাবে কষ্ট পেতে মরে যেতে দেখেও আমি কিছু করতে পারছি না। কিছু করার শক্তি নেই আমার শরীরে। হাত পা নড়াতে পারছি না আমি। অদৃশ্য কোনো শক্তি যেন আমার হাত পা শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে।
এদিকে মরণ চিৎকার করেই যাচ্ছে স্নিগ্ধা। সেটা দেখে যেন এক পৈশাচিক আনন্দ পাচ্ছে লামিয়া। হাসছে সে। পৈশাচিক হাসি। বারবার আঁচড়ে দিচ্ছে স্নিগ্ধার কোমল শরীর। ওর তাজা রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেঝে। মাঝেমাঝেই ওর ক্ষত থেকে কুকুরের মতো জিহ্বা বের করে চেটে চেটে রক্ত খাচ্ছে লামিয়া। এ এক নারকীয় দৃশ্য। দেখতে ইচ্ছে করছে না আমার। কিন্তু দেখতে যে হবে আমাকে। কারণ চোখের পাতা বন্ধ করার ক্ষমতাও যে নেই আমার। কানে বাজছে স্নিগ্ধার মরণ চিৎকার আর লামিয়ার পৈশাচিক হাসি। চোখের সামনে ভেসে আসছে একমাস আগের এক বৃষ্টিস্নাত রাত। আজকে রাতের এই নারকীয় বীজ লুকিয়ে ছিলো সেখানে। আমি বুঝতে পারিনি। বুঝতে পারেনি আমার মা কিংবা পনেরো বছর বয়েসী বোন স্নিগ্ধা। তার খেসারত দিতে হচ্ছে আজ। সবকিছু প্রথম থেকে ভেসে উঠলো আমার চোখের সামনে।
পেশায় আমি একজন ডাক্তার। চাকরিসূত্রে ঢাকার বাইরে থাকতে হয় আমাকে। বাবা নেই। মরেছে বেশ কয়েকবছর আগে। মা আর ছোটবোন ঢাকাতেই থাকে। ছুটি পেলেই চলে যাই ঢাকাতে। কিন্তু সেই ছুটিটা সহজে মেলে না। যখন মেলে তখন সেটার সদ্ব্যবহার করতে ভুল করি না। তেমনি সেদিন কাজ শেষ করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। আমি চাইলেই সকালে রওয়ানা দিতে পারতাম। কিন্তু ছুটি মাত্র তিন দিনের। সকালে রওয়ানা দিলে ঢাকায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে দিনের অর্ধেকটাই শেষ হয়ে যাবে। তারউপর যদি জ্যামে পড়ি, তাহলে তো কথাই নেই। সিদ্ধান্ত নিলাম রাতেই রওয়ানা দিব। কিন্তু বাধ সাধলো বৃষ্টি। সন্ধ্যা থেকেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। তোয়াক্কা করলাম না। নিজের গাড়ি আছে। তাছাড়া এমন আবহাওয়ায় রাতের দিকে রাস্তা ফাঁকাই থাকবে। সেক্ষেত্রে আমার আরও সুবিধেই হবে। যেই ভাবে সেই কাজ। সন্ধ্যা সাতটার দিকেই মার্সিডিজটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। খুলনা-ঢাকা হাইওয়ে ধরে ছুটতে লাগলাম।
যা ভেবেছিলাম। হাইওয়েটা বলতে গেলে একেবারেই ফাঁকা। মাঝেমাঝে দুয়েকটা দূরপাল্লার বাস আর ট্রাক তীব্র গতিতে চলে যাচ্ছে। ফাঁকা রাস্তা পেয়ে আমিও গাড়ির গতি বাড়ালাম। মাঝেমধ্যে তো স্পিড একশো ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে চলতে এই নির্জন রাস্তার পাশে হেডলাইটের আলোয় কিছু একটা দেখতে পেলাম। গাড়ির গতি কমিয়ে দিলাম। উইন্ডস্ক্রীনের মধ্যে দিয়ে ভালো করে সেদিকে তাকালাম। একটা মেয়ে। একা দাঁড়িয়ে আছে। ট্রাডিশনাল ভূতের গল্পের মতো মেয়েটার পরনে সাদা ধবধবে কিংবা লাল টুকটুকে বিয়ের শাড়ি নেই। তার বদলে রয়েছে কটকটে হলুদ রঙের একটা কামিজ। ওড়না আর স্যালোয়ারের রঙ সাদাটে। ভিজে গেছে সেগুলো। হেডলাইটের লালছে আলোয় কামিজটাজে কমলা দেখাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে, মেয়েটা কারোর জন্য যেন অপেক্ষা করছে।
মেয়েটা ভূত হোক আর যাই হোক তাকে ঘাটানোর ইচ্ছে আমার হলো না। গাড়ির গতি কিছুটা বাড়িয়ে মেয়েটাকে পাশ কাটাতে গিয়ে মনের ভেতরটা যেন কেমন করে উঠলো। মনে হলো, এরকম পরিস্থিতিতে মেয়েটাকে ফেলে যাওয়া ঠিক হচ্ছে না। মেয়েটা নিশ্চয়ই বিপদে পড়েছে। তাছাড়া আমি তো ডাক্তার। আর ডাক্তারের কাজই হলো মানুষের সেবা করা। সুতরাং মেয়েটাকে এভাবে এখানে ফেলে রাখা যাবে না। তার কি হয়েছে সেটা দেখতে হবে।
হঠাৎ ব্রেক কষে গাড়ি থামিয়ে দিলাম। ততক্ষণে মেয়েটাকে ছাড়িয়ে বেশ খানিকটা দূরে চলে গিয়েছিলাম। ব্যাক গিয়ারে দিয়ে আবার মেয়েটার কাছে ফিরে এলাম। মেয়েটা তখনও ঠাই দাঁড়িয়ে আছে। পাশের জানালার কাচ নামিয়ে আমি তার দিকে তাকালাম। হেডলাইটের কিছুটা আলো তার মুখের উপর গিয়ে পড়েছে। তাতেই দেখতে পেলাম মেয়েটার মুখ। সুন্দরীই বলা চলে। বয়স আন্দাজ করতে পারলাম না। তবে বাইশের বেশি না। আবার আঠারোর কমও না। বৃষ্টিতে ভিজে ঠাণ্ডাতে হালকা কাপছে। আমি মুখ বের করে দিয়ে বললাম, "কি ব্যাপার? এত রাতে এখানে দাঁড়িয়ে ভিজছেন কেন? বাড়িতে থেকেও তো ভিজতে পারতেন।"
মেয়েটা কোনো জবাব দিলো না।
আমি আবার বললাম, "কথা বলছেন না কেন? বোবা নাকি?"
আমাকে অবাক করে দিয়ে মেয়েটা হঠাৎ বলে উঠলো, "আমাকে সাহায্য করুন প্লিজ। ওরা আমাকে বেঁচে দিবে।"
ভ্রু কুঁচকে গেল আমার। কি বলে মেয়েটা? কে ওকে বেঁচে দিবে? প্রশ্নটা করলাম তাকে, "কে আপনাকে বেঁচে দিবে?"
মেয়েটা কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল, "আ-আমার মামি।"
আমি আর কিছু বললাম না। এক মুহুর্ত চুপ করে থেকে বললাম, "গাড়িতে উঠুন।"
মেয়েটা কিন্তু উঠলো না। আগের মতই ঠাই দাঁড়িয়ে থাকলো।
মেয়েটা উঠছেনা দেখে আমি বললাম, "আরে কি আশ্চর্য! এইমাত্র না আপনাকে সাহায্য করতে বললেন, কিন্তু এখন গাড়িতে উঠছেন না কেন? না মানে...গাড়িতে না উঠিয়ে তো আপনাকে আমি কোন প্রকার সাহায্য করতে পারবো না।"
মেয়েটা একমুহূর্ত চুপ থেকে আমার পাশে উঠে বসলো। আমি ডানপাশ থেকে তোয়ালেটা দিয়ে বললাম, "নিন, মুছে ফেলুন। নাহলে জ্বর হবে।"
কোনো কথা না বলে মেয়েটা আমার হাত থেকে তোয়ালেটা নিয়ে হাত মুখ মুছতে লাগল। এদিকে আমি গ্যাস প্যাডেলে চাপ দিলাম। আবার ছুটতে শুরু করল গাড়ি৷ প্রায় মিনিট দশেক পরে আমি বললাম, "ঠিক কী হয়েছে....খুলে বলুন তো সব। একেবারে গোড়া থেকে বলবেন।"
একমুহূর্ত চুপ করে থেকে হালকা গলা খাকারি দিয়ে মেয়েটা বলতে শুরু করল, "দশ বছর বয়সে আমার বাবা মারা যায়। আমার মা আমাকে নিয়ে মামার বাড়িতে চলে আসে। তার কয়েক বছর পর মা'ও মারা যায়৷ আমি মামার বাড়িতেই মানুষ হতে থাকি। মামার সংসারেই। আমার মামার অবস্থাও ভালো না। পান্তা আনতে লবণ ফুরোই অবস্থা৷ তবে মামা আমাকে খুব ভালোবাসতো। কিন্তু মামিটা কেমন যেন করতো। কিন্তু সেই মামাটাও এই ছয়মাস আগে বিছানায় পড়েছে। এদিকে আমার কপালে নেমে এসেছে সীমাহীন কষ্ট। মামির হাজারো অত্যাচার সহ্য করে এতদিন সেখানেই ছিলাম। কিন্তু আমার মামি আমাকে বেঁচে দেওয়া ষড়যন্ত্র করে। কোনো ভাবে মামা সেটা জেনে ফেলে। আজ রাতেই মামা আমাকে বলে সেটা। রাতেই আমাকে পালাতে বলে। তাই এই রাতেই আমি....."
মেয়েটা আর কিছু বলল না। তাকে চুপ করে থাকতে দেখে আমি বললাম, "তা কোথায় যাবেন? কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে?"
"নাহ।"
"তাহলে?"
"ঢাকা।"
"ঢাকায়? ওখানে কেউ আছে নাকি?"
"নাহ।"
"তাহলে ঢাকায় কার কাছে যাবেন?"
"কারোর কাছে না।"
আমি আর কিছু বললাম না। বুঝলাম মেয়েটা ভালোই বিপদে পড়েছে। তবে মেয়েটাকে নিয়ে আমিও বেশ ভালো বিপদেই জড়ালাম। একে বাড়িতে নিয়ে গেলে মা নিশ্চয় আমার দিকে অন্য চোখে তাকাবে। তাছাড়া এরকম একটা যুবতী মেয়েকে ঢাকার শহরে ছেড়ে দিতেও মন সাই দিবে না। পরের কথা পরে হবে ভেবে এখনকার কথাই নজর দিলাম। প্রসঙ্গ পালটে আমি বললাম, "আমিও ঢাকায় যাচ্ছি। ও হ্যাঁ, আমার নাম আফিফ। ছোটখাটো ডাক্তার। খুলনাতেই থাকি। ঢাকায় মা আর ছোট একটা বোন আছে। ওরা ঢাকাতেই থাকে। বাবা নেই। মরেছে বেশ কয়েক বছর আগে। যাহোক, আপনার নামটা তো জানা হলো না।"
"লামিয়া।"
"বাহ, বেশ ভালো নাম।"
মেয়েটা কিছু বলল না। আমিও আর কোনো কথা খুঁজে পেলাম না। চুপ করে গেলাম। ভোররাতের দিকে ঢাকায় পৌঁছালাম। পরে একটা ব্যবস্থা করা যাবে ভেবে মেয়েটাকে সঙ্গেই রাখলাম। যদিও বেশ অপ্রস্তুতই ছিলাম।
আমার সঙ্গে একটা মেয়েকে দেখে মা'র চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। আমি তোতলাতে তোতলাতে বলতে গেলাম, "ইয়ে..না..মানে...মা.."
"তুই চুপ থাক।" মা আমাকে মাঝপথেই থামিয়ে দিল। "কি আর বলবি। বলবি যে, একটা পরিস্থিতিতে পড়ে তোমাদের জানাতে পারিনি৷" রাগী কন্ঠে কথাগুলো বলল মা। আমি তাকে আসল ব্যাপারটা বুঝাতে গেলাম কিন্তু সে আমার কোন কথাই শুনলো না। হেসে বলল, "সে যাইহোক, তুই কিন্তু একটা মায়াবতীকে এনেছিস। তা তোমার নাম কী মা?"
"লামিয়া।" মাথা নিচু করে বলল লামিয়া। যেন নতুন বউ। "সে-ও কোনো প্রতিবাদ করছে না দেখে আমি বেশ অবাক হলাম।
এর মাঝে এসে উপস্থিত হলো স্নিগ্ধা। লামিয়াকে দেখে চমকে গেল। সামলে নিয়ে বলল, " ভাইয়া, ওটা কে রে? ভাবী নিশ্চয়? কবে বিয়ে করলি? আমাকেও জানালি না?" কথাগুলো বলেই সে লামিয়াকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। লামিয়া কিছু বলছে না দেখে আমি বেশ অবাক হলাম। এদিকে আমি সুযোগ পেয়ে বলতে শুরু করলাম, "তোমরা যা ভাবছো আসলে তা না। আমি ওকে বিয়ে করা তো দূরের কথা, চিনিই না পর্যন্ত।" তারপর পুরো ঘটনাটা খুলে বললাম। সব শুনে আমার কোমলমতি মায়ের চোখে পানি চলে এলো। মা জানালো, আজ থেকে লামিয়া এখানেই থাকবে। স্নিগ্ধাও বলল সে-কথা। লামিয়াও অমত করল না। বরঞ্চ বেশ খুশিই হলো। আমিও আর কিছু বললাম না।
মাত্র দু'দিনেই পরিবারের সবার সাথে মিশে গেল লামিয়া। মেয়েটা যেমন রূপবতী তেমনি গুণবতী। মা আর স্নিগ্ধা তো ওর রান্নার ভক্ত হয়ে গেল। এমনকি আমিও। তবে লামিয়া সবাইকে মানাতে পারলেও টমিকে কিছুতেই মানাতে পারলো না। লামিয়াকে দেখলেই টমি পাগল হয়ে যায়। ঘাউ ঘাউ করে ছুটে যায় লামিয়াকে কামড়াতে। টমির এমন আচরণে আমি বেশ অবাকই হলাম। টমি সাধারণত কারোর সঙ্গেই এমনটা করে না। সে যতই অপরিচিত হোক। তাহলে লামিয়ার সঙ্গে এমনটা করছে কেন?
ব্যাপারটা নিয়ে আর ভাবলাম না। দেখতে দেখতেই আমার ছুটি শেষ হয়ে গেল। সবাইকে বিদায় দিয়ে খুলনার পথে রওয়ানা দিলাম। আশার সময় এবারও মা'র চোখে পানি দেখলাম। লামিয়াকে দেখে মনে হলো সে-ও কাঁদছে।
এক সপ্তাহ পর অযাচিত ভাবে একটা সুখবর পেয়ে গেলাম। আমার ঢাকাতে পোস্টিং হয়েছে। এবং আমার ফ্লাটের পাশের হাসপাতালে। চলে এলাম বাড়িতে। আমাকে পেয়ে তো ওরা বেশ খুশি। তবে লামিয়াকে একটু বেশিই খুশি মনে হলো।
বাড়িতে ফিরেই দেখলাম কাজের মেয়ে মর্জিনার বদলে অন্য একজনকে রাখা হয়েছে। মাকে জিজ্ঞেস করাতে বলল, মর্জিনা নাকি চুরি করা শুরু করেছিলো। তাই তাকে ভাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আমি বুঝলাম না মর্জিনা হঠাৎ করেই চুরি করা শুরু করল কেন। সে আমাদের বাড়িতে আছে প্রায় তিনবছর হলো। পরিবারের সদস্যই হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু হঠাৎ কি এমন হলো যে তাকে চুরি করতে হবে? আমি কৌতুহল বশত মাকে জিজ্ঞেস করলাম, "কী চুরি করেছিলো?"
মা যেটা বলল সেটা শুনে আমি বেশ অবাক হয়ে গেলাম। মর্জিনা নাকি ফ্রিজ থেকে কাঁচা মাছ মাংস চুরি করতো।
"আর তাতেই তুমি ওকে ভাগিয়ে দিলে?" আমি অবাক কন্ঠে জিজ্ঞেস করলাম।
"চুরি করেছে বলে ভাগাই নি। ভাগিয়েছি মিথ্যে বলেছে বলে। চুরি করে আবার মিথ্যে বলে।"
বুঝলাম চুরি করা বড় ব্যাপার না। আসল ব্যাপার হলো মিথ্যে বলা। আমার মা এই মিথ্যে বলা একদম সহ্য করতে পারে না। এইজন্যই ভাগিয়েছে মর্জিনাকে। কিন্তু একটা ব্যাপারে আমার খটকা লাগল। টাকা পয়সা কিচ্ছু না, হঠাৎ মাছ মাংস চুরি করতে যাবে কেন?
চুরি হওয়া কিন্তু বন্ধ হলো না। প্রায় প্রতিদিনই ফ্রিজ থেকে কাঁচা মাছ মাংস চুরি যেতে লাগল। স্বভাবতই সন্দেহ গিয়ে পড়ল নতুন কাজের মেয়ে রমিজার উপর। কিন্তু তাকে ধরতেই সে অস্বীকার করল। কান্নাকাটি করে এমনভাবে বলল, শুনে তার কথা অবিশ্বাস করতে মন চাইলো না। কিন্তু এসব মেয়েরা বেশ ধড়িবাজ হয়৷ এরকম কান্নার অভিনয় বেশ ভালোই পারে এরা। কিন্তু অবাক করার ব্যাপার হলো, রমিজাকে চোর বলাতে সে খেপে গিয়ে কাজে আসাই বন্ধ করে দিলো। বুঝলাম মেয়েটা চুরি করেনি। আর চুরি করলেও কাঁচা মাছ মাংস কেন চুরি করবে? তাছাড়া চুরি করে করবেই বা কী? রমিজা তো আমাদের বাড়িতেই থাকে।
তাহলে কে করছে কাজটা?

২.
কে করছে এই কাজ?
উত্তর নেই।
তারপর হঠাৎ চুরি হওয়া বন্ধ হলো। বুঝলাম রমিজা'ই চুরি করতো। তাই যদি না হবে তাহলে সে চলে যাওয়া মাত্র চুরি হওয়া বন্ধ হয়ে গেল কেন? ব্যাপারটা নিয়ে আর ভাবলাম না।
কেটে গেল আরও কয়েকদিন।
সেদিন সকালে একটা ভয়ংকর দৃশ্য দেখে জ্ঞান হারানোর উপক্রম হলো স্নিগ্ধার। নিচে যেতেই দেখলাম টমি পড়ে আছে। বিভৎস অবস্থায়। দেখে মনে হচ্ছে কিছুতে যেন ছিড়ে খেয়েছে তাকে। তার সাদা লোমগুলো এখন আর সাদা নেই। তাজা রক্তে খয়েরী হয়ে গেছে। অবস্থা এমন হয়েছে যে চেনার উপায় নেই। শুধুমাত্র গলার কলারটা দেখেই চিনতে পারলাম। বুঝলাম না এমনটা কিসে করল। আশেপাশে তো এমন কোনো জানোয়ার নেই যে সে এমনটা করবে। কিছুই মাথাই ঢুকলো না। আরেকটু খুটিয়ে দেখলে হয়তো ওর হৃৎপিণ্ডটাকে দেখতে পেতাম না।
এর দু'দিন পর গ্রাম থেকে আমার এক কাজিন আরিফা এল। সঙ্গে তার দু'বছরের ছোট একটা মেয়ে। এর মধ্যে আবার নতুন কাজের মেয়ে রাখা হয়েছে। আর সেদিন রাতেই আবার ফ্রিজ থেকে কাঁচা মাছ মাংস চুরি গেল। আমার মনের ভেতরে থাকা সন্দেহটা দানা বাধতে শুরু করল। বুঝলাম কেউ একজন কাজটা করছে। কাজের মেয়ে নয় সে। আমাদের ভেতরেই কেউ একজন।
প্রমাণ খোঁজার চেষ্টা করলাম। কিন্তু এর মধ্যেই ঘটে গেল এক ভয়ংকর ঘটনা।
সেদিন মাঝরাতে ছোট বাচ্চার কান্নার শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। পাত্তা দিলাম না। ভাবলাম আরিফার মেয়েটাই হয়তো কাঁদছে। সঙ্গে ওর মা আছে। সমস্যা হবে না। কিন্তু কান্নাটা বেশ খানিকক্ষণ চলতে থাকলো। বেশ বিরক্ত হলাম। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম দেখতে যাব কি হয়েছে। বাইরে বেরোতেই হঠাৎ একটা আর্তচিৎকার দিয়ে থেমে গেল কান্না। সব চুপচাপ। কান্নার আওয়াজ শুনে মা আর স্নিগ্ধা উঠে এসেছিলো। তাদের রুমে পাঠিয়ে দিয়ে আমিও রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম।
পরদিন ছিলো ছুটির দিন। আমি বাড়িতেই ছিলাম।
সকাল এগারোটার পরেও যখন আরিফা ঘর থেকে বেরোলো না তখন মনের ভেতরে একটা ক্ষীণ সন্দেহ দেখা দিলো। গিয়ে দেখলাম দরজা খোলা। ভেজানো ছিলো। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই হতভম্ব হয়ে গেলাম।
যদিও আমি ডাক্তার। রক্তারক্তি দেখার অভ্যাস আমার আছে। তবুও সামনে থাকা দৃশ্যটা দেখে নিজেকে সামলাতে পারলাম না। নিজের অজান্তেই মুখ দিয়ে আর্তনাদ বেরিয়ে এল। আমার চিৎকার শুনে ওরা সবাই দৌড়ে এল। এমনকি লামিয়াও। মা আর স্নিগ্ধা তো অজ্ঞান হয়ে গেল। কিন্তু লামিয়ার কোনো ভাবান্তর হলো না। এদিকে আমার অবস্থাও খারাপ।
খাটের উপরে পড়ে আছে একটা আধখাওয়া দেহ আর একটা ছিন্নমস্তক। রক্তে ভেসে গেছে পুরো মেঝে। দেখে মনে হচ্ছে ভয়ানক কোনো হিংস্র জানোয়ার খুবলে খেয়েছে দু'টো মানুষকে।
পুলিশকে খবর দেওয়া হলো। তারা এসে কিছুই বুঝতে পারলো না। সন্দেহ করতে পারলো না কাউকে। কাকেই বা করবে? ওটা তো কোনো মানুষের দ্বারা সম্ভব না। লাশ নিয়ে চলে গেল তারা।
এর পরেরদিন কাউকে না জানিয়ে রান্নাঘরে ক্যামেরা লাগিয়ে দিলাম। যে-ই ফ্রিজ থেকে কাঁচা মাছ মাংস চুরি করুক ধরা সে পড়বেই। অবশ্য আমি জানতাম কাজটা কে করছে। তারপরেও নিশ্চিত হওয়ার জন্য এটা করা।
ক্যামেরা লাগিয়ে নিশ্চিন্ত মনে ঘুম দিলাম। সকালে উঠেই চোরকে ধরব। হ্যাঁ, বাইরে থেকে যে চোর আসেনা সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। বাইরে থেকে নিশ্চয় কোনো চোর কাঁচা মাছ মাংস চুরি করতে আসবে না।
পরদিন সকালে কাউকে না জানিয়ে ক্যামেরায় তোলা ভিডিওটা দেখলাম। দেখে আমি অবাক হলাম না। জানতাম এমনটাই হবে। তবে ভয় পেলাম। একটা মানুষ এমন করে কাঁচা মাছ মাংস খেতে পারে? নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলাম না। তবে করতে হবে। আমার চোখ খারাপ হলেও ক্যামেরার চোখ নিশ্চয়ই খারাপ না।
হ্যাঁ, লামিয়া'ই করেছে কাজটা। আমি ওকে স্পষ্ট দেখতে পেয়েছি।
যা বুঝার বুঝে ফেললাম। এটাও বুঝলাম আমরা এখন একটা ভয়ংকর পিশাচের সঙ্গে আছি। যে মারাত্মক বিপদজনক। টমিকে সে-ই খেয়েছে। আরিফা আর তার মেয়েকেও সে খেয়েছে। সুযোগ পেলে আমাদেরও খেয়ে ফেলবে।
ব্যাপারটা আমি চেপে গেলাম। কাউকে কিচ্ছু জানালাম না। কায়দা করে মাকে খালার বাড়িতে পাঠিয়ে দিলাম। এদিকে কাজের মেয়েটাও চলে গেছে। বাড়িতে এখন আমরা দুই ভাইবোন। স্নিগ্ধা আর আমি। আর আমাদের সঙ্গে রয়েছে ভয়ংকর এক পিশাচ।
আমি সুযোগ খুঁজতে লাগলাম। কোনোপ্রকার ঝুঁকি নেওয়া চলবে না। আজ সন্ধ্যায় বাইরে গিয়েছিলো লামিয়া। আমি সেই সুযোগে স্নিগ্ধাকে সব খুলে বলি।
এখন বুঝছি, তখন লামিয়া বাইরে যায় নি। বাড়িতেই ছিলো। আর আমাদের সব কথা শুনে ফেলেছিলো। এমনকি আমাদের পরিকল্পনার কথাও৷ মোটেও ঝুঁকি নেয় নি সে। রাতেই কব্জা করে আমাদের। অদৃশ্য কোনো শক্তিতে আমাকে প্যারালাইজড করে রেখে স্নিগ্ধাকে......
আর ভাবতে চাইলাম না আমি। আমার চোখের সামনেই ঘটছে সবকিছু। আমাকে দেখানোর জন্যই এরকমকটা করছে লামিয়া।
হঠাৎ একটা শব্দ হলো। অদ্ভুত একটা শব্দ। শব্দটা ঘরের বাইরে থেকেই এসেছে। সেই সঙ্গে আমি একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করলাম। হাত পা নড়াতে পারছি আমি। আর কিছু ভাবলাম না। ঝাপিয়ে পড়লাম লামিয়ার উপরে। ওকে নিয়ে গড়িয়ে পড়লাম একপাশে। এদিকে দরজার ওপাশ থেকে একটা পরিচিত কন্ঠ ভেসে আসছে। মর্জিনা। বলছে, "দরজা খোলো। দরজা খোলো দ্রুত।" সেইসঙ্গে দরজার উপর ধাক্কাধাক্কি তো হচ্ছেই। আমি লামিয়াকে ছেড়ে দিয়ে দৌড়ে দরজার কাছে গেলাম। হিংস্র জানোয়ারের মতো আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ল লামিয়া। বাধা দেওয়ার সুযোগ পেলাম না। তার আগেই ও আমাকে মেঝেতে ফেলে দিলো। অমানুষিক শক্তি ওর গায়ে। কিছুতেই পেরে উঠলাম না আমি। এদিকে লামিয়া আমাকে এলোপাতাড়ি ভাবে আঘাত করতে লাগল। ততক্ষণে আমার নাক মুখ ফেটে রক্ত বেরোনো শুরু করেছে। জ্ঞান হারানোর উপক্রম হয়েছে।
ওদিকে দরজার উপর দাপাদাপি চরমে পৌঁছেছে। এখন দু'টো মানুষের গলা শোনা যাচ্ছে। একটা মর্জিনা আরেকটা অচেনা কোনো পুরুষের। দু'জনই চেঁচিয়ে দরজা খুলতে বলছে।
কিন্তু দরজা খুলবো কীভাবে?
হঠাৎ একটা ঘটনা ঘটে গেল। লামিয়া আমাকে নিয়েই ব্যস্ত ছিলো। সেই সুযোগে দরজা খুলে দিলো স্নিগ্ধা। দরজা খুলতেই ভেতরে প্রবেশ করল তান্ত্রিক টাইপের একটা লোক। সঙ্গে মর্জিনা। তান্ত্রিক লোকটা সিঁদুরের মতো কিছু একটা লামিয়ার শরীরে ছিটিয়ে দিলো। সঙ্গে সঙ্গে মরণ চিৎকার দিয়ে দূরে ছিটকে পড়ল লামিয়ারুপি পিশাচটা। তারপর মেঝেতে পড়ে কাটা ছাগলের মতো লাফাতে লাগল। এদিকে তান্ত্রিক লোকটা তার থলে থেকে আরও কিছু বের করে পিশাচটার শরীরে ছিটিয়ে দিলো। আমাদের চোখের সামনেই পিশাচটার চেহারা পরিবর্তন হতে লাগল। আস্তে আস্তে সে এক ভয়ালদর্শন বয়স্ক মহিলাতে পরিণত হলো। লাফালাফি একটু থামতেই হাতজোড় করে তান্ত্রিককে বলতে লাগল, "দয়া করে আমাকে ছেড়ে দাও। আমি আর কখনোই এখানে আসবো না। আজই চলে যাব। আমাকে মেরো না। দয়া করো।"
কিন্তু তান্ত্রিকের মনে কোনো সহানুভূতি হলো না। সে থলে থেকে একটা বড় ছুরি বের করে একটা কোপে পিশাচটা মাথা ধর থেকে আলাদা করে ফেলল।
এদিকে আমাদের দু'জনকেই হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হলো। পরে মর্জিনার থেকে সব জানতে পারলাম। মর্জিনা বলল, "আমি আগেই ওই পিশাচটাকে সন্দেহ করেছিলাম। কিন্তু আপনারা বিশ্বাস করবেন না বলে কিছু বলিনি। যেদিন আমাকে চোর বলে তাড়িয়ে দিলেন সেদিনও আপনাদের ক্ষতি হবে ভেবে কিছু বলিনি। কিন্তু আমি থেমে থাকিনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তান্ত্রিকের সঙ্গে আমার দেখা হয়। সব খুলে বলি তাকে। সব শুনে সে সঙ্গে সঙ্গেই আমাকে নিয়ে রওয়ানা দেয়।"
"আমাকে তুই ক্ষমা করে দিস মর্জিনা।" বলেই মর্জিনাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে মা। "তুই না থাকলে আজ আমার দু'টো ছেলেমেয়ে...." আর কথা বাড়াতে পারে না মা। কান্নায় ভেঙে পড়ে।
মর্জিনাও আর কিছু বলে না। মাকে জড়িয়ে ধরে সে।

01/08/2019

How come you cannot make a decision?
➖ কি কারনে তুমি কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারো না ?
✪ How come you made a great mistake?
➖কিভাবে তুমি এতবড় ভুলটি করলে ?
✪ How come you are so upset?
➖কি কারনে তুমি এতটা হতাশ ?
✪ How come the teacher angry so much?
➖ কি কারনে শিক্ষক এতটা রাগান্বিত হলেন ?
✪ How come Rony didn’t call you?
➖ কি কারনে রনি তোমায় ডাকেনি?
✪ How come you always question me?
➖কি কারনে তুমি আমাকে সবসময় প্রশ্ন কর ?
✪ How come you prepare yourself for the BCS?
➖ কিভাবে তুমি নিজেকে বিসিএস এর জন্য প্রস্তুত করবে ?
✪ How come your company made a huge profit?
➖ কিভাবে তোমার কোম্পানি এতটা লাভ করেছিল ?
✪ How come we never agreed ?
➖ কি কারনে আমরা কখনোই একমত হতে পারি নাই।

02/07/2019

-"তোমাকে আমি যে লাভ লেটারগুলো দিয়েছিলাম? সেগুলো আমাকে ফেরত দিও।"
কথাটা শুনে আমি অবাক হয়ে সামনে বসে থাকা জিসানের দিকে তাকালাম।
জিসান আমার এক্স বয়ফ্রেন্ড।ছয়মাস ওর সাথে রিলেশন ছিল আমার।গত দুইমাস আগে ব্রেকআপ হয়েছে আমাদের।
ব্রেকআপ জিসানই করেছে।কারণ ওর ভাষ্যমতে আমি নাকি বেশি বেশি খাই।খেয়ে খেয়ে ওর পকেট ফুটা করে দিচ্ছি।তাই জিসান আমার সাথে ব্রেকআপ করে দিয়ে চলে গেছে।
আজ সকালে ঘুমাচ্ছিলাম।ফোনের ইনকামিং কলের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় আমার।ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে এক ঝঁটকা খেলাম।
এতো জিসান ফোন করেছে!ভালো মতো চোখ কচলে আবার ফোনের দিকে তাকালাম।হ্যা জিসানের নামটাই ফোনের স্ক্রিনে ভাসছে।কিন্তু এখনো বিশ্বাস হচ্ছেনা আমার।
ফোনটা রেখে দৌড়ে ওয়াশরুমে গেলাম।চোঁখমুখে পানির ছিঁটা দিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে আবার দৌড়ে এসে মোবাইল হাতে নিলাম।ততক্ষনে কল কেটে গেছে।
আমি কললিস্টে যাব এরমধ্যেই আবার জিসানের কল এসেছে।এতক্ষনে পরিষ্কার হলো সত্যিই জিসান আমায় ফোন করেছে।
ব্রেকআপের দুইমাস পর আজই জিসান ফোন করছে।আমি জানতাম আমার জানপাখি আমাকে ছেড়ে কিছুতেই থাকতে পারবেনা।
আমি না হয় একটু বেশিই খাই।তাই বলে আমার জানু আমাকে ভুলে যাবে এমনটা হতেই পারেনা।জিসানের ফোন পেয়ে আমিতো আনন্দে আটখানা।
আর বিলম্ব না করে ঝড়ের গতিতে ফোন রিসিভ করলাম।বললাম,
-"হ্যালো"
-"ফারজানা বলছো?"
-"হ্যা আমি তোমার ফারজানা।জিসান তুমি আমাকে ফোন করেছো? আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না।"
-"বিশ্বাস না হওয়ার কি আছে!আচ্ছা ফারজানা আজ বিকালে আমার সাথে একটু দেখা করতে পারবে?"
আমি খুশিতে একেবারে গদগদ হয়ে গেলাম।আমি নিশ্চিত জিসান আমার সাথে আবার রিলেশনশীপ কন্টিনিউ করতে চাইছে।আমাদের প্যাচআপ করার জন্যই আমার সাথে দেখা করার কথা বলছে।
আমি আর দেরী না করে ঝটপট বলে দিলাম,
-"হ্যা হ্যা অবশ্যই দেখা করব।কখন কোথায় যেতে হবে তুমি শুধু আমাকে সেটুকু বলে দাও।"
-"ঠিক আছে।তাহলে আজ বিকাল পাঁচটার সময় তুমি "তৃষ্ণা" রেস্টুরেন্টে এসো।"
-"ঠিকাছে আসব।"
আমি ওর কথায় সম্মতি দিয়ে ফোনটা রেখে দিলাম।
বিকেলে নিল রঙের একটা ড্রেস পরে সুন্দর করে সেজেগুজে একেবারে পটের বিবি হয়ে রেস্টুরেন্টে গেলাম।বলা বাহুল্য জিসানের প্রিয় রং নিল।
জিসানের সাথে এতদিন পর দেখা করতে যাব।তার প্রিয় রঙের ড্রেস পরে যাবনা,এটা হয় নাকি!
যাই হোক,আমি রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসে আছি।কিন্তু জিসান এখনো এলো না।অবশ্য পাঁচটা বাজতে এখনো অনেক বাকি।উত্তেজনা ধরে রাখতে পারিনি।তাই পাঁচটা বাজার অপেক্ষাও করিনি।আগেভাগেই রেস্টুরেন্টে চলে এসেছি।
একটু পরে জিসান এলো।একটা কমলা রঙের টি-শার্ট পরা।
এ দুইমাসে আগের থেকেও সুন্দর হয়েছে ছেলেটা।দেখার সাথে সাথেই ক্রাশ খেলাম।
জিসান আমার মুখোমুখি হয়ে একটা চেয়ারে বসল।তারপর মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বলল,
-"কেমন আছো ফারজানা?"
আমি আবেগাপ্লুত কন্ঠে জবাব দিলাম,
-"ভালো।"
জিসান ওয়েটারকে ডেকে বার্গার অর্ডার দিল।তারপর টেবিলের উপর থাকা আমার হাতের উপর হাত রেখে বলল,
-"ফারজানা,আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না।তোমার সাথে ব্রেকআপ করেছি ঠিকই।কিন্তু এই দুইমাসে বুজেছি,তুমি ছাড়া আমার জীবনটা একেবারে অচল।আই লাভ ইউ ফারজানা।আমরা আবার আগের মত আমাদের রিলেশন চালিয়ে যাব"
খুশিতে আমার কান্না পাচ্ছে।এই না হলো আমার জিসান।
টেবিলের উপর বার্গারের প্লেট রাখার শব্দে আমার কল্পনার রাজ্যে ব্যাঘাত ঘটে।
হ্যা উপরোক্ত ঘটনাটা আমার কল্পনা ছিল।জিসান সেরকম কিছুই বলেনি।
কিন্তু আমি নিরাশ হলাম না।কল্পনার ব্যাপারটাই তো সত্যি হতে যাচ্ছে।জিসান আমার সাথে প্যাচআপ তো করবেই।
আমার ভাবনায় জল ঢেলে দিয়ে জিসান বলল,
-"তোমাকে আমি যে লাভ লেটারগুলো দিয়েছিলাম? সেগুলো আমাকে ফেরত দিও"।
আমি অবাক চোঁখে ওর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলাম,
-"কেন?"
-"আমি নতুন একটা প্রেম করছি।প্রবলেম হলো আমার নিউ গার্লফ্রেন্ড আফরিন অনেকটা তোমার মতই।এই ফেসবুক,ইন্টারনেটের যুগেও তাকে লাভ লেটার লিখে দিতে হবে।আমি আবার নতুন করে কোনো চিঠিফিটি লিখতে পারব না।তোমাকে দেওয়া প্রেমপত্র গুলো আমাকে ফেরত দিও।ওই চিঠিগুলোই আফরিনকে দেব।শুধু লেটারে তোমার নামটা কেটে আফরিনের নামটা বসিয়ে দিলেই হবে।

Want your business to be the top-listed Gym/sports Facility in Kushtia?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address


Kushtia
7000