ভুত এবং পিশাচ এর কাহিনী

ভুত এবং পিশাচ এর কাহিনী

Share

ভুতের রাজ্যে আপনাকে স্বাগতম।

26/10/2024

দ্য হান্টিং অফ রেইনিয়ার অ্যাসাইলাম
লেখক এ্যামব্রোজ ইবসেন
ভাষান্তর অসীমা দত্ত
৩.(ক)
আলোটা মরে আসছিল ধীরে ধীরে।মেঘাচ্ছন্ন আকাশটাতে কমলা রঙের আভা। খুব শিগগিরই রাত নামবে। তার আগেই জন চেয়েছিল হাতের কাজটা শেষ করতে। মাঠের উপর দিয়ে হুইলবারোটা ঠেলে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল সে স্টোরুমের দিকে। খাবারের বস্তা গুলো দেখার চেষ্টা করছিল। অন্ধকার হয়ে আসা ঘরটাতে হুইলবারোটা দরজার কাছে রেখে দিল। হাত পা ব্যথা করছে বেচারার। হুইলবারোটা রেখে আড়মোড়া ভাঙলো ব্যথা কমানোর জন্য।
মাত্র একটা সপ্তাহ হল এই কাজটা নিয়েছে সে। অথচ এখনই বিরক্ত হয়ে আসছে মনটা। এই ২২ বছর বয়সে ওর হয়তো কলেজে পড়ার কথা। তা না করে শূকরের খামারে কাজ করছে। এর আগে একটা ক্যাফেতে কফি পরিবেশনের কাজ করতো। এখানে বেতনটা বেশ আকর্ষণীয়, তবে কাজটা প্রচন্ড পরিশ্রমের।
কাজের প্রথম দিনে এক বাক্স খাবার নিজের পায়ের উপর ফেলে দিয়েছিল জন। নখটা এখনো কালো হয়ে আছে। দিন দিন হাত গুলো কেমন রুক্ষ হয়ে যাচ্ছে। মুখ আর ঘাড় কালো হয়ে গিয়েছে রোদে পুড়ে। কাজ শেষে যখন এক একটা সন্ধ্যায় ও বাড়ি ফেরে, দীর্ঘক্ষণ ধরে স্নান করেও পুরো ফ্রেশ হয়ে উঠতে পারে না। বরং যেন মনে হয় এই মাঠটা তখনও ওর গায়ে লেগে থাকে। এমনকি ঘুমের ভেতরেও শুকরের ঘোঁৎ ঘোঁৎ শব্দ শুনতে পায় সে।
আরও কিছু মানুষ খামারে কাজ করে জনের সাথে। মালিক গাস্ট বুড়ো। কাজকর্ম ঠিকমতো চলছে কিনা দেখতে এসেছিলেন কয়েকবার। কাজের কোন ভুল তিনি ধরতে পারেন নি জনের। আরো দুজন হলেন জর্জ আর টাইরোন। এরা বহু বছর ধরে কাজ করছে।ওরা কাজ করতে ভালোবাসে বেশি। তাই জনেরও প্রতিদিনই আগের চেয়ে খানিকটা বেশি দেরি হয়ে যায় বাড়ি ফিরতে। আজ কোন ভাবেই জন চাইছে না আগের দিনের চেয়ে বেশি দেরি করে বাড়ি ফিরতে। স্টোররুমের দেয়ালে হেলান দিয়ে পকেট থেকে সিগারেট বের করে কয়েকটা টান দেওয়ার পর চুলে আঙ্গুল চালালো সে। বেড়ার অন্য পাশে খামারবাড়িটার ওই দিকটা কেমন আশ্চর্য রকমের শান্ত, নিস্তব্ধ হয়ে আছে। খুব বেশি দূরে চোখও যায় না অবশ্য।
সিগারেটটা আরো একটা টান দিয়ে দূরে তাকালো জন। ভাবছে এই বিদঘুটে কাজটা ছেড়ে দেওয়া যায় কিনা। বড্ড বেশি খাটুনি। অসহ্য লাগছে ওর। শুধু বেতনটাই ভাল, এই যা। তাও কিনা আবার এখন পর্যন্ত হাতেও সে পায়নি। আর কিছু নেই ভালো লাগার। এ কাজটা ছেড়ে দিলে হয়তো আবার ক্যাফেটেরিয়ায় কফি পরিবেশনের কাজটা ও পেয়ে যাবে। ওখানে বেতন বড্ড কম, তবু....
সমস্ত ভাবনায় অকস্মাৎ ছেদ পড়লো জনের। অদ্ভুত কিছু নজরে পড়েছে ওর। বড় আকারের কিছু একটা যেন দেখতে পাচ্ছে খামারবাড়িটার ওইপাশে সে। আধা মাইল খানেক দূরে যেন খুব বড়, পুরনো কোন একটা বিল্ডিং দেখা যাচ্ছে ঝাপসা।
কিছুটা সন্ধ্যার আঁধার আর কতগুলো ওক গাছের আড়াল পড়ার কারণে ভালো বুঝতে পারছিল না জন। তবে পাথুরে, অন্ধকার বিল্ডিংটা দেখে যে কারো মনে হয়ে থাকতে পারে ওটা মধ্যযুগীয় কোন স্থাপনা। সিগারেটের ছাইটুকু ঘাসের উপর ঝেড়ে ফেলে খামারবাড়িটার সীমানাবেড়ার দিকে কয়েক পা এগিয়ে গেল এবার ছেলেটা। বিল্ডিংটা কতটা বড়, কতটা উঁচু সেটা বোঝার চেষ্টা করল। আর বুঝতে পারল, ওর ধারণা থেকে ঢের বেশি উঁচু এবং বড় এই ইমারত। যেন এক প্রকাণ্ড দুর্গ। সিগারেটে শেষ কয়েকটা টান দিতে দিতে বেড়ার পাশ ধরে আনমনে হাঁটছিল জন। এখানে কাজ নেয়ার পর এই কয়েকটা সপ্তাহের ভিতর একবারও কারো মুখে ওই বিল্ডিং এর ব্যাপারে কোন কথা শুনতে পায়নি সে। এই শূকরের খামারের সাথে নিশ্চয়ই কোন সম্পর্ক নেই ওই বিশালাকার ইমারতের। সিগারেটের অবশিষ্ট টুকরোটা মাটির সাথে পিষে হুইলবারোটার দিকে রওনা হল। জর্জকে খুঁজছিল সে মনে মনে।
" আলসেমী করছো দেখছি?" গেঞ্জির কিনারা দিয়ে কপালের ঘাম মুছলো জর্জ। "এরকম করে হয় না, বুঝলে?"
"জানি তো!" জিন্সের প্যান্টটা একটু গুটিয়ে নিয়ে কাজের জন্য প্রস্তুত হলো জন।
"এই যে সিগারেট টানছো, এতে কোন ক্ষতি নেই, তাই না?" জর্জের চোখ জনের পকেটের উপর। "আমি কি একটা পেতে পারি?"
"ও, নিশ্চয়ই!" একটা সিগারেট ওর দিকে এগিয়ে দিল জন।
"অনেক ধন্যবাদ তোমাকে।" বেড়ার একটা খুঁটির উপর হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছে জর্জ।
হুইলবারোতে খাবারের বস্তা না তুলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছিল জন। ওর চোখটা দূরে তখনো। পাথরের বিল্ডিংটার উপরে। "এবার বলতো," হাত দিয়ে দুর্গাকার বিল্ডিংটা সে দেখালো। "ওটা কি, তুমি জানো? দেখে মনে হচ্ছে একটা দুর্গ?"
ঘাড় বেঁকিয়ে দেখলো বিল্ডিংটাকে জর্জ। তারপর ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করল, "ও আচ্ছা, ওটা?" একমুখ ধোঁয়া ছেড়ে হাসলো একটু। "আর জানতে চেয়ো না, বুঝলে? তুমি নতুন মানুষ।" তারপর লম্বা করে একটা টান মারলো সিগারেটে। "আর যাই হোক ওটা কিন্তু কোন দুর্গ টুর্গ না!"
মুখ থেকে সিগারেটটা বের করে এনে একটু দেখল জর্জ। একটু হাসলো বিল্ডিংটার দিকে চেয়ে। "আচ্ছা, এক সপ্তাহ তো হয়ে গিয়েছে তুমি এসেছ এখানে। এবার বলা যায়। মনে হয় খুব একটা খারাপ হবে না। তাছাড়া যেহেতু রাত পর্যন্ত তোমাকে এখানে কাজ করতে হবে...." আবার হাসল জর্জ অদ্ভুত ভঙ্গিতে। "অনেক বছর আগে.... তোমা, আমার জন্মেরও আগের ঘটনা। সত্যি বলতে কি, ওটা একটা মানসিক হাসপাতাল ছিল।"
"এ্যাঁ?" বেড়ার গায়ে একটা কনুই রেখে জিজ্ঞাসা করলো জন অবাক হয়ে। "পাগলা গারদ? মানে বলছো যে, ওটা একটা মানসিক হাসপাতাল ছিল?"
মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল জর্জ। "তাই তো বললাম, নাকি?" একবার দেখল বিল্ডিংটাকে। "কে জানে, কবে থেকে ওটা ওরকম বন্ধ হয়ে আছে। পরিত্যক্ত। এখন তেমন কিছু আর শোনা যায় না ওটাকে নিয়ে। তবে গাস্ট বুড়ো কিছু কথা বলেছিল আমাকে। সে নিজে অবশ্য একটা দুটো কথা জানে ওটার ব্যাপারে। সেগুলো কিন্তু ভালো কথা নয়।"
"আমাকে বোকা বানাচ্ছো না তো?"
জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট চাটলো জর্জ। মাথায় পেঁচিয়ে রাখার রুমালটা খুলে পকেটে রেখে দিল। "শুনেছি শয়তানের উপাশকদের আড্ডা ছিল। ঐরকম কিছু হবে আর কি। পরে একসময় বন্ধ হয়ে গেল এ্যাসাইলামটা। আইনবিরোধী কাজকর্ম চলত, সেগুলো জানাজানি হয়ে গেছিল।ওদের কয়েকজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। এসব কথা শোনা যায়।"
"কি বলতে চাইছ, বলতো?"
হেসে মাথা ঝাঁকালো জর্জ। "তোমার কি মনে হচ্ছে শুনে? ওখানে যা কাজ করতো তারা প্রেতসাধনা করত। এখনো নাকি একটা প্রেত ওখানে রয়ে গেছে। আমি অবশ্য নিজের চোখেও একবার দেখেছি ওটাকে। সত্যিই দেখলাম। ও হেঁটে হেঁটে এই খামারবাড়ির কাছাকাছি আসছে আসছে। এ কারণে গাস্ট বুড়ো বছরে এক দুইবার প্রিস্ট ডেকে আনে এখানে। খামারবাড়িটা যাতে পিশাচের নজর থেকে সুরক্ষিত থাকে। সে চায় না এখানে শয়তান হানা দিক।"
এবার জনের হাসার পালা। "কি সব ধ্যান-ধারণা!"
সিগারেটের ভুক্তাবশেষটা বেড়ার ওপাশে ছুঁড়ে ফেলল জর্জ। মুখে একটা হালকা বিষাদের ছায়া পড়েছে এবার ওর। "হয়তো শুনতে একটু গুজবের মতই মনে হবে। কিন্তু ঘটনাটা গুজব নয়। আমি কিন্তু নিজের চোখে দেখেছি। তুমি টাইরোনকেও জিজ্ঞাসা করে দেখো। ওই বুড়ো তো একবার না। বারকতক দেখে ফেলেছে ওটাকে। একটা নামও আছে শয়তানটার। নাইটগার্ড টম। এর জন্যই তো গাস্ট সব সময় বলে -তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে বাড়ি চলে যাও, নয়তো নাইটগার্ডের সাথে দেখা হয়ে যাবে। এটা কিন্তু কথার কথা না। যদিও আসল ঘটনা কি, সেটা আমি জানিনা। শুধু জানি, ওটা সত্যি একটা পিশাচ।"
দূরের ঝাপসা অবয়বটার দিকে একবার চেয়ে দেখল জন। "বুঝলাম। আচ্ছা, ওই পিশাচটা দেখতে কিরকম বলতো?"
লম্বা একটা ঘাসের ডগা ছিঁড়ে বেড়ার গায়ে হাত রাখল জর্জ। "ভয়ংকর এক দু:স্বপ্ন।" সোজা বলে দিল সে। "মানুষের মত একটা শরীর আছে, তা ঠিক। তবে অনেক বেশি লম্বা। প্রায় সাত ফুট হবে। আর মাথাটা অন্যরকম।"
"মাথা?" হেসে ফেলল জন। "কেন, ওর মাথাটা কি বড় রকমের কিছু?"
এবার আর সোজাসাপ্টা উত্তর দিল না জর্জ। চুপ করে রইল দীর্ঘক্ষণ। মুখটাতে খানিকটা অসন্তোষের ছায়া। "তোমাকে তো বললামই, ও অনেকটা মানুষের মতো দেখতে, কিন্তু পুরোপুরি নয়। " কথা বলতে শুরু করলো জর্জ নিরবতা ভেঙ্গে। "আরেকটু খুলে বলি -ওর মাথাটা বাদ দিয়ে শুধু বাকি অংশটুকু মানুষের শরীরের মত।" হাতে ধরে থাকা ঘাসটা খানিকক্ষণ দেখল জর্জ চেয়ে চেয়ে।তারপর ঘাসটা ফেলে দিল বেড়ার অন্য পাশে। "ওর মাথাটা আসলে অন্যরকম। আমার সৌভাগ্য ওটাকে কাছ থেকে দেখতে হয়নি। খুব ভয়ংকর, জানো? কুচকুচে কালো..... জ্বল জ্বলে চোখ.... একটু দূর থেকে দেখলে চোখটাই দেখা যায় কেবল।আর ফটফটে সাদা সেই চোখে আর কিছু নেই। মনি নেই, কিছু নেই। আর একটা ব্যাপার- " নিজের মাথাটা এবার চেপে ধরল জর্জ। "মাথায় বিশাল বড় শিং!"
এবার অবাক না হয়ে পারল না জন। "শিং?! কি বলছো জর্জ?"
"সত্যি।" দৃঢ় গলায় বলে উঠল জর্জ।
"আমি এতক্ষণ ভাবছিলাম যে, বাস্তবিক কিছু নিয়ে কথা বলছো তুমি। যদিও একটু কাল্পনিক মনে হয়েছে বিষয়টা। আসলে তো দেখছি এটা ওই বড় পাওয়ালা ভূত বা জার্সি ডেভিলের যে লোককথা শুনতে পাওয়া যায়, অনেকটা সেরকম ব্যাপার। ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনের মাঠ দেখল জর্জ। হাত তুলে আড়মোড়া ভাঙল।
"আজ অনেক খাটুনি গেছে জন, পরে আবার কথা হবে।"
খেয়াল হলো জনের এবার। ওর নিজেরও কি প্রচণ্ড খাটুনি গেছে। ও যা শুনল এইমাত্র, সেটার প্রভাবও ফেলতে পারছে না আসলে তেমন করে মনে। এমনিতে জর্জ খুব একটা গল্প গল্প করে না কারো সাথে। কিন্তু কিছু একটা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে ওর আজ। জন কাজে ফিরে এলেও জর্জ তখনও বেড়ার কাছেই ঠায় দাঁড়িয়ে আছে দেখতে পেল জন। হঠাৎ মাথাটা একটু ঝাঁকালো। তারপর অদ্ভুত একটা কণ্ঠস্বরে বলে উঠলো, "খামারের ওই পাশে একটা ক্রাব আপেলের গাছ আছে, দেখেছো?"
হুইলবারোর দিকে এগিয়ে যেতে যেতে থেমে পড়লো জন।!"হ্যাঁ, দেখেছি। কি ব্যাপার?"
এবার বেড়ার কাছ থেকে সরে এসে জনের কাছে চলে এলো জর্জ। "ওখানেই কিন্তু আসলে তাকে দেখেছিলাম আমি জানো? একদিন রাত্তির হয়ে গেল কাজ করতে করতে। তখন প্রায় নয়টা বাজে- না, আরো বেশি। প্রায় দশটা। ট্রাকে বসে সিগারেট টানছিলাম। রেডিও চলছিল। প্রচণ্ড রকমের ক্লান্ত ছিলাম। জানালা দিয়ে সিগারেটের টুকরোটা ফেলে দিলাম। তারপর হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়লাম। পনের-বিশ মিনিট পরে ঝিমুনি কেটে গেল আমার। চোখ খুলে প্রথমেই আমার মনে হলো যে আশেপাশে কিছু একটা গোলমাল হয়েছে। পুরো খামারটা অন্ধকার। দূরে একটা দুটো আলো জ্বলছে। রাস্তায় চাঁদ ছিল না, তবুও বেশ দেখা যাচ্ছিল। তারপর উঠে বসলাম গা ঝাড়া দিয়ে। রওনা হলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। গাড়িটা স্টার্ট দেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে একবার তাকালাম এদিকে। তখনই কিছু একটা চোখে পড়ল। বড় কিছু ওই গাছটার নিচে দাঁড়ানো। প্রথমে মনে হচ্ছিল মানুষ, কিন্তু খেয়াল হলো আমি ছাড়া সেই মুহূর্তে কেউ নেই খামারে। আর কি লম্বা লম্বা লম্বা হাত পা! গায়ে একটা সুতাও নেই।"
প্রথমে মনে হল রাস্তায় কোন অ্যাক্সিডেন্ট করেছিল লোকটা, বা কোন মাতাল লোক হবে। প্রায় নামতে যাচ্ছিলাম ট্রাক থেকে, ওর কাছে যাওয়ার জন্য। তখনি নড়ে উঠলো গাছটা, যেন গাছের ডালে কেউ নড়ছে। নুয়ে পড়তে শুরু করেছে ডাল। অথচ গাছে কেউ নেই। ইঁদুর, কাঠবিড়ালি কিচ্ছু না। হঠাৎ দেখি, ওই জিনিসটা মাথার শিং দিয়ে ডাল থেকে ফল পাড়ার চেষ্টা করছে। তাহলে বোঝো, কত লম্বা! হঠাৎ দেখি ফটফটে সাদা দুটো চোখ মেলে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছিল যেন দুটো গাড়ির হেডলাইট! ঝড়ের বেগে ছুটে বেরিয়ে গেলাম ভয় পেয়ে। আরেকটু হলে নালায় পড়তে যাচ্ছিল আমার গাড়িটা। বাড়ি না পৌঁছানো পর্যন্ত আর গাড়ির আয়নার দিকে তাকাইনি। ভয়ে রাত্তিরে ঘুমোতে পারিনি, জানো?"
সব কথা বলার পর একটু যেন স্বস্তি পেল জর্জ। যেন বুকটা একটু হালকা হয়েছে ওর। যেন এই কথাগুলো কাউকে বলার বড্ড প্রয়োজন ছিল। হয়তো সুযোগ পায়নি, অন্যরা হয়তো জনের মত এত কম বয়সী না, হয়তো এতটা মনোযোগ দিয়ে কথাগুলো কেউ শুনতো না।
জনকে কোন মন্তব্য করার সুযোগ না দিয়ে সোজা পার্কিংয়ের দিকে এগিয়ে গেল জর্জ। "যাকগে, আমি যাচ্ছি। তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে ভালয় ভালয় বাড়ি চলে যাও বাছা। টমের জন্য বসে থেকো না। হাত দুটো পকেটে ঢুকিয়ে সোজা এগিয়ে গেল হন হন করে জর্জ।

25/10/2024

দ্য হান্টিং অব রেইনিয়ার এসাইলাম
লেখক: এ্যামব্রোজ ইবসেন
ভাষান্তর: অসীমা দত্ত
২.
তখন সবে ভোর। ক্লান্ত, বিধ্বস্ত স্যাডি আর অগাস্ট। প্রচন্ড মানসিক চাপ, তাড়া করে ফেরা এক অজানা আতঙ্ক, ভালো ঘুম না হওয়া ওদেরকে শ্রান্ত, অবসন্ন করে তুলেছে।
সংক্ষিপ্ত নাস্তা সেরে পা টেনে টেনে কিচেন থেকে বেরিয়ে এলো অগাস্ট। রাতভর সোফায় শুয়ে শরীরে ব্যথা হয়ে গিয়েছে বেচারার। কাতরে উঠছে থেকে থেকে। "একটু টিভি দেখি? " রিমোটের দিকে হাত বাড়াতে বাড়াতে জিজ্ঞাসা করল সে।
"হ্যাঁ, নিশ্চয়ই।" স্যাডির নিজের বিন্দুমাত্র ইচ্ছা ছিল না টিভি দেখার। তবুও অস্বস্তি ভরা গুমোটে নৈ:শব্দের চেয়ে অন্তত টিভি থেকে আসা আওয়াজটাও শুনতে ভালো লাগবে বলে মনে হল তার।
আড়মোড়া ভাঙল অগাস্ট। "এ সময়ে তেমন ভালো কিছু থাকার কথা না। তবু দেখি।" টিভিটা চালু হতেই বিভিন্ন চ্যানেলে ঘুরতে শুরু করল সে। টকশোগুলো এড়িয়ে গেল। বিজ্ঞাপনদাতাদের স্পন্সর করা মুভি আর ন্যাচারশোগুলো পাশ কাটিয়ে গেল। মিনিট দশেক ধরে এই চ্যানেল ওই চ্যানেল ঘুরে ফিরে এসে খবরের একটা চ্যানেলে এসে স্থির হল। স্যাড়ির দিকে তাকাল একবার। "ভালো! মনে হচ্ছে সারা সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি চলবে!"
কিচেনের টেবিলে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল স্যাডি। পেস্ট্রি খাওয়ার চেষ্টা করছিল। বিস্বাদ পেস্ট্রিটা পেটের দায়ে গিলছিল কোন রকমে। সমস্ত দিন হয়তো প্রিয় চেয়ারটাতে বসে বসেই কাটবে ওর। শরীরে একটু জ্বালানির প্রয়োজন।
ইয়াং রিপোর্টারকে সংবাদ পরিবেশন করতে দেখল স্যাডি। গ্রামের দৃশ্য দেখাচ্ছে। কথা বলছে রিপোর্টার-"আমি যে জায়গাটাতে এই মুহূর্তে রয়েছি, সেই জায়গাটার নাম হচ্ছে টিফিন। ইন্ডিয়ানার ভিতরে অবস্থিত এটি। শুক্রবার রাত থেকে একজন শ্রমিক নিখোঁজ আছেন। সন্ধ্যার খানিকক্ষণ আগে তাকে শেষবারের মতো দেখেছিল তার একজন সঙ্গী। জন ফোর্ড নামক সেই শ্রমিকের খোঁজে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।পুলিশ ধারনা করছে যে, তার সাথে খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারে। কারণ, তার গাড়িটা দেখতে পাওয়া গিয়েছে একটা নালার কাছে। কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান চালিয়েছে এবং বলেছে কেউ সন্ধান পেলে যেন তাদেরকে জানায়। শূকরের খামার আর তার আশেপাশের জায়গাগুলোতে খোঁজ চালানো হয়েছে। এখানেই রয়েছে সুদীর্ঘদিন আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া রেইনিয়ার এ্যাসাইলামের পরিত্যক্ত বিল্ডিংটি। তবে কোন সন্ধান মিলে নি নিখোঁজ যুবকের।
জায়গাটা তখনও দেখানো হচ্ছে টিভির পর্দায়। লাফিয়ে বেরিয়ে এল স্যাডি কিচেন থেকে। "দাঁড়াও, দাঁড়াও! কি বলল জায়গাটার নাম? রেইনিয়ার এ্যাসাইলাম?"

লেখক: এ্যামব্রোজ ইবসেন
ভাষান্তর: অসীমা দত্ত
২.
তখন সবে ভোর। ক্লান্ত, বিধ্বস্ত স্যাডি আর অগাস্ট। প্রচন্ড মানসিক চাপ, তাড়া করে ফেরা এক অজানা আতঙ্ক, ভালো ঘুম না হওয়া ওদেরকে শ্রান্ত, অবসন্ন করে তুলেছে।
সংক্ষিপ্ত নাস্তা সেরে পা টেনে টেনে কিচেন থেকে বেরিয়ে এলো অগাস্ট। রাতভর সোফায় শুয়ে শরীরে ব্যথা হয়ে গিয়েছে বেচারার। কাতরে উঠছে থেকে থেকে। "একটু টিভি দেখি? " রিমোটের দিকে হাত বাড়াতে বাড়াতে জিজ্ঞাসা করল সে।
"হ্যাঁ, নিশ্চয়ই।" স্যাডির নিজের বিন্দুমাত্র ইচ্ছা ছিল না টিভি দেখার। তবুও অস্বস্তি ভরা গুমোটে নৈ:শব্দের চেয়ে অন্তত টিভি থেকে আসা আওয়াজটাও শুনতে ভালো লাগবে বলে মনে হল তার।
আড়মোড়া ভাঙল অগাস্ট। "এ সময়ে তেমন ভালো কিছু থাকার কথা না। তবু দেখি।" টিভিটা চালু হতেই বিভিন্ন চ্যানেলে ঘুরতে শুরু করল সে। টকশোগুলো এড়িয়ে গেল। বিজ্ঞাপনদাতাদের স্পন্সর করা মুভি আর ন্যাচারশোগুলো পাশ কাটিয়ে গেল। মিনিট দশেক ধরে এই চ্যানেল ওই চ্যানেল ঘুরে ফিরে এসে খবরের একটা চ্যানেলে এসে স্থির হল। স্যাড়ির দিকে তাকাল একবার। "ভালো! মনে হচ্ছে সারা সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি চলবে!"
কিচেনের টেবিলে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল স্যাডি। পেস্ট্রি খাওয়ার চেষ্টা করছিল। বিস্বাদ পেস্ট্রিটা পেটের দায়ে গিলছিল কোন রকমে। সমস্ত দিন হয়তো প্রিয় চেয়ারটাতে বসে বসেই কাটবে ওর। শরীরে একটু জ্বালানির প্রয়োজন।
ইয়াং রিপোর্টারকে সংবাদ পরিবেশন করতে দেখল স্যাডি। গ্রামের দৃশ্য দেখাচ্ছে। কথা বলছে রিপোর্টার-"আমি যে জায়গাটাতে এই মুহূর্তে রয়েছি, সেই জায়গাটার নাম হচ্ছে টিফিন। ইন্ডিয়ানার ভিতরে অবস্থিত এটি। শুক্রবার রাত থেকে একজন শ্রমিক নিখোঁজ আছেন। সন্ধ্যার খানিকক্ষণ আগে তাকে শেষবারের মতো দেখেছিল তার একজন সঙ্গী। জন ফোর্ড নামক সেই শ্রমিকের খোঁজে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।পুলিশ ধারনা করছে যে, তার সাথে খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারে। কারণ, তার গাড়িটা দেখতে পাওয়া গিয়েছে একটা নালার কাছে। কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান চালিয়েছে এবং বলেছে কেউ সন্ধান পেলে যেন তাদেরকে জানায়। শূকরের খামার আর তার আশেপাশের জায়গাগুলোতে খোঁজ চালানো হয়েছে। এখানেই রয়েছে সুদীর্ঘদিন আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া রেইনিয়ার এ্যাসাইলামের পরিত্যক্ত বিল্ডিংটি। তবে কোন সন্ধান মিলে নি নিখোঁজ যুবকের।
জায়গাটা তখনও দেখানো হচ্ছে টিভির পর্দায়। লাফিয়ে বেরিয়ে এল স্যাডি কিচেন থেকে। "দাঁড়াও, দাঁড়াও! কি বলল জায়গাটার নাম? রেইনিয়ার এ্যাসাইলাম?"

24/10/2024

দ্য হান্টিং অব রেইনিয়ার এ্যাসাইলাম
মূল লেখক: এ্যামব্রোজ ইবসেন
ভাষান্তর: অসীমা দত্ত
১.
পাথরের মতো চুপচাপ বসেছিল ওরা দুজন স্যাডির এ্যাপার্টমেন্টে। নিঃশব্দে জানালা দিয়ে চেয়ে চেয়ে দেখছিল কেমন করে দিনের শেষ আলোটুকু মিলিয়ে যায় সন্ধ্যার আঁধারে । স্যাডি ওর প্রিয় চেয়ারটাতে ,আর অগাস্ট একটা সোফার উপরে এমনভাবে আধশোয়া হয়ে পড়ে ছিল, যেন শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। দরজার পাশে কার্ডবোর্ডের ছোট্ট বাক্সটা পড়ে আছে, যেটা রোজি দিয়েছিল স্যাডিকে।
খুশি খুশি ভাব নিয়ে শুরু হওয়ার দিনটা শেষ পর্যন্ত কি জঘন্য একটা দিনে পরিণত হয়েছে। শুরু থেকে সমস্ত দিনের স্মৃতিটা যেন ঝাপসা, গোলমেলে হয়ে উঠেছে। ছোট্ট মেয়েটার সেরে ওঠা.... হাসপাতাল থেকে রিলিজ পাওয়া উপলক্ষে একটা বারবিকিউ পার্টি আয়োজন চলছিল। তারপর সেই উৎসবের আমেজ পরিণত হলো ভয়ঙ্কর এক পরিণতিতে। টুকরো টুকরো দৃশ্য হয়ে ঘটনাটা বারবার ভেসে উঠছিল স্যাডির মনে। ওরা কেমন অসহায়ের মতো অপেক্ষা করছিল রোজির বাড়ির পিছন দিকের সেই বাগানে।অ্যাম্বুলেন্সের জন্য। না, দেরি হয়নি। বেশ দ্রুত চলে এসেছিল অ্যাম্বুলেন্সটা। তবু ধরে রাখা যায়নি ওফেলিয়াকে। অ্যাম্বুলেন্স আসার সামান্য কিছুক্ষণ আগে শেষ নিশ্বাসটা ফেলেছিল হতভাগী। চিৎকার করে বিলাপ করছিল রোজী ওর বাচ্চা মেয়েটার প্রাণহীন দেহটা ধরে। ওফেলিয়ার দুই বন্ধু এসেছিল অ্যাম্বুলেন্স আসার সাথে সাথে। এসেই প্রচণ্ড ভয় পেয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। বাতাসে তখনো মাংস পোড়ার গন্ধ ভাসছে। বোবার মত বসে রইলো কেবল স্যাডি আর অগাস্ট।
অ্যাম্বুলেন্সটা চলে যাওয়ার পর কোনরকমে পা টেনে টেনে অগাস্টের গাড়িতে এসে উঠেছিল ওরা দুজন। বিনা বাক্যব্যয়ে কেটে গেল আরো ঘন্টাখানেক সময়। অগাস্ট চেষ্টা করছিল এটা সেটা বলার, স্যাডির নৈ:শব্দ ওকে থামিয়ে দিল প্রতিবার।
প্রাথমিক আঘাতটা কেটে যাওয়ার পর ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় কথা বলে উঠলো স্যাডি। ততক্ষণে অগাস্টের গাড়িটা ওদেরকে নিয়ে পৌঁছে গিয়েছে স্যাডির অ্যাপার্টমেন্টের সামনে পার্কিংয়ে। দীর্ঘ নিরাপত্তা ভেঙে একটা বাক্য বেরিয়ে এলো স্যাডির মুখ থেকে- "ওফেলিয়া আমার জন্যই সুইসাইড করেছে, অগাস্ট!"
সাথে সাথেই প্রতিবাদ করলো অগাস্ট, "না! তোমার কোন দোষ নেই এখানে। এরকম করে বলো না। তোমার কি বা করার ছিল ওর জন্য? কি যে কি হচ্ছিল জানার তো কোন উপায় ছিল না আমাদের। কয়েকটা দিন ধরেই ওর উপর দিয়ে ঝড় বয়ে যাচ্ছিল। কেউ কি বুঝতে পেরেছিল এরকম কিছু ঘটবে? দেখ, ডাক্তাররাও ধরে নিয়েছিল যে বাড়ি ফেরার মতো সুস্থ হয়ে গেছে মেয়েটা। এখন শুধু শুধু নিজেকে দোষ দিও না।"
কি ভয়াবহক আতঙ্কে উতভ্রান্ত হয়ে এক টুকরো জ্বলন্ত কয়লা মুখে পুরে দিয়েছিল ওফেলিয়া, সেটা দেখেনি অগাস্ট। মৃত্যু যন্ত্রণায় কেমন কাতরাচ্ছিল অসহায় মেয়েটা স্যাডির কোলে শুয়ে! মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে ও যেসব কথা বলে গিয়েছিল সেটাও শুনতে পায়নি অগাস্ট। ওর মুখে ফুটে ওঠা সেই ক্ষ্যাপাটে হাসিটাও দেখেনি, যেটা দেখেছে স্যাডি। ঠিক তার পরপরই নিথর হয়ে গিয়েছিল ছোট্ট শরীরটা।
গাড়ি থেকে নেমে নীরবে বাসায় ঢুকল দুজন। দুটো চেয়ারে বসে পড়ল অবসন্নের মত। তারপর থেকে এ পর্যন্ত ডুবেই আছে সেই অখন্ড নীরবতায়।
"ও নিজেকে শেষ করে দিল।" জানালা দিয়ে দিনের শেষ আলোটুকু মিলিয়ে যাওয়া দেখতে দেখতে আবার কথাটা উচ্চারণ করলো স্যাডি। "আমার মায়ের জন্য।"
থুতনিটা একটু চুলকে উপরের দিকে তাকাল অগাস্ট। লাল হয়ে আছে চোখ দুটো। "কিন্তু এটা তো অসম্ভব!"
"মরার আগের মুহূর্তে এই কথাটাই বলে গিয়েছে ওফেলিয়া আমাকে।"
"কিন্তু এটা তো অসম্ভব...... তোমার মা মারা গেছেন তোমার জন্মের সময়ে, তাই না? এই ঘটনার সাথে তার সম্পর্ক কোথায়? তুমি হয়তো ওনাকে নিয়ে ওই স্বপ্নগুলো দেখো.... কিন্তু তাই বলে তো...."
"না, দেখতাম না।" অগাস্টের কথার মাঝখানে বলে উঠলো স্যাডি। "ওই বীকন হিলে যাওয়া, মাদার ম্যাগটের ঝামেলায় পড়ার আগে দেখিনি স্বপ্নগুলো। একই স্বপ্ন বারবার এরকম করে দেখতাম না কখনো।"
স্বপ্নগুলো ভেসে উঠতে শুরু করেছিল স্যাডির মনে। "গতকাল রাতে স্বপ্নটা আরো ভিন্ন রকম ছিল, জানো? দেখলাম সেই ছোট্ট বাক্সের মত ঘরটার দরজা খুলেছি। ভিতরে কেউ নেই। আমার মা ওখানে আর নেই এখন।"
চোখে দ্রুত বারকতক পলক ফেললো অগাস্ট। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলল শব্দ করে। "কিন্তু আজকের ঘটনার সাথে সেটার কি সম্পর্ক থাকতে পারে?"
পান্না রঙের চোখ দুটো মেলে অগাস্টের দিকে চাইল স্যাডি। "ও বলেছিল আমাকে, ও নাকি হাসপাতালে দেখেছে আমার মাকে। গতরাতে নাকি ওর বিছানার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন উনি। ঠিক সেই মুহূর্তে আমি স্বপ্ন দেখছিলাম ঘরটা ফাঁকা, আর উনি তখন ওফেলিয়ার সামনে। এরকম কিছু বলছিল মেয়েটা।" কণ্ঠ রোধ হয়ে এলো স্যাডির।অশ্রু গড়িয়ে পড়ল গাল বেয়ে। কি ভয়ংকর দৃশ্য! কি গনগনে জ্বলন্ত কয়লার খন্ডটা....
হাসির চেষ্টায় ঠোট দুটো বেঁকে গেল অগাস্টের ঠোঁট। হাসির সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হল অবশ্য ওর। "দেখো, আমি জানি যথেষ্ট ঝক্কি গিয়েছে আমাদের সবার উপর দিয়ে। কিন্তু... " মাথা ঝাঁকালো অস্থির ভঙ্গিতে অগাস্ট। "স্যাডি, এগুলো এভাবে ভাবা কিন্তু ঠিক না। এখানে তোমার মা জড়িত হতে পারেন কি করে? কেনই বা...." আবার অস্থির ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকালো। পিঠটা টানটান করে বসলো। তারপর সরাসরি স্যাডির চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন ছুড়লো, "এটা কি একটু অস্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে না? দেখো, ওফেলিয়া তো সুস্থ, স্বাভাবিক ছিল না। তাই এসব কথা এখন..."
আবার নীরব হয়ে পড়ল দুজনে। আর তর্ক করল না এ বিষয়ে স্যাডি। তর্ক করতে মন চাইছে না ওর। মাদার ম্যাগটের কুৎসিত প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসেছিল ওফেলিয়া ঠিকই কিন্তু হাসপাতালে ওর শেষ প্রহরগুলো এমন কিছুর প্রভাব প্রভাবে কেটেছিল যা ওর মনটাকে ভেঙ্গে চুরে দিয়েছিল। এমন কিছু ছিল, যা বোঝা হয়ে চেপে বসেছিল ওর মাথায়। আর সেটা থেকে মুক্তি পেতে শেষ পর্যন্ত জ্বলন্ত কয়লা গিলে খেয়ে নিয়েছিল মেয়েটা। হয়তো এসব ভাবনা মেনে নিতে পারছিল না। এবার বিস্ময় ভয় করল স্যাডির মনে। কি এমন হতে পারে, যার কারণে এরকম একটা কান্ড ঘটিয়ে ফেলল ওফেলিয়া। কি এমন, যা বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যু শ্রেয় বলে ভাবতে বাধ্য করেছিল ওকে!
মেয়েটাকে বলতে শুনেছে স্যাডি, মূর্তিমান এক বিভীষিকা এখন হেঁটে চলে বেড়াচ্ছে এই পৃথিবীর উপর দিয়ে। সে নাকি আবার স্যাডির মায়ের রূপে, অন্য কিছু নয়। ভাবনাটাকে অযৌক্তিক বলে একেবারে উড়িয়ে দিত স্যাডি, কিন্তু এই কদিনে যা যা কিছু ঘটেছে, তা থেকে ওর মনটা একটা উপসংহারেই আসতে চাইছে। সেটা হল, এই রহস্যভরা বিশাল জগতের এখনো অনেক কিছুই জানা হয়নি ওর।
সন্ধ্যা পেরোচ্ছে। একটা একটা করে নিঃশব্দ মুহূর্ত পার হচ্ছে আর ধীরে ধীরে অজানা এক আতঙ্ক যেন ছড়িয়ে পড়তে চাইছে চরাচরে। পরিস্থিতিটাকে একটু হালকা করে নেয়ার জন্যই বোধহয় প্রশ্ন করে উঠলো অগাস্ট, "আচ্ছা, এখন কি করতে চাইছো তুমি? কোথায় যাব এখান থেকে আমরা?"
উত্তর দিল স্যাডি, "কিছু না।" যেন এই উত্তরটাই প্রস্তুত ছিল। "এসব বাদ দিয়ে দেব। একটা মেয়ে তো মারাই গেল। খুব বেশি দূরে এগিয়ে গিয়েছিলাম আসলে আমরা।" শেষ পর্যন্ত এটাই ধরে নিয়েছে স্যাডি যে, এসব জিনিস এড়িয়ে চলার যে প্রচেষ্টা ও এতদিন ধরে করে এসেছে, সেটাই সঠিক ছিল। এভাবে জড়িয়ে পড়াতে মোটেও কোনো ভালো ফলাফল পাওয়া গেল না। "দেখ, আমার দাদু, দিদা শিখিয়েছিলেন এসব জিনিস এড়িয়ে চলতে। ওনাদের কথাই শোনা উচিত ছিল আমার। পালানো উচিত ছিল। ভেবে দেখো, আমি যদি এভাবে না জড়িয়ে পড়তাম, ওফেলিয়া হয়তো বেঁচে থাকত আজ। হয়তো অন্য কোথাও থেকে ঠিক চিকিৎসা পেয়ে যেত। জানাশোনা কারো কাছে যেত, যে জানতো কি করলে ও ভালো হয়ে যাবে।"
একটা বালিশ দিয়ে মুখ ঢাকলো অগাস্ট, "তাহলে তো বলতে হয় যে, আমার হাতেও খুনের রক্ত লেগেছে খানিকটা। আমিতো তোমাকে চাপাচাপি করছিলাম ঘটনাটাতে জড়াতে। আমি তোমাকে বলেছিলাম তোমার এই বিশেষ শক্তিটা কাজে লাগাতে। বলেছিলাম এ শক্তিটা যেন আর গোপন না রাখ।"
হাত নেড়ে ওকে থামাল স্যাডি। "তোমার উপদেশের প্রয়োজন ছিল না আমার। সেটা তুমিও জানো। সম্পূর্ণ দোষটা এখানে আমার। আমার যদি জন্মই না হতো, তাহলে হয়তো এই সমস্ত কিছু থেকে আমরা মুক্তি পেতাম।"
"এরকম করে বলোনা।" খুব দ্রুত প্রতিবাদ করল অগাস্ট। তোমার দোষ নেই এখানে। অন্য কারোরও না। যেটা ঘটেছে সেটা দুঃখজনক, কিন্তু তোমার নিজেকে তার জন্য দায়ী ভাবলে তো মেয়েটাকে আমরা ফিরে পাবো না, তাই না?"
খুব কষ্ট করে এবার গলা দিয়ে উঠে আসা কান্নাটাকে দমালো স্যাডি।একটু সময় নিয়ে সংযত হলো। তারপর বলল, " ও বলে গেছে আমাকে, সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে বিষয়টা এখন।" আঙ্গুল দিয়ে ভ্রু দুটো চেপে ধরল, "মাদার ম্যাগটের প্রেত যদি ধ্বংস হয়ে গিয়েই থাকে, তাহলে ওই পিশাচ আরও শক্তিশালী হলো কি করে?"
কোন উত্তর ছিল না এখন অগাস্ট এর কাছে। নত মুখে নিচের দিকে চেয়ে রইল সে। শুধু নিচু গলায় আরেকবার বলল, "তুমি এবার একটু বিশ্রাম নাও।"
আর দুর্ভাবনার ভার সহ্য হচ্ছিল না স্যাডির। হাল ছেড়ে দেওয়া ছাড়া কিই বা করবে ও। প্রিয় চেয়ারটাতে গা এলিয়ে শুয়ে পড়ল বেচারী। একটা কম্বল নিয়ে গায়ে জড়ালো। হাত দিয়ে আড়াল করল চোখ দুটোকে। খুব শিগগির ঘুমে ডুবে গেল চিন্তাক্লিষ্ট ছেলেমেয়ে দুটো।
........... ........... ..........
রোদের উষ্ণ ছোঁয়া পাচ্ছিল স্যাডি পিঠে। হাঁটু মুড়ে বসে ছিল ও ঘাসের উপর। বাতাসে ভাসছে কয়লার গন্ধ। মাটির সোঁদা গন্ধও ছিল মিশে তাতে। ওর হাতের উপরে শুয়ে আছে ওফেলিয়া। ছটফট করছে ছোট্ট মেয়েটার শরীর। মুখের উপর এসে পড়েছে অগোছালো কালো চুল। মোচড় মেরে মেরে উঠেছে ওর শরীরটা। কষ বেয়ে এক ঝলক তাজা রক্ত গড়িয়ে পড়ল। কি কারনে যেন চারপাশ অদ্ভুত রকমের নিস্তব্ধ মনে হচ্ছিল স্যাডির কাছে।
একটা ছোট্ট প্রজাপতি ওড়াওড়ি করছিল কিছুক্ষণ ধরেই। আচমকা বসে পড়ল সেটা গরম চুলার শিকের উপর। হিস করে একটা শব্দ হলো, আর সাথে সাথে পুড়ে ছাই হয়ে গেল তার সরু পা দুটো। মুখ থুবড়ে প্রাণীটা এবার পড়ল গরম শিকগুলোর উপর। কুঁকড়ে, গলে যেতে শুরু করল পাখা দুটো। এক মুহূর্তে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল ছোট্ট, সুন্দর প্রাণীটা।
খুব মৃদু একটা গোঙানির আওয়াজ ভেসে এলো ওফেলিয়ার শরীর থেকে। ওর নাক আর মুখ দিয়ে উজ্জ্বল রুবি রঙের রক্তের ধারা গড়াচ্ছে.... শরীরটা একটু মুচড়ে উঠল.....তারপর হঠাৎ হাসির ভঙ্গিতে বেঁকে গেল ঠোঁট দুটো...... বিকৃত হতে শুরু করেছে সেই হাসি..... সেই ভঙ্গিটাই রয়ে গেল নিষ্পাপ মুখটাতে শেষ পর্যন্ত।
স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে চেয়ে দেখছিল স্যাডি ওফেলিয়ার মুখটা। হালকা দেহটা তখন ওর কোলের উপর পড়ে আছে। মৃত্যুর সাথে সাথেই ভয়ানক ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিল মেয়েটার শরীরটা অদ্ভুতভাবে। স্পষ্ট টের পাচ্ছিল স্যাডি।ওর নিজের শরীরটাও শিউরে উঠল একবার। স্বপ্ন দেখছিল যেন স্যাডি।
হঠাৎই একটা মৃদু, অস্পষ্ট গুঞ্জন ভেসে এলো কোথাও থেকে। যেন বহুদূর থেকে আছে শব্দটা। এদিক-ওদিক তাকালো স্যাডি। চারিদিক দেখল মাথা ঘুরিয়ে। কিন্তু এই শব্দের উৎপত্তি কোথায়, বুঝে উঠতে পারল না কিছুতেই।
এক মুহূর্ত সময় লাগলো স্যাডির বুঝতে, কি শুনছে সে। একটা অদ্ভুত হাসির শব্দ! চাপা গলায় হাসছে কেউ! ওফেলিয়ার প্রাণহিন দেহটা থেকে আসছে সেই হাসির আওয়াজ! না, এক চুলও নড়েনি প্রাণহীন শরীরটা। বাতাসে না উড়েছে ওর চুল। তবুও স্থির হয়ে থাকা মুখের ভেতর থেকেই হাসির আওয়াজটা বের হয়ে আসছে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত স্যাডি। ওর শরীরের ভিতর থেকেই অন্য কেউ হাসছে।
খুব ধীরে কিছু একটা বেরিয়ে আসছে ওফেলিয়ার মুখ থেকে। পেট মোটা সাদা একটা লার্ভা পোকা বেরিয়ে এসেছে শরীরে রক্ত মেখে। ওফেলিয়ার রক্তাক্ত থুতনির উপর বসে যেন মুখ তুলে তাকালো স্যাডির দিকে সেই পোকা। মুখটার কাছে হালকা হলুদ রং। খুব ছোট ছোট দুটো চোখ। একটা মুখ- সেই মুখের হাসির আওয়াজই এতক্ষণ ধরে শুনতে পাচ্ছিল স্যাডি। হঠাৎ বাতাসে উড়ল পোকাটা। তারপর স্যাডির সাথে কথা বলতে শুরু করল -"সে আসছে.... তোমার সাথে দেখা করতে... আমরা অনেক বছর ধরে অপেক্ষা করছি! এবার সে আসছে তোমাকে দেখতে...."
হাসি হাসি মুখ বন্ধ করে সাপের মত শরীরটা দোলাচ্ছে লার্ভা পোকাটা।
ভয়াবহ এক বার্তা নীরবে শুনলো স্যাডি। প্রচন্ড বমি পেয়ে গেল ওর। তবু শান্ত মুখে চুপচাপ পড়ে রইল সে। হেসেই চলেছে পোকাটা। ".....সে আসছে.... আসছে....... এখানেও আসবে খুব শিগগির। এক্ষুনি আসবে.... অনেক অপেক্ষা করেছি আমরা...."
হঠাৎই স্যাডির মনে হল যেন সত্যি সেখানে আরো কেউ এসেছে। যেখানে হাঁটু মুড়ে ওফেলিয়ার মৃতদেহটা কোলে নিয়ে ও বসেছিল, সেখানে একটা দীর্ঘ ছায়া পড়েছে। ছায়াটা দেখতে পেয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো স্যাডি।
........... ............ ...........
চমকে জেগে উঠতেই গড়িয়ে চেয়ারটা থেকে মেঝেতে ধপাস করে পড়ে গেল স্যাডি। শব্দ শুনে জেগে উঠল অগাস্ট। গড়িয়ে পড়তে যাচ্ছিল সেও। ঘুম চোখে তোতলাতে তোতলাতে জিজ্ঞাসা করল, "কি...... কি হয়েছে? তুমি ঠিক আছো তো?"
কম্বল পেঁচিয়ে মেঝেতেই পড়ে রইল স্যাডি আরো খানিকক্ষণ। জানালা দিয়ে আলো দেখতে পেল সে। ভোরের আলো নাকি গোধূলির, বুঝতে পারছিল না।

25/09/2024

আসসালামু আলাইকুম, মেসে আছি। বাসা থেকে হলে আপেল কুল (বরই)এনে রুমমেট আপুকে দিয়েছি । দুজনে দুটো আম নিয়েছি। রুমমেট বিছানা থেকে দৌড়ে এসে হাত থেকে বরইটা ফেলে দিয়ে বললো এই বরই এ পোকা আছে। উনি কিন্তু এর আগে বরইটা দেখেন নাই। বরইটা কাটার পর দেখি সত্যি বড় একটা পোকা। উনি কিভাবে জানলেন?

১২ টায় লাইট অফ করে ঘুমিয়ে যায়। কিন্তু মাঝে মাঝে দেখি উনি অন্ধকারে বিছানা থেকে উঠে জানালার পাশে বসে হাত নাড়াচাড়া করছেন । আমি জিজ্ঞেস করলে উনি বলেন আমার এ্যাজমা আছে তো সেজন্য শুয়ে থাকলে মাঝে মাঝে দম বন্ধ হয়ে আসে সেজন্য বসে থাকি। কিন্তু উনি বাইরে কাকে ইশারা করছিলেন?

রাত তিনটায় ঘুম থেকে উঠে দেখি উনি নিজের টেবিল রেখে আমার টেবিল-চেয়ারে বসে অন্ধকারে মোবাইল নিয়ে বসে আছেন। আমি তাকালে সেও বড় বড় চোখ করে তাকায় । আমি ভয়ে চোখ বন্ধ করে অন্যদিকে ফিরে নাম ধরে ডাকি উত্তর দেয় না। টেবিলের দিকে তাকালে দেখি উনি নাই।

রুমের লাইট অফ। গভীর রাতে ঘুম থেকে রুমমেটের বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখি উনি নাই । তার মানে সে বাথরুমে গিয়েছেন। আবার দেখি দরজার সিটকানি ভিতর থেকে লক করা। মানে উনি বাইরে যায়নি এগুলো দেখে আমি চিৎকার দিয়েছি। উনি হুট করে কোত্থেকে যেন আসলো । মনে হলো ওয়াশরুম থেকে কিন্তু অন্ধকারে/সুইচ অফ থাকা অবস্থায় উনি বাথরুমে কি করছিলো? কিভাবে এত তাড়াতাড়ি আসলেন?

কিছুদিন আগে এক দুপুরে ঘুমিয়ে আছি। একটা শক্ত হাতের press এ আমার বুকে একটু ব্যথা অনুভব করায় চোখ খুলে দেখি আপু ডাকছেন। কিন্তু বুকে আঘাত করে ডাকতে হবে কেন?বললো গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি তুমি থাকো। কিন্তু এই আচরণ কাম্য নয় ।

জগ ভর্তি পানি এনে মাত্র রেখেছি । আপু বাইরে থেকে এসে এক জগ পানি খেয়ে নিলেন। কিভাবে সম্ভব? আমার চেয়েও হ্যাংলা পাতলা হওয়া সত্ত্বেও রুমের আসবাবপত্র সরাতে গিয়ে উনি উঁচু করে তুলতে পারেন , আমি পারি না। এত শক্তি উনি পায় কোথায়? উনি মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও গরুর মাংস খায় না। বলেন তার, "অ্যাজমা আছে" মেনে নিলাম। কিন্তু অনেক দিন পর পর সব কাপড় খুলে দাড়িয়ে থাকে । আমি আপুকে ডাক দিয়ে ঠিক করতে বললে উনি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে । আমি কাছে গিয়ে কাপড় পরিয়ে দিয়ে শুইয়ে দিই। কিছুক্ষণ পর সে আমাকে জিজ্ঞেস করে তার কাপড় খুললে কেন?আমি বলি আপনিই তো খুলেছেন।তখন বলে কই না তো , আমার তো কিছুই মনে নাই।

এগুলো আসলে কিসের লক্ষণ? আমার কি করা উচিত?

27/11/2023

ভুতের সাথে প্রেম গেস্ট হাউস থেকে বেরোতেই একটা ভিজে সকালের সঙ্গে মোলাকাত হয়ে গেল। মধুর এমন সকাল যে কতদিন দেখিনি! তখন সূর্য সবে আড়মোড়া ভেঙেছে। কিন্তু চোখ খোলেনি। ফলে ভিজে মাটির রস শুকোতে শুরু করেনি। টাওয়ারের সামনের মোরাম ফেলা রাস্তাটা আরও বেশি লাল। চারপাশের গাছগুলো প্রবল গরমের পরে ধারাস্নানে জল ছিটিয়ে চান করা শিশুর মতো সজীব। পাখিগুলো ডেকে চলেছে একটানা। একে কচি পাতা, তার ওপরে বৃষ্টির জলে লালধুলোর আস্তর ধুয়ে গেছে। জঙ্গল যেন সেই শাড়ির বিজ্ঞাপনের মতো, ছোট্ট টিপ, হালকা লিপস্টিক আর…। ঘুরতে ঘুরতে কখন বিকাল হয়ে গেছে বুঝতে পারিনি। গ্যেস্ট হাউজ ফিরবো তখনই টায়ার পাঞ্চার। < কি করব বুঝতে পারছি না, তখনই দেখা হল এক মেয়ের সঙ্গে। জঙ্গলে কাঠ ভাঙছে। কতই বা বয়স হবে? খুব বেশি হলে আঠেরো। সুন্দর একটা লালছাপা শাড়ি পরেছে। কানে ঝুমকো দুল। চোখে-মুখে ঘুমের আলতো রেশ। এমন শাড়ি পরে জঙ্গলে কাঠ ভাঙছে? হয়তো এটাই ওর একমাত্র শাড়ি। হয়তো কাল কোনও আত্মীয়ের বাড়ি গিয়েছিল। আজ কাচার পরে তুলে রাখবে। ভুতের সাথে প্রেম ভুতের সাথে প্রেম ভালোবাসার গল্প আমি কিছু বলার আগেই মেয়েটা জিজ্ঞাসা করলো, ‘‘হরিণ দেখতে এসেছিস বাবু” । আমি বললাম “এখানে হরিন আছে নাকি” উত্তর এল, ‘’গাদা ক্যানেলের পাশে মিলবে।” আমি গাদা হরিণ দেখতে চাই না। একটি হরিণ হলেও চলবে। উৎসাহ নিয়ে বললাম “এখন হরিণের দেখা মিলবে!” ও বললো ” আজতো পূর্নীমা দেখতে পাবি বাবু, হরিন অনেক “ বাইকের দিকে তাকিয়ে বললাম “না আজ থাক, বাইকের চাকা খারাপ হয়ে গেছে” ও বললো “বাবু বন বাংলো তো অনেক দূর তুই যাবি কি করে? তুই থেকে যা আমাদের ঘরে। কাল মোর বাপ তোকে, তোর বাইক নিয়ে দিয়ে আসবে গরুর গাড়ি করে।” রাজি হয়ে গেলাম। কারণ বেহিসাবি এসে পড়েছি এ জঙ্গলে এদিকে। মোবাইল ও কাজ করছে না। হরিন দেখলাম। রাতে যত্ন করে খাওয়ালো ও। ও বিছানা করে দিলো। ঘরের মেঝেতে নিচে বিছানা করলো। ওর বাবা ফেরেনি, এক ঘরে একটা যুবতী মেয়ের সাথে শুতে আপত্তি থাকলেও থাকতেই হবে। ঘরটা নিরাপদ বারন্দাটাতো নয়। লোকালয়ে অনেক দূর আমরা তাই লোক লজ্জার ভয় করে লাভ কি? বেশ ঘুম এসেছিল , একটা সুন্দর স্বপ্ন দেখছিলাম। একটি মশার কামড় হাতুড়ি মেরে যেনো ঘুম ভাঙ্গলো। তারপর আর চোখে ঘুম আসলো না আমার, আসলে আমার চোখ পড়ল ওর ওপর। প্রদীপের আলোয় মাটির ঘর টায় একটা মায়াজাল করে রেখেছে রূপকথার মতো। অসতর্ক কাপড় সরে গিয়েছে ওর শরীর থেকে। ফর্সা উরু, একটা কালো জরুল, একটা কালো তিল নাভির খুব কাছাকাছি, ব্লাউজ এর হুক ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে যৌবন। আমার উসপাশে ওরও ঘুম ভাঙ্গলো। ও আমার কাছে এসে গায়ে হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করল ” ভয়ের স্বপ্ন দেখেছিস নাকি” ওর ছোঁয়ার অজুহাত খুঁজতে আর দেরি হলো না। বুঝতে পেরেছিলাম আমি ওর জীবনের প্রথম পুরুষ। আমার জীবনে ও প্রথম নারী ছিলো না, তবু যেনো উৎসাহ শেষ হতে চায় না। কোনো কথা বাঁধা না মেনে বিয়ে করে ফেলাম ওকে পাহাড়ের উপর মন্দিরে। তিন দিন কেটে গেলো ওর বাবা ফিরলো না। আমাকে ওকে না নিয়ে ফিরতে হলো বাড়িতে। চাকুরী বাকুরি করতে হবেই , আমি বলেছিলাম ” বিদেশে থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো, তোমাকে। মাঝখানে শুধু মাস তিনেক। একটু কষ্ট করো।” কথা মতো, তিন মাস পরে আবার গেলাম ওর কাছে, মা বাবার উপহার গুলো দিলাম ও খুশি। তবু ও এলো না। খুশির খবর ছিলো ওর বাপ সেদিন বাড়ি নেই বাবা এলেই ফিরবে। ও আমাকে বললো ওদের ঐ মাসে কি একটা ব্রত আছে তাই ওর যাওয়া হবে না। ভুতের সাথে প্রেম bengali sad love story ভুতের সাথে প্রেম bengali sad love story < আবার চার মাস পর নিজের গাড়ি নিয়ে হাজির হলাম জঙ্গলে। আগের বার ও অজুহাত দেখিয়ে ছিলো প্রেগন্যান্ট অবস্থায় গাড়ি ছাড়া, ওর অসুবিধে হবে। কিন্তু গাড়ি নিয়ে যাবার পথ জানিনা। তাই গেস্ট হাউজ এর ছেলেটাকে যেতে বললাম আমার সাথে। ও সব শুনে বলল “ও জায়গায় গেলে সবার গাড়ির টায়ার পাঞ্চার হয়ে যায়। ওখানেই গল্প শেষ হয়ে যায়। আপনার গল্পের গাড়ি বিনা টায়ারে অনেক দূর চলছে। এবার ভালোয় ভালোয় বাড়ি ফিরে যান। সকালে যাবেন নাকি পাহাড়ের উপর? সেখানে কোন মন্দির খুঁজে পাওয়া গেলে, না হয় আপনি নিয়ে যাবেন আপনার বৌকে। তবে আপনার এ ঘটনা নতুন নয়, নতুন এটাই যে আপনি জীবিত এবং অক্ষত।”

11/07/2020

রাত ৩ টা ৩০ মিনিট বাজে, ওয়াশরুম থেকে ফিরে আমার রুমে এসে দেখি এক হাড়ি মিষ্টি নিয়ে একটি মেয়ে আমার বিছানার উপর বসে আছে। আমাকে দেখে খিলখিল করে হাসছে আর মিষ্টি খাচ্ছে!

আপনি কে?
হাহাহা!
এখানে কি করেন?
দেখতেই তো পাচ্ছেন মিষ্টি খাই হিহিহিহি!
এখানে কিভাবে এলেন?
উড়ে আসলাম!
মানে?
চুপ রইলো মেয়েটি! চোখ দুটো উল্টো করে রেখে আমার দিকে চেয়ে আছে।
একটু ভয় পেলাম, একটু নাহ বেশ ভয় পেলাম। আবার ও জিজ্ঞেস করলাম কে আপনি?
পরী! হিহিহি
মানে?
এতো মানে মানে না করে আসেন তো এদিকে.. দুজনে মিলে মিষ্টি খাই।

আমি গ্রামের বাড়িতে আছি হোম কোয়ারেন্টন এ। বাড়িটি দোতলা আমি ছাড়া আর কেউ নেই এই বাড়িতে। সবাই শহরে, সবার থেকে দূরে সরে আসলাম কিছু না বলে না কয়ে। আমার করোনা হয়েছে বলে কেউ আমাকে ঘৃণা করুক/অবহেলা করুক এটা আমি চাই না, আবার এটা ও চাইনা আমার জন্য কারো ক্ষতি হোক তাই সবার থেকে দূরে সরে এসে গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নিলাম। এই বাড়িতে কেউ নেই আমি ছাড়া কিন্তু মাঝরাতে এই মেয়েটিকে দেখে অবাক লাগছে। চিনি না এতো রাতে কোথায় থেকে আসলো এই মেয়েটি আর অদ্ভুত লাগছে মানুষ তো মনেই হচ্ছে না এর আচরণ, পোষাক আর চেহারা দেখে!

আসলে আপনি কে ঠিক করে বলুন তো? কিভাবে আসলেন?
তোকে না বললাম আমি কে? এই মানুষের বাচ্চা এতো প্যাচাল পারিস কেন?
আপনি জানেন না আমার করোনা ভাইরাস হয়েছে দূরে সরে যান প্লিজ, এখান থেকে যান দয়া করে।
হাহা হাহা হিহিহিহি হেহেহেহে। আমি তোমার শরীরের ভাইরাস গুলো খেয়ে ফেলতে চাই। হিহিহিহি এ কথা বলেই বিছানার উপর মেয়েটি মিষ্টির হাড়িটির ভিতর মাথা ডুকিয়ে দেয় তার মাথা যেন মিষ্টির হাড়ির ভিতর সরু হয়ে ডুকে গেল। অনেকটা সাপের মতো। একে একে তার পুরো শরীর টাই মিষ্টির হাড়ির ভিতর ডুকে গেল। আমি ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে আছি আমার পা অজান্তেই কাপছে! অন্য কেউ হলে সেখানে স্ট্রোক করতো কিংবা ফিট হয়ে যেত। আমি এগিয়ে যাই হাড়িটির দিকে মাথা ঝুকে দেখি ভিতরে হাড়ি ভর্তি মিষ্টি, মেয়েটি নেই!!!

মিষ্টি হাড়িটির পাশে বসে রইলাম, তোমার শরীরের ভাইরাস সব খেয়ে ফেলবো এই কথাটা মনে পড়লেই শরীর টা কেমন শিরশির করে উঠলো! হাড়িটি কেন জানি আমাকে খুব আকর্ষণ করছে, হাড়িটি থেকে একটি মিষ্টি তুলে খেলাম। অসাধারণ! সত্যি চমৎকার, আজীবনে কেন স্বপ্নে ও এমন মিষ্টি খাইনি কখনো। খেতে খেতে হাড়িটি প্রায় শূন্য। শেষে একটি মিষ্টি পড়ে রইলো! যখন সেটিও তুলে মুখে ভরতে যাবো তখনই চোখ পড়ে মিষ্টির গায়ে! মিষ্টির উপর পরীটির চেহারা ভাসতেছে সে হাসছে, মিষ্টির উপর পরী আমাকে একটা চোখ মারলো ওমনি মিষ্টি টি আমার মুখে লাফ দিয়েই ডুকে পড়লো আমি ভয়ে অজান্তেই ডোক গিলি..টপ করেই মিষ্টি টি আমার পেটে চলে যায়, পেট থেকে হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছে...হুহুহু..হিহিহি..হাহাহা..হুহুহহ

গল্প: আমি পরী!

______

Want your business to be the top-listed Gym/sports Facility in Mirpur?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address


Mirpur
1216