10/09/2026
রিকশা চালক থেকে কোটিপতি মালেকের মামলায় জামিন পেলেন সোহেল; বাজার কমিটির পদ দখল ও শালিস বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, আসামির অবস্থান শনাক্তের দাবি পুলিশের
প্রতিবেদক, পটুয়াখালী:
রিকশা চালক থেকে রাতারাতি অঢেল সম্পদের মালিক বনে যাওয়া চিহ্নিত মাদক কারবারি মালেকের দায়ের করা মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন প্রধান আসামি সোহেল। তাঁর জামিনের খবর এলাকায় পৌঁছালে সাধারণ মানুষ, স্থানীয় তরুণ-যুবক ও সচেতন মহলের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা মালেক গত কয়েক বছরে একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। মাদক কারবারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে বিপুল অর্থ ও অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে রাতারাতি কোটিপতি বনে যান তিনি। নিজের অপকর্ম ঢাকতে এবং প্রভাব বিস্তার করতে সোহেলসহ প্রতিবাদী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তিনি একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকার একাধিক সচেতন ব্যক্তি জানান, এই মাদক ব্যবসায়ী মালেকের মূল হাতিয়ার রাজনৈতিক খোলস বদল। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে প্রতিটি নির্বাচনে নিজ বাসায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ফ্যাসিস্টদের জন্য ভূরিভোজের ব্যবস্থা করে প্রভাব বিস্তার করত সে। ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সে রাতারাতি খোলস পাল্টে ফেলে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করে তাদের ম্যানেজ করার মাধ্যমে সে স্থানীয় বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদটিও বাগিয়ে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, এলাকায় কয়েকটি চেয়ার-টেবিল বসিয়ে ভুঁইফোড় অফিস খুলে এখনো সেই পুরোনো ফ্যাসিস্ট মতাদর্শের লোকজনদের সাথে নিয়েই দেদারসে ‘শালিস বাণিজ্য’ ও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে, যা বর্তমানে পুরো এলাকায় ওপেন সিক্রেট।
এদিকে সোহেলকে হত্যার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলা চালানো মালেকের ছেলে ‘কালচার’ ওরফে ‘ইয়াবা রিপন’ ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও দুর্ধর্ষ এই হামলাকারী গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
আসামি আটকের বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, "আমরা আসামির লোকেশন শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি, অচিরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।"
স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জোর দাবি:
চিহ্নিত মাদক কারবারি মালেককে বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অপসারণ করে কমিটি পুনর্গঠন করতে হবে।
পুরোনো দোসরদের নিয়ে এলাকায় গড়ে তোলা অবৈধ অফিস ও শালিস বাণিজ্য অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
সোহেলের ওপর হামলাকারী ‘কালচার’ ওরফে ‘ইয়াবা রিপন’কে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
রিকশা চালক থেকে কোটিপতি হওয়া মালেকের আয়ের উৎস তদন্ত করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
Sadhin Banglatv