ওয়ানডে ক্রিকেটের যে ২৪টি
বিশ্বরেকর্ড ক্রিকেট বিশ্ব আজীবন মনে
রাখবে।
…
…
১।এটা প্রায় সবাই জানেন এক দিনের
ক্রিকেটেসব থেকে বেশি রানের
মালিকের নাম শচীন ঢেণ্ডুলকার। ৪৫২টা
ইনিংসে ১৮৪২৬ রান করেছেন সচিন।
২. একদিনের ক্রিকেটে সব থেকে বেশি
উইকেটের মালিক মুথাইয়া মুরলীধরন। ৩৫০
ম্যাচে ৫৩৪টা উইকেট নিয়েছেন
শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি স্পিনার।
৩. সব থেকে বেশি ক্যাচ শ্রীলঙ্কারই
মাহেলা জয়বর্ধনের। ওয়ান ডে
কেরিয়ারে ২১৮টা ক্যাচ লুফেছেন তিনি।
৪. একদিনের ক্রিকেটে সব থেকে বড়
রানের দলগত ইনিংস শ্রীলঙ্কার। ২০০৬
সালে নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৯
উইকেটে ৪৪৩ রান করে শ্রীলঙ্কা।
৫. সব থেকে বড় মার্জিনে জয়ের রেকর্ড
নিউজিল্যান্ডের। ২০০৮ সালে
আয়ারল্যান্ডকে (১১২) ২৯০ রানে হারায়
নিউজিল্যান্ড (৪০২)
৬. একটানা সব থেকে বেশি২১ ম্যাচে
জয়ের বিশ্বরেকর্ড অস্ট্রেলিয়ার। ২০০৩
সালে এই রেকর্ড হয়।
৭. একটানা সব থেকে বেশি ম্যাচে
হারার রেকর্ড বাংলাদেশের। অক্টোবর
১৯৯৯ থেকে অক্টোবর ২০০২ পর্যন্ত ২৩টা
এক দিনের ম্যাচটানা হেরেছিল
বাংলাদেশ।
৮.সব থেকে বেশি রান তাড়া করে জয়ের
রেকর্ড দক্ষিণ আফ্রিকার। ২০০৬ সালে
অস্ট্রেলিয়ারবিরুদ্ধে পরে ব্যাট করে ৯
উইকেটে ৪৪৩ করে জিতেছিল তারা।
৯. এক ইনিংসে সব থেকে কম রানের
রেকর্ড জিম্বাবোয়ের। হারারেতে ২০০৪
সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে মাত্র ৩৫
রানে শেষ হয়জিম্বাবোয়ের ইনিংস।
১০. এক ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ
রানের বিশ্বরেকর্ড রোহিত শর্মার
দখলে। ২০১৫ সালে কলকাতায় শ্রীলঙ্কার
বিরুদ্ধে ২৬৪ রানের ইনিংস খেলেন
রোহিত।
১১.এক দিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ
ব্যাটিং গড় এবি ডি’ভিলিয়ার্সের
দখলে। ৫৪.৫৬ গড় নিয়ে এখনও খেলছেন
তিনি।
১২. সব থেকে বেশি স্ট্রাইক রেট
অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের।
১২৫.৪৫।
১৩.সব থেকে বেশি সেঞ্চুরি সচিনের।
৪৯টা ওয়ান ডে সেঞ্চুরি করেছেন সচিন।
১৪. সব থেকে বেশি ৯৬টা অর্ধশতরানের
রেকর্ডও সচিনের দখলে।
১৫. দ্রুততম ৫০এর রেকর্ড
ডেভিলিয়ার্সের। ১৬ বলে।
১৬. দ্রুততম শতরানও ডেভিলিয়ার্সের।
২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৩১
বলে শতরান করেন তিনি।
১৭.ওয়ান ডে ক্রিকেটে দ্রুততম ডাবল
সেঞ্চুরি ক্রিস গেইলের। ২০১৪ সালে
জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ১৩৮ বলে ডাবল
সেঞ্চুরি করেন গেইল।
১৮. এক দিনের ম্যাচে সব থেকে বেশি
৩৫১টা ওভার বাউন্ডারি মেরেছেন
শাহিদ আফ্রিদি।
১৯. সব থেকে বেশি ৪৫২টা বাউন্ডারি
মেরেছেন সচিন।
২০.এক ইনিংসে সব থেকে বেশি ছয়
মারার রেকর্ডএক সঙ্গে তিন জনের
দখলে। রোহিত শর্মা, এবি ডি’ভিলিয়ার্স
এবং ক্রিস গেইল- এই তিন জনেরইএক
ইনিংসে ১৬টা করে ওভার বাউন্ডারির
রেকর্ড আছে।
২১. এক ইনিংসে সব থেকে বেশি ৩৩টা
বাউন্ডারির রেকর্ড রোহিত শর্মার। ২০১৫
সালে ইডেনে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে।
২২.এক দিনের ম্যাচে সব থেকে বড়
পার্টনারশিপের রেকর্ড ক্রিস গেইল আর
মার্লন স্যামুয়েলসের। ২০১৪ সালে
জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ৩৭২ রানের জুটি
গড়েছিলেন এই দু’জন।
২৩. এক ইনিংসে সব থেকে বেশি উইকেট
নেওয়ার রেকর্ড শ্রীলঙ্কার চামিন্ডা
ব্যাসের। ২০০১ সালে জিম্বাবোয়ের
বিরুদ্ধে ১৯ রান দিয়ে ৮ উইকেট নেন
তিনি।
২৪. এক ইনিংসে সব থেকে বেশি বার
পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন
পাকিস্তানের ওয়াকার ইউনিস। ১৩ বার
এই নজির গড়েছেন তিনি।
Sports news and live score
সকল ক্রিকেট প্রেমিদের জন্য এই পেজ। সব?
>>>>>>ব্রেকিং নিউজ
আইসিসি-ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল!
অবাক হলেন শিরোনামটা দেখে?
অবাক হওয়ার কারণ নেই।
আইসিসির আদলে যে অন্য কেউ কাজ করছে,
এই ছবিটির পরিসংখ্যানেই তা বলে দেয়।
বাংলাদেশের পেস বোলার মোস্তাফিজুর
রহমান এবং ভারতের জাসপ্রিত বোমরাহ।
মোস্তাফিজ এ পর্যন্ত টি-২০ ম্যাচ
খেলেছেন ১৩টি,উইকেট পেয়েছেন
২২টি,এভারেজ ১৩.৯৫,ইকোনমি রেট ৬.০২।
বোমরাহ ১৯ ম্যাচে নিয়েছেন ২৪
উইকেট,এভারেজ ১৮.৯২,ইকোনমি রেট ৬.৩৯।
কথা হচ্ছে মোস্তাফিজের এভারেজ এবং
ইকোনমি রেট যেগুলো একজন বোলারের জন্য
সম্পদ বলা চলে,দুইটাতেই বোমরার চেয়ে
অনেক এগিয়ে।তাছাড়া বড় আসরে ভালো পারফরম্যান্স করলে সেটা র্যাংকিংয়েও ইতিবাছক প্রভাব ফেলে|মোস্তাফিজ তো চলতি বছরের টি-২০ বিশ্বকাপে মাত্র ৩ ম্যাচেই নিয়েছেন ৯ উইকেট!
তাহলে মোস্তাফিজ এত ভালো
পারফরম্যান্স করা সত্বেও কিভাবে
র্যাংকিংয়ে ১৮ তে থাকে?আর বুমরাহ তো
পারফরম্যান্সে "দ্য ফিজ" এর চেয়ে অনেক
পিছিয়ে।তাহলে সে কিভাবে
র্যাংকিংয়ের ২ এ স্থান পায়?
কান্না’ মুছে
ফাইনালে
বাংলাদেশ
রাজীব হাসান | ০৩
মার্চ, ২০১৬
বল তখনো সীমানা
ছেড়েছে কি
ছাড়েনি। ছুটছে ডিপ
মিড উইকেট দিয়ে।
সাদা সেই বলে
সওয়ার হয়ে ছুটছে
বাংলাদেশের আশা,
স্বপ্ন। ছুটছে শেষ
ওভারে এবার আর
কান্নায় ভেঙে না
পড়ার প্রত্যয়ও। বল
ঠিকই পৌঁছে গেল
গন্তব্যে। মিরপুরের
সীমানা কতবারই
এমন বলের ছোঁয়া
পেয়েছে। কিন্তু এর
সঙ্গে বাকি
সবকিছু মেলানো
যাবে না কিছুতেই!
মাহমুদউল্লাহর
ব্যাটে আসা এই
চারেই যে নিশ্চিত
হয়ে গেল
বাংলাদেশের জয়।
নিশ্চিত হয়ে গেল,
এবার যতই দাঁত
চেপে মরণপণ লড়াই
করুক পাকিস্তান,
বাংলাদেশ কিছুতেই
সেই ‘২০১২’ ফিরতে
দেবে না, দিলও না।
শেষ ওভারের প্রথম
বলেই পাকিস্তানের
দেওয়া ১৩০ রানের
লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলল
বাংলাদেশ। ৫
উইকেটের জয় দিয়ে
মুছে দিল চার বছর
আগের এশিয়আগের এশিয়া
কাপের সেই
ফাইনালের কান্না।
এই মাঠেই সেবার
সাকিব-মুশফিকরা
লাল-সবুজ
জার্সিটাকে চোখেজার্সিটাকে চোখের
জলে
ভিজিয়েছিলেন।
এবার তাঁরাই ছুটে
এলেন ডাগ আউট
থেকে। উইকেট
থেকে ছোটা দুই ‘ম’
মিলে গেলেন
উচ্ছ্বাসের স্রোউচ্ছ্বাসের স্রোত
তুলে ছুটে আসা
সতীর্থদের
মোহনায়। এক ‘ম’
মাহমুদউল্লাহ, তখন
যেন নিজেকে একটু
সরিয়ে নিলেন
দৃশ্যপট থেকে, অন্য
‘ম’ মাশরাফি
সতীর্থদের
আলিঙ্গনের
কেন্দ্রে।
৭ বলে ১২ করেছেন,
কিন্তু মাশরাফির
এই ‘১২’ শুধু সংখ্যা
দিয়ে বোঝানো যাবে
না। বোলারদের
দুর্দান্ত বোলিংয়ে
পাকিস্তানকে ৭
উইকেটে ১২৯ রানে
আটকে রেখেও যে
চরম অনিশ্চয়তার
মুখে পড়ে গিয়েছিল
বাংলাদেশ। বারবার
ম্যাচের রং বদলাতে
বদলাতে একসময়
সমীকরণ হয়ে
গিয়েছিল কঠিন।
শেষ ৩ ওভারে
দরকার ২৬।
আমিরের দ্বিতীয়
বলে ফিরে এলেন
সাকিব। রান বাড়ল
না, সাকিবের মতো
ব্যাটসম্যানের
পাশাপাশি
পরিস্থিতি
বিবেচনায় দুটি
অমূল্য বলও হারিয়ে
ফেলল বাংলাফেলল বাংলাদেশ।
এই সময়ই উইকেটে
মাশরাফি। পরপর
দুটি চার।
অধিনায়কের ব্যাট
ছড়িয়ে দিতে চাইল
অভয় বার্তা। কিন্অভয় বার্তা। কিন্তু
তখনো নাটকের
অনেকটা বাকি।
১৯তম ওভার১৯তম ওভারটি
করতে এলেন সামি।
বাংলাদেশ তখনো ১৮
রানের কঠিন
সমীকরণের সামনে
দাঁড়িয়ে। চতুর্থ বলে
ক্যাচ উঠল
মাশরাফির। লং অফে
ক্যাচও ধরল
ফিল্ডার। কিন্তু যে
আম্পায়ারের ভুল
তর্জনী মুশফিককে
আউট ঘোষণা করে
বাংলাদেশকে ভীষণ
চাপে ফেলে
দিয়েছিল, তারই বাঁ
হাত ঘোষণা করল
‘নো’ বল!
মাশরাফির বেঁচে
যাওয়ার চেয়েও তখন
বড় প্রাপ্তি নো-সহ
ওই বলে আসা
তিনটি রান। সামি
তখন আরেকটি ‘নো’
বল পুষে রেখেছেন
কে জানত! ওভারের
শেষ বলে
মাহমুদউল্লাহ
মারলেন চার। এবার
সেটিকে পাঁচ রান
বানিয়ে দিল সামির
দ্বিতীয় নো বল।
বাড়ল একটি বলও।
আর সেই বলে এক
রান। শেষের আগের
ওভারে ১৫ রান তুলে
শেষ ওভারের
সমীকরণটা মাত্র ৩
রানে নিয়ে এল
বাংলাদেশ। শেষ
বলের ফ্রি হিট
থেকে একটি রান
এলেও বাংলাদেশের
জন্য আশীর্বাদ
হয়ে এল স্ট্রাইকে
মাহমুদউল্লাহরই
থাকা।
আনোয়ার আলীর
করা শেষ ওভারের
প্রথম বলেই সেই
চার, সেই মিড
উইকেট সীমানা
ধেয়ে, আশা আর
স্বপ্নকে সওয়ার
করে নিয়ে ছোটা
চার। সেই ‘২ রানে’র
কান্না মোছা চার! এ
মাঠে বাংলাদেশের
কষ্টকে বহু গুণ
বাড়িয়ে দিয়ে উৎসব
করা পাকিস্তান
এবার হেঁট মাথায়
বের হলো। একই
সঙ্গে টুর্নামেন্টের
ফাইনাল থেকেও বের
হয়ে গেল তারা।
৪ মার্চ পাকিস্তান-
শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি
তাই টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপের বাড়তি
একটা প্রস্তুতি
ম্যাচের সান্ত্বনা
হয়ে গেল দুই দলের
জন্য। আর
বাংলাদেশের জন্য
প্রস্তুত হয়ে গেল ৬
মার্চের ফাইনাল,
যেখানে অপেক্ষায়
ভারত। এশিয়ার দুই
দলকে হারিয়ে
আরেক ‘বড়
ভাই’য়ের মুখোমুখি
বাংলাদেশ।
ভারত-পাকিস্তানভারত-পাকিস্তানের
বিপক্ষে রঙিন
পোশাকে এ মাঠেই
সিরিজ জয়ের
উৎসব করে বড় হয়ে
ওঠার বার্তা ছড়িয়ে
দেওয়া বাংলাদেওয়া বাংলাদেশ
মুখোমুখি প্রথম বড়
কোনো
টুর্নামেন্টের
ট্রফির সামনেও।
২০১২ সালে এত
কাছে গিয়েও যে
ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখা
হয়নি। এবার হবে?
মাশরাফি সেটাই
জানালেন ম্যাচ
শেষে, কাজ এখনো
শেষ হয়নি। আসল
ম্যাচটাই বাকি। এ
কারণেই বুঝি
পাকিস্তানের
বিপক্ষে
জয়োৎসবটা তত
লম্বা হলো না।
মাহমুদউল্লাহ
স্পষ্ট করেই
জানালেন, ‘ব্যাটিং
করার সময় আমার
মাথায় খুব করেই
২০১২ সালের
ফাইনালটি ছিল।’
সেটি ছিল না কার
ভাবনায়?
মাহমুদউল্লাহর
প্রত্যয় গোটা
বাংলাদেশেরই
প্রত্যয়।
মাহমুদউল্লাহর
ব্যাটে চড়ে আসা
সেই জয় পুরো
বাংলাদেশেরই জয়।
চাপের মুখে তাঁর ১৫
বলের ২২ রানের
ইনিংসটিও তাই শুধু
দুটি ‘২’ দিয়ে
বোঝানো যাচ্ছে না।
যেমন বোঝানো
যাচ্ছে না,
ইরফানকে সোজা
মিড অফের ওপর
দিয়ে মারা
ছক্কাটির
মাহাত্ম্য কিংবা
সৌন্দর্যও।
যদিও ম্যাচের সেরা
খেলোয়াড় সৌম্য।
ওপেনিংয়ে নেমে তাঁর
৪৮ বলে খেলা সমান
রানের ইনিংরানের ইনিংসটা
সেটির যোগ্যও।
সৌম্যের ব্যাটেই ২
উইকেটে ৮৩ তুলে
জয়ের পথে
ভালোমতোই
ছুটছিল বাংলাদেশ।
কিন্তু টি-টোয়েন্টি
ক্যারিয়ারের প্রথম
ফিফটি থেকে ২
রানে দূরে থাকতে
ফিরলেন। সেখান
থেকে বাংলাদেশও
যেন ২০১২-এর
আতঙ্কে ভুগতে শুরু
করল!
জয় তখন ৪৭ রান
দূরে, বল বাকি
৪০টি। হাতে ৭
উইকেট। কিন্তু
সহজ সমীকরণটা
দ্রুত রং বদলাতে শুরু
করল।
স্কোরবোর্ডে আর
৫ যোগ হতেই
আম্পায়ারের ভুল
সিদ্ধান্তে মুশফিক
১২ রান করে
ফিরলেন। খানিক
পরে সাকিবও
ফিরলেন ৮ রান
করে। শেষ স্বীকৃত
ব্যাটসম্যান
মাহমুদউল্লাহর
সঙ্গী হলেন
মাশরাফি।
অনিশ্চয়তা, টেনশন
মিরপুরের দর্শকদের
আবারও প্রার্থনায়
মগ্ন করল। চার
বছর আগের সেই
কান্নাটা যেন মুছে
যায়!
শেষ পর্যন্ত দুই ম-
এর ১১ বলের ২৭
রানের অবিচ্ছিন্ন
জুটি জয়ের বন্দরজুটি জয়ের বন্দরে
পৌঁছে দিল
বাংলাদেশকে।
এবার আর কান্না
হলো না। তবে সেই
চোখ ভিজতে চায়
আরও একবার। ৬
মার্চের ফাইনালে!
ভারতকে হারাতে
পারলে আরও একবার
ভিজে উঠবে স
কথা রাখলেন
সাব্বির
ক্রীড়া প্রতিবেদক
| ২৯ ফেব্রুয়ারি,
২০১৬
নিজের ভেতর
থেকেই তাড়নাটা
উপলব্ধি
করছিলেন।
প্রতিদিন আনন্দের
ক্ষণগুলো আসছে
বোলারদের হাত
ধরে। এবার
ব্যাটসম্যানদেরও
কিছু করা চাই।
পরশু অনুশীলন
শেষে মিরপুর
ইনডোরের সামনে
করা প্রতিজ্ঞাটা
রাখলেন সাব্বির
রহমান। তাঁকে টি-
টোয়েন্টি
বিশেষজ্ঞ বলায়
দেখানো
বিনয়টাকেও এখন
‘কপট’ মনে হচ্ছে।
সাব্বির আসলেই
টি-টোয়েন্টি
বিশেষজ্ঞ।
সাব্বিরই পারেন
কথা দিয়ে কথা
রাখতে।
চোটের কারণে
লাসিথ মালিঙ্গার
অনুপস্থিতি কাল
নিশ্চয়ই
বাংলাদেশের
ব্যাটসম্যানদের
মনে স্বস্তির
ফল্গুধারা বইয়ে
দিচ্ছিল। কিন্তু ২৬
রানে ৩ উইকেট পড়ে
যাওয়ার পর মনে
হলো, মালিঙ্গা
থাকলেই কী আর না
থাকলেই কী!
বাংলাদেশের ব্যাটিং
এত সহজে উদ্ধাএত সহজে উদ্ধার
হওয়ার নয়। এমনই
এক ক্রান্তির
মুহূর্তে হাল ধরলেন
সাব্বির। যতক্ষণ
মাঠে ছিলেন,
মিরপুর শেরেবাংলা
স্টেডিয়ামের
গ্যালারি থেকে
‘সাব্বির...সাব্বির’
রব ছাড়া আর
কিছুই ভেসে এল না।
বাংলাদেশ দলের হয়ে
টি-টোয়েন্টিতে
তাঁর গতকালের ৮০
রানের চেয়ে বড়
ইনিংস আছে মাত্র
তিনটি। ‘লেটার
নম্বর’ পাওয়াদের
দলে ঢোকার জন্য
সাব্বির ধন্যবাদ
দিতে পারেন কোচ
চন্ডিকা
হাথুরুসিংহেকে। ২০
ওভারের ক্রিকেটে
যে তাঁর ব্যাটিংটা
তিনেই বেশি
জুতসই, সেটা এই
শ্রীলঙ্কানেরই
আবিষ্কার। কাল
ম্যাচ শেষে
সাব্বিরও বললেন,
‘সব সময় তিনেই
খেলছি এখন। আজও
(গতকাল) ওই
জায়গায় নেমে চেষ্টা
ছিল যত তাড়াতাড়ি
সম্ভব ম্যাচের
মধ্যে ঢুকে যেতে।’
৮০ রানের ইনিং৮০ রানের ইনিংসে
সম্ভাবনা
জাগিয়েছিলেন টি-
টোয়েন্টিতে
বাংলাদেশের হয়ে
প্রথম সেঞ্চুরি
করার। সেটা শেষ
পর্যন্ত না হওয়ায়
অবশ্য কোনো
আফসোস নেই
সাব্বিরের।
পরিসংখ্যানও
বলছে, সাব্বির
আসলে ওয়ান
ডাউনের
ব্যাটসম্যান।
কালকের ম্যাচসহ
এখন পর্যন্ত খেলা
১৭টি টি-
টোয়েন্টির মধ্যে
সাব্বির তিন
নম্বরে ব্যাট
করেছেন ১০টিতে।
টি-টোয়েন্টিতে
তাঁর ৪১১ রানের
৩১১-ই এই জায়গায়
নেমে।
কাল প্রথম ৮ বলে
করেছিলেন মাত্র
৩। এরপর থেকে তাঁর
ব্যাট এমনই
তাণ্ডুবে হয়ে উঠতে
লাগল যে,
শ্রীলঙ্কার
ফিল্ডাররা শুধু বল
আনতে বাউন্ডারির
বাইরে দৌড়াবাইরে দৌড়াতে
লাগলেন। নুয়ান
কুলাসেকারাকে
পরপর চার বলে ৪, ৬,
৪, ৪। ষষ্ঠ ওভারে
থিসারা পেরেরাকেও
টানা তিন
বাউন্ডারি।
শেহান পেরেরাকে
ছক্কা মেরে যখন
ফিফটি পূর্ণ
করলেন, ততক্ষণে
সাব্বির বুনো ষাঁড়।
তাঁকে আটকানোর
সাধ্য যেন কারও
নেই! পরের দুই বলে
চোখ জুড়ানো দুই
বাউন্ডারি। আউট
হওয়ার আগের বলেও
দুষ্মান্থা চামিরার
স্লোয়ার শর্ট বলে
দুপা এগিয়ে ছক্কা
মেরেছেন ডিপ মিড
উইকেট দিয়ে। ৮০
রানের মধ্যে চার-
ছক্কা থেকেই ৫৮।
ব্যাট হাতে তাঁকে
এমন বেপরোয়া হয়ে
উঠতে দেখে দ্বিধায়
পড়ে যেতে হলো।
আগের দিন ‘টি-
টোয়েন্টি
বিশেষজ্ঞ’ বলায়
অমন লাজুকলতা
হয়ে যাওয়া
খেলোয়াড়টি
সাব্বিরই ছিলেন
তো? নাকি অন্য
কেউ! সাব্বির
বোঝাতে
চাচ্ছিলেন, লোকে
আসলে বাড়িয়ে
বলছে। তিনি
মোটেও টি-
টোয়েন্টি
বিশেষজ্ঞ নন।
কয়েকটা ম্যাচ
ভালো খেলছেন, এই
যা।
অপর প্রান্ত থেকে
সাব্বিরের ঝোড়ো
ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ
সতীর্থ সাকিব
আল হাসানও। মোট
রানটা ১৬০ আশা
করলেও ইনিংস
বিরতির সময়
টেলিভিশন
সাক্ষাৎকারে
বলছিলেন, ‘দুর্দান্ত
খেলল সাব্বির। এটা
তাঁর অন্যতম সেরা
ইনিংস। আমাদের
রানটা যে এত বেশি
হলো, সেটার পুরো
কৃতিত্বই তাঁর।’
ব্যাটসম্যানদের
ভালো কিছু করার
প্রতিজ্ঞা কিছুটা
পূরণ করেছে
সাকিবের ব্যাটও।
তবে কথা রাখার
আসল কাজটা করে
দেখালে
মনের ভেতর
ফাইনাল
তারেক মাহমুদ | ২৯
ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
ফাইনালের আশা
করছেন কি না—
এমন প্রশ্নে
মাশরাফি বিন
মুর্তজার উত্তর
খুবই সংক্ষিপ্ত।
‘নো কমেন্ট’। কিন্তু
এরপর যে হাসিটা
দিলেন, তাতে মনের
ভেতরের ইচ্ছাটা
পড়ে নিতে অসুবিধা
হলো না। হ্যাঁ, ২০১২-
এর পর বাংলাদেশ
দলের চোখ এখন
আবারও এশিয়া
কাপের ফাইনালে।
মিরপুরে কাল
শ্রীলঙ্কাকে
হারিয়ে দুটি জিনিস
পেল বাংলাদেশ দল।
একটা তো
ফাইনালের দরজা।
আরেকটি
আত্মবিশ্বাস।
ভারতের কাছে
হারের পর আরব
আমিরাতের
বিপক্ষে জয়েও বড়
দলের প্রতাপ
দেখাতে না পারায়
বাংলাদেশের
সামর্থ্য কিছুটা
হলেও প্রশ্নবিদ্ধ
হয়েছিল এই এশিয়া
কাপে। শ্রীলঙ্কার
বিপক্ষে প্রথম টি-
টোয়েন্টি জয় মনের
ভেতর জমে থাকা
সব অস্বস্তি ধুয়ে
দিয়ে আঁকল
ফাইনালের স্বপ্ন।
ম্যাচ শেষের সংবাদ
সম্মেলনে যাওয়ার
পথে অধিনায়ক
মাশরাফি
সাব্বিরকে ডাকলেন
‘হাই পজিটিভ’ বলে।
সাব্বির সব কথায়
‘পজিটিভ’ শব্দটা
আনাতেই বোধ হয়
ওই রসিকতা। তবে
মাশরাফি রসিকতা
করলেও সাব্বিরকে
‘মি. পজিটিভ’
ডাকাটা বোধ হয় ভুল
নয়। ইতিবাচক
মানসিকতা না
থাকলে ২৬ রানে ৩
উইকেট পড়ার পর
কি আর উইকেটে
গিয়ে ও রকম
ব্যাটিং করা সম্ভব!
সাব্বির ছিলেন
বলেই মাশরাফিদের
আশাটাও টিকে
ছিল। অধিনায়ক
স্পষ্ট করেই
জানালেন কি ছিল
তাঁর কাছে দলের
চাওয়া, ‘সাব্বির সব
সময় পরিষ্কার
মাথায় খেলুক, সেটাই
চাই। তিন নম্বরে যা
করা দরকার সে
প্রত্যেক ম্যাচেই
তা করতে চায়।
হয়তো সব সময়
সফল হয় না। তিন
উইকেট পড়লেও
আমরা চেয়েআমরা চেয়েছি ও
খোলা মন নিয়ে
খেলুক। খারাপ বল
খারাপ বলই। সেটাকে
ও কাজে লাগিয়েছে।
ওই সময় ওই শটগুলো
খেলে চাপ না সরালে
হয়তো আমরা এই
রানও করতে
পারতাম না।’
অধিনায়ক ধন্যবাদ
দিয়েছেন সাকিব
আল হাসান আর
মাহমুদউল্লাহকেও।
সাকিবের কথাটা
আলাদা করেই বলতে
হয় কারণ, এই ম্যাচে
ফিরে পাওয়া গেছে
তাঁর অলরাউন্ডার
সত্তা। তবে আর
সবার জন্য এটা বড়
খবর হলেও
মাশরাফির জন্য
নয়। সাকিব যে
ফিরবেন, সেটা
সম্ভবত জানাই
ছিল অধিনায়কের,
‘সাকিবকে সব সময়
মানুষই ভাবি আমি।
এলিয়েন কখনো
ভাবিনি। দলের জন্য
যা করার, ও করে
যাচ্ছে। খারাপ সময়
আসতেই পারে। তবে
ও সব সময়ই
আমাদের দলের
অন্যতম সেরা
খেলোয়াড়।’
অধিনায়ক
নিশ্চিত, সাকিবের
মতো মুশফিকুর
রহিমও সময়মতো
জ্বলে উঠবেজ্বলে উঠবেন।
আগের দুই ম্যাচের
তুলনায় কালকের
উইকেটে ব্যাট করা
কিছুটা সহজ ছিল।
মাশরাফি তো মনে
করেন, সংযুক্ত
আরব আমিরাত এবং
কালকের ম্যাচে
রানটা দেড় শ পার
হওয়া উচিত ছিল,
‘প্রথম দিনের
উইকেটে একটু বেশি
ঘাস থাকায় ব্যাটিং
কঠিন ছিল। তবে
আজ (গতকাল) এবং
আগের ম্যাচেও
রানটা ১৫০-১৬০ হতে
পারত।’ তা ছাড়া টি-
টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
খেলতে হবে ভারতে।
মাশরাফি মনে
করিয়ে দিলেন,
‘বিশ্বকাপ যেহেতু
ভিন্ন কন্ডিশনে
খেলতে হবে, সব
ধরনের উইকেটেই
খেলার অভ্যাস
করাটা জরুরি।’
পরপর দুই ম্যাচ
জিতে ফাইনালের
স্বপ্ন এখন
ভালোভাবেই দেখতে
শুরু করেছে
বাংলাদেশ দল। পরশু
পাকিস্তানের
বিপক্ষে জিতলে
পূরণ হয়ে যাবে সে
স্বপ্ন। হারলেও
অঙ্কের হিসাবে
টিকে থাকবে
সম্ভাবনা। তবে
মাশরাফিরা এখন
আর হার-টারের কথা
ভাবছেন না। গত দুই
ম্যাচ তো বটেই,
হেরে যাওয়া ভারত
ম্যাচ থেকেও
নিচ্ছেন জয়ের ধারা
ধরে রাখার প্রেরধরে রাখার প্রেরণা,
‘দলের সবার
মানসিকতাই এখন
ইতিবাচক।
বিশ্বকাপের আগে
আর একটা ম্যাচই
আছে। সেটাও
ইতিবাচক
মানসিকতা নিয়ে
খেলব।’
ভালো ওয়ানভালো ওয়ানডে
দলের স্বীকৃতি গত
বছরই পেয়ে গেছে
বাংলাদেশ দল।
এবারের এশিয়া কাপ
আর বিশ্বকাপ
সুযোগ করে দিয়েছে
টি-টোয়েন্টিতেও
ভয়-জাগানিয়া দল
হয়ে ওঠার।
মাশরাফি জানেন
এটা রাতারাতি
সম্ভব নয়। তবে
অসম্ভবও যে নয়,
কালো টি-শার্টের
সঙ্গে খাকি রঙের
প্যান্ট। মাশরাফি
বিন মুর্তজাকে
দেখে মনে হবে
রুপালি পর্দার
শক্তিমান কোনো
নায়ক।
নায়কই তো! দেশের
অযুত-নিযুত তরুণের
হৃদয়ে মাশরাফির
স্থান নায়ক
হিসেবেই। এই
তরুণদের নিয়ে কাজ
করার দারুণ এক
সুযোগ এসেছে
বাংলাদেশ ওয়ানডে ও
টি-টোয়েন্টি দলের
অধিনায়কের
সামনে। আর
সুযোগটা করে
দিয়েছে
জাতিসংঘের
উন্নয়ন কর্মসূচি
(ইউএনডিপি)।
মাশরাফি
ইউএনডিপির
শুভেচ্ছাদূত হতে
যাচ্ছেন, জানা
গিয়েছিল আগেই। যে
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
বাকি ছিল, কাল
রাজধানীর একটি
হোটেলে সারা হলো
সেটিও। মাশরাফি
তরুণদের জন্য কিছু
করার স্বপ্ন
দেখছেন বহুদিন
থেকে। সেই স্বপ্ন
পূরণের সুযোগ
পাওয়ায় খুশির রেখা
অধিনায়কের মুখে।
মাঠে যেমন নিজেকে
উজাড় করে দেন, এ
ক্ষেত্রেও শতভাগ
দেওয়ার প্রতিশ্রুতি
মাশরাফির, ‘আমার
কাছে এটি স্বপ্ন
পূরণ হওয়ার মতোই।
চেষ্টা করব সেরাটা
দেওয়ার। আমাদের
তরুণদের প্রতি
আমার প্রবল
বিশ্বাস আছে। এই
তরুণেরাই
উন্নয়নশীল দেশ
থেকে বাংলাদেশকে
একদিন উন্নত দেশে
পরিণত করবে।’
এই প্রথম বাংলাদেশ
থেকে কোনো
খেলোয়াড়কে
শুভেচ্ছাদূত করল
ইউএনডিপি। এর
আগে সাকিব আল
হাসান শুভেচ্ছাদূত
হয়েছিলেন
জাতিসংঘের আরেক
সংস্থা
ইউনিসেফের।
উপমহাদেশে
মাশরাফির আগে
জাতিসংঘের
বিভিন্ন সংস্থার
শুভেচ্ছাদূত
হয়েছেন শচীন
টেন্ডুলকার, শহীদ
আফ্রিদি ও
মুত্তিয়া
মুরালিধরন।
তিনজনই ছিলেন
জাতীয় পর্যায়ের
দূত। ইউএনডিপির
বৈশ্বিক দূত
হচ্ছেন রুশ টেনিস
তারকা মারিয়া
শারাপোভা।
দূত হিসেবে
মাশরাফির কাজ
হবে কী? সেটি
ব্যাখ্যা করে
ইউএনডিপির
আবাসিক সমন্বয়ক
রবার্ট ওয়াটকিনস
বললেন, ‘মাশরাফি
মূলত তরুণদের
জানাবেন, কীভাবে
ভালো
কর্মসংস্থানের
সুযোগ তৈরি হতে
পারে।
তথ্যপ্রযুক্তির
মাধ্যমে আমরা এটা
করতে চাই।
তথ্যপ্রযুক্তি এমন
এক খাত, যেখানে
তরুণদের আধিপত্য।’
এমনিতে বছরজুড়েই
ক্রিকেটারদের
ব্যস্ত সূচি।
রাজ্যের এই
ব্যস্ততার মধ্যে
মাশরাফি কতটুকু
সময় দিতে পারবেন
এই উদ্যোগে, সেই
প্রশ্নও উঠল।
জবাবে অধিনায়ক
অবশ্য আশ্বস্তই
করলেন, ‘ক্রিকেট
খেলার পরও অনেক
সময় থাকে। তখন
এটা করতে পারব।
মনে হয় না খুব
কঠিন হবে।’
মাঠে যেমন
মাশরাফির লক্ষ্য
থাকে শুধু জয়, এ
ক্ষেত্রেও তা-ই।
সফল হতে চান এই
উদ্যোগেও।
বাংলাদেশ
অধিনায়ক বললেন,
‘দেশের তরুণেরাই
দেশকে এগিয়ে নিয়ে
যাবে। এ উদ্যোগটা
যদি তরুণদের কাজে
লাগে, দেশটা অনেক
দূর এগিয়ে যাবে।’
তারুণ্যে কতটা
আস্থা, মাশরাফির
কথাতেই স্পষ্ট।
দেশের তরুণেরাও
নিশ্চয়
সহযোগিতার হাত
বাড়িয়ে দেবে
অধিনায়কের দিকে।
টি২০ ম্যাচের জন্য বোর্ড/নির্বাচকদের
মনমানসিকতার পরিবর্তন দরকার
ভারতের মতো কাড়িকাড়ি
ক্রিকেটারের দেশেও দলের কথা
ভেবে, টি২০ ম্যাচের আলাদা গুরুত্বের
কথা ভেবে হারাতে বসা নেহেরা,
হারভজন ও যুবরাজ সিংহকে দলে আনতে
পারে কিন্তু আমরা পারি না দেশের
সবচেয়ে বিগহিটার জিয়াকে দলে
আনতে, পারি না দেশের কথা ভেবে
আশরাফুল এর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে
টি২০ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ করে
দিতে।
অথচ ভারতের ধোনী থেকে শুরু করে
অনেক ক্রিকেটারের আইপিএল
অপকর্মের কথা বিসিসিআই ভালো
করেই জানে কিন্তু দলের স্বার্থের
কথা চিন্তা করে ওরা এগুলো গোপন
করে রাখে।
কেবল আমরাই পারি না..........অনেক
কিছুই পারি না....
টি২০ ম্যাচেও যখন রান রেট ৬.০০ এর
উপরে তুলতে পারি না, তখন আমাদের
লজ্জা করে না?
অন্তত টি২০ ম্যাচের জন্য হলেও
পুরোপুরি ব্যতিক্রম/আগ্রাসী একটা দল
করতে হবে, করতেই হবে।
25/02/2016
=========> TODAY
25/02/2016
রোহিত শর্মার
নামের পাশে তখন
মাত্র ২১ রান।
স্কোরবোর্ডে
ভারত ৩ উইকেটে
৫২। ভাবুন একবার,
ওই সময় রোহিত
আউট হয়ে গেলে
ম্যাচে কতটা এগিয়ে
যেত বাংলাদেশ! ৪
উইকেটে ৫২, দলকে
টেনে তোলার জন্য
উইকেটে নেই
রোহিতও। কী দারুণ
একটা সম্ভাবনার
হাতছানি যে ছিল!
কিন্তু তাসকিন
আহমেদের বলে
পয়েন্টে রোহিতের
ক্যাচ ফেলে
সম্ভাবনাটাকেও
মাটিতে ফেলে
দিলেন সাকিব আল
হাসান। সেখান থেকে
রোহিতের রান শেষ
পর্যন্ত ৮৩,
ভারতের ১৬৬। টি-
টোয়েন্টিতে এই
রান টপকে ভারতকে
হারানো বাংলাদেশ
দলের জন্য অসাধ্য
সাধনের মতোই
ব্যাপার ছিল।
ম্যাচ শেষে
বাংলাদেশ
অধিনায়ক মাশরাফি
বিন মুর্তজার
সংবাদ সম্মেলনে
তাই ঘুরেফিরে এল
সাকিবের ক্যাচ
ছাড়ার প্রসঙ্গ।
মাশরাফিও স্বীকার
করলেন, ‘ওই ক্যাচ
ফেলাটা অবশ্যই
ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ
ব্যাপার হয়ে
দাঁড়িয়েছে।’ তাই
বলে হারের সব দায়
সাকিবের ওপরই
চাপালেন না, ‘এটা
খেলার অংশ। ম্যাচে
ক্যাচ পড়তেই পারে।
কিছু করার নেই।’
রোহিতের জীবন
ফিরে পাওয়ার
আলোচনা সংবাদ
সম্মেলনে যতবারই
এসেছে, মাশরাফির
ওই একই কথা।
সঙ্গে এটাও মনে
করিয়ে দিয়েছেন,
বাংলাদেশ দলের
অন্যতম সেরা
ফিল্ডারদের একজন
সাকিব। কাল যেমন
একটা ক্যাচ
ছেড়েছেন, অতীতে
অনেক দুর্দান্ত
ক্যাচ নিয়েছেনও
তিনি। তা ছাড়া
একটা ক্যাচ
ফেললেও বোলিংটা
তো করেছেন ভালো!
মাশরাফির
অভিজ্ঞতা বলছে,
মিরপুরের উইকেটে
কাল স্পিনারদের
জন্য তেমন কিছুই
ছিল না। তবে
উইকেটে ঘাস থাকায়
দুই দলের পেসাররাই
শুরুটা করেছেন
ভালো। বাংলাদেশের
চার পেসার খেলানো
নিয়ে ওঠা প্রশ্নটা
এই বলেই উড়িয়ে
দিলেন অধিনায়ক।
কিন্তু এই চার
পেসারের মধ্যে যে
মুস্তাফিজুর
রহমানও ছিলেন
সেটা বোঝা গেল
কই! ৪ ওভারে ৪০
রান দিয়ে উইকেট
পাননি একটিও।
মাশরাফি অবশ্য
সাকিবের মতো ঢাল
হলেন
মুস্তাফিজেরও,
‘শিশিরের কারণে
বল ভেজা থাকায় ওর
বল গ্রিপ করতে
সমস্যা হচ্ছিল। সে
জন্য স্লোয়ার
মারতেও সমস্যা
হয়েছে। একটা
কাটারে তো ছক্কা
মারল ওকে।’
বোলারদের সংঘবদ্ধ
আক্রমণেও ওই
শিশিরই বাধা
হচ্ছিল বলে মনে
করেন মাশরাফি।
তারপরও বলেছেন,
‘ভারতের রানটা
১৩৫-১৪০-এর মধ্যে
থাকলে সেটা তাড়া
করা সম্ভব ছিল।’
এমনকি লক্ষ্যটা
১৫০ পর্যন্ত
থাকলেও নাকি
সুযোগ ছিল
বাংলাদেশের। কিন্তু
ভারত করে ফেলল
১৬৬! এটাকে
ব্যর্থতা মেনেই
মাশরাফি আশ্বাস
দিলেন, ‘আশা করি
পরের ম্যাচে
ভুলগুলো শুধরে
আমরা ফিরে আসব।’
এসব ভুল-ত্রুটির
মধ্যে ভারত ম্যাচে
একটা ইতিবাচক
দিকও দেখছেন
মাশরাফি। স
25/02/2016
টি-টোয়েন্টি
অনেকটা গিরগিটির
মতো। কখনো
কখনো এমনই
চোখের পলকে রং
বদলে ফেলে যে, তা
ভোজবাজির মতো
লাগে। রং বদলানোর
সেই মুহূর্তটা
অনেক সময়
সুনির্দিষ্টভাবে
ধরাও যায় না।
কাল মিরপুরে
একদমই সেই
সমস্যায় পড়তে
হলো না।
খ্রিষ্টপূর্ব আর
খ্রিষ্ট-পরবর্তী
সময়ের মতো এই
ম্যাচেও পরিষ্কার
দুটি ভাগ। ভারতীয়
ইনিংস না বলে ম্যাচ
বলাটা ভুল হলো।
আবার ভুলও নয়।
এখানে যেটিকে
‘খ্রিষ্ট-পরবর্তী’
সময় বলা হচ্ছে,
ভারতীয় ইনিংসের
সেই শেষ ৯.৩ ওভারই
তো আসলে ম্যাচের
শেষ কথাটি লিখে
দিল।
বলের হিসাবে ৫৭
বল। ওই ৫৭ বলে
ভারত তুলে ফেলল
১১৪ রান। স্ট্রাইক
রেট ঠিক ২০০! তা
টি-টোয়েন্টি ম্যাচে
তো এমন হয়ই। তবে
এখানে ব্যাপারটা
আলাদা। এমন
রানবন্যা বয়ে
যাওয়ায় যে
বাংলাদেশের
প্রত্যক্ষ অবদান।
একাদশ ওভারের
তৃতীয় বলে পয়েন্টে
সাকিব আল হাসান
যখন ক্যাচটি (পড়ুন
‘ম্যাচটি’) ফেলে
দিলেন, রোহিত
শর্মা তখন ২১ রানে।
২৮ বলে ২১, একটি
মাত্র চার। অন্য
প্রান্তে দ্রুত ৩টি
উইকেট পড়ে যাওয়ায়
রীতিমতো খোলসে
বন্দী।
নতুন জীবন পেয়েই
বোধ হয় রোহিত
বুঝে ফেললেন, এই
রাত তাঁকে যা ইচ্ছে
তাই করার
স্বাধীনতা দিয়ে
রেখেছে।
তাসকিনের পরের
তিনটি বলেই তাই
চার-ছয়-চার! এশিয়া
কাপে আসার আগেই
মহেন্দ্র সিং ধোনি
বলে এসেছেন, তাঁর
দল টি-টোয়েন্টিতে
অটো-পাইলটে চলে।
টি-টোয়েন্টি
খেলাটা যে সবার
মুখস্থ। টি-
টোয়েন্টির সেই
কোচিং সেন্টারের
নাম আইপিএল।
যুবরাজ সিংয়ের
বিদায়ের পর
উইকেটে নতুন
সঙ্গী হার্দিক
পান্ডিয়াকে দেখে
রোহিতেরও বোধ
হয় মনে হলো, এটি
আইপিএলেরই
আরেকটি ম্যাচ!
পান্ডিয়া যে তাঁর
মুম্বাই
ইন্ডিয়ানসের
টিমমেট।
দুজন মিলে পঞ্চম
উইকেটে মাত্র ৪.৩
ওভারে ৬১ রান তুলে
বাংলাদেশকে ম্যাচ
থেকে ছিটকে বের
করে দিলেন। নতুন
জীবনে মাত্র ২৭
বলে রোহিতের ৬২
রান। ডিপে দৌড়ে
গিয়ে সামনে ডাইভ
দিয়ে নেওয়া সৌম্য
সরকারের অসাধারণ
এক ক্যাচে যখন
ফিরে যাচ্ছেন,
ততক্ষণে সেই
আউট শুধুই তাঁর
ব্যক্তিগত দুঃখ।
ভারত চলে গেছে
বাংলাদেশের
ধরাছোঁয়ার বাইরে।
পিঠের ব্যথার
কারণে এই ম্যাচে
অনিশ্চিত হয়ে পড়া
ধোনির শেষ বলে পুল
করে ছক্কায় যেন
সেটিরই উদ্যাপন।
‘এম’ দিয়ে মিরপুর।
‘এম’ দিয়ে
মেলবোর্ন।
মিরপুরের সঙ্গে
মেলবোর্ন
মেলানোটা বোধ হয়
ব্যাখ্যা না করলেও
চলছে। মেলবোর্নে
আম্পায়ারের ডাকা
বিতর্কিত নো বলে
বেঁচে গিয়েছিলেন
রোহিত শর্মা।
ততক্ষণে অবশ্য ৯০
রান করে
ফেলেছিলেন। সেই
তুলনায় মিরপুরে
সাকিবের ক্যাচ
ফেলাটা
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Mirpur