26/10/2024
দ্য হান্টিং অফ রেইনিয়ার অ্যাসাইলাম
লেখক এ্যামব্রোজ ইবসেন
ভাষান্তর অসীমা দত্ত
৩.(ক)
আলোটা মরে আসছিল ধীরে ধীরে।মেঘাচ্ছন্ন আকাশটাতে কমলা রঙের আভা। খুব শিগগিরই রাত নামবে। তার আগেই জন চেয়েছিল হাতের কাজটা শেষ করতে। মাঠের উপর দিয়ে হুইলবারোটা ঠেলে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল সে স্টোরুমের দিকে। খাবারের বস্তা গুলো দেখার চেষ্টা করছিল। অন্ধকার হয়ে আসা ঘরটাতে হুইলবারোটা দরজার কাছে রেখে দিল। হাত পা ব্যথা করছে বেচারার। হুইলবারোটা রেখে আড়মোড়া ভাঙলো ব্যথা কমানোর জন্য।
মাত্র একটা সপ্তাহ হল এই কাজটা নিয়েছে সে। অথচ এখনই বিরক্ত হয়ে আসছে মনটা। এই ২২ বছর বয়সে ওর হয়তো কলেজে পড়ার কথা। তা না করে শূকরের খামারে কাজ করছে। এর আগে একটা ক্যাফেতে কফি পরিবেশনের কাজ করতো। এখানে বেতনটা বেশ আকর্ষণীয়, তবে কাজটা প্রচন্ড পরিশ্রমের।
কাজের প্রথম দিনে এক বাক্স খাবার নিজের পায়ের উপর ফেলে দিয়েছিল জন। নখটা এখনো কালো হয়ে আছে। দিন দিন হাত গুলো কেমন রুক্ষ হয়ে যাচ্ছে। মুখ আর ঘাড় কালো হয়ে গিয়েছে রোদে পুড়ে। কাজ শেষে যখন এক একটা সন্ধ্যায় ও বাড়ি ফেরে, দীর্ঘক্ষণ ধরে স্নান করেও পুরো ফ্রেশ হয়ে উঠতে পারে না। বরং যেন মনে হয় এই মাঠটা তখনও ওর গায়ে লেগে থাকে। এমনকি ঘুমের ভেতরেও শুকরের ঘোঁৎ ঘোঁৎ শব্দ শুনতে পায় সে।
আরও কিছু মানুষ খামারে কাজ করে জনের সাথে। মালিক গাস্ট বুড়ো। কাজকর্ম ঠিকমতো চলছে কিনা দেখতে এসেছিলেন কয়েকবার। কাজের কোন ভুল তিনি ধরতে পারেন নি জনের। আরো দুজন হলেন জর্জ আর টাইরোন। এরা বহু বছর ধরে কাজ করছে।ওরা কাজ করতে ভালোবাসে বেশি। তাই জনেরও প্রতিদিনই আগের চেয়ে খানিকটা বেশি দেরি হয়ে যায় বাড়ি ফিরতে। আজ কোন ভাবেই জন চাইছে না আগের দিনের চেয়ে বেশি দেরি করে বাড়ি ফিরতে। স্টোররুমের দেয়ালে হেলান দিয়ে পকেট থেকে সিগারেট বের করে কয়েকটা টান দেওয়ার পর চুলে আঙ্গুল চালালো সে। বেড়ার অন্য পাশে খামারবাড়িটার ওই দিকটা কেমন আশ্চর্য রকমের শান্ত, নিস্তব্ধ হয়ে আছে। খুব বেশি দূরে চোখও যায় না অবশ্য।
সিগারেটটা আরো একটা টান দিয়ে দূরে তাকালো জন। ভাবছে এই বিদঘুটে কাজটা ছেড়ে দেওয়া যায় কিনা। বড্ড বেশি খাটুনি। অসহ্য লাগছে ওর। শুধু বেতনটাই ভাল, এই যা। তাও কিনা আবার এখন পর্যন্ত হাতেও সে পায়নি। আর কিছু নেই ভালো লাগার। এ কাজটা ছেড়ে দিলে হয়তো আবার ক্যাফেটেরিয়ায় কফি পরিবেশনের কাজটা ও পেয়ে যাবে। ওখানে বেতন বড্ড কম, তবু....
সমস্ত ভাবনায় অকস্মাৎ ছেদ পড়লো জনের। অদ্ভুত কিছু নজরে পড়েছে ওর। বড় আকারের কিছু একটা যেন দেখতে পাচ্ছে খামারবাড়িটার ওইপাশে সে। আধা মাইল খানেক দূরে যেন খুব বড়, পুরনো কোন একটা বিল্ডিং দেখা যাচ্ছে ঝাপসা।
কিছুটা সন্ধ্যার আঁধার আর কতগুলো ওক গাছের আড়াল পড়ার কারণে ভালো বুঝতে পারছিল না জন। তবে পাথুরে, অন্ধকার বিল্ডিংটা দেখে যে কারো মনে হয়ে থাকতে পারে ওটা মধ্যযুগীয় কোন স্থাপনা। সিগারেটের ছাইটুকু ঘাসের উপর ঝেড়ে ফেলে খামারবাড়িটার সীমানাবেড়ার দিকে কয়েক পা এগিয়ে গেল এবার ছেলেটা। বিল্ডিংটা কতটা বড়, কতটা উঁচু সেটা বোঝার চেষ্টা করল। আর বুঝতে পারল, ওর ধারণা থেকে ঢের বেশি উঁচু এবং বড় এই ইমারত। যেন এক প্রকাণ্ড দুর্গ। সিগারেটে শেষ কয়েকটা টান দিতে দিতে বেড়ার পাশ ধরে আনমনে হাঁটছিল জন। এখানে কাজ নেয়ার পর এই কয়েকটা সপ্তাহের ভিতর একবারও কারো মুখে ওই বিল্ডিং এর ব্যাপারে কোন কথা শুনতে পায়নি সে। এই শূকরের খামারের সাথে নিশ্চয়ই কোন সম্পর্ক নেই ওই বিশালাকার ইমারতের। সিগারেটের অবশিষ্ট টুকরোটা মাটির সাথে পিষে হুইলবারোটার দিকে রওনা হল। জর্জকে খুঁজছিল সে মনে মনে।
" আলসেমী করছো দেখছি?" গেঞ্জির কিনারা দিয়ে কপালের ঘাম মুছলো জর্জ। "এরকম করে হয় না, বুঝলে?"
"জানি তো!" জিন্সের প্যান্টটা একটু গুটিয়ে নিয়ে কাজের জন্য প্রস্তুত হলো জন।
"এই যে সিগারেট টানছো, এতে কোন ক্ষতি নেই, তাই না?" জর্জের চোখ জনের পকেটের উপর। "আমি কি একটা পেতে পারি?"
"ও, নিশ্চয়ই!" একটা সিগারেট ওর দিকে এগিয়ে দিল জন।
"অনেক ধন্যবাদ তোমাকে।" বেড়ার একটা খুঁটির উপর হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছে জর্জ।
হুইলবারোতে খাবারের বস্তা না তুলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছিল জন। ওর চোখটা দূরে তখনো। পাথরের বিল্ডিংটার উপরে। "এবার বলতো," হাত দিয়ে দুর্গাকার বিল্ডিংটা সে দেখালো। "ওটা কি, তুমি জানো? দেখে মনে হচ্ছে একটা দুর্গ?"
ঘাড় বেঁকিয়ে দেখলো বিল্ডিংটাকে জর্জ। তারপর ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করল, "ও আচ্ছা, ওটা?" একমুখ ধোঁয়া ছেড়ে হাসলো একটু। "আর জানতে চেয়ো না, বুঝলে? তুমি নতুন মানুষ।" তারপর লম্বা করে একটা টান মারলো সিগারেটে। "আর যাই হোক ওটা কিন্তু কোন দুর্গ টুর্গ না!"
মুখ থেকে সিগারেটটা বের করে এনে একটু দেখল জর্জ। একটু হাসলো বিল্ডিংটার দিকে চেয়ে। "আচ্ছা, এক সপ্তাহ তো হয়ে গিয়েছে তুমি এসেছ এখানে। এবার বলা যায়। মনে হয় খুব একটা খারাপ হবে না। তাছাড়া যেহেতু রাত পর্যন্ত তোমাকে এখানে কাজ করতে হবে...." আবার হাসল জর্জ অদ্ভুত ভঙ্গিতে। "অনেক বছর আগে.... তোমা, আমার জন্মেরও আগের ঘটনা। সত্যি বলতে কি, ওটা একটা মানসিক হাসপাতাল ছিল।"
"এ্যাঁ?" বেড়ার গায়ে একটা কনুই রেখে জিজ্ঞাসা করলো জন অবাক হয়ে। "পাগলা গারদ? মানে বলছো যে, ওটা একটা মানসিক হাসপাতাল ছিল?"
মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল জর্জ। "তাই তো বললাম, নাকি?" একবার দেখল বিল্ডিংটাকে। "কে জানে, কবে থেকে ওটা ওরকম বন্ধ হয়ে আছে। পরিত্যক্ত। এখন তেমন কিছু আর শোনা যায় না ওটাকে নিয়ে। তবে গাস্ট বুড়ো কিছু কথা বলেছিল আমাকে। সে নিজে অবশ্য একটা দুটো কথা জানে ওটার ব্যাপারে। সেগুলো কিন্তু ভালো কথা নয়।"
"আমাকে বোকা বানাচ্ছো না তো?"
জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট চাটলো জর্জ। মাথায় পেঁচিয়ে রাখার রুমালটা খুলে পকেটে রেখে দিল। "শুনেছি শয়তানের উপাশকদের আড্ডা ছিল। ঐরকম কিছু হবে আর কি। পরে একসময় বন্ধ হয়ে গেল এ্যাসাইলামটা। আইনবিরোধী কাজকর্ম চলত, সেগুলো জানাজানি হয়ে গেছিল।ওদের কয়েকজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। এসব কথা শোনা যায়।"
"কি বলতে চাইছ, বলতো?"
হেসে মাথা ঝাঁকালো জর্জ। "তোমার কি মনে হচ্ছে শুনে? ওখানে যা কাজ করতো তারা প্রেতসাধনা করত। এখনো নাকি একটা প্রেত ওখানে রয়ে গেছে। আমি অবশ্য নিজের চোখেও একবার দেখেছি ওটাকে। সত্যিই দেখলাম। ও হেঁটে হেঁটে এই খামারবাড়ির কাছাকাছি আসছে আসছে। এ কারণে গাস্ট বুড়ো বছরে এক দুইবার প্রিস্ট ডেকে আনে এখানে। খামারবাড়িটা যাতে পিশাচের নজর থেকে সুরক্ষিত থাকে। সে চায় না এখানে শয়তান হানা দিক।"
এবার জনের হাসার পালা। "কি সব ধ্যান-ধারণা!"
সিগারেটের ভুক্তাবশেষটা বেড়ার ওপাশে ছুঁড়ে ফেলল জর্জ। মুখে একটা হালকা বিষাদের ছায়া পড়েছে এবার ওর। "হয়তো শুনতে একটু গুজবের মতই মনে হবে। কিন্তু ঘটনাটা গুজব নয়। আমি কিন্তু নিজের চোখে দেখেছি। তুমি টাইরোনকেও জিজ্ঞাসা করে দেখো। ওই বুড়ো তো একবার না। বারকতক দেখে ফেলেছে ওটাকে। একটা নামও আছে শয়তানটার। নাইটগার্ড টম। এর জন্যই তো গাস্ট সব সময় বলে -তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে বাড়ি চলে যাও, নয়তো নাইটগার্ডের সাথে দেখা হয়ে যাবে। এটা কিন্তু কথার কথা না। যদিও আসল ঘটনা কি, সেটা আমি জানিনা। শুধু জানি, ওটা সত্যি একটা পিশাচ।"
দূরের ঝাপসা অবয়বটার দিকে একবার চেয়ে দেখল জন। "বুঝলাম। আচ্ছা, ওই পিশাচটা দেখতে কিরকম বলতো?"
লম্বা একটা ঘাসের ডগা ছিঁড়ে বেড়ার গায়ে হাত রাখল জর্জ। "ভয়ংকর এক দু:স্বপ্ন।" সোজা বলে দিল সে। "মানুষের মত একটা শরীর আছে, তা ঠিক। তবে অনেক বেশি লম্বা। প্রায় সাত ফুট হবে। আর মাথাটা অন্যরকম।"
"মাথা?" হেসে ফেলল জন। "কেন, ওর মাথাটা কি বড় রকমের কিছু?"
এবার আর সোজাসাপ্টা উত্তর দিল না জর্জ। চুপ করে রইল দীর্ঘক্ষণ। মুখটাতে খানিকটা অসন্তোষের ছায়া। "তোমাকে তো বললামই, ও অনেকটা মানুষের মতো দেখতে, কিন্তু পুরোপুরি নয়। " কথা বলতে শুরু করলো জর্জ নিরবতা ভেঙ্গে। "আরেকটু খুলে বলি -ওর মাথাটা বাদ দিয়ে শুধু বাকি অংশটুকু মানুষের শরীরের মত।" হাতে ধরে থাকা ঘাসটা খানিকক্ষণ দেখল জর্জ চেয়ে চেয়ে।তারপর ঘাসটা ফেলে দিল বেড়ার অন্য পাশে। "ওর মাথাটা আসলে অন্যরকম। আমার সৌভাগ্য ওটাকে কাছ থেকে দেখতে হয়নি। খুব ভয়ংকর, জানো? কুচকুচে কালো..... জ্বল জ্বলে চোখ.... একটু দূর থেকে দেখলে চোখটাই দেখা যায় কেবল।আর ফটফটে সাদা সেই চোখে আর কিছু নেই। মনি নেই, কিছু নেই। আর একটা ব্যাপার- " নিজের মাথাটা এবার চেপে ধরল জর্জ। "মাথায় বিশাল বড় শিং!"
এবার অবাক না হয়ে পারল না জন। "শিং?! কি বলছো জর্জ?"
"সত্যি।" দৃঢ় গলায় বলে উঠল জর্জ।
"আমি এতক্ষণ ভাবছিলাম যে, বাস্তবিক কিছু নিয়ে কথা বলছো তুমি। যদিও একটু কাল্পনিক মনে হয়েছে বিষয়টা। আসলে তো দেখছি এটা ওই বড় পাওয়ালা ভূত বা জার্সি ডেভিলের যে লোককথা শুনতে পাওয়া যায়, অনেকটা সেরকম ব্যাপার। ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনের মাঠ দেখল জর্জ। হাত তুলে আড়মোড়া ভাঙল।
"আজ অনেক খাটুনি গেছে জন, পরে আবার কথা হবে।"
খেয়াল হলো জনের এবার। ওর নিজেরও কি প্রচণ্ড খাটুনি গেছে। ও যা শুনল এইমাত্র, সেটার প্রভাবও ফেলতে পারছে না আসলে তেমন করে মনে। এমনিতে জর্জ খুব একটা গল্প গল্প করে না কারো সাথে। কিন্তু কিছু একটা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে ওর আজ। জন কাজে ফিরে এলেও জর্জ তখনও বেড়ার কাছেই ঠায় দাঁড়িয়ে আছে দেখতে পেল জন। হঠাৎ মাথাটা একটু ঝাঁকালো। তারপর অদ্ভুত একটা কণ্ঠস্বরে বলে উঠলো, "খামারের ওই পাশে একটা ক্রাব আপেলের গাছ আছে, দেখেছো?"
হুইলবারোর দিকে এগিয়ে যেতে যেতে থেমে পড়লো জন।!"হ্যাঁ, দেখেছি। কি ব্যাপার?"
এবার বেড়ার কাছ থেকে সরে এসে জনের কাছে চলে এলো জর্জ। "ওখানেই কিন্তু আসলে তাকে দেখেছিলাম আমি জানো? একদিন রাত্তির হয়ে গেল কাজ করতে করতে। তখন প্রায় নয়টা বাজে- না, আরো বেশি। প্রায় দশটা। ট্রাকে বসে সিগারেট টানছিলাম। রেডিও চলছিল। প্রচণ্ড রকমের ক্লান্ত ছিলাম। জানালা দিয়ে সিগারেটের টুকরোটা ফেলে দিলাম। তারপর হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়লাম। পনের-বিশ মিনিট পরে ঝিমুনি কেটে গেল আমার। চোখ খুলে প্রথমেই আমার মনে হলো যে আশেপাশে কিছু একটা গোলমাল হয়েছে। পুরো খামারটা অন্ধকার। দূরে একটা দুটো আলো জ্বলছে। রাস্তায় চাঁদ ছিল না, তবুও বেশ দেখা যাচ্ছিল। তারপর উঠে বসলাম গা ঝাড়া দিয়ে। রওনা হলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। গাড়িটা স্টার্ট দেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে একবার তাকালাম এদিকে। তখনই কিছু একটা চোখে পড়ল। বড় কিছু ওই গাছটার নিচে দাঁড়ানো। প্রথমে মনে হচ্ছিল মানুষ, কিন্তু খেয়াল হলো আমি ছাড়া সেই মুহূর্তে কেউ নেই খামারে। আর কি লম্বা লম্বা লম্বা হাত পা! গায়ে একটা সুতাও নেই।"
প্রথমে মনে হল রাস্তায় কোন অ্যাক্সিডেন্ট করেছিল লোকটা, বা কোন মাতাল লোক হবে। প্রায় নামতে যাচ্ছিলাম ট্রাক থেকে, ওর কাছে যাওয়ার জন্য। তখনি নড়ে উঠলো গাছটা, যেন গাছের ডালে কেউ নড়ছে। নুয়ে পড়তে শুরু করেছে ডাল। অথচ গাছে কেউ নেই। ইঁদুর, কাঠবিড়ালি কিচ্ছু না। হঠাৎ দেখি, ওই জিনিসটা মাথার শিং দিয়ে ডাল থেকে ফল পাড়ার চেষ্টা করছে। তাহলে বোঝো, কত লম্বা! হঠাৎ দেখি ফটফটে সাদা দুটো চোখ মেলে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছিল যেন দুটো গাড়ির হেডলাইট! ঝড়ের বেগে ছুটে বেরিয়ে গেলাম ভয় পেয়ে। আরেকটু হলে নালায় পড়তে যাচ্ছিল আমার গাড়িটা। বাড়ি না পৌঁছানো পর্যন্ত আর গাড়ির আয়নার দিকে তাকাইনি। ভয়ে রাত্তিরে ঘুমোতে পারিনি, জানো?"
সব কথা বলার পর একটু যেন স্বস্তি পেল জর্জ। যেন বুকটা একটু হালকা হয়েছে ওর। যেন এই কথাগুলো কাউকে বলার বড্ড প্রয়োজন ছিল। হয়তো সুযোগ পায়নি, অন্যরা হয়তো জনের মত এত কম বয়সী না, হয়তো এতটা মনোযোগ দিয়ে কথাগুলো কেউ শুনতো না।
জনকে কোন মন্তব্য করার সুযোগ না দিয়ে সোজা পার্কিংয়ের দিকে এগিয়ে গেল জর্জ। "যাকগে, আমি যাচ্ছি। তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে ভালয় ভালয় বাড়ি চলে যাও বাছা। টমের জন্য বসে থেকো না। হাত দুটো পকেটে ঢুকিয়ে সোজা এগিয়ে গেল হন হন করে জর্জ।
25/10/2024
24/10/2024
25/09/2024
27/11/2023
11/07/2020