MEC Cycling Club

MEC Cycling Club

Share

ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অলাভজনক ও সেবামূলক সংগঠন।

Photos from MEC Cycling Club's post 18/10/2025

🚴‍♂️ MEC Cycling Club Mini Tour 🚴‍♀️
Today, cyclists from the MEC campus embarked on a refreshing mini-tour to the beautiful Bangladesh Agricultural University (BAU) campus. 🌳

It was a refreshing and enjoyable ride filled with energy, teamwork, and the joy of exploring together. Such tours strengthen our bond and inspire us to keep promoting a healthy and active lifestyle through cycling. 💚

Photos are clicked by: Samin Yasar Sunny

16/10/2025

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম,
আগামী ১৮ অক্টোবর,শনিবার বাদ ফজর মেক সাইক্লিং ক্লাবের উদ্যোগে "সাইকেল মিনি টুরে" যাওয়া হবে।
📍গন্তব্যস্থল- বাকৃবি
পৌছানোর পর সকলের নাস্তা করে আবার ক্যাম্পাসে ফেরত আসব।
যারা যারা যেতে ইচ্ছুক তারা Page এর inbox এ যোগাযোগ করুন.

Send a message to learn more

Photos from MEC Cycling Club's post 14/08/2025

অভিনন্দন Mahmudur Rehman Maruf 🎉
ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) ডিপার্টমেন্টের ১১ ব্যাচ ও MEC Cycling Club এর সাবেক সাইক্লিস্ট মাহমুদুর রহমান মারুফ ইউরোপের সর্বোচ্চ মর্যাদার ইরাসমাস মন্ডুস স্কলারশীপের অধীনে Intelligent Photonics for Security Reliability Sustainability and Safety (iPSRS) প্রোগ্রামে সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে তার মাস্টার্স শুরু করবে।

MEC Cycling Club এর সর্বশেষ #অফিসিয়াল_জার্সি ডিজাইন ছিলেন এই মেধাবি মানুষটা। আগামী জীবনের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা ও দোয়া রইল।

19/05/2025

We cyclists of MEC deeply mourn the unexpected passing of Dhrubojit Karmakar. A bright mind and a beautiful soul, lost in the abyss of injustice forever.

It's painful to say but fact of the matter is, no matter how hard we wish, he is never coming back to us. But the system that he fell victim to, that we can change. Let's pour our heart and soul into that. No half measures.

আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না।

05/01/2025
Photos from MEC Cycling Club's post 05/01/2025

Champion & Runner-up of Adventurous Cycling Race 2023 🚴‍♂️

Photos from MEC Cycling Club's post 05/01/2025

Some Moments of Adventurous Cycling Race 2023 🚴‍♂️

Photos from MEC Cycling Club's post 11/10/2024

বৈষম্যের অন্ধকারে নিমজ্জিত প্রকৌশল শিক্ষার আরেক জগত; ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের শেষ কোথায়?
ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নামক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা তৈরির মূল কারিগর যেই সংস্থা, তা হলো শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের “কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ”। এই কারিগরি অধিদপ্তরের অনিয়ম , দূর্নীতি ও পিছিয়ে রাখা মনোভাব বেশ পুরনো। তাদের অনিয়ম দূর্নীতির কারণেই বছরের পর বছর বৈষম্যের শিকার হয়ে অনেক আন্দোলন ও প্রতিবাদের পর বাংলাদেশের প্রাথমিক সময়ের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (পরবর্তীতে বিআইটি) গুলো আজকের রুয়েট,কুয়েট, চুয়েট,ডুয়েটে রূপান্তরিত হয়েছিল।
বর্তমানেও কারিগরি অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে সকল পলিটেকনিক, মনোটেকনিক ও বাংলাদেশের সরকারি ৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিশেষায়িত কলেজগুলোই সবচেয়ে বেশি সমস্যা, জটিলতা কিংবা বৈষম্যের শিকার হয়; যা ইতোপূর্বে দেখেছে এদেশের মানুষ। যেমন:
১। আহসানুল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ- বর্তমান বুয়েট
২।খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ- বিআইটি খুলনা- বর্তমান কুয়েট
৩।রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বিআইটি রাজশাহী - বর্তমান রুয়েট
৪।ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ- বিআইটি ঢাকা- বর্তমান ডুয়েট
৫।চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ- বিআইটি চট্টগ্রাম - বর্তমান চুয়েট
৬।বস্ত্রকৌশল ও প্রকৌশল কলেজ- বর্তমান বুটেক্স
৭।পটুয়াখালী ভেটেরিনারি কলেজ- বর্তমান পবিপ্রবি
৮।সিলেট ভেটেরিনারি কলেজ- বর্তমান সিকৃবি
৯।দিনাজপুর ভেটেরিনারি কলেজ- বর্তমান হাবিপ্রবি
১০।চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি কলেজ- বর্তমান সিভাসু
১১।শেরে বাংলা কৃষি কলেজ- বর্তমান শেকৃবি
১২। শেখ ফজিলাতুন্নেছা ফিশারিজ কলেজ - বর্তমান বর্তমানে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
১৩। ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি কলেজ - বর্তমানে যবিপ্রবির ফ্যাকাল্টি
১৪। সিরাজগঞ্জ ভেটেরিনারি কলেজ - বর্তমানে মাভাবিপ্রবির ফ্যাকাল্টি

বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সংখ্যা ৪ টি, এবং প্রস্তাবিত রয়েছে আরো ৪ টি।
১। ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (প্রতিষ্ঠাকাল: ২০০৭)
২। সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (প্রতিষ্ঠাকাল: ২০০৭)
৩। ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (প্রতিষ্ঠাকাল: ২০১০)
৪। বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। (প্রতিষ্ঠাকাল: ২০১৮)
প্রস্তাবিত: (নড়াইল,ঠাকুরগাঁও, খাগড়াছড়ি, নওগাঁ)

যেসকল জটিলতা, সমস্যার কারণে উক্ত ১৪ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত অথবা ফ্যাকাল্টিতে পরিণত করা হয়েছে, ঠিক সেই সমস্যার দুয়ার নতুন করে সৃষ্টি করা হয়েছে ৪ টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ করে।
চার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ যেসকল সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে,
যা না বললেই নয়:
১। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অভিন্ন শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার আলোকে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যর্থতা। এই নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগে বাংলাদেশ কর্ম কমিশন ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতা।
২। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোতে অধ্যক্ষ পদ সৃষ্ট করার পর এই পদের উচ্চতর বেতন স্কেল অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমমান এই পদে ইউজিসির অভিন্ন ধারায় যেই ধরনের প্রতিষ্ঠান-প্রধান নিয়োগের বিধিমালা রয়েছে, সেই অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর।
১৭ বছরেও এখন পর্যন্ত সেই মানসম্পন্ন একজন স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ দিতে পারেনি, বরং অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে যাদের অধ্যক্ষের পদে দেয়া হয়েছে তারা এর সমমানের পর্যায়েরও নয়। এমনকি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট প্রধানকেও এইসব কলেজে অতিরিক্ত দায়িত্বে অধ্যক্ষ হিসেবে বসিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর; যা অযোগ্যতার স্পষ্ট দৃষ্টান্ত।
৩। বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা। গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এর বাইরেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সাত কলেজের প্রতিটি বিভাগে পর্যাপ্ত অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক বিদ্যমান, সেখানে এইসকল প্রতিষ্ঠানগুলোতে BSc in Engineering পড়ানো সত্ত্বেও ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে মাত্র দুজন অধ্যাপক রয়েছেন। এমনকি দুটি কলেজের প্রতিষ্ঠান প্রধান হলেন সহকারী অধ্যাপক। এখানেই পরিলক্ষিত হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর নিয়োগ ব্যর্থতা।
৪। একটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চতর ও গবেষণাধর্মী শিক্ষার পরিবেশ পরিপূর্ণভাবে নিশ্চিত করতে যেই ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক আয়তন দরকার, সেই অনুযায়ী যথেষ্ঠ ভূমি এই সকল প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেই। এজন্য বারংবার দাবী জানিয়ে আসলেও প্রতিষ্ঠার এত বছরেও কলেজের জন্য নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেনি। এক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উদাসীনতা স্পষ্ট।
৫। বিভাগ সংখ্যা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত উন্নয়নে সম্পূর্ণ রূপে ব্যর্থ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর।
৬। শহর এবং হাসপাতাল দূরে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও কোনো পরিবহন ব্যবস্থা ও এম্বুল্যান্স না থাকা।
৭। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কোনো মেডিকেল সেন্টার না থাকা।
৮। হাতে কলমে প্রকৌশল শিক্ষার জন্য ল্যাব ইকুইপমেন্ট এর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু প্রতিষ্ঠার এত বছর পরও পুরাতন সব ইকুইপমেন্ট দিয়েই ল্যাব করতে হয় যার অধিকাংশই বর্তমানে অকেজো। ফলে বিভাগগুলোতে পর্যাপ্ত আধুনিক ল্যাব ইকুইপমেন্ট না থাকায় হাতে কলমে মানসম্পন্ন শিক্ষা থেকে পিছিয়ে থাকা।
৯। ১৭ বছরে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প না নেয়া। যেমন: পর্যাপ্ত সীট নিশ্চিত করতে আবাসিক হল ও হলের Accommodation বৃদ্ধি, ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে মসজিদ নির্মাণ ও খেলার মাঠ না থাকা, অডিটোরিয়াম, ব্যাংক এবং ডাকঘর নির্মাণ না করা।
১০। প্রকৌশল শিক্ষা মানেই গবেষণাধর্মী শিক্ষা। এরজন্য গবেষণা উপযোগী যেই ধরণের পরিবেশ এবং অর্থের যোগান দেয়া দরকার, গবেষণার জন্য সেই অর্থের ন্যূনতম যোগান দিতেও ব্যর্থ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, যা আমাদের গুণগত উচ্চশিক্ষা অর্জনের প্রধান অন্তরায়। ফলে উচ্চতর শিক্ষা ও চাকুরির বাজারে বুয়েট, কুয়েট, চুয়েট, রুয়েট, ডুয়েট এর শিক্ষার্থীদের সাথে সমানতালে প্রতিযোগিতা হলেও শিক্ষা ও গবেষণার সুবিধার দিক থেকে যোজন যোজন পিছিয়ে রাখা।
১১। দক্ষ ও টেকনিক্যাল ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরের নিয়োগে রয়েছে জটিলতা, যা আমাদের গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যাহত করছে। ফলে যেসকল ল্যাব ইকুইপমেন্ট রয়েছে, সেগুলোও সঠিকভাবে অপারেট করার মত ইন্সট্রাক্টর না থাকা।
১২। গত ৩১ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের স্মারক নং: ৫৭.০০.০০০০.০৫২.১৮.০০১.২৩.৪৮৯ – এর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোতে এইচএসসি ভোকেশনাল পাসকৃত ২০% কোটা এবং শূন্য আসনগুলোতে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে কোটার প্রতিফলন। যা স্পষ্টত শিক্ষার মান এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বদলে উল্টো পিছিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই প্রজ্ঞাপন বাতিলের জন্য চিঠি প্রদান করলেও এখন পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন বাতিলের ফিরতি নোটিশ প্রদান করা হয়নি। যা কারিগরি শিক্ষা বিভাগের বরাবরের মতো অদায়িত্বশীলতার প্রতীক মাত্র।
১৩। বাংলাদেশের প্রকৌশলী পেশার সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান তথা IEB এর সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সমন্বয়হীনতার কারণে আমরা কয়েকবার চেষ্টা করেও IEB কর্তৃক স্বীকৃতি পাইনি। এবং IEB এর সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, এসকল প্রতিষ্ঠানের ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষক নিয়োগ / ফ্যাকাল্টি মেম্বার নিয়োগের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো IEB কর্তৃক স্বীকৃতির মিনিমাম যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:- OBE (Outcome Based Education system) ইমপ্লিমেন্টেশন করা হয়নি বা এর যথেষ্ট ঘাটতি। সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শাবিপ্রবি-র সহযোগিতায় সেটা ইমপ্লিমেন্ট করা হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে বাকী ৩ কলেজ সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অবহেলা স্পষ্টত। ফলশ্রুতিতে বুয়েট সহ বাকী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মত একই সিলেবাসে পড়াশোনা করে B.Sc ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রাজুয়েট হয়েও ইঞ্জিনিয়ার পদবী ব্যবহার করতে না পারা ও ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দিতে না পারা এবং IEB স্বীকৃত রিকুয়ারমেন্ট চাওয়া চাকুরীর জন্য আবেদন করতে না পারা। যেখানে ছোট পরিসরে গড়ে উঠা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েও IEB স্বীকৃতি থাকায় সন্মানের সাথে ইঞ্জিনিয়ার পদবী ব্যবহার করতে পারে। এই কারণে চাকুরীর বাজারে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা ২য় শ্রেণীর গ্র্যাজুয়েট হিসেবে অবহেলার শিকার হচ্ছে।
১৪। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিভুক্তি নামক চরম অবহেলার শিকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ভর্তি বাণিজ্য, প্রতি সেমিস্টারে ভর্তি ও পরিক্ষা ফি নিয়ে এবং সার্টিফিকেট দিয়েই দায়িত্ব শেষ। শিক্ষার মান উন্নয়ন নিয়ে কোনো দায়িত্ব পালন না করলেও সেশনজট তৈরি করা ৬ মাসের সেমিস্টার পরীক্ষা ৯ মাস সময়ে নেয়ার জন্য দায়ী। পরীক্ষার তারিখ সময়মতো নির্ধারণ না করার কারণে সেশনজট তৈরি হয়। শিক্ষার মানোন্নয়ন করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো মনিটরিং করা হয় না। প্রতিটা কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দূরে হওয়ায় যেকোনো প্রয়োজনে দূর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ডিন অফিস ও রেজিস্টার অফিসের হয়রানি ও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
১৫। সেমিস্টার রেজাল্ট নিয়ে বিরাট গড়িমসি। প্রতি সেমিস্টারের রেজাল্ট দেয়া হয় পরবর্তী সেমিস্টার পরীক্ষা চলে আসলে। কোনো ছাত্র কোনো কারণে রেজাল্ট খারাপ করে ইয়ারড্রপ পেয়েছে সেটা জানতে পারে ইয়ারড্রপ পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১০-১৫ দিন আগে। এবং ফাইনাল সেমিস্টারের রেজাল্ট প্রকাশ করতে কয়েক মাস ব্যয় করার কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন চাকুরীর পরীক্ষায় আবেদন করতে পারেনা, ফলে চাকুরীর প্রতিযোগিতায় আরও পিছিয়ে যায়, যেখানে আমাদের দেশে সরকারি চাকুরীর বয়সসীমা নির্দিষ্ট, সেখানে রেজাল্ট অবহেলায় ১ বছর পিছিয়ে যাওয়ার ক্ষতি নিশ্চয় বলা বাহুল্য।
১৬। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অব্যবস্থাপনা থাকায় অনেক শিক্ষার্থীদের রেজাল্টের মান প্রতিফলিত হয় না।
১৭। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণহারে অধিভুক্তের নামে যেই বাণিজ্য চলমান রেখেছে, এর ফলে সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা সামাজিক হেয়পন্ন হচ্ছে। কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রযুক্তি ইউনিটে ভর্তি সমন্বয়ক রূপে ক্ষমতা প্রদর্শন করে বেশ কিছু অবৈধ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যুক্ত করেছে, যেগুলোর কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রনালয় কোনোটিরই কোনো অনুমোদন নেই। যার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর সমন্বয়হীনতা অভাব দিন দিন বেড়েই চলছে। এর সমাধান করতে হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার বিকল্প নেই।

সমস্যা, সংকট ও বৈষম্য নিরসনের এই দাবী আজকের নতুন নয়
কারিগরি অধিদপ্তরের ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণে সৃষ্ট এইসকল সমস্যা, সংকট ও বৈষম্য নিরসনের জন্য ৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মধ্যে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ২০১৪, ২০১৫, ২০১৭, ২০১৮, ২০২০ সাল সহ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার আন্দোলন ও দাবী জানিয়ে আসছে। এমনকি প্রতিষ্ঠার পর প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের কথা থাকলেও ভিন্ন সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠা হওয়ায় শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই ২ টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়নি। সর্বশেষ ২০২২ , ২০১৩ , ২০১৮ সালে একাধিকবার জনগণের দাবীর মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট ও ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করার কথা বলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করেনি।

কারিগরি অধিদপ্তরের অযোগ্যতা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সমস্যা আজকের নতুন কিছু নয়। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানাবিদ জটিল, ব্যাপক ও গুরুতর সমস্যা নিরসনের জন্য ১৯৭৪ সালের মে মাসে প্রকাশিত “বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট - মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা"- এর ১৪নং অধ্যায়ে ১০৪নং পৃষ্ঠায় "ঙ" নং অনুচ্ছেদে তৎকালীন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সমূহের সমস্যা নিরসন ও কারিগরি অধিদপ্তরের অযোগ্যতার সমাধান প্রসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে, “প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার মান উন্নীত করার জন্য আশু ব্যবস্থা অবলম্বন করা প্রয়োজন। প্রকৌশল কলেজগুলিতে সাজসরঞ্জাম এবং উপর্যুক্ত শিক্ষকের অভাব রয়েছে। বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থায় শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ, সাজসরঞ্জাম ক্রয় ইত্যাদি ব্যাপারে কলেজগুলি বিশেষ অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। তাই আমরা মনে করি যে, এ কলেজগুলিকে সহায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা দরকার।"
পাশাপাশি এই ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হলে পরিণাম হিসেবে পরবর্তী পয়েন্টে উল্লেখ করা হয়েছে, “প্রকৌশল ও স্থাপত্য শিক্ষার ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার উন্মেষ ঘটাতে না পারলে তা পরিণামে বন্ধ্যত্ব লাভ করে।"
একই দাবী একই অধ্যায়ে ১০৭নং পৃষ্ঠার ৭ম পয়েন্টে বলা হয়েছে “প্রকৌশল কলেজগুলি এবং কারিগরি শিক্ষক-শিক্ষণ কলেজের ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার মান উন্নীত করা একান্ত প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে কলেজগুলিকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা দরকার।”
অথচ আজ থেকে ৫০ বছর আগেও যেই সমস্যা তুলে ধরা হয়েছিলো, সেই একই সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছে বর্তমান ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং কারিগরি অধিদপ্তরের অধীনস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু ৫০ বছর আগেই তৎকালীন শিক্ষানুরাগী শিক্ষাবিদগণ এই সংকট ও সমস্যা নিরসনের যেই সমাধান তুলে ধরেছিলেন, সেই সমাধান তৎকালীন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর ক্ষেত্রে বিকল্প সমাধানের বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট প্রয়োগ করে সবশেষে সেই একমাত্র সমাধান তথা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর এর মাধ্যমেই নিরসন হয়েছে। কিন্তু ৫০ বছর আগেই সমাধানের রূপরেখা দেয়া হলেও, বার বার এক্সপেরিমেন্টাল টেস্ট করে অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় করা হলেও, আজ এত বছর পর একই সমস্যায় জর্জরিত থাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর ব্যাপারে চিন্তা চেতনায় সেই ৫০ বছর আগের শিক্ষাবিদদের থেকেও পিছিয়ে আছি। তাই চোখের সামনে দৃষ্টান্ত থাকা সত্বেও আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলো আজও পর্যন্ত নানা টালবাহানার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় হয়নি, কারিগরি অধিদপ্তরের এই অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে বের হতে পারেনি।

এতকিছুর পরও পিছিয়ে রাখা এই শিক্ষার্থীদের সাফল্যঃ
১. বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম রকেট "Dhumketu-X" ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এর শিক্ষার্থীদের তৈরি। উক্ত ক্যাম্পাসের “আলফা সায়েন্স ল্যাব"-এ নাহিয়ান আল রহমান সহ উক্ত কলেজের শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে তৈরি।
২.) ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলো হতে প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী সহ এযাবৎ শতাধিক শিক্ষার্থী বৃত্তি (ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ) নিয়ে বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য গমন করছে।
৩.) গবেষণার ন্যূনতম সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হওয়া সত্বেও এসকল প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের প্রচেষ্টায় গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে এবং কনফারেন্সে প্রকাশ করছে।
৪.) বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত কনটেস্টে সফলতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের IIT তে আয়োজিত TechFest এর RoboWars এ ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এর টিম বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে সফলতা ও যোগ্যতা প্রমান করেছে।
৫.) বিসিএস সহ সরকারি ও বেসরকারি চাকুরীর প্রায় সকল সেক্টরে তারা সুনামের সাথে চাকুরীরত আছে।

এই ৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বুয়েটের মত একই শিক্ষা কার্যক্রমের অন্তুর্ভূক্ত হলেও, একই সিলেবাসে পড়াশোনা করে B.Sc ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী নেয়; কিন্তু কোনোদিক দিয়েই সুযোগ-সুবিধা পায় না তাদের ধারেকাছেও। বৈষম্যের শিকার হয়ে আছে কারিগরি অধিদপ্তরের অধীনে থাকার কারণে।
পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পড়াশোনা ও মানসম্মত ল্যাব সুবিধা পাওয়া যায় না তাদের মতো।
বুয়েট, কুয়েট, চুয়েট, রুয়েট, ডুয়েট গবেষণা খাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে টাকা বরাদ্দ পায়। অথচ এইসব কলেজগুলো তে শিক্ষার্থীরা গবেষণা খাতে ন্যূনতম টাকাও পায়না। এভাবে গবেষণা খাতে কোনো সহোযোগিতা না পেয়েও এতসব উদ্ভাবনী কাজগুলো কিভাবে করছে? সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে। তবুও এইসব কলেজের শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রচেষ্টায় এসব সফলতাগুলো কি তাদের দমিয়ে রাখা মেধা আর ইচ্ছা শক্তির সাক্ষ্য দেয় না?।
তাহলে স্পষ্টভাবেই বুঝা যায় যে, বিশ্ববিদ্যালইয়ে রূপান্তর হলে এইসব সমস্যা স্থায়ীভাবে নিরসন হবে এবং এই মেধাবী ছাত্রগুলো গবেষণার সুযোগ পেলে দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ পাবে।

সমাধান তো নয়-ই, উল্টো কারিগরি অধিদপ্তরের নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হটকারিতাঃ
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনে এসেছে, “স্নাতক পর্যায়ে প্রকৌশল শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়াতে দেশের চার জেলায় চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। ডিপ্লোমা ও এইচএসসি পাস করে শিক্ষার্থীদের বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি পাওয়ার সুযোগ তৈরিতে সরকারি ১২ শত ২২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এসব কলেজ স্থাপন করা হবে।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের তৎকালীন সচিব মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেছিলেন, “কারিগরি শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে দেশের চারটি বিভাগে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলাতেও এসব কলেজ করা হবে।”
২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ঐ বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের জুনে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন বছর পর ২০২১ সালে জমি কেনার কাজ শেষ হয়নি।
এই প্রসঙ্গে তিনি উক্ত নিউজ মাধ্যমকে আরও বলেছিলেন, “চারটি জেলায় জমি ক্রয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে, দ্রুত সময়ের মধ্যে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এসব কলেজ নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীরা উচ্চতর ডিগ্রি নেয়ার সুযোগ পাবে। ভবিষ্যতে এসব কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে।”
(তথ্যসুত্রঃ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উন্নয়ন প্রকল্প ও বাজেট সেকশন এবং নিউজ মিডিয়া)

বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর ব্যতীত মধ্যপন্থা কিছু কি সমাধান হতে পারে?
তাহলে জানতে হবে…
চুয়েট, কুয়েট, রুয়েট, ডুয়েট কেন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে BIT এর পথ পারি দিয়ে সবশেষে আজ পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ?
গত শতাব্দীর ষাটের দশকে প্রকৌশল শিক্ষার কথা বিবেচনা করে তদানীন্তন পাকিস্তান শাসনামলে ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বর্তমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ)। কিন্তু শুধুমাত্র এই একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল শিক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর জন্য সক্ষম ছিল না। তাই দেশের উন্নয়নে পেশাদার প্রকৌশলীর চাহিদা মেটানোর জন্য তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের ‘জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ’ (National Economic Council) ১৯৬২ সালের ২৮শে আগস্ট প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রতিষ্ঠার অনুমতি প্রদান করে। এরই মধ্যে ১৯৬৬ সালের ১৮ই নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। কিছুটা বিলম্বিত হলেও ১৯৬৮ সালের ২৮শে ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের অধীনে ১২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়। প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচে ভর্তি শুরু হয় ১৯৬৮-৬৯ শিক্ষাবর্ষে। প্রতিষ্ঠার সময় তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, যন্ত্রকৌশল এবং পুরকৌশল এই তিনটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।
বিআইটিতে রূপান্তরিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এই চট্টগ্রাম প্রকৌশল মহাবিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী প্রাপ্ত মোট গ্রাজুয়েট : ১৩৩১ জন।
যাদের মধ্যে পুরকৌশল ৬১৯ জন
তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল ৩৬৩ জন

সমস্যা সমাধানে নতুন মোড়: প্রকৌশল মহাবিদ্যালয় থাকাকালীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের অধীনেএর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হত। প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত হত। আর প্রতিষ্ঠানের ভৌত কাঠামোর উন্নয়ন ও মেরামত সরকারের গণপূর্ত বিভাগের অধীন থাকায় প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক পরিচালনা ত্রিপক্ষীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে ছিল। যার ফলশ্রতিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ও অগ্রগতিতে বহুমুখী সমস্যার সৃষ্টি হত। নানা সমস্যায় ঘুরপাক খাওয়া প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়গুলোর জটিলতা ও সমস্যাবলী নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। ফলে সরকার সমস্যার গুরুত্ব অনুধাবন করে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ করে ১৯৭৩ সাল থেকে শুরু করে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. ইন্নাছ আলী, ড. কুদরত-ই-খুদা, অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান প্রমুখের নেতৃত্বে বিভিন্ন কমিটি/কমিশন গঠন করা করে। সমস্যা নিরসন কল্পে সকল কমিটি ও কমিশনের মূল বক্তব্য ছিল একই অর্থাৎ প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়গুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় স্বায়ত্বশাসন প্রদান। কিন্তু কোন কমিটিরই সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়গুলোর অবস্থা এমন চরমে পৌঁছায় যে একটি নির্দিষ্ট শিক্ষাবর্ষে কোন প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়েই শিক্ষার্থী ভর্তি করা সম্ভব হয় নি। এরূপ পরিস্থিতে তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি মরহুম জিয়াউর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তাঁর নির্দেশে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তদানীন্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওয়াহিদ উদ্দীন আহমেদকে সভাপতি করে সরকার ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে। উক্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে ১৯৮২ সালের ১৯শে মার্চ তৎকালীন মন্ত্রী পরিষদ জুলাই, ১৯৮২ সাল থেকে দেশের ৪টি প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়কে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি) নামে ডিগ্রী প্রদানকারী স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু ২৪শে মার্চ সরকার পরিবর্তনের ফলে গৃহীত সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় নি। পরবর্তীতে তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ স্বাক্ষরিত অধ্যাদেশ জারীর মাধ্যমে ১লা জুলাই ১৯৮৬ সাল থেকে প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়গুলোকে বিআইটিতে রূপান্তর করা হয়।
বিআইটি, চট্টগ্রাম থেকে ডিগ্রীপ্রাপ্ত মোট গ্রাজুয়েট: ২১২৪ জন
এরমধ্যে পুরকৌশল ৭৬১ জন
তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল ৭৬২ জন
যন্ত্রকৌশল ৬০১ জন

বিশ্ববিদ্যালয় না করে ভিন্ন মধ্যপন্থা হিসেবে BIT কি ফলপ্রসূ হয়েছিল...?
এ যেন অবনমণের পথে পদার্পন: প্রকৌশল মহাবিদ্যালয় থেকে বি.আই.টি তে রূপান্তরের ফলে সীমিত পরিসরে স্বায়ত্বশাসন লাভ করলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা বিআইটি চট্টগ্রামকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রেখেছিল। অবশ্য উন্নত বিশ্বের প্রযুক্তির মূল ধারার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এর পাঠ্যসূচি নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু স্বায়ত্বশাসনের নামে এটিকে বাংলাদেশের প্রচলিত শিক্ষা ধারার (স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়) সাথে সামঞ্জস্যহীনভাবে এর সকল নিয়ন্ত্রণ ঢাকাস্থ বিইটি কাউন্সিলে নিয়ে যাওয়া হয়। শুরুতেই চট্টগ্রাম প্রকৌশল মহাবিদ্যালয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকাকালে এটি World Learning Book এর অন্তুর্ভূক্ত ছিল এবং একটি ডিগ্রী প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। কিন্তু B.I.T. অর্ডিন্যান্সে এটি বিশ্ববিদ্যালয় মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ না থাকায় Association of University of Bangladesh এটিকে তাদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করতে নারাজ ছিল। যার ফলে Commonwealth Universities Year Book ও World Learning Book থেকে এর নাম মুছে যায়। এ কারণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET) এর মত একই শিক্ষা কার্যক্রমের অন্তুর্ভূক্ত হলেও বিআইটি থেকে পাশ করা মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশে বিদেশে ডিগ্রীর স্বীকৃতির বিষয়ে অনাকাঙ্খিত সমস্যার সম্মুখীন হতে থাকে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করতে থাকে। বিআইটি চট্টগ্রামকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর না করার ফলে নানা সমস্যা দিন দিন বাড়তে থাকে এবং কিছু কিছু সমস্যা স্থায়ীত্বের রূপ নেয়। উল্লেখযোগ্য কিছু সমস্যার মধ্যে ছিল প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি না করা, নতুন নতুন বিভাগ ও গবেষণা কেন্দ্র না খোলা, পদ সৃষ্টির অভাবে শিক্ষক স্বল্পতা ও উচ্চতর ডিগ্রীপ্রাপ্ত যোগ্য শিক্ষকদের পদোন্নতি না দেওয়া এবং লোকবলের অভাব, কম বাজেট বরাদ্দ, শিক্ষার উপকরণ স্বল্পতা, গবেষণাগারের আধুনিকায়ন না করা, স্নাতোকোত্তর ও গবেষণা কার্যক্রমের স্থবিরতা, নিজস্ব চাকুরি বিধি না থাকা, নানাবিধ প্রশাসনিক ও একাডেমিক জটিলতা ইত্যাদি।

ছাই চাপা আগুনের একটুখানি উত্তাপ: বিআইটিতে বিদ্যমান সমস্যাবলীর প্রেক্ষাপটে ১৯৯৮ সালে বিআইটি, চট্টগ্রামের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিআইটি, চট্টগ্রামের তৎকালীন পরিচালক অধ্যাপক ড. শ্যামল কান্তি বিশ্বাস তাঁর লিখিত বক্তব্যে বিআইটি, চট্টগ্রামকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার দাবি প্রথম উত্থাপন করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে বোর্ড অব গভর্ণরস অব বিআইটি, চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীও সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় বিআইটি, চট্টগ্রামকে ভবিষ্যতে মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে বিআইটি এর শিক্ষক সমিতি বিআইটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপান্তরের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত দাবী জানান।
আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুতকরণ: এভাবে BIT এর ব্যর্থতা, সমস্যা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের জন্য ২০০১ অবধি দফায় দফায় সভা, সমাবেশ, আন্দোলন চলতে থাকে। এর কিছুদিনের মধ্যেই বিআইটি, চট্টগ্রাম এর প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদ IEB, CTG এ এক সভা আহবান করেন। সভায় বিআইটি, চট্টগ্রামকে কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে হবে এই বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাবেক বিআইটি, চট্টগ্রাম এর কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক মীর মুহাম্মদ সাক্বী কাওসার। উক্ত সভায় সভার সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী এম, আলী আশরাফ তাঁর বক্তব্যে বলেন- “যখন Engineering College ছিল তখন নিজেদেরকে 2nd Category র মনে হত;কারণ, convocation হত CU তে। তখন সাধারণ পাসকোর্সে স্নাতক ডিগ্রী প্রাপ্তদের কাতারে বসতে দেয়া হত আমাদের। কিন্তু BIT হওয়ার পর মনে হয় আমরা এখন 3rd Category তে নেমে গিয়েছি।”

চুয়েট বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ গঠন: পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০০১ সালের ২৬শে মে আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রে চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (CUET) বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। তারপর থেকে আরও জোরালো ভাবে বিআইটি, চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবীতে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের টানা এক মাসের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১০ই জুলাই বিআইটি, চট্টগ্রামের ক্যাম্পাসে বিআইটি বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যান ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বিআইটি, চট্টগ্রামকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার জন্য সরকারের নীতি নির্ধারনী মহলকে অবহিত করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন। এ সময় তাঁর নিকট বিআইটি, চট্টগ্রামকে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার এক দফা দাবী সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
আন্দোলনে সফল পরিণতি: দীর্ঘ সময় এর মধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী পর্যায়ের লোক থেকে শুরু করে সরকারি আমলা নানা আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিয়েও আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় আন্দোলন টানা চলমান থাকে। এর ফলশ্রুতিতে অবশেষে ২০০২ সালের ১০ই মার্চ ঢাকাস্থ আইইবি’র ৪৬তম সম্মেলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশের চারটি বিআইটিকে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঘোষণা দেন। ঘোষণার প্রায় এক বছর পর ২০০৩ সালের ৩রা ফেব্রয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রীপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে বিআইটিকে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষা ও গবেষণার আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিআইটি, চট্টগ্রামকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের জন্য ২০০৩ সালের ১২ই মে মহান জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করা হয় এবং ১লা সেপ্টেম্বর ২০০৩ থেকে পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (CUET), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (KUET), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (RUET), ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (DUET) ।

বিআইটি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরিত হওয়াতে প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থানঃ
১। বিশ্বাঙ্গনে মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে ।
২। গবেষণা ও উন্নয়নের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে ।
৩। স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রাম সম্পন্ন করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
৪। আন্তর্জাতিক মানে শিক্ষা নিশ্চায়ন করতে ভূমিকা পালন করছে ।
৫। সরকারি অনুদান এবং অর্থায়ন বৃদ্ধি পেয়েছে ।
৬। বিস্তৃত বিভাগ এবং কোর্সের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ।
৭। আধুনিক ক্যাম্পাস বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যেমনঃ উন্নত লাইব্রেরী, গবেষণাগার, উন্নত আবাসিক সুবিধা, আধুনিক প্রযুক্তিগত এবং ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করেছে।
৮। শিক্ষক নিয়োগ ও মান উন্নয়ন। বিশেষ করে যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ এবং তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হয়েছে। যা শিক্ষার মানকে আরো উন্নত করে ।
৯। প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পেরেছে । ফলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় অংশগ্রহণ করতে পারছে ।

06/10/2024

Welcome to MEC CAMPUS 16 batch Juniors.Hopefully your journey with our cycling club will be memorable for all of us.✨🪄✨
We are looking for you.👀

Photos from MEC Cycling Club's post 28/09/2024

Old is gold✨.Shahians on road road at midnight. 🙌🧐
They have shared their on of the late night memories with us.So let's share more & more.We will reach to our beloved people of campus 💜💜💜

Want your business to be the top-listed Gym/sports Facility in Mymensingh?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


Mymensingh Engineering College
Mymensingh
2200